Tag: Tel Aviv

  • Flydubai Hijacking: ৯/১১-ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা! দুই বিমানের সংঘর্ষের কথাও ভেবেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট

    Flydubai Hijacking: ৯/১১-ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা! দুই বিমানের সংঘর্ষের কথাও ভেবেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের ইজরায়েলগামী বিমানের কো-পাইলটের পরিকল্পনা একে একে প্রকাশ্যে আসছে। ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Hijacking) একটি যাত্রীবাহী বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা এবং সেটিকে ইজরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে বিমানের সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে, কোনও পরিকল্পনাই তিনি বাস্তবায়িত করতে পারেননি। কিন্তু সফল হলে ৯/১১-র ধাঁচে আরও একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সাক্ষী হত গোটা বিশ্ব। ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছেন। তারাই তদন্ত করছে। গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমে দাবি, তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের পরিকল্পনা বিশদে জানিয়েছেন। স্বীকার করেছেন, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে মেরে বিমানটি ‘ক্র্যাশ’ করাতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই মতোই পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

    বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানি নাগরিক হিসেবে পরিচিত আল-হাম্মামি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের কাছে নাকি বলেছেন, প্রথমে তিনি বিমানের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। এরপর বিমানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় অবতরণের অনুমতি নেওয়ার পর বিমানটিকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনও ভবন অথবা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিমানটি জর্ডানের আকাশসীমার কাছে পৌঁছনোর সময় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বেন গুরিয়নে পৌঁছনো সম্ভব না হলে তেল আভিভের কোনো উঁচু ভবন অথবা জর্ডানে অবস্থিত কোনো মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কথিত হামলার পরিকল্পনাটি সহ-পাইলট নিজে করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নির্দেশনা ছিল।

    ৯/১১-ধাঁচের হামলার পরিকল্পনা

    হামাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে তাঁর লক্ষ্য ছিল তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেখানে পৌঁছে কোনও বিমানে ধাক্কা মারতে পারলে তাঁর পরিকল্পনা সফল হত। হামাম জানিয়েছেন, দুই বিমানের সংঘর্ষের কথা তিনি ভেবে রেখেছিলেন। তা একান্ত সম্ভব না-হলে তেল আভিভ শহরের উঁচু কোনও ইমারতে বিমান ঢুকিয়ে দিতেন তিনি। দুই ক্ষেত্রেই প্রচুর সংখ্যক প্রাণহানির সম্ভাবনা তৈরি হত। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় আল কায়েদার সন্ত্রাসবাদী হামলা দ্বারা হামাম অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই সেই ধাঁচে একের পর এক পরিকল্পনা করেছিলেন।

    ভারতীয় পাইলটের প্রতিরোধ

    বিমান জর্ডনের কাছাকাছি চলে আসার পর তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। তার আগে পর্যন্ত কাউকে কিছু টের পেতে দেননি। জর্ডন হয়ে বিমানটি ইজরায়েলে ঢুকত। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, জর্ডনের আকাশসীমা পেরিয়ে ইজরায়েলের দিকে যাওয়ার সময় সহ-পাইলট ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। তাঁকে মেরে ফেলার পরও বিমান স্বাভাবিক ভাবে উড়িয়ে তেল আভিভ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যাতে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলি নির্ঝঞ্ঝাটে পাওয়া যায়। কিন্তু বাধ সাধলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ। হামলায় ক্যাপ্টেন আহত হলেও তিনি পাল্টা প্রতিরোধ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    বিমান ধ্বংসের শেষ চেষ্টা

    অভিযোগ, পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে দেখে শেষ চেষ্টা করেছিলেন হামাম। বিমানের অটোপাইলট বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। দু’টি ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেন। এর ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। যাত্রীআসনে আরও দুই পাইলট না-থাকলে বিমানটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হত না। বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটও নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানে মোট ১৭২ জন ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলায় ক্যাপ্টেন আহত হন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই ক্রু সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পূর্ববর্তী চাকরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তকারীরা সহ-পাইলটের পূর্ববর্তী কর্মজীবন ও কার্যকলাপও খতিয়ে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি এর আগে ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন এবং সেখানেই পাইলট প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি পর্যবেক্ষণের সময় কিছু উদ্বেগের বিষয় সামনে আসার পর তাকে অফিসের দায়িত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কথিত কার্যকলাপও তদন্তের আওতায় এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি দুবাইয়ে ইজরায়েলি এয়ারলাইন্সের বিমানের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন এবং পরে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন।

    ইজরায়েলগামী রুটের জন্যই ফ্লাইদুবাই

    তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পাওয়ার আগেই আল-হাম্মামি ইজরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন বিমান সংস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি একাধিকবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। গত জুনে একটি সফরের সময় তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ওই ফ্লাইটের এক ক্রু সদস্য তাঁর পরিচিত হওয়ায় তিনি তা থেকে সরে আসেন বলে তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার পরেও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ‘নায়ক’ বলে প্রশংসা করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। শনিবার টেলিফোনে পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য (Israel Independence Day) আমন্ত্রণও জানান নেতানিয়াহু। স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি ইজরায়েল, ভারত এবং গোটা বিশ্বের কাছে একজন নায়ক।”

    নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ (Netanyahu)

    এর পরেই তিনি মচ্ছর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “আমি আপনাকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তাঁর কথায়, স্বাধীনতা দিবসে মশাল প্রজ্বলন ইজরায়েলের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মানগুলির একটি। তিনি বলেন, “সাধারণত এই সম্মান ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমি মনে করি, এই ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সমস্ত নাগরিক আপনাকে আপন করে নেবেন।”

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে ঘটে নজিরবিহীন ঘটনা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন এবং বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। হামলার জেরে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায়। এর পরেই বিমান ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

    হামলার পরেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে অন্য যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও।

    ঠিক কী ঘটেছিল

    ফোনে নেতানিয়াহু মচ্ছরের কাছে জানতে চান, ঠিক কী ঘটেছিল। জবাবে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট গোটা ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সহ-পাইলট নমাজ আদায়ের জন্য তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। আচমকাই মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করেন (Netanyahu) তিনি।

    মচ্ছর বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, বিমানে কোনও সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তার পর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে। তখন বুঝতে পারি, বিমানে কোনও সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে ককপিটে থাকা অন্য ব্যক্তিই আমাকে আক্রমণ করছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে আঘাতের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি তিনি। একবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে আক্রমণকারী তা বন্ধ করে দেন।

    এর পর নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন মচ্ছর। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে যদি শেষ লড়াইটুকুও না থাকে, তাহলে আমি মারা যাব। তখন আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজার দিকে ধাক্কা দিই। আমার যা শক্তি ছিল, সবটুকু দিয়ে (Netanyahu) দরজা খুলে ফেলি।”

    পাইলটের মুখে পুরো ঘটনা শুনে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে আপনার সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে আমি (Israel Independence Day) অভিভূত।”

    নেতানিয়াহুর সমবেদনা

    নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আপনি এত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমার এবং আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনার স্ত্রীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবেন। আমি জানি, আপনার একটি পরিবার রয়েছে এবং আপনি বিভিন্ন দেশের মানুষের বৃহত্তর পরিবারেরও অংশ। যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।”

    এর আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আহত পাইলট (Israel Independence Day), যাত্রী এবং বিমানের অন্য কর্মীরা মিলে “৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন (Netanyahu)।”

     

  • Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলটকে ছুরি দিয়ে (Flydubai Hijacking) আঘাত এবং বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে নীচে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর ইজরায়েলের প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক শীর্ষ কর্তা রামি ইগ্রা দাবি করেছেন, ওমানি সহ-পাইলট একাই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

    প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তার দাবি (Flydubai Hijacking)

    ২ অক্টোবর সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, “এটি একজনের একক হামলা বলেই মনে হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, ওই ব্যক্তি একাই ইসলামি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করেছিলেন।” তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি যাতে বোঝা যায় যে সহ-পাইলট কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন। ইগ্রার দাবি, ওমানি সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে ইজরায়েলে প্যালেস্তাইন পক্ষের সমর্থনে লেখা কিছু প্রচারপত্র পাওয়া গিয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ওই সহ-পাইলট অন্য কোনও ব্যক্তি, দেশ বা সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন, তাহলে ঘটনার তাৎপর্য অনেক বড় হবে। তাঁর কথায়, “তিনি কি একাই এই কাজ করেছিলেন, যেমনটা আমি মনে করি, নাকি অন্য কোনও দেশ বা সংগঠন তাঁকে পাঠিয়েছিল—তার উপরেই এই ঘটনার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য নির্ভর করবে।”

    ইগ্রা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই এই ধরনের ‘একক হামলা’কে দেখতে হবে। তাঁর মতে, ধর্মীয় উগ্রপন্থায় প্রভাবিত কোনও ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকে ‘শহিদি’র পথ হিসেবে দেখলে এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য অবশ্য তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ; তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে (Flydubai Hijacking) না।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের (ইজরায়েলের রাজধানী) উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের উপর ওমানি সহ-পাইলট হামলা চালান বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি। এরপর বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। আহত অবস্থাতেও ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্ব নেন বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট এবং ওমানি সহ-পাইলট—দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওমানি সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁর পরিচয় ও নাম সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Flydubai Hijacking)।

    নেতানিয়াহুর দাবি

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ওই ওমানি সহ-পাইলট ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত তথ্য থেকেই এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণের পর সহ-পাইলট বিমানটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী মিশনে ছিলেন।

    নেতানিয়াহুর আরও দাবি, হামলাকারীকে যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তিনি বিমানের কর্মীদের তাঁকে হত্যা করতে বলেছিলেন। নেতানিয়াহু বলেন, “এতে স্পষ্ট যে তিনি আত্মঘাতী ছিলেন।” তাঁর মতে, বিমানটি ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তবে এই উদ্দেশ্য ও হামলার পেছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে (Flydubai Hijacking)।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্র?

    ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের সামনে অন্যতম বড় প্রশ্ন—ওমানি সহ-পাইলট কি নিজের সিদ্ধান্তেই হামলা চালিয়েছিলেন, নাকি কোনও সংগঠন বা রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ ছিল?

    ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, তিনি ‘একক হামলাকারী’। যদিও সম্ভাব্য বৃহত্তর যোগসূত্রের বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ হামলার অভিযোগ উঠেছে বিমানের এমন এক কর্মীর বিরুদ্ধে, যাঁর ককপিটে সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পাশাপাশি বিমানকর্মীদের নিয়োগ, যাচাই এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য উগ্রপন্থী যোগ এবং কোনও সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ওমানি সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন (Flydubai Hijacking) সৌদি কর্তৃপক্ষ।

     

  • Dubai: ককপিটে রক্তপাত! দুই পাইলটের মারামারি, তেল আভিভগামী বিমান দু’মিনিটে নামল ১৭ হাজার ফুট

    Dubai: ককপিটে রক্তপাত! দুই পাইলটের মারামারি, তেল আভিভগামী বিমান দু’মিনিটে নামল ১৭ হাজার ফুট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককপিটের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন দুই পাইলট। ঘটল রক্তপাত। এক পাইলটের ছুরির আঘাতে আহত হলেন আর এক পাইলট। ছড়াল বিমান অপহরণের আশঙ্কা। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী বিমান তখন মাঝ আকাশে। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় দুই পাইলটের মারামারি মধ্যে বিমান অপহরণের খবর রটতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। যদিও ইজরায়েলের তরফে অপহরণের বিষয়টি খণ্ডন করা হয়। তার মাঝেই জর্ডনের আকাশ থেকে আচমকা পথ বদলে ফেলে ফ্লাই দুবাইয়ের সেই বিমান। জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে।।

    সংঘর্ষের সঠিক কারণ অজানা

    বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। উড়ানের প্রায় দু’ঘণ্টা পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। এরপর কিছু সময়ের জন্য বিমান থেকে সম্ভাব্য হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত একটি সংকেত পাঠানো হয়। পরে সেটি আবার সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠাতে শুরু করে। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি হাইজ্যাকিং নয়। তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দুই পাইলটের একজন রাশিয়ান এবং অন্যজন ইউক্রেনীয় ছিলেন।

    অপহরণের ভুয়ো খবর!

    সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে বিমানটি ওড়ার কিছু পরেই সেটি থেকে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কাছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমান তখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ২ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। বিমানে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অফ ইজরায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় বিমান থেকে, তা থেকে একটি ভ্রম সৃষ্টি হয়েছিল যে, বিমানটি অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণের খবর চাউর হতেই ইজরায়েলি বায়ুসেনার বেশ কয়েকটি বিমান ওই বিমানের নিরাপত্তায় রওনা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পৌঁছোনোর কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু জর্ডনের আকাশে যখন বিমানটি ছিল, আচমকাই সেটি পথ বদলে ফেলে। তাতেই অপহরণের আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে।

    বিমানের ভিতরে আতঙ্ক

    বিমানের এক যাত্রী জানান, তাঁরা বিমানের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। পরে ককপিটের দরজা খোলা হলে সেখানে রক্ত দেখতে পান এবং এক পাইলটকে পকেটছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই যাত্রীর কথায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকজন ইজরায়েলি যাত্রী বিমানের ক্রুদের সাহায্য করেন। আতঙ্কিত যাত্রীরা ভেবেছিলেন, বিমানটি হয়তো দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। আর এক যাত্রী নোয়াম জানান, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন যাত্রীরা বুঝতে পারেন বিমানের ভিতরে গুরুতর কিছু ঘটেছে। তাঁর দাবি, এক পাইলট ছুরিকাহত হয়ে গুরুতর আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য বিমানটির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়। বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    ইজরায়েলে জরুরি তৎপরতা

    ঘটনার পর ইজরায়েলে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটি ইজরায়েলের দিকে না গিয়ে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই পরে জানায়, বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করেছে এবং বিমানের সমস্ত যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হাইজ্যাকিং বলে মনে করা হচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ককপিটে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে এবং ছুরিকাহত পাইলটের বর্তমান শারীরিক অবস্থা—সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • Israel: মোদি তেল আভিভ ছাড়ার পরেই ইরানে হানার ছক কষা হয়, সাফ জানালেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত

    Israel: মোদি তেল আভিভ ছাড়ার পরেই ইরানে হানার ছক কষা হয়, সাফ জানালেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে কাজে লাগানো হয়েছে “অপারেশনাল সুযোগ”। অন্তত ইজরায়েলের (Israel) তরফে এমনই দাবি করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল যৌথ হামলা চালায় ইরানে। ইজরায়েলি আধিকারিকরা একেই অপারেশনাল সুযোগ বলে বিবৃতি দিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুযোগটি তৈরি হয় কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) তেল আভিভ সফর শেষ হওয়ার পর। ভারতে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সংবাদ মাধ্যমে জানান, মোদির সফরের সময় তেহরানের বিরুদ্ধে আসন্ন সামরিক অভিযানের কোনও পূর্বাভাস ছিল না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাই মোদি থাকার সময় ইজরায়েলের ইরান হানার ছক কষা হয়েছিল বলে যে দাবি কংগ্রেস করছে, সেটা খারিজ করে দিলেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত। প্রসঙ্গত, গত দু’দিন ধরে কংগ্রেস এ নিয়ে আক্রমণ করেছে মোদিকে।

    অপারেশনাল সুযোগ (Israel)

    তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি অপারেশনাল সুযোগ, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলে যাওয়ার পর সৃষ্টি হয়। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আমরা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলাম, কিন্তু যে বিষয়টি তখনও আমরা জানতাম না, তা শেয়ার করা সম্ভব হয়নি।” আজার আরও জানান, মোদির সফর শেষ হওয়ার পর প্রায় দু’দিন সময় লাগে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত রূপ নিতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইজরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার তরফে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালায়। হামলা করা হয় রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক শহরে। “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচিত এই অভিযানটি স্থগিত হয়ে থাকা পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এবং তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ পুনরায় শুরু করেছে—এমন অভিযোগের পর পরিচালিত হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা আঘাত হানে। এর কয়েকটি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে রয়েছে দুবাই, আবুধাবি, কাতার ও বাহরাইন (Israel)।

    ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

    তেহরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধ এড়াতে আলোচনার চেষ্টা করার জন্য ইরানের অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” আজার জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা ও সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে ইজরায়েল বহু বছর ধরে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের এমন গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরি (PM Modi) করতে হয়েছে যাতে আমরা ইরানের শাসনব্যবস্থা ও তাদের সামরিক কাঠামোকে বুঝতে পারি—তারা পরবর্তী পদক্ষেপ কী নিতে পারে, কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তারা কোথায় অবস্থান করছে এবং কোন সক্ষমতাগুলি ইজরায়েলের জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার প্রযুক্তি উন্নয়নে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা ঢাল শক্তিশালী করতে ইজরায়েল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই হুমকি শুধু ইরান থেকেই নয়, বরং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলির কাছ থেকেও আসে (Israel)।” দু’দিনের ইজরায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দেশের সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে রাজি হন (PM Modi)।

     

  • Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল (Israel) বহু বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে ঢুকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Khamenei) ও তাঁর নিরাপত্তা দলের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল, তাঁকে হত্যা করার অনেক আগে থেকেই। একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক এবং অভিযানের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। জানা গিয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরাই বছরের পর বছর হ্যাক করা হয়েছিল। সেগুলির ভিডিও ফুটেজ এনক্রিপ্ট করে তেল আভিভ ও দক্ষিণ ইজরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হত।

    নজরদারির খুঁটিনাটি (Israel)

    সূত্রের খবর, একটি নির্দিষ্ট ক্যামেরার কোণ বিশেষভাবে কার্যকর ছিল—এর মাধ্যমে দেহরক্ষীরা কোথায় তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করতেন, তা নির্ধারণ করা যেত এবং পাস্তুর স্ট্রিটের নিকটবর্তী কম্পাউন্ডের ভেতরের রুটিন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে খামেনেইয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর বিস্তারিত ডসিয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। এতে তাঁদের ঠিকানা, ডিউটির সময়সূচি, কর্মস্থলে যাওয়ার রুট এবং কোন কর্মকর্তাকে রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন—এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গোয়েন্দাদের ভাষায় এটি হল, “প্যাটার্ন অব লাইফ”। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশে প্রায় এক ডজন মোবাইল ফোন টাওয়ারের বিভিন্ন উপাদানও ইজরায়েল বিঘ্নিত করেছিল। ফলে ফোনে কল করলে সেটি ‘ব্যস্ত’ দেখাত এবং খামেনেইয়ের নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সম্ভাব্য সতর্কবার্তা গ্রহণ করতে পারতেন না (Israel)।

    ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, হামলার অনেক আগেই আমরা তেহরানকে ঠিক যেমনভাবে জেরুজালেমকে চিনি, তেমনভাবেই চিনতাম।” তিনি জানান, ইজরায়েলের সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০, মোসাদের নিয়োগ করা মানবসূত্র (Khamenei) এবং সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে একটি ঘন ও বিস্তৃত ইন্টেলিজেন্স মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। পত্রিকাটি আরও জানায়, ইজরায়েল ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যানালিসিস’ নামে পরিচিত একটি গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করেছিল, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র ও নয়া লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা যায়, অন্তত এমনই জানিয়েছেন এই পদ্ধতির ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি (Israel)।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দু’জন জানান, হামলার দিন সকালে খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকরা কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইজরায়েলি গোয়েন্দারা সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যার মধ্যে হ্যাক করা ট্রাফিক ক্যামেরা ও অনুপ্রবেশ করা মোবাইল নেটওয়ার্কও অন্তর্ভুক্ত ছিল (Khamenei)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পক্ষেরও একটি অতিরিক্ত মানবসূত্র ছিল, যা খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

     

  • Iran Israel War: যুদ্ধ শুরু ইরান-ইজরায়েলের, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি বিদেশ মন্ত্রকের

    Iran Israel War: যুদ্ধ শুরু ইরান-ইজরায়েলের, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি বিদেশ মন্ত্রকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের আশঙ্কায় ভারতীয়দের আগেই ইরান (Iran Israel War) ছাড়তে বলেছিল বিদেশ মন্ত্রক। এই পরিস্থিতিতে শনিবার অতর্কিতে ইরানে হামলা চালাল ইজরায়েল। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বাড়ির কাছেই হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর। ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরান। তাই ইজরায়েলে বসবাসকারী সকল ভারতীয় নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে। পাশাপাশি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

    প্রত্যাঘাত হানতে পারে ইরান

    যুদ্ধের আশঙ্কা করাই হচ্ছিল। সত্যি সত্যি ইরানে বড়সড় হামলা হল। তবে আমেরিকা নয়, হামলা চালাল ইজরায়েল। শনিবার সকালে ইরানের উপরে বড় হামলা চালায় ইজরায়েল। তেহরানে পরপর বিস্ফোরণ হয়েছে। হামলার পরই রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইরান। তেহরান জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় ছোটাছুটি করছেন। লম্বা অ্যাম্বুল্যান্সের মিছিল দেখা যাচ্ছে। পাল্টা জবাব দেবে ইরান, তা ধরেই নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলে সাইরেন বাজছে। ইরান নিজেদের এয়ারস্পেস খালি করেছে। হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল সমস্ত স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তেই প্রত্যাঘাত হানতে পারে ইরান।

    কী কী নির্দেশ বিদেশ মন্ত্রকের?

    ইজরায়েলে বসবাসকারী সকল ভারতীয় নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং হোম ফ্রন্ট কমান্ডের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশিকা এবং নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। তাদের আবাসস্থল বা কর্মক্ষেত্রের নিকটে থাকা সুরক্ষিত স্থানগুলি কোথায় তা জেনে নিতে হবে। এছাডাও, ভারতীয় নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদ, সরকারি ঘোষণা এবং জরুরি সতর্কতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা তেল আবিবের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে হেল্পলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।

    হেল্পলাইন নম্বর হল

    টেলিফোন: +৯৭২-৫৪-৭৫২০৭১১
    ই-মেইল: cons1.telaviv@mea.gov.in

    পরমাণু অস্ত্রের আশঙ্কা

    কূটনীতিকদের অনুমান, আমেরিকার নির্দেশেই ইজরায়েল হামলা করেছে তেহরানে। ইরানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। পারস্য় উপসাগরে মার্কিন রণতরী অপেক্ষা করছে। এই পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিশ্বের চাহিদার ৬০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে গোটা বিশ্বের। সেই কারণে আগে হরমুজ প্রণালীর পথ খোলা রাখতে চাইছে আমেরিকা। এবারের আক্রমণের পাল্টা জবাবে ইরান পরমাণু অস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।

  • Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়ে গেল পূর্ণমাত্রার সংঘাত। শনিবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল (US Israel) একযোগে হামলা চালাল ইরানে (Iran)। ইরানজুড়ে একযোগে ৩০টিরও বেশি টার্গেটে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার দফতর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। জবাবে তেল আভিভের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান।

    আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই কোথায় (Iran)

    ইরান জানিয়েছে, তেহরানের পূর্ব ও উত্তরাংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই বসবাস করেন। যদিও সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খামেনেইকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরান ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাবে’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামলার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হতে পারে। ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, “অস্ত্র নামিয়ে রাখো, নইলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবে।” এই নতুন হামলা ঘটল কয়েক মাস পর, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কাঠামোয় আঘাত হেনেছিল এবং গত বছরের জুনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশজুড়ে ডজনখানেক টার্গেটে হামলা চালিয়েছিল।

    ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’

    ইজরায়েল জানায়, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে একটি ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা শুরু করেছে। এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। হামলার তারিখও নির্ধারিত হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। ইরানে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, সর্বোচ্চ নেতার দফতর, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং পারচিন—যা ইরানের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি। প্রাথমিক চিত্রে তিন ধরনের টার্গেটের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমত, পশ্চিম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি—বিশেষ করে কেরমানশাহ, কারাজ এবং খোররামাবাদ অঞ্চলে। এই এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সরকারি ভবনগুলি। তৃতীয়ত, সন্দেহভাজন পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান—যেমন কোম ও বুশেহর (US Israel)।

    কী বলল আমেরিকা

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আকাশ ও সমুদ্রপথে পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকা জানিয়েছে, হামলা কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই কেন্দ্র করে হচ্ছে। হামলার খবর স্বীকার করে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেব। ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না (Iran)।” এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইজরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং জানায়, তাদের জবাব হবে “চূর্ণকারী”। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর (US Israel)। হামলার পর ইজরায়েল ও ইরান উভয়ই অসামরিক উড়ানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান থেকে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

    ইরানে শহর ছাড়ার ধুম

    আধিকারিকরা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক দিনব্যাপী অভিযান চালাতে পারে। এদিকে তেহরানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীতে পেট্রোল পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন পড়েছে। কারণ বহু মানুষ শহর ছাড়ার চেষ্টা করছেন (US Israel)। সর্বশেষ হামলার ঢেউ আগের টার্গেটভিত্তিক হামলার তুলনায় আরও বড় হতে পারে। এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের অভ্যন্তরে তার সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটতে পারে (Iran)।” মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেই ভারত ইজরায়েলে থাকা নাগরিকদের “সর্বোচ্চ সতর্কতা” অবলম্বন এবং নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই হামলা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন (US Israel)। পাশাপাশি তেহরানে খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন অভিযানে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন (Iran)।

    একাধিক মার্কিন বেসে পাল্টা হামলা ইরানের

    আমেরিকার হামলার পাল্টা হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্যবস্তু ঘাঁটিগুলি হল— কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস, কুয়েতের আল সালেম এয়ার বেস এবং জর্ডানের মুওয়াফাক আল-সালতি ঘাঁটি। এছাড়া, ইরান বাহরাইনে একটি মার্কিন নৌঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-র আল-ধাফরা এয়ারবেসেও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।

  • PM Modi: ইজরায়েলে পৌঁছলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরেই বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    PM Modi: ইজরায়েলে পৌঁছলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরেই বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলের তেল আভিভে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে এই সফর মোদির। সফরের লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা (Israel)।

    গার্ড অব অনার (PM Modi)

    বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন, যা দুই নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিমানবন্দরে পৌঁছেই দুই প্রধানমন্ত্রী উষ্ণ আলিঙ্গন বিনিময় করেন। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সফরকে দুই দেশের দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন (PM Modi)।

    বিমানবন্দরেই বৈঠক

    বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ও গতিশীলতার সাক্ষী হয়েছে।” এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় আছি (PM Modi)।” এদিন, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান শেষে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জেরুজালেমে মোদির কেনেসেট ভাষণের আগে বিমানবন্দরেই একটি বৈঠকে বসেন (Israel)।

    প্রকৃত বন্ধুত্ব

    নেতানিয়াহু হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “এটি একটি বন্ধন, একটি প্রকৃত বন্ধুত্ব।” দফতরের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি মোদিকে “আমার মহান বন্ধু” বলে সম্বোধন করেন, যার জবাবে মোদি হেসে প্রতিক্রিয়া জানান (PM Modi)। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ইসরায়েলে পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মিসেস নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আমাকে অভ্যর্থনা জানানোয় আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ফলপ্রসূ ফলাফলের মাধ্যমে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।”

     

LinkedIn
Share