Tag: Tripura Assembly Elections 2023

Tripura Assembly Elections 2023

  • Tripura: ত্রিপুরার রায়— কীভাবে জনজাতি মানুষের মন জয় করেছে বিজেপি

    Tripura: ত্রিপুরার রায়— কীভাবে জনজাতি মানুষের মন জয় করেছে বিজেপি

    সোমেশ্বর

    ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচন ও ভোট গণনার আগে বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল। দেখা যাচ্ছিল ত্রিপুরা সিপিএমের সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী এখানে-ওখানে ঘুরছেন, সঙ্গে দলীয় সদস্য-সমর্থক, কোথাও বা কংগ্রেস নেতা–কর্মীরা। পুলিশ বা সরকারী কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে ধমকাচ্ছেন, কখনও বাংলায়, বেশি রেগে ইংরাজিতে বলছেন, ‘‘জানেন আমি কে?’’ এও দেখা যাচ্ছিল সেইসব পুলিশ বা সরকারী কর্মীরা তাঁর সামনে জড়সড় হয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছেন এবং ধমক খেয়ে চুপ করে যাচ্ছেন। এসব দেখে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন যে, বিজেপি এবার ত্রিপুরা থেকে যাচ্ছেই আর বাম-কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তথা দশরথ দেবের পর ত্রিপুরার দ্বিতীয় জনজাতি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। 

    ত্রিপুরার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রবক্তা ছিলেন জিতেন্দ্রবাবু এবং চার বারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই জোটের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জিতেন্দ্রবাবুর ওপর ভরসা করেছিলেন। ফল প্রকাশের পর দেখা গেল দলের হাল যা হবার হয়েছে। তিনি নিজেই সাব্রুমের মতো একটি জনজাতি অধ্যুষিত কেন্দ্র থেকে দ্বিমুখী লড়াইয়ে মাত্র ৩৯৬ ভোটে জিতেছেন যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন একজন অ-জনজাতীয়— শঙ্কর রায়। এখানে তিপ্রামোথা কোনও  প্রার্থী দেয়নি। নোটায় ভোট পড়েছে ১২৪৮টি। 

    ঠিক যে কারণে মহম্মদ সেলিমকে পশ্চিমবঙ্গে সামনে আনা হয়েছে সম্ভবত সেই কারণেই জিতেন্দ্র চৌধুরীকে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফলে দেখা গেল— বাম নয়, বিজেপি এবং তিপ্রামোথা-ই জনজাতিদের আস্থা অর্জনে বেশি সফল হয়েছে। বিজেপি জোটে ৭ জন জনজাতীয় বিধায়ক, বাম–কংগ্রেস জোটে মাত্র একজন— জিতেন্দ্রবাবু নিজে। তিপ্রামোথার তেরো জনই জনজাতীয় সমাজের। এর মধ্যে চরিলাম কেন্দ্রে জিষ্ণু দেববর্মা তিপ্রামোথার প্রার্থীর থেকে মাত্র ৮৫৮ ভোট কম পেয়েছেন আর আম্বাসা কেন্দ্রে বিজেপি তিপ্রামোথার কাছে ৪৯৩ ভোটে হেরেছে।

    উত্তরপূর্ব ভারতের আর ছটা রাজ্যের থেকে ত্রিপুরা খানিকটা ভিন্ন। অন্যত্র সেখানকার জনজাতিরা সংখ্যায় অধিক কিন্তু ত্রিপুরায় দেশভাগের পর বন্যার মতো আসা বাঙালি উদ্বাস্তুদের আগমনে সেখানকার জনজাতিরা ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে পড়েন। যদিও ত্রিপুরার রাজ পরিবার একটি হিন্দু রাজপরিবার ছিল এবং সেখানকার পাহাড়বাসী, বনবাসী প্রজারাও সনাতন সংস্কৃতির অনুসারী ছিলেন কিন্তু হঠাৎ আসা বাঙালি হিন্দুদের আধিপত্য তাঁদের মধ্যে খানিকটা হলেও ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই শুরু হয় একদিকে জনজাতি রাজনীতি অন্য দিকে মিশনারীদের মদতে উগ্রপন্থা। 

    ত্রিপুরার বামপন্থী মুখ্যমন্ত্রী বিবিসি-র প্রতিনিধি সুবীর ভৌমিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ব্যাপটিস্ট  মিশনারীরা ওই রাজ্যে উগ্রপন্থী সংগঠন এনএলএফটিকে-কে মদত দিচ্ছে। ত্রিপুরার রাজ পরিবার স্বাধীন রাজ্য হিসাবে কিম্বা ভারতভুক্তির পর কখনও জনজাতি রাজনীতি করেনি। বর্তমান ‘রাজা’ প্রদ্যোৎ কিশোর দেব— ‘বুবাগ্রা’র ঠাকুরদা, বাবা এবং মা সবাই সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংসদীয় রাজনীতি করেছেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজপরিবারের সঙ্গে এমনকি গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া পরিবারের সঙ্গেও ত্রিপুরা রাজপরিবারের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এমন একটা পরিবারের সদস্য হিসাবে ‘বুবাগ্রা’ নিজেকে আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়েছেন। বলাই বাহুল্য মোথার আগামীদিনের রাজনীতি যত বেশি জনজাতিকেন্দ্রিক হবে ত্রিপুরায় জনজাতি ও বাঙালিদের মধ্যে সৌহার্দ্য ততটাই বিঘ্নিত হবে এবং ত্রিপুরার উন্নয়ন ব্যহত হবে।

    তিপ্রা মোথার নেতাদের যদি শুভবুদ্ধির উদয় হয় এবং তাঁরা যদি কোনও সর্বভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনজাতি স্বার্থের দিকে নজর রাখে তবে সবদিক দিয়েই ভাল হয়। সুখের কথা তিপ্রা মোথা শুরু থেকেই সংসদীয় রাজনীতির পথে আছে। আজকে মোথার যিনি সভাপতি সেই বিজয় রাঙ্খল তাঁর মধ্য চল্লিশে উগ্রপন্থী সংগঠন টিএনভি গড়েছিলেন। জনজাতিদের একটা বড় অংশ যাঁরা শিক্ষিত, সচেতন এবং অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তাঁরা বুঝেছেন পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের দাবি নিয়ে কিছু লোক নেতা হয়ে গিয়েছে মাত্র কিন্তু বাস্তবে এটা হওয়ার নয়। একারণেই জনজাতি এলাকাতেও বিজেপি একাধিক আসনে জিতেছে।

    উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশের মানুষের মধ্যে ভারত বিরোধিতা নিরসন করতে নিঃশব্দে তিনটি সংগঠন কাজ করে গেছে। এগুলি হল— রামকৃষ্ণ মিশন, কন্যাকুমারী ভিত্তিক বিবেকানন্দ কেন্দ্র এবং আরএসএস প্রভাবিত বনবাসী কল্যাণ আশ্রম। এক সময় এইসব রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে সেবার আড়ালে ধর্মান্তরণ করে জনজাতিদের মধ্যে ভারত বিরোধিতার বীজ বপন করত বিভিন্ন মিশনারী সংস্থা। কিন্তু যখন থেকে উক্ত তিনটি সংগঠন কাজে নামে তখন থেকেই ধীরে ধীরে এইসব রাজ্যের জনজাতি এলাকার মানুষের মধ্যে চেতনা ফিরে আসতে থাকে। ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রামে বনবাসী কল্যাণ আশ্রম বেশ কয়েক দশক ধরে কাজ করে চলেছে। 

    ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের উগ্রপন্থী সংগঠন ‘টিএনভি’-র সঙ্গে হওয়া চুক্তির সুফল হিসাবে আগরতলার কাছে বিবেক নগরে প্রায় পনেরো একর জায়গার ওপর একটি বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, ওই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে জনজাতি ছেলেরা সেখানে ভর্তি হয়, হোস্টেলে থাকতে শুরু করে। এমনকি ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান জনজাতির মানুষের বহু ছেলে এখানে ভর্তি হয়। তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে এখান থেকে পাশ করে যারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারা ভারত বিরোধিতার আগে বা বিছিন্নতাবাদী আন্দোলনের আগে দুবার ভাববে। আর শিলংয়ের বিদেশি মিশনারীদের স্কুলে যারা পড়ে আসবে তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতির প্রতি সেই টান থাকবে না। আশা করা যায় পরপর দুবার ক্ষমতাসীন ত্রিপুরার বিজেপি সরকার জাতীয়তাবাদী এইসব সংগঠনগুলোকে সমর্থন দেবে। নির্বাচনের ফল অন্যরকম হলে আবার ভারত-বিরোধী শক্তি ওই রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করত।

    ত্রিপুরা নির্বাচনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বিষয় সেই বাংলাভাষীরা যারা দীর্ঘদিন ধরে ওই রাজ্যে বামেদের টিকিয়ে রেখেছিল তারা একবার নয় দ্বিতীয়বার বিজেপিকে ভোট দিতে দ্বিধা করেনি। ত্রিপুরার শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের ছেলেমেয়েদের একটা বড় অংশ এখন পড়াশোনা, জীবন জীবিকার জন্য রাজ্যের বাইরে থাকে। তাদের মাধ্যমে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ার সেখানকার বাঙালিরা বুঝতে পারছে কীভাবে একটা রাজ্যকে দীর্ঘসময় অনুন্নত করে রাখা হয়েছিল। একসময় যারা অত্যাচারিত হয়ে পূর্ববঙ্গ ছেড়ে এই রাজ্যে বসত করেছিল তাদের আজকের প্রজন্ম বুঝতে পারছে সীমান্তবর্তী এই রাজ্যকে নিরাপদে রাখতে হলে কেমন সরকার প্রয়োজন। 

    ‘বুবাগ্রা’ যত যাই করুন তাঁর ‘রাজনৈতিক দর্শন’ বিধানসভার কুড়িটা আসনের বাইরে তাকে খুব একটা কিছু দেবে না। দ্বিতীয় বিজেপি সরকারের এমন কিছু করা উচিত যাতে তিরিশ শতাংশ জনজাতির সঙ্গে সত্তর শতাংশ বাঙালিও সমানভাবে সরকারি সুযোগ–সুবিধা পেতে পারে। সেই সঙ্গে সেখানকার জনজাতিদের এটা বোঝাতে হবে তথাকথিত জনজাতি সংগঠনগুলো এক আধজন– বিজয় রাঙ্খল, শ্যামাচরণ ত্রিপুরা বা প্রদ্যোৎ কিশোরদের উচ্চাসনে পৌঁছে দেবে কিন্তু সামগ্রিকভাবে জনজাতি সমাজের কোনও বিকাশ হবে না।

  • Amit Malviya: ‘উত্তর-পূর্ব মমতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা’, কটাক্ষ অমিত মালব্যর

    Amit Malviya: ‘উত্তর-পূর্ব মমতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা’, কটাক্ষ অমিত মালব্যর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার বাইরে এবারও শাখা বিস্তারে ব্যর্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে কার্যতই মুখ থুবড়ে পড়ল তৃণমূল। প্রায় একবছর ধরে সেখানে পড়ে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্বাচনের আগে সভা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও (Mamata banerjee)। তার পরও সেখানে খাতা খুলতে পারল না তৃণমূল। এমনকী নোটার চেয়েও কম ভোট পেল তারা। ফলে উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আসতেই এবারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য।

    গেরুয়া শিবিরের জয়

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ত্রিপুরায় সরকারে ফিরছে বিজেপি। জোটসঙ্গী এনডিপিপি-কে নিয়ে তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে নাগাল্যান্ডেও। ফলাফল ঘোষণার পরে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যেরই জনতা এবং বিজেপির নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্যুইটে ত্রিপুরার জন্য তাঁর বার্তা, “শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এই ভোট। রাজ্যকে বৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিজেপি কাজ করে যাবে।” অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য জয়ের পর ট্যুইটে উত্তর-পূর্ব রাজ্যের বিজেপি কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    আরও পড়ুন:উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যেই সরকারে পদ্ম! মেঘালয়ে এনপিপি-কে সমর্থন বিজেপির

    উল্লেখ্য, ত্রিপুরায় খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেও মেঘালয়ে পাঁচটি আসন জিতে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “ছ’মাস আগে আমরা সেখানে শুরু করেছিলাম, ১৫% ভোট পেয়েছি। জাতীয় দলের তকমা পেতে সাহায্য করবে। প্রধান বিরোধী হিসাবে কাজ করব।”

    তৃণমূল সুপ্রিমোকে কটাক্ষ মালব্যর

    অন্যদিকে ত্রিপুরার ফলপ্রকাশের পর বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে তৃণমূলের অবস্থান দেখে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রত্যাখান করেছে। এবারে পশ্চিমবঙ্গের পালা। তিনি ট্যুইট করেও তৃণমূল কংগ্রেসের পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেছেন, “বাম কংগ্রেস জোট এবং টিএমসি থাকা সত্ত্বেও বিজেপিকে ত্রিপুরা ধরে রেখেছে। টিএমসি নোটার চেয়েও কম ভোট পেয়েছে। টিএমসি মেঘালয়ে ১২ জন বিধায়ককে নিয়েছিল। কিন্তু সংখ্যাটা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৫-এ। উত্তর-পূর্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপর হবে পশ্চিমবঙ্গে।”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ

  • Assembly Elections 2023: কবে বিধানসভা নির্বাচন ত্রিপুরা-মেঘালয়-নাগাল্যান্ডে? আজই ঘোষণা করবে কমিশন

    Assembly Elections 2023: কবে বিধানসভা নির্বাচন ত্রিপুরা-মেঘালয়-নাগাল্যান্ডে? আজই ঘোষণা করবে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুব শীঘ্রই উত্তর-পূর্ব ভারতে ভোটের দামামা বাজতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন আজ দুপুরেই ত্রিপুরা (Tripura), মেঘালয় (Meghalaya) ও নাগাল্যান্ডের (Nagaland) বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে চলেছে। আজ দুপুর আড়াইটে নাগাদ দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে তিন রাজ্যের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে কমিশন। উল্লেখ্য, এই তিন রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের মার্চেই।

    দেশের তিন রাজ্যের ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা আজই

    আগামী ১২ মার্চ নাগাল্যান্ড বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেঘালয় এবং ত্রিপুরা বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে যথাক্রমে ১৫ মার্চ এবং ২২ মার্চ। ফলে উপরিউক্ত তারিখের মধ্যেই ভোট করতে হবে রাজ্যগুলিতে। সেইমতই তিন রাজ্যের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফূল বেঞ্চ সম্প্রতি নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও মেঘালয় সফর করেছে।

    এই তিন রাজ্যের নির্বাচেনর দিনক্ষণ নিয়ে বহুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। তারই মধ্যে নির্বাচন কমিশন দিয়ে দিল নির্বাচনের বার্তা। সমস্ত জল্পনার অবসান করে আজ নির্বাচন কমিশন একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এই সাংবাদিক বৈঠকের কথা। তবে এখনও পর্যন্ত ভোটের তারিখ ঘোষণা করা না হলেও ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এবারে এই তিন রাজ্যের মধ্যে মেঘালয় এবং ত্রিপুরায় নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

    আরও পড়ুন: ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ২৫টি আসন পাবে বিজেপি! দাবি সুকান্তর

    কোন রাজ্যে কোন সরকার রয়েছে?

    এই তিন রাজ্যের মধ্যে নাগাল্যান্ডে চলছে সর্বদলীয় সরকার। সেখানে বিধানসভায় কোনও বিরোধী দল নেই। মেঘালয়ে চলছে বিজেপি ন্যাশনাল পিপলস পার্টির জোট সরকারের শরিক। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দুই দল আলাদা লড়াই করবে বলে ঠিক আছে। অন্যদিকে, ত্রিপুরায় বিজেপি রয়েছে ক্ষমতায়। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের দুই প্রধান দল কংগ্রেস ও সিপিএম জোট করে লড়াই করার পথে হাঁটছে। তবে ত্রিপুরায় ২০২৩-এও ফের গেরুয়া ঝড় উড়বে এই নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। আবার ইতিমধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

    এই তিন রাজ্য সহ ২০২৩-এ মোট ৯টি রাজ্যে ভোট হবে। তার মধ্যে নাগাল্যান্ড, মেঘালয় ও ত্রিপুরার ভোট ঘোষণা আজ হতে চলেছে। এরপর ভোট রয়েছে কর্ণাটকে। তারপর ভোট হওয়ার কথা মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মিজোরাম ও তেলেঙ্গানায়। ডিসেম্বরে ভোট হওয়ার কথা জম্মু ও কাশ্মীরেও।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share