Tag: Typhoid symptoms and prevention

  • Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমের আঁচ বাড়ছে! তাপমাত্রার পারদ জানান দিচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে গরমের প্রকোপ‌ দেখা দেবে। আর এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ও তার আশপাশের জেলা নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। বিশেষত টাইফয়েড জ্বর নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কলকাতায় টাইফয়েডের ঝুঁকি কতটা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশের মধ্যে অন্যতম টাইফয়েড প্রবণ এলাকা হল কলকাতা। তাই কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় টাইফয়েড নিয়ে বাড়তি সতর্কতা দরকার। তবে চলতি বছরে কলকাতার পাশপাশি উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি সহ একাধিক জেলায় টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক। গরমের শুরুতেই টাইফয়েডের দাপট জানান দিচ্ছে, আগামী দিনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। যার একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে থাকেন। তবে টাইফয়েড সাধারণত বর্ষায় প্রকোপ দেখায়। কিন্তু এ বছরে গরমের শুরুতেই টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায়, চলতি বছরে এই রোগের প্রকোপ আরও প্রবল হতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    কেন গরমে এই রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। মূলত জলের মাধ্যমেই এই রোগ সংক্রমণ ঘটে। তবে খাবারের মাধ্যমেও এই রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান রয়েছে। নিয়মিত অসংখ্য মানুষ এই সব দোকান থেকে খাবার কিনে খান‌। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় খাবারের মান স্বাস্থ্যবিধির মাপকাঠিতে পাশ করে না। গরমে খাবার অনেক সময়েই নষ্ট হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। আর সেই খাবার খাওয়ার ফলে টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ছে। কলকাতা ও তার আশপাশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টাইফয়েডের ঝুঁকি বেশি। অধিকাংশ জায়গায় দূষণের মাত্রাও মারাত্মক। ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আবার এত বেশি মানুষ বাইরের খাবারে অভ্যস্ত, যে গরমেও টাইফয়েডের জীবাণু সক্রিয় থাকছে। রোগ ছড়াতে সক্ষম হচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও মানুষের টাইফয়েড হতে পারে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে যেকোনও বয়সেই কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশু ও কৈশোরে এই রোগ সবচেয়ে বেশি দাপট দেখায়। তার অন্যতম কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাই সংক্রামক রোগের প্রকোপও বেশি হয়। তাছাড়া অনেক সময়েই শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হয় না। হাত ঠিকমতো না ধুয়ে খাবার খাওয়া, যেকোনও রঙিন সরবত খাওয়া এগুলো রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে যারা নিয়মিত বাইরে যান, বাইরের খাবার খান, বাইরের জল খান, তাঁদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর, বমি, পেট ব্যথার মতো উপসর্গ টাইফয়েডের জানান দেয়। তাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত রোগ নির্ণয় জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো চললে বড় বিপদ আটকানো সহজ। তবে প্রথম থেকেই সচেতন থাকলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তাই জল পরিশ্রুত কিনা সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। গরমে অপরিচ্ছন্ন এলাকা থেকে খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। রঙিন সরবত খাওয়া উচিৎ নয়। এছাড়া শৌচালয় ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ অপরিচ্ছন্ন শৌচালয় থেকে টাইফয়েড ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই দিকে খেয়াল রাখলে এই ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখের দাপট আটকানো সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share