Tag: ULFA

ULFA

  • Paresh Baruah: উলফা নেতা পরেশকে হাতের পুতুল বানিয়ে ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় চিন, বাংলাদেশ, আইএসআই!

    Paresh Baruah: উলফা নেতা পরেশকে হাতের পুতুল বানিয়ে ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় চিন, বাংলাদেশ, আইএসআই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য সক্রিয় হয়ে উঠছে উলফা! ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চিন, বাংলাদেশ এবং আইএসআই ‘অলিখিত ত্রয়ী’ আঁতাঁত গড়ে উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়াকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি পরেশ (Paresh Baruah) তাঁর গোপন ডেরা পরিবর্তন করেছে। অরুণাচল প্রদেশ-মায়ানমার সীমান্তের রুইলি এলাকায় চিনের পশ্চিম ইউনান প্রদেশে থাকতেন বড়ুয়া। এখন তিনি চিনের সিশুয়াংবান্না দাই অঞ্চল রয়েছেন তিনি। এটি অসমের অহম জনগণের সঙ্গে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতিগত সম্পর্কযুক্ত তাই জনগণের একটি শক্তিশালী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বড়ুয়া সম্ভবত এরপর মং লা শহরে পৌঁছবেন যা মায়ানমারের অন্তর্গত হলেও চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    কে এই পরেশ বড়ুয়া?

    অসমের একটি ছোট পরিবারে জন্ম পরেশের (Paresh Baruah)। তাঁর জন্ম সূত্রে যে ছিল বিপ্লব-প্রতিবাদের ধারা। অসমের মতক পরিবারে জন্ম হয় তাঁর। এই মতকদের পূর্বসূরি আবার অহম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। ফলত সংগ্রাম যে পরেশ বড়ুয়ার রক্তধারায় বইছে তা সন্দেহাতীত। পরেশও তার ব্যতিক্রম ছিল না। চাকরি ছেড়ে ১৯৮১ সালে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম (সংক্ষেপে উলফা) গঠনের দু’বছর পর পরেশও এই ভারত-বিরোধী সংগঠনে নাম লেখায়। তৎকালীন পরিস্থিতিতে অসমে চলা দুরাবস্থা, অর্থনৈতিক ধস, বেকারত্ব প্রতিটি সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটই পরেশের ভাবাবেগে আঘাত করে। যার জেরে অসাধ্য সাধনের পথে, দুর্নীতি-দুরাবস্থা থেকে অসমের স্বাধীনতা দাবিতে সরসরি রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠন উলফায় নাম লেখান তিনি।

    কী এই উলফা?

    ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল, এক দল যুবকের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম। সে রাজ্যের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে উলফা। রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা অহিংসার পথ ছেড়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ থেকেই স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া আর্দশে এগোতে শুরু করে উলফা। ঝরে রক্ত, চলে আন্দোলন। গঠনের কয়েক বছরের মধ্যেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তকমা পেয়ে যায় উলফা। উত্তর-পূর্বে নিজেদের আস্ফালন তৈরিতে বিপুল অস্ত্রের সম্ভার তৈরি করে তারা। সেই সূত্রেই বাড়ে চিনের সঙ্গে যোগাযোগ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এক বান্ধবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রায়ই মায়ানমারের জঙ্গলে পেরিয়ে চিনে যেতেন তিনি। সেই বান্ধবী নাকি আবার ছদ্মবেশী চিনা গোয়েন্দা বলেই খবর।

    চিনের কাছাকাছি

    রাষ্ট্রের কাছে পরেশ বড়ুয়ার (Paresh Baruah) অপরাধী রূপে দর যত বেড়েছে। তত নিজের গা ঢাকা দিতে চিনের দিকে পা বাড়িয়েছেন পরেশ। এমনকি ভারতের উত্তর-পূর্বে সন্ত্রাস চালাতে বরাবরই বাংলাদেশকে মাধ্যম করেছেন পরেশ। অবশেষে ২০০৪ সালের অস্ত্র পাচার নাম জড়ায় পরেশ বড়ুয়ার। গা ঢাকা দিতে বারংবার চিনে গিয়ে লুকিয়েছিলেন তিনি। তবু মেলেনি স্বস্তি। বাংলাদেশ আদালত রায় দিয়েছিল পরেশের মৃত্যুদণ্ডের। সেই রায় বদলে গেল ইউনূস সরকারের আমলে। ফাঁসির সাজা মকুব হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান পরেশ বড়ুয়া।

    ভারতের ভয়

    বাংলাদেশ এখন ভারতের শত্রু দেশ চিন ও পাকিস্তানের কাছাকাছি চলে এসেছে, যা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে, বিশেষত বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর মৌলবাদী সহিংসতা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইউনূস-নেতৃত্বাধীন সরকার এই সহিংসতাগুলিকে থামানোর জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এমনকি মৌলবাদী উপাদানগুলির দ্বারা সৃষ্ট নৃশংসতাকে অগ্রাহ্য করেছে বলে অভিযোগ। এই আবহে উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়ার শাস্তি কমিয়ে দিয়ে ইউনূস সরকার ভারত-বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানের আইএসআই, চিন এবং বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে পরেশ বড়ুয়াকে একটি পুতুল হিসেবে ব্যবহার করছে।

    চিন-যাত্রা বড়ুয়ার

    নয়ের দশকে, ভারতের সেনাবাহিনী উলফার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পর, বড়ুয়া বাংলাদেশে পালিয়ে যান, যেখানে তাকে আইএসআই এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের কাছ থেকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় পদ্মাপাড় থেকেই উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে চরমপন্থী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন বড়ুয়া। তবে ২০০৬ সালের পর, যখন জিয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়, বড়ুয়া মনে করেন যে ঢাকা তাঁকে ভারতের ক্রোধ থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তখনই তিনি চিনের রুইলি চলে যান। ২০০৯ সালে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামি লিগ সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে। এরপর অস্ত্র পাচার মামলায় পরেশ বড়ুয়াকে অভিযুক্ত করে বাংলাদেশ।

    চট্টগ্রাম অস্ত্র চোরাচালান কাণ্ড

    ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ধারের জেটিঘাটে উদ্ধার হয় ১০ ট্রাক ভর্তি চিনা অস্ত্র। যার মধ্যে রকেট ও গ্রেনেড ছিল। পদ্মা নদীর পাড়ে তখন জোর শোরগোল। নাম জড়াচ্ছে একের পর এক বিএনপি নেতার। নাম জড়াল খোদ প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের। অবশেষে অস্ত্র পাচার মামলায় প্রকাশ্যে এল মাস্টারমাইন্ডের নাম। পরেশ বড়ুয়া। অভিযোগ, তখনকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) সরকারের সহায়তায় এবং পাকিস্তানের আইএসআইর মাধ্যমে এসব অস্ত্র উলফা ও অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এই চট্টগ্রাম অস্ত্র চোরাচালান কাণ্ডটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনা হিসেবে পরিচিত, যেখানে ৪,৯৩০টি অস্ত্র, ২৭,০২০টি গ্রেনেড, ৮৪০টি রকেট লঞ্চার, ৩০০টি রকেট, ৬,৩৯২টি ম্যাগাজিন এবং ১,১৪০,৫২০টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। পরেশ তখন ঢাকাতেই ছিলেন।

    ভারতের জন্য কেন উদ্বেগের?

    পরেশ বড়ুয়াকে (Paresh Baruah) ওই মামলায় ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর ফাঁসির সাজা কমানো হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ আদালত পাকিস্তান এবং আইএসআইকে সন্তুষ্ট করতে প্রয়াস চালাচ্ছে। যেমন খালেদা জিয়া এবং অন্যান্য পাকিস্তানপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা এবং গুরুতর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির একটি মামলায় অব্যাহতি দিয়েছে, যেখানে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সেরকম ভাবেই সাজা কমানো হয় পরেশের। ভারতের সীমান্তের কাছে চিনের সিশুয়াংবান্নায় এখন রয়েছেন পরেশ। তাঁকে ধরতে পারা যায়নি। দিল্লির ধারণা, বড়ুয়া এই কৌশলগত অবস্থানটি ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। উলফার সমর্থনও বাড়াতে পারেন বড়ুয়া। কারণ সিশুয়াংবান্নায় তাই সম্প্রদায়ের সাথে অসমের অহম সম্প্রদায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

    শান্ত অসমকে অশান্ত করার চেষ্টা

    ৯০-এর দশকের সঙ্গে এখন যদিও কোনও মিল নেই। কেন্দ্রে মোদি সরকার ও অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সৌজন্যে এখন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নামমাত্র রয়েছে অসমে। আন্দোলনকারীদের মূল স্রোতে ফেরাতে গত কয়েক বছর বড় পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্র ও অসম সরকার। উলফার আলোচনাপন্থীদের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল অসম সরকার ও কেন্দ্র। কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনে অপর একটি শাখা আলফা (স্বাধীন) এই চুক্তির অংশ হয়নি। ফলে পরেশ বড়ুয়ার মৃত্যুদণ্ড খারিজ হয়ে যাওয়ায় ফের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে নাশকতা বাড়বে বলে আশঙ্কা দিল্লির। চিন থেকেই ভারতে নাশকতার চক্রান্ত চালাবেন পরেশ এমনই অনুমান গোয়েন্দাদের।

  • Assam: অস্ত্রসমর্পণের কথা ঘোষণা আলফার, কবে সরকারকে ফেরাবে অস্ত্র?

    Assam: অস্ত্রসমর্পণের কথা ঘোষণা আলফার, কবে সরকারকে ফেরাবে অস্ত্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতীকী অস্ত্রসমর্পণের কথা ঘোষণা করলেন অসমের জঙ্গিগোষ্ঠী আলফার (Assam) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অরবিন্দ রাজখোয়া। মঙ্গলবার সংগঠনের বিলুপ্তির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। তবে আলফার আলোচনাপন্থী শিবির এই পদক্ষেপ করলেও, সংগঠনের অন্য অংশের নেতা পরেশ বরুয়ার শিবির এখনও বদ্ধপরিকর ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে। প্রসঙ্গত, দিন পঁচিশেক আগেই কেন্দ্র ও অসম সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয় আলফার। সেই মতো পদক্ষেপ করল সংগঠনের আলোচনাপন্থী শিবির।

    আলফার জন্ম

    স্বাধীন অসমের দাবিতে ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসে জন্ম হয় আলফার। তার পর থেকে এ পর্যন্ত নানা রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটিয়েছে এই সংগঠন। গত ২৯ ডিসেম্বরে অসম ও কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের আলোচনাপন্থীরা। সেই মতো এদিন লুপ্ত করে দেওয়া হল সংগঠনের অস্তিত্ব। রাজধানী গুয়াহাটি থেকে পঞ্চান্ন কিলোমিটার দূরে সিপাঝাড়ে সংগঠনের চূড়ান্ত সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার পরেই তা ঘোষণা করা হয়। রাজখোয়া বলেন, “দিল্লিতে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে আজকের বৈঠকে সংগঠন ভেঙে দেওয়ার ও লুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সংগঠনের ওপর রাষ্ট্রদ্রোহের সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে।”

    চুক্তির শর্ত

    আলফার (Assam) মোট সদস্য সংখ্যা ৭০০। এর মধ্যে আলোচনাপন্থী শিবিরে রয়েছেন ৫০০ জন। চুক্তির শর্তে বলাই ছিল, হিংসার পথ ছাড়বে আলফা। সমর্পণ করবে সব অস্ত্রশস্ত্র-গোলাবারুদ। এক মাসের মধ্যে ভেঙে দেওয়া হবে সশস্ত্র সংগঠনটি। ২০১১ সালে আলোচনা শুরুর পর যে ৯টি শিবিরে আলফা কর্মী ও তাঁদের পরিবার অবস্থান করছিলেন, সেগুলিও খালি করতে বলা হয়েছে সংগঠনটিকে। আলোচনাপন্থীদের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের জিম্মায় থাকা অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের হাতে। রাজখোয়া বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে মীমাংসায় উল্লিখিত বিষয়গুলি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি আমাদের দিয়েছে, তা পূরণ করা হবে।”

    আরও পড়ুুন: সন্দেশখালির সেই তৃণমূল নেতার বাড়িতে ইডির হানা, শাহজাহান কোথায়?

    উল্লেখ্য, রাজখোয়া, অনুপ চেতিয়া, শশধর চৌধুরীর মতো নেতা শান্তি প্রক্রিয়ায় শামিল হলেও, এখনও ধরা-ছোঁওয়ার বাইরে পরেশ। শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে জারি করে চলেছে বিবৃতি। মায়ানমারে ঘাঁটি গেড়ে ভারতে চালিয়ে যাচ্ছে (Assam) নাশকতা। চিন তাকে মদত জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

  • ULFA Peace Deal: উলফার সঙ্গে কেন্দ্র ও অসম সরকারের স্বাক্ষর হল ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তি

    ULFA Peace Deal: উলফার সঙ্গে কেন্দ্র ও অসম সরকারের স্বাক্ষর হল ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিচ্ছিন্নতাবাদী নিষিদ্ধ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসম বা উলফা (ইউএলএফএ) সংগঠনের সঙ্গে শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে অসম সরকার এবং কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক স্থায়ী শান্তিচুক্তি (ULFA Peace Deal) স্বাক্ষরিত হল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, “এই চুক্তির ফলে উত্তরপূর্ব সীমান্তে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হবে উলফা (ইউএলএফএ)।”

    কী বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ULFA Peace deal)?

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে উলফা নেতৃত্বদের আশ্বস্ত করতে চাই। ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির (ULFA Peace Deal) প্রক্রিয়াকে সফল করবার জন্য তাঁদের আহ্বান জানাবো। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। উত্তর-পূর্বের অনেক এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর আইন এএফএসপিএ অপসারণই প্রমাণ করে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদ বর্তমানে সমাপ্তির পথে।”

    চুক্তি স্বাক্ষরে ২৯ জনের প্রতিনিধি

    সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপূর্ব ভারতের অসমে বিচ্ছিন্নতাবাদের উপর একটি অতি সক্রিয় সংগঠন ছিল উলফা। এদিন উলফার মোট ২৯ জনের একটি প্রতিনিধির দল দিল্লিতে চুক্তি স্বাক্ষর করতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন সংগঠনের সদস্য এবং বাকি ১৩ জন সাধারণ নাগরিক ছিলেন। এই চুক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ চুক্তি কারণ, এই নিষিদ্ধ সংগঠন উলফার বিচ্ছিন্নতাবাদ অসম রাজ্যে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। বিদ্রোহী সংগঠনকে প্রশমন করতেই উলফার সঙ্গে কেন্দ্র ও অসম সরকারের সাথে চুক্তিতে (ULFA Peace Deal) স্বাক্ষর হল। দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন শুধু আসাম নয়, গোটা উত্তরপূর্বের জন্য এই চুক্তি শান্তির বাতাবরণ তৈরি করবে।

    উলফা ১৯৭৯ সাল থেকেই সক্রিয়

    এই নিষিদ্ধ সংগঠন উলফা, অসমে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিল। এরপর ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অরবিন্দ রাজখোয়ার নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ লড়াইকে অব্যহতি দিয়ে অসম রাজ্য সরকারের সাথে নিঃশর্ত আলোচনায় সম্মত হয়। এরপর থেকে এই উলফা দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। একটি দলের নেতা ছিলেন পরেশ বড়ুয়া, অনুপ চেটিয়া। তাঁরা নিজেদের ভাবনায় স্থির থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিপক্ষে মত দেন। অপরদিকে যে দলটি আলোচনা চেয়েছেন, তাঁরা অসমের মূলনিবাসীদের পরিচয় এবং তাঁদের সম্পদের সুরক্ষায় রাজ্যের কাছে রাজনৈতিক, সাংবিধানিক সংস্কার চেয়ে জমির অধিকার দাবি করেন। কেন্দ্র সরকার এই চুক্তির বিষয়ে গত এপ্রিল মাসে একটি চুক্তি (ULFA Peace Deal) প্রস্তাবের খসড়া পাঠিয়েছিল। এরপরে গত দুই সপ্তাহ আগে দিল্লিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। ২৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে উলফার প্রতিনিধি দল আসার পর কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক পর্বে আলোচনা হয়েছিল। উত্তরপূর্বে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং বিচ্ছিন্নাবাদকে প্রশমন করতে কেন্দ্রীয় সরকার গত তিন বছরে আসামের বিদ্রোহী বড়ো, ডিমাসা, কার্বি এবং বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনগুলির সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share