মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার মানিকচকের ভুতনি ও সংলগ্ন এলাকার ভয়ংকর বন্যা (Malda flood)এবং নদী ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আশ্বাস দিলেন আর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। ভাঙন ও বন্যা রোধে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প কেন্দ্রকে পাঠানো হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার কপ্টারে ভুতনি এবং রতুয়ার গঙ্গার ভাঙ্গন ও বন্যা পরিস্থিতির খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরে মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে চেক তুলে দেন। প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা
ভুতনির এই ধংসলীলা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। বিগত দিনে বাম ও তৃণমূল সরকার ভুতনিকে বাঁচাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তবে এবার দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটাতে স্থায়ী সমাধানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বন্যা ও ভাঙনে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এই আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুর্গতদের নতুন পোশাক, মশারি, ত্রিপল ও ৫ দিনের রেশন সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রায় ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন মানিকচক ব্লকের ভুতনি, ইংরেজবাজার ব্লকের মিল্কি, খাসকোল এবং রতুয়া ১ ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা এলাকার প্রায় ২৪,৫৯৫টি বানভাসি পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হয়। এদিনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, পুলিশ সুপার অনুপম সিং সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা।
ভুতনি বন্যা ও ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ
এ দিন শুভেন্দু বলেন, ‘ভুতনির প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ উড়ে গিয়েছে। যার ফলে লক্ষাধিক মানুষকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ইতিমধ্যে কানপুরের আইআইটি বিশেষজ্ঞরা ভুতনির বন্যা ও ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য তদারকি করে গিয়েছেন। আশা করছি এই সমস্যা আগামী দিনে আর হবে না।’ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্র ৫০০ কোটি টাকার অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে ১২৪৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নতুন করে এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
