Tag: Sudan

Sudan

  • Donald Trump: মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

    Donald Trump: মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেশ কয়েকটি মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ (Abraham Accords) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোমবার এই আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প একে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন, জানিয়ে দেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হতে পারে। তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডন এবং বাহরিন-সহ বিভিন্ন দেশকে একসঙ্গে ওই অ্যাকর্ডসে সই করার আহ্বান জানান।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য (Donald Trump)

    দীর্ঘ ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা সুন্দরভাবে এগোচ্ছে! এটি সবার জন্যই একটি দারুণ চুক্তি হবে, না হলে কোনও চুক্তিই হবে না।” সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনও সমঝোতায় পৌঁছনো না যায়, তাহলে আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে এবং গোলাগুলি আগের চেয়ে আরও বড় ও মারাত্মক হবে।” ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সৌদি আরব এবং কাতারের অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া উচিত। পরে অন্যান্য দেশগুলোরও একে অনুসরণ করা উচিত। তাঁর ইঙ্গিত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফলভাবে চুক্তি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ইরানও এই কাঠামোর অংশ হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বর্তমান সদস্য দেশগুলির জন্য আর্থিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ‘বিস্ফোরণ’ নিয়ে এসেছে। তিনি সদস্য দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, মরক্কো, সুদান এবং কাজাখাস্তানের নাম করেন (Abraham Accords)।

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্প বলেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস তাদের পক্ষে খুবই উপকারী হয়েছে। সবার জন্যই আরও ভালো হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত শক্তি, ক্ষমতা ও শান্তি নিয়ে আসবে।” তিনি জানান, ওই দেশগুলির অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তারা ইরানকেও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ হিসেবে দেখতে সম্মানিত বোধ করবেন। ট্রাম্প একে এই অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলির একটি বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের আরও দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    আব্রাহাম অ্যাকর্ডস

    আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হল ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এক ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে ইজরায়েল এবং একাধিক আরব দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। জানা গিয়েছে, শনিবার ট্রাম্প (Donald Trump) কয়েকটি আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি আরও বিভিন্ন দেশকে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়াতে চান। ট্রাম্পের এহেন প্রস্তাবের পর ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে কিছু সময়ের জন্য নীরবতা নেমে আসে, চুপ করে (Abraham Accords) যান সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের প্রধানরা। কারণ এই দেশগুলির সঙ্গে ইজরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই (Donald Trump)।

     

  • RSF: সুদানে চলছে নির্মম গণহত্যা, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, বলছে রাষ্ট্রসংঘ

    RSF: সুদানে চলছে নির্মম গণহত্যা, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, বলছে রাষ্ট্রসংঘ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুদানে (Sudan) অ-মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। আরএসএফ (RSF) পরিচালিত এই নির্মম গণহত্যায় নারী ও শিশু-সহ হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। সম্প্রতি আরএসএফ বিদ্রোহীরা এল শাফির শহর দখল করার পর এই নৃশংসতা শুরু হয়। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও তাদের বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। কারণ অনলাইনে প্রচারিত ভয়ঙ্কর ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে আরএসএফ সদস্যরা মাটিতে শুয়ে থাকা মানুষদের গুলি করে হত্যা করছে। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মাত্র দু’দিনের এই হিংসায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

    ক্ষমতার দ্বন্দ্ব (RSF)

    সুদানের জনসংখ্যার বেশিরভাগই সুদানি আরব বংশোদ্ভূত। তবে তারা যাদের টার্গেট করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন খ্রিষ্টান ও স্থানীয় অ-আরব উপজাতির সদস্যরা। এই অশান্তির মূল কারণ হল সুদানের সামরিক বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, যা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। ২০১৯ সালে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরকে উৎখাতের পর, সুদানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ কমান্ডার জেনারেল মহম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তাঁদের এই দ্বন্দ্বের জেরেই বর্তমানে দেশটি দীর্ণ গৃহযুদ্ধে (RSF)।

    নিহতের খতিয়ান

    সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে নিরাপত্তার খোঁজে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), লিবিয়া ও চাদ-সহ কিছু ইসলামিক দেশ আরএসএফকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে। এদিকে, সুদানের সরকারি সেনাবাহিনী সমর্থন পাচ্ছে মিশর, তুরস্ক ও ইরানের। এগুলিও মুসলিম-প্রধান দেশ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সুদানে যে অভিযান চলছে, তা আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে ইসলামায়নের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। আরএসএফ সম্প্রতি (Sudan) দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি এল ফাশের শহরের দখল নেয়। তার জেরে সাধারণ মানুষের ওপর হিংসার ঘটনা আরও বেড়ে গিয়েছে। সৌদি ম্যাটারনিটি হাসপাতালে ঢুকে প্রায় ৪৬০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর ঠিক আগের দিনই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির হাতে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার ছিল এক মাসের মধ্যে এই হাসপাতালে চতুর্থ হামলা। সর্বশেষ হামলায় এক নার্স নিহত হন, জখম হয়েছেন তিনজন চিকিৎসাকর্মীও। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের মেঝেজুড়ে রাশি রাশি লাশ পড়ে রয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভেঙে-চুরে যাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম (RSF)। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ভারী মর্টার হামলায় অস্ত্রোপচার চলাকালীন সার্জেনরা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার কক্ষ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অপারেশন চলাকালীন একটি বিস্ফোরণে রোগীর দেহে গুরুতর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বোমাবর্ষণ শুরু হতেই হাসপাতালজুড়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আরএসএফ ছ’জন স্বাস্থ্যকর্মী, যার মধ্যে চারজন চিকিৎসকও রয়েছেন, তাঁদের অপহরণ করেছে। মুক্তিপণ বাবদ দাবি করা হয়েছে (Sudan) ১,৫০,০০০ মার্কিন ডলার।

    জাতিগতভাবে লক্ষ্য করে হামলা

    প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে আরএসএফ এবং তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে বারবার জাতিগতভাবে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে, বিশেষত অ–আরব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। এল ফাশের এখন পুরোপুরি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ২,৫০,০০০ এর বেশি মানুষ, যাঁদের অনেকেই সংখ্যালঘু উপজাতির সদস্য, শহরের ভেতর আটকে পড়ে গিয়েছেন। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঘটনাস্থলের খবর যাতে বাইরে পৌঁছতে না পারে এবং জরুরি সাহায্য বাধাপ্রাপ্ত হয়, তাই এই পথ অবলম্বন করেছে আরএসএফ (RSF)।

    বর্তমানে দারফুর ও কর্ডোফান অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশই আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সুদানি সশস্ত্র বাহিনী দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চল, রাজধানী খার্তুম-সহ দেশের একটা অংশ তাদের দখলে রেখেছে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক (Sudan) বাহিনীর সংঘর্ষ চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সীমিত হয়ে পড়ছে মানবিক সাহায্যের পথ (RSF)।

  • Sudan Massacre: সুদানের এল-ফাশেরে রক্তের স্রোত, মহাকাশ থেকেও দেখা যাচ্ছে লাশের স্তূপ

    Sudan Massacre: সুদানের এল-ফাশেরে রক্তের স্রোত, মহাকাশ থেকেও দেখা যাচ্ছে লাশের স্তূপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুদানের রাজধানী দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলের এল-ফাশার শহরে ভয়াবহ হত্যালীলা চালিয়েছে সে দেশের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। শহরটি দখল করতে গিয়ে মাত্র ৩ দিনে অন্তত দেড় হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে আরএসএফ। জানা গিয়েছে, আরএসএফের জওয়ানরা সম্প্রতি এল-ফাশার শহরটি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দখল করেছে। সুদান ডক্টর্স নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশের নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে আরএসএফ গত ৩ দিনে অন্তত দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।

    স্যাটেলাইট চিত্রে দৃশ্যমান হত্যাযজ্ঞ

    সুদানে মানবিক বিপর্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উত্তর দারফুরের এল-ফাশের শহরে হত্যাযজ্ঞের ছবি এখন মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে রক্তের লাল দাগ এবং শত শত মৃতদেহের স্তূপ—যা সুদানের গৃহযুদ্ধে আরএসএফ কর্তৃক সংঘটিত নৃশংসতার প্রমাণ বহন করছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব (HRL) জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস কর্তৃক তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে আরএসএফের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রক্তের দাগ এবং মানুষের দেহসদৃশ বস্তুর ক্লাস্টার।

    প্রকাশিত তথ্য চমকে দেবে

    সুদান ডক্টর্স নেটওয়ার্কের কথায়, ‘আজ বিশ্বের সামনে যে হত্যালীলা চলছে, তা আসলে সেই হত্যারই ধারাবাহিকতা যা দেড় বছর আগে এল-ফাশেরে ঘটেছিল। সে সময় বোমা হামলা, অনাহার ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় ১৪ হাজারেরও বেশি অসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল।’ তাদের দাবি, এ সব হামলা ‘পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে মানুষ হত্যার একটি অভিযানের অংশ।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব থেকে প্রকাশিত নতুন তথ্য বলেছে, আরএসএফের দখলের পর তোলা স্যাটেলাইট চিত্রে মানুষের মৃতদেহের আকারের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন বহু বস্তু দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, মাটিতে বড় বড় লালচে দাগও ধরা পড়েছে, যা রক্তপাতের ইঙ্গিত দেয়।

    দেশের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে

    গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে সুদানে। সুদানের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো ওরফে হেমেদটির ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে। দেশের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই নিয়েই লড়াই মূলত। আরএসএফ ও সুদানি সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, আসলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। দেশের ১ কোটি ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে সে দেশে। পরিস্থিতি এমন যে আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশটিতে ফের ভাঙন ধরতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ফের বিভক্ত হতে পারে সুদান

    গত ১৭ মাস অবরুদ্ধ থাকার পর রবিবার এল-ফাশের দখল করে আরএসএফ। এটি দারফুর অঞ্চলে সুদানি সেনাবাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি ছিল। বুধবার সুদান সরকার জানায়, শহরটিতে অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সহায়তাকারী সংস্থাগুলিও জানিয়েছে, তারা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে খবর পেয়েছে যে শহরে গণহত্যা, পালিয়ে যাওয়া অসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, এবং ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যার মতো ভয়াবহ নৃশংসতা চলছে। শুধু তাই নয়, শিশু থেকে সাধারণ নাগরিকদের উপর দেদার যৌন নির্যাতনের ঘটনাও সামনে আসছে লাগাতার। এই শহর দখলের মধ্য দিয়ে দারফুরের প্রায় পুরোটাই আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। এতে আবারও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা থেকে কৃটনৈতিক মহলের অনুমান, এক দশকেরও বেশি আগে দক্ষিণ সুদানের মতো, সুদান হয়তো আবারও বিভক্ত হতে পারে।

LinkedIn
Share