Tag: Sukma

Sukma

  • Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলগুলিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি, মাইনমুক্তকরণ এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযান আরও (Forest Operations) জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে বীজাপুর ও সুকমা জেলায় একাধিক গোপন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

    চলতি মাসেই বীজাপুর জেলায় একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বেদ্রে থানার অধীন লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। সেখান থেকে একটি এসএলআর/এলএমজি রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে (Maoist)।

    সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার অধীন ছোট কাঞ্চলা গ্রামের কাছের জঙ্গল থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী ডেরার খোঁজ পেয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একনলা বন্দুক, বেতার যোগাযোগের সরঞ্জাম, হাতে বহনযোগ্য তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মোবাইল ফোন, অপটিক্যাল সরঞ্জাম, মাওবাদী সাহিত্য এবং অন্যান্য উপকরণ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অস্ত্র উদ্ধার (Forest Operations)

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে বেদ্রে থানার অধীনে সাম্প্রতিক বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাটির নীচে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ।

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর/এলএমজি, একটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক। দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে (Forest Operations)।

    উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ১৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা, একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি তাজা এসএলআর গুলি, ০.৩১৫ বোরের ১৫টি গুলি এবং ১৫টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের কার্তুজ। চারটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং একটি ০.৩১৫ বোরের ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ সিং চৌহান বলেন, “বীজাপুরে লাগাতার তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান চলছে। এই অভিযানেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসের বিভিন্ন দিনেও অভিযানের সময় অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

    একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

    লঙ্কা পাহাড়ির উদ্ধার অভিযানটি সেপ্টেম্বর মাসে বীজাপুরে হওয়া একাধিক অভিযানের একটি।

    ২০ সেপ্টেম্বর ভৈরামগড় থানার আদওয়ারা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭, ০.৩১৫ বোরের অস্ত্র, একটি একনলা পিস্তল, গোলাবারুদ এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর বডে আলওয়াড়া জঙ্গল থেকে একটি ০.৩১৫ বোরের রাইফেল, ৪৯টি তাজা গুলি, ২৫টি ০.৩০৩ গুলি, ৪৯টি ১২ বোরের গুলি, জিলেটিন, বেতার যন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

    ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন পিডিয়া-কুপ্পাগুড়া এলাকায় বড়সড় অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদরি, হররা, নয়াপাড়া এবং সরপঞ্চপাড়ার আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ১৪টি সন্দেহভাজন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয় (Forest Operations)।

    ৩ সেপ্টেম্বর নীলামডগু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। একটি ফাঁপা গাছের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি দেশি ১২ বোরের বন্দুক, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার রাইফেল, আটটি গ্রেনেড লঞ্চার সেল এবং ১০টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বীজাপুরের পুলিশ সুপার উমেশ প্রসাদ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে না পারে (Maoist)।

    সুকমায় মাওবাদী ডেরার খোঁজ

    এদিকে সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার ছোট কাঞ্চলা গ্রামের জঙ্গলেও মিলেছে মাও-ডেরার খোঁজ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৫০ নম্বর ব্যাটালিয়ন এই অভিযান চালায়। ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের গোয়েন্দা শাখা মাটির নীচে লুকোনো আস্তানার খোঁজ পায়। শুরু হয় অভিযান।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন এলাকায় পৌঁছন। সেখানে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার আশঙ্কায় এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত কুকুরের দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রশিক্ষিত কুকুরের দল একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করে। সেখান থেকে মাটির নীচে পুঁতে রাখা দুটি লোহার ড্রাম উদ্ধার করা হয়।

    বাজেয়াপ্ত নানা সামগ্রী

    উদ্ধার হওয়া ড্রামের ভিতরে ছিল বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে একটি একনলা বন্দুক, তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, ভিএইচএফ বেতার যন্ত্র, বেতার যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন বর্তনী, অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Forest Operations)। দুটি মোবাইল ফোন, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সাইরেনের শব্দ তৈরির যন্ত্র এবং ঢালের কোণ মাপার যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মীরা মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি লাল পতাকা এবং মাওবাদী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করেছেন। উদ্ধার হয়েছে একটি পিঠু ব্যাগ, গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ এবং হেডফোনও।

    তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বেতার যোগাযোগের সরঞ্জামে থাকা চিহ্ন। ওই যন্ত্রগুলিতে “পিএল-০৪” এবং “পামদে ডিভিশনে”র মতো ইউনিট-চিহ্ন রয়েছে।

    এই চিহ্ন এবং বেতার সরঞ্জামগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত এবং মাওবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বেতার সরঞ্জামের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কর্তা আনন্দ সিং রাজপুত বলেন, “মাওবাদী ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেতার যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা কোথা থেকে এই বেতার যন্ত্রগুলি লুট করেছিল বা সংগ্রহ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।”

    উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলির উৎস, মাওবাদী সংগঠনের কোন কোন ইউনিট সেগুলি ব্যবহার করত এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন (Maoist) তদন্তকারীরা।

    বস্তারজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

    বীজাপুর ও সুকমায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলার পর বস্তারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান। পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে সশস্ত্র মাওবাদী উপস্থিতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করার পরেও, জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

    বিস্তীর্ণ জঙ্গল, প্রত্যন্ত বসতি এবং দুর্গম যাতায়াতের পথের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার ও অন্যান্য সামগ্রীর খোঁজও চালানো হচ্ছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক এলাকায় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, তল্লাশি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বস্তারের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার এবং সুকমার ছোট কাঞ্চলার কাছে মাটির নীচে লুকোনো ডেরার খোঁজ মেলার পর আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি ও তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    সন্দেহজনক সামগ্রী দেখলে পুলিশকে জানানোর আবেদন

    বীজাপুর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষ এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা অপরিচিত সামগ্রী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে।

    বিশেষ করে নির্জন জঙ্গল এলাকায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে সেটি স্পর্শ, সরানো বা তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মাটির নীচে বা অন্যত্র লুকিয়ে রাখা সামগ্রী গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে (Forest Operations) বলেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

     

  • NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের একটি বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আদালত ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ জন মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে (Jheeram Valley Massacre)। ২০১৩ সালের ওই মাওবাদী হামলায় রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

    দোষী সাব্যস্ত ১০ জন হলেন—প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা ওরফে সুমিত্রা পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মাণ্ডভি, কোসা কাভাসি ওরফে কোসারাম, আয়াতা মার্কাম, মাদকমি দেবা, জোগা মাদকমি, বানজামি সন্না ওরফে চামরু ওরফে ডেঙ্গা এবং মহাদেব নাগ। তদন্ত অনুযায়ী, এঁদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কমান্ডার অথবা সশস্ত্র গেরিলা।

    দোষী সাব্যস্তদের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরী রায়দানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত সাজা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্তদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    হামলায় আহত শিব সিং ঠাকুর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিম্নস্তরের মাওবাদীদের গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মধ্যে দিয়েই জাতীয় তদন্ত সংস্থা মূলত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। তাঁর কথায়, “হামলার আগে তাঁরা আমাদের নেতাদের নাম জানতে চেয়েছিল। এরপরই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পিছনে নিশ্চিতভাবেই একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের আসল সত্য সামনে আসা দরকার। তাহলেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণ পরিসমাপ্তি দেখতে পাব।”

    কী ঘটেছিল ঝিরম উপত্যকায়? (NIA)

    দেশের অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২৫ মে। সুকমা জেলার দরভা থানার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয়ে বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা।

    সুকমায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র একটি সভা শেষ করে কনভয়টি ফিরছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিল কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

    অভিযোগ, কনভয়টি ঝিরম উপত্যকার কাছে পৌঁছতেই মাওবাদীদের কমিউনিস্ট পার্টি-সংক্রান্ত সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে রাস্তার নীচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং পরিবর্তন যাত্রার গাড়িগুলি থেমে যেতে বাধ্য হয় (NIA)।

    এরপর শুরু হয় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড। হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। পরে আহতদের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লও হামলায় গুরুতর জখম হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। তিনি মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য-সমর্থিত ‘সালওয়া জুডুম’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঘটনার তদন্তভার পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা বর্ষে সুক্কা ওরফে দেবা ওই সময় দরভা বিভাগীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকেই (Jheeram Valley Massacre) হামলাটি পরিচালনার জন্য সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা (NIA)। Jheeram Valley Massacre,

     

  • Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জেলার জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে (Chhattisgarh) উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী (Maoist Arms)। গত ২৪ অগাস্ট ভেজ্জি থানার ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা জঙ্গল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর জেলা বাহিনী, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং বস্তার ফাইটার্সের যৌথ দল সোমবার সকালে ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান (Chhattisgarh)

    তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পান। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৯২টি তাজা গুলি, ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড। বিপুল পরিমাণ বিজিএল গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ২৩টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি দশমিক ৩১৫ বোরের রাইফেল, একটি দশমিক ৪১০ মাসকেট রাইফেল, ছ’টি বিজিএল লঞ্চার, একটি একনলা রাইফেল, একটি দেশীয় দশমিক ৩১৫ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ১২ বোরের রাইফেল এবং সাতটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসএলআর এবং দশমিক ৩০৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ বিজিএল সেল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৯২টি গুলির মধ্যে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস, দশমিক ৩০৩, দশমিক ৩১৫ এবং ১২ বোরের বিভিন্ন ধরনের গুলি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে মাওবাদী সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ওই গোপন ভান্ডারে ধাপে ধাপে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

    বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার, ৬৬টি বিজিএল কার্তুজ, আতসবাজির মতো ৪০টি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং ছ’টি অ্যাক্সিলারেটর প্লাগ। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৮৯টি বিজিএল সেল এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে (Maoist Arms)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র-বিস্ফোরকের পাশাপাশি ওই গোপন ভান্ডার থেকে মাওবাদী সদস্যদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত জোড়া কালো পোশাক, ৩২টি কালো ও ২২টি সবুজ কোমরবন্ধ, ১১টি বাঁশি-রক্ষাকবচ, সাতটি বাঁদরটুপি, দুটি ওয়েল্ডিং ঢাল, দু’টি সৌর প্যানেল এবং সাতটি পিঠের ব্যাগ। এছাড়া ম্যাগাজিন রাখার ব্যাগ, অন্যান্য ব্যাগ এবং ওষুধও উদ্ধার হয়েছে (Chhattisgarh)।

    ভান্ডারপদর দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা

    ভান্ডারপদর জঙ্গল এলাকায় এর আগেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট, ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য পুরানো অস্ত্রভান্ডারের অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

    শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার নয়, এই ধরনের অভিযান থেকে মাওবাদীদের সংগঠন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জঙ্গলে থাকা পুরানো পরিকাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলে মনে করছে প্রশাসন (Chhattisgarh)।

    পুরনো অস্ত্রভান্ডার খুঁজতে জোর তল্লাশি

    সুকমার পুলিশ সুপার ময়াঙ্ক গুর্জর জানিয়েছেন, জঙ্গল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় মাইনমুক্ত করার কাজও ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোথাও বিস্ফোরক যন্ত্র বা অন্য কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বিধি মেনে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    পুলিশ সুপারের দাবি, গত ৩১ মার্চ থেকে মাওবাদীদের পুরানো অস্ত্র ও বিস্ফোরকের গোপন ভান্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি মাইনমুক্ত করার অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গম জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা সামগ্রী খুঁজতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করছেন।

    এই অভিযানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বহু পুরনো ও গোপন অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অগাস্টে সুকমায় তৃতীয় বড় অস্ত্রভান্ডারের খোঁজ

    চলতি অগাস্ট মাসে সুকমা জেলায় মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা (Chhattisgarh)। এর আগে ১৮ অগাস্ট চিন্তলনার থানার ইট্টালঙ্কা গ্রামের কাছে একটি গোপন ভান্ডার থেকে বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। তারও আগে ৩ অগাস্ট ভেজ্জি থানার বোধরাজপদর জঙ্গলে একটি মাওবাদী অস্ত্রভান্ডারের হদিশ পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

    একই মাসে পরপর এই ধরনের উদ্ধার অভিযান থেকে স্পষ্ট, সুকমার দুর্গম জঙ্গলগুলিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়েছে। জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানে এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে সুকমার পুলিশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের লক্ষ্যই হল মাওবাদীদের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার পাশাপাশি জেলার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা (Maoist Arms)। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও (Chhattisgarh)।

     

  • Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জন কমরেডকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করলেন ছত্তিশগড়ের শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও (Maoist Papa Rao)। এমনই খবর জানালেন ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তাঁদের আত্মসমর্পণ মাওবাদী দমনে রাজ্যের চালানো লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাও-মুক্ত ছত্তিশগড় (Maoist Papa Rao)

    রাও অস্ত্র সমর্পণ করায় প্রযুক্তিগতভাবে ও স্পষ্টভাবে বলা যায়, ওই স্তরের এমনকি তার চেয়েও নিচু স্তরের কোনও নকশাল কর্মী আর সক্রিয় নেই রাজ্যে। অন্তত এমনই জানালেন শর্মা। গত দু’দশকে দক্ষিণ বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার মূলচক্রী ছিলেন এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা। ২০১০ সালে তৎকালীন দান্তেওয়াড়া (বর্তমানে সুকমা) জেলার তাদমেতলা হামলারও ষড়যন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৭৬ জন জওয়ান। মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতে সক্রিয় রাও বস্তার অঞ্চলে তাঁর এক ডজনের বেশি সদস্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে সোমবারই জানিয়েছিলেন শর্মা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি সামলাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বও। মঙ্গলবার পাপা অস্ত্রসমর্পণ করায় ছত্তিশগড়ে আর কোনও নকশাল কর্মী সক্রিয় নেই। শুধু তাই নয়, মাও দমনে ‘শাহি’ ডেডলাইন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই রাজ্য হয়ে গেল সশস্ত্র নকশালবাদমুক্ত (Chhattisgarh)।

    মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট

    শর্মা বলেন, “রাওয়ের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়ে নকশালের উপস্থিতি কার্যত শেষ হয়ে গেল। ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সশস্ত্র নকশালবাদ থেকে মুক্ত হবে।” তিনি জানান, পাপা রাও প্রায় ২৫ বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন এবং বহু সংঘর্ষে জড়িত থাকলেও প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। রাজ্য সরকার তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ২৫ লাখ টাকা। শর্মা বলেন, “রাওয়ের মানসিকতা এখন বদলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম (Maoist Papa Rao)। তখনই তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।” তিনি জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে আরও আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তার ডিভিশন ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির কিছু অংশে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনাকারী দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (DKSZC) মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হত। গত দু’দশকে বহু মারাত্মক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শর্মা বলেন, “বর্তমানে পার্টি ও এরিয়া কমিটি স্তরের মাওবাদীরা ছত্তিশগড়ে আর সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত নন এবং তাঁরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।” তিনি বলেন, “তাঁরা অস্ত্র নামিয়ে রেখেছেন এবং ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়েছেন।” বর্তমানে ছত্তিশগড়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মাও-সদস্য মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি বা তেলঙ্গনায় সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

    মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা

    এদিকে, কেন্দ্রের নির্ধারিত মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। সোমবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি জানান, বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ১৫ জন মাওবাদী সক্রিয় (Chhattisgarh) রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তারা প্রসাদ বাহিনিপতির এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড়া জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ১৫ জন নকশাল সক্রিয় রয়েছে।” কেন্দ্রের সিকিউরিটি-রিলেটেড এক্সপেন্ডিচার প্রকল্প অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু কান্ধামাল জেলাকেই মাওবাদী-প্রভাবিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৌধ, বালাঙ্গির, কালাহান্ডি, বারগড়, মালকানগিরি, নবরঙ্গপুর, নুয়াপাড়া এবং রায়গড়—এই আটটি জেলাকে ‘লেগেসি’ ও ‘থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড় সীমান্ত অঞ্চলে একটি ছোট নকশাল গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য সব জেলা এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী, যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করছেন, সেই মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, বাসস্থান, সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য/রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে (Maoist Papa Rao)।

    আত্মসমর্পণের বহর

    ২০২৪ সাল থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৬ জন মাওবাদী ওড়িশা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। রাজ্য পুলিশ সতর্ক করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে যাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না, তাঁরা সরকারের পুনর্বাসন নীতির সুবিধাও পাবেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য সুক্রু এবং রাজ্যের আরও দুই মাওবাদী এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। প্রতিবেশী ছত্তিশগড় থেকে আসা আরও ১২ জন মাওবাদী ওড়িশায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছেন। অ্যান্টি-নকশাল অপারেশনের এডিজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “কিছু নকশাল এখনও আত্মসমর্পণ না করায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা (Chhattisgarh) ৩১ মার্চের মধ্যেই কেন্দ্রের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব (Maoist Papa Rao)।”

     

  • Sukma: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো সুকমার গোগুন্ডা গ্রাম

    Sukma: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো সুকমার গোগুন্ডা গ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত সুকমা জেলায় (Sukma) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সাত দশক পর অবশেষে বিদ্যুতের (Electricity) আলোয় আলোকিত হলো দুর্গম গোগুন্ডা গ্রাম। জেলা প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় এই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে।

    ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা (Sukma)

    গোগুন্ডা গ্রামটি (Sukma) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০ মিটার উচ্চতায় একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং মাওবাদী দাপটের কারণে দশকের পর দশক ধরে এই গ্রামটি উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এর আগে বিদ্যুৎ সংযোগের (Electricity) জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাহাড়ের ওপরে নিয়ে যাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সুকমার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার এই সাফল্যকে স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গোগুন্ডা গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো কেবল একটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের মানুষের মনে সরকারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ।”

    নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা

    এই গ্রামটিতে (Sukma) বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অবদান রয়েছে। সিআরপিএফ (CRPF)-এর ৭৪তম ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প এবং একটি ‘ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস’ (FOB) স্থাপন করার পরই ওই অঞ্চলে সরকারি উন্নয়নের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। জওয়ানদের কড়া পাহারায় বিদ্যুৎ (Electricity) দফতরের কর্মীরা পাহাড়ি পথে বিদ্যুতের খুঁটি ও বসানোর কাজ সম্পন্ন করেন।

    উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

    শুধুমাত্র বিদ্যুৎ (Electricity) নয়, গ্রামটিতে এখন আধুনিক সভ্যতার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ এখনও পর্যন্ত যা যা কাজ চলছে তা হল-

    • ● গ্রামটিতে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।
    • ● একটি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।
    • ● গ্রামবাসীদের জন্য রেশন দোকান (PDS) এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া

    গ্রামের (Sukma) বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশুরা—সবাই ঘরে আলোর বাল্ব জ্বলতে দেখে উচ্ছ্বসিত। গ্রামবাসীরা বলেন, “এতদিন আমরা অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করতাম এবং রান্নাবান্না বা যাতায়াতের জন্য কেরোসিন তেলের বাতির ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন বিদ্যুৎ (Electricity) আসায় আমাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হবে এবং শিশুদের পড়াশোনায় অনেক সুবিধা হবে।”

LinkedIn
Share