Tag: Supplementary List

  • PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন (West Bengal Election 2026) দোরগোড়ায়। পয়লা বৈশাখের আগে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপে উত্তপ্ত বাংলা। এই আবহেই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য, পাল্টানোর জন্য, বিজেপিকে জেতানোর জন্য কার্পেট বম্বিং করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি সপ্তাহে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ১১ এপ্রিল, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুন্ডি, নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে জনসভা রয়েছে তাঁর। পরের দিন ১২ এপ্রিল, রবিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে রোড শো করার কথা রয়েছে মোদির। এছাড়াও কলকাতায় দুটি রোড শো করতে পারেন তিনি। অর্থাৎ বঙ্গের সিংহাসন দখল করতে মোদিকে আরও বেশি করে সামনে রেখে দলের প্রচার-ভাষ্য জোরদার করার চেষ্টা চলছে বিজেপির। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের দলীয় প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পাশে পেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। এমনকি দলের প্রচারের জন্য রাজনাথ সিং, নিতিন নবীন, জগৎপ্রকাশ নড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুনীল বনসল, নিতিন গডকড়ি সহ ৪০ জন ‘তারকা প্রচারকে’র তালিকায় তৈরি করেছে বঙ্গ বিজেপি।

    ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা মোদির

    বাংলায় ভোট ঘোষণার পর গত রবিবার কোচবিহারে প্রথম জনসভা সেরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও একটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে। সেটি ঘোষণা হয়ে গেলে এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে দলের ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’। উল্লেখ্য, কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। তবে নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জীবনযাপন করতে পারবে। ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।

  • Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কনিষ্ঠ কন্যা কস্তুরির পর এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুও (Anil Basu’s Son Joins BJP)। পাঁচ বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নকে ঘিরে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে সভা করল বিজেপি। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আরামবাগের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে দেখা গেল সেই সভায়। সৌম্য এক সময় ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই করেছেন। তবে আজ তিনি যোগদান করলেন বিজেপিতে।

    বিজেপি দেশভক্তের দল

    অনিল বসু বাম আমলের প্রবল প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। আরামবাগ থেকে সিপিএম এর সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন ছ’বার। ২০০৪ সালে শেষবার আরামবাগ থেকে রেকর্ড প্রায় ছ’লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন অনিল বসু। ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল সেসময়। ২০১৮ সালে ২ অক্টোবর মৃত্যু হয় তাঁর। সেই অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বলেন, “বাবা সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী থাকলেই সেই দল করতে হবে এমন কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে। যে রাজনৈতিক দলকে তাঁর পছন্দ, সে তার সঙ্গেই থাকুক। বিজেপি দেশভক্তের দল। সেইটাই আমাকে আকর্ষণ করে। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি ধন্যবাদ জানিয়েছি উনি বলেছেন প্রার্থীকে জেতাতে হবে। প্রার্থী জিতবে, সুবীর নাগের সঙ্গে আমি আছি।”

    বামেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাম শিবির ছেড়েছেন প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যাও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী। এবার বাম আমলের দৌর্দন্ডপ্রতাপ অনিল বসুর ছেলে ভোটের মুখে গেলেন গেরুয়া শিবিরে। ঘটনায় চাঞ্চল্য বঙ্গ রাজনীতিতে। আলোচনার ঝড়, সিপিএম প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও। তিনি বলেন, “আগে বামপন্থা ছিল গরিব মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। এখন বামপন্থা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণির, চকচকে এলিটের প্রতিনিধি।” ভোটের মুখে এই ঘটনায় রাজ্যে বামেদের ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

  • SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR In Bengal) পর বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি হয়ে গেল। সোমবার রাতেই শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সোমবার রাতেই ফ্রিজ হয়েছে প্রথম দফার ভোটের ভোটার তালিকা। তাই এরপর যদি ট্রাইবুনালের নির্দেশে কারও নাম তালিকায় সংযুক্ত হয়, তাহলেও প্রথম দফার নির্বাচনে সেই সব ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। সোমবার রাতেই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকা ফ্রিজ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। সবথেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। কলকাতা উত্তরে তুলনামূলক বেশি নাম বাদ গিয়েছে।

    রাজ্যে ভোটার তালিকায় কত জনের নাম

    ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR In Bengal) কাজ শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জনের নাম ছিল। এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম। অর্থাৎ, রাজ্যের ভোটার তালিকায় এই মুহূর্তে নাম রয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৮ জনের।

    নাম বাদ পড়ার নিরিখে প্রথমে কে

    যাচাইকরণে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় ওই জেলা থেকে বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮২২ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের হিসেব প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে, ওই জেলা থেকে বাদ পড়েছে মোট ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জনের নাম। যাচাইকরণে উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। তবে, ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা ধরলে ওই জেলা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬, যা সমগ্র এসআইআর-এর নিরিখে সর্বাধিক। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় মালদা থেকে বাদ পড়েছিল ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৫ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশের পর সেখানে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই জেলা থেকে বাদ পড়ল মোট ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৩০ জনের নাম। এর আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাবে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীও ১কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে, কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা কোটির গণ্ডি পেরোয়নি। যে ১১টি রাজ্যে এসআইআর হয়েছে, তার মধ্যে বাদ যাওয়া ভোটারের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। যোগীর রাজ্যে ২ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।

    কোন জেলায় কত বাতিল

    নদিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা- প্রায় ২.০৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ২.২২ লক্ষ ভোটার এবং বীরভূমে প্রায় ৮২ হাজার ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হুগলিতে প্রায় ১.২০ লক্ষ, পশ্চিম বর্ধমানে প্রায় ৭৪ হাজার এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ১.৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারের নাম বিবেচনাধীন ছিল, সেখান থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ জনের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লাখ ২২ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯২৯ জনের নাম। কোচবিহারে বাদ পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭২৫ জনের নাম, জলপাইগুড়িতে ৩৫ হাজার ৩৫৬, দার্জিলিংয়ে ৪৪ হাজার ২৩০, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৬ হাজার ৭৬৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। কলকাতা দক্ষিণ থেকে আগেই বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ২১ হাজার ১৫১ জনের নাম। সোমবারের পর এই তালিকায় যুক্ত হল ২৮ হাজার ৪৬৮টি নাম। অর্থাৎ, বাদ গেল মোট ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬১৯ জনের নাম। কলকাতা উত্তর থেকে বাদ গেল মোট ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৭৫ জনের নাম। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৪৫, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৪ হাজার ১০০, হাওড়ায় ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫১, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫২ হাজার ২৭৭, পুরুলিয়ায় ৫ হাজার ৯৪২, বাঁকুড়ায় ৬ হাজার ৫৩৩, বীরভূমে ৮২ হাজার ৫৯, আলিপুর দুয়ারে ৩৬ হাজার ৭৮, কালিম্পঙে ২ হাজার ৪০৭, ঝাড়গ্রামে ১ হাজার ২৪০ জনের নাম বাদ গিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে।

  • Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব (Impeachment Motion Against CEC Rejected) খারিজ করে দেওয়া হল। রাজ্যসভা ও লোকসভার উভয় কক্ষেই খারিজ হয়েছে এই প্রস্তাব। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাজ্য সভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এই প্রস্তাব খারিজ করেছেন। ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারের মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রইল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া আর এগোবে না।

    সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে সিদ্ধান্ত

    ইমপিচমেন্টের জন্য কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী সকল দলগুলি সাংসদে নোটিস জমা করেছিলেন। সোমবার সেটাই গ্রহণ করা হয়নি। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে সরানোর জন্য এমন নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই প্রস্তাবে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেতৃত্বে বিরোধীরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু কোনও কক্ষেই তা গৃহীত হয়নি। গত ১২ মার্চ রাজ্যসভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি জমা পড়ার পর রাজ্য়সভার চেয়ারম্যান বিষয়টির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও অভিযোগ বিশদে পর্যালোচনা করেন। এরপর বিচারপতি (তদন্ত) আইন, ১৯৬৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সংসদ সূত্রের দাবি, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে নেওয়া হয়েছে।

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ

    বিরোধী শিবির লোকসভা এবং রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই এই বিষয়ে নোটিস জমা দিয়েছিল। ১০ পাতার ওই নোটিসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূলত সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, নির্বাচন পরিচালনায় পক্ষপাতমূলক আচরণ। বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া (Mass Disenfranchisement)। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) অস্বচ্ছতা। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি বিশেষ আনুগত্য দেখানো। বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু সাধারণ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তগুলি অনেক ক্ষেত্রে শাসকদল বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তার কাজকর্মে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।

  • SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা (SIR in Bengal) থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন জেলা অনুযায়ী বাদ পড়া (ডিলিটেড) নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩। বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে নাম উঠেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। অর্থাৎ, মোট বাদ পড়ার সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়াল (৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫)। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসআইআর-এ বিবেচনাধীন থাকা ৬০ লক্ষের কাছাকাছি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়ে গিয়েছে, বলে আগেই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো সেই চিঠিও পড়ে শোনান ৷

    কোন জেলায় কত নাম বাদ

    কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। মালদায় এই সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজার ১৬৩ জন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও সেগুলিতে ই-স্বাক্ষর করা হয়নি। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাদ পড়া নামের তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটার তালিকাতেও আরও কিছু নাম সংযুক্ত হতে পারে। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম।

    রাজ্য মেশিনারি ব্যর্থ

    এসআইআর-এ নাম বাদ পড়া নিয়ে মালদার কালিয়াচকে বিচারপতিদের উপর হামলার ঘটনাও সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উঠে আসে। এদিন কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে আপনাদের মারার জন্য ৷ ক্রমাগত এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছে ৷’’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘‘আপনারা শুনুন, একজন মহিলা বিচারক ভয়ে কীভাবে কেঁদে আর্ত চিৎকার করছেন ৷’’ যা শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘রাজ্য মেশিনারি যে ব্যর্থ হয়েছে তা তো স্পষ্ট ৷’’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘ট্রাইবুনাল গঠিত হবে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দ্বারা ৷ তবে আগে ট্রাইবুনালের কাজ করার মতো পরিস্থিতি থাকতে হবে ৷ ১৫ জন বিচারপতিকে দিয়ে ১৯ দিনে সব কাজ করতে বললে তো বিশৃঙ্খলা হবেই ৷ আমরা হাইকোর্টের প্রধান বিচাপতিকে বলব, তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুন ৷ এবং সেই কমিটি দেখবে ট্রাইবুনালের কাজ৷’’

    ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ

    এসআইআর নিয়ে এখনও মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। কমিশনের তালিকা থেকে আপাতত বাদ গিয়েছেন যাঁরা তাঁরা ফের অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ নিতে হবে। সোমবার, এই মামলার শুনানিতে উঠে আসে এসআইআর-এ (SIR in Bengal) নন্দলাল বসুর নাতির নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গ ৷ রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ‘‘যার আঁকা ছবি ছাড়া ভারতের সংবিধান অসম্পূর্ণ থাকত, তাঁর পরিবারের লোকের নামই ডিলিট হয়ে গিয়েছে ৷’’ এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। এছাড়া ট্রাইবুনাল নিয়ে এদিন বিশেষ কয়েকটি নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সব কিছু খতিয়ে দেখে নিজেদের প্রক্রিয়া তৈরি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইবুনাল। ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালের একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঠিক করবে, যা ১৯টি ট্রাইবুনালকেই বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টেয় পরবর্তী শুনানি।

  • PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের (Assembly Election 2026) মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার শপথ নিলেন তিনি। ভোট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, “বাংলায় এসেই বুঝে গেছি তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসেব করা হবে। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।”

    মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি

    এদিন কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar) কালিয়াচক-প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মালদায় যা হয়েছে, সেটা গোটা দেশ দেখেছে। দেশের মানুষ স্তম্ভিত। কীভাবে মালদায় বিচারকদেরই বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। এটা কোন সরকার, কোন প্রশাসন, কোন ব্যবস্থা। যেখানে বিচারক, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই সুরক্ষিত নয়। বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এদের থেকে কীভাবে আশা করা যায়? মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি।” এ প্রসঙ্গেই মোদির সংযোজন, “এটাই প্রমাণ করছে, এখানে জঙ্গলরাজ চলছে। তৃণমূল সংবিধানের গলা টিপে ধরছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আপনাদের ভরসা বিজেপি। এখানে যা হচ্ছে, তাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।”

    ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar) বলেন, “এত বছর ধরে বাংলার মানুষের পয়সা লুট করা হয়েছে। সকল দুর্নীতিবাজদের এই টাকা ফেরত দিতে হবে। ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা করেছিলাম। মানুষের সেই ভিড়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছে। ব্রিগেডের বিউগল কোচবিহারে আরও বেশি হয়েছে। টিএমসির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ। পাল্টানো দরকার। এটাই নতুন বাংলার দিশা। বিজেপি এখানে সরকার গড়বে।” রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। প্রথম দফা ভোটের আগে এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা। ব্রিগেডে জনসভার পর এবারেই প্রথমবার রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উন্নয়ন বনাম অত্যাচার

    রাজ্যে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ে নিয়েও এদিন সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “এবার বাংলায় একদিকে তৃণমূলের ভয় রয়েছে, অন্যদিকে মোকাবিলা করার জন্য বিজেপির ভরসা রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের কাটমানি রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির বিকাশের ভরসা। একদিকে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা, অন্যদিকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর সংকল্প নিয়েছে বিজেপি। একদিকে সিন্ডিকেট রাজে সম্পত্তি হারানোর ভয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বিজেপির উন্নয়ন। একদিকে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার, অন্যদিকে মহিলাদের অত্যাচার রুখতে মোদির গ্যারান্টি রয়েছে।” এদিন আইনের ওপর ভরসা রাখার কথা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “একদিকে বেকারত্ব রয়েছে অন্যদিকে সুশাসন রোজগারের দিশা রয়েছে। ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক আপনাকে আইনের সাহায্য নিতে হবে। এবার ভোটে ভয় পালাবে। বিজেপি জিতবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে। বিজেপি বাংলার মানুষের জন্যেই আসরে নেমেছে। মহিলারা এরপর সঠিক বিচার পাবেন। গোটা দেশের মহিলারা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি মহিলাদের পাশে রয়েছে। তবে দেশের উন্নতির ভাগ বাংলায় আসে না। এবার বাংলার উন্নতি হবে।”

    অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই! বাঙালি ঐতিহ্য

    পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে। এর ফলে বাংলার মানুষের নিরাপত্তা বিপদের মুখে।” বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় বলেছিলেন, “সবাইকে আমি নমস্কার জানাই।” তার পর একাধিক বার কাটা কাটা বাংলায় বক্তৃতা করতে শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও তিনি বলেছেন, “বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার।” কখনও বলেছেন, “জঙ্গলরাজের অন্ত হবে।” এই সূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল তাদের ঘোষণাপত্রের নাম বাংলায় রাখেনি। মোদির কথায়, “তৃণমূল ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যার নাম বাংলায় রাখেনি। বরং ইস্তাহার বলা হচ্ছে। ভেবে দেখুন কেমন ভাবে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে।”

    তৃণমূলকে দুর্নীতি-তির 

    তৃণমূলের দুর্নীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রহণ নেমে এসেছে’ বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যগুলি এগিয়ে যাচ্ছে, আর বাংলাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল। এখানে সরকারি চাকরির উপরেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। বাংলার যুবসমাজ জানে, এই সরকার কত বড় নিয়োগ দুর্নীতি করেছে। কারা এতে শামিল ছিল! তৃণমূলের নিজের মন্ত্রী, বিধায়ক। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত গোটা তৃণমূল দুর্নীতিতে যুক্ত ছিল। কাটমানি, কমিশন আর দুর্নীতি করে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে এরা।”

    মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস

    গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মহিলাদের ভোট মূলত তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে। এ বার সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চায় পদ্মশিবির। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই কোচবিহারের সভায় ‘মা-বোনেদের’ বার্তা দেন মোদি। বলেন, “বিজেপি এলে মহিলারা স্বনির্ভর হবেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মা-বোনেদের সব সুবিধা দিয়েছে। ৩ কোটি মহিলাকে লাখপতি বানিয়েছে। আমাদের সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আইন এনেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এর সুবিধা মিলবে।” বিজেপি ‘মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস’ বলেও জানান মোদি।

    মোদিতে মাতোয়ারা

    রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে রাসমেলার মাঠে সভায় পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে রাসমেলার মাঠ, প্রায় দেড় কিলোমিটারের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন দু’পাশে তাঁকে দেখার জন্য। নির্বাচন (Assembly Election 2026) ঘোষণা হওয়ার পরে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেই প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার হবে। কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গের আর অন্যায় হবে না। এটা মোদির গ্যারান্টি।

  • Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliachak Incident) সাতজন বিচারপতির আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি (BJP)। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূলের (TMC) কারনে বাংলার মানুষ নয় দেশের মানুষ নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। ১২ রাজ্যে এসআইআর চলছে। কেরলের মত অবিজেপি রাজ্যেও চলছে। কিন্তু যবে থেকে বাংলায় শুরু হয়েছে তখন থেকে তৃণমূল ধর্মীয় বিভাজন শুরু করেছে। যে রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেই রাজ্যে আইনের শাসন থাকে না। আমরা দেখেছি হাইকোর্টের মহিলা বিচারপতির কাছে হুমকি এসেছে। বিচার ব্যবস্থার নিচুতলার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

    পুরো ঘটনা পরিকল্পিত, চক্রান্ত

    দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পুরো ঘটনা পরিকল্পিত। সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেন, “কোনও স্থানীয় মানুষের জনরোষ নয়। এটা পরিকল্পিত। উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রয়াস চলছে।” এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা জরুরি, তা বোঝাতে শমীক বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। বিনাযুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মুর্শিদাবাদ, মালদাকে এপিসেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জাল নোট। সম্প্রতি লস্করের জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে থেকেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কোভিডকালে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি কোচবিহারে মডিউল তৈরি করেছে। সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার অভিযোগ তুলে শমীক বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বার বার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে খবর পাঠিয়েছে যে কোচবিহার থেকে সন্ত্রাসবাদী মডিউল ছড়াচ্ছে। কিন্তু এখানকার সরকার কান দেয়নি। যেভাবে কিছু মানুষ সীমান্তের ওপার থেকে বলছেন, যে কোনও মুল্যে চিকেনস্ নেক-কে সরিয়ে দিয়ে আমরা এখান থেকে বাংলা এবং ভারতের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনব, তার সামগ্রিক প্রতিফলন হয়েছে কালিয়াচকের ঘটনায়।”

    প্রগতিশীল মুসলিমরাও চিন্তা করুন

    সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গকে ‘পোলারাইজড’ বলে উল্লেখ করেছে। সেই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে শমীক বলেন, “হিন্দুদের সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল মুসলিমদেরও চিন্তা করার সময় এসেছে। ওপারে যা ঘটেছে, এপারেও তারই প্রতিফলন।” শমীক বলেন, “বাংলার সরকার বাবরদের সরকার, মৌলবাদিদের সরকার।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। হিন্দুদের সঙ্গে মুক্তমনা মুসলিম ভাইদেরও ভাবতে হবে তারা কাকে সমর্থন করবেন। মা কালিকে আজ অ্যারেস্ট করা হচ্ছে বাংলায়।’’ বিজেপি সভাপতির দাবি, এটা পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কোনও বাহিনী এসে শান্তিরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায়। আর তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি। পুরো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শমীক। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে বাংলাকে যদি ভারতের সঙ্গে রাখতে হয় তাহলে তৃণমূলকে সরাতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা বলা মানুষ এই সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ ধর্মশালা নয়। যে কেউ, যখন খুশি এসে নাম তুলবে।’’

  • Bengal Elections 2026: ভোটের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে নালিশ বিজেপির

    Bengal Elections 2026: ভোটের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে নালিশ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাল বিজেপি। মঙ্গলবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এর দফতরে হাজির হয় বিজেপির প্রতিনিধি দল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল সিইও দফতরে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানায়।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের উস্কানি

    শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ,‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি মানছেন না। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের উস্কানি দেওয়ার মতো মন্তব্য করছেন, যা অত্যন্ত গুরুতর।’’ শুধু তাই নয়, বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নাকি প্রকাশ্যে এমন কথাও বলেছেন, ৪ মের পর বিজেপি কর্মীদের গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে বলতে হবে ‘‘আমরা বিজেপি করি না।’’ শুভেন্দুর প্রশ্ন,‘‘একজন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? তিনি প্রার্থী হলেও তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। এভাবে কি ভোট-পরবর্তী হিংসার ইঙ্গিত দেওয়া যায়?’’ এই সমস্ত অভিযোগই মঙ্গলবার লিখিত আকারে সিইও দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে।

    ‘ভয় ও উস্কানিমূলক’ পরিবেশ

    প্রসঙ্গত, এর ঠিক একদিন আগেই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে একই অভিযোগ জানায় বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কিরেণ রিজিজু, অরুণ সিং ও সুকান্ত মজুমদারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের সভা-সমাবেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে ‘ভয় ও উস্কানিমূলক’ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ২৫ মার্চ ময়নাগুড়ি ও নকশালবাড়ি এবং ২৬ মার্চ পাণ্ডবেশ্বরের সভার বক্তব্য। পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ২৮ মার্চের এক সাংবাদিক বৈঠকের মন্তব্যকেও নিশানা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই সমস্ত বক্তব্য ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া এবং তা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশ ‘নিষ্ক্রিয়’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। স্পর্শকাতর এলাকায় আরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, অতিরিক্ত আইএএস ও আইপিএস পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। এমনকী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় এফআইআর দায়েরের আর্জিও জানানো হয়েছে।

  • Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্তব্যে গাফিলতি এবং নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগে তিন সিআরপিএফ জওয়ানকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, রাজ্যে শাসকদল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই জওয়ানেরা ক্যারম খেলছিলেন। ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে যখন টানাপড়েন চলছে, ঠিক তখনই বীরভূমের এই ছবি ঘিরে দানা বাঁধল নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি এমনই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। উল্লেখ্য, এর আগে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) নিমতিতাতেও এক তৃণমূল নেতার (TMC Iftar) ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সাতজন বিএসএফ জওয়ান। তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন।

    ভাইরাল ভিডিওয় কী ছবি

    সূত্রের খবর, শনিবার বীরভূমের এক এলাকায় টহল দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু ডিউটি চলাকালীন আচমকাই তিন জওয়ান ঢুকে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে। সেখানে বসে থাকা কর্মীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শুরু হয় জোরদার ক্যারাম খেলা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে সেই খেলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একেবারে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ঢুকে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছেন দুজন জাওয়ান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিহিত একজন পাশেই একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন। কোনও দিকে মন না দিয়ে ক্যারামে ফোকাস করেছেন সকলেই। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানেরা কীভাবে শাসকদলের কার্যালয়ে ঢুকে আড্ডা জমালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

    কমিশনের কড়া বার্তা

    বিজেপির তরফে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। কমিশন সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্ত ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের পর ওই তিন জওয়ানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে আর কোনও ডিউটিতে থাকতে পারবেন না এই তিন জওয়ান। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন ‘উদাসীন’ ও ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণে ক্ষুব্ধ কমিশনের কর্তারা।এর আগেও বিএসএফ-এর কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই ঘটনা থেকে যে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি, বীরভূমের ঘটনা তারই প্রমাণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে কোনওভাবেই কালিমালিপ্ত না হয়, সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত ৪২ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ২০ লক্ষের মতো ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এবার থেকে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করা হবে, বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেইমতো রবিবার কমিশন চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ করে। এদিন ২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    ১৮ লক্ষের নাম বাদ

    গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেইসময় ৫৮ লক্ষের নাম বাদ যায়। এর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে আরও সাড়ে ৫ লক্ষের মতো নাম বাদ যায়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন তালিকা রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে জুডিশিয়াল অফিসাররা বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছে। গত ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ হয়। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ১৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত ৮১ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। এখনও ১৮ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। শেষপর্যন্ত কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

    ট্রাইবুনালে আবেদন

    কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। জানা গিয়েছে, কলকাতাতেই ট্রাইবুনালের অফিস হচ্ছে। জেলা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য কলকাতা আসার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদন জানানোর জন্য, https://voters.eci.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অফলাইনে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে ফর্ম ফিলাম করে আবেদন জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু ট্রাইবুনাল কবে কাজ শুরু করবে, স্পষ্ট করেনি হাইকোর্ট। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯।

LinkedIn
Share