Tag: trinamool inner clash

trinamool inner clash

  • West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ মার্চ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল। আর এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন দিকে শাসকদলের অন্দরে শুধু হয়েছে চাপানউতোর। কারও অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি হয়েছে। কেউ বলছেন, দল তাঁকে ব‍্যবহার করে তেজপাতা করে দিয়েছে। কেউ টিকিট না পেয়ে ‘তৃণমূল হারবে’ বলে দলকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন। কেউ আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে ছাড়লেন দল! সব মিলিয়ে প্রার্থীতালিকা নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় তৃণমূল।

    তমলুকে ইস্তফা সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীর

    দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী শিবানী দে কুণ্ডু। নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও তিনি। তমলুক সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীও তিনি। মঙ্গলবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিবানী দে কুণ্ডুর দাবি, জেলায় মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই কারণেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মহিলাদের ৫০% আসন সংরক্ষণের কথা দল বললেও কার্যক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। এই কারণেই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিবানী। বুধবারেই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন বলেও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

    আরাবুল-শওকত নিয়ে ভাঙড়-ক্যানিংয়ে অস্বস্তি তৃণমূলে

    আবার ভোটের মুখে গরম ভাঙড়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়ে দল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম। তাঁর নিশানায় মমতা, ফিরহাদ, শওকত। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ আরাবুলের। দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাইজার-ও। সব মিলিয়ে ভাঙড়ে তৃণমূলের অস্তিত্বের সঙ্কট! ক্যানিং পূর্বের বদলে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সওকত মোল্লাকে। যা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা চৌমাথা বাজারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ তৃণমূলের। তাঁদের দাবি, ক্যানিং পূর্বে শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করতে হবে। টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী আমডাঙার ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান। আমডাঙা-কাঁকিনাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ তাঁর অনুগামীদের।

    খণ্ডঘোষে গণ-ইস্তফা, মন্তেশ্বরে বোমাবাজি, মিনাখাঁয় আগুন

    প্রার্থী ঘোষণা হতেই মঙ্গলবার প্রকাশ্যে খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বরের তৃণমূল নেতৃত্বের ঝামেলা৷ একদিনে মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে চলল বোমাবাজি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে হয় । ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নবীন বাগের নাম ঘোষণার পরেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে দলের অন্দরে। নেতা কর্মীদের একাংশ সাফ হুঁশিয়ারি দেন, প্রার্থী বদল না হলে খণ্ডঘোষের ব্লক সভাপতি, একাধিক অঞ্চল সভাপতি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা দলের পদ ছেড়ে নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকবেন৷ যার জেরে এদিন রাত পর্যন্ত সরগরম খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকা। মিনাখাঁয় ঊষারানি মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে দল। প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই সেখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশের। হাড়োয়ায় রোড অবরোধ। বাঁশ-লাঠি দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ। ঘটনায় জখম তৃণমূলের ২ কর্মী। জখম তৃণমূল কর্মীরা হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি।

    “আমি কি চাকর নাকি”, টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী বিধায়ক

    প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে না হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল। বিপ্রদাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিপ্রদাসপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং তাঁর অনুগামীরাই। ভোটের মুখে শাসকদলের এই প্রকাশ্য কোন্দল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উপপ্রধানের অভিযোগ, বর্তমান বিধায়ক তথা প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আমরা তো চুনোপুটি লোক, তাহলে আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলবে?’ ‘আমি মনে করেছি খামতি নেই, ওরা মনে করেছে আমার খামতি আছে। না হলে তিনবার আমাকে দিল এবার দিল না কেন? দলের লোকের আমাকে ভালোবাসে, ওদের মন ভেঙে গেছে। ধন্যবাদ জানালাম দলকে।’ অসিত বলেন, “রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।” এরপরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “দল কাজ করতে বললে কী করবেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “দল কাজ করতে বললেই করতে হবে নাকি, আমি কি চাকর নাকি?”

    “এবার তৃণমূল হারবে”, টিকিট না পেয়ে হুঁশিয়ারি বিধায়কের

    জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসনে পরপর চারবার জয়ী হওয়ার পরেও বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে ছাব্বিশের ভোটে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হল এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনকে৷ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খগেশ্বর। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। বিদায়ী বিধায়ক বলেন, “আমার প্রতি যে অবিচার হল, তার জন্য দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। রাজগঞ্জ আসন এবার তৃণমূল হারবে। এখানে দলের ভিত আমি তৈরি করেছি। অন্য দলে যাব কি না তা এখনও চিন্তা করিনি। তবে দলকে চিঠি পাঠালাম। দেখি দল কী সিদ্ধান্ত জানায়।” তাঁর আক্ষেপ, “টাকার কাছে হেরে গেলাম!” প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ‘বহিরাগত’ বা ‘অরাজনৈতিক’ প্রার্থী হঠানোর স্লোগানও ওঠে।

  • Memari: ‘ফুঁ দিয়ে মস্তান তৈরি করি, হাত ভেঙে দেব’, প্রকাশ্যে কেন হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা?

    Memari: ‘ফুঁ দিয়ে মস্তান তৈরি করি, হাত ভেঙে দেব’, প্রকাশ্যে কেন হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্য মঞ্চে এবার মস্তান তৈরির কথা বলে বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে (Memari) মন্ত্রী মস্তান তৈরির কথা বলেন। তবে, বিরোধী দলের কাউকে এমন হুমকি দিচ্ছেন এমন নয়, দলের অন্দরে বিরুদ্ধ গোষ্ঠীকে এই ভাষায় কথা বলে মন্ত্রী সমঝে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একজন মন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলেছেন তা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

    মন্ত্রী ঠিক কী বলেছেন?

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মন্ত্রী বলেন, আমি মস্তান নয়, কিন্তু ফুঁ দিয়ে মস্তান তৈরি করতে পারি। তেলপোড়া, পানিপোড়া কানে দেব, মাস্তান তৈরি হয়ে যাবে। মস্তানকে জন্ম করার ক্ষমতা আমার রয়েছে। তবে,  মস্তানি নয়, ভালোবাসার রাজ্য চাই। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির (Memari) সাতগেছিয়া বাজারে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে সিদ্দিকুল্লা সাহেব উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু অঞ্চলের ছেলেরা মাথায় ফেট্টি বেঁধে তাল  ঠুকছে। বাঘ, সিংহ গর্তে চলে গেল। তোমরা মশা-মাছি কত ভাল তাল ঠুকবে। আমার কাছে নাম আছে, বলব না। তাদের শুনিয়ে দিচ্ছি, হাত তোলা বন্ধ করো। না হলে হাত ভেঙে দেব একদম। ইয়ার্কি করতে আমরা আছি নাকি। মন্ত্রীর প্রকাশ্যে এই হুঁশিয়ারিতে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

     তৃণমূলের  দুই গোষ্ঠীর কোন্দল প্রকাশ্যে

    তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারি-২ ব্লকে (Memari) তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দল বহুদিন ধরেই রয়েছে। কয়েকদিন আগেই বড়পলাশনে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উভয়পক্ষের মোট তিনজন জখম হন। পুলিস ১০জনকে গ্রেফতার করেছে। সূত্র মারফত জানা যায়, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকে কোন্দল চরমে উঠেছে। এক গোষ্ঠীর নেতাদের পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হয়নি। অনেক পঞ্চায়েত প্রধান প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল। দলের এক নেতা বলেন, কোন্দল মেটাতে জেলা নেতৃত্ব একাধিকবার হস্তক্ষেপ করেছিলেন। কিন্তু তারপরও যুদ্ধ থামেনি। মন্ত্রী দলের সেই বিরোধী গোষ্ঠীকে বার্তা দিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share