Tag: Taratala Army Rescue Operation

  • Suvendu Adhikari: ‘‘আপনাদের পাপের ফল’’! তারাতলাকাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ সাহায্য, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা পিএমও-রও

    Suvendu Adhikari: ‘‘আপনাদের পাপের ফল’’! তারাতলাকাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ সাহায্য, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা পিএমও-রও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বুধবার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে৷ আহত কমপক্ষে ২০ জন৷ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মৃতদের পরিবার প্রতি রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া আহতদের দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা। ক্ষতিপূরণ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর দফতরেরও। পিএমও-র তরফে জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।

    ‘‘ভগবানের দূত…’’

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় গোটা দুর্ঘটনার বিবরণ দেন শুভেন্দু অধিকারী। বিবৃতি পাঠ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘গতকাল দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে কলকাতা পুর-এলাকার তারাতলায় একটা নির্মীয়মাণ বিল্ডিং ভেঙে পড়ে। বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে। পরিবারের পাশে সমবেদনা, বিদেহী আত্মার অমরত্ব প্রার্থনা করি। এসএসকেএম হাসপাতালে যারা ভর্তি তাদের পাশে আছি৷’’ এদিন বিধানসভার বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে মন্ত্রী থেকে আধিকারিক থেকে সেনা, সকলের ভূমিকার কথা বিশদে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুভেন্দু জানান, ‘‘প্রথমে কলকাতা পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড ও স্থানীয় জনগণ হাত লাগান। একটা কাটার মেশিন নেই। একটা আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই।সেনা কাজ করছে। বিহার রেজিমেন্ট সব আধুনিক যন্ত্র নিয়ে এসে কাজ করছে। আর ভগবানের দূত হিসাবে কাজ করেছে এনডিআরএফ৷ বন্দর, ডিএমজি, সিভিল ডিফেন্স সবাই একযোগে কাজ করেছে। সবাই আমরা সাপোর্ট করছি৷ উদ্ধারকার্য এখনও চলছে।’’

    ‘‘৯ জনের মৃত্যু’’

    উদ্ধারাভিযান নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বুধবার রাতভর কাজ চলেছে। এখনও কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম যান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এরপর পৌঁছন দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। আমি প্রথম থেকেই মনিটরিং করছিলাম। তবে গেলে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর বিকেলে যাই। হাসপাতালেও গিয়েছি। আহতদের সঙ্গে কথা হয়েছে।” এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন। তবে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধারের কাজ এখনও চলছে।’’ এর সঙ্গেই ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার। আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। সেটা স্বীকার করেও দায়িত্বশীল সরকার তার দায়িত্ব পালনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।’’ এ দিনই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) তরফেও আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে পিএমও। আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।

    ‘‘আপনাদের পাপের ফল..’’

    তবে, তারপরেই তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানান বিরোধী তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ দুর্নীতি থেকে অব্যবস্থা৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় দফায় দফায় উঠে আসে বিগত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ৷ বিরোধীদের বিঁধে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এই যে মাননীয় চিফ হুইপ অপোজিসন, আখরুজ্জামান সাহেব আমি বলার আগে উঠে পড়েছিলেন৷ একটু কেয়ারফুলি শুনুন, যে ক’টা লোক আছেন আপনারা৷ এই বিল্ডিং প্ল্যানটা গত ১৭ জানুয়ারি আপনারা দিয়েছিলেন৷ সব বের করছি আমরা৷’’ তারপরেই শুভেন্দুর তোপ, ‘‘এ আপনাদের পাপের ফল৷ সব জায়গায় টাকা নিতে নিতে এই সিটি অফ জয়কে, এবং বৃহত্তর কলকাতাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন আপনারা৷’’

    ‘‘কাউকে ছাড়া হবে না’’

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গার্ডেনরিচ থেকে শুরু করে একাধিক ঘটনা ঘটলেও তা থেকে কোনও শিক্ষা নেয়নি পূর্বতন সরকার৷ কোনও সংশোধন আসেনি প্রক্রিয়ায়৷ উদ্ধারকাজে সেনা এবং এনডিআরএফ-কে কোনও দিন ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ গার্ডেনরিচে মুর্শিদাবাদের ১৪ জন চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল বলে জানান শুভেন্দু৷ একজনকেও সেই সময় জীবিত উদ্ধার করা যায়নি৷ বিরোধী তৃণমূলের চিপ হুইপ আখরুজ্জামান সাহেবের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কী করেছেন আপনারা? একটাকেও তো ছাড়ার কোনও সিন নেই৷ আপনার প্রাক্তন মেয়রের সই আছে এতে৷ কাউকে ছাড়া হবে না৷ ইঞ্জিনিয়ার যাদের নাম আছে তাদের ছাড়া হবে না। ৫ জনকে গ্রেফতার করেছি। আসগরকে খুঁজছি। চাইব যাতে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারি৷ কালি’কে খুঁজে বার করছি। ক্যামাক স্ট্রিটে ২০০ কোটি জমা দিয়েছে। সব জানি।’’ সবশেষে শুভেন্দু জানান, এরপরে আগামী ১ মাস সব নির্মীয়মাণ কাজ বন্ধ থাকবে৷ সবকিছু অডিট করা হবে৷

    গঠিত সিট, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার ৫

    তারাতলার ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়। গোয়েন্দা দপ্তরের হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্ত। গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ। তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য, ও তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল। তারাতলা কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম গুলজার হোসেন (সুপার ভাইজার অয়ন ট্রেডার্স), কমল সামন্ত (লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক), শম্ভুনাথ শম্ভুনাথ বেহেরা (যিনি জমি লিজ নিয়েছিলেন), দিবারক ভাণ্ডারি (শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার), আবদুল হামিদ (কেএমসি-তে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য মধ্যস্থতাকারী)। ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীদল। প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেফতার করা হবে।

LinkedIn
Share