Tag: Textile Industry

  • Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল সরকারকে টান মেরে কুর্সি থেকে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।  সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজও করতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম-দল। ঝমাঝম (Bengal Re-industrialisation Roadmap) শব্দ করে এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের সরকার যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে নানা ক্ষেত্রে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লি নীরবে (Jobs Investment) এমন এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে, যা পূর্ব- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলির একটি হতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ

    আধিকারিকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। স্বাধীনতার আগে যে রাজ্যটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, সাতের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায় তার শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক অশোক লাহিড়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি। অথচ ২০২১ সালে বালুরঘাট থেকে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বিরাট ব্যবধানে। এই অশোকই নিতে চলেছেন নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আধিকারিকরা জানান, উৎপাদন শিল্পের পুনরুজ্জীবন, লজিস্টিক ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো, নদীপথ বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘পুনঃশিল্পায়ন রোডম্যাপে’র প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    শিল্পপতি তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “একটা ভুল ধারণা আছে যে বাংলার মানুষ শুধুই চাকরির পেছনে ছোটে। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, এটাই স্যার আরএন মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড বার্ন, স্যার পিসি রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যালস এবং ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো উদ্যোক্তাদের ভূমি। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কলকাতা আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির স্বাভাবিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।” স্বাধীনতার সময় (Bengal Re-industrialisation Roadmap) জিডিপির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজ্য। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, যার অর্থনীতি ২২১ বিলিয়ন মার্কিন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। একসময় কলকাতা ছিল ভারতের বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের সদর দফতর—পাটকল, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, চা নিলাম কেন্দ্র, ব্যস্ত নদীবন্দর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ব-ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করত।

    ধসে পড়ে শিল্পের ভিত্তি

    কিন্তু পরবর্তী কালে অতিবামপন্থী নকশালপন্থী আন্দোলন, কড়া শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলা থেকে পুঁজি সরে যেতে শুরু করে অন্যত্র। যার জেরে ধসে পড়ে ক্রমক্ষীয়মান শিল্পের ভিত্তি। অবনতি দেখা দেয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বাজোরিয়া বলেন, “অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করছিল, তখন বাংলা বড় মাপের উৎপাদন শিল্পে লগ্নি টানতে ব্যর্থ হয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মতো ঘটনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সব সরকারই শিল্প সম্প্রসারণের বদলে কল্যাণমূলক রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Jobs Investment), অবশ্য দু’টি ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ছিল (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি হাবে বহু নতুন সংস্থা আসে। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কম ভাড়া এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণে কলকাতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভারতীয় বিদেশ বাণিজ্য সংস্থার (IIFT) প্রাক্তন ডাব্লুটিও (WTO) চেয়ার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধর বলেন, “এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ। এর উন্নয়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং বাংলার বাইরে কাজের জন্য মানুষের যাতায়াত কমবে। উদ্যানপালন, নতুন ধরনের চা, ব্যান্ডেলের প্রসেসড চিজের মতো পণ্য রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত নকশা কয়েকটি প্রধান খাতে জোর দেবে। প্রথমত, লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি বলে অনুমান। কলকাতা এবং হলদিয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর-সংযুক্ত পরিকাঠামো, মালবাহী করিডর এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা। ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক শিল্প, ফাউন্ড্রি, বস্ত্রশিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল এবং কর-ভিত্তিক উৎসাহ দানের কথা ভাবা হচ্ছে (Jobs Investment)। কিছু নীতিনির্ধারক পূর্ব-ভারতের খনিজ সম্পদ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স করিডরের পক্ষেও সওয়াল করছেন (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। তৃতীয়ত, শক্তি ও ভারী শিল্প। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়া, বন্দরের সুবিধা এবং বঙ্গোপসাগরীয় জ্বালানি রুটের কাছে অবস্থান—এসবকে শক্তিনির্ভর শিল্প ও ডাউনস্ট্রিম শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোপরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে সেই তরুণ বাঙালিদের জন্য যারা কাজের খোঁজে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে চলে যাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

    অর্থনীতিবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিচ্ছেন এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংবেদনশীলতা, পুরনো শিল্প পরিকাঠামো, দুর্বল পুর-অর্থনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বাড়লেও, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। অধ্যাপক ধর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে পুনঃশিল্পায়ন মানে শুধু কারখানা খুলে দেওয়া নয়। এজন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, আর্থিক গভীরতা এবং নিয়ন্ত্রক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রাজ্যগুলির সঙ্গে (Jobs Investment) প্রতিযোগিতা করতে হবে।”

     

  • Bangladesh: সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প, ভারতের কাছে পৌষমাস! কীভাবে জানেন?

    Bangladesh: সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প, ভারতের কাছে পৌষমাস! কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গভীর সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের (Bangladesh) টেক্সটাইল শিল্প। শুল্কমুক্ত সুতো আমদানির প্রতিবাদে দেশটির স্পিনিং মিল মালিকরা দেশব্যাপী (Textile Industry) উৎপাদন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের টেক্সটাইল সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা স্পষ্ট করে তুলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে, বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন ও ভারতীয় সুতো সরবরাহকারীদের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতার সুযোগ কি ভারতীয় টেক্সটাইল প্রস্তুতকারীরা নিতে পারবেন?

    স্পিনিং শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে (Bangladesh)

    বাংলাদেশের স্পিনিং শিল্প ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে, কারণ সরকার যদি সুতো আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার না করে, সে ক্ষেত্রে মিল মালিকরা তাঁদের কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এই সঙ্কটের সূত্রপাত বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের সুতো আমদানি থেকে, যার বড় অংশই ভারত থেকে আসে। এর ফলে দেশের স্পিনিং শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করায় স্পিনিং মিল মালিকদের সঙ্গে সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে (Bangladesh)। একই সঙ্গে জ্বালানি সঙ্কটও এই শিল্পকে চাপে ফেলেছে। গত তিন থেকে চার মাস ধরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে সরব হয়েছেন টেক্সটাইল মিল মালিকরা (Textile Industry)।

    ৫০টির বেশি স্পিনিং মিল বন্ধ

    এই সঙ্কটের ফলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং স্পিনিং মিলগুলির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০টির বেশি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সস্তা ভারতীয় সুতোর জোগান বেড়ে যাওয়ায় ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সুতো অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মিল মালিকদের দাবি, জ্বালানি, ঋণের সুদ এবং ভ্যাট অব্যাহতির অভাবের কারণে তাঁরা আমদানি করা সুতোর সঙ্গে দামে এঁটে উঠতে পারছেন না। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, শুল্কমুক্ত সুতো আমদানি বন্ধ করা, ভর্তুকিমূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা, সুদের হার কমানো এবং ট্যাক্স হলিডে দেওয়া।

    রফতানিকারীদের বক্তব্য

    এদিকে, পোশাক রফতানিকারীরা শুল্কমুক্ত আমদানি বন্ধের যে কোনও উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশীয় সুতো, বিশেষ করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলোর সুতো দামে অনেক বেশি এবং অনেক সময় মানের দিক থেকেও নিম্ন। রফতানিকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলির কাছে ভারতীয় সুতো বেশি নির্ভরযোগ্য (Bangladesh)। সতর্ক করে দিয়ে তাঁরা বলেন, “যদি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়, তবে বাংলাদেশের রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশটির প্রতিযোগিতার (Textile Industry) ক্ষমতা কমে যাবে।

    ভারতীয় সুতোর ওপর টিকে বাংলাদেশের বস্ত্র-শিল্প

    ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি কেজি সুতো আমদানি করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ভারতীয় সুতোর ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। বাংলাদেশ যদি শুল্কমুক্ত আমদানি বন্ধ করে দেয় বা স্পিনিং মিলগুলি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পোশাক শিল্পের জন্য সুতো আমদানির প্রয়োজন থেকেই যাবে। সে ক্ষেত্রে ভারতীয় সুতো, বিশেষ করে তুলো ও ব্লেন্ডেড সুতোর চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়তে পারে। স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় টেক্সটাইল সংস্থাগুলি লাভবান হতে পারে। তারা বেশি অর্ডার পেতে পারে এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পারে। ভারতের স্পিনিং মিল ও সমন্বিত টেক্সটাইল সংস্থাগুলির উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব কিছু নির্ভর করবে এই বিষয়ের ওপর যে, বাংলাদেশ সরকার দেশীয় স্পিনিং শিল্প রক্ষায় আমদানি বন্ধ করে কি না (Textile Industry), নাকি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে সস্তা সুতো আমদানি অব্যাহত রাখে (Bangladesh)।

  • Budget Textile Industry: বাংলাদেশের হারানো বস্ত্রশিল্পের বাজার ধরতে ময়দানে ভারত, বাজেটে ইঙ্গিত

    Budget Textile Industry: বাংলাদেশের হারানো বস্ত্রশিল্পের বাজার ধরতে ময়দানে ভারত, বাজেটে ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার বাজেট পেশ (Budget Textile Industry) করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেটে বস্ত্রশিল্পের (Bangladesh) জন্য বড় ধরনের বুস্ট ঘোষণা করেছেন। গত অর্থবর্ষের চেয়ে এবার এই খাতে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৯ শতাংশ। এবার বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪১৭.০৩ কোটি টাকা। দেশে তুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ বছরের তুলো মিশন ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে অতিরিক্ত লম্বা প্রধান তুলোর উৎপাদন স্থবিরতার সমস্যার সমাধান করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য (Budget Textile Industry)

    বস্ত্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘‘এই মিশনের অধীনে (Bangladesh) কৃষকদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। এটি কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করবে এবং গুণমানসম্পন্ন তুলোর স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করবে।’’ প্রসঙ্গত, ভারতের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার এই প্রচেষ্টা এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন দেশে তুলো উৎপাদনে উদ্বৃত্ত নেই। বর্তমানে, ভারত প্রতি হেক্টরে ৪৫০ কিলোগ্রাম তুলো উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক গড় ৮০০ কিলোগ্রামের তুলনায় অনেক কম।

    বাংলাদেশে ডামাডোলের বাজার

    বাংলাদেশে চলছে ডামাডোলের বাজার। তার জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বস্ত্রশিল্পের বহু প্রতিষ্ঠান। ওয়াকিবহালের মতে, সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চাইছে ভারত। বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। মসলিন থেকে শুরু করে জিনস ও অন্যান্য পোশাকের চাহিদা তামাম বিশ্বেই তুঙ্গে। বিদেশের বহু ব্যবসায়ীই লগ্নি করেন বাংলাদেশের বস্ত্র কারখানাগুলিতে। গত ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পালান আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা। তার পর থেকে কার্যত দেশে চলছে অব্যবস্থা। ডামাডোলের বাজারে কাঁচামালের দাম আকাশছোঁয়া। ব্যবসায়ীরা যেমন খুশি জিনিসপত্রের দাম হাঁকাচ্ছেন। গত অক্টোবরে বস্ত্র শ্রমিকদের প্রতিবাদে (Budget Textile Industry) কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ঢাকা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন দুই শ্রমিক। পড়শি দেশের এই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিই ভারতের বস্ত্রশিল্পের বাজারকে আরও চাঙা করছে।

    বাংলাদেশে সংকট

    প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের (Bangladesh) চলমান রাজনৈতিক সংকট ভারতের পোশাক শিল্পকে রফতানি বৃদ্ধি করে সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশ একসময় বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ ছিল। তবে অর্থনৈতিক সংকট, বিদ্যুৎ সংকট এবং হিংসার কারণে দেশটির পোশাক শিল্প অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি দেশে তুলোর রফতানি বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে ভারত।

    পোশাক শিল্পের ক্ষতি

    রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে আমদানিকারক দেশগুলি বিকল্প সরবরাহকারীদের সন্ধান করছে। এর ফলে, ভারত এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশটির টেক্সটাইল ও পোশাক রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে ভারতের মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানি ৪.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের মার্কিন বাজারে রফতানি ০.৪৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

    ভারতের টেক্সটাইল শিল্প

    এদিকে, ভারত সরকার টেক্সটাইল শিল্পকে শক্তিশালী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক সহায়তা দান, কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক হ্রাস, এবং স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া (Bangladesh)। ১লা ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, ভারত বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক রফতানিতে ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ, যা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP), শিল্প উৎপাদন এবং রফতানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে (Budget Textile Industry)।

    রফতানির খতিয়ান

    ২০২৩ সালে ভারত ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের টেক্সটাইল পণ্য রফতানি করেছে, যেখানে পোশাক খাত রফতানি আয়ের ৪২ শতাংশ অংশ নিয়েছে। এরপরে ৩৪ শতাংশ ছিল কাঁচামাল ও আধা-সমাপ্ত সামগ্রী এবং ৩০ শতাংশ ছিল সমাপ্ত পোশাক নয় এমন সামগ্রী। ইউরোপ ও আমেরিকা মিলে ভারতের পোশাক রফতানির প্রায় ৬৬ শতাংশ দখল করেছে। ৫৮ শতাংশ সমাপ্ত পোশাক ছাড়া অন্যান্য সামগ্রী এবং ১২ শতাংশ কাঁচামাল ও আধা-সমাপ্ত সামগ্রী রফতানির অংশীদার হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে আমেরিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্তর্ভুক্ত। সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কোভিড-১৯ অতিমারির সময়েও ভারতের টেক্সটাইল রফতানি স্থিতিশীল ছিল।

    ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের টেক্সটাইল শিল্প ৩৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে এবং এতে ৩.৫ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ১লা ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। মধ্যবিত্ত শ্রেণির সুবিধার (Bangladesh) কথা মাথায় রেখে তৈরি এই বাজেটের মধ্যে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনীতি, ব্যবসা, পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন খাতে উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (Budget Textile Industry)।

LinkedIn
Share