Tag: stf

stf

  • Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে সক্রিয় হানি-ট্র্যাপ। সীমান্তের ওপার থেকে এই চক্র কাজ চালায়। দেশের নিরাপত্তায় প্রশ্ন তৈরির চেষ্টা করে। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিহারের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাকর্মী। অবসরের পরও তিনি চুক্তিভিত্তিকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক মহিলা অপারেটিভের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোপন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে এক কর্মরত নৌসেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ। শনিবার কোয়েম্বাটোরের রেড ফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত উচ্চ-নিরাপত্তার আইএনএস অগ্রণী ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI) সেলের একটি বিশেষ দল।

    এনআইএ-এর ইনপুটের ভিত্তিতে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে খবর, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অসম পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে ৩১ বছর বয়সি অভিষেক কুমার সিং-এর বাড়ি বিহারের মোতিহারিতে। অভিযোগ, তিনি গুয়াহাটিতে বসবাস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানে থাকা তাঁর হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাচ্ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ৩৯ বছর বয়সি রীতেশ কুমার সিং। তিনি বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। গুয়াহাটির সাতগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক অপারেটিভের নির্দেশে রীতেশ কাজ করছিলেন এবং অভিষেককেও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিলেন।

    অভিষেকের সূত্র ধরেই জালে রীতেশ

    প্রথমে অভিষেকের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি অসমে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছে পাঠাচ্ছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গজরাজ কোর এবং অসম পুলিশ যৌথভাবে রীতেশের কথিত কার্যকলাপ নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছিল। এরই মধ্যে শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাতে অভিষেককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, পাকিস্তান-সম্পর্কিত কিছু নথি এবং অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তদন্তভার আরও এগিয়ে নিয়ে যায় অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তের সূত্র ধরে রীতেশের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। অভিষেকের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কতদিন ধরে তিনি এই ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন এবং পাকিস্তানে থাকা ঠিক কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, এনআইএ-এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অসম পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে দু’জনকেই কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়েছিল। সেই পদ্ধতিতে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিষেকের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বিহারের মোতিহারি পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মোতিহারির পুলিশ সুপার স্বর্ণ প্রভাত জানিয়েছেন, অভিষেক সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে। জেলার ঠিক কোন থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি, তা যাচাই করা হচ্ছে। অসম পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মোতিহারি পুলিশও তথ্য সংগ্রহ করছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় পরিচয় সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মোতিহারি পুলিশ সুপার।

    হানিট্র্যাপে পশ্চিমবঙ্গ-যোগ

    অন্যদিকে, অন্ধ্র পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নৌসেনা সদস্যের নাম প্রদীপ মুখার্জি (৩১)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ডের অধীনে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহ ধরে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani)-তে একটি ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা তথ্য পাচার

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপের। ওই মহিলা নিজেকে সাধারণ পরিচিত হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক অপারেটিভ বলে সন্দেহ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মহিলা ধীরে ধীরে প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য দিতে প্ররোচিত করেন। অভিযোগ, প্রদীপ বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই মহিলার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ নজরে আসার পর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani) ক্যাম্পাসে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকেই প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল মূলত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তদন্ত করে থাকে। ধৃত নৌসেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে বোমা তৈরির তথ্য-সম্বলিত হাতে লেখা একটি নোট উদ্ধারের ঘটনায় আরও বাড়ানো হয়েছে তদন্তের পরিসর (Jai Shri Ram Kurta)। তদন্তের সূত্র এবার পৌঁছেছে বলরামপুরে। অযোধ্যা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। ঘটনার পর প্রথম বর্ষের প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে নাইট শিফট শেষ হওয়ার পর হাতে লেখা ওই নোটটি পাওয়া যায়। কর্মীরা নোটটি কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    বলরামপুরে সরফরাজের বাড়িতে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)

    ৩১ জুলাই, শুক্রবার গভীর রাতে অযোধ্যা পুলিশের একটি দল বলরামপুরের সিটি কোতয়ালি এলাকার পুরাইনিয়া তালাবে সরফরাজের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও সরফরাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে পুলিশ। পরের দিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওই বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সরফরাজ মিশুকে স্বভাবের ছিল। এলাকায় কোনও বিবাদ বা ঝামেলায় তাঁকে কখনও জড়াতে দেখা যায়নি।

    বাড়িওয়ালার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    তদন্তের সময় সরফরাজ গত ছ’মাস ধরে যে ভাড়া বাড়িতে থাকছিল, সেখানেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যান। ঘর থেকে গেরুয়া রঙের একটি কুর্তা উদ্ধার হয়েছে, যাতে “জয় শ্রী রাম” লেখা ছিল। হলুদ রংয়ের একটি ধুতিও পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালার দাবি, সরফরাজ ওই গেরুয়া কুর্তা ও হলুদ ধুতি পরে একাধিকবার অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, কয়েকজনের সঙ্গে সরফরাজ সরযূ নদীতে স্নানও করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা বা কোথা থেকে এসেছিলেন, তা জানেন না বলে জানান বাড়িওয়ালা। এরপরেই তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—সরফরাজ কেন হিন্দু ধর্মীয় পোশাক পরে অযোধ্যায় যাতায়াত করতেন? তাঁর ওই সফরের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, নাকি সেগুলি ছিল নিছকই ব্যক্তিগত সফর—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া হলুদ ধুতিটি পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ঘর থেকে হাতে লেখা একটি কবিতাও উদ্ধার হয়েছে। সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Jai Shri Ram Kurta)।

    কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?

    ১ অগাস্ট সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। মর্নিং শিফটে কর্মরত পড়ুয়ারা রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে রুমের ভেতরে হাতে লেখা একটি কাগজ দেখতে পান। ওই কাগজে বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নির্দেশনা লেখা ছিল বলে খবর। পড়ুয়ারা সঙ্গে সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেন।অনলাইনে প্রকাশিত নোটটির একটি অনুলিপি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কাগজে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, অ্যালুমিনিয়াম কার্বোনেট, লাল ফসফরাস, সালফার, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং কার্বলিক অ্যাসিডের মতো একাধিক রাসায়নিকের উল্লেখ রয়েছে। আগুন ধরানো, তাপ ও বিস্ফোরণের বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপাদান চিহ্নিত করা হাতে আঁকা কিছু চিত্রও রয়েছে, যেগুলি বিস্ফোরক যন্ত্রের নকশার মতো দেখতে।নথিতে ব্যাখ্যামূলক টীকা এবং একটি মোটামুটি আঁকা রেখাচিত্রও রয়েছে। এর থেকে তদন্তকারীদের ধারণা, যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করতে পারে তা বোঝানোর উদ্দেশ্যেই নোটটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নোটটি অনলাইনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়ে থাকতে পারে।

    সরফরাজের দাবি

    দর্শন নগর থানার পুলিশ সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তাঁর সঙ্গে নাইট শিফটে কাজ করছিলেন অভিষেক। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সুলতানপুরের বাসিন্দা আর এক সহকর্মী সুভাষ অবশ্য ওই দিন সকালেই নিজের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে সরফরাজ দাবি করেন, নাইট শিফটে তাঁর ঘুম আসছিল না। সেই সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপে ভগত সিংকে নিয়ে একটি সিনেমা দেখতে শুরু করেন। তাঁর দাবি, সেই সিনেমায় বোমা তৈরির কিছু পদ্ধতি দেখানো হয়েছিল। তিনি সেগুলি একটি কাগজে লিখে রেখেছিলেন, এবং পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, পরে সাফাইকর্মী ও সকালের শিফটে কর্মরত কর্মীদের হাতে কাগজটি আসে (Jai Shri Ram Kurta)। সরফরাজের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ইন্টারনেট অনুসন্ধানের তথ্য পান। তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণ সংক্রান্ত একাধিক ছোট ভিডিওর সন্ধান মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এসব অনুসন্ধান নিছকই কৌতূহলবশে করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    সরফরাজের বন্ধুদেরও খোঁজ

    সরফরাজের রুমমেটের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি বস্তিতে নিজের বাড়িতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সরফরাজ যখন অযোধ্যায় যেতেন, তখন তাঁর সঙ্গে যে বন্ধুরা থাকতেন বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের পরিচয়ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সরফরাজ সবার ছোট। তাঁর দাদা বলরামপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আর এক ভাই শ্রাবস্তীতে একটি দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্র চালান। অন্য এক ভাই সৌদি আরবে কাজ করেন, এবং পরিবারে আর্থিক সাহায্য করেন। প্রায় দেড় বছর আগে সরফরাজের বাবা মারা যান। তাঁর মা ও অবিবাহিত বোন বলরামপুরে থাকেন। বিবাহিত এক বোন মুম্বইয়ে থাকেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সরফরাজ প্রায় প্রতি শনিবার বাড়িতে ফিরতেন, সোমবার ফিরতেন অযোধ্যায়।

    পুলিশের বক্তব্য

    ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল, এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও করছেন তদন্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। প্রতিটি তথ্য যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে অনুমান বা গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)।

     

  • Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির (Sebashray Scam) অভিযোগে ফের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, এই মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং যথাসময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি” (Sebashray Scam)

    বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু প্রথমেই সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি। বিষ্ণুপুরে একাধিক অভিযোগ হয়েছে।” এরপর নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে আক্রমণ করেন। বিধানসভায় বক্তব্যের সময় শুভেন্দু বেশ কয়েকটি ছবিও দেখান। তাঁর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে একাধিক মানুষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও পা কেটে ফেলতে হয়েছে, কাউকে খোয়াতে হয়েছে হাত। সেই সমস্ত ঘটনার ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এক্স-রে এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্র বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদেরও বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ তো খুনের মামলা। চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। সবক’টাকে তুলব। একবার কেউ জেলে ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না। কাউকে বাঁচানো যাবে না। আগে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সমস্ত যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’’

    সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয়

    মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দিলীপ মণ্ডলের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ২০২৫ সালের ওষুধের পাশাপাশি মিলেছে ২০২১ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া ওষুধও। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্যের সময় ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাসের লেখা একটি চিঠিরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই চিকিৎসক সেবাশ্রয় প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির অংশও তিনি বিধানসভায় পড়ে শোনান। এরপর রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের পরমাণু শক্তি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য দফতরের কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার এবং নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয় এবং সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে (Sebashray Scam)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী এবং জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক তদন্ত চলছে। সেবাশ্রয় শিবিরে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অভিযোগকে পৃথক মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিশ্চিন্ত থাকুন, যাঁরা এত বড় অপরাধ করেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। সময়ই সব কথা বলবে। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যথা সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।”

    অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের মামলা

    এদিকে, অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, পৈলানের একটি রিসর্টে টানা চল্লিশ দিন ধরে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই রিসর্টের তরফে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিবির পরিচালনার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান টানা চল্লিশ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক এবং কর্মীর থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের সমস্ত ব্যবস্থা করতে হয়েছিল রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে। অথচ সেই সমস্ত খরচ তাঁদের (চিকিৎসক ও কর্মীদের) নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে। এর ফলে পর্যটনের মরশুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। অভিযোগে অভিষেক ছাড়াও তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রিসর্টের মালিক সমীরণ রায়ের দাবি, শুধু থাকার খরচই নয়, স্থানীয় শিবির পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থও তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল। টাকা না দিলে রিসর্টে ভাঙচুর চালানো হবে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ (Sebashray Scam)।

    কী বলছেন অভিযোগকারী?

    অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ প্রকল্পের কারণে তাঁদের অন্তত বিশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তাঁরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় অভিষেক-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। শুক্রবারই ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেন। সেই আবহেই নতুন অভিযোগ সামনে আসায় তৃণমূলের রক্তচাপ আরও বেড়েছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (Suvendu Adhikari)।

    সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়, জানাল আদালত

    এদিকে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অভিষেকের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে একের পর এক মামলা। তবে এই সব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলেই দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন। যদিও আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সামগ্রিকভাবে তাঁকে কোনও সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে প্রতিটি মামলায় আইন অনুযায়ী তদন্ত চলবে। রাজ্যের অন্যতম বহুল চর্চিত এই মামলায় আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের পক্ষে কতটা প্রমাণ সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর (Sebashray Scam)।

     

  • Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত সেই লুকিয়ে থাকাও কাজে এল না। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

    কীভাবে ধরা হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেরবাজকে?

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারীরা। এরপর বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবরাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি সম্পত্তি লেনদেন এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ।

    আগাম জামিন খারিজ হতেই গা-ঢাকা

    এর আগে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও দ্বিতীয় দফার শুনানিতে আদালত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পেলেও দেবরাজের ক্ষেত্রে আদালত সেই সুবিধা দেয়নি। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতার প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল। এর পরেই, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।

    দেবরাজ গ্রেফতার হতেই উচ্ছ্বাস বাগুইআটিতে

    দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগুইআটি এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত সম্পদের হিসাব গোপন রাখা যায়।

    ভয় দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগ

    হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতে আরও দাবি করা হয়, ভোটের আগে কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

    জমি কেনাবেচায় ভয়ঙ্কর কারচুপি!

    তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মিলছে। অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য দেখিয়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হত। পরে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সেই জমিতে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আদালতে এমনও দাবি করা হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের একটি জমি নথিতে মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় দেবরাজের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীদের অনুমান।

    রাজনীতিতে আচমকা উত্থান….

    দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতের রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া থেকে তাঁর গ্রেফতার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • Paschim Medinipur: পিংলায় আটক ২ সন্দেহভাজন পাক গুপ্তচর, অভিযোগ ওটিপি পাচার ও আইএসআই যোগসূত্রের

    Paschim Medinipur: পিংলায় আটক ২ সন্দেহভাজন পাক গুপ্তচর, অভিযোগ ওটিপি পাচার ও আইএসআই যোগসূত্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) পিংলায় মিলল এক পাক গুপ্তচর চক্রের হদিশ। ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর কর্তাদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের ওটিপি (OTP) সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল সিমের ওটিপি বিক্রির আড়ালে এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক চালানো হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে এই অভিযান ও চক্রের বিষয়ে জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন,‘‘পিংলায় অভিযান চালিয়ে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ওটিপি সরবরাহ করে পাকিস্তানে (Pakistan) তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পুরো বিষয়টি এসটিএফ-এর এক্তিয়ারভুক্ত, এর বেশি তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’’

    গভীর রাতে এসটিএফ-এর অভিযান (Paschim Medinipur)

    মঙ্গলবার গভীর রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) পিংলার ক্ষীরাই গ্রাম থেকে মুরসেলিন ও গৌতম খাঁড়া নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেন রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) আধিকারিকেরা। তদন্তে জানা গেছে, প্রতিটি ওটিপি-র বিনিময়ে ধৃতেরা মোটা টাকা পেত। মূলত ভারতীয় সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সচল রাখত পাক গোয়েন্দারা, যাতে এখানকার চরদের সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। একদিকে ওটিপি বিক্রি, অন্যদিকে দেশবিরোধী তথ্য পাচারের অভিযোগ—এই দ্বিমুখী অপরাধের তদন্তে নেমে ধৃতদের কাছ থেকে প্রচুর সিম কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এমনকি মূল অভিযুক্ত মুরসেলিন তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় গিয়ে আইএসআই কর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

    ভুয়ো নথিতে হাজার হাজার সিম, তদন্তে চক্ষু চড়কগাছ

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেঙ্গল এসটিএফ জানতে পারে যে, পিংলার একটি দোকান থেকে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড তোলা হচ্ছে। সেই সিমগুলো কারা কিনছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই নম্বরগুলি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এরপরই পিংলার (Paschim Medinipur) সেই নির্দিষ্ট সিম বিক্রেতার দোকানে হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখানে সিমের স্টক মেলাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে অফিসারদের। দেখা যায় প্রতি মাসে হাজার হাজার সিম বিক্রি হচ্ছে সেখান থেকে। দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গৌতম খাঁড়ার নাম সামনে আসে এবং জানা যায় যে এই সিমগুলো কিনছিল স্থানীয় বাসিন্দা মুরসেলিন।

    এক একটি ওটিপি-র দাম আড়াই হাজার টাকা!

    তদন্তে উঠে এসেছে, এক একটি সিম কার্ড পাঁচ থেকে ছয়শো টাকায় কেনা হত। এরপরই গ্রাম থেকে মুরসেলিনকে আটক করা হয়। তাকে জেরার মুখে জানা যায়, ভারতীয় সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলছিল পাক আইএসআই কর্তারা, আর সেই অ্যাকাউন্টের ওটিপি জোগান দিচ্ছিল এই চক্রটি। প্রতিটি ওটিপি সরবরাহের জন্য ধৃতেরা দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করত। অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই দু’জনকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। মুরসেলিন আরও জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক পাকিস্তানি (Pakistan) আইএসআই অফিসারের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। ভারতীয় সিমের ওটিপি দিলে মোটা টাকা মিলবে—এই লোভনীয় টোপ গিলে সে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ গুপ্তচর অফিসারের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। ভারতীয় নম্বর দিয়ে খোলা সেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেই পাক কর্তারা ভারতের মাটিতে থাকা তাদের চরদের নির্দেশ পাঠাত।

    দেশজুড়ে জাল, তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাও

    অভিযুক্ত পিংলার বাসিন্দা (Paschim Medinipur) মুরসেলিন সরাসরি চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক অনুমিত। এই চক্রের পরিধি কতখানি বিস্তৃত, কতজন পাক অফিসারের সঙ্গে এদের যোগাযোগ ছিল এবং কী কী সংবেদনশীল তথ্য পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পিংলা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনার ঠিক সাতদিন আগেই কলকাতা থেকে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিপুল অর্থ এবং পাকিস্তানি (Pakistan) নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে সে পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিকদের (PIOs) কাছে ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি ও তথ্য পাচার করছিল।

  • Noida Violence: নয়ডার শিল্পাঞ্চল কাঁপানো সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভের মূল চক্রী গ্রেফতার

    Noida Violence: নয়ডার শিল্পাঞ্চল কাঁপানো সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভের মূল চক্রী গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ডার শিল্পাঞ্চল কাঁপিয়ে দেওয়া সহিংস শ্রমিক (Noida Violence) বিক্ষোভের মূল ষড়যন্ত্রী আদিত্য আনন্দ গ্রেফতার। গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করে তাকে। শনিবার তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লি রেলওয়ে স্টেশনে তাকে আটক করা হয়। পরে করা হয় গ্রেফতার (Mastermind Arrested)। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ১৩-১৪ এপ্রিল বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর থেকেই আনন্দ পলাতক ছিল।

    মাথার দাম ছিল লাখ টাকা (Noida Violence)

    তার বিরুদ্ধে ফেজ-২ থানায় একটি জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হয়। তার খোঁজ দিতে পারলে ১ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণাও করা হয়। জানা গিয়েছে, পালানোর আগে সে চুল-দাড়ি কেটে নিজের লুক বদলে নেয়। এনআইটি জামশেদপুর থেকে বি-টেক পাশ আদিত্য আনন্দকে তদন্তকারীরা মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। শ্রমিক সংগঠন ‘বিগুল মজদুর দস্তা’র সঙ্গে যুক্ত আনন্দ উসকানিমূলক কার্যকলাপ সংগঠিত করা, কিউআর কোড ব্যবহার করে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে হাজার হাজার শ্রমিককে সংগঠিত করা এবং নয়ডার ফেজ-২ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ধর্না ও বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতা দিয়ে হিংসা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত (Noida Violence)। পুলিশের দাবি, এই অস্থিরতা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যেখানে আনন্দ ও তার সহযোগীরা ৩১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে জেলায় ঢোকে।

    তিনদিনের মধ্যে ৮০টিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি!

    কমিশনার লক্ষ্মী সিংয়ের মতে, ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিল নয়ডার অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য সমন্বয় সাধন করা হয়েছিল। ৯ ও ১০ এপ্রিল কিউআর কোড পাঠিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শৈব্যা গয়াল জানান, শ্রমিক বিক্ষোভের আগের তিনদিনের মধ্যে ৮০টিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়। গয়ালের মতে, এই গ্রুপগুলিতে শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি—যেমন মজুরি বৃদ্ধি ও কাজের পরিবেশ উন্নতি—নিয়ে আলোচনা হয়নি। বরং শ্রমিকদের উসকে দেওয়া, ভিড় সংগঠিত করা এবং কারখানায় ভাঙচুর করার বার্তা ছড়ানো হচ্ছিল (Mastermind Arrested)। এই বিক্ষোভে ফেজ-২, সেক্টর ৬০, ৬২ এবং ৮৪-সহ ৮০টিরও বেশি শিল্পাঞ্চল থেকে প্রায় ৪০,০০০–৪৫,০০০ শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের কম মজুরি ও শোষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। শ্রমিকরা প্রতিবেশী হরিয়ানার সঙ্গে মজুরির সমতা দাবি করেন, যেখানে এপ্রিলের শুরুতে ৩৫ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল (Noida Violence)।

    উচ্চস্তরের কমিটি

    এর প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ শ্রমদফতর একটি উচ্চস্তরের কমিটি গঠন করে, যা গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদের ৭৪টি নির্ধারিত কর্মসংস্থানে ২১ শতাংশ মজুরি সংশোধনের সুপারিশ করে এবং তা কার্যকর করা হয়। এই বৃদ্ধি ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পূর্বপ্রযোজ্য হিসেবে কার্যকর এবং ৭ থেকে ১০ মে-এর মধ্যে তা দেওয়া হবে (Noida Violence)। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১৩,৯৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,৬৬৮ টাকা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে দ্বিগুণ হারে বাধ্যতামূলক ওভারটাইম, অননুমোদিত কাটছাঁট নিষিদ্ধ করা (Mastermind Arrested), সাপ্তাহিক ছুটি ও বোনাস কঠোরভাবে নিশ্চিত করা এবং নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া (Noida Violence)।

     

LinkedIn
Share