Tag: terrorist encounter

terrorist encounter

  • NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির ছক! মায়ানমারের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৭ বিদেশি। সম্প্রতি ৬ ইউক্রেনীয় ও এক  মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক—ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইককে ( Matthew Aaron Van Dyke)। ম্যাথিউ অতীতে একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। সিআইএ-তে ও যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখান থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সিআইএ-র হয়ে গোপন, কালো-তালিকাভুক্ত অভিযানের সদস্য হতে পারে এই ভ্যান ডাইক।

    বিমানবন্দর থেকে আটক

    ভ্যান ডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আটক করে ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন। একইসঙ্গে লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের আটক করা হয়। তাঁরা হলেন হুব্রা পেট্রো, স্লাইভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টিফানকিভ মারিয়ান, হনচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর। এরা সকলেই পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তারা গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে যান এবং অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। এনআইএ-এর দাবি, তারা কেবল পর্যটক ছিলেন না। বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা উত্তর-পূর্ব ভারতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোট ১৫ জন বিদেশি নাগরিক এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত । আরও ৮ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের খোঁজ চলছে।

    যুদ্ধক্ষেত্রে ভ্যান ডাইক

    ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক প্রথম আলোচনায় আসেন লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়। তিনি বিদ্রোহীদের পক্ষে যুদ্ধ করেন এবং পরে মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাহিনীর হাতে বন্দি হন। ছয় মাস কারাবাসের পরও তিনি এই পথ ছাড়েননি। তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে সিকিউরিটি স্টাডিজ নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি সিআইএ (Central Intelligence Agency)-তে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। লিবিয়ার পর তিনি সিরিয়ায় গিয়ে বিদ্রোহীদের সহায়তা করেন এবং পরে ইরাকে সক্রিয় হন। ২০১৪ সালে তিনি সনস অফ লির্বাটি (Sons of Liberty International) নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তার কার্যকলাপ মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের কাছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল।

    ভারতের জন্য সতর্কবার্তা

    এনআইএ-এর অভিযোগ, ভ্যানডাইক ও তাঁর সহযোগীরা ইউরোপ থেকে ড্রোন এনে ভারত হয়ে মায়ানমারে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া তাঁরা মিজোরামের সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে মায়ানমারে প্রবেশ করেন। অভিযোগ, এই দলটি ড্রোন প্রযুক্তি—বিশেষ করে ড্রোন পরিচালনা, সংযোজন ও জ্যামিং প্রযুক্তি—নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল মায়ানমারের সামরিক জুন্টার বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা। এই ঘটনা ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত। সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশিদের প্রবেশ এবং সেগুলিকে সম্ভাব্য “প্রক্সি যুদ্ধের” ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    ভ্যানডাইক আদতে সিআইএ-র এজেন্ট!

    ভ্যান ডাইক সিআইএ-র এজেন্ট—এমন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তবে তাঁর কার্যকলাপ একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে— ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এমন কিছু কার্যক্রম, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এবং সার্বিকভাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। গোয়েন্দাদের মতে, সিআইএ-র দুটি পৃথক ভাগ আছে। একটি ‘ইন্টেলিজেন্স গ্যাদারিং’ বা গুপ্তচরবৃত্তি অন্যটি ‘ব্ল্যাক অপস্’। প্রথম বিভাগ যেখানে গোপনে তথ্য জোগাড় করে, সেখানে দ্বিতীয় বিভাগটি আন-স্যাংশান্ড বা অননুমোদিত অপারেশনে (পোশাকি নাম ব্ল্যাক অপস্) অংশ নেয়। অর্থাৎ, যে কালো-তালিকাভুক্ত অপারেশগুলিতে সরাসরি যুক্ত হতে পারে না, বা অনুমতি দিতে পারে না সিআইএ। এমন ক্ষেত্রে মার্সেনারি বা ভাড়াটে সৈনিকদের ব্যবহার করে তারা। এটি ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ।  ধরা পড়লে দায় এড়ানোয় প্রথামাফিক নিয়ম। গোয়েন্দাদের দাবি, ভ্যান ডাইক সিআইএ-র ‘ব্ল্যাক অপস্’ (CIA Black Ops) সদস্য হতে পারে।

    কী বলছে এনআইএ?

    গোয়েন্দাদের এও ধারণা যে, এই ভ্যান ডাইক মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ হতে পারে। কী এই ডিপ স্টেট? বেআইনিভাবে অর্থ-অস্ত্র জোগান দিয়ে কোনও দেশে অস্থিরতা তৈরি করা এবং সেখানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো।  এটাই হল ডিপ স্টেটের আসল উদ্দেশ্য। যা আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে করে এসেছে। এনআইএ-র দাবি, এই নেটওয়ার্ক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিল, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। পুরো ঘটনায় আন্তর্জাতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাথু ভ্যানডাইক এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাড়াটে সৈন্য। ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ভাড়াটে যোদ্ধা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সে। ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে গদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে শুরু করে, ইরাকে আইএসআইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এই গোষ্ঠী বলে শোনা যায়।

    ভারতের স্পষ্ট বার্তা

    এই গ্রেফতারের মাধ্যমে ভারত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—দেশের মাটি কোনোভাবেই বিদেশি সংঘাত বা প্রক্সি যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, তা যে দেশের নাগরিকই হোক না কেন। সোমবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউজ-এর বিশেষ আদালত অভিযুক্তদের ১১ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাদের ২৭ মার্চ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ইউক্রেনের বিরোধিতা

    মায়ানমারে গিয়ে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৭ বিদেশি। তাদের মধ্যে ৬ জনই ইউক্রেনিয়ান। এই আবহে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করল, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

  • Operation Mahadev: সন্দেহজনক রেডিও যোগাযোগই ধরিয়ে দিল! ‘অপারেশন মহাদেব’-এ কীভাবে ফাঁদে পড়ে জঙ্গিরা?

    Operation Mahadev: সন্দেহজনক রেডিও যোগাযোগই ধরিয়ে দিল! ‘অপারেশন মহাদেব’-এ কীভাবে ফাঁদে পড়ে জঙ্গিরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাসিম মুসা ও তার ২ সহযোগীকে খতম করল ভারতীয় সেনা। উপত্যকায় সোমবার বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় সেনা ও জম্ম-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী। ঠিক যেই মুহূর্তে সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বক্তব্য রাখছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তখনই উপত্যকা থেকে বড় খবর দিয়েছে ভারতীয় সেনা। পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রীকে নিকেশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছেই লিদওয়াসেতে দাচিগাঁওয়ের হারওয়ানের জঙ্গলে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর চিনার কোর। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন মহাদেব’ (Operation Mahadev)।

    সংঘর্ষে ৩ জঙ্গি নিহত

    সেনা সূত্রে খবর, নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তারা এ দেশের বাসিন্দা নয়। গোয়েন্দাদের একটি সূত্র বলছে, জওয়ানদের গুলিতে প্রাণ গিয়েছে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি মুসার। এই মুসা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ছিল বলে খবর। সে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের ওই হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ২৬ জন হিন্দু পর্যটকের। শ্রীনগরের দাচিগাঁওয়ে সোমবারের সংঘর্ষে নিহত আর দুই জঙ্গির নাম হল আবু হামজা এবং ইয়াসির। এমনটাই বলছে একটি সূত্র। এই দু’জনও মুসার মতো পাকিস্তানের বাসিন্দা। শ্রীনগর পুলিশের সিনিয়র সুপার জিভি সন্দীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নিহত তিন জন পাকিস্তানের। তাঁরা লস্করের জঙ্গি।

    কে ছিল এই হাসিম মুসা?

    হাসিম মুসা, যিনি সুলেমান মুসা নামেও পরিচিত, এর আগে পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি) এর সাথে যুক্ত ছিল৷ যা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কমান্ডো শাখা। অর্থাৎ, পাক সেনায় কমান্ডোর শাখার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সেনাকর্মী ছিল সে৷ একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, লস্করকে নানা ভাবে এই ভাবেই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সেনা ‘উপহার’ দিয়ে থাকে পাকিস্তানের সেনা৷ যাতে তারা সমান্তরাল সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং তাদের দিয়ে ভারতে নাশকতামূলক কাজ করা চালিয়ে যেতে পারে৷ সাধারণত, একটু বেশি বয়সি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনারাই যোগ দেয় লস্করের এই বিশেষ বিশেষ কাজগুলোতে৷ গোয়েন্দা সূত্র অনুসারে, মুসা পরবর্তীকালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবায় যোগ দেয়। মুসা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর কাঠুয়া-সাম্বা সেক্টর দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। জম্মু ও কাশ্মীরে ঢোকার পরে, সে বদগাঁও, বারামুল্লা, রাজৌরি, পুঞ্চ এবং গান্ডেরওয়ালের মতো জেলাগুলোতে সক্রিয় ছিল। পহেলগাঁও হামলার পরে আটক ওভারগ্রাউন্ড কর্মীদের (OGWs) জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের অন্তত তিনটি হামলার সাথে মুসার যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়৷ যার মধ্যে রয়েছে গান্ডেরওয়াল এবং বারামুল্লায় হামলা, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী এবং অসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করা হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে সংগৃহীত ডিজিটাল গোয়েন্দা তথ্য এবং মানুষের থেকে জানা তথ্যের মাধ্যমে ওই অঞ্চলগুলিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছিল।

    কীভাবে ফাঁদে ফেলা হয় জঙ্গিদের?

    সূত্রের খবর, দাচিগাঁও অঞ্চলে সন্দেহজনক রেডিও সিগন্যাল ধরা পড়ে। এই সূত্র ধরে গত দু’দিন ধরে সেনার একাধিক টিম ওই অঞ্চলে টহল ও তল্লাশি চালায়। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ২৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেল ও ৪ প্যারা ইউনিটের একটি যৌথ দল তিন জঙ্গিকে চিহ্নিত করে তাৎক্ষনিকভাবে অভিযানে নেমে তাদের খতম করে। নিহত তিনজন একটি ঘন জঙ্গলে গাছের নীচে মাটির তৈরি অস্থায়ী বাঙ্কারে লুকিয়ে ছিল। দীর্ঘ ১৪ দিন ধরে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল সেনা। এটি ছিল লস্কর ও জৈশ-ই-মহম্মদের একটি যৌথ মডিউল। শ্রীনগরের কাছেই দাচিগাঁও ন্যাশনাল ফরেস্ট। তার কাছেই এক জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি জায়গায় ছিল ত্রিপল ঢাকা এক এলাকা। রিপোর্ট বলছে, সেই ত্রিপল ঢাকা এলাকা থেকেই উদ্ধার হয়েছে মুসার দেহ। ২২ এপ্রিলের অভিশপ্ত দুপুরে পহেলগাঁওতে নিরস্ত্র ২৬ জনকে নিকেশ করে জঙ্গিরা। দ্য রেজিসটেন্স ফ্রন্ট নামের এক জঙ্গি সংগঠন তার দায় নেয়। সামনে আসে ৪ জঙ্গির স্কেচ। উপত্যকা জুড়ে শুরু হয় তল্লাশি। পহেলগাঁওতে হামলা চালানো সেই জঙ্গিদেরই মধ্যে একজন হল হাসিম মুসা। জঙ্গি দমনে এখনও অভিযান চলছে, আরও দুইজন জঙ্গি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের খোঁজা হচ্ছে। একটি জঙ্গিঘাঁটি সেনার নজরে এসেছে। সেখান থেকে অনেকগুলি অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধার হয়েছে। জানা গিয়েছে, নিকেশ হওয়া জঙ্গিদের কাছ থেকে একটি কমিউনিকেশন ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে, যা ডিকোড করে ‘সেফ হাউস ও পি-৩’ শব্দ সামনে এসেছে। যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Operation Mahadev: কাশ্মীরে ‘অপারেশন মহাদেব’ সেনার, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত ৩ সন্দেহভাজন জঙ্গি খতম

    Operation Mahadev: কাশ্মীরে ‘অপারেশন মহাদেব’ সেনার, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত ৩ সন্দেহভাজন জঙ্গি খতম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরুর আগেই উপত্যকায় জঙ্গি দমনে বড় সাফল্য ভারতীয় সেনার। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বদলা নিল ভারতীয় সেনা। ‘অপারেশন মহাদেব’ অভিযানে জম্মু ও কাশ্মীরে সেনার গুলিতে মৃত্যু হয় ৩ পাকিস্তানি জঙ্গির। অনুমান করা হচ্ছে, মৃত এই তিন জঙ্গি পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিল। যদিও এই বিষয়ে সেনার তরফে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    কী হয়েছিল

    সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার সকালে শ্রীনগরের দাচিগাম জঙ্গল এলাকায় অভিযানে নেমেছিল ভারতীয় সেনা। সেনার চিনার কোরের তরফে জানানো হয়েছে, এই অপারেশন মহাদেব এখনও চলছে। যে এলাকার অন্তর্গত এই ঘটনাস্থল,তা দাচিগাম নামে পরিচিত। সেখানের লিদওয়াসে এই গুলির লড়াই চলছে। ঘটনার আগে, পুলিশ, সেনা, সিআরপিএফ-র এক যৌথ বাহিনী দাচিগাম ন্যাশনাল ফরেস্টের কাছে একটি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। সেই যৌথ অপারেশনের সময়ই জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ দুইপক্ষের গুলির লড়াই চলার পর তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকজন জঙ্গি এখনও লুকিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। যেহেতু এই গুলির লড়াই মহাদেব পর্বত এলাকায় চলছে সম্ভবত সেই কারণেই এই অপারেশনের নাম ‘অপারেশন মহাদেব’।

    জঙ্গিদের পরিচয় জানার চেষ্টা

    প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মৃত জঙ্গিরা প্রত্যেকেই লস্কর-ই-তৈবার সদস্য। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ। অনুমান করা হচ্ছে, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় যুক্ত ছিল এই জঙ্গিরা। যদিও সরকারিভাবে এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। প্রসঙ্গত, পহেলগাঁও সন্ত্রাসে তিন পাক জঙ্গি যুক্ত ছিল বলে আগেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। মৃত ৩ জঙ্গি সেই পাক জঙ্গি দলের কেউ কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে সেনা।

LinkedIn
Share