Tag: Sunil Bansal

Sunil Bansal

  • RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির নয়া সাংগঠনিক দলকে নিছক নিয়মমাফিক রদবদল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টির তাৎপর্য ধরা পড়বে না। নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) নেতৃত্বে গঠিত নতুন দলে যাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাঁদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং যাঁদের পদোন্নতি হয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে বিজেপির সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ছবি উঠে আসছে। দলের নতুন বিন্যাসে আরএসএসের (RSS) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর বাড়তি গুরুত্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার প্রবণতা স্পষ্ট।

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা (RSS)

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাগুলির একটি হল রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন। তাঁকে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আরএসএসের দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রায় এক দশক আগে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছিলেন। সংঘের সঙ্গে বিজেপির সমন্বয় এবং দলের প্রচলিত হিন্দি বলয়ের বাইরে উত্তর-পূর্ব ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন সাংগঠনিক কৌশলবিদ হিসেবে রাম মাধব বিজেপির ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। এবার তাঁর প্রত্যাবর্তনের ফলে দলের জাতীয় কাঠামোর মধ্যে অভিজ্ঞ সংঘ-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেল। ফলে তাঁর ফিরে আসাকে বিজেপি কিংবা সংঘ—কোনও পক্ষই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে দুই সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সন্তোষ-তাওড়ে-বনসল

    রাম মাধবের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে বিএল সন্তোষকে বহাল রাখা এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনোদ তাওড়ে ও সুনীল বনসলকে দায়িত্বে রাখাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে এই তিন নেতাকেই বিজেপির সাংগঠনিক মেরুদণ্ডের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনজনেরই আরএসএসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। বিনোদ এবং সুনীলের মতো নেতাদের উপস্থিতি বিজেপির নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে নির্বাচনী সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কমিটিতে সংগঠন পরিচালনা এবং ভোটের ময়দানে কৌশল প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকেই একসঙ্গে কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে।সতীশ পুনিয়াকেও নতুন সাংগঠনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠন এবং আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর পদোন্নতিও ইঙ্গিত করছে যে, বিজেপি শুধু জনসমক্ষে দৃশ্যমানতা বা নির্বাচনী জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নতুন সাংগঠনিক দল তৈরি করছে না। দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আদর্শগত ভিত্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Nitin Nabin)।

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নয়া সাংগঠনিক বিন্যাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসে বিশেষ নজর রয়েছে। স্বদেশ সিংহকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মৃগাঙ্ক দেও বর্মনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উন্নীত করা সেই দিকটিরই ইঙ্গিত। এঁরা এমন নেতা নন, যাঁদের নাম নিয়মিতভাবে টেলিভিশনের আলোচনাকেন্দ্রে বা বড় নির্বাচনী সমাবেশে সামনে আসে। কিন্তু সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রচার-নির্ভর রাজনীতির বাইরে নিচুতলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে শিবপ্রকাশ ও সৌদান সিংহকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সংঘের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এমন নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখে বিজেপি মূলত দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে চাইছে। নয়া তালিকায় বিপ্লব কুমার দেবের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে উন্নীত হওয়াও উল্লেখযোগ্য। ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এবং পরে জাতীয় স্তরের সংগঠনে ফিরে আসা—তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের কাজের অভিজ্ঞতার একটি সমন্বিত উদাহরণ। তাঁর দায়িত্ববৃদ্ধি থেকে বোঝা যায়, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিতরে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে পদ্ম শিবির(RSS)। এদিকে, দলের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখগুলিকেও নতুন কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তন এবং উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়া সংগঠনের মধ্যে নির্বাচনী শক্তিকে আরও জোরদার করবে। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। ফলে সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যুক্ত করা দলের নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে (Nitin Nabin)।

    রাজনীতি ও সংগঠনের মেলবন্ধন

    বিজেপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই। দলটি রাজনীতি ও সংগঠনের মধ্যে কোনও একটিকে বেছে নিচ্ছে না, বরং দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে। নিতিন নবীনের নেতৃত্বে দলের নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের প্রকৃত তাৎপর্য সম্ভবত এই জায়গায়ই।

    বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী সংগঠিত করা, আদর্শগত ঐক্য বজায় রাখা এবং বুথস্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরএসএসের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি ক্রমশ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভোটের লড়াইয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনাও আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এই পরিস্থিতিতে পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন বেড়েছে বিজেপির।

    নতুন দায়িত্ব বণ্টন সেই প্রয়োজনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। শীর্ষস্তরে তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্ব, গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ নির্বাচনী ব্যবস্থাপক এবং সংগঠন বা সংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর ফলে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার, নির্বাচনী কৌশল এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে (RSS)।

    আরএসএসের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সাংগঠনিক বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ও সংঘের মধ্যে যে প্রাতিষ্ঠানিক সেতু দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, নতুন দল সেই সেতুকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে নিতিন নবীনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নতুন সাংগঠনিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক পরিচয় ও নেতৃত্বের ধরন স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বিজেপির বার্তা স্পষ্ট

    সব মিলিয়ে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক দলের বার্তা যথেষ্ট পরিষ্কার। সামনে যে নির্বাচনী পর্ব আসছে, তার আগে দল সংগঠনের ওপর আরও জোর দিতে চাইছে। শুধু জনপ্রিয় মুখ বা নির্বাচনী প্রচারের ওপর নির্ভর না করে বুথস্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে দলের সমন্বয়ও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

    নিতিন নবীনের নেতৃত্বে এই নতুন বিন্যাস তাই কেবল কয়েকটি পদে পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং এর মধ্যে দিয়ে বিজেপি আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য সংগঠন, আদর্শ, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনী ফল এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে (Nitin Nabin)। তবে নতুন সাংগঠনিক দল থেকে আপাতত যে বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্ট, তা হল—বিজেপি সংগঠনকে আরও আঁটসাঁট করছে এবং তার সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্কও হয়ে উঠছে আগের তুলনায় ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ (RSS)।

     

  • West Bengal BJP: বিতর্ক নয়, বাজেটের সাফল্য পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে, বিজেপি বিধায়কদের কড়া বার্তা নেতৃত্বের

    West Bengal BJP: বিতর্ক নয়, বাজেটের সাফল্য পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে, বিজেপি বিধায়কদের কড়া বার্তা নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের (West Bengal BJP) বিভিন্ন জনকল্যাণকামী পদক্ষেপ এবং সাম্প্রতিক বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলি (Budget Benefits) সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর বিশেষ জোর দিল পদ্ম-দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি দলীয় বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত দু’দিনের বিশেষ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর বদলে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

    ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টজে’র পাঠ (West Bengal BJP)

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ডিম ছোড়া, দলীয় কার্যালয় দখল কিংবা কোনও ধরনের উসকানিমূলক কার্যকলাপ বিজেপি সমর্থন করে না। তার বদলে সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত, বাজেটের ঘোষণা এবং প্রশাসনিক সাফল্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের। বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য ডিএর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ১৮ শতাংশ ডিএর সঙ্গে আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট হার ৩৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি নয়া কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক লাখ চাকরি সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।

    বিধায়কদের সতর্ক-বার্তা

    বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় নেতা সুকান্ত মজুমদার, সুনীল বনসল, অমিত মালব্য এবং অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। বৈঠকে নবনির্বাচিত বিধায়কদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের বিধানসভা ও সাংগঠনিক কাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও শিখিয়ে-পড়িয়ে নেওয়া হয় (West Bengal BJP)। দল এবং সরকারের ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা এবং শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে রাজনৈতিক কাজ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেন পদ্ম নেতারা। কোথাও যাতে তোলাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেই বিষয়েও (Budget Benefits) বিধায়কদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর (West Bengal BJP)।

  • BJP: মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর পতনের ডাক দিতে কলকাতায় ‘লাখো মহিলার সমাবেশ’ বিজেপির

    BJP: মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর পতনের ডাক দিতে কলকাতায় ‘লাখো মহিলার সমাবেশ’ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর পতনের ডাক দিতে কলকাতায়  ‘লাখো মহিলার সমাবেশ’ করতে রাজ্য বিজেপির (BJP) মহিলা মোর্চাকে বললেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল (Sunil Bansal)। অবশ্য ঘোষণা নয়, এই কর্মসূচির কথা প্রস্তাব আকারে পেশ করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্য নেতাদের তা বিবেচনাও করতে বলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বনসল।

    ‘নারী শক্তি সম্মেলন’ (BJP)

    সোমবার ন্যাশনাল লাইব্রেরির প্রেক্ষাগৃহে আয়োজন করা হয়েছিল ‘নারী শক্তি সম্মেলনে’র। রাজ্য মহিলা মোর্চা আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বনশল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, মাফুজা খাতুন এবং মীনাদেবী পুরোহিত। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন হতে আর মাস ছয়েক (পুজোর মাস এবং অন্যান্য উৎসব অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে) দেরি বলে স্মরণ করিয়ে দেন বনশল। এই কয়েক মাসে মহিলা মোর্চাকে কোন কোন জনসংযোগ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে, তা উল্লেখ করার পর বনশল বলেন, “আমি চাই ব্রিগেডে যেমন জনসভা হয়, সেই রকম ভাবে কলকাতায় এক লাখ মহিলার জমায়েত করা হোক। কারণ এই মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর আমলেই মহিলাদের ওপরে অত্যাচার হচ্ছে সব চেয়ে বেশি। তাই মহিলারাই পথে নেমে মুখ্যমন্ত্রীকে সরানোর ডাক দেবেন।” তিনি বলেন, “এখানে শুভেন্দুদা রয়েছেন। তিনি এবং অন্য নেতারা যদি আমার সঙ্গে সহমত হন, তাহলে আমার মনে হয় একটা কর্মসূচির ডাক দেওয়া যেতেই পারে। জনসভা নয়। সারা বাংলা থেকে এক লাখ মহিলা এসে নামবেন কলকাতার রাস্তায় আর মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর পতনের ডাক দেবেন (BJP)।”

    প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, “যদি আমরা এক লাখ মহিলাকে নিয়ে এই মহিলা ব্রিগেড করতে পারি, তাহলে সেটা হবে ঐতিহাসিক ব্রিগেড। আপনারা যাঁরা আজ এখানে রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকে ২০০ জন করে মহিলাকে আনতে পারলেই সংখ্যাটা এক লাখ ছাপিয়ে যাবে। আজ থেকেই খাতায় নাম লিখতে শুরু করুন যে, আমি এই ২০০ জনকে আনব।” মহিলা মোর্চার এক পদাধিকারী বলেন, “ব্রিগেডেই হোক বা কলকাতার রাজপথে, লক্ষাধিক মহিলাকে নিয়ে কলকাতার বুকে এই কর্মসূচি রূপায়িত (Sunil Bansal) হলে, তাহলে তা সত্যিই ইতিহাস হয়ে থাকবে (BJP)।”

  • Sunil Bansal: কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র জায়গায় বাংলার দায়িত্বে সুনীল বনসল, জানেন তিনি কে?

    Sunil Bansal: কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র জায়গায় বাংলার দায়িত্বে সুনীল বনসল, জানেন তিনি কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় যখন রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা চলছে, সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই পর্যবেক্ষক বদল করে ফেলল বিজেপি (BJP)। রাজ্য বিজেপিতে নয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল সুনীল বনসলকে (Sunil Bansal)। সুনীল বনসলকে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন যোগী রাজ্যের সংগঠন সামলানো সুনীল বনসলকে বাংলা বিজেপির পর্যবেক্ষক করা হল। সেইসঙ্গে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওড়িশা ও তেলঙ্গনার। ঘটনাচক্রে এই তিনটিই অ-বিজেপি শাসিত রাজ্য।

    একুশের ভোটে বাংলায় পরাজয়ের পর থেকেই কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে সেভাবে দেখা যায়নি। তবুও বাংলা বিজেপির দায়িত্বে খাতায় কলমে ছিলেন ইন্দোরের নেতা। বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দিল বিজেপি (BJP)। বাংলার সঙ্গে যোগ না থাকা কাউকে আর দায়িত্ব দিতে চায়নি বিজেপি। এই রাজ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা রয়েছে, এমন কোনও ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভেবেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই মতো দায়িত্ব বণ্টন করা হল। সুনীল বনসলের পৈতৃক বাড়ি দুর্গাপুরে। তবে দীর্ঘদিন তিনি সঙ্ঘের কাজের জন্য বাইরে বাইরে থাকতেন। আরএসএসের প্রচারক ছিলেন সুনীল। অনেকের বক্তব্য, বাংলা যোগের কারণেই এই নেতাকে সুকান্ত, শুভেন্দুদের পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হল।

    আরও পড়ুন: এসএসসি দুর্নীতি মামলায় শান্তিপ্রসাদ সিন্‌হা ও অশোক সাহাকে গ্রেফতার সিবিআইয়ের

    কেন সুনীল? বিজেপি নেতাদের মতে, উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোটের আগে দারুন কাজ করেছেন তিনি। দলের দাবি, সুনীল ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীনই দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ দখল করেছিল এবিভিপি (ABVP)। সূত্রের খবর, উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথকে জেতানোর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল সুনীল বনসলের। সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপিতে এ বার গুরুত্বপূর্ণ পদে সেই সুনীল। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জে পি নাড্ডার নির্দেশে বাড়তি দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা এবং তেলেঙ্গানায় দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে সুনীলেরর কাঁধে। সেই সঙ্গে উত্তর প্রদেশের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও সতীশ বনসলকে নিযুক্ত করল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

    উত্তরপ্রদেশ বিজেপির এক নেতা জানাচ্ছেন, অমিত শাহ প্রচারের সামনে থাকলেও উত্তরপ্রদেশে সাফল্যের নেপথ্যে ছাত্র-নেতা সুনীলের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য ছিল। তাঁর কৌশল এবং অমিত শাহের মস্তিষ্কের জোরেই বিজেপি লোকসভা ভোটের নিরিখে এখন ওই রাজ্যে ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৩২৭টি-তে এগিয়ে ছিল। বাংলায় সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন, তারপর লোকসভা। এই দুই নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব দেওয়া হল সুনীলকে।

LinkedIn
Share