Tag: Tripura

Tripura

  • Threat Politics: “যত বেশি হুমকি দেওয়া হবে, আমরা ততই শক্তিশালী হব”, বললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

    Threat Politics: “যত বেশি হুমকি দেওয়া হবে, আমরা ততই শক্তিশালী হব”, বললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, বিভাজন ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক উসকানির ওপর ভিত্তি করে করা রাজনীতি কখনই ফলপ্রসূ হবে না, এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনজাতি সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।” শনিবার সিমনা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত (Threat Politics) বারাকাথল বাজারে একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কথাগুলি বললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা (Manik Saha)। এদিন তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়া ১০৭টি পরিবারের ৩১২ জন ভোটারকে স্বাগত জানান।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Threat Politics)

    সিমনা মণ্ডল আয়োজিত ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কয়েক দিন আগে বলা হয়েছিল, ভারতীয় জনতা পার্টির মতো জাতীয় রাজনৈতিক দলকে টিটিএএডিসি এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। আমরা প্রায়ই হুমকি শুনি। যত বেশি হুমকি দেওয়া হবে, আমরা ততই শক্তিশালী হব। আমি শুনেছি যে এখানে বারাকাথল বাজারে কোনও কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না, মুখ্যমন্ত্রীকে আসতে দেওয়া হবে না, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রীকে আসতে দেওয়া হবে না, এবং বিজেপির কেউ আসতে পারবে না। কিন্তু এই জায়গাটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সবার সম্পত্তি। যে কোনও দল যে কোনও জায়গায় যেতে পারে। কিন্তু বিজেপি কখনওই শক্তি প্রয়োগ বা বিভিন্ন ধরনের চাপের মাধ্যমে ভয়-ভীতি দেখানো সহ্য করবে না।”

    জম্মু ও কাশ্মীর

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী দেশটির অখণ্ডতা রক্ষা করতে জম্মু ও কাশ্মীরে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং পণ্ডিত দীন দয়ালও মুঘলসরাইয়ে নিহত হয়েছিলেন। বিজেপি সমগ্র ভারতের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক দল। আমাদের আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তারা তাদের মতো করে কাজ করবে। কিন্তু যে রাজনীতি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বা নানা উপায়ে বিভাজন ঘটায় এবং সাম্প্রদায়িক আবেগকে উস্কে দেয়, সেই রাজনীতি কোনওদিনই ফলপ্রসূ হবে না। অতীতেও তা প্রমাণিত হয়েছে। এমন রাজনীতির মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তিনি বলেন, “তাই আবারও বলব, বিজেপির দরজা এখনও তাঁদের জন্য খোলা, যাঁরা এভাবে চিন্তা করেন কিন্তু অন্যদের ভুল ব্যাখ্যার কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি বিজেপির পতাকার তলে আসতে। কারণ বিজেপির জনপ্রিয়তার (Threat Politics) গ্রাফ ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগে অনেকেই উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়তেন, বিশেষ করে জনজাতি সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ। কারণ তাঁরা বুঝতে পারতেন না তাঁদের প্রকৃত অভিভাবক কে। কিছু মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে তাঁদের ভুল পথে চালিত করেছিলেন। আজ উত্তর-পূর্বে প্রায় ১১-১২টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে শান্তি এসেছে। কিন্তু এখনও দেশের শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।”

    জনজাতি সম্প্রদায়

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরলস প্রচেষ্টার ফলে রাজ্যের জনজাতি সম্প্রদায়ের ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগরতলা বিমানবন্দরকে আধুনিক ত্রিপুরার নির্মাতা মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে (Threat Politics)। সাংগ্রাম্মা পূজার দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গরিয়া পূজার সরকারি ছুটি এক দিন থেকে বাড়িয়ে দু’দিন করা হয়েছে (Manik Saha)।” এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, পশ্চিম জেলা সদর গ্রামীণ সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিক, জনজাতি মোর্চার সহ-সভাপতি মঙ্গল দেববর্মা, লেফুঙ্গা আরডি ব্লকের বিএসি চেয়ারম্যান রণবীর দেববর্মা এবং অন্য শীর্ষ নেতা-কর্মীরা (Threat Politics)।

  • Bangladesh: ত্রিপুরায় তিন মৃত বাংলাদেশি গরু পাচারে অভিযুক্ত, দাবি বিদেশ মন্ত্রকের

    Bangladesh: ত্রিপুরায় তিন মৃত বাংলাদেশি গরু পাচারে অভিযুক্ত, দাবি বিদেশ মন্ত্রকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) বিবৃতি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে গণপিটুনির দাবি সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যা। নিহত তিন বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladesh) চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রথমে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল তারা এবং সেই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের ওপরে হামলা চালিয়ে হিংসাত্মক কাজ করে। ফলে ইউনূস সরকারের মিথ্যা অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে আরও একবার প্রত্যাখান করায় মুখ পুড়ল বাংলাদেশেরই।

    গ্রাম থেকে গরু চুরি করার অপচেষ্টা করে

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র (Ministry of External Affairs) রণধীর জয়সওয়ালের সাফ কথা, ঘটনাটি গত ১৫ অক্টোবর ত্রিপুরায় ঘটেছিল। ভারতীয় সীমান্ত খোয়াই জেলার ৩ কিমি ভিতরে এই এলাকা। বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে তিনজন দুষ্কৃতীর একটি দল আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়েছিল। এরপর বিদ্যাবিল গ্রাম থেকে গরু চুরি চেষ্টা করে তারা। সেই সঙ্গে তারা লোহার দা ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে এবং একজন গ্রামবাসীকে কুপিয়ে খুন করে। এরপর গ্রামবাসীরাই চোরদের আক্রমণের জবাব দেয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই চোরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। অপর আরেকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরের দিন মৃত্যু হয়।

    প্রয়োজনীয় স্থানে বেড়া দিতে হবে

    নিহত তিন চোরাকারবারির মৃতদেহ শনাক্ত করার পর জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা বাংলাদেশের (Bangladesh) হবিগঞ্জের বাসিন্দা। তাদের পরিচয় জুয়াল মিয়া, সজল মিয়া এবং পণ্ডিত মিয়া। তিন জনের মৃতদেহ বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মৃতদেহ পাঠানোর সময় ভারতের বিএসএফ এবং বাংলাদেশের বিজেবি সহ পুলিশ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে ত্রিপুরা সরকার এই বিষয়ে একটি মামলাও দায়ের করেছে। তবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ালে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক কঠোর ভাবে নিন্দা জানায়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) ইতিমধ্যে দুই দেশের সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আবেদন করেছে। চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধের জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে বেড়া দেওয়ার বিষয়েও মত প্রকাশ করেছে। একই ভাবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে উভয় সীমান্তে সতর্কতার বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Tripura: ত্রিপুরায় ধর্ষণের শিকার সংখ্যালঘু শিশুকন্যা, অপরাধী কে?

    Tripura: ত্রিপুরায় ধর্ষণের শিকার সংখ্যালঘু শিশুকন্যা, অপরাধী কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ত্রিপুরায় (Tripura) ধর্ষণের শিকার ১৪ মাসের সংখ্যালঘু শিশুকন্যা (Infant Raped)! পরে খুন করে পুঁতে দেওয়া হয় বাচ্চাটিকে। ঘটনায় অভিযুক্ত শিশুটিরই সম্পর্কিত মামাদাদু। শিশুটিকে ধর্ষণ, হত্যা এবং মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর মহকুমার জয়নালউদ্দিন। ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় অসমের নীলম বাজার এলাকা থেকে জয়নালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে ত্রিপুরায়।

    শিশুটি নিখোঁজ (Tripura)

    জানা গিয়েছে, শিশুটিকে নিয়ে তার মা বেড়াতে গিয়েছিলেন মামাদাদুর বাড়িতে। ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই মহিলা শিশুটিকে তাঁর কাকার কাছে রেখে কাছের বাজারে যান। বাড়ি ফিরে দেখেন, শিশুটি নিখোঁজ। এক প্রত্যক্ষদর্শী তাঁকে জানান, জয়নালউদ্দিন শিশুটিকে কাছের ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরে না আসায় শিশুকন্যাটির মা এবং পরিবার পুলিশে খবর দেয়। তদন্তে নামে পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। দেখা যায়, ঘরের পেছনের উঠোনে পুঁতে রাখা হয়েছে শিশুটিকে। দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় পানিসাগর মহকুমা হাসপাতালে।

    যৌন নির্যাতনের ফলে মৃত্যু

    ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, যৌন নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হয়েছে ওই একরত্তির। অভিযুক্ত জয়নাল গা-ঢাকা দেন। রবিবার সকালে শিশুটির মামাদাদু এফআইআর দায়ের করেন। এদিনই অভিযান শুরু করে পুলিশ। জয়নালকে গ্রেফতার করা হয় অসমের শ্রীভূমি জেলার নীলম বাজার এলাকা থেকে (Tripura)। জানা গিয়েছে, অসমের শিলচর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল জয়নাল। তার সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয়  পুলিশ। এসডিপিও রাহুল বলহারা জানান, অভিযুক্ত জয়নালউদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ শিশুটির ময়নাতদন্তের সরকারি রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে (Infant Raped)। এই অমানবিক ও জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ত্রিপুরাবাসী (Tripura)।

  • Northeast Terror Plot: উত্তর-পূর্বকে অশান্ত করার চেষ্টায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান! বড় সন্ত্রাসী চক্রান্ত ফাঁস ত্রিপুরায়

    Northeast Terror Plot: উত্তর-পূর্বকে অশান্ত করার চেষ্টায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান! বড় সন্ত্রাসী চক্রান্ত ফাঁস ত্রিপুরায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ফের ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্বে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর। ফের ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে বাংলাদেশ। তার সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)। সম্প্রতি মণিপুরে এরকম এক চক্রান্তের খোঁজ পেয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। এনআইএ-এর তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রামভিত্তিক বিদ্রোহী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF) ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা হাম বারঘা তা আর্মি (THBTA) ও মোগ ন্যাশনাল পার্টি (MNP) গঠনের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছিল।

    ত্রিপুরার সীমান্ত এলাকায় সুরক্ষাব্যবস্থা, পাঁচ অভিযুক্ত ধৃত

    এনআইএ সূত্রে খবর, চক্রান্তের আঁচ পেয়েই ত্রিপুরার সীমান্ত এলাকায় সুরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। জঙ্গিদের আনাগোনা বাড়ছে এই খবর পাওয়ার পরেই আরও তৎপর হয় বাহিনী। এদিকে ত্রিপুরায় এর আগে একের পর এক জঙ্গি কার্যকলাপের ঘটনা হয়েছে। এনএলএফটি, এটিটিএফ, সহ একাধিক গোষ্ঠী মাঝেমধ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে। সেই ১৯৮০ সাল থেকে ২০০০ সালের প্রথম পর্যন্ত একের পর এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা হয়েছে। এর জেরে বার বার অশান্ত হয়েছে ত্রিপুরা। তাই এবার আগে থেকেই সতর্ক ছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সম্প্রতি এনআইএ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে, যারা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহে জড়িত ছিল এই ব্যক্তিরা। ধৃতরা হলেন লালবিয়াকচুঙ্গা ওরফে ডিভিড ওরফে ডেভিড, লালথমচেউভা ওরফে থাওমা, মালসাওমা ওরফে মালসাওমা লনচেউ, রুয়াললিয়ানসাঙ্গা ওরফে সাঙ্গা এবং অলোক বিকাশ চাকমা। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (BNS, 2023), বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA Act, 1967), অস্ত্র আইন (Arms Act, 1959) এবং বিদেশি আইন (Foreigners Act, 1946) এর অধীনে মামলা রুজু হয়েছে।

    মিজোরাম থেকে অস্ত্র সরবরাহ

    একই সঙ্গে মিজোরামের মামিত জেলার সাইথাহ গ্রাম থেকে বড় পরিমাণে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল, ৬টি একে-৪৭ রাইফেল, ১৩টি ম্যাগাজিন, ১০,০৫০ রাউন্ড গুলি। এই অস্ত্রগুলি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইউপিডিএফ-এর জন্য পাঠানো হচ্ছিল, বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।

    মণিপুরে গ্রেফতার, উদ্ধার মোবাইল ফোন-সিম

    মণিপুরে জঙ্গি সংগঠন ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী। ১১ ও ১২ জুলাই তারিখে ইম্ফল পূর্ব, থৌবাল ও বিষ্ণুপুর জেলায় সমন্বিত অভিযানে পাঁচ সক্রিয় জঙ্গি ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থৌবাল ড্যাম থানা এলাকার অন্তর্গত লাইখং অঞ্চল থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ-এর দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃতদের নাম সাগোলসেম ললিত মেইতেই (৩৬), ইথাম মামাং লেইকাই এবং অহংশাংবম তোম্বা সিং। এক পৃথক অভিযানে ইম্ফল পূর্ব জেলার পরমপট থানার অন্তর্গত কংপাল চিংগাংবম লেইকাই এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য খুমুকচাম আবোসানা সিংকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, থৌবাল থানার অন্তর্গত ওয়াংজিং বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় নিষিদ্ধ রেভলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট/পিপলস লিবারেশন আর্মির সক্রিয় সদস্য মেইসনাম মাংলেমনগবা মেইতেই ওরফে চুমথাংখানবা বা নাওতোম্বাকে (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি থৌবাল ও বিষ্ণুপুর জেলায় চাঁদাবাজি, অর্থ দাবি এবং নতুন সদস্য নিয়োগের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি ও টাকা ভর্তি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ জুলাই বিষ্ণুপুর জেলার মোইরাং থানার অন্তর্গত ত্রোংলাওবি বাজার থেকে কেএসপি (তৈবাংগানবা) গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য থিনগুজম রমেশ সিং ওরফে অ্যালেক্স বা পিঙ্কিকে (৩১) গ্রেফতার করা হয়। পিঙ্কি স্থানীয় ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ জনগণকে হুমকি এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ও দুটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তা

    এনআইএ-এর তদন্তে আরও উঠে এসেছে, টিএইচবিটিএ প্রধান হামবাই রিয়াং-এর নেতৃত্বে প্রায় ৭০ জন ক্যাডার বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় রয়েছে। এরা একটি পৃথক রিয়াং রাজ্য গঠনের লক্ষ্যে উত্তর ত্রিপুরার রিয়াং-অধ্যুষিত অঞ্চলকে আলাদা করতে চায়। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি অঞ্চলের সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড এই গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। ত্রিপুরা হাম বারঘা তা আর্মি (THBTA)-র এক শীর্ষ কমান্ডার, ইয়াংপু রিয়াং, নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। অন্যদিকে, মোগ ন্যাশনাল পার্টি (MNP)-এর নতুন সদস্যরা ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী সাবডিভিশনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের জন্য বাংলালহালিয়া ক্যাম্প-এ তাদের টার্গেট শুটিংয়ের ময়দানও সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

    ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা

    অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার বি কে খন্না এই ঘটনাকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আওয়ামি লিগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ভারতবিরোধী শক্তিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে সন্ত্রাস ছড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।” প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে। ওই অঞ্চলের বিদ্রোহী সংগঠনগুলিকে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • India Pakistan Relation: ভারত-পাক সংঘাতের আবহে উত্তর-পূর্ব ভারত দখলের ছক কষছে বাংলাদেশ?

    India Pakistan Relation: ভারত-পাক সংঘাতের আবহে উত্তর-পূর্ব ভারত দখলের ছক কষছে বাংলাদেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তানের (India Pakistan Relation) মধ্যে সংঘাতের আবহে বাংলাদেশের (Bangladesh) উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখলের পরিকল্পনা করা। পহেলগাঁওকাণ্ডের জেরে চরমে উঠেছে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা। এই আবহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবীণ এক আধিকারিকের এমন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ভারতজুড়ে। ২২ এপ্রিল ভরদুপুরে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে হত্যা করে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীরা। এক জঙ্গির হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় খুন করা হয় স্থানীয় এক মুসলিম যুবককেও। নিহত হন এক খ্রিস্টান পর্যটকও। সব মিলিয়ে ওই দিন জঙ্গি হামলার বলি হন ২৮ জন নিরীহ মানুষ।

    বাংলাদেশের বিতর্কিত পোস্ট (India Pakistan Relation)   

    বাংলাদেশের ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের চেয়ারপারসন মেজর জেনারেল (অব.) এএলএম ফজলুর রহমান গত সপ্তাহে ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। বাংলায় লেখা ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “ভারত যদি পাকিস্তানকে আক্রমণ করে, তাহলে বাংলাদেশের উচিত ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য দখল করা। চিনের সঙ্গে যৌথ সামরিক কাঠামো গঠনের বিষয়টি বিবেচনার সময় এসেছে।” প্ররোচনামূলক ভাষা ও সময়ের কারণে এই পোস্ট ভারতে তো বটেই, আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে (Bangladesh)।

    ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ!

    ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ফজলুর রহমানের এই বক্তব্যকে। তাঁর এই মন্তব্যটি সমর্থন করেছেন কমিশনের আর এক সদস্য ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের পূর্ততন নেতা শাহনাওয়াজ খান চন্দন। বর্তমানে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক চন্দনকে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের অগাস্টে অপসারণের পর এই সরকার ক্ষমতায় আসে (India Pakistan Relation)।

    উদ্বেগজনক মন্তব্য

    স্ট্র্যাটেজিক এক্সপার্টরা এই বিবৃতিকে কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেই মনে করছেন না, তাঁদের মতে বাংলাদেশের এহেন মন্তব্য গভীরভাবে উদ্বেগজনকও, বিশেষত এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রেক্ষিতে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, যা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমানা শেয়ার করে, তা প্রায়ই আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে আসছে। তবে কোনও উচ্চপদস্থ বাংলাদেশি আধিকারিকের ভারতের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক আগ্রাসন প্রকাশ্যে সমর্থন করা এই প্রথম। এই ঘটনা ঘটেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে, যিনি শেখ হাসিনার সরকারের কুর্সি দখল করেন। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের কঠোর অবস্থান ও বৈদেশিক নীতির পুনর্বিন্যাসের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তানের এই হামলায় জড়িত থাকার প্রতিক্রিয়ায় ভারত সম্প্রতি ১৯৬০-এর সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে, আটারি চেকপোস্ট সিল করে দিয়েছে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের স্তর হ্রাস করেছে (Bangladesh)। প্ররোচনামূলক এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে, বিশেষত অসম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের মতো রাজ্যগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে বলে সূত্রের খবর (India Pakistan Relation)।

    কী বলছে বিদেশমন্ত্রক

    বাংলাদেশের এক প্রবীণ আধিকারিকের এহেন জ্বালাময়ী বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রক এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রে খবর, ভারতের ঢাকায় অবস্থিত হাই কমিশন এই বিষয়টি তুলে ধরেছে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে জবাব চাইতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ঢাকার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের এমন বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমেই তলানিতে ঠেকছে। শেখ হাসিনার শাসন কালে রক্ষিত ঐতিহ্যগতভাবে আন্তরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থেকে সরে আসারও ইঙ্গিত দেয় ইউনূসের সরকার। রহমানের পোস্টে চিনের উল্লেখ থাকায় বিশ্লেষকরা দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার সমীকরণে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন, যা আগামী মাসগুলিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভারতের।

    সাবধানী পদক্ষেপ ভারতের

    জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায়, পূর্ব প্রতিবেশী থেকে উদ্ভূত এই নতুন হুমকি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার দৃঢ় তবে সাবধানী পদক্ষেপ নিতে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের (India Pakistan Relation)। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে তীব্র আন্দোলনের জেরে গত ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তার পরেই বাংলাদেশের রাশ যায় ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে। এর পর থেকেই ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে ইউনূস সরকারের। চিনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে থাকেন ইউনূসরা। পহেলগাঁওকাণ্ডের জেরে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে ভারত পাক সীমান্তে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সুযোগ (Bangladesh) কাজে লাগিয়ে চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখল করতে চাইছে ইউনূসের বাংলাদেশ (India Pakistan Relation)।

  • Supreme Court: ত্রিপুরায় চাকরির প্যানেল বাতিলের মাশুল গুণতে হয়েছিল বামেদের, বাংলায়ও কি পালাবদল আসন্ন?

    Supreme Court: ত্রিপুরায় চাকরির প্যানেল বাতিলের মাশুল গুণতে হয়েছিল বামেদের, বাংলায়ও কি পালাবদল আসন্ন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ে চাকরি হারিয়েছিলেন ১০ হাজার ৩২৩ জন। তার জেরে কুর্সি খোয়াতে হয়েছিল ত্রিপুরার (Tripura) বাম সরকারকে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মানিক সরকার। কেলেঙ্কারি হয়েছিল তাঁর আমলেই, দু’দফায়। তারই মাশুল গুণতে হয়েছিল বামেদের। পরের বছর বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যায় বামেরা।

    দুর্নীতির পাঁকে আকণ্ঠ ডুবে তৃণমূল! (Supreme Court)

    পশ্চিমবঙ্গেও সেই দুর্নীতির গন্ধ। যে পাঁকে আকণ্ঠ ডুবে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার। গরু পাচার, বালি পাচার, এসএসসিতে নিয়োগ কেলেঙ্কারি – একের পর এক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের কেষ্ট-বিষ্টুদের। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ‘ঢাকি সমেত’ বিসর্জন হয়ে গিয়েছে ২৬ হাজার চাকরি। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। গদি খোয়ানোর আশঙ্কায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে দেশের শীর্ষ আদালতকে যা-নয়-তা-ই বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কয়েকজন তাঁবেদারও আস্থা হারিয়েছেন দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর! রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কেলেঙ্কারির জেরে গদিচ্যুত হতে হয়েছিল ত্রিপুরার বাম সরকারকে, সেই একই ‘পাপে’ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারাতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। আর যদি তা হয় তাহলে দেশের আর কোথাওই অস্তিস্ত্ব থাকবে না তৃণমূলের।

    ত্রিপুরায় পালাবদল

    ‘শিবের গীত’ বন্ধ করে ফেরা যাক খবরে। ত্রিপুরায় তখন বাম শাসন। রাজ্যের যে দিকেই চোখ যায়, সর্বত্রই লালে লাল। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে সিপিএমের মানিক সরকার। ২০১০ ও ২০১৩ সালে দু’দফায় স্কুল শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে শিক্ষক পদে ১০ হাজার ৩২৩ জনকে নিয়োগ করেছিল মানিকের সরকার। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ওই নিয়োগ নিয়ে মামলা হয় ত্রিপুরা হাইকোর্টে। গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে (Tripura) সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ত্রিপুরার বাম সরকার। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখে হাইকোর্টের রায়ই। তার পরের বছরই ছিল ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটেই কার্যত ত্রিপুরা থেকে মুছে যায় বামেরা। লাল রং বদলে ত্রিপুরা হয়ে যায় পদ্মময়। সরকার গঠন করে বিজেপি।

    নিয়োগ কেলেঙ্কারি

    প্রসঙ্গত, ২০১০-’১৩ সালের মধ্যে কেবল মৌখিক (Supreme Court) পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে নিয়োগ করেছিল ত্রিপুরার তৎকালীন বাম সরকার। নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কয়েকজন প্রার্থী হাইকোর্টে যান। রায় দিতে গিয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক গুপ্ত ও বিচারপতি স্বপন দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ সামগ্রিক নিয়োগ পদ্ধতিকেই অবৈধ ঘোষণা করে নতুন ও স্বচ্ছ পদ্ধতি তৈরি করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্ট এও জানিয়েছিল, নিয়োগ করতে হবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে।

    তৃণমূলের লাফালাফি

    ত্রিপুরা হাইকোর্টের সেই রায়ের পর লাফালাফি করতে শুরু করে দেয় তৃণমূল। সর্বভারতীয় দল হওয়ার লক্ষ্যে তখন ত্রিপুরায় পায়ের নীচে মাটি খুঁজে বেড়াচ্ছে তৃণমূল। সেরকম একটা সময়ে চাকরি বাতিলের মতো একটা হাতিয়ার হাতে পেয়ে যারপরনাই উল্লিসিত হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের তৎকালীন (Tripura) চেয়ারম্যান বলেছিলেন, “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। রাজ্যে শিক্ষা দফতরের নিয়োগ নীতি আদতে শাসক দলের দুর্নীতিকে এতদিন ধরে প্রশ্রয় দিয়েছে। আজ আদালতে সেটাই প্রমাণিত হল।”

    বাংলায় মুখ আমশি!

    ত্রিপুরায় একলপ্তে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলে হওয়ার পর তৃণমূল যেমন উল্লসিত হয়েছিল, তেমনি বাংলায় ২৬ হাজারের চাকরি যেতে মুখ আমশি হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের নেতাদের! ত্রিপুরার ক্ষেত্রে তারা বলেছিল, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আর বাংলায় তারা বিজেপি এবং আলাদতের ‘ষড়যন্ত্রের’ (ষড়যন্ত্র শব্দটি অবশ্য উল্লেখ করেননি তৃণমূল নেতারা, তবে তাঁদের আকার-ইঙ্গিতে তেমনই অনুযোগের জল্পনা) গন্ধ পাচ্ছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী চাকরি হারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সভা করেছিলেন। সেখানে ‘আমরা যোগ্য’ লেখা কার্ড ঝুলিয়ে অনেককে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। সেই সভায় তিনি এবং তাঁর স্তাবকদের দল কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করেন এবং আদালতের নির্দেশের সমালোচনা করেন বলে অভিযোগ।

    কাজ করতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতা!

    উত্তর-পূর্বের (Supreme Court) পাহাড়ি রাজ্য ত্রিপুরার বিজেপি নেতাদের দাবি, তাঁদের রাজ্যে বাম সরকার পতনে যেভাবে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল ১০ হাজার ৩২৩ জনের চাকরি বাতিল, সেই একই ঘটনা ঘটবে তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গেও। ত্রিপুরা বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, “বাংলা আর ত্রিপুরার মাটি আলাদা।” তবে একটা মৌলিক মিল রয়েছে। তা হল, দুই রাজ্যেই দীর্ঘ বামশাসনের পরে মানুষ সরকার বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল যেভাবে দুর্নীতি করেছে, তাতে মানুষের ক্ষোভ হিমালয়সমান জায়গায় পৌঁছেছে। চাকরি বাতিল-সহ যা যা হচ্ছে, তাতে সামনের ভোটে তাদের বিদায় আসন্ন।”

    কী বলছেন ত্রিপুরার বাম নেতা?

    ত্রিপুরার (Tripura) বাম সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ভানুলাল সাহা আবার ত্রিপুরার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিষয়টিকে এক করে দেখতে চাননি। তিনি বলেন, “ত্রিপুরা আর বাংলার বিষয়ের মধ্যে ফারাক রয়েছে। আমাদের রাজ্যে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হয়েছিল। কিন্তু বাংলায় টাকা-পয়সার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে। দুটো বিষয় এক নয়।” ত্রিপুরা সিপিএমের প্রবীণ নেতাদের একাংশের দাবি, শুধু চাকরি বাতিলের জন্য বাম সরকারের পতন হয়নি। দীর্ঘদিন সরকারে থাকার ফলে কাজ করেছিল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাও। বছর ঘুরলেই বাংলায়ও বিধানসভা নির্বাচন। তখন মমতা সরকারের ১৫ বছর পূর্ণ হয়ে যাবে। তাই নিদারুণ উদ্বেগে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে নবান্নে তলব করা হয় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে। শিক্ষামন্ত্রী এবং সরকারি আমলাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকার নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেছিলেন, এই মামলায় তো তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে (পার্থ চট্টোপাধ্যায়) জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে অনেক দিন হয়ে গেল! একজনের অপরাধে কতজনের শাস্তি হয়?

    বলির পাঁঠা করা হল পার্থকে!

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূল সুপ্রিমোর এহেন বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বলির পাঁঠা করা হল পার্থকে? তাঁর দলের যেসব নেতা কিংবা তাঁদের (Supreme Court) নিয়োজিত এজেন্টরা টাকার বিনিময়ে চাকরি ‘বিক্রি’ করেছিলেন, পার্থকে বলি দিয়ে তাঁদের গায়ের কেলেঙ্কারির কালি মুছে ফেলতে চেয়েছেন মমতা! রাজনৈতিক মহলের অন্য অংশের মতে, আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার নানা চেষ্টা করবে তৃণমূল সরকার। সিভিক ভলান্টিয়ারদের মতো হয়তো ‘সিভিক শিক্ষক’ও নিয়োগ করে ফেলতে পারে মমতার সরকার! কিংবা ‘শ্রী’যুক্ত কোনও ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারে রাজ্য সরকার। মোট কথা, যেন-তেন প্রকারে ফের ক্ষমতায় ফিরতে চাইবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। একবার ক্ষমতায় আসার পর যে ‘রসে’র সন্ধান পেয়েছেন তৃণমূল নেতারা, সেই রসের ভাগ যাতে দীর্ঘদিন ঝোলায় পড়ে, সেই ব্যবস্থা করতে প্রাণপাত করবেন তৃণমূল নেতারা।

    তবে গণতন্ত্রে তো (Supreme Court) শেষ কথা বলে জনতা জনার্দন। তারা কী বলে, সেটাই দেখার (Tripura)!

  • Bangladesh: ভীত বাংলাদেশ! ত্রিপুরার উপ-দূতাবাস বন্ধ করল ঢাকা, অমিল ভিসা পরিষেবা

    Bangladesh: ভীত বাংলাদেশ! ত্রিপুরার উপ-দূতাবাস বন্ধ করল ঢাকা, অমিল ভিসা পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অশান্তির আঁচ পেয়ে ত্রিপুরায় এবার বন্ধ হল বাংলাদেশ (Bangladesh) সহকারী হাইকমিশন বা উপ-দূতাবাস। মঙ্গলবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, আপাতত ভিসা এবং কনস্যুলার কাজ বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণ দেখিয়েই সহকারী হাইকমিশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগরতলায় বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছে ইউনূস সরকার। ত্রিপুরার ঘটনায় বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রকাশের পর ট্যুইট করেছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। 

    হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপরে নির্বিচারে হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদ হচ্ছে দিকে দিকে। ত্রিপুরার আগরতলাতেও প্রতিবাদ হচ্ছিল। বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু বিক্ষুব্ধ জনতা সহকারী হাইকমিশন চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করে। এই ঘটনার নিন্দা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। ভারত সরকারের তরফেও এই ঘটনার দুঃখপ্রকাশ করা হয়। ভাঙচুরের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে ৩ পুলিশ অফিসারকে। বদলি করা হয়েছে পুলিশের আরও এক কর্তাকেও। তবে, এই ঘটনায় ভয় পেয়েছে বাংলাদেশ, এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দোষীদের শাস্তি দিয়ে এবং ঘটনার প্রতিবাদ করে সংখ্যালঘুদের কীভাবে নিরাপত্তা দিতে হয়, তা দেখিয়ে দিল ভারত। বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বারবার ভারত বার্তা পাঠালেও ইউনূস সরকার তা নিশ্চিত করতে পারছে না, এটাই ফারাক দুই দেশের। 

    প্রতিবাদ অসমেও 

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে (Bangladesh) ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপরে আক্রমণ এবং ধর্মগুরু চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে ত্রিপুরার হোটেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঘোষণা করেছে, ব্যবসার ক্ষতি করেও বর্তমানে তারা হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিষেবা দেবে না। আগে থেকে যাঁরা হোটেলে ছিলেন, শুধু তাঁদেরই থাকতে দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভ হয়েছে অসমেও। শিলচরে বাংলাদেশের ভিসার একটি ফ্রাঞ্চাইজি কেন্দ্রে বিক্ষোভ হয়। দক্ষিণ অসমের চার জেলা সদরে ধর্না দেয় সনাতনী ঐক্য মঞ্চ। হাফলংয়ে বিক্ষোভ দেখায় ৩০টি সংগঠন। লোক জাগরণ মঞ্চের তরফে ধুবুড়ি, জোরহাট, নলবাড়ি, মাজুলি, বরপেটা, নলবাড়ি, গোলাঘাট, হোজাই-সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ মিছিল হয়। স্মারকপত্র পাঠানো হয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূসের উদ্দেশে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • India-Bangladesh Relation: বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ১৩৫ কোটি! টাকা চেয়ে ঢাকাকে হুঁশিয়ারি ত্রিপুরার

    India-Bangladesh Relation: বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ১৩৫ কোটি! টাকা চেয়ে ঢাকাকে হুঁশিয়ারি ত্রিপুরার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎ বিল বাবদ বাংলাদেশ (India-Bangladesh Relation) সরকারের কাছে বকেয়া ১৩৫ কোটি টাকা চাইল ত্রিপুরা সরকার। বিদ্যুৎচুক্তি নিয়ে গৌতম আদানির মালিকানাধীন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে টালবাহানার মধ্যেই ত্রিপুরা সরকার বাংলাদেশকে বকেয়া মিটিয়ে দিতে বলেছে। প্রসঙ্গত, এমন একটা সময় ত্রিপুরা সরকারের তরফে বাংলাদেশের কাছে বকেয়া চাওয়া হয়ছে, যখন ঢাকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। বাংলাদেশের মধ্যে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বকেয়া বাড়ছে নিয়মিত

    বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ভারতের ‘ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন’-এর সঙ্গে বাংলাদেশ (India-Bangladesh Relation) সরকারের চুক্তি হয়েছিল। ‘বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড’-এর মাধ্যমে এই চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক, প্রতি ইউনিটের জন্য একটি নির্দিষ্ট অর্থ ধার্য করেছিল ত্রিপুরা সরকার। সেই অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠায় তারা। কিন্তু ত্রিপুরা সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অনেক টাকা বকেয়া পড়ে গিয়েছে। ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন নাথ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বাবদ প্রতি ইউনিটের হিসাবে ৬ টাকা ৬৫ পয়সা করে নেয় ত্রিপুরা সরকার।

    অশান্ত বাংলাদেশ

    গত কয়েক দিন ধরে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের একাংশে। একাধিক সংখ্যালঘু নেতা, সন্ন্যাসীকে গ্রেফতারের ফলে বাংলাদেশের কিছু জায়গায় অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ শামিল হয়েছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। অভিযোগ উঠেছে যে, ভারত-বিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে বাংলাদেশে। এমনকী বাংলাদেশে ত্রিপুরা-কলকাতাগামী বাসে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে বাংলাদেশকে কোনও রকম ছাড় দিতে নারাজ ভারত। 

    আরও পড়ুন: আরও শক্তিশালী নৌসেনা! ফ্রান্স থেকে ২৬ রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান আসছে ভারতে, চুক্তি শীঘ্রই

    আদানির কাছে ধার

    আদানিদের সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা চলছে বাংলাদেশ সরকারের। ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার আমলে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎচুক্তির বিষয়ে হাইকোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর পাশাপাশি ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও আদানি-সহ ছ’টি সংস্থার সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎচুক্তি খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি আদানি গোষ্ঠী বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে জানায়, বিদ্যুতের বকেয়া বিল বাবদ ৮০ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে আক্রান্ত কলকাতাগামী বাস, ভারতীয়দের প্রাণনাশের হুমকি! প্রতিবাদ ত্রিপুরার

    Bangladesh: বাংলাদেশে আক্রান্ত কলকাতাগামী বাস, ভারতীয়দের প্রাণনাশের হুমকি! প্রতিবাদ ত্রিপুরার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় যখন বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারের তীব্র সমালোচনা চলছে নানা মহলে, ঠিক তখনই ত্রিপুরা লাগোয়া বাংলাদেশ সীমান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কলকাতাগামী একটি বাস ঘিরে যাত্রীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ত্রিপুরা থেকে কলকাতাগামী বাসে হামলা চালানোর অভিযোগ। বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবেড়িয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে কলকাতাগামী ওই বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক, এমনটাই জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনায় অল্প আঘাত পান যাত্রীরা। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীও বাংলাদেশের হামলার কড়া নিন্দা করেন। হামলা না থামালে কড়া পদক্ষেপের কথাও বলেন তিনি।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, ৩০ নভেম্বর ত্রিপুরার আগরতলা থেকে কলকাতা (Kolkata) আসছিল শ্যামলী পরিবহণের বাস। বাংলাদেশের (Bangladesh) বিশ্ব রোডে হঠাৎ বাসটিকে সজোরে ধাক্কা মারে একটি বড় ট্রাক। কোনওমতে ব্রেক কষে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ান বাসের চালক। গোটা ঘটনায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরই বাসে থাকা ভারতীয় যাত্রীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভারত বিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ত্রিপুরা সরকার। ত্রিপুরার পরিবহণমন্ত্রী সুশীল চৌধুরী বলেন, ‘‘ত্রিপুরা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবেড়িয়ায় আক্রান্ত হয়েছে শ্যামলী পরিবহণের একটি বাস। বাসটি রাস্তার এক ধার ধরে যাচ্ছিল। হঠাৎ বাসটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্ঘটনার কবলে ফেলার জন্য ধাক্কা দেয় পণ্যবাহী একটি ট্রাক। একই সময় রাস্তায় থাকা একটি অটো বাসের সামনে চলে আসে এবং শ্যামলী – বাসটির সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন – বাসে থাকা ভারতীয় যাত্রীদের ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকেন। ভারত- বিরোধী নানা স্লোগান দিয়ে এবং কটু মন্তব্য করে যাত্রীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। আর বাসে থাকা ভারতীয় যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’’

    সরব হয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

    ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ভারতীয় যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রশাসনকে এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘এরকম ঘটনা ঘটতে পারে তা ভাবা যায়নি। বাংলাদেশে যা চলছে তা কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না। ওরা যদি নিজেদের শুধরে না নেয়, তাহলে ফল ভুগতে হবে। ওখানে যা হচ্ছে তা মোটেও ভালো নয়।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ওখানে সংখ্যালঘুদের ওপর যেভাবে অত্যাচার চলছে, তা গোটা বিশ্ব দেখছে। আমি আশা করছি, আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় নেতারা পুরো বিষয়টির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন। সঠিক সময়ে তাঁরা নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। যেহেতু ত্রিপুরার তিন দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত তাই আমরা নজরদারির জন্য বিএসএফ এবং ডিজিপির সঙ্গে কথা বলেছি।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Manik Saha: “ধর্মের নামে কোনও অশান্তি সহ্য করবে না রাজ্য সরকার”, কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার

    Manik Saha: “ধর্মের নামে কোনও অশান্তি সহ্য করবে না রাজ্য সরকার”, কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মের নামে কোনও অশান্তি সহ্য করবে না রাজ্য সরকার। কার্যত এই ভাবেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ত্রিপুরার (Tripura) মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা (Manik Saha)। দীর্ঘ ৩৫ বছরের বাম শাসনের পর রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। ফলে হিন্দু সনাতন ধর্মের বিরাট জাগরণ ঘটেছে। তাই এই অবস্থায় কোনও প্রকার অশান্তি, হিংসা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। রাজ্যের গোমতি জেলার উদয়পুরে নেতাজি সুভাষ কলেজে ‘সনাতন ধর্ম সম্মেলন’ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এইভাবেই হুঁশিয়ারি দেন। 

    বাম শাসন একটি নাস্তিক পরিবেশকে তৈরি করেছিল (Manik Saha)

    এদিন এই ‘সনাতন ধর্ম সম্মেলন’ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী (Tripura) মানিক সাহা বলেন, “রাজ্যে গত ৩৫ বছরের বাম শাসন একটি নাস্তিক পরিবেশ তৈরি করেছে। আমাদের বিজেপি সরকার এবার ধর্মীয় পরিবেশকে ফিরিয়ে আনতে সনাতন ধর্মের পুনঃজাগরণ ঘটিয়েছে। তাই ধর্মের নামে কোনও রূপ অশান্তিকে বরদাস্ত করা হবে না। একই ভাবে আইন শৃঙ্খলার উন্নতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতিকে আগে প্রধান্য দিতে হবে। সকল ধর্মের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। কিন্তু অশান্তি সৃষ্টি করলে কড়া হাতে দমন করা হবে।”

    বাংলাদেশে অত্যাচারকে লক্ষ্য করেছি

    মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা (Manik Saha) আরও বলেন, “মানব সভ্যতা ঈশ্বরের একটি অপূর্ব সৃষ্টি। সমাজের প্রতি আমাদের অনেক কর্তব্য রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে সনাতনী সমাজের উপর অত্যাচারকে লক্ষ্য করেছি। আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় সরকার অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রেখেছে বাংলাদেশের উপর। আমি সকলকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছি। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখব সনাতন ধর্ম আগেও অনেক অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েছে। এখনও নানা সময় ওই ধারা দেখা যাচ্ছে। আজ যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, কাল থাকবে না এমন নয়। তাই সকলকে একত্রিত হতে হবে।”

    আরও পড়ুনঃ “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে, থাকবেও”, রাষ্ট্রসঙ্ঘে সাফ জানাল ভারত

    মন্দিরগুলিকে উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার

    একই ভাবে ১৯৮০ দশকের ত্রিপুরার (Tripura) পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মানিক (Manik Saha) বলেন, “ওই সময় রাজ্যে কোনও রকম আইনশৃঙ্খলা ছিল না। কেবল হত্যা এবং সন্ত্রাসের ঘটনা রোজ ঘটত। কিন্তু বর্তমানে এই রকম ঘটনা অনেক কমে গিয়েছে। এখন নেই বললেই চলে। কিন্তু কখনও কখনও বিরোধীরা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সামজে বৈষম্য ছড়ায়। মানুষের মনে বিভ্রান্ত তৈরি করে। দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলিকে উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অসমের কামাখ্যা, গুজরাটের দ্বারকা, সোমনাথ, ত্রিপুরার ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ শুরু হয়েছে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share