Tag: success story

success story

  • Success Story: আইএএসের চাকরি ছেড়ে চ্যালেঞ্জ! এখন ২৬ হাজার কোটির সংস্থার মালিক

    Success Story: আইএএসের চাকরি ছেড়ে চ্যালেঞ্জ! এখন ২৬ হাজার কোটির সংস্থার মালিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সঠিক সিদ্ধান্তই এনে দিতে পারে পাহাড়সম সাফল্য। আজ আমরা এই প্রতিবেদনে এমন এক মানুষের সম্বন্ধে জানব, যিনি তাঁর সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্বদরবারে। আর সেই মানুষটি হচ্ছেন মেধাবী যুবক রোমান সাইনি। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করে বড় চাকরি পেয়েও ছেড়ে দেন। নিজেকে সব সময় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাখতেই পছন্দ করতেন তিনি। আর শুধুমাত্র একটি সিদ্ধান্তে তাঁর বন্ধু গৌরব মঞ্জুল ও হেমেশ সিংকে নিয়ে তৈরি করে ফেলেছিলেন এডু-টেক সংস্থা, যা আজ শিক্ষার দুনিয়ায় নতুন পথের দিশারী (Success Story)।

    কীভাবে সব কিছু শুরু করেন রোমান? (Success Story)

    কোভিড পরবর্তী সময় থেকেই অনলাইন শিক্ষার ওপরে বেশি জোর দিতে শুরু করেছে অনেক সংস্থা। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী এখন অনেক দূরে থেকেই অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন করতে পারছে। এই ধরনের একটি অনলাইন শিক্ষা সংস্থা হল আনঅ্যাকাডেমি (Unacademy), যার মালিক রোমান সাইনি। একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে রোমান। বাবা দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন এবং মা গৃহবধূ। আজ তাঁর নিজস্ব এডু-টেক সংস্থা তৈরি করে বহু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের পাশ করার স্বপ্ন পূরণ করছেন। যেটি অনলাইন পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটি নতুন পথ দেখিয়েছে। খুব অল্প খরচেই এই সংস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়ে তাঁদের স্বপ্নপূরণ করতে পারেন। 
    প্রথমে রোমান ডাক্তারি পরীক্ষা পাশ করার পরে হঠাৎ ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মধ্যে আইএএস অফিসার হওয়ার এক বাসনা জন্মায়। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। ভারতের সবথেকে কঠিনতম পরীক্ষায় পাশ করে তিনি আইএএস অফিসারের চাকরি পান। আইএএস অফিসার হওয়ার আগে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান AIIMS এও সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। মাত্র ২২ বছর বয়সে দেশের কনিষ্ঠতম আইএএস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। কখনই পিছিয়ে পড়ায় তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না। সব সময় এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নই দেখতেন রোমান (Success Story)।

    কী এমন সিদ্ধান্ত, যা হঠাৎ বদলে দিল জীবন? (Success Story)

    উচ্চপদস্থ কালেক্টরেটের চাকরি ছেড়ে তাঁর বন্ধু গৌরব মঞ্জুলের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি ওয়েবসাইট চালানোর কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন রোমান। যার নাম রাখেন “আনঅ্যাকাডেমি”। প্রথমে এই ওয়েবসাইটে সমস্ত ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ানো হত। সর্বপ্রথম বেঙ্গালুরুতে তাঁর এই ব্যবসার সূচনা হয়। অনেক মানুষ যাঁরা সাধারণ বাড়ি থেকে উঠে আসেন, তাঁদের পক্ষে লক্ষ টাকা খরচ করে কোচিং নেওয়ার সামর্থ্য থাকে না। ফলে এই এডু-টেক সংস্থার মাধ্যমে সেই সব ছেলেরাও খুব স্বল্পমূল্যে অনলাইন কোচিংয়ে যুক্ত হতে শুরু করেন। বর্তমানে এই সংস্থার সঙ্গে সারা দেশের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষক যুক্ত হয়ে বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষার্থীদের কোচিং দিচ্ছেন ও অনেক শিক্ষককে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে এই সংস্থা (Success Story)। 
    ২০২২ সালের একটি সমীক্ষাতে দেখা যায়, রোমান সাইনির সংস্থার টার্নওভার ২৬ হাজার কোটি টাকা। এই কোম্পানিতে বর্তমানে সিইও হিসাবে তাঁরই বন্ধু গৌরব মঞ্জুল রয়েছেন, যাঁর মাসিক বেতন এখন ১.৫৮ কোটি টাকা। আর অবিশ্বাস্য হলেও রোমান নিজে বেতন নেন ৮৮ লক্ষ টাকা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Success Story: শূন্য থেকে শুরু করে ৫০০ কোটির টার্নওভারে! অক্লান্ত পরিশ্রমেরই পুরস্কার?

    Success Story: শূন্য থেকে শুরু করে ৫০০ কোটির টার্নওভারে! অক্লান্ত পরিশ্রমেরই পুরস্কার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বিষ্ণু ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল কোম্পানি’। নামটা চেনেন? ছোট করে বলি, VICCO। হ্যাঁ, এবার নিশ্চয় চিনতে পেরেছেন? ছোটবেলা থেকেই যে কোম্পানির সঙ্গে আমরা পরিচিত, সেই কোম্পানির কর্ণধার পেনধারকর শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন তাঁর জীবন, যাঁর প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার এখন ৫০০ কোটির মাত্রা ছাড়িয়ে ফেলেছে (Success Story)। এই সবকিছুর পিছনেই আছে অক্লান্ত পরিশ্রম আর ধৈর্য।

    কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছলেন? (Success Story)

    পেনধারকর মহারাষ্ট্রের নাগরপুর জেলায় তাঁর প্রথম জীবিকা শুরু করেছিলেন একটি মুদির দোকান দিয়ে। ছোট্ট লক্ষ্য, পরিবারের ভরণপোষণ। পরে নিজের জীবিকাকে আরও মজবুত করার জন্য অন্যান্য বেশ কয়েকটি কাজ করেছিলেন (Success Story)। কিন্তু এর পর তিনি সরাসরি পরিবার নিয়ে মুম্বইয়ে পাড়ি দেন। প্রথম মুম্বইয়ের বান্দ্রাতে বসবাস শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত পেরেলে চলে যান। সেখানে থাকাকালীন লক্ষ্য করেন, মানুষের মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ ও বিদেশী প্রসাধনী পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই সময়েই তিনি জনপ্রিয় বিদেশী প্রসাধনী ব্র্যান্ডগুলির বিকল্প হিসাবে নিজের ব্র্যান্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেন।

    আয়ুর্বেদিক জ্ঞান কীভাবে? (Success Story)

    নানারকম প্রসাধনী দ্রব্য উৎপাদন করতে আয়ুর্বেদিক জ্ঞান অনিবার্য। তাই নিজস্ব ব্র্যান্ড ভিকো চালু করার আগে আয়ুর্বেদিক বিষয়ক জ্ঞানও পেনধারকরকে অর্জন করতে হয়েছিল। বিভিন্ন প্রাচীন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন তিনি। তাছাড়া তাঁর শ্যালকের কাছ থেকে নানা ভাবে সাহায্য পেয়েছিলেন, যিনি একজন আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

    VICCO ব্র্যান্ডের প্রথম পথচলা (Success Story) 

    পেনধারকর বাড়ির রান্নাঘরকেই তাঁর পণ্য প্রস্তুতকারী ইউনিট হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। রান্নাঘর ছাড়াও তাঁর সঙ্গে একটি গোডাউনের ব্যবস্থা করেছিলেন। ১৯৫০ এর দশকে বিদেশি টুথ পেস্টের ব্যবহার তাঁর নজরে আসে। এর পরেই তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের সম্পূর্ণ দেশীয় আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে তৈরি করেন টুথ পাউডার। যেটি সেই সময় মানুষ মারাত্মক ভাবে পছন্দ করতে থাকেন। পেনধারকর নিজের পণ্যকে মানুষের কাছে আরও বেশি ভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজে লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করতে থাকেন। যা আস্তে আস্তে এক বিশাল জায়গা করে নেয় মানুষের মনে। চার বছরের মধ্যে তাঁর কোম্পানি এক ভালো জায়গায় পৌঁছে যায়। ১৯৭১ সালে কেশব পেনধারকর মারা যান এবং কোম্পানির সমস্ত দায়ভার তাঁর ছেলে গজানন গ্রহণ করেন। এর পর থেকেই কোম্পানি আরও নানা পণ্যের ওপর গবেষণা করতে থাকে ও নানান প্রসাধনী সামগ্রীও তৈরি করেছিল। সেই সময়েই তৈরি হয় VICCO-র দেশীয় আয়ুর্বেদিক ক্রিম, যেটি সম্পূর্ণ হলুদের গুণে সমৃদ্ধ ছিল। এর পর ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য VICCO সুগার ফ্রি পেস্ট, মাল্টিপারপাস আয়ুর্বেদিক ক্রিম, পাউডার প্রভৃতির উৎপাদন শুরু হয় (Success Story)।

    বর্তমানের VICCO

    বর্তমানে কেশব পেনধারকরের তৃতীয় প্রজন্ম সঞ্জীব পেনধারকর কোম্পানির দায়ভার গ্রহণ করেছেন। আজও কোম্পানি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তাদের নিজস্ব পণ্য উৎপাদন করে চলছে। যা এখন শুধু ভারতবর্ষ নয়, গোটা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে (Success Story)। কোম্পানির মানও পৌঁছে গিয়েছে আকাশছোঁয়া জায়গায়। ২০২৩ হওয়া শেষ অর্থবর্ষে কোম্পানির ৫০০ কোটি টাকারও বেশি আয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Dr Zulekha Daud: বাবা ছিলেন দিনমজুর, অদম্য চেষ্টা ও সংগ্রামই পৌঁছে দিল অর্থ ও খ্যাতির শিখরে!

    Dr Zulekha Daud: বাবা ছিলেন দিনমজুর, অদম্য চেষ্টা ও সংগ্রামই পৌঁছে দিল অর্থ ও খ্যাতির শিখরে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সফলতা অর্জন করার রাস্তাটা কিন্তু মোটেও সহজ নয়, থাকে অনেক চড়াই-উতরাই। আর এইসব কাটিয়েই মানুষ তার সফলতার শিখরে পৌঁছাতে পারে। আজ এই প্রতিবেদনে এমন একজন লড়াকু মহিলার (Dr Zulekha Daud) সম্বেন্ধে জানব, যিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে গিয়েছেন। যাঁকে আজ এক ডাকে গোটা বিশ্ব চেনে। তাঁর নাম ডক্টর জুলেখা দাউদ। যিনি বর্তমানে একজন ভারতীয় ধনী মহিলা হিসেবেও পরিচিত।

    কে এই ডাঃ জুলেখা দাউদ (Dr Zulekha Daud)?

    ডাঃ জুলেখা দাউদ এমনই একজন নারী, যিনি নিজেকে প্রায় শূন্য থেকে উঠিয়ে নিয়ে এসে বর্তমানে ভারতীয় ধনী মহিলার তকমা পেয়েছেন, সম্পূর্ণ নিজের অদম্য চেষ্টা ও সংগ্রামের মাধ্যমে। তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য আজ তিনি সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছেন। ৮৪ বছর বয়সী ডাঃ জুলেখা দাউদ (Dr Zulekha Daud) মহারাষ্ট্রের নাগপুরে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আজ তিনি দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয় ধনী মহিলা হিসেবে পরিচিত। জুলেখার বাবা একজন দিনমজুরের কাজ করতেন। অভাবী সংসারে থেকেও জুলেখা নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ডাক্তারি পড়া শেষ হতেই ১৯৬৪ সালে তিনি আরব আমিরশাহী যান তাঁর কর্মসূত্রে। এই সময় তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলার আখ্যা পান যিনি প্রথমবার ভারত থেকে আরব আমিরশাহীতে ডাক্তারি প্র্যাকটিসের  জন্য যান। দুবাইয়ে তিনি প্রায় ১০,০০০ প্রসূতির ডেলিভারি করেছেন। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি।

    জুলেখা হাসপাতাল গ্রুপ

    ১৯৯২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন জুলেখা হাসপাতাল গ্রুপ। ৬০ বছর আগে জুলেখা যখন দুবাইয়ে তার চিকিৎসা জীবন শুরু করেন, তখন দুবাইয়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে তিনি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জুলেখা হসপিটাল গ্রুপের। তিনি জুলেখা হসপিটাল গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

    ডাঃ জুলেখা দাউদের (Dr Zulekha Daud) সাফল্য

    ২০১৯ সালে তিনি প্রবাসী ভারতীয় সম্মান পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। সম্প্রতি ফোর্বসের মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ জন ধনী ব্যক্তির তালিকায় তিনি (Dr Zulekha Daud) স্থান পেয়েছেন। তাঁর হসপিটাল গ্রুপের বর্তমান বার্ষিক আয় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩০০০ কোটির কাছাকাছি। শুধু দুবাই নয়, ভারতেও তাঁর এই জুলেখা হসপিটাল গ্রুপ সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বসাধারণকে চিকিৎসা প্রদান করেছে। নাগপুরে একটি টপ মেডিক্যাল সেন্টার খোলার জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক থেকে তিনি ১৯৮ কোটি টাকা পেয়েছেন ও নিজের গ্রুপ থেকে ২০ কোটি টাকা প্রদান করেছেন।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Success Story: রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কঠোর পরিশ্রমে আজ খ্যাতির শিখরে! কে এই হস্তশিল্পী?

    Success Story: রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কঠোর পরিশ্রমে আজ খ্যাতির শিখরে! কে এই হস্তশিল্পী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানুষের কর্মই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করে। ভালো কর্ম যে কোনও মানুষের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে সক্ষম। আজকের প্রতিবেদন তেমনই একজনকে নিয়ে, যিনি তাঁর কর্ম প্রতিভায় নিজেকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন, তিনি রুমা দেবী (Success Story)।

    কে এই রুমা দেবী?

    রুমা দেবী রাজস্থানের বারমের জেলার একজন বাসিন্দা। রাজস্থান হস্তশিল্প যেমন শাড়ি, বিছানার চাদর, কুর্তা এবং অন্যান্য পোশাক তৈরিতে উন্নত এক রাজ্য। দেশ-বিদেশের সমস্ত জায়গায় রাজস্থান আজ তার হস্তশিল্পের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছে। এই রাজস্থানী হস্তশিল্পের একজন কারিগর তথা শিল্পী হলেন রুমা দেবী। তাঁর নিজস্ব একটি গ্রুপ আছে যারা বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত বারমের, জেলমের এবং বিকানের জেলার প্রায় ৭৫টি গ্রামের ২২ হাজার মহিলাকে কর্মসংস্থান প্রদান করছে (Success Story) এবং তাঁদের শিল্প সিঙ্গাপুর, জার্মানি এবং কলম্বোর ফ্যাশন উইকেও প্রদর্শিত হয়েছে।

    সাফল্যের রাস্তা মোটেও সহজ ছিল না (Success Story)

    বর্তমানে অনেক মহিলাই তাঁদের নিজস্ব শিল্পীসত্তা এবং কাজের নিরিখে দেশ-বিদেশ জুড়ে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু আর কয়েকজন সাধারণ মানুষের মতো রুমা দেবীর সফলতার রাস্তা (Success Story) কখনও সহজ ছিল না। এর পিছনে আছে এক কঠিন জীবন সংগ্রামের কাহিনি। ১৯৮৮ সালের নভেম্বরে রাজস্থানের বারমের জেলার রাতওয়াসার গ্রামে পিতা খেতারাম এবং মাতা ইমরাতি দেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন রুমা দেবী। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই মাকে হারান তিনি। তার পর তাঁর পিতা আবার একটি বিয়েও করেন। রুমা বেড়ে ওঠেন তাঁর ৭ বোন ও এক ভাইয়ের সাথে। রুমাদেবী তাঁর মামার কাছে বড় হন। সেই গ্রামেরই একটি সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। রাজস্থানে পানীয় জলের খুব সমস্যা থাকায় রুমা দেবী ১০ কিলোমিটার দূর থেকে গরুর গাড়িতে বসে পানীয় জল নিয়ে আসতেন। এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর বিবাহ হয় বারমের জেলার মঙ্গল বেরি গ্রামের বাসিন্দা টিকুরামের সাথে।

    কীভাবে তিনি সফলতা (Success Story) অর্জন করেন?

    ১৯৯৮ সালে গ্রামীণ বিকাশ এবং চেতনা সংস্থা তৈরি হয়েছিল। এই এনজিওর লক্ষ্য ছিল গ্রামের হস্তশিল্পগুলির মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করা। ২০০৮ সালে রুমা দেবী এই এনজিওর সাথে যুক্ত হন। এরপর শুরু হয় তাঁর কঠোর পরিশ্রম। নতুন নতুন ডিজাইন এবং আরও নানা হস্তশিল্পের এক খ্যাতনামা শিল্পী হিসেবে রুমা দেবী নাম অর্জন করেন। এর পর তাঁকে সেই এনজিওর চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে সেই এনজিওর সঙ্গে প্রায় ২২ হাজার মহিলা যুক্ত৷ এইসব নারীরা ঘরে বসেই তাঁদের হস্তশিল্প তৈরি করেন। রুমা দেবী তাঁদের হস্তশিল্প তৈরি করা পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে সব রকম সহায়তা করে থাকেন। সেইসব নারীদের ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার প্রায় কোটি  টাকা (Success Story)।

    রুমা দেবীর অর্জিত সম্মান (Success Story)

    রুমা দেবী ভারতের মহিলাদের জন্য সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘নারী শক্তি পুরস্কার ২০১৮’ তে পুরস্কৃত হন। এমনকি রুমা দেবীকে ১৫ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের হাওয়ার্ড ইন্ডিয়া সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখান থেকে হাওওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুদের হস্তশিল্পের পণ্য তৈরি শেখানোর সুযোগ পান। সেখানে পাশাপাশি তাঁর পণ্য প্রদর্শনেরও সুযোগ  পেয়েছিলেন। রুমা দেবী সোশ্যাল মিডিয়াতেও খুব সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে থাকেন। তাঁর বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক লাখ। ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ। ট্যুইটারে তাঁকে অনুসরণ করেন ৬ হাজার ৫০০ মানুষ। 
    সম্প্রতি রুমা দেবী তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একসাথে তাঁর কুঁড়েঘরে থাকার ছবি এবং তার ইউরোপ ভ্রমণের ছবি প্রকাশ করেছেন। ২০১৫-১৬ সালে অনুষ্ঠিত জার্মানির বৃহত্তম বাণিজ্য মেলা, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য ফি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা, সেখানে রুমা দেবী ও তাঁর গ্রুপকে বিনামূল্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল (Success Story)।

    রুমা দেবীকে নিয়ে লেখা হয় একটি বইও

    সম্প্রতি নিধি জৈন নামক এক লেখিকা ‘হাউসলে কা হুনার’ নামক একটি বই প্রকাশ করেন, যা রুমা দেবীকে নিয়ে লেখা। বইটিতে রুমা দেবীর সংগ্রাম এবং তাঁর সাফল্যের পুরো কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। কীভাবে তিনি একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে বিদেশেও তাঁর শিল্পকে তুলে ধরেছেন এবং বিদেশে পৌঁছে হাজার হাজার নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন (Success Story), তার উল্লেখ এই বইতে আছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Success Story: শুধু গরুর দুধ ও গোবর বিক্রি করেই কোটিপতি! পড়ুন সেই উত্তরণের কাহিনি

    Success Story: শুধু গরুর দুধ ও গোবর বিক্রি করেই কোটিপতি! পড়ুন সেই উত্তরণের কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনেক ভারতীয় নিজের জীবনে সাফল্য নিয়ে আসার তাগিদে ব্যবসাকেই উপার্জনের মূল পথ হিসাবে বেছে নেন। সঠিক ব্যবসা মানুষকে এনে দিতে পারে চরম সাফল্য, আর এই ব্যবসা অনেক ধরনেরই হতে পারে। কিন্তু কখনও শুনেছেন, গরুর গোবর ও দুধ বিক্রি করে কোটিপতি হয়েছেন কেউ? এই প্রতিবেদনে এমন একজনের সম্পর্কে জানব, যিনি এই অসম্ভবকে সম্ভব (Success Story) করে দেখিয়েছেন, আর নিজেকে নিয়ে গেছেন উন্নতির চরম শিখরে। শুধু গরুর দুধ ও গোবর বিক্রি করেই হয়েছেন কোটিপতি। আর তাঁর নাম প্রকাশ ইমডে।

    কীভাবে এই সাফল্য (Success Story) পেলেন?

    প্রকাশ ইমডে একজন কৃষক। ১৯৮৮ সালে প্রথম দুধ বিক্রির মাধ্যমে শুরু করেন তাঁর ব্যবসা। সেই সময় তাঁর মাত্র একটি গরু ছিল। তাছাড়া ছিল ৪ একর জমি। তিনি মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের এক কৃষক। সেই সময় এলাকায় চাষের জলের চরম ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাষবাসের ক্ষেত্রে চরম অসুবিধায় পড়েন তিনি। এই কারণেই তিনি চাষ ছেড়ে গরু পালন করতে শুরু করেন এবং গরুর দুধের ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসায় আস্তে আস্তে উন্নতি করতে শুরু করেন। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও বেশি গরু পালন করতে শুরু করেন। এখন তাঁর ফার্মে প্রায় ১৫০ টি গরু পালন করছেন, এর থেকে প্রায় ১০০০ লিটার দুধ উৎপাদন করেন তিনি (Success Story)। ফার্মে জন্ম নেওয়া বাছুর এবং বয়স বেড়ে যাওয়া গরুগুলিকে তিনি কখনই বিক্রি করেন না বরং তিনি এবং তাঁর পরিবার মিলে এই গরু এবং বাছুরগুলির সব দিক থেকে যত্ন নেন ও গোয়াল ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও নেন।

    অভিনব ব্যবসায় সাফল্য (Success Story) আর তাতেই কোটিপতি

    এই অদম্য ইচ্ছা শক্তি, ধৈর্য প্রকাশ ইমডেকে সাধারণ কৃষক থেকে আজ এক ধনবান ব্যক্তিত্বে (Success Story) পরিণত করেছে। প্রকাশ বর্তমানে তাঁর নিজস্ব একটি ১ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ বাংলো তৈরি করেছেন। যে বাংলোর ভালবেসে নাম রেখেছেন “গোধন নিবাস”। প্রকাশ হয়ে উঠেছেন সবার চোখের মণি, সবাই ভালোবেসে তাঁকে “বাপু” বলেও ডাকেন। তাঁর দিনের শুরু হয় গো মাতার পুজো দিয়ে। বাংলোর ছাদে একটি বিশালাকার দুধের ক্যান এবং গরুর মূর্তি স্থাপন করেছেন, যা এখন সবার নজর কাড়ছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share