Tag: Strategic partnership

  • PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। বুধবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ও তাঁর স্ত্রী সারা। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বরণ করতে গোটা ইজরায়েল জুড়ে প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে মোদি ইজরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন। ইজরায়েলের আইনসভায় ভাষণ দেওয়া তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় নেতা। ইজরায়েলের সংসদ ভবন ত্রিবর্ণ পতাকার রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি মোদি ইয়াদ ভাশেমে—ইজরায়েলের হলোকস্ট স্মৃতিসৌধে—গিয়ে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি জমানায় নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন।

    মোদি জমানায় ভারত-ইজরায়েল নৈকট্য (PM Modi)

    ১৯৫০ সালে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। যদিও তার পরেও কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক ছিল সতর্ক ও সীমিত। মোদির আমলে সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে (Benjamin Netanyahu)। ২০১৭ সালে তাঁর সফর ছিল প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর, যা লো-প্রোফাইল সম্পর্ক থেকে প্রকাশ্য কৌশলগত অংশীদারিত্বে উত্তরণের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, উদ্ভাবন, কৃষি ও উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের সফর ছিল একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত (PM Modi)।

    “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট”

    নেতানিয়াহু একাধিকবার মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” এবং ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট” বলে বর্ণনা করেছেন—যা ইজরায়েলে দলীয় বিভাজন পেরিয়ে সাড়া ফেলেছে। প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফর আগামী দশকের জন্য ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। নেসেটে ভাষণ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য আলোচনার ফল পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে (Benjamin Netanyahu)।

    মোদির বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ইজরায়েলের বিরোধী দলও

    ইজরায়েলের বিরোধী শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মেটানোর আহ্বান জানায় যাতে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেসেট ভাষণে উপস্থিত থাকতে পারে। আজকের মেরুকৃত বিশ্বে এটি একটি বিরল ঘটনা। বিরোধী দলনেতা নেতানিয়াহুকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন, যেন মোদির সংসদীয় ভাষণে বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা যেন জাতীয় গুরুত্বের মুহূর্তকে ক্ষুণ্ণ না করে। চিঠিতে বলা হয়, “এমন এক ঐতিহাসিক ভাষণে নেসেট যেন বিরোধী দলের উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত না হয় (PM Modi)।”

    অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক মোদি

    এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, ইজরায়েলে মোদিকে কেবল দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না, তাঁকে কৌশলগত ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিসর জুড়ে মোদি এমন এক নেতা হিসেবে সম্মান পান, যিনি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, সংকটের সময় ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, আবার একইসঙ্গে প্যালেস্তাইন ইস্যু ও গাজায় মানবিক উদ্বেগের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগত অবস্থানও বজায় রেখেছেন। এই ভারসাম্য তাঁকে একক কোনও ইজরায়েলি সরকারের গণ্ডির বাইরে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে (Benjamin Netanyahu)। নেতানিয়াহুর কাছে মোদি একটি অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক, বিরোধী শিবিরের কাছে তিনি সরকার-নিরপেক্ষ এক দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতীক। তাই মোদির নেসেট ভাষণের সময় বিরোধী নেতারাও উপস্থিত থাকতে চান। তাঁর ভাষণকে দলীয় রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে নয়, বরং ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের দিকনির্দেশক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে (PM Modi)।

     

  • India Brazil Trade: “আগামী পাঁচ বছরে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে ভারত-ব্রাজিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য”, লুলার সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি

    India Brazil Trade: “আগামী পাঁচ বছরে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে ভারত-ব্রাজিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য”, লুলার সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (India Brazil Trade) করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবারের এই বৈঠকে দুই দেশের নেতারা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পর্যায়ে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (India Brazil Trade)

    যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই আলোচনা সমন্বিত লক্ষ্য ও যৌথ উদ্দেশ্যের চেতনায় সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হয়েছে।” তিনি ভারত–ব্রাজিল সম্পর্ক শক্তিশালী করতে প্রেসিডেন্ট লুলার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন এবং নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “ভারত ও ব্রাজিলের প্রচেষ্টা গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী বছরগুলিতে আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের বাণিজ্য কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আসা ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সেই আস্থারই প্রমাণ।” তিনি বলেন, “আমরা এই (India Brazil Trade) পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করে যাব।”

    সন্ত্রাসবাদ মানবজাতির শত্রু

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশই একমত যে সন্ত্রাসবাদ এবং তার সমর্থকরা সমগ্র মানবজাতির শত্রু।” তিনি ব্রাজিলকে লাতিন আমেরিকায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, “বৃহৎ ব্রাজিলীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রতি আস্থার প্রতিফলন। ভারত–মারকোসুর (দক্ষিণ কমন মার্কেট) বাণিজ্য চুক্তির সম্প্রসারণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।” প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ব্রাজিলে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জন্য সেন্টার অব এক্সেলেন্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সুপারকম্পিউটার, সেমিকন্ডাক্টর ও ব্লকচেইনের ক্ষেত্রে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং তার উচিত যৌথ অগ্রগতির সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা (PM Modi)।”

    জ্বালানি সহযোগিতা

    জ্বালানি সহযোগিতাকেও অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ (India Brazil Trade) হিসেবে তুলে ধরা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইথানল মিশ্রণ এবং উন্নত বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সে ব্রাজিলের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি এবং দুর্যোগ–সহনশীল পরিকাঠামো জোটের সহ–সভাপতি হওয়ার ব্রাজিলের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্রাজিলের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।” এর আগে মোদি ও লুলা প্রতিনিধিদল স্তরের বৈঠক করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি এবং অন্য শীর্ষ আধিকারিকরা।

    এআই ইমপ্যাক্ট সামিট

    ১৯ ফেব্রুয়ারি এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ভারতে আসা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর সঙ্গে আসা শীর্ষ সিইওদের বৃহৎ প্রতিনিধিদল একটি ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নেবে, যেখানে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সুযোগ অনুসন্ধান করা হবে। এই সফরটি জুলাই ২০২৫-এ ব্রাসিলিয়ায় মোদির সফরের (India Brazil Trade) পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি ছিল ৫০ বছরেরও বেশি (PM Modi) সময়ের মধ্যে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ব্রাজিল সফর।

     

LinkedIn
Share