Tag: Trade Agreement

  • US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন (US) সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এরপর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এই রায়ের প্রভাব কী হতে পারে তা তারা খতিয়ে দেখছে। মন্ত্রক বলেছে, “আমরা গতকাল (শুক্রবার) শুল্ক সংক্রান্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় লক্ষ্য করেছি। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন।” তারা আরও জানিয়েছে, “মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের করার কথা ঘোষণা করেছে। এই সব পদক্ষেপের প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করছি।”

    সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য (US)

    শুক্রবার, রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ছয়–তিন ভোটে রায় দেয় যে ১৯৭৭ সালের যে আইনের ভিত্তিতে ট্রাম্প পৃথক পৃথক দেশের ওপর হঠাৎ শুল্ক আরোপ করেছিলেন—যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল—সেই আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অনুমোদন দেয় না। ট্রাম্প এই রায় দেওয়া বিচারকদের মধ্যে দু’জনকে মনোনীত করেছিলেন। এদিনের ঘটনার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, আদালত বিদেশি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের জন্য সঠিক কাজ করার সাহস না দেখানোয় আদালতের কিছু সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত—পুরোপুরি লজ্জিত।” ট্রাম্প আরও বলেন, “দেশকে রক্ষা করার জন্য একজন প্রেসিডেন্ট অতীতে আমার আরোপিত শুল্কের চেয়েও বেশি শুল্ক আরোপ করতে পারেন।” তিনি বলেন, এই রায় তাঁকে আরও শক্তিশালী করেছে (US)। ডালাসের ইকোনমিক ক্লাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “বিকল্প পদ্ধতিতে ২০২৬ সালে শুল্ক আয়ে কার্যত কোনও পরিবর্তন হবে না (Supreme Court)।”

    নয়া শুল্ক আরোপ

    ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ করেন। এই ধারা প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক পরিশোধ-সংক্রান্ত মৌলিক সমস্যার মোকাবিলায় অতিরিক্ত শুল্ক ও বিশেষ আমদানি-নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়। ১২২ ধারা অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বড় ও গুরুতর পরিশোধ-ঘাটতি অর্থাৎ যখন আমদানি রফতানির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়—মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অস্থায়ী শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর তিনি আমেরিকায় আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন। এর ফলে ভারতের ওপর শুল্কহার ১৮ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন শুল্ক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, “এটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে (US)।”

    হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, নয়া শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর হবে। তবে পৃথক তদন্তাধীন খাত—যেমন ফার্মাসিউটিক্যাল—এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডা চুক্তির আওতায় (Supreme Court) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় বহাল থাকবে (US)।

     

  • US: মোদির কাছে মাথা নত! শেষমেশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল আমেরিকা

    US: মোদির কাছে মাথা নত! শেষমেশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল আমেরিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)। হোয়াইট হাউসের নয়া এক বিজ্ঞপ্তির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পূর্ববর্তী বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামো বাতিল করে দেয় (Supreme Court Ruling)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে যেসব ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপিত ছিল, সেগুলির ওপর এখন ১০ শতাংশ ‘অ্যাড ভ্যালোরেম’ (ad valorem) শুল্ক প্রযোজ্য হবে। যদিও এর আগে দুই দেশের মধ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক হার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রফতানিকারীরা কার্যত ২৫ শতাংশ থেকে সরাসরি ১০ শতাংশে শুল্ক কমার সুবিধা পাবেন।

    সংশোধিত শুল্কহার কবে থেকে (US)

    সংশোধিত শুল্কহার ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে এবং ১৫০ দিন বলবৎ থাকবে। এই নয়া কাঠামোটি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, এমন সব দেশের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। এর আগে সিএনবিসি জানিয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি থাকা দেশগুলি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত নতুন ঘোষণার আওতায় কম শুল্ক সুবিধা পাবে। এই সাময়িক শুল্ক হ্রাসকে মার্কিন বাণিজ্যনীতির বৃহত্তর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে (US)। শুল্ক সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের পর, যেখানে প্রশাসনের পূর্ববর্তী বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন যে, আমদানি শুল্ক আরোপের জন্য যে আইনের উল্লেখ করা হয়েছিল, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে একতরফা শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়, যা একাধিক দেশকে প্রভাবিত করেছিল।

    শুল্কের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

    তবে আদালত এই বিষয়ে কিছু বলেনি যে, আগে আদায় করা শুল্কের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দেশগুলি ফেরতের অধিকার পাবে কি না। বিষয়টি এখনও নিষ্পন্ন হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে আইনি বা কূটনৈতিক আলোচনা হতে পারে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বিচারপতিদের সমালোচনা করে তাঁদের জাতির পক্ষে লজ্জা বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে তাঁরা “বিদেশি স্বার্থ ও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর” প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতীয় রফতানিকারীদের জন্য ১০ শতাংশে সাময়িক শুল্ক হ্রাস স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি ও আমেরিকার বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দেবে। এই ১৫০ দিনের সময়সীমা উভয় দেশের বাণিজ্য কর্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ (Supreme Court Ruling) হয়ে উঠবে। কারণ ভবিষ্যতে  ভারত- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণে এটি প্রভাব ফেলতে পারে (US)।

     

  • India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং আমেরিকার অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য আগের থেকে অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হবে নতুন কর্মসংস্থান। এমনকী কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিরাট লাভ করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি ডলারের মার্কিন বাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শনিবারই ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দু’দেশের সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হল

    ভারত ও আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘পারস্পরিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য’ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ (BTA) নিয়ে চলা আলোচনায় দু’দেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হল। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, ভবিষ্যতে আরও ছাড় বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি । ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি আমাদের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে এই চুক্তি।” দু’দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এই অন্তবর্তী চুক্তি ভারসাম্য রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে এই চুক্তির সূত্রপাত করবেন, তাও এই বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী ভারত আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিলোপ করবে। ভারতের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও আমেরিকার বিলোপ করবে, তা নেমে আসবে ১৮ শতাংশে। যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে, ভারত আমেরিকা থেকে পশুখাদ্য আমদানি করবে। পশুখাদ্যের মধ্যে সয়াবিন, ভুট্টা, গম, বার্লি, মাছের মতো বহু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

    দেশবাসীর কত লাভ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোক্তা, এমএসএমই, স্টার্টআপ ইনোভেটর এবং মৎস্যজীবীদের নতুন সুযোগ এনে দেবে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির জন্য প্রচুর চাকরি হবে। তার ফলে যুব সমাজ-মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আমেরিকার জন্য দারুণ খবর! আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পরিশ্রমী কৃষক, উদ্যোগপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।

    বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ

    মোদি বলেন, ভারত ও আমেরিকা উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এই বাণিজ্য কাঠামো দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। পাশাপাশি, এটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, “একটি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে, আমরা ভবিষ্যতমুখী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়িত করবে এবং যৌথ সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোগপতি ও নতুন স্টার্টআপগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার

    এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার। তাঁর আরও বিশ্বাস এই রফতানি বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প এবং কৃষকদের বেশি লাভ হবে। যার ফলে সারা দেশে কোটি কোটি চাকরি তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সঙ্গে অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করে ফেলেছে ভারত। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে মহিলা ও যুবকদের জন্য। তাঁর দাবি, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন

    যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দরজা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, এতে সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কেরই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে উভয় দেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-কে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    চুক্তির মূল শর্তগুলি

    এই চুক্তি-কাঠামোর আওতায় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিডিজি, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বিভিন্ন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ ও স্পিরিট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক, রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।চুক্তি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরে এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় রফতানির উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরোপিত কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বিশেষ শুল্ক কোটার সুবিধা পাবে। জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নিয়েও আলোচনা চলবে।

    ‘রুলস অব অরিজিন’- যৌথ বাণিজ্যের নানা নিয়ম

    ভারত-আমেরিকা যৌথ বাণিজ্যে দু’দেশ একে অপরকে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার দেবে। ‘রুলস অব অরিজিন’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে সব নিয়ম। ভারত মার্কিন চিকিৎসা যন্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনও পক্ষ শুল্ক পরিবর্তন করে, তবে অন্য পক্ষও তার প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করতে পারবে। বৃহত্তর বিটিএ-র আওতায় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াতে আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ আলোচনায় ভারতীয় রফতানির উপর শুল্ক কমানোর অনুরোধও বিবেচনা করবে। বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে দু’দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করবে। বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ। ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তি, বিমান, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য ও কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম-সহ প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক নীতি তুলে নেওয়া এবং বিটিএ-র আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই কাঠামো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলতে থাকবে।

     

     

     

     

  • EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি (EU Trade Agreement) শুধু প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যেই নয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারত–ইইউয়ের (India) এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমেরিকা এবং তুরস্কের গায়েও লাগবে এর আঁচ।

    ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার (EU Trade Agreement)

    এই চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতির ওপর সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ২২ শতাংশ এবং ওষুধে ১১ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক—যেগুলি ধাপে ধাপে প্রায় পুরোপুরিই তুলে নেওয়া হবে। ইউরোপীয় বিয়ারের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, বিমান ও মহাকাশযানের ক্ষেত্রে প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে। ইইউয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউয়ের রফতানি দ্বিগুণ হতে পারে এবং ইউরোপীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। অবশ্য এই চুক্তি ভারতের প্রতিপক্ষ দেশগুলির জন্য নেতিবাচক প্রভাবও বয়ে আনবে।

    তুরস্কে তোলপাড়

    অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই অভিযানের সময় আঙ্কারা পাকিস্তানকে ড্রোন ও লয়টারিং অ্যামুনিশন সরবরাহ করেছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি তুরস্কের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ইইউ–তুরস্ক কাস্টমস ইউনিয়নের চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ যে কোনও অংশীদার দেশের সঙ্গে যে অভিন্ন বহির্শুল্ক নির্ধারণ করে, তা অনুসরণ করতে হয় তুরস্ককে। এ নিয়ে তুরস্ক আগে থেকেই ইইউর কাছে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও এখনও কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। তাই সমাধান হয়নি সমস্যারও। ইইউ যখন কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অংশীদার—যেমন ভারতের—জন্য শুল্ক কমায়, তখন তুরস্ককেও সেই দেশের জন্য একই শুল্কছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু ভারত তুরস্কের ক্ষেত্রে পাল্টা কোনও শুল্কছাড় দিতে বাধ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই দেখার (EU Trade Agreement)।

    বিপাকে বাংলাদেশ

    তুরস্কের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে ভারতের পড়শি বাংলাদেশের ওপরও। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর বেশি এবং বাংলাদেশের ওপর কম শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলি তাদের উৎপাদন ঘাঁটি বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে পারে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হওয়ায় বাংলাদেশ ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়, যেখানে ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক দিতে হত (India)। এর ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল (EU Trade Agreement)। ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত খুব দ্রুত ইউরোপে বস্ত্র রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারে। আমাদের সবসময় প্রশ্ন করা হত, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রফতানি করে। তারা শূন্য-শুল্ক সুবিধা পেয়েছে এবং ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার দখল করেছে।” ইইউয়ের বাজারে ভারতীয় পোশাক রফতানি যখন বাংলাদেশের পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন মূল্য ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশের বাজারের অংশীদারিত্ব যে কমবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত (EU Trade Agreement)।

     পাকিস্তান কুপোকাত

    টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দুর্বল অর্থনীতির পাকিস্তানও ইইউয়ের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ। ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পাকিস্তান-সমর্থিত খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দিল্লিকে খালিস্তানি তৎপরতার বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ করে দেবে (India)। কানাডা, জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে ঘাঁটি করে গড়ে ওঠা খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির ধারণা, ইইউ এবং ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা তাদের আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর হবে। ভারত–ইইউ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাও রয়েছে, যা খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (EU Trade Agreement)।

    এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও অসন্তুষ্ট। ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত নতি স্বীকার না করায় ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তার অবস্থান বদলায়নি। এখন ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পের ওপর তার সমর্থক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপ আরও বাড়াবে। কারণ আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ (India) কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি হাতছাড়া করছে (EU Trade Agreement)।

     

  • Piyush Goyal: “কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত,” সাফ জানালেন পীযূষ

    Piyush Goyal: “কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত,” সাফ জানালেন পীযূষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে আমেরিকার সঙ্গে নয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Agreement) স্বক্ষর করবে না ভারত।” শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal)। একই সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, “নয়াদিল্লি তার নিজের শর্তেই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে।”

    সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৯ জুলাই (Piyush Goya)

    ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের পণ্যে শুল্কের পরিমাণ ছিল ২৬ শতাংশ। পরে নয়া শুল্কনীতি কার্যকর হওয়ার আগে ৯০ দিনের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৯ জুলাই। ফলে তার আগেই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।

    কী বললেন পীযূষ

    ট্রাম্প আগেই আভাস দিয়েছেন ৯ জুলাইয়ের পর তিনি আর ওই সময়সীমা বাড়াতে চান না। জুনের শেষ সপ্তাহে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলার পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য ভারত। তারই প্রেক্ষিতে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নিউজিল্যান্ড, ওমান, আমেরিকা, চিলি বা পেরু, অনেক দেশের সঙ্গে চুক্তির জন্য আলোচনা চলছে।” এর পরেই তিনি বলেন, “একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তখনই হয়, যখন পারস্পরিক সুবিধা থাকে। যখন ভারতের স্বার্থরক্ষা করে চুক্তিটি করা হয়। জাতীয় স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত সর্বদা উন্নত দেশগুলির সঙ্গে চুক্তি করতে প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে আমেরিকায় বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বৈঠকের পরে পীযূষ বলেছিলেন, “আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া ফার্স্ট নীতি নিয়ে আমরা এগোব।”

    সেই পীযূষই (Piyush Goyal) এদিন বলেন, “একেবারে উইন-উইন চুক্তি হতে হবে। এবং ভারতের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকাই একমাত্র শর্ত। জাতীয় স্বার্থ সব সময়ই অগ্রাধিকার পায়। এবং সেক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যদি কোনও ভালো চুক্তি সম্পন্ন হয়, ভারত সব সময় উন্নত দেশগুলির সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে তুলবে।”

    বৃহস্পতিবারই হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমাদের সঙ্গে সকলেই চুক্তি করতে চায়। গতকালই আমরা চিনের সঙ্গে চুক্তি সই করেছি। আরও একটা বড়সড় চুক্তি করতে চলেছি, সম্ভবত ভারতের সঙ্গে। বিরাট বড়মাপের (India US Trade Agreement) চুক্তি হবে।” তার পরেই এদিন পীযূষের মুখে শোনা গেল চুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থের অগ্রাধিকারের কথা (Piyush Goyal)।

LinkedIn
Share