Tag: United Kingdom

United Kingdom

  • India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আইনের হাত থেকে দীর্ঘদিন রেহাই পাওয়ার দিন শেষ হতে (India) চলেছে। বিজয় মাল্যর লন্ডনে পৌঁছে যাওয়া, ব্রিটেনে নীরব মোদির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই কিংবা আমেরিকা থেকে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া—এই ধরনের ঘটনায় বহুদিন ধরেই দেশে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া (Fugitives) অপরাধীদের কি আদৌ ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব? দীর্ঘদিন ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের দেশে ফেরাতে সরকারের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলের অভাব রয়েছে। তবে সংসদে পেশ করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই ধারণার সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক অপরাধী, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত, সংগঠিত অপরাধী, গ্যাং সদস্য এবং খুন, ধর্ষণ, পকসো আইন লঙ্ঘন, মাদক পাচার ও সাইবার অপরাধের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

    মামলা চলত বছরের পর বছর (India)

    লন্ডন, দুবাই, কানাডা, আমেরিকা কিংবা অন্য কোনও দেশে বসে থাকা অপরাধীরা বহু বছর ধরে ভারতীয় আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন। আদালতে মামলা চলত বছরের পর বছর, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকতেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে বিদেশি সরকারের সঙ্গে লাগাতার চিঠিপত্র চালাচালি করতে হত। সময় যত গড়াত, মামলার নথি ততই বাড়ত, এবং অনিশ্চয়তাও গভীর হত। ফলে দেশে বারবার প্রশ্ন উঠত—বিদেশের মাটি থেকে কি আদৌ অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে পারবে ভারত? এই জায়গায়ই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের দাবি ছিল, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার মতো দৃঢ়তা সরকারের নেই। কিন্তু সরকারের পেশ করা তথ্য বলছে অন্য কথা। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    আগের ব্যবস্থার দুর্বলতাই ছিল বড় বাধা

    সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রত্যর্পণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা ছিল। প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনগুলি অনেকটাই পুরনো হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সেগুলির সামঞ্জস্য ছিল না। অর্থনৈতিক অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দিষ্ট আইনও ছিল না। বিভিন্ন মন্ত্রক ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত ঘাটতি ছিল। বিদেশি আদালতে জমা দেওয়া নথি অনেক সময় অসম্পূর্ণ থাকত। বিভিন্ন দেশের আলাদা আইনি কাঠামো ও নিয়ম মেনে নথি তৈরির জন্য কোনও অভিন্ন ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে মাত্র চারজন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। একই সময়ে ১১০টি প্রত্যর্পণ অনুরোধ ঝুলে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে “দ্বৈত অপরাধ” এবং “একই অপরাধে দু’বার বিচার না করার নীতি”-র মতো আইনি যুক্তিতে ভারতের আবেদন খারিজ হয়ে যেত। ফলে বহু অভিযুক্ত বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন।

    রাজনৈতিক সদিচ্ছায় বদলেছে কৌশল

    সরকারের দাবি, ২০১৪ সালের পর পলাতক অপরাধীদের দেশে ফেরানোর বিষয়টিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই বিষয়টিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় গড়ে তোলা হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—বিশ্বব্যাপী অভিযান, শক্তিশালী সমন্বয় এবং কৌশলী কূটনীতি।এর ভিত্তিতে বিদেশমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা এবং বিদেশি সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রত্যর্পণের আবেদনও আগের তুলনায় আরও পেশাদার পদ্ধতিতে তৈরি করা শুরু হয়। যে দেশের আদালতে আবেদন করা হচ্ছে, সেই দেশের নির্দিষ্ট আইনি প্রয়োজন অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি আদালতে ভারতের বক্তব্য আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বড় অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হয় (Fugitives)। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, অর্থনৈতিক অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া। সরকারের মতে, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে এই আইন। ২০১৯ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনেও সংশোধন করা হয়। এর ফলে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার পরিধি শুধু সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদেশে থাকা সন্ত্রাসবাদী, তাদের বিদেশি নিয়ন্ত্রক, অর্থ জোগানের নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ে (India)।সরকারের বক্তব্য, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের কারণে সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    নতুন তিন ফৌজদারি আইনে নতুন পথ

    ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনে পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারায় প্রথমবারের মতো অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানোর বিধান আনা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও পলাতক ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আদালত বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সরকারের ধারণা, এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভারতের জোর

    ২০২২ সালে ভারত আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার ৯০তম সাধারণ পরিষদের আয়োজন করে। সেই মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় তিনটি নীতির কথা তুলে ধরেন—যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়।সরকারের বক্তব্য, দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান, পারস্পরিক আস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতাও আরও জোরদার হয়। ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার ফলে একাধিক মামলায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও গতি পায়।

    তথ্য নেটওয়ার্কের নতুন মেরুদণ্ড ‘ভারতপোল’

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘ভারতপোল’ চালু করেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশের সদর দফতর, জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত তথ্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে (India)। বর্তমানে ১,৪০০-র বেশি সংস্থা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আগে যে তথ্য পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, বহু ক্ষেত্রে এখন তা তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আদানপ্রদান করা হচ্ছে। তথ্যপ্রবাহের এই গতি প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করেছে (Fugitives)।

    প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের খোঁজ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীরা অনেক সময় পরিচয় বদলায়, নতুন নথি ব্যবহার করে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে জায়গা পরিবর্তন করে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত তদন্তপদ্ধতি অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল গ্রহণ করেছে ভারত। ‘অপারেশন ত্রিশূলে’র মাধ্যমে উপগ্রহ প্রযুক্তি, ডিজিটাল গতিবিধির বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং অপরাধীদের গতিবিধির মানচিত্র তৈরির মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদেশে লুকিয়ে থাকা পলাতকদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। অপরাধীদের ডিজিটাল কর্মকাণ্ড, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত বিশ্লেষণ করে তাদের প্রকৃত অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশে নাম বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলেও, ডিজিটাল চিহ্ন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

    রেড নোটিশ জারিতে গতি

    অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে অভিযুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রেড নোটিশ জারির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেখে নেওয়া যাক ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান:
    ২০২২ সালে — ৪০টি
    ২০২৩ সালে — ১০০টি
    ২০২৪ সালে — ১০৭টি
    ২০২৫ সালে — ১১২টি
    ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত — ১৮২টি

    গত তিন বছরে মোট ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছে। সরকারের মতে, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতাকে তদন্ত কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে ভারত (India)।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী পদক্ষেপ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পত্তির বিষয়টিকেও কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছে কেন্দ্র। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Fugitives)। একই সময়ে ১৮,৭৬২ কোটি টাকা সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত অর্থও রয়েছে। অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সরকার।

    বিদেশে পলাতকদের ধরতে বিশেষ কেন্দ্র

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের খুঁজে বের করতে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অভিযান কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে এই কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এছাড়া রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যেও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে তথ্য আদানপ্রদানের গতি আরও বেড়েছে।

    ২৭৪ পলাতক ফেরত, কোন অপরাধে কতজন?

    ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গুরুতর বিভিন্ন অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই তালিকায় রয়েছেন। অপরাধের ধরন অনুযায়ী পরিসংখ্যান বলছে, খুন, ডাকাতি ও হিংসাত্মক অপরাধের মামলায় সর্বাধিক ৬২ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং পকসো-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ৫৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, গ্যাং-সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং তোলাবাজির মামলায় ৪২ জনকে দেশে ফেরানো হয়েছে। মানবপাচার ও অপহরণের মামলায় ১৮ জন, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, দেশবিরোধী কাজ এবং মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য ও মাদক পাচারের মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনও দেশে (India) ফিরেছেন। সাইবার অপরাধ, জাল নোট এবং নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের মতো অপরাধে অভিযুক্ত ১২ জন এবং অর্থনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত ৯ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বছরভিত্তিক প্রত্যর্পণের গতি

    বিদেশ থেকে পলাতকদের দেশে ফেরানোর পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ৯ জন, ২০২০ সালে ৭ জন, ২০২১ সালে ২৩ জন, ২০২২ সালে ৪০ জন, ২০২৩ সালে ৩৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৩ জন, ২০২৫ সালে ৭০ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আইনি প্রস্তুতির উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পলাতকদের দেশে ফেরানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Fugitives)।

    তাহাউর রানার মামলা: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের নজির

    আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলির মধ্যে তাহাউর হুসেন রানার প্রত্যর্পণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আমেরিকা থেকে তাকে ভারতে ফেরাতে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়েছে ভারত। সরকারের মতে, এই মামলা প্রমাণ করে যে জটিল সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায়ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। জম্মু ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত একাধিক মামলায়ও বিদেশে থাকা পলাতক এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সীমান্তপারের কার্যকলাপে সহায়তার চেষ্টা সামনে এসেছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

    ‘সমগ্র সরকার’ মডেলে একযোগে অভিযান

    পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিক সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা ব্যুরো, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিদেশমন্ত্রক, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, জিএসটি গোয়েন্দা দফতর এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। সরকার এই ব্যবস্থাকে “সমগ্র সরকার” মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে একসঙ্গে কাজ করে (India)।

    ভবিষ্যৎ কৌশলে নয়া নজর

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোয়েন্দা ব্যুরোর বহু-সংস্থা কেন্দ্রের অধীনে একটি স্থায়ী বিশেষ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পলাতকদের চিহ্নিত করা, মামলার নথির অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা, তথ্যের ঘাটতি দূর করা, বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং রাজ্যগুলিকে জাতীয় স্তরে সাহায্য করা (Fugitives)।  সব মিলিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতের বর্তমান কৌশলের মূল বার্তা স্পষ্ট—দেশে অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গেলেই আইনের নাগালের বাইরে থাকা যাবে না। ২৭৪ জন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে আনা, ৪০১টি রেড নোটিশ জারি, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও পুনরুদ্ধার, ‘ভারতপোলে’র মতো ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ভারত তার কৌশল আরও বিস্তৃত করেছে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের উদ্দেশে সরকারের বার্তা এখন স্পষ্ট—অপরাধ করে ঠিকানা বদলালেই অপরাধ মুছে যায় না। কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশের মাটি থেকে পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে (India) যাবে।

     

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের অগাস্টের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো কানাডা (Canada) সফরে যেতে পারেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। যাঁরা তাঁর সফরের আয়োজন করছেন, তাঁদের একটি সূত্রের খবর ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে তিনি শুধুমাত্র টরেন্টো সফর করবেন। কানাডা সফরের আগে ভাগবত পাঁচ দিনের জন্য আমেরিকা সফরে যাবেন। সফরের শেষ দিনে নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। তার পরেই ভাগবত রওনা দেবেন টরন্টোর উদ্দেশে।

    আরএসএস কর্তার সফরসূচি (Mohan Bhagwat)

    টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন আরএসএস কর্তা। পাশাপাশি একাধিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করা হয়নি, তাই আয়োজকদের তরফে কেউই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি। কানাডা সফর শেষে ভাগবত যাবেন ব্রিটেন সফরে। আয়োজকদের দাবি, আরএসএসের আন্তর্জাতিক জনসংযোগ ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্যেই ভাগবতের এই সফরের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমি দেশগুলিতে, বিশেষ করে কানাডায়, আরএসএস সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা সংশোধন করাই আরএসএস কর্তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর সফরে বিক্ষোভ দেখাতে পারে খালিস্তানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী। সেই সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে (Mohan Bhagwat) বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।

    ভারত-কানাডা সম্পর্ক

    উল্লেখ্য, এটি ভাগবতের প্রথম কানাডা সফর। এর আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন আরএসএস প্রধান কেএস সুদর্শন কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। তারপর কেটে গিয়েছে দু’দশকেরও বেশি সময়। এবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন বর্তমান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।আয়োজকদের একাংশের দাবি, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর (Justin Trudeau) আমলে অবনতি ঘটেছিল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। তাই আরএসএস কর্তার কানাডা সফরের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি। তার (Canada) পরেই উন্নতি হয় ভারত-কানাডা সম্পর্কের। তাই এবার ভাগবতের সফর (Mohan Bhagwat) বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে তাঁদের ধারণা।

     

  • UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন সে দেশের সাংসদ রুপার্ট লো (Rupert Lowe)। তিনি দেশের বহুল আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ (Pakistan Grooming Gang) যৌন কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের (survivors) সাক্ষ্য থেকে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লো বলেন, “শুধু বিতর্ক নয় (UK), এখন এসেছে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার সময়।” পার্লামেন্টে তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি তদন্তে উপস্থাপিত সাক্ষ্যগুলি ভয়াবহ রকমের পদ্ধতিগত নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণ (UK)

    তিনি বলেন, তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্রিটেনের অন্তত ৮৫টি এলাকায় গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণের (gang-based child sexual exploitation) প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত দাবিরও ফের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি,  এই সব গোষ্ঠীর অনেকগুলির সঙ্গেই যুক্ত ছিল পাক বংশোদ্ভূত পুরুষরা। লোর মতে, “প্রধানত পাকিস্তানি পুরুষদের জড়িত থাকার একটি ধারা এবং সরকারি সংস্থাগুলির গুরুতর অবহেলা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    চরম যৌন হিংসা

    পার্লামেন্টে তাঁর পেশ করা সাক্ষ্যগুলিতে উঠে এসেছে চরম যৌন হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা। ভুক্তভোগীরা জানান, অল্প বয়সেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছিল। উপহার, মদ খাওয়ানো বা হুমকি দিয়ে তাদের প্রভাবিত করা হত। কিছু সাক্ষ্যে আবার এমনও দাবি করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর ধরে একাধিক অপরাধীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন (UK)।আরও কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতি (race) ও ধর্মকে (religion) ব্যবহার করে তাদের অপমান ও নিয়ন্ত্রণ করা হত (Pakistan Grooming Gang)। কয়েকজন ভুক্তভোগী আবার জানান, খ্রিস্টান হওয়ায় তাঁদের উপহাস করা হত অথবা বলা হত তাঁদের “মূল্য কম”।প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার (institutional failure) গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্যাতনের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ, হাসপাতালের কর্মী এবং শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ যথাযথ হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    নির্যাতনে জড়িত পুলিশ কর্তারাও!

    একটি সাক্ষ্যে এমনও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু পুলিশ কর্তাও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, এবং তাই সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। ব্রিটেনে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে এমন সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের শোষণের পাশাপাশি নির্যাতনও করে (UK)। রদারহ্যাম (Rotherham), রচডেল (Rochdale) এবং ওল্ডহ্যাম (Oldham)-এর মতো শহরগুলিতে মামলাগুলি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এসব মামলায় ব্যাপক নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পায় (Pakistan Grooming Gang)। জাতিগত পরিচয়, পুলিশি ব্যর্থতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়ে গিয়েছে। ২০০০-এর শুরুতে অ্যান ক্রায়ার (Ann Cryer)-এর মতো রাজনীতিবিদরা প্রথম এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। লো বলেন, “দেশের নেতাদের উচিত এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ করা। আসন্ন তদন্ত রিপোর্ট ব্রিটেনকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে দেবে (UK)।

     

  • Indian Embassy: অগ্নিগর্ভ ব্রিটেন! আন্দোলনের আঁচ থেকে বাঁচতে ভারতীয়দের নির্দেশিকা হাইকমিশনের

    Indian Embassy: অগ্নিগর্ভ ব্রিটেন! আন্দোলনের আঁচ থেকে বাঁচতে ভারতীয়দের নির্দেশিকা হাইকমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুষ্কৃতী হামলাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন (UK issues) শুরু হয়েছে ব্রিটেনে, এবার সেই আন্দোলনের আঁচ থেকে ব্রিটেনে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের বাঁচাতে সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় হাইকমিশন (Indian Embassy)। যাঁরা ভারত থেকে ব্রিটেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে তাঁদেরকেও। 

    কী কারণে এই বিক্ষোভ? (UK issues) 

    সম্প্রতি ব্রিটেনের সাউথপোর্টে এক নাচের ক্লাসে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক দুষ্কৃতী। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩ জনের। রটে যায় ওই হামলাকারী একজন অভিবাসী এবং ইসলামিক কট্টরপন্থী। তার পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ মানুষ। দেশের নানা প্রান্তে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে কার্যত যা দাঙ্গার রূপ নিয়েছে। জায়গায় জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দোকান ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ উঠছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতেই ব্রিটেনে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করল ভারতীয় হাইকমিশন (Indian Embassy)। তবে ইতিমধ্যেই এ ঘতনায় ঘটনায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আরও পড়ুন: নারী ক্ষমতায়নে জোর, ১৫ অগাস্ট লালকেল্লায় সম্মানিত হবেন ১৫০ জন মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান

    এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট ভারতীয় হাইকমিশনের (Indian Embassy)

    মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে নির্দেশিকা জারি করে হাইকমিশনের তরফে জানানো হয়, ‘গত কয়েকদিন ধরে ব্রিটেনের বেশ কিছু জায়গায় অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এখানে যে ভারতীয়রা রয়েছেন এবং যাঁরা ভারত থেকে আসছেন, তাঁদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলা হচ্ছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারতীয় হাইকমিশন। সকলকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর খবরে নজর রাখুন, তারপর ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিন। যেখানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সেই জায়গাগুলোয় এড়িয়ে চলুন। কোনও প্রয়োজন হলে হাইকমিশনের এমারজেন্সি নম্বর ৪৪২০৭৮৩৬৯১৪৭ এবং মেল আইডি inf.london@mea.gov.in-তে যোগাযোগ করুন। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • PM Modi News: লন্ডনে মোদির সমর্থনে গাড়ি মিছিল প্রবাসী ভারতীয়দের, হাজির ব্রিটিশ সাংসদও

    PM Modi News: লন্ডনে মোদির সমর্থনে গাড়ি মিছিল প্রবাসী ভারতীয়দের, হাজির ব্রিটিশ সাংসদও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সমর্থনে গাড়ি মিছিল দেখা গেল লন্ডনে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi News) সমর্থনে এই মিছিলের আয়োজন করেন প্রবাসী ভারতীয়দের সংগঠন ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’। প্রসঙ্গত ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’ হল ব্রিটেনের প্রবাসী ভারতীয়দের একটি সংগঠন, যা সেখানকার ভারতীয় সমাজের মধ্যে কাজ করে। গাড়ি মিছিলে অন্যতম অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন ব্রিটিস সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান। লন্ডনের পাতিদার সমাজ কমপ্লেক্স থেকে এই মিছিল শুরু হয়। এবং শেষ হয় বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির চত্বরে। চোখ বাঁধানো এই মিছিলে আয়োজন করা (PM Modi News) হয়েছিল নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও।

    মিছিলে ছিল ২৫০ গাড়ি

    মিছিলের উদ্যোক্তা সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।’’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে ২৫০টি গাড়ি। স্লোগানে-পোস্টারে, বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির (PM Modi News) প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানান মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। মিছিলে ভারতের জাতীয় পতাকা যেমন ছিল, তেমনই ছিল বিজেপিরও পতাকা। ব্রিটেনের সাংসদ তথা পদ্মশ্রী প্রাপক বব ব্ল্যাকম্যান মিছিল শেষে স্বামীনারায়ণ মন্দিরে প্রাঙ্গণে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। গোটা মিছিলের তাৎপর্য, তথা দেশের ভবিষ্যত গঠনে প্রবাসী ভারতীয়দের ভূমিকার ওপরে তিনি ভাষণ দেন।

    ব্রিটিশ সাংসদের মুখেও শোনা গেল ‘আবকি বার-৪০০ পার’-এর কথা 

    প্রসঙ্গত, শনিবারই নির্বাচন কমিশন দেশে সাত দফায় ভোট ঘোষণা করেছে। এবং ওই দিনই এমন মিছিলের আয়োজন করেন প্রবাসী ভারতীয়রা। নিজের ভাষণে বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, ‘‘ভারতের নির্বাচন একটি বড় নির্বাচন। এই নির্বাচনে আপনারা (বিজেপি) ৪০০-র অধিক আসনে (PM Modi News) জয়লাভ করবেন, এমনটাই ধারণা আমার। ভারত এবং ব্রিটেনের বন্ধুত্ব আগামী দিন আরও শক্তিশালী হবে।’’ প্রসঙ্গত, ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। ভারতের অর্থনীতির এই বৃদ্ধি প্রসঙ্গ উঠে আসে ব্রিটিশ সাংসদের বক্তব্যে। এবং তিনি বলেন, ‘‘গোটা ব্রিটেন ভারতকে একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশের চোখেই দেখে।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Israel-Hamas Conflict: ইজরায়েলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক! তেল আভিভে বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    Israel-Hamas Conflict: ইজরায়েলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক! তেল আভিভে বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলকে সমর্থন করতে তেল আভিভে পৌঁছলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সুনক জানান, তিনি ইজরায়েলে (Israel-Hamas Conflict) রয়েছেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই চলছে, সেই যুদ্ধে ইজরায়েলের পাশে তিনি রয়েছেন বলে জানান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। সফরের আগে একটি বিবৃতি দিয়ে ব্রিটেনের ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু যন্ত্রনার। হামাসের সন্ত্রাসবাদী হামলার ফলশ্রুতি এই এত মানুষের মৃত্যু।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পরই ইজরায়েলে পৌঁছলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী সুনক। প্রসঙ্গত এর আগে ব্রিটেনের সংসদে ঋষি সুনক জানান, ইজরায়েলে (Israel-Hamas Conflict) হামাস যেভাবে হামলা চালিয়েছে,তা দেখে চমকে উটেছে গোটা বিশ্ব।  ইজরায়েলের পাশে থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিটেন সামিল বলেও জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।  ঋষি সুনক বৃহস্পতিবার দুই দিনের সফরে তেল আভিভ পৌঁছেছেন। সফরের সময়ে সুনকের ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

    মানবিক সাহায্যের জন্য পথ

    প্রধানমন্ত্রী সুনক গাজায় মানবিক সাহায্যের জন্য অবিলম্বে একটি রুট খোলার কথা বলেন। এই অঞ্চলে আটকে পড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় গাজার আল-আহলি আরব হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সুনক। তিনি পোস্ট করেছেন, ‘আল-আহলি আরব হাসপাতালের দৃশ্য দেখে আমরা সবাই হতবাক। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি স্বাধীনভাবে তথ্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য দ্রুত প্রমাণ বিশ্লেষণ করছে’। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মুখপাত্র তাল হেনরিচ বলেছেন যে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ‘হাসপাতালগুলিকে আক্রমণ করে না’। হেনরিচ জোর দিয়েছিলেন যে তারা কেবল হামাসের শক্ত ঘাঁটি, অস্ত্রের ডিপো এবং সন্ত্রাসবাদী লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ করে।

    আরও পড়ুন: ‘‘সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বড় বাধা’’, বললেন ডোভাল

    হামাসের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বন্দ্বের মাঝেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হস্তক্ষেপের পর গাজা উপত্যকায় সীমিত মানবিক সহায়তা সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে মিশর। মিশরীয় রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি ফোন কলে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তার অনুমতি দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Liz Truss: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ? 

    Liz Truss: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের (United Kingdom) প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন লিজ ট্রাস (Liz Truss)। ভারতীয়দের (India) মন ভেঙে দিয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভুত ঋষি সুনাককে প্রায় ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে ব্রিটেনের মসনদে বসেছেন তিনি। নতুন প্রধানমন্ত্রী কী পরিবর্তন নিয়ে আসছেন, সেদিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। একইভাবে তাকিয়ে ভারতও। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ কেমন রাখবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী এখন সে দিকেই তাকিয়ে দেশ। এর বরিস জনসনের সঙ্গে বরাবরই ভারতের ভাল সমীকরণ সামনে এসেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেমন হয় এখন তাই দেখার। 

    আরও পড়ুন: হেরে গেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি! ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসেই ভারত সফরে এসেছিলেন তিনি। তখন তিনি ছিলেন বরিস সরকারের বিদেশসচিব। সেই সময় ট্রাস দীপাবলির আগেই ভারতের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ওই সফরে, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা খাতে সহায়তার জন্য ভারত যাতে রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাজ্য বেছে নেয়, তার জন্য ভারতকে বিশেষ অনুরোধও করেছিলেন তিনি। এপ্রিলে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে ব্রিটেনে ৩০ লক্ষ প্যাকেট প্যারাসিটামল রফতানির অনুমোদন দেওয়ার জন্য তিনি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। এর আগে, ২০২১ সালের অক্টোবর মাসেও ভারত সফর করেছিলেন লিজ ট্রাস। সেই সময়, তিনি ভারতকে ব্রিটেনের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ বলেও অভিহিত করেছিলেন। 

    এবার এটাই দেখার পালা যে, আগে দেওয়া কথা রাখতে পারছেন কি না নতুন প্রধানমন্ত্রী। দীপাবলির আগেই কি সম্পন্ন হবে বাণিজ্য চ্যুক্তি? এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ভারত। এছাড়াও ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলদিমির জেলেন্সকিকে সমস্ত ভাবে সমর্থন করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইউক্রেন থেকে নজর সরে ব্রিটেনের নজর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আসে কি না সে দিকেও তাকিয়ে আছে ভারত।

    আরও পড়ুন: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে পৌঁছলেন ঋষি সুনক-লিজ ট্রাস  

    সোমবার বরিস জনসন সরকারের বিদেশ সচিব লিজ ট্রাস, ব্রিটেনের প্রাক্তন অর্থসচিব ঋষি সুনাককে পরাজিত করে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। কনজারভেটিভ দলের নেতা নির্বাচনে লিজ পেয়েছেন ৮১,৩২৬ ভোট, অন্যদিকে প্রাক্তন চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক পেয়েছেন ৬০,৩৯৯ ভোট। অল্প ভোটের ব্যবধানে জিতেই, মার্গারেট থ্যাচার এবং থেরেসা মে-র পর তৃতীয় মহিলা হিসেবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি। 

    লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, “আশা করছি ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।  

  • Student Toilet Child Birth: পেটে ব্যথা নিয়ে শৌচালয় গেলেন ছাত্রী, বেরোলেন সদ্যোজাত কোলে নিয়ে!

    Student Toilet Child Birth: পেটে ব্যথা নিয়ে শৌচালয় গেলেন ছাত্রী, বেরোলেন সদ্যোজাত কোলে নিয়ে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ এক অদ্ভুত ঘটনা। হঠাৎ পেটে ব্যথা হওয়ায় শৌচালয়ে (Toilet) গিয়ে সন্তানের জন্ম (Give Birth) দিলেন যুক্তরাজ্যের (United Kingdom) এক তরুণী। সন্তান জন্মের পরের দিনই ২০ বছরে পদার্পণ করলেন এই তরুণী মা। 

    পরদিনই রাতে বেড়াতে যাওয়ার কথা। আগের রাতে পেটে ব্যথার কারণে শৌচালয়ে যান সাউথঅ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ে  ইতিহাস ও রাজনীতির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জেস ডেভিস ( Jess Davis)। আর সবাইকে হতবাক করে জন্ম দেন সন্তানের। এমনকি সন্তান যে ধীরে ধীরে তাঁর গর্ভে বেড়ে উঠেছে এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না ডেভিসেরও। ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসীরাও। জেস ডেভিস নামের ওই ছাত্রী ব্রিস্টলের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, তিনি যে অন্তঃসত্ত্বা তা বুঝতেই পারেননি। কয়েকদিন ধরে পেটে যে ব্যথা অনুভব করছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন ঋতুস্রাবের কারণেই হয়তো ব্যথা। 

    সন্তানসম্ভবনা হওয়ার কোনও উপসর্গও দেখা যায়নি ডেভিসের শরীরে। এমনকি ‘বেবি বাম্প’ – এর চিহ্ন মাত্র ছিল না। তাঁর ঋতুস্রাবও অনিমিয়ত হওয়ায় ঋতুস্রাব যে বন্ধ হয়েছে তাও জানাননি কাউকে। ১১ জুন মাত্র ২০ বছর বয়সেই পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন তিনি।  

    আরও পড়ুন: কলম্বোর রাস্তা কার্যত গাড়ি শূন্য! জ্বালানি সংকটে শ্রীলঙ্কা 

    বাচ্চাটি জন্মানোর পরেই ডেভিস এবং শিশুকে প্রিন্সেস অ্যান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটিকে একটি ইনকিউবেটরে রাখেন ডাক্তাররা। তাঁদের দাবি ৩৫ সপ্তাহেই জন্ম নিয়েছে ডেভিসের শিশু। মা ও শিশু এখন ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    আরও পড়ুন: পুতিনের হাতে মাত্র দুবছর! দাবি ইউক্রেনের গোয়েন্দা প্রধানের   

    শিশুর ওজন ৩ কেজি। শৌচালয়ে গিয়ে এভাবে সন্তানের জন্ম দিয়ে নিজেও হতবাক ডেভিস। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে, তাঁর পেট থেকে সন্তানের জন্ম হচ্ছে। কাঁদতে দেখার পর ভ্রম ভাঙে তাঁর। ওই দিন আচমকাই সকাল থেকে প্রবল পেটে ব্যথা শুরু হয়েছিল তাঁর। শুতে পারছিলেন না তিনি, ফলে বার বার শৌচালয়ে যাচ্ছিলেন। 

    পরদিন ছিল ডেভিসের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে বাড়িতেই সারা রাত পার্টির আয়োজন হয়েছিল। সেই রাতেই সন্তানের জন্ম দেন তিনি। ওই পরিস্থিতির পর প্রিয় বন্ধু লিভ কিংকে ফোন করেন ডেভিস। তিনি এসে অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে নিয়ে যান মা এবং সদ্যজাতকে। সন্তানকে আপাতত প্রিন্সেস অ্যান হাসপাতালের ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।     

     

LinkedIn
Share