Tag: Supreme Court of India

Supreme Court of India

  • CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI) সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু সেই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের আগে, ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ-সহ একাধিক দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত ইমেলের মাধ্যমে দুই বিরোধী নেতাকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যে বিষয়গুলি নিয়ে রাহুল ও খাড়্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই এই পরিস্থিতিতে আলাদা করে বৈঠক করা সমীচীন নয়। পাশাপাশি, প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আদালত সরকারের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে পারেন বলে বিরোধী নেতাদের জানানো হয়েছে।

    কেন প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা? (CJI)

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধীদের আন্দোলন। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, নির্বাচন কমিশন শাসক দল বিজেপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহির দাবিও তুলেছে তারা।

    নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের আপত্তির একটি বড় অংশই ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে।

    যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, আলোচনার সময় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, তাদের নির্দেশগুলির আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং যাবতীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত আইন ও বিধি মেনেই নেওয়া হয়।

    ‘গণতন্ত্রের মিছিলে’র ডাক কংগ্রেসের

    সোমবারের কর্মসূচির নাম দিয়েছে কংগ্রেস, ‘চলো দিল্লি—গণতন্ত্রের মিছিল’। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দিল্লির কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলে জমায়েত হওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    রাহুল জানিয়েছেন, তরুণ সমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মিছিলে অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে যাবেন। শনিবার দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এদিকে, খাড়্গে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। খাড়্গের দাবি, শনিবার প্রতিবাদস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, এই আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন (CJI)।

    রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ বিরোধী প্রতিনিধিদল

    শুক্রবার দিল্লির বিজয় চকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপর কয়েকজন সাংসদ সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে, ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছিল ওই প্রতিনিধিদল।

    বৈঠকের পরে বিরোধী নেতারা জানান, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি, তাঁদের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি বলে দাবি বিরোধীদের।

    রাহুল বলেন, রাষ্ট্রপতি অভিযোগগুলি অস্বীকার করেননি কিংবা সেগুলি নিয়ে প্রশ্নও তোলেননি—এই বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, দেশে কথিত ভোটচুরির অভিযোগের প্রমাণ সম্পর্কে বহু মানুষ অবগত। বিরোধীরা সেই প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ভোটার তালিকার সংশোধন, কথিত ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সোমবারের ‘গণতন্ত্রের মিছিল’ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার (CJI)।

     

  • Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘কারচুপিমুক্ত’ রাখার দাবি তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সমর্থনে সরব হলেন ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও আধিকারিক। গত (SIR) ১০ অক্টোবর, শনিবার, প্রাক্তন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা, ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আধিকারিকেরা দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি (Election Commission) খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললে তার স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণও দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের। গত ৭ অক্টোবর ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতিও নির্বাচন কমিশনের সমর্থনে একই ধরনের একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন। বিরোধীদের তরফে কমিশনকে নিশানা করার প্রবণতার সমালোচনা করে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

    অতীতের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা (Election Commission)

    খোলা চিঠিতে প্রাক্তন আধিকারিকেরা জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁরা নির্বাচন পরিচালনা করেছেন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁদের মতে, একসময় বুথ দখল, হিংসা, ব্যালট বাক্স লুট এবং ভুয়ো ভোটদানের মতো ঘটনা ছিল নির্বাচনের পরিচিত সমস্যা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে বুথ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

    এই প্রসঙ্গে বিহারের ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ১৯৫১ সালের পর বিহারে ওই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার নথিভুক্ত হয়েছিল। বিশেষ করে, রেকর্ড সংখ্যক মহিলা ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পাশাপাশি, রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবার কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকেরা লিখেছেন, “কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন, তা আমরা জানি। এমন সময়ে আমরা কাজ করেছি, যে সময়ের কথা আপনারা শুধু সিনেমায় দেখেছেন—বুথে আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুগামীদের দৌরাত্ম্য, ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়া বা লুট করা এবং ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া। বুথ দখল এতটাই সাধারণ ঘটনা ছিল যে ১৯৮৯ সালে সংসদ একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যখন হিংসা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।”

    ভোটে কারচুপি ঠেকাতে একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে চিঠিতে ভোটগ্রহণের বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিনিধি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ভোট গণনার পর স্বাক্ষরিত নথিও তাঁরা পান। ভোটযন্ত্র সিল করার সময় নির্বাচনী প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং যন্ত্রগুলি নিরাপদ কক্ষে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নজরদারি করতে পারেন (Election Commission)।

    এ ছাড়া, ভোটযন্ত্রে গণনা করা ভোটের সঙ্গে কাগজের ভোট-স্লিপ মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থাও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে বহাল রেখেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের কথায়, “কর্মকর্তারা সাধু হয়ে গিয়েছিলেন বলে এই পরিবর্তন ঘটেনি। বরং নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা ব্যবস্থা কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি প্রার্থীর প্রতিনিধি প্রতিটি বুথের ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রদত্ত ভোটের গণনার স্বাক্ষরিত নথি সঙ্গে নিয়ে যান। ভোটযন্ত্রগুলিতে প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর-সহ সিল করা হয় এবং সেগুলিকে নিরাপদ কক্ষে পাহারার মধ্যে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের নজরদারির সুযোগ থাকে।”

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি করতে হলে হাজার হাজার সরকারি আধিকারিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে একযোগে নীরব থাকতে হবে। অথচ এমন কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি বলে দাবি তাঁদের।

    নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনকে একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনও এক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়। ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই কাঠামো বহাল রেখেছিল। তিন নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করেন। ফলে কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেই তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না।

    ভোটার তালিকা পরিষ্কারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন জরুরি

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, বিহারে ২০০৩ সালের পর থেকে ভোটার তালিকার এমন নিবিড় সংশোধন হয়নি। সাম্প্রতিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ লাখ মৃত ভোটারের নাম, সাত লাখের মতো দ্বৈত নাম নথিভুক্তি এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বহু মানুষের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে (SIR)।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্যের নামে ভোটদান আটকাতে এই ধরনের নাম বাদ দেওয়া জরুরি। আধিকারিকদের কথায়, “পরিমার্জন না করা ভোটার তালিকা ভোটারকে সুরক্ষা দেয় না, বরং জালিয়াতকে সুরক্ষা দেয় (Election Commission)।”

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, খসড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত নয়। তালিকায় কারও নাম না থাকলেই যে তাঁর নাম স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে, এমন নয়। কোনও নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে এবং নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দু’টি স্তরে আপিলের ব্যবস্থাও রয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার নতুন ভোটারের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিও বুথ স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে।

    চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, “বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া আসলে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে তালিকা পরিমার্জন করা হয় এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসুবিধা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রকে আরও সুস্থ করে তোলার জন্য নেওয়া বড় উদ্যোগগুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের অসুবিধা স্বাভাবিক।”

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, আদালত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি। তবে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ৬৫ লাখ মানুষের নাম এবং তাঁদের নাম বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল।

    এ ছাড়া, অনলাইনে দাবি জানানোর সুযোগ, পরিচয়পত্র হিসেবে আধার গ্রহণ এবং আপিলের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কোনও বেআইনি পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণ মিললে এই সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আধিকারিকেরা আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বহাল রাখে। একই সঙ্গে ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক ফলের ভিত্তিতে কমিশনকে বিচার করা উচিত নয়

    প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, নির্বাচনের ফল পছন্দসই না হলেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁদের বক্তব্য, একই কমিশনের অধীনে হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও শাসক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

    তাঁরা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা-মা, প্রতিবেশী এবং কর্মসূত্রে অন্যত্র বসবাসকারী পরিযায়ী শ্রমিকদেরও তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারও নাম না থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাবি জানিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    বুথ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই শিক্ষক এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ভোটার তালিকার তথ্য আপডেট করতে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা (Election Commission)।

    চিঠির শেষে তাঁরা লিখেছেন, “সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলুন। কিন্তু কেউ যখন বলেন নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ’, তখন তাঁর কাছে এমন প্রমাণ চান, যার পক্ষে তিনি শপথ করে দাঁড়াতে পারবেন।”

    তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ থাকা জরুরি এবং তা আইনি পথে জানানো উচিত। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো কিংবা হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন দাখিল করার মতো বৈধ পথও রয়েছে।

    চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া বারবার নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুললে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে। কোনও দল জিতলে যে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ বলা হচ্ছে, সেই একই ব্যবস্থাকে পরাজয়ের পর (SIR) অসৎ বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা।

     

  • Sabarimala Case: ‘মন্দিরের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সমর্থন করি না’, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র

    Sabarimala Case: ‘মন্দিরের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সমর্থন করি না’, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মন্দিরের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সমর্থন করি না, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিরও উচিত নয় সরাসরি রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত (Sabarimala Case) হওয়া। সুপ্রিম কোর্টকে (SC) এমনই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।

    কেন্দ্রের বক্তব্য (Sabarimala Case)

    কেন্দ্রীয় সরকারের এই বক্তব্যটি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা নয়-সদস্যের সংবিধান বেঞ্চের সামনে উপস্থাপন করেন। এই বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সূ্র্য কান্ত। বেঞ্চটি সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারা এবং ২৬ নম্বরের অধীনে রাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করছে, যা শবরীমালা রিভিউ পিটিশনস থেকে উদ্ভূত।

    কী বললেন সলিসিটর জেনারেল

    কেন্দ্রের অবস্থান ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসন এবং ধর্মনিরপেক্ষ সিস্টেমের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্যের ওপর জোর দেয়। সরকার সাফ  জানিয়ে দিয়েছে, তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সরাসরি সরকারি পরিচালনার পক্ষে নয়। যদিও অনুচ্ছেদ ২৫(২) রাষ্ট্রকে আর্থিক ও রাজনৈতিক মতো ধর্মনিরপেক্ষ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুমতি দেয়, সরকার যুক্তি দেয় যে এটি চিরকালের জন্য মন্দির দখলের অনুমতি দেয় না। সলিসিটর জেনারেল আরও বলেন, “সংবিধানের ব্যাখ্যা সব ধর্মের জন্য সমান হওয়া উচিত এবং কোনও একক ধর্মের প্রথার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়।” কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, অনেক হিন্দু প্রথা স্বভাবতই বহুমাত্রিক, যেখানে কিছু মন্দিরে রীতিনীতির ভিত্তিতে প্রবেশ সীমাবদ্ধ থাকে, এবং এই বৈচিত্র্য উপেক্ষা করে একরূপ কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে (Sabarimala Case)।

    পূর্ণ স্বাধীনতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

    যদিও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে কথা বলা হয়েছে, বেঞ্চ সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালতের মন্তব্য, সম্পূর্ণ বর্জনের অধিকার সমাজকে (SC) বিভক্ত করতে পারে এবং হিন্দু ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিচারপতি বিভি নাগারাথনার মন্তব্য, “সবারই প্রতিটি মন্দির ও মঠে প্রবেশাধিকার থাকতে হবে”। সামাজিক সংস্কার ও বৈষম্য প্রতিরোধে রাষ্ট্র অনুচ্ছেদ ২৫(২)(খ)-এর অধীনে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট রায়গুলিতে আদালত ধারাবাহিকভাবে বলেছে যে মন্দিরের অর্থ “দেবতার সম্পত্তি” এবং তা শুধুমাত্র মন্দিরের স্বার্থেই ব্যবহার করা উচিত, অন্য কোনও সরকারি ব্যয় বা বাণিজ্যিক কাজে নয়।

    বিতর্কিত বিষয়

    এই বিষয়টি এখনও বিতর্কিত। অনেকেরই যুক্তি, হিন্দু মন্দিরগুলিই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা সরকারি নিয়ন্ত্রণের অধীনে, যেখানে মসজিদ, গির্জা ও গুরুদ্বারগুলি সাধারণত স্বশাসিত। ভক্তরা প্রায়ই আপত্তি করেন যে মন্দিরের আয় ধর্মীয় কার্যকলাপের ক্রমের বদলে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আশঙ্কা রয়েছে যে সরকার নিযুক্ত প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান বা ভক্তি নাও থাকতে পারে (Sabarimala Case)। সমালোচকদের মতে, এই নিয়ন্ত্রণ মন্দির বোর্ডগুলোকে ‘রাজনৈতিক পার্কিং লটে’ পরিণত করতে পারে, যেখানে নিয়োগগুলি যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় হয় (SC)।

    এই বিতর্ক ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মন্দির পরিচালনায় ব্যাপক সরকারি অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে চলছে। কেরলের বিভিন্ন দেবস্বম বোর্ড প্রায় ৩,০০০ মন্দির পরিচালনা করে। তামিলনাড়ুতে হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য এনডাউমেন্টস বিভাগ ৩০,০০০-এরও বেশি মন্দির পরিচালনা করে। অন্ধ্রপ্রদেশে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমস তিরুপতি বালাজি মন্দির পরিচালনা (Sabarimala Case) করে। কর্নাটক ও উত্তরাখণ্ড-সহ অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের কাঠামো রয়েছে।

     

  • West Bengal SIR: ‘ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    West Bengal SIR: ‘ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে দুটি বিষয় উঠে এল সুপ্রিম কোর্টে। ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের প্রসঙ্গ (West Bengal SIR) এবং মালদাকাণ্ড। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রাজ্যে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য (West Bengal SIR)

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যাতে আপিল ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের ওপর আরও বাড়তি চাপ পড়ে। আমাদের সামনে আর একটি আবেদনও রয়েছে, যেখানে আপিল প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি তোলা হয়েছে।” এদিনের শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সাংসদ তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ১৬ লাখ আবেদন করা হয়েছে। তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান তিনি। কল্যাণের সওয়াল প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলে, “সেই প্রশ্নই ওঠে না। যদি আমরা এটা অনুমতি দিই, তা হলে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে।”

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশ

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের নিরাপত্তা কোনওভাবেই প্রত্যাহার করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মোট ৬০ লাখ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এখনও প্রায় ২,০০০ মুলতবি রয়েছে।” মালদার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আমরা জানতে চাই, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র ছিল কি না। আমরা চাই না, বিষয়টি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকুক।”

    ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শ

    এদিকে, মালদাকাণ্ডে তদন্তের অন্তর্বতী রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তের কত দূর অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়েও রিপোর্ট জমা দিয়েছে তারা। এজলাসে এনআইএ জানায়, মালদহকাণ্ডে মূল চক্রান্তকারীকে রবিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে (West Bengal SIR)। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলা শুরুর আগে এক আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, ট্রাইবুনালে আবেদন শোনা হচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমায় জানিয়েছেন আজ সকাল থেকে ট্রাইবুনালে শুনানি শুরু হয়েছে। ট্রাইবুনালকে এ ভাবে ব্ল্যাকমেল করা যাবে না। আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেব না, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ট্রাইবুনালই নেবে।” মামলাকারীকে ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শও দেয় শীর্ষ আদালত।

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী

    এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, “এক্ষেত্রে কোনও দায় ঠেলাঠেলি চলবে না। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে ভুগতে হচ্ছে ভোটারদের।” কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি বাগচী বলেন, “কেউ যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিকই নয়, এটি আবেগের বিষয়ও বটে (West Bengal SIR)।” তথ্যগত অসঙ্গতির মতো একটি বিষয় যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই রয়েছে, অন্য কোনও রাজ্যে নেই, সে বিষয়ের উপরেও আলোকপাত করেন বিচারপতি বাগচী। তিনি বলেন, “যত ক্ষণ না বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ছেন বা ভোটের ফলের ওপর তার বাস্তবিক কোনও প্রভাব পড়ছে, ততক্ষণ নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব নয়।” বিচারপতি বাগচী বলেন, “এসআইআরের বিচারকাজে নিয়োজিত আধিকারিকদের ওপর অত্যধিক চাপ রয়েছে। তাই তাঁদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ নির্ভুলতা আশা করা যায় না। প্রতিদিন ১০০০টিরও বেশি নথি যাচাই করতে হলে ৭০ শতাংশ নির্ভুলতাকেও ‘চমৎকার’ বলা যেতে পারে।”

     

  • Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামাজিক সুরক্ষা আইনের একটি বিধান বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই বিধানে দত্তক নেওয়া মায়ের মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে। শীর্ষ আদালত এই শ্রেণিবিভাগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে (Maternity Leave)।

    ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলা (Supreme Court)

    ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ, ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ রায় দেয়, সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড ২০২০-এর ধারা ৬০(৪) সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। এই দুই অনুচ্ছেদ সমতা ও জীবনের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। আদালত রায় দেয়, দত্তক নেওয়া মায়েরা শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকারী।

    আদালতের নির্দেশ

    প্রসঙ্গত, আগে এই সুবিধা সীমাবদ্ধ ছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে। যার ফলে অধিকাংশ দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। ২০২০ সালের আইনের ধারা ৬০(৪)-এ বলা ছিল, “যে নারী আইনত তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুটিকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।” আদালতের নির্দেশ, এখন এই ধারা হবে, “যে নারী আইনত কোনও শিশুকে দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।”

    দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিভাবকের প্রয়োজন কম নয় 

    আদালত মনে করে, শিশুর বয়সের ভিত্তিতে দত্তক নেওয়া মায়েদের মধ্যে পার্থক্য করার কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “মাতৃত্বকালীন সুবিধার উদ্দেশ্য সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ার সঙ্গে নয়, বরং মাতৃত্বের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত (Supreme Court)।” আদালত এও জানায়, দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ব, পরিচর্যার প্রয়োজন এবং মানসিক অভিযোজন শিশুর বয়স নির্বিশেষে প্রায় একই থাকে। দত্তক গ্রহণ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রজনন স্বাধীনতার একটি বৈধ রূপ এবং এটি জৈবিক পিতামাতার তুলনায় গৌণ নয় (Maternity Leave)।

    রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভারতের আইনি কাঠামোয় খুব কম বয়সি শিশুকে দত্তক নেওয়ার বাস্তব অসুবিধা। আদালত জানিয়েছে, কোনও শিশুকে আইনিভাবে দত্তকের জন্য মুক্ত ঘোষণা করতে করতে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় লেগে যায়। তাই আগের বিধানটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়, “এই বয়সসীমা বিধানটিকে কার্যত অর্থহীন ও অপ্রয়োগযোগ্য করে তোলে।” বেঞ্চ জানিয়েছে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই নীতিনির্ধারণের মূল হওয়া উচিত। দত্তক পরিবারের সঙ্গে শিশুর মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময়, যত্ন ও মানসিক বন্ধন প্রয়োজন, যা কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের রায়, বড় বয়সের শিশুকে দত্তক নেওয়া মায়েদের ছুটি না দেওয়া মাতৃত্বকালীন যত্ন এবং শিশুর বিকাশ—দু’টিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই রায়ের পর আদালতের নির্দেশ, ধারা ৬০(৪) এমনভাবে পড়তে হবে যাতে সব দত্তক গ্রহণকারী মা ও কমিশনিং মাদার শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পান (Supreme Court)।

    পিতৃত্বকালীন যত্ন

    এদিকে, আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে পিতৃত্বকালীন ছুটি চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। আদালত বলে, সন্তানের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব উভয় অভিভাবকের মধ্যে ভাগ হওয়া উচিত এবং তা তাঁদের ও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। শীর্ষ আদালত নির্দেশে জানিয়েছে, “আমরা কেন্দ্রকে পিতৃত্বকালীন ছুটিকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি বিধান আনার আহ্বান জানাচ্ছি (Maternity Leave)। এই ছুটির সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে তা অভিভাবক ও শিশুর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় (Supreme Court)।”

LinkedIn
Share