Tag: tariff

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

  • Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছের বিরোধিতা করায় এবার আটটি ইউরোপীয় দেশের (European Countries) বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক-সহ সাতটি ইউরোপীয় দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি না হলে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকার (Donald Trump)

    ডেনমার্ক ছাড়াও যে সাতটি দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে, সেগুলি হল নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, “২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সব দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা

    ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে এসব দেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলিকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শান্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রতিক্রিয়ায়ই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, দেশটি মাত্র দুটি কুকুর-টানা স্লেজকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চিন ও রাশিয়া দ্বীপটির জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠছে (Donald Trump)।

    গ্রিনল্যান্ড সফর

    ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প দাবি করেন (European Countries), এসব দেশের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড সফর আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫০ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করে আসছে। বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে।” ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কোনও শুল্ক আরোপ না করেই এসব দেশকে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেন এবং বলেন, “সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি (European Countries)।”

    কী বললেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প বলেন, “এখন গোল্ডেন ডোম এবং আধুনিক যুগের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রব্যবস্থার কারণে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘দ্য ডোম’-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শত শত বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যার মধ্যে কানাডার সম্ভাব্য সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। এই অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু জটিল ব্যবস্থা কোণ, পরিমাপ ও সীমানার কারণে কেবল তখনই সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও দক্ষতায় কাজ করতে পারে, যখন এই ভূখণ্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয় (Donald Trump)।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “ডেনমার্ক এবং অথবা সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে আমেরিকা প্রস্তুত।” তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দান-সহ যা কিছু করেছে, তা সত্ত্বেও এসব দেশ অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে (European Countries)।

     

  • Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে এখনও যারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে, সেই সব দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত (Tariff Threat)। শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (US)।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Tariff Threat)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমরা প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে অবগত। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের বাস্তবতার ভিত্তিতে। জয়সওয়াল বলেন, “জ্বালানি উৎস সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান সুপরিচিত। বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই আমাদের পথনির্দেশ করে, যাতে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় (Tariff Threat)।”

    মার্কিন সেনেটরের প্রতিক্রিয়া

    বিদেশমন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই। গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে’ সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে (US)। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে গ্রাহাম বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটি অনুমোদন করেন। ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন শুধু কথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেবে, যারা সস্তায় রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধাস্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে (Tariff Threat)।” গ্রাহামের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই বিলটি দ্বিদলীয় ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে।

    ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’

    এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন সেনেটর বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে। ওই তেল থেকেই পুতিন ইউক্রেনে গণহত্যার অর্থ জোগাচ্ছেন। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিলের পক্ষে শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন মিলবে (US)।” মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিলটির নাম ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার ওপর শুল্কের হার কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের (Tariff Threat)।

  • Donald Trump: ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ থেকে ভিসা ফি বৃদ্ধি, নিজের দেশেই ঘোর বিপাকে ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ থেকে ভিসা ফি বৃদ্ধি, নিজের দেশেই ঘোর বিপাকে ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘সবক’ শেখাতে গিয়ে গাড্ডায় পড়ে গিয়েছেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)! ভারতীয় পণ্যের ওপর তিনি যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছেন, তা বেআইনি। অবিলম্বে ওই শুল্ক বাতিল করা উচিত। আমেরিকার সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে শুক্রবার এমনই এক প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, চড়া শুল্কের (India) কারণে আখেরে ক্ষতিই হচ্ছে আমেরিকার। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

    শুল্ক আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের (Donald Trump)

    ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মেনে মস্কো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কিনে চলেছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ভারতের এই অনড় মনোভাবে বেজায় খেপে যান ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার পর শাস্তিস্বরূপ ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেন তিনি। ২৭ অগাস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হয়েছে ৫০ শতাংশ শুল্ক। এর ফলে জোর ধাক্কা খেয়েছে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য। এক বিশেষ জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন। ট্রাম্পের এই ক্ষমতাকেই সাধারণ মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন মার্কিন সাংসদদের একটা বড় অংশ।

    মার্কিন সংসদে প্রস্তাব পেশ

    জানা গিয়েছে, ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক বাতিল করতে চেয়ে মার্কিন সংসদে যে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে (India) তিন সাংসদ। এঁরা হলেন, ডেবোরা রস, মার্ক ভিসে এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজা কৃষ্ণমূর্তি। কেবল ভারত নয়, ব্রাজিলের পণ্যের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ভারতের পাশাপাশি (Donald Trump) ব্রাজিলের শুল্ক বাতিলও চেয়েছেন মার্কিন সাংসদরা।

    প্রস্তাবের বক্তব্য

    সংসদে পেশ করা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভারতের ওপর চড়া শুল্কের কারণে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উত্তর ক্যারোলাইনা প্রদেশ। এখানকার অর্থনীতি অনেকাংশেই ভারতের ওপর নির্ভরশীল। বাণিজ্য তো বটেই, সেই সঙ্গে প্রচুর ভারতীয় ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ রয়েছে উত্তর ক্যারোলাইনায় (India)। তাছাড়া, এই প্রদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক বসবাস করেন। শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা। মার খাচ্ছে বাণিজ্য (Donald Trump)। রস, কৃষ্ণমূর্তিরা বলেন, “ভারত খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সঙ্গী। বেআইনি এই শুল্ক আসলে সেই সব মার্কিন নাগরিকদের ওপর বাড়তি শুল্কের বোঝা, যাঁরা দৈনন্দিন খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।” কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক আসলে বাণিজ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করে। এতে মার্কিন কর্মচারীদের ক্ষতি হচ্ছে, ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে। শুল্কের ফলে হিতে বিপরীত হচ্ছে।” তাঁর মতে, শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে তা ভারত-মার্কিন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।

    একাধিক নীতির সমালোচনা 

    ভারতীয়-আমেরিকান কংগ্রেসম্যান অ্যামি বেরা মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি নীতির সমালোচনা করেন। বিশেষত, এইচ ১বি ভিসার ওপর এক লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ফি অত্যধিক ও অবাস্তব বলে সমালোচনা করা হয়েছে। অ্যামির যুক্তি, এই অত্যধিক ফি আমেরিকান কোম্পানিগুলির তাদের শিল্পে বিদেশি প্রতিভা নিয়োগের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে (Donald Trump)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “ট্রাম্পের এই ধরনের পদক্ষেপ কঠোর ভারতকে অন্যান্য বিরোধী শক্তির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করতে পারে।”

    প্রমীলা জয়পালের বক্তব্য

    ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান প্রমীলা জয়পাল ট্রাম্পের শুল্কনীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ আমদানি শুল্ক নীতি অবশ্যই ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এটি আমেরিকান ব্যবসা ও উপভোক্তাদের ওপরও সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে।” তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন এই বলে যে, এই পরিস্থিতি আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ বাড়াতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কেও (India)।

    এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আদালতে

    এদিকে, ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন আমেরিকার ২০টি প্রদেশের কর্তারা। মূলত ডেমোক্র্যাটশাসিত প্রদেশগুলিই এইচ-১বি ভিসা নিয়ে জোট বাঁধছে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে। এই ২০টি প্রদেশের মধ্যে রয়েছে ক্যালিফর্নিয়াও। এই প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে জানিয়েছেন, এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির কারণে বহু সংস্থা বিদেশের দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ করতে পারছে না। ফলে ক্যালিফর্নিয়া-সহ বিভিন্ন প্রদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কর্মিসঙ্কট তৈরি হচ্ছে (Donald Trump)।

  • Vladimir Putin: “চাপের কাছে নতি স্বীকার করার মানুষ নন”, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভূয়সী প্রশংসা করলেন পুতিন

    Vladimir Putin: “চাপের কাছে নতি স্বীকার করার মানুষ নন”, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভূয়সী প্রশংসা করলেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “চাপের কাছে নতি স্বীকার করার মানুষ নন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)।” সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। আমেরিকার চড়া শুল্কনীতি প্রয়োগ করে ভারতের নীতি প্রভাবিত করার চেষ্টা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ওই মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার দু’দিনের ভারত সফরে নয়াদিল্লিতে আসছেন পুতিন। তার আগে দেওয়া এক্সক্লুসিভ ওই সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এগুলির মধ্যে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে ভারত–রাশিয়া সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও।

    পুতিনের মুখে মোদি-স্তুতি (Vladimir Putin)

    ওই সাক্ষাৎকারে পুতিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “তামাম বিশ্ব আজ ভারতের দৃঢ় এবং অবিচল অবস্থান প্রত্যক্ষ করছে। আন্তর্জাতিক চাপে দৃঢ়তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নেতৃত্বের সাহসের জন্য ভারত গর্ব করতেই পারে।” রাশিয়া এবং ভারতের শক্তিশালী সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি দ্বিপাক্ষিক লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” প্রসঙ্গত, মোদি ও পুতিনের সভাপতিত্বে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা শুক্রবার। তার আগে বৃহস্পতিবারই ভারতে আসছেন রুশ রাষ্ট্র প্রধান। তাঁর ভারত সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ দিচ্ছে, কড়া নজর রাখা হচ্ছে পুতিনের নয়াদিল্লি সফরের ওপরও (PM Modi)। পুতিনের সফরের আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রক এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভবন জানিয়েছে, উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। পুতিন (Vladimir Putin) মন্ত্রিসভার সব অর্থমন্ত্রীরাও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আসছেন নয়াদিল্লিতে।

    রুশ প্রেসিডেন্টের প্রথম ভারত সফর

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই হবে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রথম ভারত সফর। এই সফরের আগেই তিনি দিয়েছেন বিশেষ সাক্ষাৎকার। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত একটি শক্তিশালী দেশ, যারা কারও চাপের কাছে মাথা নত করে না।” পুতিন বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমি আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি। আমরা অনেক আগেই ভারতে এই বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছিলাম। আমাদের আলোচনা করার মতো অনেক কিছুই আছে। কারণ ভারতের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব বিশাল।”

    মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির প্রতি মুগ্ধতা

    প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন সময় পুতিনের মুখে শোনা গিয়েছে মোদি-স্তুতি। ঠিক এক বছর আগে মস্কোয় একটি বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় পুতিন বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগ যেভাবে বিশ্বব্যাপী ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে, তা দেখে তিনি মুগ্ধ। মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেক ইন ইন্ডিয়া নামে একটি কর্মসূচি রয়েছে। আমরা ভারতে আমাদের উৎপাদন কার্যক্রম স্থাপন করতেও প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারত সরকার ভারতকে প্রথমে রাখার নীতি দ্বারা চালিত স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে চলেছে (PM Modi)। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতে বিনিয়োগ লাভজনক।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট (Vladimir Putin) সেদিন এও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, রাশিয়ান কোম্পানি রোসনেফ্ট ভারতে তখনই ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল।

  • Tariff War: “দাম কম, দম বেশি মন্ত্র অনুসরণ করতে হবে ভারতকে,” লালকেল্লায় বললেন মোদি

    Tariff War: “দাম কম, দম বেশি মন্ত্র অনুসরণ করতে হবে ভারতকে,” লালকেল্লায় বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতকে উচ্চমানের ও সাশ্রয়ী পণ্যের ওপর জোর দিতে হবে “দাম কম, দম (গুণমান) বেশি” মন্ত্র অনুসরণ করে, যাতে একটি সমৃদ্ধশালী,  স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগকে সম্মান জানায়।”  শুক্রবার ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দিল্লির লালকেল্লায় ভাষণ দিতে (Tariff War) গিয়ে কথাগুলি বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শুধু তাই নয়, দেশবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “অন্যদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করতে পারে”। ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক নিয়ে দড়ি টানাটানির আবহে তিনি বলেন, “যারা অন্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে, তারা নিজের স্বাধীনতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন ডেকে আনে।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (Tariff War)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসল দুর্ভাগ্য শুরু হয় তখন, যখন নির্ভরতা অভ্যাসে পরিণত হয়। আর বুঝতেই না পেরে আমরা আত্মনির্ভর হওয়া বন্ধ করে দিই এবং অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে শুরু করি। এই অভ্যাস ঝুঁকিমুক্ত নয়, তাই আত্মনির্ভর থাকতে হলে আমাদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভরতা কেবলমাত্র আমদানি, রফতানি বা মুদ্রা বিনিময়ের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত। যখন আত্মনির্ভরতা ক্ষয় হতে শুরু করে, তখন আমাদের শক্তিও ক্ষয় হয়। আমাদের সক্ষমতা রক্ষা, বজায় রাখা এবং উন্নত করার জন্য আত্মনির্ভরতা অপরিহার্য।”

    বিশ্বে সম্মান অর্জনের জন্য ভারতীয়দের করণীয়

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার এই (Tariff War) সময়ে (PM Modi), বিশ্বে সম্মান অর্জনের জন্য ভারতকে অন্যদের সীমিত করার বদলে নিজেকে শক্তিশালী করায় মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের উচিত নয় অন্য কারও লাইন ছোট করার চেষ্টা করে নিজের শক্তি নষ্ট করা। বরং আমাদের নিজের লাইনকে সর্বশক্তি দিয়ে দীর্ঘায়িত করতে হবে। বিশ্ব আমাদের শক্তিকেই সম্মান দেবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে, যেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে, সেখানে প্রয়োজন কাঁদতে বসে থাকা নয়, বরং সাহসের সঙ্গে নিজের লাইন দীর্ঘ করা।” এর পরেই তিনি বলেন, “আমাদের কাজ করা উচিত এই মন্ত্র (PM Modi) নিয়ে—‘দাম কম, দম বেশি’, অর্থাৎ খরচ কম, গুণমান বেশি। মনে রাখতে হবে, আমাদের স্বাধীনতা এসেছে অসীম ত্যাগের মাধ্যমে (Tariff War)।”

  • PM Modi: “ভারত কখনওই কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না,” ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর সাফ জানালেন মোদি

    PM Modi: “ভারত কখনওই কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না,” ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর সাফ জানালেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কৃষকদের স্বার্থ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। ভারত কখনওই তার কৃষক, পশুপালক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না।”  পর পর দু’দফায় ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করার পর বৃহস্পতিবারই এমন প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিন দিল্লিতে এমএস স্বামীনাথন জন্মশতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    মোদির সাফ কথা (PM Modi)

    সেখানেই তিনি বলেন, “ভারত কখনওই তার কৃষক, পশুপালক এবং মৎস্যজীবী ভাই-বোনদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি যে, এর জন্য আমাকে অনেক বড় মূল্য চোকাতে হতে পারে, কিন্তু আমি তার জন্য প্রস্তুত। ভারত দৃঢ়ভাবে তার কৃষকদের পাশে আছে, এবং তাদের কল্যাণের জন্য যা কিছুই করতে হয়, আমি তা-ই করতে প্রস্তুত।” উল্লেখ্য, দেশের কৃষিক্ষেত্রে কার্যত বিপ্লব ঘটিয়েছিল সবুজ বিপ্লব। এই বিপ্লবের স্থপতি ছিলেন কৃষিবিজ্ঞানী স্বামীনাথন। তাঁর জনশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে কৃষকদের স্বার্থরক্ষার কথা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কৃষক সমাজকেও বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যটি এসেছে এমন একটা সময়ে যখন ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারত একে অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকেই টার্গেট করেছে। যদিও এই বিষয়ে নয়াদিল্লি (PM Modi) তার অবস্থান স্পষ্টভাবেই ব্যাখ্যা করে দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “আমাদের আমদানি বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য হল ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয় নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।” আমেরিকার এই পদক্ষেপকে গভীরভাবে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, অনেক দেশই তাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এখনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। কেবলমাত্র ভারতকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য নিশানা করাকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে ভারত সরকার জানিয়েছে যে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও আমার সরকার গ্রামীণ জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।”

    বাধার প্রাচীর কেবল তেল নয়, কৃষিও

    যদিও রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়টি ভারত–মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তবুও বাজারে প্রবেশাধিকারের চাহিদা, ভর্তুকি কাঠামো এবং খাদ্য নিরাপত্তার অগ্রাধিকারের মৌলিক পার্থক্যের কারণে কৃষিও দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় একটি বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে (PM Modi)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারে আরও বড় প্রবেশাধিকার চায়। অথচ ভারত চায় তার অভ্যন্তরীণ কৃষি খাতকে সুরক্ষা দিতে। এটি একটি বিশাল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করে এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (GM) ফসল, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি মানদণ্ড এবং স্থানীয় জীবিকার সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে আমেরিকা ও ভারত দুই দেশই। এটা আলোচনাকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে কৃষি ক্ষেত্রটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বিতর্কিত অংশগুলির একটি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। তবে কোনওরকম ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ যাতে না থাকে, তাই ভারত সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থই সর্বোচ্চ, এবং ভারত কোনও চাপের কাছেই নত হবে না (PM Modi)।

    বাণিজ্যচুক্তি আপাতত বিশ বাঁও জলে

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত বিশ বাঁও জলে। এখনও পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে পাঁচ দফায়। আরও আলোচনা হওয়ার কথা। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে একটি অন্তবর্তী সমঝোতা সেরে নিতে চাইছে দুই দেশ। চলতি মাসেই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ভারতে আসার কথা। কেন্দ্রের একটি সূত্রের খবর, আমেরিকা চায় ভারত তাদের জন্য পুরোপুরি খুলে দিক কৃষিপণ্য, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার। এতেই আপত্তি জানিয়েছে ভারত। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আমেরিকার সুবিধা হয়, এমন একপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজি নয় নরেন্দ্র মোদির দেশ (PM Modi)।

    প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কেনায় বুধবারই ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তার ফলে ২৭ অগাস্ট থেকে আমেরিকায় কোনও পণ্য রফতানি করতে হলে সব মিলিয়ে ভারতকে দিতে হবে ৫০ শতাংশ শুল্ক। পরে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা হলে দেশগুলির ওপর আরও অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে (PM Modi)।”

  • Ajit Doval: রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই মস্কোয় ডোভাল

    Ajit Doval: রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই মস্কোয় ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে ভারতকে ফের একবার শুল্কবৃদ্ধির হুঁশিয়ারি (Tariff Threat) দিয়েছিলেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের ওপর আরও শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে।” এর আগে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে তিনি যে শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার পরিমাণ কত, তা বলেননি। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। মার্কিন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই রাশিয়ায় পৌঁছে গেলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। তবে ঠিক কী কারণে তিনি তড়িঘড়ি করে মস্কোয় গেলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

    রাশিয়ায় পৌঁছে গেলেন ডোভাল (Ajit Doval)

    মঙ্গলবার সকালেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর এদিনই রাতে রাশিয়ায় পৌঁছে গেলেন ডোভাল। সূত্রের খবর, রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই রাশিয়া গিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। চলতি সফরে ডোভাল রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কর্তাদের সঙ্গে। বৈঠকে আলোচনা হতে পারে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো বিষয়েও। এ মাসেরই শেষের দিকে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করেরও। সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়শঙ্করের এই রাশিয়া সফর পূর্বনির্ধারিত সূচির অংশ। ফোকাস থাকবে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও আলোচনার বিষয় হবে। এর পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ভারতের জন্য তেল সরবরাহের মতো জরুরি বিষয়গুলিও আলোচনায় আসবে।”

    ট্রাম্পের অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত মস্কো থেকে জ্বালানি কিনে আদতে সাহায্য করছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। তাই ভারতের উচিত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করা। তা না হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ফের একপ্রস্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। ভারতকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প রাশিয়াকে ইউক্রনে যুদ্ধে দ্রুত বিরতি ঘোষণা করতে বলেছেন। তিনি বলেন, “রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করে, তাহলে আমেরিকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।” এহেন উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেই ডোভালের মস্কো যাত্রা।

    ভারতের প্রত্যুত্তর

    রাশিয়া (Ajit Doval) থেকে তেল কেনায় ট্রাম্পের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারত আমেরিকাকে পাল্টা জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা নিজেই রাশিয়ার সঙ্গে প্রচুর ব্যবসা করছে (Tariff Threat)। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে কোনও প্রধান অর্থনীতির মতো, ভারতও তার জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা নেবে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২২ সালে যখন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল, তখন আমেরিকাই চেয়েছিল যে ভারত সস্তায় রাশিয়ান তেল কিনুক, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাশিয়া ও ইউরোপের বাণিজ্য তালিকায় শুধু তেল বা গ্যাস নয়, সার, খনিজ, রাসায়নিক, লৌহ-ইস্পাত-সহ আরও বহু পণ্য আমদানি করে। এই তালিকায় শুধু ইউরোপ কেন, খোদ আমেরিকাও বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে। তারা নিজেদের পারমাণবিক কার্যকলাপের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড কেনে। বৈদ্যুতিন গাড়ি শিল্পের জন্য আমদানি করে প্যালাডিয়াম, সার ও রাসায়নিক।

    জ্বালানি আমদানি নিয়ে বড় চুক্তি!

    সূত্রের খবর, ডোভালের (Ajit Doval) চলতি সফরে রাশিয়ার সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি নিয়ে বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে রাশিয়া ভারতকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিমাণে ছাড় দিতে পারে। ভারতের ওপর শুল্ক ঘোষণার পর রাশিয়া ট্রাম্পকে বিশ্বে কোণঠাসা করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়ার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও দেশের হস্তক্ষেপে দুর্বল হবে না ভারত-রুশ সম্পর্ক। এহেন পরিস্থিতিতে ডোভালের রাশিয়া সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তামাম বিশ্ব।

    ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরেই সমস্যা

    এর একটা অন্যতম বড় কারণ হল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য। তিনি বলেছিলেন, “বাণিজ্যের জন্য ভারত ভালো অংশীদার নয়। তারা আমাদের সঙ্গে যথেষ্ট বাণিজ্য করে। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করি না। তাই ভারতের ওপর আমরা ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলাম। কিন্তু আগামী (মঙ্গলবার বলেছিলেন) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা বৃদ্ধি করা হবে। কারণ, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এবং তারা ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন প্রতিক্রিয়ায় ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে (Tariff Threat), ভারতকে (Ajit Doval) নীতি ধর্ম শেখাতে আসা আমেরিকা নিজেই বিপুল পণ্য আমদানি করে রাশিয়া থেকে।

  • Crude Politics: অপরিশোধিত তেল নিয়ে রাজনীতি, রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি কেনার জল গড়াবে কতদূর?

    Crude Politics: অপরিশোধিত তেল নিয়ে রাজনীতি, রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি কেনার জল গড়াবে কতদূর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত তিন বছরে ভারতের জ্বালানি কৌশলে একটি বড়সড় পরিবর্তন এসেছে, যেখানে রাশিয়াকে অপরিশোধিত তেলের (Crude Politics) আমদানির কেন্দ্রে জায়গা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। কিন্তু যুদ্ধকালীন-পর্বে রাশিয়ান তেল ভারতের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে (Donald Trump Tariff)। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় ভারত নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন করেছিল। সোভিয়েত-নেতৃত্বাধীন কমিউনিজমের বিরুদ্ধে পশ্চিমী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতেও অস্বীকার করেছিল। এর ফলে মস্কোর সঙ্গে ভারতের এক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অস্ত্র স্থানান্তর, প্রযুক্তি ভাগাভাগি এবং কূটনৈতিক সহায়তা।

    রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ (Crude Politics)

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এরপর পশ্চিমী বিশ্বের একটি বড় অংশ মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে রয়েছে তেল আমদানিও। যুদ্ধের আগে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির মধ্যে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্রই ০.২ শতাংশ। ২০২৩ সালের মে মাসে সেই হার লাফিয়ে হয়ে যায় ৪০ শতাংশেরও বেশি। রিয়েল-টাইম তথ্য ও বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের (Kpler) মতে, ২০২৩ সালের মে মাসে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সর্বোচ্চ ২১.৫ লাখ ব্যারেল ছুঁয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাশিয়া প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল সরবরাহ করেছে, যা ভারতের মোট আমদানির ৪১ শতাংশ। সেই তুলনায় ইরাকের অংশ ছিল ২০ শতাংশ, সৌদি আরবের ১১ শতাংশ, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৪ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি মাসে গড় রাশিয়ান তেল আমদানির পরিমাণ ১৭.৫ থেকে ১৭.৮ লাখ ব্যারেল। উল্টো দিকে, ইরাক এবং সৌদি আরব প্রতিদিন সরবরাহ করে যথাক্রমে প্রায় ৯ লাখ ও ৭ লাখ ব্যারেল তেল (Crude Politics)।

    তেল বিক্রির জন্য রাশিয়া ঝোঁকে ভারত ও চিনের দিকে

    ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তেল বিক্রির জন্য রাশিয়া ঝোঁকে ভারত ও চিনের মতো দেশের দিকে। ডিসকাউন্টের তুঙ্গ সময়ে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট দামের চেয়ে প্রায় ৪০ মার্কিন ডলার কমে বিক্রি হত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ছাড়ের পরিমাণ কমে এসেছে। সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারত রাশিয়ান তেলের প্রতি মেট্রিক টনে গড়ে ৫২৫.৬০ মার্কিন ডলার মূল্য দিয়েছে, যা ইরাক থেকে আমদানি করা তেলের দামের চেয়ে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৫ মার্কিন ডলার কম। আইসিআরএর দাবি, গত দুই অর্থবর্ষে তেল আমদানিতে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় করেছে ভারত (Donald Trump Tariff)।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের রাশিয়ান তেল কৌশলকে নতুন চাপে ফেলেছেন। ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ান তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ধার্য করা হয়েছে জরিমানাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, “ভারতকে তাই ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে, সঙ্গে থাকবে একটি জরিমানাও।” তাঁর হুঁশিয়ারি, “মস্কো যদি ৫০ দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে রাশিয়ান তেল কেনা সব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।” উল্লেখ্য, ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫.২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল খরচ করে, যার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। এই চাহিদা ক্রমশই বাড়ছে (Crude Politics)।

    ভারতের অবস্থান

    রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময় নয়াদিল্লি বরাবরই নিরপেক্ষ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বহুবার বলেছেন, “ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল না কিনত, তাহলে তেলের দর আকাশ ছুঁতো (Donald Trump Tariff)।”

    ট্রাম্পের দাবি

    এদিকে, ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার দাবি করেন, তিনি শুনেছেন ভারত আর রাশিয়ার তেল কিনবে না। তিনি একে একটি ভালো পদক্ষেপ আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, এর কয়েকদিন আগেই তিনি মস্কোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি শুনেছি ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। আমি জানি না এটা ঠিক কি না, তবে এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। দেখা যাক, ভবিষ্যতে কী হয়।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন মন্তব্যের আড়ালে রয়েছে একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি। কারণ তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

    সাফ কথা ভারতের

    এহেন আবহে শনিবার প্রকাশিত নতুন একটি প্রতিবেদনে ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্তারা জানিয়েছেন, নীতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। একজন কর্তা তো বলেই দিলেন, সরকার তেল আমদানিকারী সংস্থাগুলিকে রাশিয়া থেকে আমদানি কমাতে কোনও নির্দেশই দেয়নি (Donald Trump Tariff)। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার জেরে তেলের দাম কমে যাওয়ায় রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা বেড়েছে এবং এর মাধ্যমে মস্কো গুরুত্বপূর্ণ রফতানি রাজস্ব ধরে রাখতে পেরেছে। একই সঙ্গে ভারত পাচ্ছে সস্তায় জ্বালানি। যাতে পূরণ হচ্ছে তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা।

    ট্রাম্পের এক্সিকিউটিভ অর্ডার

    প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে প্রায় ৭০টি দেশের রফতানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। যদিও ওই অর্ডারে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি কেনার কারণে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল না, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও সেই ব্যবস্থা নিতেই পারে (Crude Politics)। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা পূরণের ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য এবং সেই সময়কার বৈশ্বিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।”

    তেল কেনা অব্যাহত রইবে

    শনিবার প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শাস্তির হুমকি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। কারণ এগুলি দীর্ঘমেয়াদি তেলের চুক্তি। রাতারাতি কেনা বন্ধ করে দেওয়া সহজ নয়। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৫ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।

    রাশিয়ান তেল আমদানির ব্যাখ্যা

    ভারতের পক্ষ থেকে রাশিয়ান তেল আমদানির ব্যাখ্যায় আর এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ান গ্রেডের তেল আমদানির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি এড়ানো গিয়েছে। যদিও পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিতই রয়েছে। ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেলের মতো রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না। তাই ভারত সেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত দামের সীমার নীচে কিনছে। অবশ্য সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, জুলাই মাসে ডিসকাউন্টের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধন সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে (Donald Trump Tariff)। ছাড়ের পরিমাণ ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল তখন, যখন মস্কোর ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড তাদের কত রাশিয়ান তেলের প্রয়োজন, গত এক সপ্তাহে তা জানায়নি তারা (Crude Politics)।

  • Tariff War: বক্তব্যে ‘ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’! ট্রাম্প-প্রীতি দেখাতে গিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচিত রাহুল গান্ধী

    Tariff War: বক্তব্যে ‘ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’! ট্রাম্প-প্রীতি দেখাতে গিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচিত রাহুল গান্ধী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রাম্প-প্রীতি দেখাতে গিয়ে ঘরে-বাইরে বিতর্কের মুখে পড়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “মৃত অর্থনীতি” মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাহুল চেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আক্রমণ করতে (Tariff War)। তবে তা যে ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে, তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি কংগ্রেসের এই নেতা। কারণ তাঁর দলের সহকর্মী এবং ‘ইন্ডি’ জোটের কিছু নেতাও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যকে সমর্থন করার মাধ্যমে রাহুল একদিকে যেমন বিজেপিকে রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণের সুযোগ করে দিয়েছেন, তেমনই বিরোধ বাঁধিয়ে দিয়েছেন দলের অভ্যন্তরেই।

    ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য (Tariff War)

    রবিবার ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করার পরের দিনই ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ভারত ও রাশিয়ার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তিনি একেবারেই চিন্তিত নন দিল্লি-মস্কোর মধ্যের এই সম্পর্ক নিয়ে। এই দুই দেশই তাদের মৃত অর্থনীতি এক সঙ্গে ধ্বংস করতে পারে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “আমি চিন্তা করি না ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করছে। তারা চাইলে তাদের মৃত অর্থনীতিকে এক সঙ্গে তলিয়ে যেতে দিতে পারে। এতে আমার কিছু আসে যায় না। আমরা ভারতের সঙ্গে খুব কম ব্যবসা করি। ওদের শুল্ক হার অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উচ্চ। একইভাবে, রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যেও প্রায় কোনও ব্যবসা নেই। সেটাই থাকা উচিত।”

    কংগ্রেসে মতবিরোধ

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই রাহুল সংসদে সাংবাদিকদের জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) ঠিকই বলেছেন। এটা সবাই জানে, শুধু প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছাড়া। আমি খুশি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সত্যি কথাই বলেছেন।” রাহুল যখন ট্রাম্পের মন্তব্য সমর্থন করে (Tariff War) কেন্দ্রকে নিশানা করেন, তখন কংগ্রেসেরই প্রবীণ নেতা শশী থারুর এবং রাজীব শুক্লা ভারতের অর্থনীতির শক্তির দিকটি তুলে ধরেন। থারুর বলেন, “দিল্লির উচিত নয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া।” শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী)-র সাংসদ এবং বিরোধী নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ট্রাম্পকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য স্রেফ অহংকার বা অজ্ঞতার প্রকাশ (Rahul Gandhi)।”

    রাহুলের অভিযোগ

    প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থনীতি ধ্বংস করার অভিযোগ এনে রাহুল দায়ী করেন নোটবন্দি এবং ত্রুটিপূর্ণ জিএসটিকে। লোকসভার বিরোধী দলনেতার কটাক্ষ, “অ্যাসেম্বল ইন ইন্ডিয়া – যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র একটি পরোক্ষ সমালোচনা – ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে, কৃষকদের পিষে ফেলা হয়েছে।” রাহুলের এই মন্তব্যের একেবারে উল্টো সুর শোনা গিয়েছে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা থারুরের গলায়। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা চ্যালেঞ্জিং। তবে আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চলছে, ব্রিটেনের সঙ্গে একটি চুক্তি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছি। যদি আমেরিকায় প্রতিযোগিতা করা সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের মার্কিন বাজার ছেড়ে অন্য বাজারে বৈচিত্র্য আনতে হবে (Rahul Gandhi)। আমাদের কাছে বিকল্পের অভাব নেই।”

    থারুরের যুক্তি

    থারুর বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক আচরণ করে, তাহলে ভারতকে অন্য কোথাও এগিয়ে যেতে হবে। এটাই ভারতের শক্তি। আমরা চিনের মতো পুরোপুরি রফতানি- নির্ভর অর্থনীতির দেশ নই। আমাদের একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। আমাদের দর কষাকষির জন্য যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সমর্থন করতে হবে যাতে সম্ভব হলে সেরা চুক্তিটি করা যায়। আর যদি ভালো চুক্তি সম্ভব নাও হয়, তাহলে আমাদের সেখান থেকে সরে আসতে হতেই পারে (Tariff War)।”

    রাহুলকে পাল্টা আক্রমণ অমিত

    রাহুলকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। তিনি বলেন, “কংগ্রেস নেতা যখন ট্রাম্পের মৃত অর্থনীতি মন্তব্যকে তোল্লাই দেন, তখন তিনি এক নয়া নিম্নস্তরে পৌঁছে যান। এটি ভারতীয় জনগণের আকাঙ্ক্ষা, সাফল্য এবং মঙ্গলকে লজ্জাজনকভাবে অপমান করা (Rahul Gandhi)”। তিনি বলেন, “কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, এখানে একমাত্র যা সত্যিকার অর্থে ‘মৃত’, তা হল রাহুল গান্ধীর নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও উত্তরাধিকার। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও ভারত আজ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্ক এর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ওপরের দিকেই বলে জানিয়েছে।” মালব্য বলেন, “এটি কোনও মৃত অর্থনীতি নয়। এটি একটি উত্থানশীল, দৃঢ় ভারত।”

    তাঁর প্রশ্ন, “রাহুল গান্ধী আসলে কার হয়ে কথা বলছেন? কেন তিনি বারবার এমন বিদেশের হয়ে প্রচার করেন, যা ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে?” মালব্য বলেন, “আমি আজ একই বিষয়ে কংগ্রেসের দুই নেতার মন্তব্য শুনেছি (Rahul Gandhi)। একজন ভারতের স্বার্থে কথা বলেছেন, আর অন্যজন এমন সুরে কথা বলেছেন যা তাঁর বিদেশি (Tariff War) প্রভুদের খুশি করবে।”

LinkedIn
Share