Tag: Ukraine Ambassador

  • India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় (India) নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্দর পলিশচুককে (Ukraine Ambassador) তলব করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজকে টার্গেট করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করে এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    ভারতের বিবৃতি (India)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে হামলার জেরে এক ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে সাউথ ব্লকে তলব করা হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ-পরিবহণের নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌ-পরিবহণ, অবাধ নৌ-চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।” ভারত আরও জানায়, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি ভারতের এই উদ্বেগ এবং কড়া বার্তা দ্রুত ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন। বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

    এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আগেও

    ঘটনাটি ঘটেছে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে। সেখানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে মোট চার জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, চার জনের মধ্যে দু’জন নিরাপদে রয়েছেন। তবে বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে (Ukraine Ambassador)। এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছে না নয়াদিল্লি। কারণ চলতি মাসেই একই ধরনের আর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল (India)। গত ১৯ জুলাই ওডেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল। সেই ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, গুরুতর জখম হয়েছিলেন একজন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের ওপর ঘটে যাওয়া পরপর দু’টি প্রাণঘাতী ঘটনায় উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে।

    ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

    পরপর এই হামলার জেরে ভারত সরকার কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত অসংখ্য অসামরিক জাহাজ যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে কোনও পরিস্থিতিতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাসও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দূতাবাসের তরফে জারি করা বিবৃতিতে নিহত ভারতীয়দের পরিবারের প্রতি “গভীর সমবেদনা” জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। যদিও হামলার দায় বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিকেই এই ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    ইউক্রেনের বক্তব্য

    ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব একটি বৈঠক বা টেলিফোনে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে খুব শীঘ্রই আলোচনা হবে বলে আমরা আশা করছি। সেই আলোচনায় কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।” কূটনৈতিকমহলের মতে, এই ঘটনা ভারত-ইউক্রেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে, তবুও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নয়াদিল্লি কোনও আপস করতে রাজি নয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই এই তলবের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর সামুদ্রিক অঞ্চল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপরই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, খাদ্যশস্য পরিবহণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাকি ভারতীয় নাবিকদের খোঁজ (Ukraine Ambassador) নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি (India) সূত্রের খবর।

     

LinkedIn
Share