Tag: trauma care centre

trauma care centre

  • Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার পথে আচমকাই স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো, রোগী পরিষেবা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি সরকারি ও জেলা হাসপাতালকে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি), ওয়ার্ড, এমনকি রান্নাঘর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অংশে নজরদারি চালানো হবে। তিনি বলেন, “রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।”

    স্বাস্থ্যভবনে অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম

    হাসপাতালগুলির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্বাস্থ্যভবনে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ ফিডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসেন না। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি বারবার একই হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তাঁকে সহজেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র

    রোগী ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থে হাসপাতালের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের জন্য পৃথক রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, ট্রলি চালক-সহ বিভিন্ন কর্মীর আলাদা ব্যাজ থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের পরিচয় বুঝতে পারবেন এবং বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে।

    প্রতিটি বড় হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার

    দুর্ঘটনা বা বড়সড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের পরিজনদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল চত্বরে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে রাত্রিযাপনের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।

    এসএসকেএমে বাড়ছে বেড ও আইসিইউ

    এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই ১০০টি নতুন বেড চালু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই আরও ২৫০টি বেড যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ বেড ১১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইউনিটেও দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ করে পরিষেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

    রোগীদের খাবারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ

    সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে ২০১৭ সালের পর থেকে রোগীদের খাদ্য বরাদ্দ আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার সেই বরাদ্দ ৫৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করেছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল, আইসিইউ-তে ভর্তি শিশু এবং আইসিডিএস প্রকল্পের অন্তর্গত গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টি সংক্রান্ত বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বেসরকারি হাসপাতালের ফ্রি বেড নিয়ে কড়া বার্তা

    সরকারি জমিতে তৈরি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চুক্তি অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের জন্য ১৫ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের চাপের মুখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলি আপাতত ১০ শতাংশ বিনামূল্যের বেড চালু করতে সম্মত হয়েছে।

    নিউটাউনে ২,০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল

    স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ২,০০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

    দুর্নীতির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ

    স্বাস্থ্য দফতরের অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আইন মেনে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোবে প্রশাসন।

  • Balurghat: এমনিতেই চিকিৎসক নেই, তারপরে আবার ট্রমা কেয়ার সেন্টার!

    Balurghat: এমনিতেই চিকিৎসক নেই, তারপরে আবার ট্রমা কেয়ার সেন্টার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেরার তকমা জুটলেও চিকিৎসক সংকটের জেরে বালুরঘাট (Balurghat) জেলা হাসপাতালে চালু থাকা নানা পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এবার গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো সেখানে ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালুর প্রস্তাব দিল রাজ্য। কিন্তু সেই একই প্রশ্ন, চিকিৎসক কই? বালুরঘাট হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু হলে জেলায় চিকিৎসা পরিষেবার আরও উন্নতি ঘটবে। পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কোনও রোগীকে নিয়ে আর কলকাতা, মালদা বা শিলিগুড়ি ছুটতে হবে না। ওই ইউনিট চালু হলে বালুরঘাট হাসপাতালেই আহতদের চিকিৎসা মিলবে। সম্প্রতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বালুরঘাট হাসপাতালে এই ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    সংশয় কোথায়?

    কিন্তু ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালুর জন্য প্রয়োজন নতুন পরিকাঠামোর। নতুন ট্রমা ভবন নির্মাণ, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ইত্যাদি। পরিকাঠামোর জন্য অর্থ বরাদ্দ হবে রাজ্য থেকে। তাই ভবন সহ নানা পরিকাঠামো হয়তো সহজে করেও ফেলবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ট্রমা কেয়ার ইউনিটের জন্য প্রয়োজন নিউরো সার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারি সহ নানা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞের।প্রশ্ন উঠেছে, চিকিৎসক কোথায়? উল্লেখ্য, চিকিৎসকের অভাবে ধুঁকছে বালুরঘাট (Balurghat) হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, মেডিকো লিগ্যাল, পিপি ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি। একজন চিকিৎসকও নেই ওই বিভাগগুলিতে। মেডিকো লিগ্যালের অভাবে তো হাসপাতাল মর্গে আসা মৃতদেহ মালদা মেডিক্যালে রেফার করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রমা কেয়ার ইউনিট হলে তা কার্যত খাতায়-কলমে থেকে যাবে বলেই মনে করছেন জেলার মানুষ। কারণ, তথ্য অনুযায়ী এখনও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। বিশেষ করে জেনারেল ডিউটি মেডিসিন অফিসারের অনেক পদ ফাঁকা রয়েছে।

    চিকিৎসকের মোট পদ ১০২, রয়েছেন মাত্র ৪০ জন

    পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভাগেও মোট শূন্যপদের তুলনায় কিছুটা কম সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন। জানা গিয়েছে, বালুরঘাট হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ ১০২। কিন্তু রয়েছেন মাত্র ৪০ জন চিকিৎসক। সামান্য চিকিৎসক নিয়েই চলছে বালুরঘাট (Balurghat) জেলা হাসপাতালের ইন্ডোর ও আউটডোর। পাশাপাশি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইন্ডোর ও আউটডোর সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে৷ এরই মধ্যে সম্প্রতি সিসিইউয়ের ২৪ বেড বাড়িয়ে নতুন ইউনিট খোলা হয়েছে। আরও অতিরিক্ত ৫০ বেডের ব্লক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালে শুরু হয়েছে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসার জন্য টিউমার বোর্ড। সেখানে ১৬ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সপ্তাহে অন্তত একদিন করে অতিরিক্ত কাজ করতে হবে। এমন অবস্থায় ট্রমা কেয়ার ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এমন পরিষেবা আদৌ চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে হাসপাতালেই।

    কী বলছেন হাসপাতালের সুপার (Balurghat)?

    বালুরঘাট (Balurghat) হাসপাতালে সুপার কৃষ্ণেন্দুবিকাশ বাগ বলেন, “বালুরঘাট হাসপাতালের মূল সমস্যা চিকিৎসকের ঘাটতি। আমরা রাজ্যের কাছে বারবার চিকিৎসক চেয়ে যাচ্ছি। আর এরই মধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন বালুরঘাট হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার ইউনিট করতে চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share