Tag: Suicide Prevention

  • Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! শরীরের পাশপাশি মনের ক্ষত বাড়ছে! ভারতীয় পুরুষদের জীবন যাপনের ধরনের জেরেই ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্য সঙ্কট। তাই শরীর ও মনের সমান খেয়াল রাখা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। নভেম্বর মাস জুড়ে পু্রুষদের স্বাস্থ্যের সঙ্কট নিয়ে একাধিক কর্মশালার পরিকল্পনা করছেন চিকিৎসকদের সংগঠন‌।

    কোন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে গত কয়েক দশকে মূলত দুটো স্বাস্থ্য সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এক, অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। দুই, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা! এই দুই রোগের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ অসচেতনতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। সমস্যা সম্পর্কে না জানা এবং তাকে অবহেলা করার জেরেই দিনের পর দিন পরিস্থিতি জটিল হয়। বড় বিপদ তৈরি হয়।

    কোন অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হারে অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে। আর এই অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,‌ লিভারের অসুখের মতো একাধিক জটিল সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে।
    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একাধিক পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, ভারতীয় পুরুষদের মৃত্যুর কারণ হিসাবে সবচেয়ে বেশি হলোৎঅসংক্রামক রোগ। আর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়সি ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থুলতার মতো নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই ধরনের সমস্যা হৃদরোগ, কিডনির অসুখ, লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    কেন অসংক্রামক রোগে ভারতীয় পুরুষেরা আক্রান্ত হচ্ছেন?

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠছে। যা একাধিক অসংক্রামক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারের অভ্যাস, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করছে। আবার অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় মেদ বাড়াচ্ছে। ফলে, স্থুলতার মতো সমস্যা তৈরি করছে। যা পরবর্তীতে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, লিভারের অসুখের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।

    অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করে। দিনের অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকার কারণ অনেক সময়েই ভারতীয় পুরুষদের খাবারে নির্দিষ্ট সময় থাকে না। খাবার খাওয়ার সময়ের ব্যবধান অনেক সময়েই বেশি হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খাওয়ার জেরে হজমের সমস্যা সহ একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    শারীরিক কসরতের জন্য কম সময় বরাদ্দ!

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শারীরিক কসরতের প্রতি অনীহা বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনে অন্তত আধ ঘণ্টাও শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটির জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় নির্দিষ্ট জায়গায় বসে কাজ হচ্ছে। অধিকাংশ সময় ল্যাপটপে চোখ রেখেই চলে যাচ্ছে।‌ এর ফলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অপর্যাপ্ত বিশ্রাম!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুম অধিকাংশের হয় না। এখন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জেরে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপরে আরও বেশি চাপ পড়ে। যার ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ু আরও ক্লান্ত হয়ে যায়। ফলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি হয়‌।

    কেন ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    ভারতীয় পুরুষদের শরীরের পাশপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা এবং অবসাদের মতো নানান মানসিক সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরেই অনেকে চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ভারতে আত্মহত্যার ঘটনা যে হারে বাড়ছে, সেটা অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে এনসিআরবি-র তথ্য?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারতে পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিলো প্রায় ৯৭ হাজার। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি।‌ প্রত্যেক বছর উদ্বেগজনক হারে আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ!
    পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় কম বয়সি পুরুষদের মধ্যেই শুধু নয়। মধ্যবয়সি ও প্রৌঢ়দের মধ্যেও ক্রমশ আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার জেরেই এই বিপদ ক্রমশ বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    কেন বাড়ছে মানসিক সঙ্কট?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক চাপ ভারতীয় পুরুষদের মানসিক সঙ্কট তৈরির অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পুরুষদের সফল হওয়ার বাড়তি বোঝা নিয়ে চলতে হয়। কর্মজীবনের ধরণ বদলে যাচ্ছে। সুনিশ্চিত দীর্ঘ চাকরির পরিবর্তে প্রতি নিয়ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনিশ্চিয়তা দেখা দিচ্ছে। লাগাতার পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মজীবনের চাপের ফলেই ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ, হতাশা, অবসাদ তৈরি হচ্ছে।
    তবে, ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতাও চিন্তার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় পুরুষেরা হতাশা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে চান না।‌ এই ধরনের সমস্যায় প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে, একাধিক বড় বিপদ আটকানো সম্ভব, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ ক্রমশ বাড়ছে।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ভারতীয় পুরুষদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনের ধরনে বদল জরুরি। অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা দরকার।‌ আবার বিশ্রাম যাতে পর্যাপ্ত হয় সেটাও নিশ্চিত জরুরি। নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পাশপাশি শারীরিক কসরত নিয়মিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য রাখতে হবে। সেটা গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা বা বই পড়া এমনকি বাগান তৈরি, যেকোনো কাজ হতে পারে। এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমবে।‌ একঘেয়েমি আসবে না। ফলে শরীর ও মন ভালো থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আশপাশের পরিচিত মহলেই এখন আর জীবনের গন্ডি আটকে থাকছে না! মুখোমুখি যোগাযোগ না থাকলেও, মুঠোফোনের দৌলতে এখন বহু দূর দেশে, কখনো না দেখা মানুষ ও সহজেই জেনে যান জীবনের খুঁটিনাটি! তাঁদের মতামত, তার প্রত্যাশাও সহজেই চাপিয়ে দেওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগত এখন জীবনের অনেক ওঠা-পড়া আর সফল-অসফলের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ! এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে! বিশ্ব জুড়ে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাদ নেই ভারত। ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বিপজ্জনক হারে বেড়েছে। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। প্রথম থেকেই জীবন যাপনের কিছু বদল প্রয়োজন। তবেই সুস্থ ও সুন্দর দীর্ঘ জীবন কাটানো যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে পরিসংখ্যান?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আত্মহত্যার ঘটনায় দুই তৃতীয়াংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। যা যথেষ্ট বিপজ্জনক।

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৩৩.৫ শতাংশ পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করেছেন। অসুস্থতার কারণে ১৮% আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই অসুস্থতা শারীরিক এবং মানসিক। মাদক আসক্তির জেরে ৮ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    কেন জেন জি-দের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে?

    সামাজিক প্রত্যাশার চাপ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক প্রত্যাশার তীব্র চাপের জেরেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হচ্ছে। হতাশার জন্ম নিচ্ছে। এর জেরেই আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পড়াশোনার চাপ, চাকরির চাপ , পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার চাপ থাকে। অনেক সময়েই এগুলো মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে ওঠে। আশপাশের মানুষের প্রত্যাশার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন হয়ে যায়। তার উপরে এখন ভার্চুয়াল জগতের চাপ, বাড়তি হতাশা তৈরি করছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও সেই চাপ দেখা যায়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই সুন্দর আর সফল দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। সেগুলোই জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি হয়ে উঠছে। কিন্তু বাস্তবে সব সময় সেটা সম্ভব হয় না। তখন ধাক্কা লাগছে। অনেক সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত মানুষদের সীমাহীন মন্তব্য জীবন যাপনের দিক নির্ধারণ করছে। এগুলো একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এর ফলে অনেক সময়েই হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসাদ তৈরি হচ্ছে। ফলে, আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে।

    পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপড়েন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৮-৩০ বছর বয়সে মানুষ একাধিক নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে জীবনের নানান নতুন সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি হয়। পারিবারিক সম্পর্কও জটিল হয়ে যায়। অনেকের ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা তৈরি হয়। সবটা সহজে ভারসাম্য বজায় থাকে না। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার কারণেই জেন জি-র আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

    বাস্তবে একাকিত্ব!

    জেন জি প্রজন্মের অন্যতম সমস্যা বাস্তবে একাকিত্ব! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইনে হাজার হাজার বন্ধু থাকলেও বিপদে পাশে থাকার মতো বন্ধুর অভাব দেখা দিচ্ছে। গল্প করা, সময় কাটানো, নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া মানুষের অভাব মানসিক জটিলতা তৈরি করে। ফলে, কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটা ভাগ করে নেওয়া যায় না। আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    মদ্যপান ও আসক্তি!

    ভারতে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মাদক ও মদে আসক্তি। এমনটিই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসক্তি থাকলে হঠকারিতা বাড়ে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে। আর তার ফলেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    কীভাবে আত্মহত্যার ঘটনা কমতে পারে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা ঠেকাতে জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা জরুরি।‌ কারণ, প্রথম থেকেই শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ‌ হবে।

    পারিবারিক সম্পর্কে বাড়তি নজর!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে বাড়তি নজরদারি জরুরি।‌ যেকোনো সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে, এই পরিবেশ আর নিশ্চয়তা জরুরি। তবেই যেকোনো সঙ্কটে পরিবারের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। হঠকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।‌ ছোট থেকেই শিশু মনে পরিবার নিয়ে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যাতে সে বড় হলেও যেকোনো সমস্যা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পরিবারের মধ্যে যেকোনো একজনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হবে, যাতে সে সহজ‌ ভাবে মনের কথা প্রকাশ করতে পারে।

    ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমানো!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমলে মানসিক চাপ ও হতাশা কমবে। সোশ্যাল মিডিয়া জীবন মাপকাঠি ঠিক করে দেবে না। বরং, জীবনের সব ঠিক-ভুলের খুঁটিনাটির হিসাব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমালে, ভার্চুয়াল জগতের প্রত্যাশার চাপ সহজেই এড়ানো যাবে।

    পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি!

    সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। যেকোনো বিষয়ে গভীর ভাবে ভাবার ক্ষমতা থাকে। তাই সুস্থ শরীর ও মনের জন্য নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ!

    ভারত সরকার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয়। দেশে আত্মহত্যার ঘটনা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসারের পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়েও সক্রিয়। তাই যেকোনো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য দিনের যেকোনো সময়ে ‘টেলি মানস’-এ যোগাযোগ করা যাবে। নিজের সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। আবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাবে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সেগুলো সাহায্য করবে। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share