Tag: Strait of Hormuz crisis

  • India-UAE Oil Deal: জ্বালানি সুরক্ষায় মোদির মাস্টারস্ট্রোক! ভারতের জন্য ৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত করবে আমিরশাহি

    India-UAE Oil Deal: জ্বালানি সুরক্ষায় মোদির মাস্টারস্ট্রোক! ভারতের জন্য ৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত করবে আমিরশাহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ নিল ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সংক্ষিপ্ত আবুধাবি সফরের পর শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আমিরশাহি ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (SPR) সর্বাধিক ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত করার পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ভারত-আমিরশাহি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে।

    ভারতের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে আমিরশাহির তেল মজুত

    চুক্তি অনুযায়ী, আবুধাবি জাতীয় তেল সংস্থা, সংক্ষেপে অ্যাডনক (ADNOC)-এর অপরিশোধিত তেল ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে সংরক্ষণ করা হতে পারে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত বিদ্যমান স্টোরেজ সুবিধা যেমন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তেমনই ওডিশার চণ্ডিখোলে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলিকেও এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হতে পারে। ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও দেশের কাছে জরুরি পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকবে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ এবং তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর।

    ফুজাইরাহে তেল মজুতের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    দুই দেশ ভারতের বৃহত্তর স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে আমিরশাহির ফুজাইরাতে অপরিশোধিত তেল মজুতের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। এর পাশাপাশি, ভারতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG) সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় যৌথ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর ফলে ভারত ভবিষ্যতে গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি সুরক্ষায়ও আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।

    কৌশলগত চুক্তি ও এলপিজি সরবরাহে সমঝোতা

    এই সফরে ভারত ও আমিরশাহি স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। পাশাপাশি, এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত পৃথক চুক্তিও চূড়ান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি আমদানি ঝুঁকি কমাবে এবং ভবিষ্যতের সরবরাহ সঙ্কট মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

    পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বাড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

    এই চুক্তিগুলি এমন সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট। যদি এই রুটে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ফলে ভারত, চীন, জাপানের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলি বিকল্প কৌশল খুঁজছে।

    আমিরশাহির বড় পাইপলাইন প্রকল্পে গতি

    একই সময়ে আমিরশাহি তাদের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন (West-East Pipeline) প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাডনককে এই প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এই পাইপলাইনটি আমিরশাহির রফতানি সক্ষমতা বাড়াবে এবং হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি ফুজাইরার মাধ্যমে তেল রফতানির সুযোগ দেবে। এর ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

    ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক আরও গভীর

    সাম্প্রতিক এই চুক্তিগুলি স্পষ্ট করে যে ভারত ও আমিরশাহি কেবল বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং কৌশলগত সহযোগী হিসেবেও নিজেদের সম্পর্ক আরও গভীর করছে। জ্বালানি, অবকাঠামো ও সরবরাহ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজস্ব কৌশলগত মজুত বাড়াতে যে পথে এগোচ্ছে, আমিরশাহির সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সেই পরিকল্পনাকে নতুন গতি দিল।

  • Russian Oil Tanker: চিনে না গিয়ে ভারতের দিকে আসছে একাধিক রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার

    Russian Oil Tanker: চিনে না গিয়ে ভারতের দিকে আসছে একাধিক রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রওনা হয়েছিল চিনের উদ্দেশে। মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে ভারতের দিকে আসছে রাশিয়ার তেলবাহী অন্তত সাতটি ট্যাঙ্কার। ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় নয়াদিল্লি নতুন করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার পর এই পরিবর্তন ঘটেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা ভর্টেক্সা লিমিটেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজগুলির রুট পরিবর্তন হয়েছে তখনই, যখন ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সাময়িক ছাড়পত্র পায়, যার ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ রুশ তেল কেনা সম্ভব হয়েছে।

    আসছে তেলবাহী জাহাজ (Russian Oil Tanker)

    এই সাতটি ট্যাঙ্কারের মধ্যে অ্যাকোয়া টিটান নামের একটি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ শনিবার (২১ মার্চ) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছনোর কথা। এটি জানুয়ারির শেষদিকে বাল্টিক সাগরের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, চিনের রিঝাও বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। তবে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ভারত আমেরিকার ছাড়পত্র পাওয়ার কয়েকদিন পরে এটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে। সুয়েজম্যাক্স জৌজৌ এন নামের আর একটি ট্যাঙ্কার গুজরাটের জামনগরের সিক্কা বন্দরের দিকে আসছে। ২৫ মার্চ পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এটিও মার্চের শুরুতে পথ বদল করেছিল।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ

    এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। বর্তমানে ইরান এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বছরের শুরুতে কিছুটা কমানোর পর, মাত্র এক সপ্তাহেই ভারত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনে ফেলেছে। জানুয়ারিতে রাশিয়া থেকে ভারতের মোট তেল আমদানি কমে নেমে গিয়েছিল ২১ শতাংশে। কারণ তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল ভারতের।

    রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়ায় প্রতিযোগিতা

    নয়াদিল্লি যখন রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল, তখন চিন কম দামে সেই তেল কিনে নেওয়ার সুযোগ লুফে নিয়েছিল। এখন আমেরিকা অন্যান্য দেশকে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়ায় প্রতিযোগিতা গিয়েছে বেড়ে। রাশিয়ার তেল আসা ভারতের স্বস্তির কারণ হবে। কারণ ভারত মোট জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালী ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের ৪০–৫০ শতাংশ  অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আসে। এলএনজি আমদানির প্রায় অর্ধেক এবং অধিকাংশ এলপিজি সরবরাহও এই পথ দিয়েই হয়। এদিকে, যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে পড়েছে। তার জেরে মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর কিছু রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালী

    জানা গিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ভারতীয় পতাকাবাহী তিনটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে দেশে পৌঁছেছে। পারাপারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ২০টি জাহাজ। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনও সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলবাহী সাতটি ট্যাঙ্কারের আগমন ভারতের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সঙ্কট কিছুটা লাঘব করবে বলেই অনুমান।

     

LinkedIn
Share