Tag: United States

United States

  • Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তান (Pakistan) তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে। এই ভূমিকার জন্য পাকিস্তানকে মূল্য চোকাতে হবে। এর জবাবে ইরানি (Iran) ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখেও পড়তে পারে পাকিস্তান।” এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সিনিয়র কমান্ডার সারদার হোসেইন নেজাত। উল্লেখ্য, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এজন্য পাকিস্তান তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই সতর্কবার্তা।

    ইরান-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের মানচিত্র (Iran)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টটিতে ইরান ও পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের একটি মানচিত্র সংযুক্ত ছিল। সেখানে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকাকে দৃশ্যত চিহ্নিত করে সম্ভাব্য দুর্বল অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ইরান পাকিস্তানকে টার্গেট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানচিত্রে পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানে প্রবেশের রুটও দেখানো হয়েছে এবং সীমান্ত বরাবর সম্ভাব্য দুর্বল স্থানগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে (Pakistan)। সারদার হোসেইন নেজাত বলেন, “আমাদের নির্ভুল তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানের ওপর হামলায় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। পাকিস্তান খুব শিগগিরই এর মূল্য দেবে এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির মতো আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিরাপদ থাকবে না।”

    ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

    প্রসঙ্গত, ১ মার্চ পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনাই-এর মৃত্যু হয়। তারপরেই বিক্ষোভ হিংসার রূপ নেয় এবং অন্তত ২৩ জন নিহত হন। করাচিতে একদল বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন (Iran)। পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হন। সবচেয়ে গুরুতর হিংসার ঘটনা সেখানেই ঘটে। কিছু যুবক কনস্যুলেটের বাইরের ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মূল ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে (Pakistan)। পুলিশ সার্জন সুম্মাইয়া সাঈদ জানান, অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক (Iran)।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেনা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্তভাবে অনুগত বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে পাকিস্তান যে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, সেই ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের গোপন যোগাযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের চাপের মুখে রয়েছে। যদি ইরান ইসলামাবাদের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পাকিস্তান আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও বাড়তে পারে (Iran)।

     

  • Bangladesh: এবার কাঠগড়ায় ইউনূস, অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের “নীল নকশা” করার অভিযোগ

    Bangladesh: এবার কাঠগড়ায় ইউনূস, অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের “নীল নকশা” করার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) তদারকি সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের (Mohammad Yunus) বিরুদ্ধে উঠল ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের “নীল নকশা” করার অভিযোগ তুলেছেন। দিন কয়েক আগেই বিএনপি সুপ্রিমো তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ এশীয় দেশ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তোপ দাগলেন ইউনূসকে। বাংলাদেশের এক সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার এবং একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

    সংবিধানের কোনও বিধানই মানেননি, তোপ রাষ্ট্রপতির (Bangladesh)

    তিনি ঢাকার রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই দেড় বছরে আমি কোনও আলোচনায় ছিলাম না, অথচ আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার এবং একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির বহু চেষ্টা হয়েছে (Bangladesh)।” প্রেসিডেন্ট জানান, অন্তর্বর্তী সরকার চলাকালে প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস তাঁর সঙ্গে সংবিধানসম্মতভাবে যোগাযোগও করেননি। তিনি বলেন, “বিদেশ সফর কিংবা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আমায় অবহিত করা হয়নি। অথচ, একে তিনি “সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা” হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনও বিধানই মানেননি। বিদেশ সফর শেষে তাঁর আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে সফরের ফল জানানোর কথা ছিল। তিনি ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ গিয়েছেন, কিন্তু একবারও আমায় জানাননি। কখনও দেখা করতেও আসেননি (Mohammad Yunus)।”

    আমায় ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল

    শাহাবুদ্দিনের অভিযোগ, গত দেড় বছরে তাঁকে কার্যত ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। তাঁর পরিকল্পিত দুটি বিদেশ সফরে বাধা দেয় ইউনূস প্রশাসন (Bangladesh)। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘কিছু অধ্যাদেশ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশ জারির যৌক্তিকতা ছিল না।’ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সর্বশেষ চুক্তি সম্পাদন করেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এই ধরনের রাষ্ট্রীয় চুক্তি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত ছিল (Bangladesh)। তিনি বলেন, “না, আমি কিছুই জানি না। এমন রাষ্ট্রীয় চুক্তির বিষয়ে আমায় জানানো উচিত ছিল (Mohammad Yunus)। ছোট হোক বা বড়—পূর্ববর্তী সরকারের প্রধানরা অবশ্যই রাষ্ট্রপতিকে জানাতেন। এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি তা করেননি। মৌখিক বা লিখিতভাবে কিছুই জানাননি। তিনি আসেনওনি। অথচ তাঁর আসার কথা ছিল!”

    ‘আমার জায়গায় বসানোর ষড়যন্ত্র’

    শাহাবুদ্দিন বলেন, “এক পর্যায়ে অসাংবিধানিক উপায়ে একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে এনে আমার জায়গায় বসানোর ষড়যন্ত্রও হয়েছিল।” তবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিচারপতি সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবনের বাইরে হওয়া বিক্ষোভকে “ভয়াবহ এক রাত” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জনতাকে সংঘবদ্ধ করা হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির বাসভবনে লুটপাটের চেষ্টা হয়েছিল। পরে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।” শাহাবুদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিএনপি নেতৃত্ব আমায় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। তিন বাহিনীর প্রধানরা আমায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আপনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। আপনার পরাজয় মানে পুরো (Mohammad Yunus) সশস্ত্র বাহিনীর পরাজয়। আমরা যে কোনও মূল্যে তা প্রতিরোধ করব (Bangladesh)।”

     

  • India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং আমেরিকার অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য আগের থেকে অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হবে নতুন কর্মসংস্থান। এমনকী কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিরাট লাভ করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি ডলারের মার্কিন বাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শনিবারই ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দু’দেশের সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হল

    ভারত ও আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘পারস্পরিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য’ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ (BTA) নিয়ে চলা আলোচনায় দু’দেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হল। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, ভবিষ্যতে আরও ছাড় বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি । ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি আমাদের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে এই চুক্তি।” দু’দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এই অন্তবর্তী চুক্তি ভারসাম্য রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে এই চুক্তির সূত্রপাত করবেন, তাও এই বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী ভারত আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিলোপ করবে। ভারতের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও আমেরিকার বিলোপ করবে, তা নেমে আসবে ১৮ শতাংশে। যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে, ভারত আমেরিকা থেকে পশুখাদ্য আমদানি করবে। পশুখাদ্যের মধ্যে সয়াবিন, ভুট্টা, গম, বার্লি, মাছের মতো বহু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

    দেশবাসীর কত লাভ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোক্তা, এমএসএমই, স্টার্টআপ ইনোভেটর এবং মৎস্যজীবীদের নতুন সুযোগ এনে দেবে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির জন্য প্রচুর চাকরি হবে। তার ফলে যুব সমাজ-মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আমেরিকার জন্য দারুণ খবর! আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পরিশ্রমী কৃষক, উদ্যোগপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।

    বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ

    মোদি বলেন, ভারত ও আমেরিকা উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এই বাণিজ্য কাঠামো দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। পাশাপাশি, এটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, “একটি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে, আমরা ভবিষ্যতমুখী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়িত করবে এবং যৌথ সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোগপতি ও নতুন স্টার্টআপগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার

    এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার। তাঁর আরও বিশ্বাস এই রফতানি বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প এবং কৃষকদের বেশি লাভ হবে। যার ফলে সারা দেশে কোটি কোটি চাকরি তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সঙ্গে অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করে ফেলেছে ভারত। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে মহিলা ও যুবকদের জন্য। তাঁর দাবি, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন

    যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দরজা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, এতে সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কেরই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে উভয় দেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-কে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    চুক্তির মূল শর্তগুলি

    এই চুক্তি-কাঠামোর আওতায় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিডিজি, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বিভিন্ন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ ও স্পিরিট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক, রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।চুক্তি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরে এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় রফতানির উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরোপিত কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বিশেষ শুল্ক কোটার সুবিধা পাবে। জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নিয়েও আলোচনা চলবে।

    ‘রুলস অব অরিজিন’- যৌথ বাণিজ্যের নানা নিয়ম

    ভারত-আমেরিকা যৌথ বাণিজ্যে দু’দেশ একে অপরকে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার দেবে। ‘রুলস অব অরিজিন’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে সব নিয়ম। ভারত মার্কিন চিকিৎসা যন্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনও পক্ষ শুল্ক পরিবর্তন করে, তবে অন্য পক্ষও তার প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করতে পারবে। বৃহত্তর বিটিএ-র আওতায় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াতে আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ আলোচনায় ভারতীয় রফতানির উপর শুল্ক কমানোর অনুরোধও বিবেচনা করবে। বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে দু’দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করবে। বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ। ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তি, বিমান, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য ও কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম-সহ প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক নীতি তুলে নেওয়া এবং বিটিএ-র আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই কাঠামো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলতে থাকবে।

     

     

     

     

  • Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশচারী হিসেবে সুদীর্ঘ কেরিয়ার। একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তাঁর বিচরণ ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকালোর মাঝে’। মহাশূন্যে মোট ৬০৮ দিন কাটিয়ে নজির গড়েছেন তিনি। এবার অবসরের পালা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস দীর্ঘ ২৭ বছরের যাত্রার পর অবসর নিলেন (Sunita Williams)। মঙ্গলবার সুনীতার অবসরের কথা ঘোষণা করল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। গত ২৭ ডিসেম্বর, ৬০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এক বিবৃতি দিয়ে নাসা তাঁর অবসরের কথা জানায়।

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন

    নাসা জানিয়েছে, বড়দিনের পর পরই, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে সুনীতার (Sunita Williams Retires) অবসর কার্যকর হয়েছে। অবসর গ্রহণ করেছেন ৬০ বছর বয়সি সুনীতা। নাসার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষের মহাকাশ অভিযানে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা। ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার রূপকার তিনি। পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে বাণিজ্যিক অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছেন’। নাসা কর্তা জ্যারেড আইজ্যাকম্যান তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনীতা উইলিয়ামস একজন পথিকৃৎ। বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের পথ তৈরি করা থেকে শুরু করে আইএসএস-এ নেতৃত্ব, সব ক্ষেত্রেই তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে যে ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা, তাতেই চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস এবং মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিস্থাপন হয়েছে। আগামী প্রজন্ম ওঁর থেকে অনুপ্রেরণা পাবে, স্বপ্ন দেখতে শিখবে। অবসরকালে অভিনন্দন জানাই ওঁকে। নাসা এবং দেশের যে সেবা করেছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ”

    শিকড় ভারতেই

    ম্যাসাচুসেটসে জন্ম হলেও সুনীতার (Sunita Williams) শিকড় ভারতের গুজরাটে। সুনীতার বাবা দীপক পান্ডিয়া পেশায় নিউরোঅ্যানাটমিস্ট। জন্ম গুজরাটের মেহসানার ঝুলাসন গ্রামে। পরে তিনি কর্মসূত্রে পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় চলে যান। যদিও ভারতে কখনই নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি তিনি বা সুনীতা। স্লোভেনিয়ার বনি পান্ডিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান দীপক। সেখানেই জন্ম সুনীতার। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনীতা মেলবোর্নের ফ্লরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    নাসায় যোগদান

    এক সাক্ষাৎকারে সুনীতা (Sunita Williams) জানিয়েছিলেন তিনি আসলে পশুচিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষে যোগ দিয়েছিলেন মেরিল্যান্ডের ইউএস নেভাল অ্যাকাডেমিতে। সেখানে গিয়েও প্রথম আগ্রহের বিষয় ছিল ডাইভিং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়েছিলেন একজন পাইলট অর্থাৎ বিমান চালক। সেখানেও তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল জেট বিমান। কিন্তু তাঁর বদলে সুনীতাকে ওড়াতে দেওয়া হয় হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার এবং ফিক্সড-উইং পাইলট হিসাবে ৪০টি বিমানে মোট ৪,০০০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়ানের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে সুনীতার জীবনের পথ বদলে দেয় জনসন স্পেস সেন্টার পরিদর্শন। স্পেস সেন্টার পরিদর্শনের সময়েই মহাকাশচারী জন ইয়ং-এর সংস্পর্শে আসেন মহাকাশ বিজ্ঞানে নজির সৃষ্টি করা এই অ্যাস্ট্রোনট। সেখান থেকেই সুনীতার স্বপ্নে হানা দেয় গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি। মহাকাশচারী প্রশিক্ষণের জন্য নাসার কাছে আবেদন পাঠালেও প্রথমবারে সফল হননি সুনীতা। কিছু যোগ্যতার অভাবে সুযোগ হারান তিনি। কিন্তু হার মানেননি মহাকাশ কন্যা। ততদিনে মহাকাশকেই নিজের মিশন বানানোর জেদ চেপে গিয়েছে তাঁর। পাইলট স্কুলে ফিরে নাসায় যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ১৮ তম মহাকাশচারী দলের অংশ হিসাবে নাসায় যোগ দেন সুনীতা উইলিয়ামস। তার পর বাকিটা ইতিহাস।

    মহাকাশযাত্রার মহা কাহিনী

    সুনীতার (Nasa Astronaut Sunita Williams) মহাকাশযাত্রা শুরু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে। ডিসকভারি শাটলে ভেসে প্রথমবার মহাকাশে পৌঁছন তিনি। এক্সপিডিশন ১৪/১৫–র ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সেই মিশনে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয় মিশনে ১২৭ দিনের জন্য মহাকাশে ছিলেন এবং ওই অভিযানে তাঁকে মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তাঁর তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা ছিল বোয়িং স্টারলাইনারে চড়ে আইএসএস-এ পৌঁছনো। তাঁর সঙ্গী ছিলেন নভশ্চর বুচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের জন্য পরিকল্পিত সেই মিশন শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস ধরে আটকে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন তাঁরা। দীর্ঘ কর্মজীবনে মোট তিনটি মহাকাশ মিশন সম্পন্ন করেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন (608 days in space)-নাসার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়। পাশাপাশি ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিটে মোট ৯টি স্পেসওয়াকের রেকর্ড রয়েছে তাঁর, যা যে কোনও মহিলা মহাকাশচারীর নিরিখে সর্বাধিক (Space Mission records)। এমনকি মহাকাশে ম্যারাথন দৌড় সম্পন্ন করা প্রথম মানুষও তিনিই।

    মহাকাশ কন্যার বিদায়ী সম্ভাষণ

    স্বামী মাইকেল এবং পোষ্যদের নিয়ে সংসার সুনীতার (Sunita Williams)। তবে সুনীতা জানিয়েছেন, মহাকাশই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নিয়মের বেড়াজালে ৬০-এ পা দিতেই অবসরে মহাকাশ কন্যা। তবু আজও তাঁর বুকে বাসা বেঁধে রয়েছে আবারও ব্রহ্মাণ্ডে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন তা তাঁর বিদায়ী সম্ভাষণেই স্পষ্ট। সুনীতা উইলিয়ামস বলেন, ‘‘যারা আমাকে চেনেন তাঁরা জানেন, মহাকাশ আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নাসাতে কাজ করা এবং তিনবার মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ সম্মানের। নাসায় আমার ২৭ বছরের অসাধারণ কেরিয়ারের মূল কারণ আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অসাধারণ ভালোবাসা এবং সমর্থন।’’ এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য গবেষণার কাজকে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, আধুনিক প্রযুক্তি টেকনিক, অ্যাডভান্স সায়েন্স চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপগুলিকে সম্ভব করে তুলেছে। আমি আশা করি আমরা যে ভিত্তি স্থাপন করেছি তা এই সাহসী পদক্ষেপগুলিকে আরও সহজ করবে। নাসা-এর পরবর্তী প্রজেক্টগুলি নতুন করে ইতিহাস লিখুক। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব।’’

    ফের মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছা

    নিজের অবসরের প্রসঙ্গে সুনীতা হাসতে হাসতে বলেন, “আমি অবশ্যই আবার মহাকাশে যেতে চাই। কিন্তু আমার স্বামী বোধহয় আমাকে ছাড়বেন না!” ভালোবাসার টানে কিছুদিন ঘরে কাটালেও সুনীতার এই কথায় রয়েছে অন্য ইঙ্গিত? তাহলে আবার কি মহাকাশে পাড়ি জমাবেন সুনীতা? নাসা ছাড়লেও বেসরকারি সংস্থার দরজা তো খোলা। কে বলতে পারে ফের হয়ত মহাবিশ্বে পাড়ি জমাবেন মহাকাশ-কন্যা।  তাঁর রেকর্ড-বুকে হয়তো জুড়ে যাবে সবথেকে বেশি বয়সে মহাকাশে পাড়ি জমানোর নজির!

  • India Pakistan Relation: ‘‘ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান কোনওদিন যুদ্ধে জিততে পারবে না’’, দাবি প্রাক্তন সিআইএ কর্তার

    India Pakistan Relation: ‘‘ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান কোনওদিন যুদ্ধে জিততে পারবে না’’, দাবি প্রাক্তন সিআইএ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে প্রথাগত যে কোনও যুদ্ধেই পাকিস্তানের (India Pakistan Relation) পরাজয় নিশ্চিত। এমনই অভিমত আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন আধিকারিক জন কিরিয়াকুর। দেড় দশক সিআইএ-র হয়ে কাজ করেছেন কিরিয়াকু। সম্প্রতি এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘বাস্তবে যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের ভালো কিছু হবে না। কারণ প্রথাগত যে কোনও যুদ্ধে ভারতের কাছে তাদের হার হবে। তাই ভারতকে ক্রমাগত প্ররোচনা দিয়ে পাকিস্তানের লাভ কিছু নেই।’’ একসময় পাকিস্তানে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন এই আধিকারিক।

    ষড়যন্ত্র বন্ধ করুক পাকিস্তান

    সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই মার্কিন আধিকারিক দাবি করেছেন, পাকিস্তানের উচিত ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করা। পাকিস্তান যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, যে কোনও ধরনের গতানুগতিক যুদ্ধে পাকিস্তান ভারতের কাছে খুব খারাপ ভাবে হারবে। তাঁর মতে, ইসলামাবাদের উচিত কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তার ফলে পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছুই হবে না। একইসঙ্গে কিরিয়াকু যোগ করেছেন, “আমি পারমাণবিক অস্ত্রের কথা বলছি না, কেবল গতানুগতিক যুদ্ধের কথা বলছি। ভারতকে বারবার উস্কে দেওয়ার কোনও মানে হয় না।”

    ইসলামাবাদকে কড়া জবাব দিচ্ছে দিল্লি

    প্রসঙ্গত, বরাবরই পাকিস্তানকে যুদ্ধে টেক্কা দিয়েছে ভারত। তবে গত এক দশক ধরে ইসলামাবাদকে কড়া জবাব দিচ্ছে দিল্লি। ২০১৬ সালে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯-এ বালাকোট স্ট্রাইক ও সব শেষে সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানকে উচিত জবাব দিয়েছে ভারত। তবে তাতেও সিধে হয়নি পাকিস্তান। ভারতের বিরুদ্ধে এখনও চোরাগোপ্তা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। এমন প্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বার্তা দিলেন প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিক। কিরিয়াকুর দাবি, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে এঁটে উঠতে পারবে না পাকিস্তান। বরং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলে আখেরে পাকিস্তানেরই ক্ষতি বেশি হবে।

    পাক পরমাণু ভান্ডারের চাবি পেন্টাগনের হাতে

    ২০০১ সালে ভারতের (India Pakistan Relation) সংসদে হামলার পরই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবধারিত হয়ে উঠেছিল বলেও এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন সিআইএ কর্তা। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের যে একটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, সে কথাও স্বীকার করেছেন কিরিয়াকু। তবে সেই সময় আল-কায়দা, আফগানিস্তান নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল আমেরিকা। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়নি বলেও দাবি মার্কিন গোয়েন্দাকর্তার। দু’দেশের মধ্যে যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সেই সময় তিনি জানতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের চাবিকাঠি পেন্টাগনের হাতে তুলে দিয়েছেন তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট তথা সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মুশারফ।

    ভারতের মিসাইলে পাক ঘাঁটি অকেজো

    প্রসঙ্গত, সিআইএ-র গুপ্ত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে ২০১২ সালে কিরিয়াকুকে গ্রেফতার করেছিল মার্কিন সরকার। বিচারে ৩০ মাসের জেল হয় তাঁর। কিন্তু তার পরেও তিনি থেমে থাকেননি। আমেরিকা এবং তার গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের নাজেহাল দশা করেছিল ভারত। এই আবহে পরমাণু বোমা হামলার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছিল পাকিস্তান। পালটা জবাবের বার্তা দিয়েছিল ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের মিসাইলে পাক ঘাঁটি অকেজো হয়ে পড়ে। এর জেরে ভারতের কাছে সংঘর্ষবিরতির আবেদন জানিয়েছিল পাকিস্তান। এই সবের পরও পাকিস্তান দাবি করছে, তারা নাকি ভারতের সঙ্গে এই সংঘাতে ‘জিতেছে’।

    ভারত পরিপক্ক দেশ হিসেবে ধৈর্যশীল

    এই আবহে ভারত-পাক যুদ্ধ (India Pakistan Relation) নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন সিআইএ অফিসার জন কিরিয়াকু। তাঁর দাবি, ভারত ও পাক যুদ্ধ হলে পাকিস্তান কোনওদিন জিততে পারবে না। এরই সঙ্গে জন কিরিয়াকু দাবি করেন, ২০০১ সালে যখন ভারতীয় সংসদে জঙ্গি হামলা হয়, তার ২-৩ সপ্তাহ পরেই তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি জানান, আমেরিকা ভেবেছিল, ভারত পাকিস্তানের ওপর হামলা করবে। এবং তাঁর কথায়, ভারত সেই সময় পাকিস্তানের ওপর হামলা করলে তা ন্যায্য হত। এরপর ২০০৮ সালেও মুম্বই হামলার পরেও আমেরিকা মনে করেছিল যে ভারত হামলা চালাবে পাকিস্তানের ওপর। জন কিরিয়াকুর কথায়, ভারত পরিপক্ক দেশ হিসেবে ধৈর্যশীল। তবে পাকিস্তান বারবার ভারতকে খোঁচালে তারা যোগ্য জবাব পাবে।

    মুশারফকে কিনে নিয়েছিল আমেরিকা

    মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন অফিসার জন কিরিয়াকু আরও দাবি করেন, প্রয়াত প্রাক্তন সেনাশাসক পারভেজ মুশারফের জমানায় পরমাণু অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। সিআইএ-র সন্ত্রাসবিরোধী ডেস্কের প্রাক্তন আধিকারিক কিরিয়াকু এক সময়ে ছিলেন পাকিস্তানেও। গত জুলাই মাসে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ইসলামাবাদের যাবতীয় পরমাণু হাতিয়ার পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পরমাণু অস্ত্রের কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েক বছর আগেই পাক সরকার একজন মার্কিন জেনারেলের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা অনেকটাই কমে গিয়েছে।’’কিরিয়াকু মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘‘কোটি কোটি ডলার অনুদান দিয়ে জেনারেল পারভেজ মুশারফকে কিনে নিয়েছিল আমেরিকা। তিনিই পরমাণু অস্ত্রের চাবি এক মার্কিন জেনারেলের হেফাজতে দিয়েছিলেন।’’ প্রায় ১৫ বছর সিআইএ-র নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কিরিয়াকুর কথায়, ‘‘আমরা পাক পরমাণু অস্ত্র কিনে নিয়েছিলাম।’’

  • Recession in US: মন্দার মুখে মার্কিন অর্থনীতি, এগোচ্ছে ভারত! ট্রাম্পের শুল্কনীতিই দায়ী, দাবি মুডিজ-এর

    Recession in US: মন্দার মুখে মার্কিন অর্থনীতি, এগোচ্ছে ভারত! ট্রাম্পের শুল্কনীতিই দায়ী, দাবি মুডিজ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহামন্দার মুখে দাঁড়িয়ে আমেরিকা। ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিন্তু আদতে দেখা গেল আমেরিকার আর্থিক অবস্থাই শোচনীয়। কোনও রাখঢাক না করে মার্কিন আর্থিক রেটিং (US Rating Agency) সংস্থাই জানিয়ে দিল আমেরিকার বর্তমান (US Economy) পরিস্থিতি। বিশ্বের নাম করা আর্থিক রেটিং সংস্থা মুডিজ (Moodys Warning) জানিয়েছে, মন্দার মুখে মার্কিন অর্থনীতি, ট্রাম্পের (Donald Trump) সিদ্ধান্তেই বদলে এই প্রতিকূল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

    ক্ষতি করছে ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি

    চলতি বছরের ৩০ জুলাই ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে কটাক্ষ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু, মাত্র দু’মাসের মাথাতেই নিজের ঘর সামলাতে যে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়শই আমেরিকানদের আশ্বস্ত করেন যে- তাঁর নেতৃত্বে মার্কিন অর্থনীতি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু মুডিজ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি তাঁর দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্পকে বাস্তবের মুখ দেখিয়েছেন। মুডিজ-এর দাবি, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘আমেরিকান ফার্স্ট’ স্লোগান দেওয়া ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি এখন প্রতিকূল প্রভাব ফেলছে মার্কিন অর্থনীতিতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক আরোপের তার নীতি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি আমেরিকাকে মন্দার কবলে ফেলেছে।

    মন্দার মুখে আমেরিকা

    মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থি নিয়ে মার্ক জান্ডি বলেছেন, ট্রাম্প মার্কিন জিডিপি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রণকে তার অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলেছ। তাঁর মতে, আমেরিকা বর্তমানে চাকরি থেকে শুরু করে উপভোক্তা মূল্য সূচক সবেতেই নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুডিজ প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেছেন- মার্কিন অর্থনীতির অবনতির অবস্থা সম্পর্কে কয়েক মাস আগে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, তা এখন সত্যি হচ্ছে। তিনি অনুমান করছেন- ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ মার্কিন অর্থনীতি তীব্র মন্দার কবলে পড়বে। তিনি মনে করেন না যে- মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে মন্দার মধ্যে রয়েছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে- এটি মন্দার দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।

    মার্ক জান্ডি কে

    মার্ক জান্ডি সেই অর্থনীতিবিদ, যিনি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন তুলে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তালুর মতো চেনেন জান্ডি। তাঁর মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি আমেরিকান অর্থনীতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। জান্ডির দাবি, মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) নিরিখে আমেরিকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ প্রদেশের সূচক রয়েছে ঋণাত্মক। এতে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। সম্প্রতি এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মার্ক। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘বিভিন্ন তথ্য ঘেঁটে দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রের এক তৃতীয়াংশ প্রদেশের জিডিপি হয় মন্দায়, নয়তো সেই রকম পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। অন্য এক তৃতীয়াংশ কিছুটা স্থিতিশীল। বাকি এক তৃতীয়াংশের সূচক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক কথায় অর্থনীতি যথেষ্ট অস্থির। আমার মূল্যায়ন অনুযায়ী, আমেরিকায় মন্দা আসার মতো সহায়ক পরিস্থিতি রয়েছে।’’

    মার্কিন অর্থনীতির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন

    কোনও দেশ আর্থিক মন্দার কবলে পড়েছে, এটা বোঝার একটা সুনির্দিষ্ট উপায় রয়েছে। একটি অর্থবর্ষে পর পর দু’টি ত্রৈমাসিকে যদি জিডিপির সূচক ঋণাত্মক থাকে, তা হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রটিকে মন্দা গ্রাস করেছে বলে ধরে নেওয়া হয়। চলতি আর্থিক বছরের (২০২৫-’২৬) প্রথম তিন মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে শূন্যের নীচে নেমে যায় যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির সূচক। জুলাই-অগস্টে পরিস্থিতি সে ভাবে বদলায়নি। সেপ্টেম্বরে অবস্থার বিরাট পরিবর্তন না হলে মার্কিন অর্থনীতির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

    এগোচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতি

    আমেরিকার অর্থনীতি যেখানে বেসামাল সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অগাস্টের একেবারে শেষে চলতি আর্থিক বছরের (পড়ুন ২০২৫-’২৬) এপ্রিল থেকে জুনে জিডিপির হার প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। কেন্দ্রের দেওয়া সেই তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে ৭.৮ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে সূচক। পরে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘দ্রুত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে ভারত।’’ বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে নয়াদিল্লির নাম। সমীক্ষক সংস্থা ‘ইওয়াই ইকোনমিক ওয়াচ’ আবার তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী ১৩ বছরের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে ভারত। পাশাপাশি, তালিকায় এক নম্বর স্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গদি টলমল হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।

  • Iran-US Conflicts: ‘‘খামেনেইকে জীবন ভিক্ষা দিয়েছি’’ দাবি ট্রাম্পের , অপমান সহ্য না করার হুঁশিয়ারি ইরানের

    Iran-US Conflicts: ‘‘খামেনেইকে জীবন ভিক্ষা দিয়েছি’’ দাবি ট্রাম্পের , অপমান সহ্য না করার হুঁশিয়ারি ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Iran-US Conflicts) কথা বলার ধরন ঠিক করতে হবে। তবেই পরমাণু নিয়ে চুক্তি সম্ভব, জানিয়ে দিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অভিযোগ, বার বার তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করছেন। তেহরান যা বরদাস্ত করবে না। এর আগে ইজরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের ‘জয়ের’ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান যদি আবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিশ্চিতভাবেই’ ইরানে ফের বোমাবর্ষণ করবে। এমনকী ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর সময় ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলা থেকে খামেনেইকে তিনি রক্ষা করেছিলেন।

    ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি ইরানের

    শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্পকে (Iran-US Conflicts) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আরাগচি। দাবি করেছেন, ইরানের শক্তিতে ভীত হয়ে ইজরায়েলকে আমেরিকার দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আরাগচি লিখেছেন, ‘‘যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সত্যিই কোনও চুক্তি চান, ওঁকে আগে ইরানের নেতা খামেনেইয়ের প্রতি কথা বলার অসম্মানজনক ভঙ্গি পাল্টাতে হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। খামেনেইয়ের লক্ষ লক্ষ সমর্থককে আঘাত করা বন্ধ করতে হবে ট্রাম্পকে।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘ইরানের মানুষ অত্যন্ত শক্তিশালী। সারা বিশ্বকে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, ইজরায়েলের সামনে বাবার কাছে ছুটে যাওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ওদের ধ্বংস করে দিত। ইরানের মানুষ ট্রাম্পের হুমকি এবং অপমান সহ্য করবেন না।’’

    খামেনেইকে বাঁচিয়েছি, বললেন ট্রাম্প

    আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের (Iran-US Conflicts)  আলোচনার মাঝেই সেখানে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। এরপর যুদ্ধে যোগ দেয় আমেরিকাও। ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তার পরেই ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধ থেমেছে। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমি জানতাম খামেনেই ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছেন। কিন্তু আমি ইজরায়েলকে বা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ওঁকে মেরে ফেলতে দিইনি। ওঁকে আমি একটা কুৎসিত এবং অপমানজনক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছি। কিন্তু উনি তার জন্য আমাকে কোনও ধন্যবাদ জানাননি!’’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের চেষ্টা করছিলেন। তেহরান বহু দিন ধরে যে দাবি করে আসছে। কিন্তু এই চেষ্টার পরিবর্তে ইরান থেকে তিনি কেবল রাগ এবং ঘৃণাভরা বিবৃতি পেয়েছেন। তাই সাহায্যের চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন। ইরানকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

    হিরোশিমা ও নাগাসাকির উদাহরণ

    ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বোমারু বিমান (Iran-US Conflicts) । তার জবাবে কাতারে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। ট্রাম্প বলেন,‘‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণু কেন্দ্রে টার্গেট করেছিলাম। সেগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এটা নির্ণায়ক পদক্ষেপ ছিল।’’ এরপরই ট্রাম্প টেনে আনেন মানব সভ্যতার ইতিহাসের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়কে। বলেন,‘‘আমি হিরোশিমার উদাহরণ দিতে চাই না। নাগাসাকির উদাহরণও দিতে চাই না। তবে সেখানেও একই জিনিস ঘটেছিল। এর ফলে সেই যুদ্ধের অবসান ঘটে। ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলাও যুদ্ধে ইতি টেনেছে। আমাদের কাছে আছে সাহসী দেশপ্রেমিক, যাঁরা অত্যন্ত দক্ষ বিমানচালক। তাঁরা আমেরিকান স্টেলথ বোমারু বিমান থেকে লক্ষ্যবস্তুগুলিতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন স্তিমিত। দুই দেশই এখন ক্লান্ত।’’

    ঠিক করে কথা বলুক আমেরিকা

    ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও, আয়াতুল্লাহ খামেনেই একটি বিজয় ভাষণে বলেন, “এই লড়াইয়ে ইরান- আমেরিকার গালে সপাটে চড় কষিয়েছে।” ট্রাম্প পাল্টা দাবি করেন, “তিনি (খামেনেই) জানেন তাঁর বক্তব্য মিথ্যা, একজন ধর্মীয় নেতার এমন মিথ্যা বলা কাম্য নয়।” ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালায়, তবে আমেরিকা ফের হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। এই মুহূর্তে ইরান আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ট্রাম্প ন্যাটোর সম্মেলনে আশা প্রকাশ করলেও, তেহরান (Iran-US Conflicts) জানিয়েছে—তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়। আসলে র্মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা ভাল চোখে দেখছে না তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রম্পকে কথা বলার ধরন ঠিক করতে বলেছেন। খামেনেইকে অসম্মান করা হলে ইরান কখনওই আলোচনার টেবিলে বসবে না, জানিয়ে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।

     

     

     

     

     

  • India’s First Laser Weapon: এক লহমায় ধ্বংস এক ঝাঁক ড্রোন! পাকিস্তান-চিনের ঘুম উড়িয়ে দেশীয় লেজার অস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের

    India’s First Laser Weapon: এক লহমায় ধ্বংস এক ঝাঁক ড্রোন! পাকিস্তান-চিনের ঘুম উড়িয়ে দেশীয় লেজার অস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন প্রজন্মের অস্ত্রের দুনিয়ায় পা রাখল ভারত। লেজার অস্ত্রের (India’s First Laser Weapon) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এর এই অস্ত্র মনে করাচ্ছে জর্জ লুকাসের তৈরি বিখ্যাত সিরিজ স্টার ওয়ারস-এর (Star Wars) যোদ্ধাদের। যেখানে যোদ্ধাদের অত্যাধুনিক তলোয়ার থেকে প্রতি নিয়ত বেরোচ্ছে আলোক রশ্মি। যা মাঝখান থেকে চিরে দিতে পারে একটা আস্ত বিমানকেও। এবার প্রায় একই রকম শক্তি নিজের হাতে তুলতে চলেছে ভারতীয় সেনা। শত্রু রাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান থেকে গুপ্তচর ড্রোন, যে কোনও কিছু নিমিষে ধ্বংস করে দিতে পারে ডিআরডিও-র তৈরি এই লেজার অস্ত্র।

    ৩০ কিলোওয়াট লেজার অস্ত্রের ট্রায়াল রান সফল

    ডিআরডিও সূত্রে খবর, রবিবার অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে এক দল গবেষক এই সদ্য নির্মিত ৩০ কিলোওয়াটের লেজার অস্ত্রের ট্রায়াল রান করায়। যাতে সফল হয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, এই অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির মাধ্যমেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে জুড়ে গেল ভারতের নাম। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি এই নতুন মার্ক-২(এ)  ডিইডব্লু সিস্টেমটি দূর পর্যন্ত যে কোনও শত্রু ড্রোনের আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে। সেই ড্রোন এক ঝটকায় উড়িয়েও দিতে পারে। তারা আরও জানিয়েছে, এই অস্ত্র থেকে নির্গত লেজার বা আলোকরশ্মি ৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা যে কোনও ড্রোন বা হেলিকপ্টারকে আকাশপথেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। যা স্থল ও নৌসেনা উভয়েই নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করতে পারবেন।

    সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি লেজার অস্ত্র

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের ন্যাশনাল ওপেন এয়ার রেঞ্জে লেজার (India’s First Laser Weapon) হাতিয়ারের পরীক্ষা করা হয়। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ‘ডিরেক্ট এনার্জি ওয়েপন সিস্টেম’ বা ডিইডব্লিউ। বর্তমান বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছে আছে এই হাতিয়ার। এটি তৈরির মূল কৃতিত্ব ডিআরডিওর ‘সেন্টার ফর হাই এনার্জি সিস্টেমস অ্যান্ড সায়েন্সেস’-এর (সিএইচইএসএস)। লেজার হাতিয়ারের গবেষণায় হারদরাবাদের একাধিক ল্যাবরেটরি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাহায্য পেয়েছে ডিআরডিও। পরে নকশা অনুযায়ী অস্ত্রটিকে তৈরি করে একটি দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা। ট্রাক আকৃতির গাড়ির উপর ‘মার্ক-টু(এ) লেজার’কে বসানো হয়েছে। যুদ্ধের সময়ে একে একাধিক রণাঙ্গনে মোতায়েন করতে পারবে ফৌজ।

    ‘ড্রোন ঘাতক’ লেজার অস্ত্র

    প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা সূত্রে খবর, শত্রুর নজরদারি সেন্সর, অ্যান্টেনা বা রাডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে পারবে ‘মার্ক-টু(এ)’। চোখের পলক ফেলার আগে নিখুঁত নিশানায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালাতে পারবে এই সমরাস্ত্র। লেজার হাতিয়ারটি ৩০ কিলোওয়াট শক্তি সম্পন্ন। তবে এর পাল্লার বিষয়টি গোপন রেখেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা। ডিআরডিওর তরফে অত্যাধুনিক অস্ত্রটিকে ‘ড্রোন ঘাতক’-এর তকমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থাটির কর্তা-ব্যক্তিদের দাবি, ‘মার্ক-টু(এ)’র সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এর নামমাত্র খরচ। এক-দু’লিটার পেট্রলের দামে কয়েক সেকেন্ডের জন্য লেজার রশ্মি ছুড়তে পারবে এই হাতিয়ার।

    ৩০-কিলোওয়াট লেজার অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

    ● এই লেজার অস্ত্র ড্রোন, হেলিকপ্টার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথের হুমকি ৫ কিলোমিটার দূর থেকেই ধ্বংস করতে পারে।

    ● শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্যাটেলাইট সিগন্যাল জ্যাম করতে সক্ষম।

    ● স্থল ও সমুদ্র – দুই জায়গায়ই এটি ব্যবহারযোগ্য।

    ● ৩৬০ ডিগ্রি সেন্সর দ্বারা সজ্জিত, যা টার্গেটিং-এ নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

    ● সহজেই বিমান, রেল, সড়ক বা জলপথে মোতায়েন করা যায়।

    ● বিভিন্ন সামরিক প্রয়োজনে এর ডিজাইনকে মানিয়ে নেওয়া যায়।

    বদলে যাবে আকাশ প্রতিরক্ষার সংজ্ঞা

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’র (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সংজ্ঞা বদলে দেবে ডিআরডিওর তৈরি অত্যাধুনিক এই অস্ত্র (India’s First Laser Weapon)। এর দু’রকম ব্যবহারের কথা বলেছেন সাবেক সেনাকর্তারা। দীর্ঘ দিন ধরেই ড্রোনের সাহায্যে জম্মু-কাশ্মীর এবং পঞ্জাবে হাতিয়ার ও মাদক চোরাচালান চালিয়ে আসছে পাকিস্তান। বাহিনীতে ‘মার্ক-টু(এ)’ চলে এলে সেই সূচক অনেকাংশেই নেমে আসবে, তা বলাই বাহুল্য। এ ছাড়া যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘর্ষের সময়ে শত্রুর ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা ড্রোনকে পুড়িয়ে শেষ করতে পারবে নতুন লেজার হাতিয়ার। তবে ভারতীয় সেনা কবে থেকে এটি ব্যবহার করবে, তা স্পষ্ট করেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ডিআরডিও-র পরের লক্ষ্য ‘সূর্য’

    ডিআরডিও-র পরের লক্ষ্য এরই আরও উন্নত সংস্করণ ‘সূর্য’, ৩০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। যার সীমা ২০ কিমি। এটি এখন গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ‘সূর্য’কে সামনে আনার চেষ্টায় রয়েছে ডিআরডিও। নতুন লেজার (India’s First Laser Weapon) হাতিয়ারটির সঙ্গে ‘সূর্য’-র কোনও মিল রয়েছে কি না, সেটা জানা যায়নি। তবে ‘সূর্য’র মাধ্যমে লেজার, মাইক্রোওয়েভ বা পার্টিকল বিমের (কণা রশ্মি) মতো কেন্দ্রীভূত শক্তিকে শত্রুর উপর সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে বলে জানা গিয়েছিল। ‘সূর্য’ নিয়ে গবেষণার কাজে নিয়োজিত রয়েছে ডিআরডিওর লেজার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার। প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থাটির দাবি, ২০২৭ সালের মধ্যে হাতিয়ারটির প্রোটোটাইপ তৈরি করার কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারবে তারা। তবে এর জন্য একাধিক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

  • Pannun Murder Plot Charge: পান্নুন মামলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ কমিটির

    Pannun Murder Plot Charge: পান্নুন মামলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ কমিটির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যার চেষ্টার মামলায় (Pannun Murder Plot Charge) এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করল ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি (Panel)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসন্ধান করে এই সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী, সন্ত্রাসী সংগঠন, মাদক পাচারকারী প্রভৃতি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার পর ওই কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিই করল সুপারিশ।

    কী বলছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক? (Pannun Murder Plot Charge)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব তথ্য সরবরাহ করেছে, তার প্রকৃতি কিংবা বিবরণ প্রকাশ করেনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে বিবৃতিতে যে সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে অনুমান, আমেরিকার মাটিতে খালিস্তানপন্থী জঙ্গি গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায় যে তারা পন্নুনকে হত্যা করার একটি ষড়যন্ত্রের হদিশ পেয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, ওই ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়েছিল ভারত সরকারের কর্মচারীদের দ্বারা।

    আমেরিকার অভিযোগ

    পরবর্তী কালে প্রকাশিত তথ্যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অভিযোগ, ওই ব্যক্তিই পন্নুনকে হত্যা করার জন্য একজন কন্ট্রাক্ট কিলার ভাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন। বাইডেন প্রশাসনের অভিযোগের জবাবে ভারত সরকার জানিয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তোলা অভিযোগের তদন্ত করতে তারা (Pannun Murder Plot Charge) একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

    আরও পড়ুন: “ভারতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই লড়ছে কংগ্রেস”, আরএসএসকে নিশানা করতে গিয়ে বললেন রাহুল

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি তদন্ত পরিচালনা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সূত্রগুলোও অনুসরণ করা হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছে এবং উভয় পক্ষ পরস্পরের দেশে সফর করেছে। কমিটি বিভিন্ন সংস্থার বেশ কিছু কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পরীক্ষা করেছে (Panel)। বিষয়টির ওপর ‘দ্রুত’ আইনি পদক্ষেপের সুপারিশ করে, কমিটি জানিয়েছে, এই ব্যবস্থায় কার্যকরী উন্নতি আনা প্রয়োজন (Pannun Murder Plot Charge)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • PM Modi: মোদিকে বিদায়ী চিঠি বাইডেনের! দুই দেশের সম্পর্ককে শক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: মোদিকে বিদায়ী চিঠি বাইডেনের! দুই দেশের সম্পর্ককে শক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় পালাবদলের তোড়জোড়। আগামী ২০ জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় বার দায়িত্ব নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিদায়ী চিঠি পাঠালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দেখা করে বাইডেনের বিদায়ী চিঠি তাঁর হাতে দেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান। 

    মোদি-সুলিভান সাক্ষাত

    সোমবার মোদি ও সুলিভানের মধ্যে আলোচনায় ‘ইনিশিয়েটিভ অন ক্রিটিকাল অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজি’ (আইসিইটি)-র ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো প্রসঙ্গ এসেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পরে এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, ‘‘সুলিভানের সাথে সাক্ষাৎ করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি। ভারত-আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জনগণের স্বার্থে এবং বিশ্বের মঙ্গলের জন্য আমাদের দুই গণতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্কের এই গতিকে তরাণ্বিত করার জন্য আমি উন্মুখ।’’ বাইডেনের চিঠিটি পাওয়ার পর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদি। তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা স্মরণও করেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত-আমেরিকা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাইডেন আরও মজবুত করেছেন বলে জানান মোদি।

    আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিযুক্ত সুলিভানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে এটাই শেষ বিদেশ সফর। ২০ জানুয়ারি ওই পদে বসবেন ট্রাম্পের মনোনীত মাইকেল ওয়াল্টজ। এদিন বৈঠক শেষে সুলিভান বলেন, ‘‘আগামী দিনে উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।’’ ভারতের পরমাণু সংস্থাগুলির সঙ্গে আমেরিকার সহায়তারও বার্তা দেন তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share