Tag: TCS Controversy

  • TCS Nashik Case: ‘চুপ থাকো, নইলে বিপদ’! যৌন হেনস্থা থেকে জোর করে ধর্মান্তর, নাসিকের টিসিএস নিয়ে জাতীয় স্তরে তদন্ত

    TCS Nashik Case: ‘চুপ থাকো, নইলে বিপদ’! যৌন হেনস্থা থেকে জোর করে ধর্মান্তর, নাসিকের টিসিএস নিয়ে জাতীয় স্তরে তদন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস (Tata Consultancy Services)-এর বিপিও ইউনিট ঘিরে বিতর্কিত ‘ধর্মান্তর’ ও যৌন হেনস্তা মামলায় নতুন মোড়। মামলার (TCS Nashik Case) অন্যতম অভিযুক্ত নিদা খান গত এক সপ্তাহ ধরে পলাতক। পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালালেও এখনও তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিদা খানের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তেমন কোনো তথ্য মেলেনি। স্বামী দাবি করেছেন, তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছেন। তবে পুলিশ ওই বাড়িতে পৌঁছে সেটি তালাবন্ধ অবস্থায় পায়। তদন্তকারীদের ধারণা, গ্রেফতার এড়াতে নিদা খান প্রায় দু’মাস আগে মুম্ব্রা এলাকায় সরে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনটি পৃথক পুলিশ দল তাকে খুঁজছে, যার একটি দল মুম্ব্রায় সক্রিয়।

    কীভাবে শুরু এই মামলা

    ঘটনার সূত্রপাত হয় এক ২৩ বছর বয়সি মহিলা বিপিও কর্মীর অভিযোগে। তিনি তার সহকর্মী দানিশ শেখের বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তোলেন। এরপর নাসিক পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে। যার মধ্যে রয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক (ধারা ৬৯), যৌন হেনস্তা (ধারা ৭৫), ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত (ধারা ২৯৯)। টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন (N Chandrasekaran) এই ঘটনাকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সিওও আর্থি সুব্রামনিয়ান। এছাড়া নজরদারি কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন কেকি মিস্ত্রি।

    নিদা-কে নিয়ে বিভ্রান্তি

    এই মামলার (TCS Nashik Case) মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে নিদা খান-এর নাম। নিদা খান, অভিযুক্ত দানিশ শেখের বোন। তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রথমে শোনা গিয়েছিল নিদা খান এইচআর প্রধান, কিন্তু পরে সূত্র মারফত জানা যায় তিনি আদতে একজন টেলিকলার বা সাধারণ কর্মী। নিদার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে একটি চক্রের হয়ে ‘কর্পোরেট জিহাদ’ চালাত। নিদা নাকি সংস্থার মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা করত। এমনকী হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ। জবরদস্তি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ।

    ‘চুপ থাকো নইলে বিপদ’

    তদন্তের চেয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটের এইচআর (HR) বিভাগের ভূমিকা নিয়ে। নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, তিনি যখন অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে যান, তখন তাঁকে সাহায্য করার বদলে ‘মুখ বন্ধ’ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগ করলে কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই তরুণী। এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা করতে গিয়েই কি অপরাধীকে আড়াল করা হয়েছে? যদিও টিসিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতিতে বিশ্বাসী এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    টাটার দাবি

    টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) নাসিক শাখার বিপিও-তে যৌন হেনস্থা কেলেঙ্কারিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। তবে টাটার তরফ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, পুলিশ যে সব ঘটনার তদন্ত করছে, সেই সংক্রান্ত ঘটনার বিষয়ে কোনও অভিযোগ তারা পায়নি। টিসিএস-এর সিইও ও এমডি কে কৃতিবাসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রাথমিক ভাবে সিস্টেম এবং রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, এথিকস বা পশ (POSH) চ্যানেলে এই ধরনের কোনও অভিযোগই দায়ের করা হয়নি। এদিকে টিসিএসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত নিদা খানকে গত ৯ এপ্রিল সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবং নিদা খান একজন প্রোসেস অ্যাসিয়েট ছিল। সে এইআচর ম্যানেজার ছিল না এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিসিএস-এর প্রেসিডেন্ট ও সিওও আরথি সুব্রামানিয়ানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। এবং এর জন্য স্বাধীন পরামর্শদাতা হিসেবে ডেলয়েট এবং স্বনামধন্য আইন সংস্থা ট্রাইলিগালের বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হয়েছে।’

    তদন্তকারীদের নজরে

    নাসিক পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এখন আপাতত ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। টিসিএস-এর ওই ইউনিটের বেশ কয়েকজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের কঠোর সাজা তো হবেই, পাশাপাশি অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনার পর যে ৬টি দিক নিয়ে তদন্তকারীরা কাজ করছেন তা হল—

    • আইনের প্রয়োগ: কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সুরক্ষা আইন (POSH Act) কি টিসিএস-এর মতো বড় সংস্থায় কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ?
    • অভ্যন্তরীণ তদন্তে গাফিলতি: প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর কেন তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
    • ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ: অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণীর কল রেকর্ড এবং চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
    • মানসিক হেনস্থা: কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত পরিবেশ (Toxic Culture) তৈরি করার দায় কার?
    • প্রমাণ লোপাট: সিসিটিভি ফুটেজ বা গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জাতীয় স্তরে নজরদারি

    টিসিএস-এর (TCS Nashik Case) মতো সংস্থা, যেখানে কাজ করার জন্য লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন দেখে, সেখানে এই ধরনের ঘটনা সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা তৈরি করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস (Devendra Fadnavis) এই ঘটনাকে “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যদি তদন্তে “কর্পোরেট জিহাদ”-এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিডব্লিউ (National Commission for Women) ইতিমধ্যেই চার সদস্যের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি এনএইচআরসি (National Human Rights Commission) মহারাষ্ট্র পুলিশ, শ্রম দফতর টিসিএস কর্তৃপক্ষকে নোটিস জারি করে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।

  • TCS Nashik Case: ‘দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়ষন্ত্র, সন্ত্রাসবাদের সামিল’, টিসিএসে কাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে

    TCS Nashik Case: ‘দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়ষন্ত্র, সন্ত্রাসবাদের সামিল’, টিসিএসে কাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (TCS Nashik Conversion Case) ধর্মান্তর বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল। বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হল শীর্ষ আদালতে। ওই আবেদনে বলে হয়েছে, বিষয়টি জেনে গোটা দেশ চমকে উঠেছে। এই ধরনের কাজ ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে’র আওতায় পড়ে। ‘অবৈধ ধর্মান্তর’ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি। এই ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত করতে শুক্রবার ঘটনাস্থলে যাচ্ছে জাতীয় মহিলা কমিশনের এক প্রতিনিধি দল। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তারা স্বতঃপ্রণোদিত (suo motu) হয়ে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। গঠন করা হয়েছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।

    নাসিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের দল

    নাসিকের (TCS Nashik Conversion Case) এই ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, কমিশন ১৯৯০ সালের জাতীয় মহিলা কমিশন আইনের ৮ নং ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন বম্বে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সাধনা যাদব, হরিয়ানার প্রাক্তন ডিজিপি বিকে সিনহা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিকা অরোরা এবং এনসিডব্লিউ-এর সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর লীলাবতী। ওই কমিটির শুক্রবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার কথা। ওই সংস্থার কর্মী, অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

    শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা

    এই বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। এই আবেদনটি দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় (Ashwini Kumar Upadhyay) ও তাঁর পক্ষে আইনজীবী অশ্বিনী দুবে। জনস্বার্থ মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, নাসিকের ঘটনাটি (TCS Nashik Case) ব্যতিক্রম নয়। বরং বড়সড় চক্রান্তেরই অংশ। আবেদনকারীর আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতকে জানান, “প্রতারণামূলক ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর” দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যখন বলপ্রয়োগ বা প্রলোভন ব্যবহার করে সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ধর্মান্তরণ চালানো হয়, তখন তা ভারতের জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনে একটি “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” হিসেবে গণ্য হয়। বেশ কিছু বিদেশি সংস্থা অর্থ জুগিয়ে করে এদের সাহায্য করছে। আবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যকলাপ দেশের অখণ্ডতাকে বিপন্ন করে। ফলে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আইনের আওতায় এর বিচার হওয়া উচিত।

    সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— এই ধরনের সংগঠিত ধর্মান্তরকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ধারা ১১৩-এর আওতায় আনতে হবে। আবেদনে ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া হলেও তার সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা মানে এই নয় যে কেউ ইচ্ছামতো কিছু করতে পারবেন। কখনই প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর সংবিধানসম্মত নয়। জোরপূর্বক ধর্মান্তর মামলার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথা বলা হয়েছে। দোষীদের জন্য ধারাবাহিক (consecutive) শাস্তির বিধান দিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে তার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে কঠোর আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে হবে।

    মেয়েদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা

    যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ রয়েছে আইটি জায়েন্ট টিসিএস-এর নাসিক কেন্দ্রের বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ এনেছেন টিসিএসের কমপক্ষে ন’জন মহিলা কর্মী। একজন পুরুষ কর্মীও মানসিক নির্যাতন ও ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, “কোম্পানির চার-পাঁচজন মুসলিম কর্মী এবং কিছু কর্মকর্তা চাকরি, ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, মহিলাদের “নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।” গোট ঘটনায় মুখ পুড়েছে ভারত বিখ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার। ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্তে নেমেছে নাসিক পুলিশ।

    দলবদ্ধভাবে কাজ, জানাল নাসিক পুলিশ

    এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ মোট ৯টি এফআইআর দায়ের করেছে। সাতজন পুরুষ ও একজন মহিলা সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও আরও এক মহিলা অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া পুরুষ অভিযুক্তদের নাম হল দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসার এবং শাহরুখ শেখ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে তদন্তকারী দল। তাঁরা কীভাবে কাজ করত, সেটা জানার চেষ্টা চলছে। নাসিক পুলিশের কমিশনার সন্দীপ কারনিক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গিয়েছে যে সাতজন পুরুষ এই টিসিএস-এর বিপিও-তে একটি সংগঠিত দলের মতো কাজ করত। তারা মহিলা কর্মীদের টার্গেট করত। তাঁর কথায়, ‘এই সাতজন পুরুষ কর্মী অধিকাংশ মামলায় সহ-অভিযুক্ত, যা থেকে বোঝা যায় তারা দলবদ্ধভাবে কাজ করত।’এই পুরো কারবারের মাথা হিসেবে উঠে এসেছে নিদা খানের নাম। অভিযোগ, নিদা খান নামে ওই এইচ আর ম্যানেজার নতুন জয়েনি মেয়েদের প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অ্যাড করতেন। তারপর তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে ধর্মীয় আলোচনায় টেনে আনতেন। এরপর তাঁদের ধর্মান্তরণে প্ররোচনা দিতেন। ৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী টিসিএস-এর একাধিক মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরণের অভিযোগে এফআইআর করেছেন।

  • TCS Nashik Controversy: “সন্তান চাইলে স্ত্রীকে পাঠাও”! টিসিএস নাসিক কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কর্মীর, বন্ধ হল বিপিও ইউনিট

    TCS Nashik Controversy: “সন্তান চাইলে স্ত্রীকে পাঠাও”! টিসিএস নাসিক কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কর্মীর, বন্ধ হল বিপিও ইউনিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (Tata Consultancy Services) বা টিসিএস-এর নাসিকের বিপিও ইউনিটে যৌন হেনস্থা এবং জোর করে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল। একাধিক মহিলা কর্মীর অভিযোগের পর এবার এক পুরুষ কর্মীও সামনে এসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওই কর্মী অভিযোগ করেন, তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে জোর করে নামাজ পড়তে বাধ্য করতেন, কালমা পাঠ করাতেন এবং মাথায় ফেজ টুপি পরতে বাধ্য করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, এক অভিযুক্ত তাঁকে কুরুচিকরভাবে বলেন— “সন্তান চাইলে স্ত্রীকে পাঠাও।” অভিনব কায়দায় মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস-এর মধ্যে এই ধর্মান্তর চক্রের হদিশ পায় পুলিশ।

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    ওই কর্মীর অভিযোগ, ২০২২ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর উপর মানসিক ও ধর্মীয় চাপ তৈরি করা হয়। টিম লিডার তৌসিফ আখতার ও সহকর্মী দানিশ শেখ তাঁর উপর অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দিতেন এবং ধর্মীয় আচরণে বাধ্য করতেন বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, এর আগে ২৩ বছর বয়সি এক মহিলা কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে দানিশ শেখের বিরুদ্ধে জোর করে চুম্বনের চেষ্টা ও বিয়ের চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্মান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে।

    গোপনে তদন্তে মহিলা পুলিশ

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ আন্ডারকভার মহিলা অফিসার মোতায়েন করে। টিসিএসের এই অফিসে ছদ্মবেশে মহিলা কন্সটেবলদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গোপন অপারেশন চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, এটি নিছক হয়রানির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বেরিয়ে এসেছে। যে কারণে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

    ঘটনার সূত্রপাত

    পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একজন রাজনৈতিক কর্মী নাসিক পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, কোম্পানিতে কর্মরত এক হিন্দু মহিলা রমজান মাসে রোজা রাখছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ হয়। তারা একটি গোপন অভিযান শুরু করে। এই অভিযানটি ধীরে ধীরে একটি বিস্ফোরক রহস্য উন্মোচন করে। পুলিশ সাফাইকর্মীর ছদ্মবেশে মহিলা কনস্টেবলদের কোম্পানির ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। এরা ক্যাম্পাসের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কিছু টিম লিডার তাদের পদের অপব্যবহার করছিলেন। তদন্তে জানা যায়, কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছিল। তাদের মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল।

    ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপের অভিযোগ

    অভিযোগকারী পুরুষ কর্মী জানান, তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং নিয়মিত রুদ্রাক্ষ মালা পরেন। এই কারণেই তাঁকে বারবার বিদ্রূপ করা হত। হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে কটূক্তি করা হতো বলেও অভিযোগ। তিনি আরও দাবি করেন, একাধিকবার তাঁকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোর করে আমিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি নিরামিষভোজী হওয়ায় আপত্তি জানালে তাঁকে অপমান করা হয়। ২০২৩ সালের ইদের দিনে তাঁকে এক সহকর্মীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোর করে টুপি পরিয়ে নামাজ পড়ানো হয় এবং সেই ছবি অফিসের গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী বলেন, তাঁর নিঃসন্তান জীবন নিয়ে তাঁকে নিয়মিত অপমান করা হত। স্ত্রীকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা হতো, যা মানসিকভাবে তাঁকে ভেঙে দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারার হুমকি দেওয়া হয়। অফিসে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে চাকরি থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি তাঁর অসুস্থ বাবাকে নিয়েও ধর্মান্তরের প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি।

    বিদেশি সংযোগ

    তদন্ত চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে মালয়েশিয়ায় সন্দেহভাজন ধর্মপ্রচারক ইরমানের নামও প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ ওঠে, ভিডিও কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর থেকেই বোঝা যায়, মামলাটি শুধু স্থানীয় নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন এই বিদেশি সংযোগও খতিয়ে দেখছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) অনুসারে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই সংখ্যা ছিল ৯, কিন্তু তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকে এগিয়ে এসেছেন। এখনও পর্যন্ত আটজন মহিলা কর্মী ও একজন পুরুষ কর্মী মোট নয়টি এফআইআর দায়ের করেছেন। এই সমস্ত অভিযোগে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় জবরদস্তির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এই ঘটনাগুলো ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলেছিল। এর থেকেই স্পষ্ট যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী ধারা ছিল।

    এফআইআর-এ কী বলা হয়েছে

    প্রথম এফআইআর-এ দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং নিদা খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তারা হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। দ্বিতীয় এফআইআর-এ রাজা মেমন এবং শাহরুখ কুরেশির বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ এফআইআর-এও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শাফি শেখ ও তৌসিফ আখতারের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীদের পিছু নেওয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। পঞ্চম এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মীদের নামাজ পড়তে ও মাংস খেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেও বাধ্য করা হয়েছিল।

    এফআইআর-এ কাদের নাম

    ষষ্ঠ ও সপ্তম এফআইআর-এও অভিযুক্তদের দ্বারা হয়রানি, পিছু ধাওয়া এবং অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় একাধিক ব্যক্তি এই নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করছিল। অষ্টম ও নবম এফআইআর-এও ক্রমাগত হয়রানি, বিয়ের জন্য চাপ এবং মানসিক চাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, অভিযুক্তরা তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাত এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করত। এতে অনেক কর্মচারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, শফি শেখ, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, আসিফ আনসারি, অশ্বিনী চেইনানি এবং নিদা খান। পুলিশ অশ্বিনী চেইনানিকে আটক করেছে, তবে নিদা খান এখনও পলাতক। তাকে খুঁজে বের করার জন্য অভিযান চলছে।

    সাময়িক বন্ধ টিসিএস নাসিকের বিপিও ইউনিট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে এই মামলায় বিদেশি অর্থ দেওয়া, ব্যাঙ্কে লেনদেন, কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণের ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের হয়রানি বা জবরদস্তির কোনও স্থান নেই, বলে জানিয়েছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা সামনে আসার পর টিসিএস নাসিকের বিপিও ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্মীদের ওয়ার্ক-ফ্রম-হোমে পাঠানো হয়েছে।

LinkedIn
Share