Tag: tamluk

tamluk

  • Durga Puja 2024: মায়ের চোখের জল মোছাতেই চিন্ময়ীর আরাধনা শুরু করেছিলেন সার্থকরাম!

    Durga Puja 2024: মায়ের চোখের জল মোছাতেই চিন্ময়ীর আরাধনা শুরু করেছিলেন সার্থকরাম!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমচুরের টক ও বড়ি দিয়ে ভোগ দেওয়া হয় চিন্ময়ী মাকে। এমন অনেক ঐতিহ্য বহন করে আজও জমজমাট নন্দকুমারের ব্যবত্তাবাটির বনেদি বাড়ির পুজো, যার ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। স্বার্থকরাম ছিলেন তাম্রলিপ্ত, অধুনা তমলুকের তাম্রধ্বজ রাজার ব্যবস্থাপক। জানা যায়, স্বার্থকরামের মা বাড়ির অদূরে একটি পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে চরম অপমানিত করা হয়। মা বাড়িতে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মায়ের সেই কান্নাকাটি দেখে স্থির থাকতে পারেননি স্বার্থকরাম। মায়ের চোখের জল দেখে বাড়িতেই শুরু করে দেন চিন্ময়ী মায়ের পুজো। সেই থেকে আজও নন্দকুমারের ব্যবত্তাহাটের ব্যবত্তাবাটিতে হয়ে আসছে মা দুর্গার পুজো।

    নিজেরাই পুজো করেন মায়ের

    জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে এক কিলোমিটার দূরে পুরনো ব্যবত্তাহাটে পতিতাপল্লির মাটি নিয়ে এসে মায়ের প্রতিমা গড়া হয়। এদিন গ্রামের ও পরিবারের সদস্য সদস্যারা কাদা মাখার খেলা খেলেন। এই পুজো শুধু বাড়ির পুজো নয়, এলাকার মানুষের প্রাণের পুজো, আদি ও প্রাচীন পুজো। নিয়মনিষ্ঠা মেনে আজও এই  ব্যবত্তাবাটির পুজো হয়ে আসছে। সার্থকরাম রাজা পরিবারের ব্যবস্থাপক ছিলেন বলেই সেই থেকে এই এলাকার নাম হয় ব্যবত্তারহাট। সপ্তমীর দিন মায়ের গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান, যা বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে। ব্রাহ্মণ পরিবারের এই পুজোতে নিজেরাই পুজো করেন মায়ের। গোস্বামী মতে পুজো হয়। বিল্লধিবাস অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিন এক মন ছ-সের চালের নৈবেদ্য অর্থাৎ ভোগ হয়, সপ্তমীর দিন ১ মন ৭সের, অষ্টমীর দিন এক মন আট-সের-এরকম করে প্রত্যেকদিন ভোগ দেওয়া হয় মাকে।

    ভোগে থাকে রকমারি বড়ি

    মায়ের ভোগ রান্নার আয়োজন করেন পরিবারের মহিলারা। মায়ের ভোগে থাকে রকমারি বড়ি। সেই বড়ি সারা বছর ধরে মহিলারা প্রস্তুত করেন। বর্তমান সময়ে থিমের রমরমা থাকলেও প্রাচীন সাবেকি পুজোয় মানুষের ঢল নামে। এখনে নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে পুজো হয় বলেই দূর দূরান্তের মানুষ পুজোয় ভিড় জমান।পরিবারের সদস্যরা সকলে ভিন রাজ্য, ভিন দেশে কর্মসূত্রে থাকলেও পুজোর সময় সকলে বাড়ি ফিরে উৎসবে মেতে উঠেন। তবে এই বাড়ির মায়ের ভোগে থাকে বিভিন্ন ধরনের বড়ির সঙ্গে আমচুরের টক। যা মায়ের প্রসাদ হিসেবে পেতে প্রতিদিন ভিড় জমান বহু মানুষ। নবীন ও প্রবীণদের মিলিত প্রয়াসে আজও ব্যবত্তাবাটির পুজো জমজমাট। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Tamluk: ৯৩ ডাক্তারকে শোকজ! আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামার শাস্তি?

    Tamluk: ৯৩ ডাক্তারকে শোকজ! আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামার শাস্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর-কাণ্ডে (RG Kar Incident) প্রতিবাদ আন্দোলন চলাকালীনই ৯৩ জন ডাক্তারকে শোকজ করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর। ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট ভাঙার অভিযোগ তুলে শোকজ করা হয়েছে বলে খবর। চিকিৎসকদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামার কারণেই চিঠি দেওয়া হয়েছে এই ডাক্তারদের। যদিও জেলা (Tamluk) স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষে জানানো হয়েছে আরজি করের ঘটনার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।

    একসঙ্গে শোকজ কেন

    তমলুকে (Tamluk) একসঙ্গে ৯৩ জন ডাক্তারকে শোকজ করা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তালিকায় রয়েছেন বহু নামী চিকিৎসকরা। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একাধিক নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত ৯৩জন ডাক্তার। ডাক্তারদের পাশাপাশি প্রায় ৭০টি নার্সিংহোমেও নোটিস পাঠানো হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে।  উল্লেখ্য তমলুক শহরে মোট আশিটির কাছাকাছি নার্সিংহোম রয়েছে। এই সমস্ত নার্সিংহোমগুলি থেকে স্বাস্থ্য সাথীর বিল খতিয়ে দেখতে গিয়ে  চিকিৎসকদের এই অনিয়মের পর্দা ফাঁস হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে। সেখানে দেখা গিয়েছে একটি নার্সিংহোম থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অপর একটি নার্সিংহোমে একই ডাক্তার একই সময়ে দুটি রোগীর অপারেশন করছেন এবং সেই বিল স্বাস্থ্য সাথীর আওতায় আনা হচ্ছে। এরপরই শোকজ করা হয় ডাক্তারদের। তবে, তমলুকের চিকিৎসকদের সংগঠন আইএমএ-র পক্ষে জোরালো অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে আরজি করের (RG Kar Incident) ঘটনায় চিকিৎসকরা রাস্তায় নামার কারণেই এধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, আগে কেন দেখা হয়নি? অনিয়ম থাকলে অবশ্যই জবাব দিতে হবে চিকিৎসকদের, কিন্তু সেটা আরজিকরের ঘটনার মধ্যে কেন?

    আরও পড়ুনঃ ঘটনার দিন কাকে কাকে ফোন? সন্দীপের বয়ানের সঙ্গে কল রেকর্ড মেলাচ্ছে সিবিআই

    চিকিৎসকদের দাবি

    আইএমএ তমলুক (Tamluk) শাখার সম্পাদক চিকিৎসক কল্যাণময় বসু বলেন, “আমরা আইএমএ থেকে খবর পেয়েছি। একসঙ্গে ৯৩ জনকে নোটিস আন্দোলনের সময় এটা দেখতে হবে। এই আন্দোলনে তো সবস্তরের মানুষ যোগ দিয়েছেন। সিএমওএইচ কেন নোটিস দিলেন, যাচাই করে দেখব।” বিজেপির তমলুক নগর মণ্ডল সভাপতি সুকান্ত চৌধুরী বলেন, “এতদিন কি সিএমওএইচ ঘুমোচ্ছিলেন? যেই আরজি করের (RG Kar Incident) জাস্টিস চেয়ে পথে নেমেছেন, তাই এই নোটিস দিয়েছেন। এমনিই তো নার্সিংহোমগুলো কোনও আইন মানে না।” যদিও তমলুক শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেস সম্পাদক আইনজীবী দেবদূত মিদ্যার বক্তব্য, আইন বলে দিয়েছে ডাক্তারদের কী ভূমিকা। তাই সেটা ওনারা ভালই জানেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Abhijit Gangopadhyay: “মমতা না পারলে আমি দেখে নেব”, অবৈধ নির্মাণ ভাঙা নিয়ে তোপ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

    Abhijit Gangopadhyay: “মমতা না পারলে আমি দেখে নেব”, অবৈধ নির্মাণ ভাঙা নিয়ে তোপ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তমলুকের রাধামণি মিনি মার্কেটের স্টল বিলি নিয়ে অস্বচ্ছতা হয়েছে বলে এলাকার মানুষ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় স্টল পরিদর্শনে যান বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গিয়ে বলব, সরকারি জায়গার উপর ঘর-বাড়ি ভাঙার কথা। আর মমতা না পারলে আমি দেখে নেব।”

    কী বললেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)?

    রাধামণি মিনি মার্কেট পরিদর্শন করে প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন, “বেশ কিছু দুর্নীতি হয়েছে। যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাঁরা সবাধান হয়ে যান। না হলে সব স্টল ভাঙা পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী তো ঘোষণা করেছিলেন যে সরকারি জায়গায় কোনও অবৈধ নির্মাণ হলে তা ভাঙা হবে। আমি নিজে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) বলব, আপনি যা ঘোষণা করেছেন তা করুন। যদি না করেন তার পরের ব্যবস্থা আমি দেখবো।” এদিন এলাকার বঞ্চিত মানুষদের পাশে থেকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই বিজেপির সাংসদ।

    আরও পড়ুনঃ ‘গদ্দারদের জন্য হেরেছি, এটা দলের পরাজয়, আমার নয়”, বিস্ফোরক বিপ্লব মিত্র

    এক একজন ছয় থেকে দশটি স্টলের মালিক!

    একই ভাবে এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক একটি স্টল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এক একজন ছয় থেকে দশটি স্টলের মালিক বলেই অভিযোগ। অথচ যাঁরা ওই জায়গায় স্টল হওয়ার আগে ব্যবসা করতেন, তাঁদের আশ্বাস দিলেও কাউকেই স্টল দেওয়া হয়নি। মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চনা করে টাকার বিনিময়ে সব বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশ এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।”

    উল্লেখ্য অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay), রাজ্যে তৃণমূল শাসকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, পুর দুর্নীতি সহ একাধিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিলেন। তাঁর রায়ে রাজ্যের দুর্নীতির নানান বিস্ফোরক তথ্য সাধারণ মানুষের সমানে উঠে এসেছে। এই মুহূর্তে একাধিক দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী-বিধায়ক জেলে রয়েছেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Tamluk: চোর সন্দেহে শিশুসহ দুই মহিলাকে পিছমোড়া করে বেঁধে গণপিটুনি, তমলুকে শোরগোল

    Tamluk: চোর সন্দেহে শিশুসহ দুই মহিলাকে পিছমোড়া করে বেঁধে গণপিটুনি, তমলুকে শোরগোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কখনও ছেলেধরা সন্দেহে, কখনও শিশু চুরির ঘটনায় গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে রাজ্যে। এবার ঘটনাস্থল পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের (Tamluk) নিশ্চিন্তবসান গ্রাম। চোর সন্দেহে দুই মহিলা এবং এক শিশুকে পিছমোড়া করে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠল গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পরে, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (Tamluk)

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপালি বেরা নামে এক বাসিন্দার বাড়িতে দুই অপরিচিত মহিলা ঢুকে চুরি করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। দীপালি বলেন, “সোমবার দুপুরে দুই মহিলা একটি বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়ির সামনে আসে। এক জন শিশুটিকে নিয়ে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলেও অন্য মহিলা বাড়ির ভিতরে ঢুকে  পড়ে। সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। চোখের সামনে দেখে আমি চিৎকার করি। চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা আমার বাড়িতে ছুটে আসেন। সেই সময় অভিযুক্ত মহিলাকে ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এরপরই তাদের কাছে তল্লাশি চালিয়ে আমার গয়নার ব্যাগ উদ্ধার হয়।” জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর গ্রামবাসীদের কয়েকজন দুই মহিলাসহ তিনজনকে পিছমোড়া করে বেঁধে বেধড়ক মারধর চলে। ওই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় তমলুক থানার পুলিশ। তারা দুই মহিলা-সহ শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মহিলার চিৎকার শুনে আমরা ছুটে যাই। বাড়ি থেকে অপরিচিত মহিলা দুজনকে দেখে আমরা চেপে ধরি। তাদের কাছে থেকে চুরি যাওয়া সামগ্রী পাওয়া যায়। এরপরই উত্তেজিত হয়ে তাদের ওপর চড়াও (Lynching) হয় এলাকার লোকজন।

    আরও পড়ুন: রাজ্যের থেকে কেড়ে নেওয়া হোক পুলিশের দায়িত্ব, বাংলায় ৩৫৫ ধারা জারির দাবি শুভেন্দুর

    পুলিশ প্রশাসনের কী বক্তব্য?

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্তেরা দলবেঁধে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। তারা আর কোথাও এই ধরনের কাজ করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর ওই দলে আর কোনও সদস্য রয়েছেন কি না, সে সম্পর্কে পুলিশ খোঁজখবর চালাচ্ছে। আর কারা হামলা (Lynching) চালাল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Tamralipti: মহাভারতেও মেলে উল্লেখ, প্রাচীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর তাম্রলিপ্ত, জানুন ইতিহাস

    Tamralipti: মহাভারতেও মেলে উল্লেখ, প্রাচীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর তাম্রলিপ্ত, জানুন ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু সভ্যতার বন্দর হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল লোথাল, সোপারা প্রভৃতি। সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে এই বন্দরগুলির মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের বাণিজ্য চলত পশ্চিমের বিভিন্ন দেশগুলির সঙ্গে। একইভাবে প্রাচীন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল তাম্রলিপ্ত। তাম্রলিপ্ত (Tamralipti) বর্তমানে পরিচিত তমলুক শহর হিসেবে যা পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতে অবস্থিত। গবেষকদের মতে, তাম্রলিপ্ত নামটি এসেছে তামা থেকে। অনেকের ধারণা সে সময় বিহারের সিংভূম জেলার ঘাটশিলা থেকে তামা খনন করা হত এবং তাম্রলিপ্ত বন্দরের মাধ্যমেই তা রফতানি করা হত। মহাভারতেও তাম্রলিপ্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাম্রলিপ্ত ছিল রাজা তাম্রধ্বজ্যের রাজধানী। অশ্বমেধযজ্ঞের সময় পাণ্ডবদের অশ্ব এই তাম্রধ্বজ ধারণ করেন এবং অর্জুনের সঙ্গে তাঁর ভয়ানক যুদ্ধ হয়। রাজার বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কৃষ্ণ ও অর্জুন তাঁর সঙ্গে সখ্যসূত্রে আবদ্ধ হন বলে জানা যায়। 

    কোন কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চলত?

    তাম্রলিপ্ত বন্দর (Tamralipti) থেকে জাহাজগুলি পশ্চিমবঙ্গ, বর্তমান বাংলাদেশ ও মায়ানমারের উপকূল ধরে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে বাণিজ্যে যেত। পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের মাধ্যমে বিদেশের ব্যবসায়ী, নাবিক এবং ধর্মপ্রচারকরাও আসতেন বলে জানা যায়। এই বন্দর থেকেই নীল, সিল্ক এবং তামা বোঝাই জাহাজগুলি শ্রীলঙ্কা, আফ্রিকার উপকূল, আরব সাগরের অন্যান্য দেশেও পৌঁছে যেত।

    খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে অষ্টম খ্রিষ্টাব্দ শতাব্দী পর্যন্ত বিকাশ লাভ করেছিল

    ঐতিহাসিকদের মতে তাম্রলিপ্ত (Tamralipti) বন্দরটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে অষ্টম খ্রিষ্টাব্দ শতাব্দী পর্যন্ত বিকাশ লাভ করেছিল। ভারতের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল কলিঙ্গ যুদ্ধ। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, তাম্রলিপ্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের দখল নেওয়ার জন্যই অশোক কলিঙ্গ আক্রমণ করেছিলেন। সে সময়ে মৌর্য রাজাদের রাজধানী বিহারের পাটলিপুত্রের সঙ্গে তাম্রলিপ্ত সড়কপথে যুক্ত হয়ে উঠেছিল।

    দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারেও তাম্রলিপ্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল

    দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারেও তাম্রলিপ্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে মনে করেন ঐতিহাসিকরা। বৌদ্ধ সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হল জাতকের কাহিনী। এখানে তাম্রলিপ্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই বন্দরের মাধ্যমে তৎকালীন সুবর্ণভূমি অর্থাৎ বর্তমান দিনের মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে ঘনঘন সমুদ্রযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অশোক তাঁর ছেলে মহেন্দ্রকে তাম্রলিপ্ত বন্দরের (Tamralipti) মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার করতে পাঠিয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কার ইতিহাস নিয়ে রচিত গ্রন্থ মহাবংশ দ্বিতীয় খ্রিস্টপূর্বাব্দে লেখা হয়েছিল, এখানে উল্লেখ মেলে তাম্রলিপ্ত বন্দরের।

    অনেক নামেই পরিচিত ছিল তাম্রলিপ্ত

    পশ্চিমী দুনিয়ার বিভিন্ন দার্শনিকের গ্রন্থেও উল্লেখ রয়েছে তাম্রলিপ্ত বন্দরের উল্লেখ মেলে। যেমন রোমান দার্শনিক ও পরিব্রাজক প্লিনি দ্বিতীয় শতাব্দীতে তাঁর লেখা বই ‘ন্যাচারাল হিস্টরি’তে তাম্রলিপ্তকে একটি সমৃদ্ধ বন্দর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং প্রভৃতি বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজকরা তাম্রলিপ্ত বন্দর পরিদর্শন করেছিলেন বলে জানা যায়। পরিব্রাজকদের বিবরণ থেকে তাম্রলিপ্তের অনেক নাম মেলে। যেমন, তাম্রলিপ্ত, তাম্রলিপ্তি, তালুক্তি, তমালিকা, তমালিশি, দামলিপ্ত, তমলিটিস, তমোলিত্তি ইত্যাদি।

    পতনের কারণ

    সপ্তম শতাব্দী থেকে তাম্রলিপ্ত বন্দরের পতন শুরু হয়। তবে এর কারণ কী তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে জানা যায় না। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, তাম্রলিপ্ত বন্দরের পতনের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণ রয়েছে। অনেকে মনে করেন নদী বন্দরের পলি ও নদীর গতিপথের পরিবর্তনের কারণেই এই বন্দরের পতনের হয়। আধুনিক যুগে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত এই বন্দরের অস্তিত্বের ব্যাপারে সেভাবে কিছু জানা যায়নি। সে সময়ে বাঙালি লেখক এবং গবেষক গৌর দাস কিছু খনন কার্য চালিয়েছিলেন এবং ১৮৮৯ সালে ‘প্রসিডিংস অফ দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল’-এ তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। তারপর থেকেই সারা দেশে প্রাচীন ভারতের অন্যতম বন্দর হিসেবে তাম্রলিপ্তের (Tamralipti) নামও উঠে আসে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Tamluk: তমলুক কেন্দ্রে ভোটে হেরে দলেরই বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দেবাংশু ভট্টাচার্য

    Tamluk: তমলুক কেন্দ্রে ভোটে হেরে দলেরই বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দেবাংশু ভট্টাচার্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার ভোটে হেরে বেজায় চটেছেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। তমলুক (Tamluk) লোকসভার বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। কিন্তু শুক্রবার ভোটে হারার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই জেলায় অনেকে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন।” দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই মন্তব্যে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    ঠিক কী বললেন তৃণমূল নেতা (Tamluk)?

    তমলুকে (Tamluk) নিজের হারের কথা বলতে গিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেবাংশু বলেন, “আমার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। অনেকে আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। আমি দেখেছি, এই জেলায় অনেকে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন। সেই জন্য ভোটে প্রভাব পড়েছে। যাঁরা এই দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন, তাঁদের আমি চিহ্নিত করতে পেরেছি। তবে এই ভাবে চলতে পারে না। দুই দিকে থাকব আবার দলের হয়ে কাজ করব, এমনটা চলতে পারে না। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি।”

    আরও পড়ুনঃ পশ্চিম মেদিনীপুরের বিরোধীশূন্য পুরসভায়ও ধরাশায়ী তৃণমূল, এগিয়ে বিজেপি

    ৭৭ হাজার ভোটে পরাজিত দেবাংশু

    ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের টিকিটের জন্য বিস্তর জল্পনা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে দল দেবাংশুকে টিকিট দেয়নি। এইবারে লোকসভা নির্বাচনে তমলুক থেকে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেখানে নির্বাচনে লড়াই করেন। কিন্তু বিজেপির কাছে ৭৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনের সময় নানা জায়গায় প্রচার করতে গেলে চোর চোর শ্লোগান শুনতে হয়েছিল তাঁকে। এই বিষয়ে একটি ভিডিও সামজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়েছিল। কিন্তু আজ নিজে ভোটে হেরে বিস্ফোরক মন্তব্য করায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

    যদিও এই তমলুক (Tamluk) লোকসভা থেকে একটা সময় সিপিএম নেতা লক্ষণ শেঠকে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তাঁর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী ২০১৯ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। এবার লোকসভার নির্বাচনে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে পরাজয় হতে হয়েছে দেবাংশুকে। তবে এই নির্বাচনে, এই কেন্দ্র ছিল বিরাট হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Abhijit Ganguly: ভোট আবহে পুলিশের বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

    Abhijit Ganguly: ভোট আবহে পুলিশের বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ভোটের মধ্যেই প্রতিবাদ ধর্নায় বসলেন তমলুক বিজেপি প্রার্থী প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)। গতকাল শনিবার ছিল রাজ্যে ষষ্ঠ দফা নির্বাচন। এই পর্বে ছিল তমলুক, কাঁথি, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর, মেদিনীপুর কেন্দ্র। একাধিক কেন্দ্রে পুলিশ সরাসরি তৃণমূলের হয়ে ভোট করিয়েছে বলে অভিযোগ করে ধর্নায় বসলেন এই প্রাক্তন বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট ভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ তৃণমূলকে জয়ী করতে জুলুমবাজি করেছে।” সেই সঙ্গে একাধিক জায়গায় তাঁকে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের দ্বারা হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল। উল্লেখ্য এই বিচারপতির রায়ে শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় একাধিক তৃণমূল নেতা-বিধায়ক-মন্ত্রী জেলে গিয়েছেন। একই ভাবে রেশন দুর্নীতি, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একাধিক বিষয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে ছিলেন তিনি।

    কী বললেন অভিজিৎ (Abhijit Ganguly)?

    ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দার সেক্রেটারির বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। এরপর সেখানে প্রতিবাদ করে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly) ধর্নায় বসেন। তিনি ধর্নায় বসে বলেন, “ময়নার পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা গৌতম গুরু নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। তাঁকে অপহরণ করেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার রাত থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তাঁর স্ত্রীর কাছে অভিযোগ পেয়ে বাড়িতে যাই। এখন গৌতমের বাড়িতে বসেই ধর্না বিক্ষোভ করব।”

    আরও পড়ুনঃ মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আছড়ে পড়বে ‘রেমাল’! গোসাবা-হিঙ্গলগঞ্জ-দিঘায় প্রস্তুত বিপর্যয় বাহিনী

    মূল অভিযোগ কী?

    ময়নার এই অঞ্চলটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়েছে। পুলিশ, অশোক দিন্দার সেক্রেটারির বাড়িতে তল্লাশি করতে গেলে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly) অর্ডার দেখতে চান। পুলিশ সেরকম কোনও তথ্য দিতে পারেনি। ফলে তাঁর দাবি, এই ঘটনা পুলিশের অত্যাচার, ক্ষমতার অপব্যবাহার এবং জুলুমের সমতুল্য। এরপর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ধর্নায় বসেন এই বিজেপি প্রার্থী। ভোটের মধ্যে এই ধর্না রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ইতি মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Calcutta High Court: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

    Calcutta High Court: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তমলুক কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। 
    এর আগে তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। সেই ইস্যুতে পাল্টা কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিচারপতি। আপাতত মামলা চলে গেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। পরবর্তী বিচারপতি নির্ধারণ করবে সেই বেঞ্চ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিচারপতি, এমনটাই জানা গেছে।

    ঠিক কী ঘটেছিল? (Calcutta High Court) 

    উল্লেখ্য গত ৪ মে তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay) মনোনয়ন জমা দেন। তমলুকের রাজবাড়ি ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য পদযাত্রা বের হয়। নেতৃত্বে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে ওইদিন হাসপাতাল মোড়ে মিছিল পৌঁছতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। কারণ সেখানেই চাকরিহারাদের নিয়ে তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের অবস্থান বিক্ষোভ করছিল। অভিযোগ, অনশনরত শিক্ষক–শিক্ষিকাদের উপর হামলা করা হয়। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay) ও শুভেন্দু অধিকারীর মদতেই বিজেপির দুষ্কৃতীরা হামলা করে বলে অভিযোগ।
    অন্যদিকে আবার গত ৫ মে তমলুকে অভিজিতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুর-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। অস্ত্র আইনেও মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাচক্রে, প্রাক্তন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন এসএসসি মামলার রায়ে চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Gangopadhyay) বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। সেই ইস্যুতে পাল্টা কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। 

    আরও পড়ুন: নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আসছে বর্ষা! সুখবর জানাল আবহাওয়া দফতর

    হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিজিৎ 

    নির্বাচনী প্রচারে সমস্যা হচ্ছে। এই যুক্তি দিয়ে হাই কোর্টে (Calcutta High Court) তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করার আর্জি জানান অভিজিৎ। মঙ্গলবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুনানির আগেই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Abhijit Ganguly: শুভেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা করলেন অভিজিৎ, জনজোয়ারে ভাসল তমলুক

    Abhijit Ganguly: শুভেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা করলেন অভিজিৎ, জনজোয়ারে ভাসল তমলুক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Ganguly) মনোনয়নে জনজোয়ারে ভাসল গোটা শহর। তমলুকের রাজ ময়দান থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটারের পদযাত্রা করতে দেখা গিয়েছে বিজেপি কর্মী সমর্থদের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দাখিল করলেন এই বিজেপি প্রার্থী।

    কী বললেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)?

    মনোনয়ন জমা করতে গিয়ে অভিজিৎবাবু (Abhijit Ganguly) বলেন, “অসম্ভব একটা জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, একটা স্রোত তৈরি হয়েছে। এই স্রোতে তৃণমূলকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। মানুষ ৩৪ বছর যে ভুল করেছেন সেই ভুল আর করবেন না। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন।” অপর দিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সকল ভোটারদের কাছে বিজেপির জন্য ভোট চাইলেন। সন্দেশখালির অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে ভোট প্রদানের জন্য আহ্বান জানালেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বিজেপির জন্য ভোটারদের কাছে ভোট প্রদানের জন্য আবেদন করলেন। 

    বিজেপির দাবি

    তমলুক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, লোকসভার ভোটে দুই লক্ষের বেশি ভোটে অভিজিৎবাবুর (Abhijit Ganguly) জয় নিশ্চিত হবে। এই রাজ্যে বিজেপি জয়ী হলে শিল্পায়ন হবে। রাজ্যে মানুষের কর্ম সংস্থান হবে। গোটা তমলুক শহর এখন গেরুয়া হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল এখন বামেদের অক্সিজেন দিচ্ছে। বিজেপির ভোট কাটতে সিপিএমকে কাজে লাগানো হচ্ছে। ২৫ মে ষষ্ঠ দফা নির্বাচনে ভোট হবে এই কেন্দ্রে।”

    আরও পড়ুনঃটেস্টে খারাপ ফলে বকা খেয়েছিল শিক্ষকের, মনের জেদেই দশম স্থানে নীলাঙ্কন

    তৃণমূল দুষ্কৃতীদের আক্রমণ

    প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly) মনোনয়নকে ঘিরে ব্যাপক তুলকালাম বাধে আজ তমলুকে। ইতিমধ্যে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতিকাণ্ডে তৃণমূল সমর্থিত চাকরি হারাদের একাংশ মঞ্চ করে ধরনা প্রদর্শন চলছিল শহরে। আজ বিজেপি প্রার্থী মনোনয়ন দিতে গেলে তৃণমূল সমর্থকেরা এই মঞ্চ থেকে চোর চোর শ্লোগান দেয় এবং সেই সঙ্গে জুতো দেখায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে পাল্টা বিজেপি কর্মীরাও চোর চোর স্লোগান দেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হয় বচসা। এরপর মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ তৃণমূলের চাকরি চোরেরা এই গোলমালের পিছন থেকে মনোনয়নে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Tamluk: জেলাশাসকের দফতরে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন্দুকে বাধা

    Tamluk: জেলাশাসকের দফতরে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন্দুকে বাধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তমলুকে (Tamluk) জেলাশাসকের অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী (BJP Candidate) সৌমেন্দু অধিকারী (Soumendu Adhikary) । নিজেদের খাস তালুকেই বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় শোরগোল এলাকায়। বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল জেলা শাসকের অফিসে কর্মরত পুলিশের বিরুদ্ধে।  এদিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipore) কাঁথিতে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়। মনোনয়ন চলাকালীন শিশির অধিকারীকেও (Sisir Adhikary) বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বসচা শুরু হয়।

    আরও পড়ুন: “বিজেপি মুসলিম বিরোধী নয়”, স্পষ্ট বার্তা মিঠুনের

    জেলাশাসকের অফিসে ১৪৪ ধারী ধারার জারি

    পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয় জেলাশাসকের অফিসে ১৪৪ ধারী ধারার জারি রয়েছে। দফতরের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রার্থী, এজেন্ট এবং প্রস্তাবক ছাড়া মোট চারজনের বেশি কেউ প্রবেশ করতে পারবে না এমনটাই নির্দেশ রয়েছে জেলা শাসকের। বিজেপি কর্মীরা নাকি সেই সময় জোটবদ্ধ হয়ে জেলা শাসকের দপ্তরের কাছাকাছি চলে আসেন। সেই সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তবে শিসির অধিকারী এলাকার সাংসদ। তাঁকে কেন বাধা দেওয়া হয় এনিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে। এর পরেই  গন্ডগোল আরও বাড়ে। স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা।  প্রসঙ্গত অধিকারি পরিবারের খাসতালুক কাঁথি। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রতীকে এখান থেকেই লড়াই করছেন সৌমেন্দু অধিকারী। ২০০৯ সাল থেকে এখানে জয়ী হয়ে আসছেন শিশির অধিকারী। বয়স জনিত কারণে এবার তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না। তার বদলে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁর পুত্রকে। দীর্ঘদিন ধরেই অধিকারি পরিবারের কেউই আর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নয়। শিশির অধিকারী, সৌমেন্দু ও দিব্যেন্দু এরা সকলেই তৃণমূলের সঙ্গে সঙ্গ ত্যাগ করেছেন বহুদিন আগেই।

    ২০০৯ সাল থেকে সাংসদ শিশির অধিকারী 

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) বিজেপিতে যোগদান করার পরেই গোটা পরিবারের সঙ্গেই তৃণমূলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। শিশির অধিকারী তৃণমূলের টিকিটের জয়ী হলেও তিনি সংবাদমাধ্যমে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে তাঁর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

LinkedIn
Share