Tag: un

un

  • POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (POJK Protests) নীলম উপত্যকার আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনায় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। রাজা এহসান নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। ব্যাপক হিংসা, কম ভোট পড়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (News Portals Banned)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনার সময় এহসানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভোটপর্ব চলাকালীন ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

    নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি (POJK Protests)

    রবিবার শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, তীব্র অশান্তি এবং ভোটারদের কম অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১টি আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে মুজফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনের পাশাপাশি ছিল ১২টি উদ্বাস্তু আসনও। এই উদ্বাস্তু আসনের মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটের দিনও তীব্র বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে একাধিক এলাকা কার্যত উত্তেজনার মধ্যেই ছিল। পরিস্থিতির বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অশান্তির আঁচ এখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও।

    একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের আবহেই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় প্রতিরোধের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে একাধিক নির্বাচনী এলাকায়। রাস্তা অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর, এলএ-২৭ কোটলিতে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করায় নির্বাচনী কর্মী ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এলএ-২৮ মুজফফরাবাদ-২ অর্থাৎ লেচরাট এলাকায়। সেখানে ৭১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আধিকারিক ও ভোটগ্রহণের সামগ্রী পৌঁছতে পারেনি। অন্যান্য কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায়ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হন বলে খবর। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী গোষ্ঠী এবং বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    দিনভর বিক্ষোভ, দীর্ঘ মিছিলের ডাক

    এদিকে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ডি-চকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। মুজফফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিল করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাওয়ালাকোট থেকেও বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিচালনার খবর মিলেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল ড্রেক ইদগাহে প্রায় ৫০ দিন ধরে অবস্থান চলছে। সেখানেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। নারী ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে ভোটের দিনও সেই অশান্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল (POJK Protests)।

    ভারতের অবস্থান

    এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ফের জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলগুলির যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের “অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে” রয়েছে, সেটিও ভারতেরই অংশ। ২৮ জুলাই নয়াদিল্লি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলা “গুরুতর” মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত।

    ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়াল বিক্ষোভ

    ২ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৫টা থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রেস ক্লাবের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পড়ুয়ারা। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জও করা হয় এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গুলিচালনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। করাচি, ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও বড় জমায়েতের খবর এসেছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ।

    ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

    পাকিস্তানে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অশান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটির বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস রেস্ট্রিকটেড করা বলে জানা গিয়েছে (News Portals Banned)। স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলিকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের পরিষেবায়ও অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর (POJK Protests)। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, মূলত তাদের উপরই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল, তার নেতা তথা জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে খবর। এদিকে ২৭ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ইউটিউব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে না চললে তাঁদের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মুজফফরাবাদে চলা হিংসা নিয়ে জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।কমিটির দাবি, সাধারণ পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালাচ্ছিলেন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিষদের ২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জুলাইয়ের আগে ৩৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং ২৭ জুলাইয়ের পর রাওয়ালাকোট, মিরপুর ও মুজফফরাবাদে আরও ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। এই পরিস্থিতিতে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছেও পরিস্থিতির অবনতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো (News Portals Banned) হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি (POJK Protests)।

     

  • PM Modi: “দুই দেশই বৈচিত্র্যকে জাতীয় ঐক্যের মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে”, ইন্দোনেশিয়ার সংসদে বললেন মোদি

    PM Modi: “দুই দেশই বৈচিত্র্যকে জাতীয় ঐক্যের মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে”, ইন্দোনেশিয়ার সংসদে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ (Indonesian Parliament Speech) দিয়ে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি, স্বাধীনতা সংগ্রামের পারস্পরিক বন্ধন এবং বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের মূল্যবোধের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দেওয়া প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বলেন, “দুই দেশই বৈচিত্র্যকে নিজেদের জাতীয় ঐক্যের মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।”

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘ সময় বিদেশি শাসনের অধীনে ছিল, এবং স্বাধীনতাও লাভ করে প্রায় একই সময়ে। তিনি বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন যখন আন্তর্জাতিক স্তরে উঠেছিল, তখন ভারত দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে সুর চড়িয়েছিল।’’

    প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ১৯৫০ সালে ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ ছিলেন প্রধান অতিথি। ১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলনে সুকর্ণ ও জওহরলাল নেহরু স্বাধীন দেশগুলির নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌম অধিকারের পক্ষে বিশ্ববাসীর সামনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেছিলেন। ওই সম্মেলনে এশিয়া ও আফ্রিকার ২৯টি নতুন স্বাধীন দেশ অংশ নিয়ে ঔপনিবেশিকতার বিরোধিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা পরবর্তী কালে (PM Modi) জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে।

    মোদি কিংবদন্তি বৈমানিক বিজু পট্টনায়ক এবং তাঁর সহ-পাইলট স্ত্রী জ্ঞানবতী পট্টনায়কের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার পর ডাচ শাসকদের হুমকি উপেক্ষা করে (PM Modi) তাঁরা ডাকোটা বিমান উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সুতান সজাহরির ও উপরাষ্ট্রপতি মহম্মদ হাত্তাকে নিরাপদে ভারত নিয়ে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিজু পট্টনায়কের সাহস ও দৃঢ়তা আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও (Indonesian Parliament Speech) গভীর ও মজবুত করেছিল।’’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত দু’দশকে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত গতিতে এগিয়েছে, এবং এর ফলে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। ভারতের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতাও ঠিক একই বার্তা বহন করে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। গত এক দশকে ভারতে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছেন।’’ ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে দুই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ।

  • Nigeria Massacre: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯

    Nigeria Massacre: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯ জন। হামলার দায় স্বীকার করেছে (Nigeria Massacre) ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP)। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে।

    খেলার মাঠে অতর্কিতে হামলা (Nigeria Massacre)

    রবিবার আদামাওয়া (Islamic State) অঙ্গরাজ্যের গোম্বি লোকাল গভর্নমেন্ট এরিয়ার গুইয়াকু কমিউনিটিতে হিংসার ঘটনাটি ঘটে। অঞ্চলটি ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে, দীর্ঘদিন ধরে জেহাদি তৎপরতার জন্য পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা একটি ফুটবল খেলার মাঠে অতর্কিতে হামলা চালায়। সেই সময় বহু তরুণ-তরুণী খেলা দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বন্দুকধারীরা এলাকায় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।

    স্থানীয়দের বক্তব্য

    স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমাদের লোকজন গুইয়াকু কমিউনিটির ফুটবল মাঠে জড়ো হয়েছিল…। তখন বিদ্রোহীরা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে।” নিহতদের অধিকাংশই যুবক-যুবতী। এর মধ্যে ফুটবল খেলা দেখতে আসা কয়েকজন মহিলাও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, হামলার সময় ঘরবাড়ি, যানবাহন ও গির্জায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আদামাওয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আহমাদু উমারু ফিনতিরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গুইয়াকু কমিউনিটিতে প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দে করে অবিলম্বে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি (Nigeria Massacre)।

    পোড়া গির্জার ছবি

    জানা গিয়েছে, প্রথমে প্রশাসন বোকো হারাম জঙ্গিদের দায়ী করলেও, পরে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি (Islamic State) দেয় আইএসডাব্লুএপি। তাদের দাবি, অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করা হয়েছে। একটি গির্জা ও প্রায় ১০০টি মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। টেলিভিশন ফুটেজে পোড়া গির্জা ও কয়েকটি পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল দেখা গিয়েছে। কমিউনিটি নেতারা জানান, হামলাকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। নিরাপত্তা রক্ষীরা না থাকায় তারা সঙ্গে সঙ্গে কোনও প্রতিরোধের মুখেও পড়েনি (Nigeria Massacre)।

    নিরাপত্তা সঙ্কট

    এই হামলায় নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সঙ্কটকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্রোহ করছে জেহাদিরা। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে বোকো হারাম ও আইএসডাব্লুএপি সংক্রান্ত হিংসায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ। এই সংঘাত প্রতিবেশী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এতে প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করা হয়েছে এবং জনসমাগমে থাকা নিরীহ মানুষদের টার্গেট করা হয়েছে।

    কৃষিজমি নিয়ে বিবাদের জের

    দেশে সাধারণ নির্বাচন এক বছরেরও কম সময় দূরে থাকায় নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চাপ বাড়ছে। সরকার বিদ্রোহ দমন ও নতুন করে হওয়া হামলা ঠেকাতে বাড়তি চাপে রয়েছে (Nigeria Massacre)। এদিকে, এদিনই ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লামুর্দে এলাকায় আর একটি হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সেখানে কৃষিজমি নিয়ে বিবাদের জেরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয় (Islamic State)। স্থানীয় প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “মানুষের প্রাণ গিয়েছে, সম্পত্তিও নষ্ট হয়েছে।”

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গুইয়াকুর হামলাটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলির একটি। আইএসডাব্লুএপির দাবি, তারা অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে এবং একটি গির্জা ও প্রায় ১০০টি মোটরবাইকে আগুন দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই গোষ্ঠীটি ফের হামলা চালাতে পারে। প্রত্যাশিতভাবেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষ।

     

  • India: ফের একবার আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়াল ভারত, এবার কী সাহায্য করা হচ্ছে?

    India: ফের একবার আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়াল ভারত, এবার কী সাহায্য করা হচ্ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত। মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, আফগানিস্তানের শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচিকে সমর্থন করতে ১৩ টন বিসিজি (BCG) টিকা এবং সংশ্লিষ্ট শুকনো সামগ্রী সরবরাহ করল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্যেই জানা গেল এ খবর।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (India)

    এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রককে ১৩ টন বিসিজি টিকা এবং সংশ্লিষ্ট শুকনো সামগ্রী দিয়েছে, যাতে দেশটির শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধ টিকাকরণ কর্মসূচি আরও জোরদার করা যায়।” এই চালানটি আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে, যাতে দেশের শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধ কর্মসূচি শক্তিশালী করা যায়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানকে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে, এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং টিকা দানও রয়েছে। ৩ এপ্রিল আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের পরেও এই সাহায্য অব্যাহত রয়েছে। এর আগে, ৫ এপ্রিল বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ভারত বন্যা ও ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে।

    ভারত আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে

    সেই সময় রণধীর জয়সওয়াল এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ভারত দুর্যোগ ত্রাণ সামগ্রী যেমন রান্নার সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যবিধি কিট, প্লাস্টিক শিট, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ ইত্যাদি পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তা দান অব্যাহত রাখবে।” জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১৩১টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ৬৫০টির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ৩,০০০-এর বেশি জেরিব কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তান সরকার রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছে। সাম্প্রতিক তালিকাকে তারা “অযৌক্তিক এবং অকার্যকর” বলে অভিহিত করেছে।

    আফগানিস্তানের মুখপাত্রের বক্তব্য

    এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নীতিগত ব্যর্থতা এবং সঠিক বিশ্লেষণের অভাব প্রকাশ করে।” তিনি বলেন, “বারবার একই পদক্ষেপ করা যুক্তিহীন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এর প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।” মুজাহিদ আরও বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞাগুলি মূলত সাধারণ আফগান জনগণের ক্ষতি করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নয়।” তিনি সতর্ক করেন, ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজকেও প্রভাবিত করে।

    প্রসঙ্গত, এই মন্তব্যগুলি এসেছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর। সেখানে ১৯৮৮ সালের নিষেধাজ্ঞা কমিটি চারজন প্রবীণ তালিবান কর্তার তথ্য আপডেট করা হয়েছে। এঁরা হলেন, মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ, আবদুল গনি বরাদর, আমির খান মুত্তাকি এবং হেদায়াতুল্লাহ বাদরি।

     

  • Modi Govt: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের দিকে মানবিকতার হাত বাড়াল ভারত, ধন্যবাদ জানাল তেহরান

    Modi Govt: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের দিকে মানবিকতার হাত বাড়াল ভারত, ধন্যবাদ জানাল তেহরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল-মার্কিন জোট এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থামার কোনও লক্ষণই আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের দিকে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকার। নয়াদিল্লি ইরানে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে। এ প্রসঙ্গে নয়াদিল্লিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস লিখেছে, “ভারতের সম্মানিত জনগণের পক্ষ থেকে প্রেরিত চিকিৎসা সহায়তার প্রথম চালান ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে পৌঁছেছে। আমরা ভারতের সদয় জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

    মানবিক সাহায্য ভারতের (Modi Govt)

    যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের প্রতি ভারতের এই মানবিক সাহায্য ভারতের বিদেশনীতির সেই ধারা প্রতিফলিত করে, যেখানে সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ভৌগোলিক-রাজনৈতিক স্বার্থ বা প্রাধান্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে ‘মানবতা-প্রথম’ নীতিই ভারতের মূল দৃষ্টিভঙ্গি। ১৮ মার্চ, বুধবার, ভারতের পাঠানো চিকিৎসা সাহায্য ইরানে পৌঁছনোর পর নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাস কৃতজ্ঞতা জানায়। ইরান বর্তমানে মার্কিন–ইজরায়েল জোটের সঙ্গে বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি

    রাষ্ট্রসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১,৩০০-রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, গুরুতর জখম হয়েছেন ৭,০০০-এরও বেশি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই হামলায় ইরানজুড়ে প্রায় ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নিহত হয়েছেন ৮ জন চিকিৎসাকর্মী। যুদ্ধ ক্রমশ তীব্রতর হওয়ায় এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    ভিডিও ফুটেজও শেয়ার করেছে ইরান

    ভারত থেকে পাঠানো চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছনো এবং উদ্ধারকর্মীদের মাধ্যমে তা গ্রহণ ও বিতরণের ভিডিও ফুটেজও শেয়ার করেছে ইরানের দূতাবাস। মানবিক সহায়তা ভারতের বিদেশনীতির একটি মূল স্তম্ভ। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি কিংবা অপ্রত্যাশিত সঙ্কটের মুখোমুখি হওয়া অঞ্চলে নয়াদিল্লিই প্রথম সাড়া দেয়। ভারতের এই সহায়তা বৈশ্বিক কল্যাণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। এটি রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ভূ-রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের ঊর্ধ্বে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা একটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েছিল। সেই সময় ভারত চালায় ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’। এই অপারেশনের মাধ্যমে ভারত প্রয়োজনীয় সামগ্রী, চিকিৎসা সহায়তা ও পরিকাঠামো পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

  • PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামাম বিশ্বে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দ্বিতীয়বারের জন্য ইজরায়েলে যাচ্ছেন তিনি। তার আগে ইজরায়েলের সংবাদপত্র ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট  ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে একটি বিশেষ প্রথম পৃষ্ঠা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পত্রিকার সম্পাদক-ইন-চিফ জিভিকা ক্লাইন ২৪ ফেব্রুয়ারি এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়টি জানান।

    পত্রিকার সম্পাদকের আবেদন (PM Modi)

    তিনি লিখেছেন, “আগামীকালের পত্রিকা আমরা জেরুজালেমে মুদ্রণের জন্য পাঠিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর উপলক্ষে—২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম সফর। এই উপলক্ষে এটি আমাদের বিশেষ @জেরুজালেম পোস্ট কভার। আপনাদের কী মনে হয়?” প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পাঠকদের আহ্বানও জানান তিনি। বুধবার ভারতীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পৌঁছবেন ইজরায়েলে। ২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম ইজরায়েল সফর। সফরকালে তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি ইজরায়েলের সংসদ ‘কনেসেট’-এ ভাষণও দেবেন, যা হবে সেখানে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতামত বিনিময় হবে।” ইজরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু পর গাজার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সফরের আগে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় গোয়েন্দা ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই দেশ।

    মঙ্গলবার উভয় দেশ জোর দিয়ে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় “টেকসই ও সর্বাঙ্গীণ পদ্ধতিতে” সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। ভারত-ইজরায়েল যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা মজবুত করার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করেছে দুই পক্ষ।” তেল আভিভাবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত বিদায়ী বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ককে একটি দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।

     

  • AI Impact Summit: সোমে শুরু এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬, জানুন বিশদে

    AI Impact Summit: সোমে শুরু এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ১৬–২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ (AI Impact Summit)- এর আয়োজন করতে চলেছে। এই সম্মেলনে বিশ্বের ২০টি দেশের রাষ্ট্রনেতারা নয়াদিল্লিতে সমবেত হবেন। ভারত এই সম্মেলনের সহ-সভাপতি এবং “পিপল, প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রোগ্রেস” (মানুষ, পৃথিবী ও অগ্রগতি) এই মূল (Global Tech Drive) প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সম্মেলন পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে।

    ভারতে আয়োজিত সম্মেলনের ব্যাপ্তি (AI Impact Summit)

    এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। দায়িত্বশীল প্রযুক্তিগত বিপ্লবের লক্ষ্যে এই আন্তঃমহাদেশীয় সমাবেশ ভারতের আয়োজিত সম্মেলনের ব্যাপ্তি, গুরুত্ব ও গভীরতাকেই প্রতিফলিত করে। বিদেশমন্ত্রকের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, “পিপল, প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রোগ্রেস” এই তিন সূত্রে আন্ডারলাইন করা এআই ইমপ্যাক্ট সামিট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহযোগিতা সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে। এই সম্মেলনে বিশ্বনেতা, নীতিনির্ধারক, উদ্ভাবক, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হবেন এবং এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন। তাঁরা এমন একটি দায়িত্বশীল এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সহযোগিতামূলক পথ নিয়ে আলোচনা করবেন, যা ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সম্মান জানাবে।

    অংশগ্রহণকারী দেশ

    বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণকারী হলেন ভুটান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, গায়ানা, কাজাখস্তান, লিশটেনস্টাইন, মরিশাস, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, সেশেলস, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রপ্রধানরা। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি ভারতের নেতৃত্বে একটি দায়িত্বশীল এআই বিপ্লবের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে। একইসঙ্গে এই সম্মেলন এআইয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য (AI Impact Summit) উন্নয়নের লক্ষ্যে একজন দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে ভারতের প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরে (Global Tech Drive)।

    ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেবে

    বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি এই সম্মেলনে বৃহৎ ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ প্রতিনিধি দলও উপস্থিত থাকবে। বিদেশমন্ত্রকের মতে, ৪৫টিরও বেশি দেশের মন্ত্রীস্তরের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেবে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরাও নয়াদিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন, যাতে এআইয়ের দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশের জন্য সহযোগিতামূলক পথ সুগম করা যায়। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে ১০০টিরও বেশি দেশ ভারতের নেতৃত্বে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য নয়াদিল্লিতে সমবেত হবে।

    এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ হবে গ্লোবাল সাউথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৃহৎ আকারের এআই সম্মেলন। ফলে সম্মেলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক এআইয়ের বিকাশ ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করা, যা গ্লোবাল সাউথের মানুষ ও যুবসমাজের কল্যাণে সহায়ক হবে। ভারতের বিদেশনীতি বরাবরই গ্লোবাল সাউথের কল্যাণ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই ভারতে আয়োজিত এই সম্মেলনে (AI Impact Summit) গ্লোবাল সাউথের সমৃদ্ধি এবং এআই বিপ্লবের সুফল পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে (Global Tech Drive)।

     

  • India: “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না”, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে স্মরণ করাল ভারত

    India: “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না”, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে স্মরণ করাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) পাকিস্তানের তীব্র নিন্দে করল ভারত (India)। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভিত্তিহীন ও আত্মস্বার্থমূলক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তীব্র নিন্দা জানালেন নয়াদিল্লির প্রতিনিধি। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বতনেনি হরিশ এই মন্তব্য করেন। সোমবার ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসন পুনর্ব্যক্তকরণ: শান্তি, ন্যায়বিচার ও বহুপাক্ষিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথ’ শীর্ষক নিরাপত্তা পরিষদের খোলা বিতর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত অপারেশন সিঁদুর, জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন।

    পাকিস্তানের অ্যাজেন্ডা (India)

    হরিশের অভিযোগ, পাকিস্তানের একমাত্র অ্যাজেন্ডা হল ভারত ও ভারতের নাগরিকদের ক্ষতি করা। অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে আহমদের দাবির জবাবে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে জোরজবরদস্তি বা দায়মুক্তির ভিত্তিতে কোনও নতুন স্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে না। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না।” হরিশ (UNSC) বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিনিধি নতুন স্বাভাবিকতা নিয়ে কথা বলেছেন। আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি—পাকিস্তান যেভাবে চায়, সন্ত্রাসবাদকে কখনও স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক ব্যবহার সহ্য করা কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। এই পবিত্র সভাকক্ষ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়ার মঞ্চ হতে পারে না।”

    অপারেশন সিঁদুর

    হরিশ এও বলেন, “অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত একটি মিথ্যা ও আত্মস্বার্থমূলক বর্ণনা তুলে ধরেছেন।” উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। এটি ছিল ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, যেখানে ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। তিনি বলেন (India), “তথ্য একেবারেই স্পষ্ট। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-পোষিত জঙ্গিরা ২৬ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই মর্যাদাপূর্ণ সংস্থাই অপরাধী, সংগঠক, অর্থ জোগানদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা ঠিক সেটাই করেছি (UNSC)।”

    জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস

    হরিশ জানান, ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত, পরিস্থিতি ঘোরালো না করে শুধুমাত্র জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংসে সীমাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, “৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতকে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সরাসরি আমাদের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়।” তিনি বলেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে ধ্বংস হওয়া রানওয়ে ও পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গারের ছবি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ্যেই দেখা যায়। হরিশ বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল, আছে এবং চিরকালই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ হয়ে থাকবে।” সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত ৬৫ বছর আগে সদিচ্ছা, সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের মনোভাব নিয়ে এই চুক্তিতে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু এই সাড়ে ছয় দশকে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ এবং ভারতের বিরুদ্ধে হাজার হাজার জঙ্গি হামলার মাধ্যমে চুক্তির মূল ভাবধারাই বারবার লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান-পোষিত সন্ত্রাসবাদের কারণে হাজার হাজার ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন।

    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের কারণ

    পহেলগাঁওয়ে হামলার প্রেক্ষিতে হরিশ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারত বাধ্য হয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখতে। যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান সীমান্তপারের এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে তার সমর্থন বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করে, ততদিন এটা চলতেই থাকবে।” ভারতের প্রতিনিধি এও বলেন, “আইনের শাসন মানার প্রশ্নে পাকিস্তানের আত্মসমালোচনা করা উচিত। পাকিস্তান চাইলে শুরু করতে পারে এই প্রশ্ন দিয়ে—কীভাবে তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটানোর সুযোগ দিল, যার ফলে তাদের প্রতিরক্ষা প্রধানকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে (India)।” উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে যে কোনও আইনি বিচারের হাত থেকে সম্পূর্ণ রেহাই দেওয়া হয়েছে (UNSC)।

     

  • Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে (Iran Protests) নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় তিনি “ভীষণভাবে মর্মাহত”। ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

    ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ

    ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। তবে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ২,০০০ জন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান সংস্থাটির মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। সেখানে টুর্ক বলেন, “এই ভয়াবহ সহিংসতার চক্র চলতে পারে না। ন্যায্যতা, সমতা ও বিচারের জন্য ইরানি জনগণের যে দাবি, তা অবশ্যই শোনা উচিত।” নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেন্স বলেন, “ইরানে আমাদের সূত্র অনুযায়ী যে সংখ্যা আমরা শুনছি, তা শত শত।” টুর্ক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।

    ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়

    এদিকে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আবারও দিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, “এই বিক্ষোভকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও দ্বারাই এটি ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।

    ইন্টারনেট বন্ধ কেন

    মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেফতারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

  • India Rebukes UN Report: রাষ্ট্রসংঘের মায়ানমার সংক্রান্ত রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ ভারতের

    India Rebukes UN Report: রাষ্ট্রসংঘের মায়ানমার সংক্রান্ত রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মায়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ করল ভারত (India Rebukes UN Report)। নয়াদিল্লির তরফে একে পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি থমাস এইচ অ্যান্ড্রুজের তৈরি ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গি হামলা (Pahalgam Terror Attack) ঘটেছিল, তা ভারতে থাকা মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    রিপোর্টটি পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে (India Rebukes UN Report)

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে লোকসভার সদস্য দিলীপ সইকিয়া বলেন, “ওই রিপোর্টে যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।” তিনি বলেন, “রিপোর্টটি পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে।” রাষ্ট্রসংঘকে তাঁর অনুরোধ, তারা যেন যাচাই করা হয়নি এমন তথ্য এবং সংবাদমাধ্যমর বিকৃত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়। সইকিয়া বলেন, “আমার দেশ বিশেষ প্রতিনিধির এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও সংকীর্ণ বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করছে।” রাষ্ট্রসংঘের ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছিল, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতে থাকা মায়ানমারের শরণার্থীরা হয়রানি, আটক এবং দেশান্তর করার হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন।

    তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন

    যদিও ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পহেলগাঁওকাণ্ডের সঙ্গে মায়ানমারের নাগরিকদের কোনও যোগই ছিল না। এই ধরনের যে কোনও দাবি তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন (India Rebukes UN Report)। সইকিয়া বলেন, “রিপোর্টটি প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, রাজনৈতিক পক্ষপাত দ্বারা পরিচালিত হয়েছে বলে মনে হয়। ভারত সব সময় বাস্তুচ্যুত সব মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি বলেন, “ভারতে বর্তমানে ২০ কোটিরও বেশি মুসলমান বসবাস করছেন। এটি বিশ্বের মোট মুসলমান জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। তাঁরা অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছেন (Pahalgam Terror Attack)।”

    ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির উল্লেখ করে সইকিয়া বলেন, “মায়ানমারে স্থায়ী শান্তি ফিরতে পারে কেবলমাত্র রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।” তিনি জানান, ভারত মায়ানমার-নেতৃত্বাধীন ও মায়ানমার-নিয়ন্ত্রিত শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যাচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য আসিয়ান (ASEAN) ও রাষ্ট্রসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করছে (India Rebukes UN Report)।

LinkedIn
Share