Tag: TMC Crisis

  • Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সাল, বিশ্বস্ত সৈনিকদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতার শপথের সঙ্গেই শপথ নেন তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিকরাও। কিন্তু আজ সেই সব সৈনিকরাই সঙ্গ নিলেন অন্য ‘রাজার’। তাসের ঘরের মতো ভাঙছে কালীঘাটের দুর্গ। ২০১১ সালে যে সমস্ত বিশ্বস্ত, লড়াকু সৈনিকদের কাঁধে ভর করে বাংলায় পরিবর্তনের ইতিহাস লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষমতা টলমল করতেই আজ একে একে তাঁরাই সঙ্গ ছাড়ছেন দলনেত্রীর। তৃণমূলে এখন শুধুই ভাঙা-গড়ার খেলা। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। মদনের হাত ছাড়ার সঙ্গেই এবার চূড়ান্ত রূপ নিল কালীঘাট তৃণমূলের ভাঙন। বিধানসভায় ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’ যোগ দিলেন মদন। স্পষ্ট করে দিলেন- দলের এই ভরাডুবি এবং ভাঙনের জন্য দায়ী আর কেউ নন, খোদ ভাইপো।

    ক্ষমতা যেতেই সঙ্গত্যাগ (Madan Mitra Leaves TMC)!

    যুব কংগ্রেসের আমল থেকে মমতার ছায়ার মতো পাশে থাকা মদন মিত্রও আর কালীঘাটের প্রতি আস্থা রাখতে পারলেন না। তৃণমূলের চরম সঙ্কটের দিনগুলোতেও তিনি কালীঘাটের পথ ছাড়েননি, বিশ্বস্ত সেনাপতির মতো আগলে রেখেছিলেন নেত্রীকে। কিন্তু সেই মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগই প্রমাণ করে দিল, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন কতটা চওড়া। বুধবার দুপুরে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাত ছাড়লেন মদন মিত্র (Madan Mitra Leaves TMC)। সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। সম্প্রতি মদন মিত্রের (Madan Mitra) স্ত্রী ও দুই ছেলেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) তলব করে। ইডি-র তলবের পরপরই সন্দীপন সাহার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মদন মিত্র। এই দুই ঘটনার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে, যা বুধবার দুপুরে কামারহাটির বিধায়কের সঙ্গ বদলের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হলো। মমতার সঙ্গ ছাড়ার পর মদন মিত্রের গলায় ঝরে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা। তাঁর সাফ কথা- ‘‘দল যখন ডুবছে, তখন সংগঠন টানার মতো মহাবলী কাউকে দরকার ছিল। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অহঙ্কার, একনায়কতন্ত্র এবং ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আজ দল ও দলের কর্মীদের এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছেন অভিষেকই।’’

    মদনের অভিযোগ

    মদন মিত্রের (Madan Mitra) অভিযোগ, ‘‘আমি তো চুনোপুঁটি, অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয় না। দল এখন চলছে হিটলারি কায়দায়। ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ যা বলবে, তা না শুনলেই পুলিশের ভয় দেখানো হয়।’’ ভোটের ভরাডুবির পুরো দায় অভিষেকের উপর চাপিয়ে মদনের দাবি, “একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, সর্বনাশ হয়ে গেল”। দলের ডুবন্ত সংগঠনকে টেনে তুলতে অভিষেককে সরানোর জন্য তিনি একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুনয়-বিনয় করেছিলেন, কিন্তু নেত্রী সেই পরামর্শে কান দেননি বলেও অভিযোগ উঠছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘ইডি-র চেয়ে বেশি ভয় ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু অভিষেক কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে কে জানে!’’

    অভিষেককে তীব্র খোঁচা মদনের

    মমতার সঙ্গ ছেড়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও রণকৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। তাঁর মতে, ‘‘জনসংযোগহীন এই চটকদার রাজনীতি দিয়ে আর যাই হোক, বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। এখনই হাল ধরা না গেলে, ভবিষ্যতে কখনও বিজেপি-কে হারানো যাবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে বিজেপি-কে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায়, প্লেন থেকে নেমে, কোমরে হাত দিয়ে চার তারিখ দেখে নেব, হুইসল বাজবে- এসবে দল চলে না। রাজনীতি করতে গেলে মানুষের কাছে যেতে হবে।’’

    ‘আদালত তৃণমূলের সম্মান বাঁচিয়েছে’

    ভোটের ফলাফল ও আদালতের সাম্প্রতিক কিছু হস্তক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে মদন মিত্রর দাবি, “আদালতের জন্যই অন্তত দলের সম্মানটুকু রক্ষা পেয়েছে। বাদাম-মুড়িওয়ালাই ৩-৪ হাজার লোক থাকে। সম্মানটাতো বাঁচল”।

    দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

    উত্তর ২৪ পরগনার সাতজন মন্ত্রীর দুর্নীতি এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাকরি বিক্রির অভিযোগের প্রসঙ্গেও সরব হন মদন মিত্র। তিনি সাফ জানান, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তিনি টাকা বা গয়না নিয়ে চাকরি দিয়েছেন, তবে মাথা পেতে নেবেন। এই বিষয়ে তিনি সরাসরি গণভোট করানোর চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন।

    কোণঠাসা কালীঘাট

    তৃণমূলে এই ভাঙা-গড়ার খেলা অবশ্য মদন মিত্রকে দিয়ে শুরু হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর অনাস্থা প্রকাশ করে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একে একে সেই বিক্ষুব্ধ শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে শুরু করে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলের মতো পুরনো ও শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে মঙ্গলবারই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘‘ক্যামাক স্ট্রিটই দলটাকে শেষ করে দিল।’’ আর আজ মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগ। আবারও প্রমাণ করে দিল যে, পুরনো নেতাদের এই ক্ষোভ কতটা গভীর।

    বিপন্ন তৃণমূল কর্মীরা

    কালীঘাট তৃণমূলের হাত ছাড়ার পাশাপাশি দলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার কথাও তুলে ধরে মদন মিত্র। তিনি জানান, ‘‘আজ দলের লক্ষ লক্ষ ছেলে ঘরছাড়া, মারপিট চলছে, ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, নেতাদের মূল কাজ হবে এই অসহায় কর্মীদের জন্য লঙ্গরখানা খোলা।’’ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা মদন মিত্রের এই সঙ্গত্যাগ ও সরাসরি বিদ্রোহ প্রকাশ কালীঘাট শিবিরের জন্য যে এক বিরাট বড় ধাক্কা, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১১ সালের সেই সোনালী অধ্যায়ের কাণ্ডারীদের এভাবে একে একে বিদায় নেওয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা বিশ্বস্ত দুর্গে ফাটল, এটাই প্রমাণ করে- কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। আর এই ভাঙনের খেলায় লাভ কার হবে, তা সময়ই বলবে।

  • TMC Posts Loyalty Row: চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাটে জোর ধাক্কা, তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’, কারণ জানেন?

    TMC Posts Loyalty Row: চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাটে জোর ধাক্কা, তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’, কারণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারের পরে পরেই তৃণমূলের (TMC Posts Loyalty Row) অন্দরে শুরু হয়ে যায় ভাঙন। তার জেরে একের পর এক নেতা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে তৈরি করে ফেলেন তৃণমূলেরই আরও একটি (Chandrima Bhattacharya) গোষ্ঠী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের এই গোষ্ঠীই আপাতত নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে। তৃণমূলে ‘ভাতিজা’র উত্থানের যে ক্ষোভ সঞ্চিত হচ্ছিল, দল হারতেই তা উগরে দেয় গলিত লাভা। তার জেরে একের পর তৃণমূল নেতা বদলাতে থাকেন শিবির। এবং সেই কারণেই কালীঘাটে শুরু হয় ক্ষয়, আর ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করে ঋতব্রতর শিবির।

    মমতা শিবিরে চন্দ্রিমা-ধাক্কা (TMC Posts Loyalty Row)

    এহেন আবহে ফের একবার বড় ধাক্কা খেল মমতা শিবির। দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মমতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মাত্র এক মাস আগে তাঁকে দলের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নিয়েওছিলেন। তার পর এদিন সেই পদ-সহ দলের সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। মমতাকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা শুধু রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকেই নয়, দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক হিসেবের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর দায়িত্ব এবং নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, চিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দ্রিমার এহেন পদক্ষেপের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

    বিশ্বাসের বুকে ছুরি!

    সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মমতা ও ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন দু’পক্ষের মধ্যে আসল তৃণমূল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই রয়েছে। তার ঠিক আগে চন্দ্রিমার ইস্তফা মমতার শিবিরের পক্ষে বড় অস্বস্তির কারণ। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের যখন ছন্নছাড়া দশা, ঠিক তখনই মমতা নয়া সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে তার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ‘অতি-বিশ্বস্ত’ চন্দ্রিমার ওপর।  পরাজয়ের পরেও দলের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই তাঁর এই সিদ্ধান্তে আরও চড়েছে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ। চন্দ্রিমার পদত্যাগের নেপথ্যে তাঁর ছেলে সৌরভ বসুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানও অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন সৌরভ। তারপর থেকেই দলের অন্দরে শুরু হয় নানা জল্পনা। অভিযোগ ওঠে, চন্দ্রিমা বাইরে থেকে মমতা-ঘনিষ্ঠ থাকলেও ভেতরে ভেতরে তিনি সাহায্য করছেন বিদ্রোহী শিবিরকে। যদিও এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন চন্দ্রিমা (TMC Posts Loyalty Row)।

    ক্ষোভ উগরে দিলেন চন্দ্রিমা

    ইস্তফা দেওয়ার পর নিজের ক্ষোভ ও অভিমানের কথা (Chandrima Bhattacharya) প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন চন্দ্রিমা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি নাকি তৃণমূল ভবনের চাবি ঋতব্রতদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, ‘‘আমি চাবি তুলে দেওয়ার কে? এই অধিকার তো নির্বাচন কমিশন বা আদালতের। যখন আমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এই পদে আর না থাকাই শ্রেয়। সবাই সঙ্গ ছেড়ে গেলেও আমি মমতাদির সঙ্গ ছাড়িনি। কিন্তু ওঁর মনে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে আমি ওঁর মনকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না।’’

    তৃণমূল ভবনের দখল

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঋতব্রতপন্থী নেতারা তপসিয়ায় অবস্থিত তৃণমূল ভবনের দখল নেওয়ার পর থেকেই এই বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই চন্দ্রিমাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত সেই অপবাদই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। শুধু সাংগঠনিক ক্ষোভ নয়, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন চন্দ্রিমা। অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী থাকলেও, আদতে পুরো দায়িত্ব পাননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। চন্দ্রিমার কথায়, ‘‘আমি ছিলাম হাফপ্যান্ট বা বারমুডা মন্ত্রী। রাজ্যবাসী যে বাজেট একটু পরে জেনেছে, আমি তা জেনেছি (TMC Posts Loyalty Row) একটু আগে। সরকারি আধিকারিকরাই সব জানতেন।’’ এই মন্তব্যে প্রাক্তন মন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (Chandrima Bhattacharya)।

    চন্দ্রিমার রাজনৈতিক জীবন

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চন্দ্রিমা মমতার অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। স্বাস্থ্য, অর্থ ও আইন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বস্তুত চোখ বুজে তুলে দিয়েছিলেন চন্দ্রিমার ওপর। ২০১৭ সালে উপনির্বাচনে দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ সালে দক্ষিণ দমদম কেন্দ্র থেকেও জয়ী হন তিনি। যদিও তীরে এসে তরী ডোবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে। দক্ষিণ দমদম কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে গোহারা হারেন মমতার ‘কাছের লোক’ চন্দ্রিমা।

    চন্দ্রিমার পরবর্তী পদক্ষেপ

    নিজের বাহান্ন বছরের রাজনৈতিক জীবনের এই মোড়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেননি চন্দ্রিমা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মনে অভিযোগের চেয়ে অভিমানই বেশি। যদিও তৃণমূলের এই ক্রান্তিকালে চন্দ্রিমার মতো একজন হেভিওয়েট নেত্রী দলের সব সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেওয়ার রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির ঠিক আগে তাঁর এই (Chandrima Bhattacharya) ইস্তফা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও বেআব্রু করে দিল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (TMC Posts Loyalty Row)।

     

  • TMC: তৃণমূলে বড় ভাঙন! ‘মমতাকে অপসারণ’ দাবি বিদ্রোহীদের, অরূপ রায় চেয়ারম্যান, সরানো হল অভিষেককেও

    TMC: তৃণমূলে বড় ভাঙন! ‘মমতাকে অপসারণ’ দাবি বিদ্রোহীদের, অরূপ রায় চেয়ারম্যান, সরানো হল অভিষেককেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হাইজ্যাক’ হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল (TMC)! পার্টি থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বুয়া-ভাতিজাকে! সোমবার দলের বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা তৃণমূলের পুরনো জাতীয় কর্মসমিতি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করেছে (Ritabrata Banerjee)। দল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে নয়া সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি বিদ্রোহী নেতাদের।

    বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠক (TMC)

    সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসে বিদ্রোহী শিবির। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রায় ৬০ বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার জনা সত্তর প্রাক্তন কাউন্সিলর। এই বৈঠকেই ৩০ সদস্যের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্রোহীদের ঘোষিত নতুন কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক রথীন ঘোষ।সাধারণ সম্পাদকের পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেককে। কার্যকর করা হয়েছে নয়া সাংগঠনিক কাঠামো।

    বিদ্রোহীদের দাবি

    বিদ্রোহীরা তৃণমূলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার উল্লেখ করে (Ritabrata Banerjee) দাবি করেন, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ২০২২ সালের পর আর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হয়নি। এই যুক্তিকে সামনে রেখেই তাঁরা পুরনো জাতীয় কর্মসমিতিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতেই নয়া নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহীদের (TMC)। নিউ টাউনের বৈঠকে এদিন যে ব্যানার টাঙানো হয়েছিল, সেটি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ওই ব্যানারে মহাত্মা গান্ধী, বিআর অম্বেডকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজি নজরুল ইসলামের ছবি থাকলেও, আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন তৃণমূল গড়ার কারিগর মমতা স্বয়ং। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি বিদ্রোহী শিবিরের তরফে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

    কতদূর গড়াল সই জালিয়াতিকাণ্ডের জল?

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারে তৃণমূল। তার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বাড়তে শুরু করে অসন্তোষ। তবে প্রকাশ্য বিদ্রোহের সূত্রপাত হয় তথাকথিত সইকাণ্ডকে ঘিরে (Ritabrata Banerjee)। বিরোধী দলনেতা, উপ-দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের জন্য বিধায়কদের সই ‘করা’ চিঠি পাঠানো হয়েছিল স্পিকারের কাছে। অভিযোগ ওঠে, সেই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল (TMC)। উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা প্রথম এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয় তৃণমূলের অন্দরে। তার পর থেকেই একের পর এক বিধায়ক নাম লেখাতে থাকেন বিদ্রোহী শিবিরের খাতায়। প্রথম দফায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। এরপর দলের ভাঙন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।

    তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বড়সড় ধাক্কা

    শুধু বিধানসভা নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বড়সড় ধাক্কা লাগে। লোকসভার একসঙ্গে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’য় যোগ দেন বলে দাবি করা হয়। রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবও পদত্যাগ করেন। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক সঙ্কট প্রকট হয়ে ওঠে (Ritabrata Banerjee)। দলের ভাঙন শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব বা জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জেলা এবং ব্লক স্তরেও বহু নেতা-কর্মী দল ছাড়তে শুরু করেন। বিভিন্ন জেলায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে শুরু হয় দড়ি টানাটানি (TMC)। সোমবারের বৈঠকে বিদ্রোহী শিবির সাফ জানিয়ে দেয়, তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নবগঠিত রাজ্য কমিটির সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌরভ বসুও। বিদ্রোহীদের এহেন পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূলের মমতা শিবির। তাদের সাফ কথা, তৃণমূলের যে সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে, তাতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও এক্তিয়ার বিদ্রোহীদের নেই (Ritabrata Banerjee)।

     

  • TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    সুশান্ত দাস

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ যখন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন বিদ্রোহী বিধায়কদের শিবির সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে চলেছে বলে স্পষ্ট করে দিলেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কী বলেছেন ঋতব্রত?

    সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজস্ব বিষয় এবং তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এনসিপিআই-এর সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একীভূত হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। “লোকসভার ২০ জন সাংসদ ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। আমাদের গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এমন কোনও ভাবনা নেই। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কদের এনসিপিআই-এ মিশে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে ৬৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থন রয়েছে,” দাবি করেন ঋতব্রত।

    বিদ্রোহী শিবিরে দুটি আলাদা রাজনৈতিক মেরু

    ঋতব্রতর এই মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম গোষ্ঠীতে রয়েছেন সেই বিদ্রোহী সাংসদরা, যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-র কাছাকাছি বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি গড়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই শিবির আপাতত নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখে বিধানসভার ভেতরে শক্তি সঞ্চয়ের কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-বিরোধী শিবিরের মধ্যেও ঐক্য নেই। বরং ক্ষমতার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    কেন এনসিপিআইতে অনীহা ঋতব্রতর?

    কোনও রাজনৈতিক দলের একীভূতকরণ (মার্জার) বৈধ হতে গেলে সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভায় সেই দলের আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীও কাকলি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজ্যেও এনডিএকে সমর্থন করে, তাহলে তিনি বিরোধী দলনেতার পদ হারাবেন। কারণ সেক্ষেত্রে তাঁর গোষ্ঠী শাসক জোটের অংশ হয়ে যাবে।

    ঋতব্রতরা এনডিএ-তে গেলে কী হবে?

    আবার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দলকে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার জন্য আইনসভার মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ সদস্যের সমর্থন থাকতে হয়। বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি করা ৬৫ সংখ্যাকে ভিত্তি ধরে যদি তাঁর গোষ্ঠী এনডিএ-তে যোগ দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর হাতে ১০ শতাংশেরও কম বিধায়ক থাকবে। সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে শাসক দলের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করবে।

    ৬৫ বিধায়কের সমর্থনের দাবি

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেছেন যে, তাঁদের গোষ্ঠীর পাশে বর্তমানে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। যদিও সেই বিধায়কদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে। সেই চিঠিতে সমর্থনকারী বিধায়কদের বিষয়ে তথ্য রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। “আমরা স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছি। সেই নামগুলি যদি প্রকাশ্যে আসে, তাহলে তা বিধানসভার বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের সামিল হবে,” মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে যে তৃণমূলের আরও বহু বিধায়ক গোপনে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

    সাংসদদের এনসিপিআই-এ যোগদান

    রবিবার দিল্লিতে নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা সংসদে পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানান এবং নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন। এরপর বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে তাঁদের গোষ্ঠী এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে এনসিপিআই। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের যোগদানের ফলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ঋতব্রতদের নিয়ে ভাবছেন না বিদ্রোহী সাংসদরা

    ঋতব্রত, তথা বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠীর মুখ কাকলি সাফ জানিয়ে দেন, ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর “কোনও সম্পর্ক নেই”। বারাসতের সাংসদ বলেন, “ওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। ও বিধানসভায় আছে, আর আমি সংসদে। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন একাই এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলাম। এখন আরও ১৯ জন আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে বাংলার জন্য কাজ করব।”

    দিল্লির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিদ্রোহী নেতা

    এই রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জোরালো হয় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ, যার মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, বাপি হালদার এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপই তাঁদের পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে কাজ করার ইঙ্গিত বহন করে।

    তৃণমূলের সামনে দীর্ঘ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে তার ইতিহাসের অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে দলের সাংসদদের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার পথে হাঁটছে, অন্যদিকে বিধায়কদের একটি অংশ রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার কৌশল নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের এই পৃথক রাজনৈতিক পথ ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি, বিধানসভায় অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ— সবকিছুর উপরই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান, স্পিকারের ভূমিকা এবং এনসিপিআই-এর সাংগঠনিক বিস্তার—এই তিনটি বিষয়ই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও প্রবল হল তৃণমূল কংগ্রেসে (Rebel TMC MPs) বড়সড় ভাঙনের জল্পনা। দলের ২৮ লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের সমর্থন পাওয়ার দাবি করে বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছে, তারা সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইবে। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানাবে।

    বিদ্রোহীদের বক্তব্য (Rebel TMC MPs)

    বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তাঁদের গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় নেতা এবং শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাবে। তাঁর বক্তব্য, রবিবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বসুনিয়ার দাবি, এখনও পর্যন্ত ১৯ জন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এবং আরও কেউ যোগ দিতে চাইলে, দরজা খোলা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, এনডিএর অংশ হয়ে সংসদে শাসক জোটের পাশে বসা এবং উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের পাশে থাকা নিশ্চিত করা।

    অভিষেকের জন্যই দল গাড্ডায়!

    তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বসুনিয়ার কথায়, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। পরে দল কর্পোরেট সংস্থার মতো পরিচালিত হতে শুরু করে এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।” এই কারণেই বহু নেতা ও সাংসদ ক্ষুব্ধ বলেও দাবি (Rebel TMC MPs) তাঁর। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। ফলে নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়া জরুরি বলেই তাঁরা এনডিএর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বসুনিয়া এও (Om Birla) জানান, প্রথমে স্পিকারের কাছে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছেও ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হবে (Rebel TMC MPs)।

    বিদ্রোহ চারিদিকে!

    এদিকে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগেই তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান নেতা অনুব্রত মণ্ডলও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককেও দায়ী করেছেন (Om Birla) তিনি। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী শিবিরের তরফে এসব দাবি করা হলেও (Rebel TMC MPs), শনিবার দুপুর পর্যন্তও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

     

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার (১০ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই দিনে দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    কে এই সুস্মিতা দেব?

    সুস্মিতা দেব দেশের এক সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তাঁর মা বীথিকা দেব অসমের শিলচর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুস্মিতা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে অসমের শিলচর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে শিলচর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের অন্যতম সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

    ৫ বছরের মেয়াদ তৃণমূলে

    কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরায় দলের বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল। দলে যোগদানের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন সুস্মিতা?

    রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব লেখেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার কার্যকালের সময় সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের সমস্ত আধিকারিককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’ তবে পদত্যাগপত্রে দলত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন সুস্মিতা?

    পদত্যাগের পরই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। পরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের আগে মঙ্গলবারই তৃণমূল ছেড়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। পদত্যাগের সময় তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় আসলে ‘‘১৫ বছরের নৈরাজ্যপূর্ণ শাসনের ফল’’। এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পথে হাঁটছেন বলে খবর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেছেন, ‘‘আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা

    বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে পারে। তবে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কারণে বিষয়টি সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনও দলের সংসদীয় গোষ্ঠী ভেঙে আলাদা সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হলেও, তা আইনি স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

    সংকট সামলাতে সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব

    দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী ঐক্য রক্ষা এবং দলের ভাঙন রোধ করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    বিধানসভাতেও অস্থিরতা

    সংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। পরবর্তীতে বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের দলত্যাগ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা দেবের প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সত্যিই এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নতুন মোড় দিতে পারে। এখন নজর থাকবে— সুস্মিতা দেবের পর আর কতজন সাংসদ বা নেতা তৃণমূল ছাড়েন এবং বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

  • TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল। দলের ২১ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকট বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সোমবার সকালে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকারের দফতরে চিঠি জমা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।

    বিজেপিতে নয়, এনডিএ-তে যোগ দিতে চান বিদ্রোহীরা

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের কথা বলেননি। তাঁদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে এসেছে। উপদলনেতা হিসেবে থাকছেন শতাব্দী রায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা দল পরিবর্তন করছেন না, বরং সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেদন গৃহীত হলে কার্যত লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সংসদীয় দলের অস্তিত্ব ভেঙে যাবে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম হবে।

    দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতেই কি সংখ্যার হিসাব?

    ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনগত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেই হিসেবে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। সূত্রের দাবি, প্রথমে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে ছিলেন। পরে আরও একজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় সংখ্যা বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    স্পিকারের দফতরে জমা পড়ল চিঠি

    সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লিতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর অফিসে চিঠিটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পিকার অন্য একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানীর বাইরে রয়েছেন। চিঠির পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা শুরু হয়েছে। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

    বিদ্রোহী শিবিরে কারা?

    এখনও পর্যন্ত যে নামগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি হল—

    • ● কাকলি ঘোষ দস্তিদার
    • ● পার্থ ভৌমিক
    • ● দেব (দীপক অধিকারী)
    • ● জুন মালিয়া
    • ● শর্মিলা সরকার
    • ● খলিলুর রহমান
    • ● অসিত মাল
    • ● অরূপ চক্রবর্তী
    • ● প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● শতাব্দী রায়
    • ● কালিপদ সোরেন
    • ● সুখেন্দু শেখর রায় (পদত্যাগ করেছেন)

    এছাড়াও আরও কয়েকজন সাংসদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সব নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফায় চরম অস্বস্তি

    এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি শুধু রাজ্যসভার সদস্যপদই নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ পদত্যাগপত্রে গত পনেরো বছরের শাসনকালে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

    চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে—

    • ● রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে;
    • ● নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে;
    • ● শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে;
    • ● শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে;
    • ● আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    সুখেন্দুশেখরের মতে, এই কারণগুলির ফলেই সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং বিজেপিকে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, নবগঠিত সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোতে শুরু করেছে এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২-তে নেমে এসেছে।

    দিল্লিতে থেকেও ভাঙন আটকাতে ব্যর্থ মমতা-অভিষেক?

    ঘটনাচক্রে, এই সংকটের সময়েই দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডি জোটের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকও করছিলেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই দলের লোকসভার বড় অংশের সাংসদ যদি এনডিএ-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

    বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। যদি তাঁদের মধ্যে ২১ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে এনডিএ-র শরিক হন, তাহলে সংসদে তৃণমূলের শক্তি কার্যত ভেঙে পড়বে।

    এর ফলে—

    • ● লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
    • ● ইন্ডি জোটে দলের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে।
    • ● জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
    • ● বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সংসদে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে দল একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে লোকসভায় এত বড় মাপের সাংসদ বিদ্রোহের ঘটনা নজিরবিহীন। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে, নাকি তা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর স্পিকারের সিদ্ধান্ত, বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পাল্টা কৌশলের দিকে।

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শোভনদেব না ঋতব্রত? বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নজিরবিহীন বিদ্রোহ তৃণমূলে। যার জেরে ভেঙে দু’টুকরো ঘাসফুল!

    তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট

    ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কার্যত দলীয় ভাঙনের রূপ নিয়েছে। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে। পরে আরও ছ’জন এসে সই করবেন বলে জানানো হল ‘নতুন’ তৃণমূলের তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের বৃহত্তর অংশ এখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে অবস্থান করছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও বিদ্রোহী বিধায়করা এখনও নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি এবং তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী।

    কী রয়েছে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে?

    বুধবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের হাতে ছিল ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি। সেই চিঠিতে শুধু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদনই নয়, বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের নতুন কাঠামোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে—

    • ● বিরোধী দলনেতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● উপদলনেতা: সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা
    • ● মুখ্য সচেতক: আখরুজ্জামান

    তবে স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার চিঠি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দিলেই ঋতব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাবেন।

    কোথা থেকে শুরু হল বিতর্ক?

    এই রাজনৈতিক নাটকের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আনেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁরা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে সহায়তা করতে নামে সিআইডিও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিআইডি অন্তত ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বহিষ্কারের পরই বাড়ে বিদ্রোহ

    স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এরপর একের পর এক বিধায়ক প্রকাশ্যে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে বিধানসভার অন্দরে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে তৃণমূল।

    ‘আদি’ বনাম ‘নব’ তৃণমূল?

    বুধবারের ঘটনাপ্রবাহের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—‘আদি তৃণমূল’ ও ‘নব তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরা কোনও নতুন দল গঠন করছেন না। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের সভানেত্রী হিসেবে মানেন। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতার নাম সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধানসভার সংখ্যার হিসাব বলছে, বিদ্রোহী শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, অন্যদিকে শোভনদেবকে সমর্থনকারী শিবিরে রয়েছেন ২২ জন বিধায়ক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতীক নিয়ে জল্পনা

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে— দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কোনও আইনি লড়াই তৈরি হতে পারে কি? যদিও এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়করা আলাদা দল গঠনের কোনও ঘোষণা করেননি, তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের দিকে থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া

    পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
    তাঁর বক্তব্য, যারা আজ এই পদক্ষেপ করছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন এবং তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যদি তাঁরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও স্বার্থে বা প্ররোচনায় কাজ করেন, তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মী ও মানুষ তার বিচার করবেন। কুণাল আরও বলেন, ‘‘কারা কী জন্য কী করেছেন, তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। আইনি পথে যা হওয়ার হবে। কিন্তু এভাবে চোরা-গোপ্তা কাজ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’’

    এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তে

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ৫৮ বিধায়কের সমর্থনপত্র গ্রহণ করে তিনি যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, তাহলে তা হবে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মধ্যে এধরনের বিভাজন ঘটেছিল। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রস্তাবও এখনও আলোচনায় রয়েছে। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে। রাজ্যের রাজনীতিতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক ও আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে। বুধবার সকালেই বিধানসভায় পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল বিধায়কও বিধানসভায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেই চিঠিতে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন—তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন কি এবার প্রকাশ্যে আসতে চলেছে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিধানসভার অন্দরে?

    সাসপেনশনের পর থেকেই জল্পনার সূত্রপাত

    সম্প্রতি ‘সই জাল’ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। তারপর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নানা খবর সামনে আসতে থাকে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সাসপেনশনের পর থেকেই ঋতব্রত নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে একাংশ তৃণমূল বিধায়কের যোগাযোগও তৈরি হয়েছে বলে খবর। সেই প্রক্রিয়ারই পরিণতি হিসেবে নতুন একটি গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে বলে জল্পনা।

    বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার অঙ্ক

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়েছিল। তবে সাসপেনশনের কারণে ঋতব্রত ও সন্দীপন কার্যত দলের মূল শিবিরের বাইরে অবস্থান করছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে যদি নতুন গোষ্ঠী স্পিকারের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করে, তাহলে বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে তারা। সেই কারণেই এই চিঠিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা চিঠিতে শুধু সমর্থনকারী বিধায়কদের নামই নয়, সম্ভাব্য বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সিদ্ধান্ত স্পিকারের

    বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোন দল বা গোষ্ঠী বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে এবং কে বিরোধী দলনেতা হবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই থাকে। ফলে চিঠি জমা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও রাজনৈতিক স্বীকৃতি মিলবে কি না, তা নির্ভর করবে অধ্যক্ষের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর। বিধানসভা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যার অঙ্কের পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইন, বিধানসভার বিধি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্নগুলিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শাসক দলের ভাঙন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নজির থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভিতরে এই মাত্রার সমীকরণ পরিবর্তনের ঘটনা কার্যত অভূতপূর্ব। যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যক বিধায়ক নতুন গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাপস রায়ের মন্তব্যে বেড়েছে জল্পনা

    এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিধানসভায় ঢোকার পথে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দলের ভিতরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে। তাপস রায়ের কথায়, “দলীয় ফলাফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই অসন্তোষ চেপে রেখেছিলেন। এখন সেই ক্ষোভ সামনে আসছে।” তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন স্তরে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

    নজর আজ স্পিকারের দফতরে

    সব মিলিয়ে বুধবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে নজর এখন বিধানসভা এবং স্পিকারের দফতরের দিকে। সত্যিই কি ৬০ বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা পড়বে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে? নাকি সবটাই রাজনৈতিক জল্পনা? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে এতটুকু স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

LinkedIn
Share