Tag: us

us

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • Indians in Iran: জ্বলছে ইরান, আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    Indians in Iran: জ্বলছে ইরান, আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে (Iran) বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indians in Iran) সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা আমেরিকা (US Strike Threats) পুরোপুরি নাকচ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে বুধবার ভারত সরকার ইরানে বসবাসকারী সব ভারতীয় নাগরিককে যে কোনও উপায়ে সে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নতুন করে ইরান সফর এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

    ইরান থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনার পরিকল্পনা (US Strike Threats)

    জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি ক্রমাগত বদলে যাওয়ায়, যারা দেশে ফিরতে চান, সেই সব ভারতীয় নাগরিকদের (Indians in Iran) প্রত্যাবর্তন সহজ করতে বিদেশমন্ত্রক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছে সরকারি সূত্র (Iran)।জানা গিয়েছে, অসামরিক বিমান ছাড়াও সামরিক পরিবহণ বিমান ব্যবহার করে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে সরকার। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষার্থী-সহ ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় ইরানে বসবাস করছেন। বুধবার তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শিক্ষার্থী, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটক-সহ সব ভারতীয় নাগরিককে যে কোনও উপলব্ধ পরিবহণের মাধ্যমে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে (US Strike Threats)। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার, বিক্ষোভ বা প্রতিবাদী এলাকায় না যাওয়ার এবং দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের হেল্পলাইন

    জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা ভারতীয় দূতাবাসের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন, টেলিফোন: ৯৭২৫৪৭৫২০৭১১, ৯৭২৫৪৩২৭৮৩৯২, ই-মেল: কনস তেলআভিভ@এমইএ.গভ.ইন উল্লেখ্য, এই প্রথম নয় যে ভারত এই ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। গত বছর জুন মাসে মধ্যপ্রাচ্যে (Iran) সামরিক সংঘাতের জেরে উত্তেজনা বাড়ার পর ভারত সফলভাবে ইরান থেকে নিজের নাগরিকদের সরিয়ে এনেছিল। সেই সময় ভারত সরকার ‘অপারেশন সিন্ধু’ চালু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইরানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা (US Strike Threats)।

    ইরানে কী ঘটেছে?

    গত মাসের শেষের দিকে তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন ইরানি মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। পরে এই বিক্ষোভ দেশের ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ইরানে ২,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভ দমনের সময় হত্যাকাণ্ড কমেছে বলে জানানো হলে সামরিক হামলার ইচ্ছা কিছুটা খাটো করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে বর্তমানে বড় ধরনের গণহত্যার কোনও পরিকল্পনা নেই, তবু পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির (US Strike Threats)। আগে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে অপেক্ষা করে দেখার নীতি গ্রহণ করেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি একজন অনিশ্চিত নেতা হিসেবেই পরিচিত (Iran)। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউট থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো পল সেলেম সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প আপাতদৃষ্টিতে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হলেও, তিনি এখনও পুরোপুরি অনিশ্চিত চরিত্রের মানুষ (US Strike Threats)।

  • US Military Withdrawal: আস্তিন গুটোচ্ছে আমেরিকা, আকাশসীমা বন্ধ করল তেহরান, ইরানে হানা কি অচিরেই?

    US Military Withdrawal: আস্তিন গুটোচ্ছে আমেরিকা, আকাশসীমা বন্ধ করল তেহরান, ইরানে হানা কি অচিরেই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই একের পর এক জরুরি পদক্ষেপ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Military Withdrawal)। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা ও কর্মী প্রত্যাহার, ইরানের আকস্মিক আকাশসীমা বন্ধ এবং উভয় পক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি—এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে যে তেহরানের (Iran) ওপর হামলা যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে।

    কর্মী প্রত্যাহার (US Military Withdrawal) 

    বুধবার আমেরিকা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে তাদের কিছু কর্মী প্রত্যাহার করে নেয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা থাকেন। কাতার সরকার জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই এই প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তাদের কর্মীদের ওই উপসাগরীয় আরব দেশটির একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

    কঠোর সতর্কবার্তা জারি

    প্রসঙ্গত, এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে এমন একটা সময়ে, যখন ইরান প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে, বিশেষত, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তেহরান হুমকি দিয়েছে, আমেরিকা যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তবে তারা ওইসব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপত্যগুলির ওপর পাল্টা আঘাত হানবে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন (Iran)।

    “অনিশ্চয়তাই এই কৌশলের একটি অংশ”

    তবে এক পশ্চিমী সামরিক কর্তা সংবাদসংস্থাকে বলেন, এসব ইঙ্গিত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়ই এমন কৌশলগত পদক্ষেপ করে, যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তাই এই কৌশলের একটি অংশ।” উত্তেজনা (US Military Withdrawal) আরও বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ইরান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (NOTAM) জারি করে অধিকাংশ ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়, কেবল অনুমোদিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়া। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশ জারির আগেই ইরান ও ইরাকের আকাশ দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়।

    আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়সীমা

    পরবর্তী কালে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরান আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে। তবে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার সময় ও পরিসর এখনও স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Iran)। ইরান আকাশসীমা বন্ধ করার কিছুক্ষণ আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ইরানে যে হত্যাকাণ্ড চলছিল, তা বন্ধ হচ্ছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথাও বলেন তিনি। ট্রাম্প জানান, অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, এই মুহূর্তে ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ

    তিনি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়টি উড়িয়ে না দিলেও বলেন, ওয়াশিংটন প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়, তা দেখবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ইরানের পক্ষ থেকে তার প্রশাসন একটি খুবই ভালো বক্তব্য পেয়েছে (US Military Withdrawal)।সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা যেন দ্রুত, চূড়ান্ত হয় এবং সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘ সংঘাতের রূপ না নেয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিভিন্ন সূত্রের দাবি, “তিনি যদি কিছু করেন, তবে সেটির চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক হতে চান।” তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাঁকে বোঝাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন যে, একটি হামলাই দ্রুত ইরানি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে (Iran)। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের শক্তিশালী পাল্টা আঘাত মোকাবিলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নাও থাকতে পারে (US Military Withdrawal)।

    অর্থনৈতিক সঙ্কট

    ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কট, রাজনৈতিক দমননীতি এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দমন-পীড়নে অন্তত ২,৬১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসাত্মক ঘটনাগুলির একটি। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, আটক বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে। হিংসার মাত্রা সাম্প্রতিক যে কোনও (Iran) আন্দোলনের চেয়ে বেশি এবং এটি কয়েক দশক আগের বিপ্লবী সময়ের অশান্তির স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে (US Military Withdrawal)।

     

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে (Iran Protests) নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় তিনি “ভীষণভাবে মর্মাহত”। ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

    ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ

    ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। তবে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ২,০০০ জন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান সংস্থাটির মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। সেখানে টুর্ক বলেন, “এই ভয়াবহ সহিংসতার চক্র চলতে পারে না। ন্যায্যতা, সমতা ও বিচারের জন্য ইরানি জনগণের যে দাবি, তা অবশ্যই শোনা উচিত।” নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেন্স বলেন, “ইরানে আমাদের সূত্র অনুযায়ী যে সংখ্যা আমরা শুনছি, তা শত শত।” টুর্ক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।

    ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়

    এদিকে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আবারও দিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, “এই বিক্ষোভকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও দ্বারাই এটি ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।

    ইন্টারনেট বন্ধ কেন

    মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেফতারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

  • Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Drump)। তিনি এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর এবং চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করেছেন (Bilateral Trade)। আমেরিকার এই ঘোষণার ফলে ভারতের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুতর চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা অভিজ্ঞমহলের। বিদ্রোহের জেরে কার্যত জ্বলছে ইরান। তার মধ্যেই শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। মার্কিন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০-এর বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    ভারতের ওপর প্রভাব (Donald Drump)

    প্রশ্ন হল, ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে? ভারত ইরানের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে অন্যতম। নয়া এই শুল্ক ভারতের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ভারত–ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রফতানি ১.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের আমদানি ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (Bilateral Trade)। ইরানে ভারতের প্রধান রফতানি করা পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে, বাসমতী চাল, চা, চিনি, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য। অন্যদিকে, ভারত মূলত আমদানি করে জৈব রাসায়নিক, শুকনো ফল ও বাদাম এবং খনিজজাত পণ্য (Donald Drump)।

    শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে

    বর্তমানে ভারতীয় রফতানিকারীরা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য আরোপিত ২৫ শতাংশ জরিমানাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সংক্রান্ত নয়া এই শুল্ক যুক্ত হলে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বস্ত্র শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, রত্ন ও গয়না শিল্প এবং হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র রফতানিকারী খাত (Bilateral Trade)। ট্রাম্পের এহেন সিদ্ধান্তে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্পও জটিলতার মুখে পড়তে পারে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। কিন্তু নয়া শুল্ক নীতির ফলে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে (Donald Drump)।

    ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক নীতির আওতায় চিন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও রয়েছে। এই দেশগুলির সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে (Bilateral Trade) নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে (Donald Drump)।

  • RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেক্স: সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো (US Treasury Bonds) হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি দফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে আরবিআইয়ের কাছে থাকা মার্কিন বন্ডের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪১.৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রায় ৫০.৭ বিলিয়ন ডলার কমেছে বিনিয়োগ। সার্বিকভাবে ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ২১ শতাংশ মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ কমিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সময়ের মধ্যেই ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৮ শতাংশে পৌঁছেছে (US Treasury Bonds)।

    মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমাল ভারত (RBI)

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সোনার ভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক (RBI)। বর্তমানে আরবিআইয়ের কাছে থাকা সোনার পরিমাণ প্রায় ৮৮০.১৮ মেট্রিক টন। ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। বর্তমানে ভারতের মোট বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার প্রায় ৬৮৭ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৩.৬ শতাংশই সোনা। গত বছর এই হার ছিল মাত্র ৯.৩ শতাংশ (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআইয়ের এই সোনা কেনার প্রবণতা বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলিতে চিন, ব্রাজিল ও সৌদি আরব-সহ একাধিক দেশ সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর পেছনে সম্ভাব্য মার্কিন ডলারের অস্থিরতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা মার্কিন ঋণ পরিষেবা খরচ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। অনুমান করা হচ্ছে, শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    লক্ষ্য ডলার-নির্ভরতা কমানো

    অন্যদিকে, একই (RBI) সময়ে ব্রিটেন, বেলজিয়াম, জাপান, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) তাদের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়েছে (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপকে ডলারনির্ভরতা কমানো হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি মূলত পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ ও পুনর্গঠনের কৌশল, যার মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে (RBI) দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে আরবিআই (US Treasury Bonds)।

  • Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! আমেরিকার দাদাগিরি রুখতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে রাশিয়া (Russia)। সেই কারণেই ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (INSTC)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাশত–আস্তারা রেলপথের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিল ইরান ও রাশিয়া। সংবাদ মাধ্যম সূত্রেই এই খবর মিলেছে।

    ইরান-রাশিয়া বৈঠক (Russia)

    সম্প্রতি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষই আইএনএসটিসি করিডরকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে, তারা করিডরটি সক্রিয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলি লারিজানি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সমস্ত বাধা দ্রুত দূর করা হবে।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনি ও পরিচালন সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি কার্যকর করা যায়।

    জমি অধিগ্রহণ

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সরকার চলতি (Russia) ইরানি অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ রাশত–আস্তারা রেলপথের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে না যায়। এদিকে, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভ ইরানের এই দৃঢ় অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “রাশিয়া দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে এবং রেল প্রকল্প শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে, আইএনএসটিসি করিডরের আওতায় সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া, ইরান ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আন্তঃসরকারি চুক্তির মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের ভিত্তি স্থাপন হয়। বর্তমানে আজারবাইজান, ভারত, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক-সহ মোট ১৩টি দেশ এই চুক্তি অনুমোদন করেছে (Russia)।

    করিডরের মূল লক্ষ্য

    এই করিডরের মূল লক্ষ্য হল, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে, পাশাপাশি উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপে পণ্য পরিবহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে এই রুটে ভারতে পণ্য পৌঁছতে সময় লাগে ছ’সপ্তাহের মতো। তবে করিডরটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে এই সময়সীমা কমে মাত্র তিন সপ্তাহে দাঁড়াবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গত, নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজভিন–রাশত রেলপথ চালু হয় ২০১৯ সালের ৬ মার্চ। এই রেলপথের মাধ্যমে আজারবাইজানের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানের রেল যোগাযোগ সুগম হয়েছে। করিডরের পরবর্তী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইরানের ভূখণ্ডে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নর্থ–সাউথ করিডর

    ইরানের ভেতরে নর্থ–সাউথ করিডরের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। পূর্ব দিকটি তুর্কমেনিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সংযুক্ত। মধ্য দিকটি কাস্পিয়ান সাগর অতিক্রম করে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। আর পশ্চিম দিকটি আজারবাইজান, জর্জিয়া, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে (Russia)। এই প্রেক্ষাপটে, ২০২৩ সালের ১৭ মে রাশিয়া ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণ করা হবে। প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনে মোট ৯টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশত–আস্তারা রেলপথ সম্পন্ন হলে নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক করিডরের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ইরানের রেল নেটওয়ার্ক ককেশাস অঞ্চলের দেশ, রাশিয়া এবং উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।

    রেলপথ নির্মাণে রাশিয়ার লগ্নি

    চুক্তি অনুযায়ী, এই রেলপথ নির্মাণে রাশিয়া প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি ৪৮ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ এবং ইউরেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমি দুনিয়ার চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে রাশিয়া এবং ইরান। এর জেরে দিন দিন পঙ্গু হচ্ছে মস্কো ও তেহরানের অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা প্রত্যাঘাতে ওয়াশিংটনের যাবতীয় ছক ভেস্তে দিতে পূর্বতন পারস্য দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে নেমেছে পুতিন সরকার। এই রেলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নয়া রূপ দিতে পারে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের (Russia)।

  • Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে এখনও যারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে, সেই সব দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত (Tariff Threat)। শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (US)।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Tariff Threat)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমরা প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে অবগত। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের বাস্তবতার ভিত্তিতে। জয়সওয়াল বলেন, “জ্বালানি উৎস সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান সুপরিচিত। বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই আমাদের পথনির্দেশ করে, যাতে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় (Tariff Threat)।”

    মার্কিন সেনেটরের প্রতিক্রিয়া

    বিদেশমন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই। গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে’ সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে (US)। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে গ্রাহাম বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটি অনুমোদন করেন। ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন শুধু কথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেবে, যারা সস্তায় রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধাস্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে (Tariff Threat)।” গ্রাহামের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই বিলটি দ্বিদলীয় ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে।

    ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’

    এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন সেনেটর বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে। ওই তেল থেকেই পুতিন ইউক্রেনে গণহত্যার অর্থ জোগাচ্ছেন। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিলের পক্ষে শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন মিলবে (US)।” মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিলটির নাম ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার ওপর শুল্কের হার কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের (Tariff Threat)।

LinkedIn
Share