Tag: Suryakumar Yadav

Suryakumar Yadav

  • Jay Shah: প্রাক-টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্বে ‘নাটক’ নিয়ে মুখ খুললেন জয় শাহ

    Jay Shah: প্রাক-টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্বে ‘নাটক’ নিয়ে মুখ খুললেন জয় শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (Pre T20 World Cup Drama) নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ভারতে আসতে অস্বীকার করায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও, বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় ছিল। তাই তাদের জায়গায় (Jay Shah) নেওয়া হয় স্কটল্যান্ডকে।

    “কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়” (Jay Shah)

    পরে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত বদল করে। এই বিতর্কের সময় নীরব ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। এতদিন পরে মুখ খুললেন তিনি। মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়ান বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ জানান, কয়েকটি দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বিধার কারণে পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে তিনি বলেন, “কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়।”

    দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ড ভেঙেছে

    তিনি বলেন, “এই আইসিসি বিশ্বকাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে অনেক আলোচনা চলছিল, কিছু দল আদৌ অংশ নেবে কি না এবং বিশ্বকাপ কীভাবে এগোবে। আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলতে পারি, কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয় এবং কোনও একক দল একটি সংস্থা তৈরি করে না। একটি সংস্থা গড়ে ওঠে সব দলের সমন্বয়ে।” যদিও তিনি সরাসরি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের নাম নেননি। শাহ জানান, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ড ভেঙেছে। একসঙ্গে ৭.২ মিলিয়ন দর্শক ম্যাচ দেখেছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপ সব ধরনের দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবার আমরা ৭.২ মিলিয়ন দর্শক পেয়েছি। সামগ্রিক দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ডই ভেঙে গিয়েছে। আপনি দেখবেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কঠিন লড়াই দিয়েছে, নেদারল্যান্ডস পাকিস্তানকে সমস্যায় ফেলেছে, জিম্বাবোয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে এবং নেপাল ইংল্যান্ডকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে (Pre T20 World Cup Drama)। আমি সব অ্যাসোসিয়েট দলকে অভিনন্দন জানাই। তারা পূর্ণ সদস্য দেশগুলির বিরুদ্ধে খুব ভালো খেলেছে (Jay Shah)।”

    জয়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

    শেষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন জয়। বলেন, “সূর্য (সূর্যকুমার যাদব) এবং গৌতম ভাইয়ের জন্য আমার একটি বার্তা আছে—শীর্ষে উঠতে বছর লাগে, কিন্তু শীর্ষ থেকে নীচে নামতে মাত্র কয়েক মাসই যথেষ্ট। তাই কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান এবং জয়ের ধারা বজায় রাখুন। আমি যখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডে (BCCI) ছিলাম, তখন ২০২৮ অলিম্পিক পর্যন্ত পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন আমি আইসিসিতে আছি এবং বিসিসিআইয়ের দায়িত্ব অন্যদের হাতে। আপনাদের সবাইকে ২০৩০, ২০৩১ এমনকি (Pre T20 World Cup Drama) ২০৩৬ সালের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে (Jay Shah)।”

     

  • T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুবনজয়ী ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একপেশে ম্যাচে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সেলিব্রেশন। আসলে এই বিশ্বকাপ জয় (T20 World Cup 2026) বিশ্বক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য আবারও শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিল। একই সঙ্গে আর্থিকভাবেও লাভবান করল টিম ইন্ডিয়াকে। বিজয়ী দল হিসেবে ভারত পেয়েছে ২.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সমান। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মোট আর্থিক পুরস্কারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঢুকেছে টিম ইন্ডিয়ার পকেটে।

    কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। যে দল যতটা এগোতে পেরেছে, তার পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। রবিবার আমেদাবাদের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ফলে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনিএ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার

    এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার দিল আইসিসি। ২০২৪ বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আইসিসি। এবার সেটা ২০ শতাংশ বেড়ে ১২০ কোটি করা হয়েছে। পুরস্কার মূল্য বেড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন, সব দলেরই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তারা পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আর বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

    বিশ্বকাপের পুরস্কার মূল্য (ICC Prize Money)

    চ্যাম্পিয়ন (ভারত)
    ২৭.৪৮ কোটি

    রানার্স আপ (নিউজিল্যান্ড)
    ১৪.৬৫ কোটি

    সেমিফাইনাল
    ৭.২৪ কোটি

    সুপার এইট
    ৩.৪৮ কোটি

    গ্রুপ পর্ব
    ২.২৯ কোটি

  • T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার যাদব। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম বার বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) নেমেই চ্যাম্পিয়ন। তবে এখনই থামতে রাজি নন তিনি। এবার লক্ষ্য অলিম্পিক ক্রিকেটে প্রথম সোনাজয়। বিশ্বজয়ের রাতেই নিজের পরের দুই লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন সূর্য। বিশ্বকাপ জিতে সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতই চমক দেন সূর্য (Surya Kumar Yadav)। মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের শুভেচ্ছা জানান। তার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরের লক্ষ্য কী। তিনি বলেন, “সবে তো শুরু। এর পরের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জেতা। সেই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটাও জিততে নামব।” একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানালেন ঈশ্বরের প্রতি। মাঠ থেকেই সোজা গুরু গম্ভীর ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-র সঙ্গে গেলেন স্থানীয় বজরংবলীর মন্দিরে পুজো দিতে।

    প্রথম বারই অলিম্পিকে সোনা জয়

    ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রথম বারই সোনা জেতার লক্ষ্যে নামবেন সূর্য। পাশাপাশি দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও হতে চান তিনি। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ২০২৮-এ। ততদিন নিজেকে ধরে রাখতে চান সূর্য। আমেদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে সূর্য বলেন, “এই গল্পটা ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল। জয় ভাই তখন সচিব ছিলেন। উনি আমার উপর ভরসা দেখিয়েছিলেন। রোহিত ভাইও আমার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অভ্যাস এবারও ধরে রেখেছি।”

    গুরু গম্ভীরে আস্থা, বুমরা জাতীয় সম্পদ

    সূর্য জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক খুব ভালো। ভারত অধিনায়ক বলেন, “গৌতি ভাইয়ের অধীনে আমি চার বছর খেলেছি। ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমাদের ভাবনা মেলে। আমরা দু’জনেই দলের ভালোর কথাই ভাবি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। গৌতি ভাইকে আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করি।” বিশ্বকাপ জিতে বুমরার কথা শোনা গিয়েছে সূর্যের মুখে। আগের দিন সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছিলেন, এক প্রজন্মে বুমরার মতো ক্রিকেটার একজনই আসে। আরও খানিকটা এগিয়ে গেলেন সূর্য। তিনি বললেন, “সঞ্জু আগের দিন বলেছিল, বুমরার মতো বোলার এক প্রজন্মে একজনই আসে। আমি বলব, বুমরা জাতীয় সম্পদ। ও জানে ওকে কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। আমাকে কিছু বলতে হয় না।”

    সাজঘরে বাক্‌স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ

    সূর্যের মতে, দলের প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকের কথা আলাদা ভাবে শোনেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “গত দু’বছর ধরে এই কাজটাই করছি। একটা ভালো সাজঘর তৈরি করেছি। কারও কোনও সমস্যা থাকলে তাকে নৈশভোজে নিয়ে যাই। কথা শুনি। আমি প্রত্যেকের কথা শুনি। কারণ আমার মতে, প্রত্যেকের যদি বাক্‌স্বাধীনতা না থাকে, তা হলে সেই দল সফল হতে পারে না। তাই সকলের কথা শোনাটা জরুরি। সেই কারণেই ওরা আমার কথাও শোনে।” ক্রিকেটারের জীবনে সাফল্যের চেয়েও ব্যর্থতা বেশি আসে বলে মনে করেন সূর্য। তবে তার মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়। সূর্য বলেন, “জীবনে উত্থান-পতন হবেই। গত বছর একটাও অর্ধশতরান করতে পারিনি। আমারও কঠিন সময় গিয়েছে। কিন্তু নিজের উপর ভরসা রেখেছি। পরিশ্রম করেছি। সকলকেই সেটা করতে হবে। এটাই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র।”

    ট্রফি হাতে হনুমান মন্দিরে আরাধনা

    আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে হনুমান টেকরি মন্দির। সাংবাদিক বৈঠকের পর মাঠ থেকেই মন্দিরে বজরংবলীর আশীর্বাদ নিতে যান সূর্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুরু গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। পুজো দেওয়ার পর আবার স্টেডিয়ামে ফেরেন তাঁরা। সেখান থেকে দলের সঙ্গে হোটেল যান কোচ ও অধিনায়ক। ঈশ্বরের আশীষ নিয়েই আগামী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে চান ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া সূর্য।

  • India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পর পাকিস্তানে আবেগের বিস্ফোরণ। ভাঙল একের পর এক টিভি। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের দাপট ছিল। পাকিস্তানের খেলা দেখে কোনও সময়েই মনে হয়নি তারা এই ম্যাচে জয় পেতে পারে। ভারতীয় দল নিরঙ্কুশ দাপট দেখিয়ে জয় পেল। ভারতের এই জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে টেলিভিশন সেট ভাঙা হয়েছে। পাকিস্তানে এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারলেই টিভি ভাঙা হয়। এবারও ঠিক সেটাই হল। আসলে পুরোটাই হতাশার ফল। ম্যাচের আগে বয়কট বিতর্ক, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে আবহ ছিল তপ্ত। কিন্তু মাঠে পার্থক্য স্পষ্ট। ভারত ছিল পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত, আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তান ছিল ছন্নছাড়া।

    পুরনো রীতি ফিরে এল!

    কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) একতরফা ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিও—ক্ষুব্ধ এক পাক সমর্থক নিজের টিভি সেট ভেঙে ফেলছেন! গ্রুপ এ-র ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছিল। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। ফল—৬১ রানের ধাক্কা। টি-২০ আন্তর্জাতিক (T20I) ইতিহাসে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ম্যাচের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সমর্থকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারত আবার হারাল পাকিস্তানকে। রাগে টিভি ভেঙে ফেললাম।’’ আরেক পোস্টে যোগ করেন, ‘‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি, লজ্জিত, হতবাক—কিছু বলার নেই।’’ আত্মবিদ্রূপ মেশানো হতাশা যেন গোটা দেশের আবেগের প্রতিফলন। তেমনই একটি পোস্টে বিদ্রুপের সুরে লেখা হয়েছে — ‘ভারতের কাছে ম্যাচ হারার পর মধ্যরাত পর্যন্ত পাকিস্তানিরা সারা দেশে ৫৫০০টিরও বেশি টিভি ভেঙে ফেলেছে। এরই মধ্যে, পাকিস্তানি টিভি সেট নির্মাতারা তাদের শিল্পকে বাঁচানোর জন্য ভারতকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

    ভারতের কাছে হার নিত্য ঘটনা!

    মাঠে হতাশা, গ্যালারিতেও দীর্ঘশ্বাস পাক সমর্থকদের। কলম্বোর (Colombo) আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) যে পাকিস্তানিরা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও ফের ভারতের কাছে হারে হতাশ। এক পাকিস্তানি বলেছেন, ‘‘ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একটু আশা ছিল যে আমরা ম্যাচ জিতব এবং অন্তত একটু লড়াই করব। কিন্তু এখন ভারতের জয় রুটিন হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে বুমরার জবাব নেই। আমরা হার্দিকের মোকাবিলা করতে পারি না। এখন এই অবস্থা হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় দল ভালো খেলেছে।’’

    দোষারোপের পালা পাকিস্তান

    ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার মেনে নিতে পারছেন না শাহিদ আফ্রিদি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দু’ওভার বল করে ৩১ রান দিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। ঘটনাচক্রে শাহিন ও শাহিদের সম্পর্ক জামাই-শ্বশুরের। সেই জামাইকেই এ বার দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেন শ্বশুর। জানিয়ে দিলেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে শাহিনকে ছাঁটাই করতেন তিনি। আফ্রিদির মতে, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের হারের দায় নিতে হবে। বার বার একই ক্রিকেটারদের উপর ভরসা দেখানোর মানে নেই। সেটা নির্বাচকদের বুঝতে হবে। আফ্রিদি বলেন, “যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত তা হলে শাহিন, বাবর ও শাদাবকে বাদ দিয়ে দিতাম। ওদের বদলে নতুনদের সুযোগ দিতাম। এরা তো বছরের পর বছর খেলছে। এখনও ভারতকে হারাতে পারল না। তা হলে কেন ওদেরই খেলিয়ে যাব। আমার মনে হয়, নামিবিয়া ম্যাচেই এই তিন জনকে বসিয়ে দেওয়া উচিত।”

    সিনিয়রদের সমালোচনা

    ভারতের বিরুদ্ধে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। কলোম্বোয় ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব দিকেই ফেল করেছে সলমান আলি আঘা ব্রিগেড। এমন লজ্জাজনক হারের পরই রেগে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ফাস্টবোলার শোয়েব আখতারও। তিনি শুধু পাকিস্তান দল নিয়ে নয়, এর পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ডের কাজকর্ম নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের সিনিয়র প্লেয়ারদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন শোয়েব। তিনি বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো সিনিয়র প্লেয়ারকে আক্রমণ করেন।। তিনি মনে করেন, এই সব স্টারেরা কোনও বড় ম্যাচে পারফর্ম করেন না। এমনকী স্টার কালচার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই কারণেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল হারছে বলে মনে করছেন তিনি।

    অযোগ্য ব্যক্তি চেয়ারে আখতারের টার্গেট নকভি

    আখতার অভিযোগ করেন, কোনও অযোগ্য মানুষকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে শুধু টিমের নয়, গোটা দলের ক্ষতি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্লেয়ারদের যোগ্যতা দেখে নয়, অন্য অনেক বিষয় দেখে নির্বাচন করা হয়। আর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সোজাসুজি মহসিন নকভির দিকেই ইঙ্গিত করলেন। মাথায় রাখতে হবে নকভি হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর কথায় এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চায়নি ভারত। আখতার বলেন, ‘‘গত ১৫-২০ বছরে কোনও বিনিয়োগই হয়নি। এক সময় মাঠে আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতাম, আর আজ তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখতে পারি না।’’ শোয়েব আখতারের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে বর্তমান শোচনীয় অবস্থা কয়েক বছর ধরে চলা খারাপ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘একজন মানুষ যিনি কিছুই জানেন না, তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। দল কী ভাবে চলবে?’’ শোয়েব আরও বলেন, ‘‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় সমস্যা হলো বোর্ডের দায়িত্ব অযোগ্য মানুষের হাতে থাকা।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো দল ও প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

  • India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এটাই যেন ট্যাডিশন হয়ে গিয়েছে। বাইশ গজ হোক বা যুদ্ধক্ষেত্র, সব জায়গাতেই ফলাফল এক। রবিবার কলম্বোয় ভারতের দাপুটে জয়ের পরই সমাজ মাধ্যমে পাকিস্তানকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখলেন, ‘‘খেলার ফর্ম্যাট, জায়গা বা তারিখ বদলায়, কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের ফলাফল সবসময় একই থেকে যায়। পুরো দলকে অভিনন্দন।’’

    শাহী কটাক্ষ

    ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে প্রত্যেকবারই বলতে হয় এই ক্লিশে কথা। মাঠে গড়ানোর আগেই ম্যাচের যা ফল অনুমান করা হয়, দিন শেষে সেটাই দেখা যায়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেন তা-ই বোঝাতে চাইলেন। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে প্রতিবেশীদের খোঁচা দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতকে সবশেষ পাকিস্তান হারিয়েছে দুবাইয়ে ২০২২ এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে। গত সাড়ে তিন বছরে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার। যার মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে ভারত। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে এক ম্যাচ। কলম্বোর প্রেমাদাসায় গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানে জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট পাকিস্তানকে কটাক্ষ অমিত শাহের। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘ভারত দারুণ খেলেছে। সংস্করণ, ভেন্যু, তারিখ বদলাতে পারে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল একই।’’ আসলে শাহ যে সবদিক থেকেই পাকিস্তানকে খোঁচা দিলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    মাঠ ছাড়লেন নকভি

    রবিবার খেলা শুরুর আগে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দিয়েছিলেন উৎসাহ। কিন্তু মাঠে সে সব বোঝা গেল না। ভারতের কাছে ৬১ রানে হারল পাকিস্তান। দলের লজ্জার হার মাঠে বসে দেখতে পারেননি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পাকিস্তানের ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেই স্টেডিয়ামের ভিতর নকভিকে দেখা যায়নি। কিছু ক্ষণ পরে দেখা যায়, স্টেডিয়াম থেকে তাঁর গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নকভির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। এই দৃশ্য থেকে পরিষ্কার, নকভি খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির কর্তারা গিয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মিনহাস, সচিব দেবজিৎ শইকীয়া যেমন ছিলেন, তেমনই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহও উপস্থিত ছিলেন। এ দিন জয়ের সঙ্গে নকভির একটি বৈঠক হওয়ারও কথা ছিল। বাকি সকল কর্তা খেলার শেষ পর্যন্ত থাকলেও নকভি আগেই বেরিয়ে যান।

    গুগল ইন্ডিয়ার ‘গুগলি’

    বাংলাদেশকে সমর্থন করে প্রথমে ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি। এর পর মাঠে নামার আগে তর্জন-গর্জন। কিছুই বাকি রাখেনি পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার কলম্বোতে ভারতীয় (India) ব্রিগেডের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছেন সলমন আলি আঘা’রা। ম্যাচ হারার পরেই পাকিস্তান দলকে নিয়ে ট্রোল শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। সেই তালিকায় নাম লেখাল গুগল (Google)-ও। ছয় শব্দের পোস্টে পাকিস্তানকে কটাক্ষ করল গুগল ইন্ডিয়া (Google India)। রবিবার, ঈশান কিষাণের ৭৭ রানের উপর ভর করে স্কোর বোর্ডে ১৭৫ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে মাত্র ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ৬১ রানে বড় জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয় গুগল ইন্ডিয়ার তরফে। লেখা হয়, “এই ম্যাচটি আসলে একটি ইমেল হতে পারত।” রবিবার সূর্যকুমারদের কাছে যেভাবে আত্মসমর্পন করেছেন শাহিন আফ্রিদিরা, সেই কথাই তুলে ধরল গুগল (Google)। অর্থাৎ গুগল ইন্ডিয়া একপ্রকার বোঝাতে চেয়েছে, ম্যাচের ফলাফল যেখানে অনুমেয় ছিল, সেখানে একটা ইমেল করে দিলেই হতো, এত সময় ধরে ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল না। আর এ নিয়ে জোর চর্চা চলছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

  • India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ফের একবার প্রমাণ করল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এখন আর লড়াই হয় না। ম্যাচ হয় এক তরফাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে ম্যাচটা নিয়ে সবচেয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ম্যাচে একেবারে এক তরফা খেলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত। কলম্বোর ম্যাচে ৬১ রানে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সুপার এইটে উঠে গেল মেন ই ব্লু। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে সব ম্যাচেই জয় পেল ভারত। এই জয়কে দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন ভারত অধিনায়ক। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সূর্য স্মরণ করলেন মহাদেবকে।

    ‘হর হর মহাদেব’ পোস্ট

    কলম্বোতে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানের বিশাল জয়ের পর, ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার নিজস্ব ভঙ্গিতে জয় উদযাপন করেছেন। ম্যাচ জয়ের পর এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ গিয়ে, অধিনায়ক ম্যাচের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন এবং তিন শব্দের সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন দিয়েছেন, “হর হর মহাদেব।” পোস্টটির সময় বিশেষভাবে অনুরণিত হয়েছে, কারণ এটি হিন্দু উৎসব মহা শিবরাত্রির সঙ্গে মিলে যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ভক্তদের মধ্যে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে টানা চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সূর্য। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যেও এই উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে, তারকা স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ইনস্টাগ্রামে নিজের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেয়ার করেন। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চক্রবর্তী মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি ভারতের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তার পোস্টটি অধিনায়কের অনুভূতির প্রতিধ্বনি।

    এই জয় ভারতের জন্য

    ম্যাচ বয়কট নিয়ে আইসিসি-র সঙ্গে লম্বা টানাপোড়েনের পর ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। আশা করা হয়েছিল, বাইশ গজে ভারতকে অন্তত খানকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে পাক দল। কিন্তু বাস্তবে হল তার উল্টো। উসমানের স্পিন হোক বা শাহিনের পেস- ভারতীয় ব্যাটারদের আঘাতে সবই ভোঁতা হল শেষমেশ। আর ম্যাচ (India Vs Pakistan) কীভাবে জিততে হয়, তা বুমরা, হার্দিক, বরুণদের থেকে ভালো আর কেই বা জানে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান ৭-১ থেকে ৮-১ করে অধিনায়ক সূর্যকুমার (Suryakumar Yadav) বললেন, “এই জয় ভারতের জন্য।” পাকিস্তানকে আরও একবার হারিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই খেলেছি। এই পিচে প্রথমে ব্যাটিং করাই সুবিধার ছিল। ক্রিজে দাঁড়িয়ে ঈশান যেভাবে স্কোরবোর্ডের দায়িত্ব নিয়েছে, সেটা অসাধারণ। ঈশান ব্যতিক্রমী ইনিংস খেলে গেল। ওর মাথায় হয়তো অন্য কোনও ভাবনা ছিল।” তবে শুধু ব্যাটার নয়, বোলারদের দলগত পারফরম্যান্সেও খুশি সূর্য। এদিকে পাকবধের এই সন্ধ্যার ‘নায়ক’ যে ঈশান কিষান (Ishan Kishan), তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাঁর ৪০ বলে ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংস থেকেই ভারতীয় দলের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই হেইভোল্টেজ এই ম্যাচে মেগা-পারফরম্যান্স করে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে ভারতীয় দলের এই বাঁ হাতি ওপেনারের। ম্যাচ শেষে একথা তিনি নিজেও জানিয়েছেন। ঈশান বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”

    করমর্দন হল না

    কলম্বোয় করমর্দন করলেন না ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলালেন না সূর্য। রবিবার টসের সময় বিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন তিনি। গত বছর এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচে যে জিনিস দেখা গিয়েছিল, সেটাই দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষিতে এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান। তিন বারের সাক্ষাতে এক বারও দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। একই জিনিস দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। বোঝাই গিয়েছে, ভারতের অবস্থানে কোনও বদল হয়নি।

    পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি

    ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সুনীল গাওস্কর পরিষ্কার বলে দেন, ‘‘এই ম্যাচে পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি। প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার উইকেট পাওয়া ছাড়া আর কখনওই ওরা ম্যাচে ছিল না।’’ যোগ করেন, ‘‘পরের দিকে একটা-দু’টো বল ওরা ভাল করেছিল, উইকেট পেয়েছিল। কিন্তু কখনও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি।’’ টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ভারত ২০ ওভারে তোলে ১৭৫-৭। অভিষেক শর্মা খাতা খোলার আগে ফিরলেও অন‌্য ওপেনার ঈশান কিষান দশটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায‌্যে করেন ৪০ বলে ৭৭ রান। শেষ দিকে সূর্যকুমার যাদব (৩২) ও শিবম দুবে (২৭) ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। জবাবে প্রথম থেকেই নিয়মিত ব‌্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ৭৮-৬ স্কোর হয়ে যাওয়ার পরে ম‌্যাচের ভাগ‌্য কার্যত নির্ধারণ হয়ে যায়। দু’টি করে উইকেট পান হার্দিক, বুমরা, অক্ষর ও বরুণ।

    জয়ের রেকর্ড ভারতের

    রবিবার কলম্বোতে টি২০ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স করে দুরন্ত জয়ে পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতল ভারত। এই জয়ে ভারত গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের মোট জয় দাঁড়াল আটটি, যা এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাধিক জয়ের বিশ্বরেকর্ড। আগে কোনও দলই এই প্রতিযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি ম্যাচ জিততে পারেনি। সামগ্রিক টি২০ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে ভারত ১৭ ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

  • T20 World Cup 2026: আলোচনা শুরু, পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট নিয়ে জলঘোলা পাকিস্তানের

    T20 World Cup 2026: আলোচনা শুরু, পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট নিয়ে জলঘোলা পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে না নামার হুমকি দিলেও এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। খোলা রেখেছে সিদ্ধান্ত বদলের পথ। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ঘিরে পাকিস্তানের নাটকীয়তা থেমে নেই। সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আবারও তার সরকারের কাছ থেকে পরামর্শ চাইছে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

    শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কেন চিন্তিত

    ভারত বনাম পাকিস্তান (India vs Pakistan) দ্বৈরথ। ক্রিকেটীয় উন্মাদনা তো থাকেই, এই লড়াই ঘিরে কোষাগারও ভরে ওঠে আইসিসি-র। সে টিকিটের চাহিদা হোক বা সম্প্রচারকারী চ্যানেল মারফত মুনাফা। অথচ টি-২০ বিশ্বকাপে নাকি ভারতের বিরুদ্ধেই ম্য়াচ বয়কট করতে চলেছে পাকিস্তান? পাকিস্তান সরকার পিসিবিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে বাধা দিয়েছে, এই ম্যাচটি আইসিসি এবং এর সম্প্রচারকদের জন্য সর্বোচ্চ আয়ের ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ১৫ ফেব্রুয়ারির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি না হলে টিকিট বিক্রিতে (গেটের টাকা) বিরাট ক্ষতি হবে, আতিথেয়তা এবং স্পনসরশিপের রাজস্ব হ্রাস পাবে,
    শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনই মেল করে পিসিবি-কে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।

    নকভির সঙ্গে কথা শ্রীলঙ্কার

    সূত্রের খবর, “পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে সরকার এবং ক্রিকেট উভয় স্তরেই সবসময়ই ভালো এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা যায় না।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সাথে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভা সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। সিলভা নকভিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে শ্রীলঙ্কার এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সমর্থন প্রয়োজন, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি না হলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট অতিরিক্ত রাজস্ব হারাবে। সূত্রটি জানায়, মহসিন নকভি শাম্মি সিলভাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের কাছে উত্থাপন করবেন এবং তারপর প্রতিক্রিয়া জানাবেন। সোমবারের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    টিকিট বিক্রি আপাতত বন্ধ

    শত উস্কানিতেও টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরাতে পারেনি পাকিস্তান। আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটিতে জঘন্য হার হজম করতে হয়েছিল। অনেকে ভেবেছিলেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে না সরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। তা করেনি পিসিবি। বরং সাত পাঁচ না ভেবে ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এখনও আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পাকিস্তান। তবে এই পরিস্থিতিতে ওই ম্যাচের টিকিট বিক্রি আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে আইসিসি।

  • T-20 World Cup 2026: আহত হর্ষিতের জায়গায় দেড় বছর জাতীয় টি২০ দলে ব্রাত্য সিরাজ! বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যে নামছে ভারত

    T-20 World Cup 2026: আহত হর্ষিতের জায়গায় দেড় বছর জাতীয় টি২০ দলে ব্রাত্য সিরাজ! বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যে নামছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগেই বড় বিপত্তি ভারতীয় শিবিরে। হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন তরুণ জোরে বোলার হর্ষিত রানা (Harshit Rana Injury)। শুক্রবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হর্ষিতের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজকে (Mohammed Siraj)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে জসপ্রীত বুমরাকে ঘিরে।

    বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনা

    জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হওয়ায় শনিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা উদ্বোধনী ম্যাচে বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের হাতে কার্যত থাকছে মাত্র ১৩ জন সম্পূর্ণ ফিট ক্রিকেটার। চোটের কারণে অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর এখনও দলে যোগ দিতে পারেননি। ফলে এদিন প্রথম একাদশে মহম্মদ সিরাজের খেলার সম্ভাবনাই প্রবল। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সিরাজ। ব্যাটিং বিভাগেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইনিংস ওপেন করবেন ঈশান কিষাণ ও অভিষেক শর্মা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ওপেনার হিসেবে ৫৩ রান করেছিলেন ঈশান।

    দেড় বছর পর দসে সিরাজ

    গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে বল করার সময় ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পান হর্ষিত। হর্ষিতের চোটের পর বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম ভাবা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখল অজিত আগরকরের নির্বাচক কমিটি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পরিষ্কার করে দেন, “আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যে বোলিংয়ে ধার বাড়াতে পারে। রান করার জন্য আটজন ব্যাটারই যথেষ্ট।” মজার বিষয় হলো, কোচ গৌতম গম্ভীরের পরিকল্পনায় সাদা বলের ক্রিকেটে সিরাজ অনেকটা ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ের পর তিনি আর কোনও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেননি। প্রায় দেড় বছর পর সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে হায়দরাবাদের এই ‘মিঁয়াভাই’-এর। ১৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬টি উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে সিরাজের ঝুলিতে।

    দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে

    শনিবার ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্রের দলে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা থেকে উঠে আসা একঝাঁক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মার্কিন দলে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে রয়েছেন অধিনায়ক মৌনক প্যাটেল, স্পিনার হারমিত সিং, ব্যাটার শুভম রঞ্জনে, যশদীপ সিং, সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি, মিলিন্দ কুমার, সাইতেজা মুক্কামাল্লা এবং অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার সৌরভ নেত্রাভালকর। হারমিত, শুভম ও নেত্রাভালকর এই তিনজনই উঠে এসেছেন মুম্বই থেকে। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় দলের কাছে এবার বড় চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা এবং তৃতীয়বার ট্রফি জেতা। ন’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি, কিংবা আয়োজক হিসেবে ট্রফি জিততে পারেনি। তবে এই ভারতীয় দল বর্তমানে অন্যরকম ফর্মে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের জুনে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারত ৪১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ৩৩টি জিতেছে।

  • T-20 World Cup 2026: ‘‘আমরা তো কখনও খেলব না বলিনি” কলম্বো যাচ্ছে ভারতীয় দল, পাকিস্তানকে খোঁচা সূর্যর

    T-20 World Cup 2026: ‘‘আমরা তো কখনও খেলব না বলিনি” কলম্বো যাচ্ছে ভারতীয় দল, পাকিস্তানকে খোঁচা সূর্যর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T-20 World Cup 2026) ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট প্রসঙ্গে প্রথমবার মুখ খুললেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে ‘ক্যাপ্টেনস ডে’ অনুষ্ঠানে ভারত অধিনায়ক বললেন, ‘‘আমরা তো কখনও খেলব না বলিনি। ওরা খেলতে চাইছে না। কলম্বোর জন্য আমাদের বিমানের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে।” আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তেই অনড় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত কী হবে তা সময় বলবে, তবে আপাতত মুম্বইয়ে ম্যাচ খেলে দিল্লি ও পরে কলম্বো উড়ে যাবে ভারতীয় দল।

    পাকিস্তানকে টিপ্পনি ভারত অধিনায়কের

    বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। তাতে ভারতের কী! অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব যেন ঘুরিয়ে সেটাই বলে দিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারির মহারণে পাকিস্তান নামবে না ঠিকই। তবে টিম ইন্ডিয়া তৈরি। এই ইস্যু নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলে সূর্য জানিয়ে দিলেন, “আমরা তো কখনও খেলব না বলিনি।” তাঁর সাফ কথা, “ওরা খেলতে চাইছে না। আমরা তো খেলব না বলিনি। কলম্বোর জন্য আমাদের বিমানের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে।” বিশ্বকাপের আগে মুম্বইয়ে ‘ক্যাপ্টেনস ডে’তে সূর্য পরবর্তী পরিকল্পনাও বলে দিলেন, “প্রথমে আমরা এখানে খেলব। তারপর দিল্লি যাব। সেখান থেকে কলম্বো যাব।” আর তার সঙ্গে পাকিস্তানকে খোঁচা দেওয়ার সুযোগও ছাড়লেন না সূর্য। ভারত অধিনায়কের টিপ্পনি, “ওদের সিদ্ধান্ত তো আর আমার হাতে নেই।” বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি, আমেরিকার বিরুদ্ধে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে নামবেন সূর্যকুমাররা। তারপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাক মহারণ হওয়ার কথা। তবে পাক দল এই ম্যাচ বয়কট করেছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের। বাবর আজমরা না নামতে চাইলেও, সূর্যরা নামবেন। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ভারতের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ।

    আইসিসি নিয়ম মেনে কলম্বো যেতে হবে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বয়কট করলেও সূর্যকুমার যাদবদের কলম্বো যেতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) নিয়ম মেনে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্দিষ্ট সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকতে হবে ভারতীয় দলকে। পাকিস্তান ম্যাচ না খেললে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ২ পয়েন্ট পাবে ভারত। সেই ২ পয়েন্টের জন্যই নির্দিষ্ট সময় দল নিয়ে মাঠে নামতে হবে সূর্যকুমারকে। শুধু তাই নয়, ম্যাচের আগের দিন নিয়ম মেনে সাংবাদিক বৈঠকও করতে হবে ভারতীয় দলকে। মাঠে গিয়ে ম্যাচ রেফারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় দলকে অপেক্ষা করতে হবে। আইসিসির নিয়মের ১৬.২.১ ধারা অনুযায়ী, মাঠে উপস্থিত থাকলে তবেই সংশ্লিষ্ট দল এমন ক্ষেত্রে ২ পয়েন্ট পাবে। অন্য দল ম্যাচ না খেলার কথা আগে জানিয়ে দিলেও মাঠে যেতে হবে। ভারত যদি মাঠে না যায়, তা হলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হিসাবে ঘোষণা করা হবে। তেমন হলে দু’দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। শাস্তি পেতে হতে পারে ভারতীয় দলকেও।

  • India vs South Africa: হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, বিশাল জয় ভারতের, রাবারাটিতে লজ্জার নজির প্রোটিয়াদের

    India vs South Africa: হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, বিশাল জয় ভারতের, রাবারাটিতে লজ্জার নজির প্রোটিয়াদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইশ গজে মধুর প্রত্যাবর্তন। ২৮ বলে ৫৯ রান, ৬টি চার ও ৪টি ছয়, ফের ঝড় তুললেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে ভারতীয় দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করেছিল। জবাবে ৭৪ রানে শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। এই ফরম্য়াাটে এটাই প্রোটিয়াদের ন্যূনতম স্কোর। ১৮ বলে শেষ ৫ উইকেট হারাল প্রোটিয়ারা। ১০১ রানে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সূর্যকুমারেরা।

    হার্দিকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, হতাশ শুভমন

    শুভমন গিল এবং হার্দিক পান্ডিয়া। চোট সারিয়ে কটকে প্রত্যাবর্তন দুই ক্রিকেটারের। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের উৎসাহ ছিল শুভমনকে নিয়ে। টেস্ট এবং এক দিনের দলের অধিনায়ক শুভমন। হতাশ করলেন শুভমন টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক। তবে নেতৃত্বের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়া হার্দিক ঝড় তুললেন ব্যাট হাতে। তাঁর ২৮ বলে ৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদেই এডেন মার্করামের দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছোন সূর্যকুমার যাদবেরা। শুভমন কটকের ২২ গজে টিকলেন ২ বল। করলেন ৪ রান। চিন্তায় রাখল অধিনায়ক সূর্যের ফর্মও। তবে ভারতীয় বোলাররা সফল ১০০ শতাংশই।

    ভারতীয় বোলাররা ১০০ শতাংশ সফল

    বল হাতে রাতের বারবাটি শাসন করলেন ভারতীয় বোলারেরা। ১৭৬ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হন কুইন্টন ডি কক (০)। অর্শদীপের এই ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অর্শদীপ আউট করেন ট্রিস্টান স্টাবসকে (১৪)। অক্ষর নিজের প্রথম ওভার করতে এসে তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক এডেন মার্করামের (১৪) উইকেট। ৪০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যান সফরকারীরা। সেই চাপের মুখে পর পর ফিরে যান মিলার এবং ফেরেইরা (৫)। দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের ফলাফল এক রকম ঠিক হয়ে যায়। ভারতীয় বোলারদের দাপটে কেউই আর লড়াই করতে পারলেন না। ধস নামল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে। পর পর আউট হলেন জানসেন (১২), ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২২), কেশব মহারাজ (০), অনরিখ নোখিয়া (১), লুথো সিমপালারা (২)। ১২.৩ ওভারেই শেষ হয়ে গেল তাঁদের ইনিংস। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সফলতম অক্ষর ৭ রানে ২ উইকেট নিলেন। ১৪ রানে ২ উইকেট অর্শদীপের। এ দিন ১৭ রানে ২ উইকেট নিলেন বুমরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেট পূর্ণ করলেন তিনি। ১৯ রানে ২ উইকেট বরুণ চক্রবর্তীর। ১৬ রানে ১ উইকেট নিলেন হার্দিক। ১ রানে ১ উইকেট শিবমের। ভারতের ছ’জন বোলারই উইকেট পেলেন। তিনবছর আগে ভারতেরই বিরুদ্ধে রাজকোটে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ৷ যা এতদিন ছিল সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাঁদের সর্বনিম্ন স্কোর ৷ মঙ্গলবার তা ভেঙে গেল ৷

    নিজের নয়, ভারতের প্রয়োজনই প্রাধান্য

    চোট সারিয়ে এশিয়া কাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ম্যাচের সেরার পুরস্কার জিতে নেন হার্দিক। জানান গত ছ’সাত মাস ধরে ফিটনেসের উপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন। যাতে দেশের জার্সি পরে নিজের সেরাটা দিতে পারেন। নিজের পারফরম্যান্সে খুশি হার্দিক। হার্দিক বলেছেন, ‘‘গত ছ’-সাত মাস আমার ফিটনেস ভাল জায়গাতেই ছিল। শেষ ৫০ দিন পরিবার ছেড়ে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে থেকে খুব উপকৃত হয়েছি। বেশ কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছি। শট মারার সময় একটু সতর্ক ছিলাম। নিশ্চিত করতে চেয়েছি শটগুলো যাতে ঠিকঠাক হয়। শেষ দিকে কয়েকটা সাহসী শটও খেলতে হয়েছে। টাইমিং ঠিক রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছি। আমার এদিনের ব্যাটিংয়ে আমি সন্তুষ্ট।’’ নিজের বোলিং নিয়েও খুশি হার্দিক। তিনি বলেছেন, ‘‘মাঠে আমার ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম না। নিজের দায়িত্ব জানি। আমি কী চাই সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দলের প্রয়োজন। ভারতের প্রয়োজন। এই মানসিকতা নিয়েই খেলতে নামি। এটা আমাকে ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করে।’’ জয়ের নেপথ্যে হার্দিকের অবদান মেনে নিয়েছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও।

LinkedIn
Share