Tag: Tarique Rahman

  • Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর মাত্র কয়েক দিন আগে দেশটির ইসলামপন্থী সংগঠন (Bangladesh Election) হেফাজত-ই-ইসলাম সেই দেশটির প্রধান ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা (Jihad) করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, “মুসলমানদের জন্য জামায়াতে-ই-ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম (ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ)।”

    হেফাজতে-ই-ইসলামের বক্তব্য (Bangladesh Election)

    চট্টগ্রাম শহরে বিএনপির এক প্রার্থীকে সমর্থন করে হেফাজতে-ই-ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “আমার কাছে এটি কোনও নির্বাচন নয়। এটি জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি জেহাদ।” তিনি জানান, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে হেফাজতের মৌলিক আদর্শগত ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে এবং জামায়াত ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। বাবুনগরীর ভাষায়, “এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতেই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সব মুসলমানের জন্য জামায়াতে ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম এবং কোনওভাবেই তা বৈধ নয়। জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আমাদের মৌলিক ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে। তারা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। তাই এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।” বিভিন্ন সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। দলটি বর্তমানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশের একটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, আগে জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা জোটে আপত্তি না থাকলেও হেফাজত এখন জামায়াতের বিরোধিতা শুরু করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোটই নয়, একই সঙ্গে জনগণ ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়েও ভোট দেবেন। ইসলামপন্থীদের সমর্থিত মহম্মদ ইউনূস সরকার দাবি করেছে, এই চার্টার ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মে’র সঙ্গে (Bangladesh Election) যুক্ত।

    কেন জেহাদ

    প্রশ্ন হল, কেন হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে? হেফাজতের আমির বাবুনগরীর এই বক্তব্য আসে কয়েক মাস আগে জামায়াতকে ‘ভণ্ড ইসলামি দল’ আখ্যা দেওয়ার পর (Jihad)। ২০২৫ সালের অগাস্টে বাবুনগরী বলেছিলেন, “জামায়াতে ইসলামি একটি ভণ্ড ইসলামি দল। এটি খাঁটি নয়। শুধু আমি নই, আমাদের শ্রদ্ধেয় আলেমরাও এ কথা বলেছেন। জামায়াত মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করে, আর আমরা মদিনার ইসলাম অনুসরণ করি। মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করলে ইমান (সম্মান) ঝুঁকির মুখে পড়ে।” জামায়াতে ইসলামি আবুল আলা মওদুদীর রাজনৈতিক-আদর্শিক ইসলামের ব্যাখ্যা অনুসরণ করে, যেখানে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয় এবং ধর্ম ও রাজনীতিকে অবিচ্ছেদ্য ধরা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জামায়াত বাবুনগরীর বক্তব্যকে ‘মনগড়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। ‘মদিনার ইসলাম’ নৈতিক সংস্কার, সামাজিক ঐকমত্য, বহুত্ববাদী সহাবস্থান এবং প্রফেটিক নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা, যেখানে শাসনব্যবস্থা কোনও দলীয় মতবাদের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক চুক্তি ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিকশিত হয়, যেমন মদিনা সনদ। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশভিত্তিক একটি সুন্নি দেওবন্দি ইসলামপন্থী সংগঠন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এবং চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এর সদর দফতর (Bangladesh Election)।

    অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি

    নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করলেও, ১৩ দফা দাবি নিয়ে ব্যাপক গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের আইন ও সমাজব্যবস্থাকে ‘ইসলামিকরণে’র জন্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মধ্যেই ইউনূস হেফাজতের নেতা মামুনুল হক ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেন। হাসিনা সরকারের শেষ দিকেও ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টা চলছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১২ জনকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে পড়েন হেফাজতের নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহার (Jihad)। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরশিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাকে হেফাজত-সহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘অ-ইসলামিক’ বলে আখ্যা দেয় এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ না হলে পথে নামার হুমকিও দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হেফাজতের এক কর্মী হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও তাঁর শতাধিক অনুগামীর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইসকনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে (Bangladesh Election)।

    দেশব্যাপী বনধ্

    ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় হেফাজত দেশব্যাপী বনধ ডাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে হামলায় অন্তত ১০ জন জখম হন। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল এবং সিএএ কার্যকরের পর হেফাজত ভারতকে ‘উম্মাহর অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরে একাধিক সমাবেশ করে (Jihad)। সব মিলিয়ে ইসলামপন্থী শক্তিগুলির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কার্যত ‘কে প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে’—এই প্রশ্নের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। হেফাজত-জামায়তে বিভাজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইসলামের গভীর আদর্শগত ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে (Bangladesh Election)।

     

  • Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার সরকারকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিল নিহত শরিফ ওসমান হাদির (Osman Hadi) ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। এহেন আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে হাদির অভিযুক্ত খুনির একটি ভিডিও। বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থার মতে, হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওই ভিডিওতে দাবি করেছে (Bangladesh), খুন করার পর সে হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে – এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    অভিযুক্ত খুনির দাবি (Osman Hadi)

    মাসুদের দাবি, হাদির সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল আর্থিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিডিওতে সে জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ছিল। সেই সময় সাহায্যের জন্য হাদির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। হাদি তাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। মাসুদের বক্তব্য, পরে সে হাদির হয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কাজেও যুক্ত হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা বাংলাদেশের কোনও সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভিডিওতে মাসুদ বলে, “হাদির সঙ্গে কথা বলার পর তিনি আমাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। তাই আমি সেই টাকা দিই। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত লবিং।”

    ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চ রবিবার রাতে ঢাকার শাহবাগ থেকে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনের সদস্য-সচিব আবদুল্লা আল জাবের এই ঘোষণা করেন। ভারতবিরোধী অবস্থান বজায় রেখে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা হলে ভারতে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট স্থগিত করতে হবে। পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের (Osman Hadi) এই দাবি আসে এমন একটা সময়ে, যখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযোগ করে যে হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই প্রধান সন্দেহভাজন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এই সীমান্তটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে সে।

    অভিযুক্ত হত্যাকারীর ভিডিও

    এই অভিযোগ ওঠার ঠিক একদিন পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অভিযুক্ত হত্যাকারীর একটি ভিডিও। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ওই ব্যক্তি জানায়, সে দুবাইয়ে রয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, সে ওসমান হাদিকে হত্যা করেনি। তার দাবি, জামাত-শিবিরের সদস্যরাই ছাত্রনেতা হাদিকে হত্যা করেছে এবং সে এই হামলার পেছনে জামাতিদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের (Bangladesh) কোনও সংস্থাই এখনও কোনও প্রতিক্রিয়াও জানায়নি।

    হাদি হত্যাকাণ্ডের জেরে বাংলাদেশে অস্থিরতা

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক শহরে হিংসার ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ তাঁর হত্যার জন্য ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করেছে। এই হিংসার বলি হয়েছিলেন দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডল নামে দুই হিন্দু নাগরিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কট্টর ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা হাদি তাঁর তীব্র ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই আন্দোলনের জেরেই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে (Osman Hadi) দেশান্তরিত হতে হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির খালেদা জিয়া প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশে ফিরেছেন (Bangladesh) তাঁর ছেলে তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বর পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপিকেই নির্বাচনের (Osman Hadi) অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন বয়কট করেছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

  • Bangladesh Polls 2025: তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র দাখিল: ঢাকা-১৭ আসন, ২০২৬ নির্বাচন

    Bangladesh Polls 2025: তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র দাখিল: ঢাকা-১৭ আসন, ২০২৬ নির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Bangladesh Polls 2025) আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতারিত করার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অরাজকতা, সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চরমে পৌঁছে গিয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা (Bangladesh Polls 2025)

    ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিতারিত করার পর দেশের ইতিহাসে এটি একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রহমান তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসেন। তাঁর হয়ে দলের নেতারা ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারেক রহমান আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (Bangladesh Polls 2025) ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্রটি সেগুনবাগিচা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৮ ডিসেম্বর, শনিবার তারেক ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হিসেবে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। এরপরেই বিএনপি নেতারা তাকে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুরোধ করেন।

    মাতৃভূমির মাটিতে ফিরে পরিবর্তনের ডাক

    তারেক রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র (Bangladesh Polls 2025) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে নিজ দেশে তিনি যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এক্স‘ হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বলেন, “প্রিয় বন্ধু, বোন ও ভাইয়েরা, সারা বাংলাদেশে, গত বৃহস্পতিবার এমন একটি দিন ছিল যা আমি চিরকাল হৃদয়ে ধরে রাখব, যেদিন ১৭টি দীর্ঘ বছর পর আমি আমার মাতৃভূমির মাটিতে ফিরে এসেছি। আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, ঢাকার রাস্তা ধরে মুখচ্ছবিগুলোর সমুদ্র এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রার্থনা—এসব মুহূর্ত আমি কখনো ভুলব না। আমার গভীরতম ধন্যবাদ সবাইকে। শব্দে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয় আমাদের পরিবার এবং আমার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য কেমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অনুভব করছি। আমাদের সেইসব সমর্থকদের প্রতি, যারা প্রতিটি কঠিন সময়ে আমাদের পাশে ছিলেন এবং কখনও আশা হারাননি, আপনাদের সাহস আমাকে শক্তি জুগিয়ে চলেছে।”

    সব মামলায় মুক্ত তারেক

    তারেক রহমান (Tarique Rahman) ২০০৭-০৮ সালের সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সপরিবারে লন্ডনে যান এবং দেশে ফিরে আসেননি। ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত সাত বছর ধরে তিনি লন্ডন থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার লড়বেন নির্বাচনে (Bangladesh Polls 2025)।

    হিন্দু নির্যাতন কি কমবে?

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা পরিবর্তনের পর, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলে দায়ের করা মামলাগুলি থেকে তারেক (Tarique Rahman) একে একে মুক্তি পেয়েছেন। এরপর দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হয়েছে। বিএনপি এর আগে ১৩তম সংসদ নির্বাচনের জন্য আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বগুড়া-৬ আসন থেকে ভোট দেবেন।

    তবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে (Bangladesh Polls 2025) ঘিরে দেশের অভ্যন্তরে হিন্দুদের উপর কট্টর মৌলবাদীদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেই চলছে। ভালুকা, রাজশাহী, পিরোজপুরে লাগাতার হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছে। কাউকে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অপবাদ পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে আবার কোথাও বাইরে থাকে ঘরে তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার কর্মকাণ্ড চলছে। সবটা মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যা লঘুদের উপর ফের একবার বিপর্যয় নেমে এসেছে।

  • Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নিতে জড়ো হয়েছেন হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক। বিমানবন্দর সড়ক থেকে বনানী পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে পদযাত্রা করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ও নির্ধারণী মুহূর্ত।”

    ২০০৮–২০২৫: নির্বাসনের জীবন

    ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দেশ ছাড়ার পর থেকে তারেক রহমান (Tarique Rahman) লন্ডনে ছিলেন। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বিদেশ থেকেই দল পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি পিআর ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ একাধিক মামলা ছিল, এমনকি শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর সব মামলা থেকে তিনি খালাস পান, ফলে তাঁর দেশে ফেরার আইনি বাধা দূর হয়।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাবর্তনের সময়

    তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরা এমন এক সময়ে হলো, যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদায় নিয়েছেন এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তবে, ইউনূসের আমলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) ডিসেম্বরের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান—যিনি তারেক জিয়া নামেও পরিচিত—বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং তাঁকে দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত কারণও বড় ভূমিকা

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি তার মায়ের শারীরিক অসুস্থতাও বড় কারণ। বেগম খালেদা জিয়া কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এনসিপির মুখপাত্র খান মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “চাপ ও হুমকির মুখে তারেক রহমানকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। তার প্রত্যাবর্তন প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের পথে আমরা তাঁর সঙ্গে থাকব।”

LinkedIn
Share