Tag: UML

  • KP Oli: বলেন্দ্র শাহের শপথের পরের দিনই বাড়ি থেকে গ্রেফতার নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, হতে পারে হাজতবাস

    KP Oli: বলেন্দ্র শাহের শপথের পরের দিনই বাড়ি থেকে গ্রেফতার নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, হতে পারে হাজতবাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার কাকভোরে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে (KP Oli)। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ‘জেন জি’ (Gen Z) বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে সংঘটিত হিংসায় জড়িত একটি অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ড মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এই বিক্ষোভের জেরেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয় তাঁকে। উল্লেখ্য, ওলিকে গ্রেফতার করার একদিন আগেই র‌্যাপার থেকে (Nepal) রাজনীতিক হওয়া বলেন্দ্র শাহ (Balen Shah) দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    বাড়ি থেকে গ্রেফতার ওলি (KP Oli)

    ওই একই মামলায় নেপালি কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও আটক করা হয়েছে। দু’জনকেই ভক্তপুরে তাঁদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন ধারায় মামলা দায়ের হতে পারে, যেখানে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। গ্রেফতার হওয়ার পরপরই বছর চুয়াত্তরের ওলিকে ভর্তি করা হয় কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে। সেখানে তাঁর একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে ওলি দু’বার কিডনি প্রতিস্থাপন করিয়েছেন।

    ‘জেন জি বিপ্লব’

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক বিশাল যুব-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের জেরে কেঁপে উঠেছিল নেপাল। এই আন্দোলন ‘জেন জি বিপ্লব’ নামে পরিচিত। ওলির শাসনকালে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে এটি ডিজিটাল স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হলেও, পরে তা বিস্তৃত সরকারবিরোধী বিদ্রোহে রূপ নেয়, যার জবাবে সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে। এই হিংসায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হন। জখম হয়েছিলেন ২,০০০-এর বেশি মানুষ (KP Oli)।

    আটক প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও

    দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটা হিংসার তদন্তের জন্য গঠিত নেপালের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন চারবারের প্রধানমন্ত্রী এবং নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ওলির বিরুদ্ধে মামলা চালানোর সুপারিশ করার পরেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দিনের বিক্ষোভে কয়েক ঘণ্টার গুলিবর্ষণে অন্তত ১৯ জন জেন জি বিক্ষোভকারী নিহত হলেও, তা থামাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওলিই দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে ভালো বা খারাপ—যে কোনও ঘটনার দায় নিতে হবে ওলিকে।” ওলি ও তাঁর মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের পাশাপাশি, প্যানেল তৎকালীন পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুং এবং আরও কয়েক ডজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে (Nepal)।

    রাজনৈতিক প্রতিহিংসা!

    যদিও ওলি এই প্রতিবেদন পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “এই প্রতিবেদন অত্যন্ত অবহেলাপূর্ণ। এটি চরিত্রহননের শামিল এবং ঘৃণার রাজনীতির প্রতিফলন। এটি দুঃখজনক (KP Oli)।” এদিকে, সিপিএন-ইউএমএল পার্টি ওলির গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে উল্লেখ করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়েছে। দলের সব শীর্ষ নেতাকে সদর দফতরে ডাকা হয়েছে। বৈঠকের আগে উপ-মহাসচিব যোগেশ ভট্টরাই বলেন, “এটি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের প্রতিফলন।” প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালি এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে জানান, বিস্তারিত আলোচনার পর পার্টি তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রসঙ্গত, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী যদি মামলা চলতে থাকে এবং আদালতে তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হন, তবে সংশ্লিষ্ট তিনজনই সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত (Nepal) সাধারণ নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসনে, যা দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিস্ট পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (RSP) নেতা বলেন্দ্র শাহের কাছে ওলি বড় ব্যবধানে পরাজিত হন (KP Oli)।

  • Nepal Polls: নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বলেন্দ্র

    Nepal Polls: নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বলেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র তথা র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া, পেশায় টেকনোলজিস্ট বলেন্দ্র শাহ এখন নেপালের রাজনীতিতে একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP) বহু নির্বাচনী এলাকায় প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে রয়েছে, যার ফলে ৩৫ বছর বয়সী শাহ নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

    বলেন্দ্রর উত্থান (Nepal Polls)

    নেপালে বর্তমানে ভোট গণনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল জেন জেড আন্দোলনের পর প্রথম নির্বাচন। সেই বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হয়। ব্যাপক আন্দোলনের জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ভেঙ্গে দেওয়া হয় সংসদ। এই নির্বাচনে পুরনো রাজনৈতিক শক্তিগুলিও রয়েছে, যেমন ওলির কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফাইড মার্কসিস্ট–লেনিনিস্ট) এবং পুষ্প কমল দহলের সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র)। সমালোচকদের মতে, এই দলগুলি প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক, যা ধীরে ধীরে জনসমর্থন হারাচ্ছে। ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র ‘ব্যালেন’ শাহ নিজেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে তরুণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

    কাঠমান্ডুর প্রথম নির্দল মেয়র

    একসময়ের র‍্যাপার শাহ রাজনীতিতে পরিচিতি পান যখন তিনি কাঠমান্ডুর প্রথম নির্দল (ইন্ডিপেনডেন্ট) মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ভারতের কর্নাটকের বিশ্বেশ্বরাইয়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। নেপালের রাজনীতিতে তিনি উঠে এসেছেন তরুণদের আইকন হিসেবে। তবে ভারতের সম্পর্কে তাঁর কিছু আগের মন্তব্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি নেপালে ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, একটি বলিউড চলচ্চিত্রে হিন্দু দেবী সীতাকে ‘ভারতের মেয়ে’ বলা হয়েছে। শাহ এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, “বহু ঐতিহ্য অনুযায়ী সীতার জন্মস্থান বর্তমান নেপাল বা নেপাল–বিহার সীমান্তের কাছাকাছি।”

    ‘গ্রেটার নেপাল’

    একই বছরে তিনি তাঁর কার্যালয়ে ‘গ্রেটার নেপালে’র একটি মানচিত্র প্রদর্শন করে বিতর্ক তৈরি করেন, যেখানে ভারতের কিছু ভূখণ্ডও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি একে ভারতের নতুন সংসদ ভবনে থাকা ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্রের প্রতীকী জবাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি এমন কিছু বলিনি যার জন্য আমায় ক্ষমা চাইতে হবে। ভারত তাদের সংসদের মানচিত্রকে সাংস্কৃতিক মানচিত্র বলেছে, তাই আমরা ঐতিহাসিক ‘গ্রেটার নেপাল’ মানচিত্র প্রদর্শন করেছি। এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।” ২০২৫ সালে তিনি আবারও সমালোচনার মুখে পড়েন, যখন তিনি একটি পোস্ট করেন যাতে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের বিরুদ্ধে অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হয়। পরে সমালোচনার মুখে তিনি সেই পোস্ট মুছে ফেলেন। তবে গত মাসে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার থেকে চিন-সম্পৃক্ত দামাক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রকল্প বাদ দেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলির শক্ত ঘাঁটি ঝাপা-৫ এলাকায় অবস্থিত এই প্রকল্পটি চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (BRI) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই পদক্ষেপকে ভারতের প্রতি আশ্বাস হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে।

    আরএসপির নির্বাচনী ইশতেহার

    এছাড়া আরএসপির নির্বাচনী ইশতেহারে ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে তরুণ ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে—যিনি ভারতের কর্নাটকে পড়াশোনা করেছেন, শাহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে। যদিও তিনি কিছু বিআরআই সম্পর্কিত প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন এবং নেপালের রাজনৈতিক অভিজাতদের বেইজিং-ঘনিষ্ঠতার সমালোচনা করেছেন, তবুও শাসন অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে তাঁর বিদেশনীতি কিছুটা অনির্দেশ্য হতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সামগ্রিকভাবে, বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে একটি সরকার নেপালের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে এক নতুন ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ধারা সূচিত করতে পারে।

     

LinkedIn
Share