Tag: US Senate

US Senate

  • US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ চলে গেল ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর ফলে কংগ্রেসে (US Midterm Elections) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। আগামী দিনে নতুন আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

    নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে (Democrats) বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে হতে পারে।

    প্রশ্ন হল, এরপর কী? নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত একতরফা আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রথম ১০০ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে তারা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা।

    কী রয়েছে পরিকল্পনায়? (US Midterm Elections)

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে মার্কিন শুল্কনীতি প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিল আনা, ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমানোর প্রস্তাব। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নিজেদের সমস্ত প্রস্তাব সহজে আইনে পরিণত করতে পারবেন না। এর পিছনে রয়েছে দু’টি সাংবিধানিক বাধা।

    প্রথমত, সেনেটে কোনও বিল ভোটাভুটির জন্য পেশ করার ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত ৬০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেনেটের মোট আসন ১০০টি। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ৬০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে তাঁদের রিপাবলিকানদের একাংশের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় ও কর সংক্রান্ত বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনা কিছু বিলের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, কোনও বিল কংগ্রেসে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট চাইলে তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তে নামতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা

    নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তমূলক ক্ষমতা এসেছে। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁরা সরকারি নথি তলব করতে পারবেন, সাক্ষীদের হাজিরার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে কংগ্রেসীয় তদন্ত শুরু করতে পারবেন।

    ইতিমধ্যেই ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরাও তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।

    সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “যাঁরা আমেরিকার মানুষের অর্থ চুরি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কিংবা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন থেকেই তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

    ডেমোক্র্যাট দলের একাংশ বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে (US Midterm Elections)।

    গত মাসে মেইনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ বলেন, “প্রথম দিন থেকেই এই সমস্ত সরকারি সংস্থার প্রধানদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।”

    তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের মুখে ট্রাম্প?

    ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের জন্য ইমপিচমেন্টের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সদস্য। তবে এই বিষয়ে দলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস করাতে পারেন। কিন্তু তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে হলে সেনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমর্থন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

    কমলা হ্যারিস এবং হিলারি ক্লিন্টনের মতো ডেমোক্র্যাট নেত্রীরা অবশ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে নন। তাঁদের মতে, এই বিষয়ে শক্তি ব্যয় না করে দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্যে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    তবে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নিশানায় পরিণত হতে পারেন। তাঁকে অভিশংসনের দাবিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব এনেছেন বিদায়ী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি। ইরান, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন-সহ বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে এই প্রস্তাবের সম্পর্ক রয়েছে।

    অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে জেফ্রিস একাধিকবার জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা পিট হেগসেথকে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করবেন।

    গত মাসের শেষ দিকে এক সাক্ষাৎকারে জেফ্রিস বলেন, “প্রেসিডেন্টের উচিত পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। তা না হলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    তবে হেগসেথ কিংবা ট্রাম্প—কারও বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াকে তিনি সরাসরি সমর্থন করেছেন কি না, তা স্পষ্ট (US Midterm Elections) করেননি।

    নতুন কংগ্রেসের আগে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন

    নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হলেও নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারির আগে শপথ নেবেন না। তার আগে বর্তমান কংগ্রেসের সদস্যরা ৯ নভেম্বর থেকে আবার অধিবেশনে বসবেন। তাঁদের সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

    সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সরকারি ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত বিল পাস করানো। কারণ ওই দিনই বর্তমান সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন অর্থ বরাদ্দের বিল পাস না হলে মার্কিন সরকারের একাধিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ফের সরকারি অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এমনটা হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির সময়ে চতুর্থবারের মতো সরকারি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বছরের শেষ দিকে এই ঘটনা আমেরিকার রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিয়োগ-বরখাস্তেও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগের প্রস্তাব সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেলে তবেই কার্যকর হয়।

    ফলে সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের কাছে বড় রাজনৈতিক বাধা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে (Democrats) নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীরা বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন।

    গত সেপ্টেম্বরে ডেমোক্র্যাটদের সেনেট নেতা চাক শুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমরা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাই, কারণ ট্রাম্প যাতে সুপ্রিম কোর্ট এবং নিম্ন আদালতগুলিতে তাঁর পছন্দের চরম রক্ষণশীল বিচারপতিদের নিয়োগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বয়স অবসরের সাধারণ বয়সসীমার অনেকটাই বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স টমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো।

    তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের আগেই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বিচারপতি আলিটো। বিচারপতি টমাসও দায়িত্বে থেকে যেতে চান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (US Midterm Elections)।

    রিপাবলিকানদের হাতে সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতেই তাঁদের অবসরের জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজেদেরই।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প চাইলে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরখাস্ত করে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে পারবেন। কারণ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। ফলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে রদবদলের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

    সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নয়া রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক (Democrats) নিয়োগ এবং সরকারি নীতির বাস্তবায়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে হোয়াইট হাউসকে। আগামী দু’বছর আমেরিকার রাজনীতিতে এই ক্ষমতার ভারসাম্য (US Midterm Elections) কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    সুশান্ত দাস

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দিল মার্কিন সেনেট। ৫০-৪৮ ভোটে সেনেট একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানো বন্ধ করা। ঘটনাটিকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, ১৯৭৩ সালে ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ— হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) বা প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সেনেট— কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস করল। যদিও এই প্রস্তাব অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবে না, তবুও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক গুরুতর রাজনৈতিক সতর্কবার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?

    মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু গত কয়েক দশকে একাধিক প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালিয়েছেন সরাসরি কংগ্রেসের পূর্ণ অনুমোদন ছাড়াই। ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছেন। সেই কারণেই ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটরও এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এই ভোট কেবল ইরান যুদ্ধ নিয়ে নয়; এটি মূলত প্রেসিডেন্ট বনাম কংগ্রেস— কার হাতে যুদ্ধ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে, সেই সাংবিধানিক প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে।

    ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: ‘অর্থহীন ও ভুল সময়ের সিদ্ধান্ত’

    সেনেটে ভোটাভুটির পর ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশাল-এ (Truth Social) তিনি এই প্রস্তাবকে “ভুল সময়ের এবং অর্থহীন” বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে “সাহায্য ও মানসিক সমর্থন” জোগাচ্ছে এবং রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাজকে আরও কঠিন করে তুলছেন। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, তিনি এই ভোটকে কেবল প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

    রিপাবলিকান শিবিরেই ফাটল

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চারজন রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা হলেন— লিসা মার্কাওস্কি, সুজান কলিন্স, র‌্যান্ড পল, বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ফেটারম্যান John Fetterman ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজন দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরে ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছে।

    যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ

    ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে আরেকটি বড় সমস্যা হল যুদ্ধের বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের আবেদন জানিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই খরচ হয়েছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।

    এর ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—

    • ● যুদ্ধ কতদিন চলবে?
    • ● শেষ লক্ষ্য কী?
    • ● মার্কিন করদাতাদের অর্থ কতটা ব্যয় হবে?
    • ● আর এই সংঘর্ষ কি আরেকটি “অনন্ত যুদ্ধ”-এ পরিণত হতে চলেছে?

    ট্রাম্পের নতুন ইরান চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ

    যুদ্ধের পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন ইরান চুক্তিও বিতর্কের কেন্দ্রে।খবরে বলা হয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থী অংশের মতে, যুদ্ধ করে আবার ইরানকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার যুক্তি ভোটারদের কাছে ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে।

    ফলে ট্রাম্প এখন দুই দিক থেকেই চাপের মুখে—

    • ● যুদ্ধপন্থীরা চুক্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট।
    • ● যুদ্ধবিরোধীরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্ট।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য কতটা বিপজ্জনক?

    রাজনৈতিকভাবে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) যত এগিয়ে আসছে, ততই রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের আসন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। ইতিহাস বলছে, দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি যুদ্ধ প্রায়শই ক্ষমতাসীন দলের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    ১. স্বাধীন ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে

    মার্কিন নির্বাচনে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বা নির্দলীয় ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাঁদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে ট্রাম্প কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছেন, তাহলে বহু সুইং স্টেটে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

    ২. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংঘর্ষ

    ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম ভিত্তি ছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। তিনি বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমেরিকাকে আর বিদেশি যুদ্ধের জালে জড়াবেন না। কিন্তু ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিরোধীরা সহজেই প্রশ্ন তুলতে পারবে— “যে নেতা অন্তহীন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনিই কি নতুন যুদ্ধ শুরু করলেন?” এই প্রশ্ন রিপাবলিকান ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশকে বিচলিত করতে পারে।

    ৩. রিপাবলিকান ঘাঁটিতেই বিভাজন

    র‌্যান্ড পলের মতো নেতারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই বিভাজন যদি আরও বাড়ে, তাহলে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    ৪. যুদ্ধের ব্যয় বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে

    মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ এবং বাজেট ঘাটতির মতো অর্থনৈতিক ইস্যুগুলি ইতিমধ্যেই ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে আরও ৮০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ ব্যয় অনুমোদনের প্রশ্ন উঠলে ডেমোক্র্যাটরা এটিকে বড় নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

    কংগ্রেস কি সত্যিই ট্রাম্পকে থামাতে পারবে?

    বাস্তবিক অর্থে এখনই নয়। এই প্রস্তাব মূলত রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। প্রেসিডেন্ট চাইলে এটিকে উপেক্ষা করতে পারেন অথবা ভেটো দিতে পারেন।

    তবে কংগ্রেসের হাতে আরও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে—

    • ● যুদ্ধের অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া,
    • ● প্রতিরক্ষা বাজেটে শর্ত আরোপ করা,
    • ● নতুন আইন পাস করার চেষ্টা করা।

    ফলে যুদ্ধ বন্ধ না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তা স্পষ্ট।

    ট্রাম্পে বাড়ছে অনাস্থা!

    সেনেটের ৫০-৪৮ ভোট শুধু একটি প্রতীকী প্রস্তাব নয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রকাশ্য অনাস্থার বার্তা। ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম কংগ্রেসের দুই কক্ষ একসঙ্গে কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা সরানোর আহ্বান জানাল। তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামবে না, কিন্তু রাজনৈতিক অভিঘাত গভীর। রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল, যুদ্ধের বাড়তি খরচ, ইরান চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন— সব মিলিয়ে ট্রাম্প এমন এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দলের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন একটাই— ইরান যুদ্ধ কি ট্রাম্পের জন্য নতুন বিদেশনীতি সংকট, নাকি সেটাই ২০২৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুর্বলতা হয়ে উঠবে?

LinkedIn
Share