মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পুরো পার্টিটাই জালি। আর কী আশা করা যাবে! মুষলপর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায়, বাংলার পক্ষে ততই মঙ্গল।” তৃণমূল (TMC) ভাঙনের জল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সইকাণ্ডে মুখ খোলায় তৃণমূল বহিষ্কার করেছে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে। তারপরেই জল্পনা ছড়ায়, ৫০ বিধায়ককে নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ছেন ঋতব্রতরা। শোনা যাচ্ছে, নিজেদের প্রধান বিরোধী দল দাবি করে তাঁরা স্পিকারের কাছে চিঠিও দেবেন। এমতাবস্থায় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল। সেক্ষেত্রে তাঁর দল বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাও খোয়াতে পারে। কারণ বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে প্রয়োজন ৩০ বিধায়কের সমর্থন। নতুন করে এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তৃণমূল তা আদৌ জোগাড় করতে পারবে কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন। আজ, মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের এই হতশ্রী দশা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন দিলীপ।
“নেত্রী সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন” (Dilip Ghosh)
রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী বলেন, “যেমন যেখান যেখান থেকে লোকজন একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিল, এখন তেমন তেমন সেখানে চলে যাচ্ছে। প্রয়াত সুব্রত মুখার্জি একবার আমায় গল্পচ্ছলে বলেছিলেন, তৃণমূল আসলে একটা প্ল্যাটফর্ম। সবাই দাঁড়িয়ে আছে। যার যেমন ট্রেন আসছে, সে তেমন চলে যাচ্ছে। আজ উনি বেঁচে নেই। কিন্তু, ওঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। শুধু পয়সা কমানোর জন্য লোকগুলো এসেছিল। দুনিয়ার ক্রিমিনাল, অ্যান্টি সোশ্যাল এসেছিল। এখন যার যার মতো পালিয়ে যাচ্ছে। দলটা বিধানসভায় ঢুকলই না, তার আগেই দু’জন সাসপেন্ড হয়ে গেল। আমার ভাবতে অবাক লাগে, এই দলটাকে বাংলার মানুষ ১৫ বছর ধরে সহ্য করেছে! দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “নেত্রী সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন। এখন তার ফল ভোগ করতে হবে। ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম। রাখাল স্কুলে সবার খাতা, বই, পেনসিল চুরি করত। যেদিন ধরা পড়ল সেদিন মাসির কানে কথা বলার বাহানায় মাসির কান কামড়ে ছিঁড়ে দিয়েছিল। বলল, মাসি তুমিই আমায় চুরি করতে শিখিয়েছ। এই মাসির কান কাটা এখনও বাকি আছে।”
‘দুই সাংসদ পালিশ খেয়েছেন’
তিনি বলেন, “ওদের দু’জন সাংসদ পাবলিকের কাছে অলরেডি পালিশ খেয়েছেন। অথচ দু’জনের কারোর গায়ে কোনও দাগ নেই! এরমধ্যে একজন কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর নাটক আমরা পার্লামেন্টে বহুবার দেখেছি। ওঁকে সেদিন কেউ একটা চাঁটি মেরেছিল। রুমাল দিয়ে রগড়েও একফোঁটা রক্ত বের করতে পারলেন না!” মন্ত্রী (Dilip Ghosh) বলেন, “আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার হরিণঘাটা ডিমের দাম এত বাড়ল কেন? এদিক-ওদিক ডিম ছোড়া হচ্ছে। অভিষেক কোনও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি। বেলভিউ হাসপাতালের ডাক্তাররা বুঝিয়ে (TMC) দিয়েছেন, তাঁদের মেরুদণ্ড শক্ত। এটা খুব জঘন্য একটা আচরণ। সরকার কাজ করছে। মানুষ দেখছে। কয়েকদিন আপনারা ঘরের ভেতরে থাকুন। আন্দোলনের নামে ব্লকে বা থানায় ঘেরাও-ফেরাও করবেন না। দেখছেন তো চারিদিকে কী অবস্থা! হুজ্জুতি করতে যাবেন পাবলিক আবার ধরে পালিশ করে দেবে! আবার হাসপাতালে যেতে হবে। শান্তিতে থাকুন। বাড়িতে থাকুন।”
‘ডিম খান, শক্তি বাড়ান’
খড়্গপুরের বিধায়ক বলেন, “আমরা বলেছি ডিমের ক্রাইসিস আছে। ডিম এঁর তাঁর গায়ে ছুড়ে নষ্ট করবেন না। ডিম খান। শক্তি বাড়ান। ফালতু লোককে ডিম মেরে লাভ নেই।” এদিনই ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে প্রসঙ্গে দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ আমরা বন্ধ করতে চাই না। আন্দোলন করতে কারওর কোর্টে যাওয়ার দরকার হবে না। তবে পুলিশের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীকে আন্দোলন করার অনুমতির জন্য ১০৪ বার কোর্টে ছুটতে হয়েছিল। রেড রোডের নমাজ শান্তিতে ব্রিগেডে হয়ে গেল। তাই, আমি বলব কয়েকটা মাস (TMC) শান্তিতে ঘরে থাকুন।”
‘মায়ের কাছেও কাটমানি খেয়েছে’
তিনি বলেন, “তৃণমূল পঞ্চায়েত, মণ্ডল সভাপতি, প্রাক্তন বিধায়কদের অফিস সার্চ হচ্ছে। আর আজব আজব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। ডাব, নারকেল, তেল, হাঁড়ি-কলসি-খুন্তি। আমি জানি না এগুলো কারখানা ছিল, গুদাম ছিল, নাকি অফিস ছিল! পার্টি অফিসে যাঁরা পিঠে বানাতে যেতেন, সেখানকার বাসিন্দারাই তার বদলা নিয়েছেন। তৃণমূল পার্টি ব্যান করে দেওয়া উচিত। এদের প্রতীক চিহ্ন ব্যান করে দেওয়া উচিত। এরা একটা টেরোরিস্ট সংগঠনের মতো কাজ করে গিয়েছে। গোপন সংগঠনের মতো কাজ করে গিয়েছে।” পদ্ম-মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “স্যাঁকরা নিজের মায়ের গয়না থেকেও সোনা চুরি করে। তৃণমূল নেতারা আবাস যোজনায় নিজের মা ঘর পেলে, তার থেকেও কাটমানি নিয়েছে। মেসিও রেহাই পেলেন না! তাঁর মূর্তি থেকেও কাটমানি নেওয়া হল। লোকটা ওখানে ছ’মাস দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না, ফেলে দিল তৃণমূল।”
পিঠ বাঁচাতে পদত্যাগ!
পদত্যাগ করেছেন বিধায়ক তারক সিং। সে প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ বলেন, “এতদিন কী করেছেন? নেতাদের বাড়িতে রেড হতেই বোঝা যাচ্ছে, কে কী কাজ করেছেন! পিঠ বাঁচানোর জন্য এখন অনেকে পদত্যাগ করছেন। বিষবৃক্ষ রোপণ করেছেন কে? তার ফল এখন সবাইকে ভুগতে হবে।” রাজ্যে শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি (Dilip Ghosh) বলেন, “আমূলের কলকাতা প্রধান দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন। আজই (TMC) হয়তো দেখা হবে। কথা হবে। অনেকে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন। অনেক ফোনই আসছে।”
