মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত ভারতের উন্নতির জয়যাত্রা (Reactor Success)। এবার ভারতের সবচেয়ে উন্নত পারমাণবিক রিয়্যাক্টর (Indias Nuclear Leap) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্তরে পৌঁছেছে, যা দেশের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য একটি বড় অগ্রগতি। শুধু তা-ই নয়, ইউরেনিয়ামের ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (Indias Nuclear Leap)
দক্ষিণ ভারতের কালপক্কমে অবস্থিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) সম্প্রতি ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এটি হল সেই স্তর, যেখানে পারমাণবিক চেন বিক্রিয়া নিজে থেকেই চলতে পারে। এই রিয়্যাক্টর সম্পূর্ণরূপে চালু হলে, ভারত হবে রাশিয়ার পর দ্বিতীয় দেশ, যার একটি কর্মাশিয়াল ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর থাকবে। প্রশ্ন হল, ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর কী? জানা গিয়েছে, ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর হল এমন একটি উন্নত রিয়্যাক্টর (পরমাণু চুল্লি) যা যতটা ফিসাইল মেটিরিয়্যাল (fissile material) বা পরমাণু জ্বালানি ব্যবহার করে, উৎপন্ন করে তার চেয়েও বেশি। এই রিঅ্যাক্টরটি তৈরি করেছে ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটোমিক রিসার্চ (IGCAR), যা ভারতের ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাটমিক এনার্জির অধীনস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ৫০০ এমডাব্লুই (megawatt electrical), সাধারণ রিয়্যাক্টর ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে এবং প্লুটোনিয়াম তৈরি করে বর্জ্য হিসেবে। সেই প্লুটোনিয়ামকেই আবার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে লাগে কম ইউরেনিয়াম, যদিও উৎপন্ন করতে পারে এর ঢের বেশি শক্তি।
ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির ৩টি ধাপ
ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচি ৩টি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে রয়েছে প্রেসারাইজড হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি ইউরেনিয়াম, বর্জ্য হিসেবে উৎপন্ন করে প্লুটোনিয়াম। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি ইউরোনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম, এতে উৎপন্ন হবে আরও প্লুটোনিয়াম এবং ইউরেনিয়াম-২৩৩ (Indias Nuclear Leap)। আর তৃতীয় তথা শেষ স্তরে থাকছে থোরিয়াম-ভিত্তিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি থোরিয়াম+ইউরেনিয়াম-২৩৩। বিশ্বে থোরিয়ামের মজুদের পরিমাণ ইউরেনিয়ামের ৪ গুণ। এর মধ্যে ভারতেই রয়েছে ইউরেনিয়াম আনুমানিক ১–২ শতাংশ, থোরিয়াম ২৫ শতাংশের বেশি। তাই ভবিষ্যতে থোরিয়ামই ভারতের জন্য হয়ে উঠবে বড় সম্পদ (Reactor Success)। প্রশ্ন হল, কীভাবে কাজ করে এফবিআর? প্রথমে ইউরেনিয়াম রূপান্তরিত হয় প্লুটোনিয়ামে। সেই প্লুটোনিয়াম আবার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ফলে একধরনের সেল্ফ-সাসটেনিং সাইকেল তৈরি হয় (Indias Nuclear Leap)।
কী বললেন অধ্যাপক এমভি রামানা?
ইউনিভার্সিটি অফ কলম্বিয়ার অধ্যাপক এমভি রামানা বলেন, পিএফবিআরের খরচ প্রাথমিক অনুমানের দ্বিগুণের বেশি, উৎপাদিত বিদ্যুৎ সাধারণ রিয়্যাক্টরের তুলনায় ~৮০ শতাংশ বেশি ব্যয়বহুল এবং সৌর শক্তির তুলনায়ও বেশি খরচ। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের অধ্যাপক পল নরম্যান বলেন, এটি তাত্ত্বিকভাবে সব ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে পারে, থোরিয়াম ব্যবস্থায়ও রূপান্তর সম্ভব। বিজ্ঞানী কোরাউস শিবম বলেন, ভারতকে আরও দ্রুত উন্নয়ন করতে হবে, এই একই ধরনের রিয়্যাক্টর মাত্র ৬ বছরে তৈরি করেছে চিন। জানা গিয়েছে, ভারত বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম শক্তি ব্যবহারকারী। বর্তমানে নিউক্লিয়ার এনার্জি হল ~৩ শতাংশ। বস্তুত, ২০২৪ সালে ৮,১৮০ মেগাওয়াট শক্তি মিলত। ২০৪৭ সালে এটাই বেড়ে হবে ১০০জিডাব্লু। বর্তমানে তামাম বিশ্বে পারমানবিক শক্তির প্রবণতা হল, ১৯৯৬: ১৭.৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে হয় ৯ শতাংশ। এদিকে, রিনিউয়েবল এনার্জির পরিমাণ হবে ~১৭.৩ শতাংশ। প্রাথমিক জ্বালানি হতে পারে মিক্সড অস্কাইড ফুয়েল, ইউরেনিয়াম-২৩৮, নিউট্রন গ্রহণ করে প্লুটোনিয়ামে রূপান্তরিত হয়, কম তৈরি হয় নিউক্লিয়ার ওয়েস্ট (Indias Nuclear Leap)।
রিঅ্যাক্টরের গুরুত্ব
এই রিঅ্যাক্টর (Reactor Success) ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে একদিকে যেমন কমবে ইউরেনিয়ামের ওপর নির্ভরতা, থোরিয়াম ব্যবহার সম্ভব করবে, বাড়াবে শক্তি উৎপাদনও। তবে এতে খরচ হবে বেশি, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে, রিনিউয়েবল এনার্জির একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ভারত সরকার বলেছে যে এই রিঅ্যাক্টরটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে “ভারত তার সীমিত ইউরেনিয়াম মজুদ থেকে আরও বেশি শক্তি আহরণ করতে পারে এবং একই সঙ্গে থোরিয়াম-ভিত্তিক (Reactor Success) রিঅ্যাক্টরের বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার করার পথ তৈরি করে (Indias Nuclear Leap)।”
