মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির উত্তম নগরে (Uttam Nagar Violence) গত ৪ মার্চ হোলি খেলার সময় বেলুন ছোড়াকে কেন্দ্র করে হওয়া বিবাদে ২৬ বছর বয়সি তরুণ খাটিক নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, “একটি ছেলে যেমন খুন হয়েছেন তেমনি অপরে আরেকটি পরিবারও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।” স্পষ্ট ইঙ্গিত অভিযুক্তদের বাড়িতে বুলডোজার নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ (Rahul Gandhi)
রাহুল গান্ধী পোস্টে দাবি করে লিখেছেন, “উত্তম নগরে একদিকে যেমন তরুণ প্রাণ হারিয়েছে, অন্যদিকে একটি পরিবার নিপীড়নের শিকার হয়েছে।” রাহুল গান্ধী এখানে অভিযুক্তদের পরিবারকেও সমানভাবে শিকার বা ভিক্টিম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যা নিহতের পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক। এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের মানুষ।
বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এবং অন্যান্য নেতারা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) কেবল ‘নির্বাচিত সংবেদনশীলতা’ (Selective Outrage) এবং ‘ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি’ করার চেষ্টা করছেন বলে তোপ দেগেছেন। বিজেপির দাবি, একজন দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যার (Uttam Nagar Violence) ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই রাহুল উভয় পক্ষকে সমানভাবে দায়ী করার চেষ্টা করছেন।
তবে রাহুল গান্ধী এই ঘটনাকে বিজেপি এবং তার ইকোসিস্টেমের ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার দেশে দাঙ্গা-সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করে জনগণের নজর মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে।
কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা?
ইদ এবং রামনবমীকে সামনে রেখে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে উত্তম নগরে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। ড্রোন দিয়ে নজরদারি এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এত উত্তেজনার মাঝেও গত ২১ মার্চ উত্তম নগরে শান্তিপূর্ণভাবে ইদ পালিত হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মীদের ওপর গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের (Uttam Nagar Violence) ঘটনায় ইতিপূর্বেই ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তবে রাহুল (Rahul Gandhi) এই পদক্ষেপকে ‘তোষণ রাজনীতি’ এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করার কথা বলে রাজনীতির একাংশ ব্যাপক ভাবে সরব হয়েছেন। এখন স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের সহযোগিতায় শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
