মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (US Returns Indian Antiquities) রক্ষায় বড় সাফল্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরল ৬৫৭টি চুরি হওয়া প্রাচীন নিদর্শন, যার মূল্য প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দফতর ভারতে ফিরিয়ে দিল ওই চুরি হওয়া প্রাচীন নিদর্শনগুলি। আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্তের পর এই বিরল সংগ্রহ উদ্ধার করা হয়। মোট মূল্য প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এই নিদর্শনগুলি হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল কুখ্যাত পাচারকারী সুভাষ কপুর এবং দোষী সাব্যস্ত আর্ট ডিলার ন্যান্সি উইনার।
উদ্ধার হওয়া উল্লেখযোগ্য নিদর্শন
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন এল ব্র্যাগ জুনিয়র বলেন, “ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্য করে যে পাচারচক্র কাজ করেছে, তার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এই পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ হলেও, হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর কাজ এখনও চলবে। ফিরিয়ে দেওয়া সামগ্রীগুলির মধ্যে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও উচ্চমূল্যের শিল্পকর্ম—
- ব্রোঞ্জ অবলোকিতেশ্বর মূর্তি: মূল্য প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার। রায়পুরের মহন্ত ঘাসিদাস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম থেকে চুরি হয়ে ১৯৮২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়। ২০২৫ সালে একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে উদ্ধার করা হয়।
- লাল বেলেপাথরের বুদ্ধ মূর্তি: মূল্য আনুমানিক ৭.৫ মিলিয়ন ডলার। সুভাষ কপুরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার হয়ে নিউ ইয়র্কের একটি গুদাম থেকে উদ্ধার।
- নৃত্যরত গণেশ মূর্তি: মধ্যপ্রদেশের একটি মন্দির থেকে ২০০০ সালে চুরি হয়। জাল নথির মাধ্যমে বিক্রি হয়ে ২০১২ সালে ক্রিস্টিজ নিলামে ওঠে। চলতি বছরে এক সংগ্রাহক তা স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে দেন।
আন্তর্জাতিক পাচারচক্রে বড় ধাক্কা
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুভাষ কপুরের পাচারচক্রের (US Returns Indian Antiquities) বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ২০২২ সালে ভারতে দোষী সাব্যস্ত হন কপুর এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় প্রধন এই উদ্যোগের জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই নিদর্শনগুলি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬,২০০টি নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার। এগুলি ৩৬টি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হস্তান্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
