Tag: Trade War

  • Donald Trump: ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিই কি কাল হল? মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের

    Donald Trump: ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিই কি কাল হল? মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের অন্যতম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উদ্বেগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের আবহে এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হয়ে উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই জয় পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। সেনেটে (Donald Trump) ৫৪-৪৪ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও অন্তত ৩০টি নতুন আসন দখল করেছে তারা।

    সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৪০ এবং রিপাবলিকানদের ১৪৭। যদিও কয়েকটি আসনের ফল তখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই ফলের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা (India Tariffs) করার পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের শক্তি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের পর দলের একাধিক নেতা দ্রুত ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা শুরু করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-সহ দলের নেতাদের একাংশের দাবি, ইরান যুদ্ধ এবং ইজরায়েল সম্পর্কে আমেরিকার অবস্থান ভোটারদের একাংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। এমনকী বহু রিপাবলিকান সমর্থকও এবার দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।

    কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পিছনে কি শুধুই বিদেশনীতি দায়ী? উত্তর হল, একেবারেই নয়। বরং আরও গভীর একটি প্রশ্ন উঠে আসছে। মাত্র দু’বছর আগে যাঁরা ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রতি আস্থা রেখেছিলেন, তাঁরাই কেন এবার দলটিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?

    আম-আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি (Donald Trump)

    এর উত্তর খুঁজতে গেলে সাধারণ আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে। টেক্সাসের রিপাবলিকান সেনেটর টেড ক্রুজ জর্জটাউন ব্লাড অ্যান্ড প্লাজমা রিসার্চ গ্রুপের একটি গবেষণার উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “২০২৬ সালে আমেরিকানরা অর্থের বিনিময়ে ৭ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি বার রক্তরস দান করেছেন। এটিও একটি নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ প্রতিদিন ২ লাখ আমেরিকানকে কেবল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার টাকা জোগাড় করতে হাতে সূচ ফুটিয়ে রক্তরস দান করতে হচ্ছে।”

    ক্রুজের এই মন্তব্য আমেরিকার সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, সংসার চালানোর খরচ এবং সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপনের চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। আর এখানেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি, বিশেষ করে তাঁর ব্যাপক শুল্ক আরোপের কৌশল।

    ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ, চাপে মার্কিন অর্থনীতি

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরে আমেরিকার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য ছিল, বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমানো, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং আমেরিকার বাজারকে সুরক্ষিত করা।

    কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয় তাঁর শুল্কযুদ্ধ। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেন তিনি। অধিকাংশ আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি দেশগুলি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকার সুযোগ-সুবিধার অন্যায্য ব্যবহার করে এসেছে (Donald Trump)।

    আমেরিকানদের কাছে এই নীতিকে বিদেশি দেশগুলির উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি এবং দেশের বাজার রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকনমির গবেষণায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। বিদেশি রফতানিকারীদের পরিবর্তে শুল্কের অধিকাংশ আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয়েছে আমেরিকার আমদানিকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের।

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত থাকায় অগাস্টে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপান ট্রাম্প। ফলে বহু ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।

    এর প্রভাব শুধু ভারতীয় রফতানিকারীদের উপরেই পড়েনি, আমেরিকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্ষোভ জমেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রচার এবং রাজনৈতিক বার্তার তুলনায় এই আর্থিক সমস্যাগুলিই ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ

    রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ এই নয় যে আমেরিকানরা হঠাৎ ভোট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। টেড ক্রুজও নির্বাচনের পর তাঁর বিশ্লেষণে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রিপাবলিকান সমর্থক, নির্দলীয় ভোটার এবং উদারপন্থী ভোটারদের একাংশ ভোট দিতে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    অর্থাৎ সমস্যা ছিল ভোটারদের বুথমুখী করা নয়, বরং তাঁদের আস্থা অর্জন করা। অর্থনীতি সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করছে, এই বিশ্বাস যথেষ্ট সংখ্যক ভোটারের মধ্যে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন (Donald Trump) রিপাবলিকান নেতৃত্ব।

    নির্বাচনের আগে রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ সমীক্ষাতেও তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৮ শতাংশ জানিয়েছিলেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিয়ম ও মূল্যবোধ, যার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ২৬ শতাংশ। অভিবাসন সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ১৩ শতাংশ (India Tariffs) ভোটার।

    আরও একটি তথ্য ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগজনক ছিল। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁদের পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মাত্র ১৩ শতাংশের মতে, তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতির বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি।

    ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ

    হিস্পানিক সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল আরও বেশি। তাঁদের ৫৪ শতাংশের মতে, পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সাফল্যকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা ট্রাম্পের কাছে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তিনি বারবার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের নেতৃত্ব ও নীতির উপর গণভোট হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভোটাররাও কার্যত সেই পথেই হেঁটেছেন। কিন্তু ফল গিয়েছে তাঁর বিপক্ষে।

    শুল্কের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংঘাত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির পিছনে যুক্তি ছিল সহজ। বিদেশি পণ্যের দাম বাড়িয়ে আমেরিকার বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করা, বিদেশি দেশগুলিকে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনে বাধ্য করা এবং দেশে উৎপাদন বাড়ানো।

    কিন্তু কোনও পণ্যের উপর বিদেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শুল্ক আরোপ করলেই তার আর্থিক বোঝা বিদেশি দেশগুলির ঘাড়ে গিয়ে পড়ে না। আমদানি করা পণ্য আমেরিকার সীমান্তে পৌঁছনোর পর সে দেশের শুল্ক দফতর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারী সংস্থার কাছ থেকে শুল্ক আদায় করে। পরে সেই অতিরিক্ত খরচ ব্যবসায়িক সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের খুচরো দামের সঙ্গে যুক্ত হয়।

    কিল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির এই প্রভাবের একটি বিস্তারিত ছবি উঠে এসেছে (Donald Trump)।

    গবেষণার জন্য প্রায় ৪ লাখ কোটি ডলার মূল্যের আমদানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আড়াই কোটিরও বেশি পণ্য পরিবহণের নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। গবেষকদের দাবি, বিদেশি রফতানিকারীরা শুল্কের মোট আর্থিক বোঝার মাত্র ৪ শতাংশ বহন করেছেন। বাকি প্রায় ৯৬ শতাংশের বোঝা গিয়ে পড়েছে আমেরিকার ক্রেতাদের উপর। এর প্রভাব পড়েছে পোশাক থেকে শুরু করে গয়না, খাদ্যপণ্য এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও।

    ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা আইসিআরএ-র মতে, দৈনন্দিন ব্যবহারের সুতির পোশাক, তৈরি পোশাক এবং গৃহস্থালির কাপড়ের পাইকারি দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। আমেরিকা তার আমদানি করা বস্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল। ফলে শুল্কের প্রভাব এই বাজারে বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছে।

    গয়নার বাজারেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, পালিশ করা হিরে এবং উন্নত মানের সোনার গয়নার দাম বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ হিরে পালিশ করার কাজ ভারতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    খাদ্যপণ্য ও রেস্তরাঁ ব্যবসাতেও শুল্কের প্রভাব পড়েছে। আমদানি করা হিমায়িত চিংড়ি, বাসমতি চাল এবং বিভিন্ন মশলার খুচরো দাম বেড়েছে বলে বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এমনকী গাড়ি মেরামতির বাজারও এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। আমেরিকার বাজারে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, ধাতব ঢালাইয়ের উপকরণ এবং বিকল্প যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছে ভারতের অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে আমেরিকার শুল্ক আদায়ের রাজস্ব প্রায় ২০০০ কোটি ডলার বেড়েছিল। কিন্তু সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি মানেই সাধারণ মানুষের আর্থিক লাভ নয়। কারণ এই অতিরিক্ত অর্থের জোগান এসেছে মূলত আমদানিকারী সংস্থা ও ক্রেতাদের পকেট থেকেই। বাস্তবে শুল্ক অনেকটা ভোগ্যপণ্যের উপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করেছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির পরীক্ষাগারে ভারতও

    ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল ভারত। ২০২৫ সালের অগাস্টে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়।

    প্রশ্ন উঠেছিল, অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা সামলাতে ভারতীয় রফতানিকারীরা কি নিজেদের পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছিলেন? কিল ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, বাস্তবে তা হয়নি। বরং আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের চালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

    এর অর্থ, বিদেশি রফতানিকারীরা শুল্কের বোঝা বহন না করলে সেই আর্থিক চাপ অন্য কোনও পথে আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রবেশ করে। আমদানিকারীদের বেশি টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির খরচ বাড়ে। সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। বাজারে পণ্যের জোগান কমে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে সেই পণ্য কিনতে হয় সাধারণ ক্রেতাদেরই।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য কি শুল্কই দায়ী?

    নির্বাচনের ফলের পিছনে একাধিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করেছে। তবে সাধারণ মানুষের আর্থিক উদ্বেগ যে অন্যতম প্রধান কারণ, তা টেড ক্রুজের নিজের দেওয়া তথ্য থেকেও স্পষ্ট (Donald Trump)।

    কানসাসের ভোটারদের মতামত বিশ্লেষণ করে তিনি জানিয়েছেন, সেখানকার ৩০.৬ শতাংশ ভোটারের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। দ্বিতীয় স্থানে ছিল দুর্নীতি, যার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ১৮.৫ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন ১০.১ শতাংশ ভোটার।

    এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য যথেষ্ট গভীর। ভোট দিতে যাওয়ার সময় আমেরিকার সাধারণ মানুষ যে শুধু ইরান যুদ্ধ কিংবা ইজরায়েল নীতি নিয়ে ভাবছিলেন, তা নয়। তাঁদের চিন্তার কেন্দ্রে ছিল প্রতিদিনের বাজার খরচ, জ্বালানির দাম, বিমার খরচ এবং মাসের শেষে বেতন দিয়ে সংসার চালানোর বাস্তব সমস্যা।

    ট্রাম্পের শুল্কনীতি এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছিল। ফলে বিদেশি দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যনীতি গ্রহণের রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক সমস্যাকে আড়াল করতে পারেনি।

    নিজের উপরেই গণভোট চেয়ে বিপাকে ট্রাম্প

    মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের নেতৃত্বের উপর গণভোটে পরিণত করার কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর পিছনে রাজনৈতিক যুক্তিও ছিল। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থী এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলি বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এলে জাতীয় রাজনীতির প্রশ্নগুলি সামনে চলে আসে।

    তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও রয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারের কাজে অসন্তুষ্ট হলে প্রেসিডেন্ট নিজেই তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠেন।

    ট্রাম্প কার্যত ভোটারদের তাঁর শাসনকাল ও নীতির মূল্যায়ন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ভোটাররাও সেই মূল্যায়ন করেছেন। আর সেই মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার ব্যয়, আর্থিক সচ্ছলতা এবং দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু রিপাবলিকান পার্টির সাংগঠনিক বিপর্যয় নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে (India Tariffs) তৈরি হওয়া ব্যবধানেরও প্রতিফলন। বিদেশি দেশগুলিকে শুল্কের চাপে রাখার নীতি শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কতটা (Donald Trump) চাপ তৈরি করেছে, সেই প্রশ্নই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

     

  • Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনদিনের চিন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump China Visit)। ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চিনে থাকবেন তিনি। বহুচর্চিত এই রাষ্ট্রীয় সফর ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Xi Jinping) বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রাখেননি চিনে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও এটিই প্রথম চিন সফর। যদিও তাঁর প্রথম মেয়াদের ২০১৭ সালের সফরের পর এটিই প্রথম তাঁর চিন-যাত্রা।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ! (Trump China Visit)

    চিন সম্পর্কে নানা সময় কড়া ভাষায় মন্তব্য করলেও, ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। গত সপ্তাহেও তিনি শি-কে ‘ভালো মানুষ’ এবং ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। জানিয়ে দেন, তাঁদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির খবরাখবর যাঁরা রাখেন, তাঁদের মতে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্পের দেশ। ট্রাম্পের বেজিং সফরের ওপর সবচেয়ে বড় ছায়া ফেলেছে ইরান সঙ্কট। কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউস চেষ্টা করছে যাতে চিন তেহরানের ওপর তার প্রভাব খাটিয়ে মার্কিন-সমর্থিত সমাধান নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তা না হলেও, অন্তত যাতে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া হয়, সেজন্য চাপ সৃষ্টি করে।

    মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতা

    যদিও এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি পরাজিত হয়নি, তবে এই সংঘাত মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতার কঙ্কালসার চেহারাটাই বেআব্রু (Xi Jinping) করে দিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অশান্তির প্রভাব পড়লেও, এখনও যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি ওয়াশিংটন। ট্রাম্প অবশ্য (Trump China Visit) মচকাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমি এর শেষ দেখতে চাই।”  অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রণালী ফের চালু করতে যে তিনি মরিয়া, তা স্পষ্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যেই। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। কারণ তিনি তেহরানের (ইরানের রাজধানী) সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আধিকারিকদের মতে, ওই প্রস্তাবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত ছিল। যদিও ট্রাম্প সেটিকে ‘জঞ্জাল’ বলে উড়িয়ে দেন। এহেন আবহে ওয়াশিংটন তাকিয়ে রয়েছে বেজিংয়ের সাহায্যের দিকে। চিন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং এখনও বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কেনে। তাই তেহরানের ওপর তাদের এমন প্রভাব রয়েছে, যা আমেরিকারও নেই।

    বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞের বক্তব্য

    হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিনা (Xi Jinping) বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, “ট্রাম্প আলোচনায় প্রবেশ করছেন দুর্বল অবস্থান থেকে। ট্রাম্পের চিনকে প্রয়োজন চিনের তুলনায় বেশি (Trump China Visit)।” তিনি এও বলেন, “ট্রাম্প একটি বিদেশনীতি-সংক্রান্ত সাফল্য চান। এমন একটি সাফল্য, যা দেখাবে তিনি শুধু বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন না, বরং স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করতে চাইছেন।” এদিকে, ট্রাম্পের চিন সফরের আগে উত্তেজনা কমানোর তেমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প, কখনও ভাববেন না যে ইরানের বর্তমান শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপনি বিজয়ীর বেশে বেজিংয়ে ঢুকতে পারবেন।” অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ থেকে স্পষ্ট সংঘাত এখনও শেষ হয়নি (Trump China Visit)।

    ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে!

    তবে ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে আসবে না। বেজিং হয়তো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে। প্রসঙ্গত, চিন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে। তাইপের (তাইওয়ানের রাজধানী) সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছে চিন। মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটনের নীতিতে সামান্য পরিবর্তনও এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের কূটনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বেজিং হয়তো তাইওয়ানের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি শিথিল করার চেষ্টা করবে। তাই এই বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, চিনের সহযোগিতার বিনিময়ে কতদূর আপস করতে প্রস্তুত ট্রাম্প। শি-ট্রাম্প বৈঠকের আর একটি বড় বিষয় হবে বাণিজ্য, বিশেষ করে গত বছরের তীব্র শুল্কযুদ্ধের পর (Xi Jinping)।

    হাতিয়ার যখন বিরল খনিজ রফতানি

    এই বৈঠকের পথ তৈরি হয় অক্টোবর মাসে বুসানে, যখন দুই দেশ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল। সেই সংঘাতে চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক পৌঁছেছিল ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (Trump China Visit)। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চিন বিরল খনিজ (Rare Earth Minerals) রফতানিতে কড়াকড়ি করে। এসব খনিজ আমেরিকার প্রযুক্তি কোম্পানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনের কড়াকড়ির জেরে আমেরিকার কয়েকটি কারখানায় দেখা দেয় বড় ধরনের উৎপাদন সমস্যা। এই অচলাবস্থা দেখিয়ে দেয়, চিন এখন আমেরিকার অর্থনীতির কৌশলগত খাতগুলিতেও আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। বর্তমানে উভয় পক্ষই অন্তত সাময়িকভাবে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আগ্রহী। চিন মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও রফতানি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা চায়। আর ওয়াশিংটন চায় চিন আরও বেশি করে মার্কিন পণ্য কিনুক, প্রতিশ্রুতি দিক নয়া লগ্নির (Trump China Visit)।

    সংঘর্ষের সুতোয় জড়িয়ে গিয়েছে সব

    সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত বিমান চুক্তি। জানা গিয়েছে, চিন ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এবং আরও কয়েক ডজন ওয়াইড-বডি বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০১৭ সালের পর এটাই হবে চিনের সবচেয়ে বড় বোয়িং কেনা। আমেরিকা আরও চাইছে চিন যেন সয়াবিন, মুরগি, গরুর মাংস, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়ায় (Xi Jinping)। বিশ্লেষকদের মতে, চিনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার এখনও তাদের বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। বেজিং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদি বিরল খনিজ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারে, যদিও সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত সরবরাহ সীমিত রাখবে (Trump China Visit)। এই কৌশলগত প্রভাবই ট্রাম্পের চিন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে কূটনীতি, বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা – সব একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে সংঘর্ষের সুতোয়।

     

LinkedIn
Share