Tag: Summer Health

  • UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঝকঝকে সূর্যের আলোতেও লুকিয়ে রয়েছে বিপদ! দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বড় বিপদ এড়ানো সহজ হবে। চিকিৎসকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি এখন থেকেই ত্বকের স্বাস্থ্য এবং সূর্যরশ্মি নিয়ে সচেতনতা, না বাড়ে, তাহলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে ত্বকের ক্যান্সার সহ একাধিক জটিল রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষত ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, যে হারে সূর্যের তেজ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। জুলাই মাস জুড়ে চিকিৎসকেরা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন। দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্কুল পড়ুয়া থেকে কর্মরত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করলে ত্বকের একাধিক সমস্যা কমানো যাবে, সে দিকগুলো চিকিৎসকেরা তুলে ধরেছেন।

    কেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে সচেতনতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের আলো যেমন স্বাস্থ্যের একাধিক উপকার করে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষতিকারক রশ্মি ও রয়েছে। যার জন্য ত্বকে চিরস্থায়ী গভীর ক্ষতি হতে পারে। এই দিক সম্পর্কে এখনো সচেতনতার হার কম। তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি বা UV রশ্মি ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। লাগাতার এই আলো শরীরে স্পর্শ করলে ত্বকের কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ত্বকের ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার চোখের কর্নিয়ার ক্ষতিও করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হয়।

    ভারতে কি এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির জেরে বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ত্বক ও চোখের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েক দশক আগেও ভারতে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা অত্যন্ত ব্যতিক্রম ছিলো। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের জেরে এখন ভারতেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর ত্বকের ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি সান বার্নের সমস্যা, চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাছাড়া এখন বাইরে কাজ করেন, এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এখন সকলেই বাইরে যান। কাজ করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্য রশ্মির স্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই ধরনের সমস্যাও বাড়ছে।
    তাছাড়া, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ভারতেও রোদের দাপট বাড়ছে। সূর্যের তেজ বাড়ছে। তেমনি গরম দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতের অধিকাংশ জায়গায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই রোদের দাপট দেখা দিচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় তীব্র গরম থাকছে। এমনকি বর্ষার পরেও সূর্যের দাপট চলে। ফলে এই বাড়তি গরমে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    কীভাবে সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ, আবহাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। তবেই এই পরিবর্তিত জলবায়ুতে সুস্থ থাকতে পরিবেশ সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাঁদের পরামর্শ , সূর্যরশ্মির প্রকোপ কতখানি অর্থাৎ ইউভি ইন্ডেক্স (UV Index) দেখে আগাম সতর্কতা নিয়ে বাইরে যেতে হবে। অর্থাৎ আকাশ মেঘলা, বৃষ্টি হবে নাকি ঝড় হবে, এগুলোর যেমন পূর্বাভাসের খবর নেওয়া হয়, তেমনি প্রত্যেক দিনের  ইউভি ইন্ডেক্স সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। যদি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রকোপ যেদিন বেশি থাকবে, সেদিন শরীর সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরা প্রয়োজন। তবে প্রত্যেক দিন বাইরে যাওয়ার আগে মুখ এবং শরীরের যে অংশ পোশাকে ঢাকা থাকছে না, সেই সব অংশে সান স্ক্রিন লাগানো জরুরি। শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, নিয়মিত সান স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস জরুরি। ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। প্রয়োজন না হলে বেলা বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো। কারণ এই সময়ে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির দাপট সবচেয়ে বেশি। তবে, সবচেয়ে জরুরি পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে জলের ঘাটতি না হলে সূর্যের প্রকোপে ঘটা একাধিক রোগের দাপট কমানো সহজ হয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। সঙ্গে জল রাখার অভ্যাস থাকা দরকার। যাতে বারেবারে জল খাওয়া হয়। শরীরে কখনোই জলের ঘাটতি না দেখা দেয়।

  • Weather Change Headache: হঠাৎ গরম, হঠাৎ ঠান্ডা! তাপমাত্রার রকমফেরে কেন বাড়ছে মাথার যন্ত্রণা?

    Weather Change Headache: হঠাৎ গরম, হঠাৎ ঠান্ডা! তাপমাত্রার রকমফেরে কেন বাড়ছে মাথার যন্ত্রণা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দিন কয়েক আগেও তাপমাত্রার পারদ ছিলো উর্ধ্বগামী। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির দাপটে গরম কিছুটা ব্যাকফুটে! তাপমাত্রার পারদ পতনে বদলে গিয়েছে আবহাওয়া। কিন্তু তাপমাত্রার এই ঘন ঘন পরিবর্তনে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই তীব্র গরম আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ায়, অনেকেই মাথার যন্ত্রণায় কাবু। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন।

    তাপমাত্রার রকমফেরে কেন মাথার যন্ত্রণা হয়?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কিংবা হঠাৎ করেই তাপমাত্রার পতন হলে, মাথার যন্ত্রণা হতে পারে। বিশেষত, যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের ভোগান্তি বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে বায়ুচাপের পরিবর্তন হয়। দ্রুত বায়ুচাপের পরিবর্তন হলে মস্তিষ্কের রক্তনালীতেও পরিবর্তন হয়। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে রক্তচাপের পরিবর্তন হলে মাথা যন্ত্রণা হতে পারে। হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বা কমে গেলে শরীরে জলের পরিমাণের পরিবর্তন ঘটে। মাথা যন্ত্রণার সঙ্গে যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। শরীরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়লে মাথার যন্ত্রণা বাড়তে পারে। একটানা বৃষ্টি হলে বা বজ্রপাত হলে অনেকেই মাথার যন্ত্রণা অনুভব করেন। মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা থাকলে এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি বাড়ে।

    কীভাবে ভোগান্তি কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব। তাঁরা ঘরোয়া উপকরণের উপরেই ভরসা করছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, প্রতিদিন পর্যান্ত জল খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার রকমফের হলেও শরীরে জলের যাতে ঘাটতি না হয়, সেদিকে নজর জরুরি। শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে মাথা যন্ত্রণার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সে দিকে নজর রাখলে ভোগান্তি কমতে পারে।‌ পরিবর্তিত আবহাওয়াতেও যাতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়, রক্তনালীতে বাড়তি চাপ না পড়ে, সেই জন্য নিয়মিত যোগাভ্যাসের উপরে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যোগ শরীরের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এর ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হয় না। তাই যোগাভ্যাস মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। মাথার যন্ত্রণা হলে আদা কিংবা তুলসি পাতা দেওয়া চা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, আদা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তাই মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি কমাতেও সাহায্য করে। আবার তুলসীও শরীরের জন্য বিশেষ উপকারি। তাই তুলসী পাতা বা আদা দেওয়া চা খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

    কখন বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনে মাথা যন্ত্রণা স্বাভাবিক। এ নিয়ে বাড়তি আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলেও প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা হয়। তার সঙ্গে বমি, চোখে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তেমন কিছু হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। স্ট্রোক কিংবা অন্যান্য জটিল রোগের উপসর্গ হিসাবেও মাথা যন্ত্রণা হয়। তাই যন্ত্রণা কতখানি তীব্র, সেটা বোঝা জরুরি। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে মাথা যন্ত্রণা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। কারণ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share