Tag: Uttar Pradesh

Uttar Pradesh

  • ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে মসজিদ (Saharanpur Mosque) ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি পুরনো কাঠামো। প্রত্নতাত্ত্বিকদের (ASI Probe) প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেটি পুরনো কুয়োর মতো বলে মনে করা হচ্ছে। কাঠামোটিতে ব্যবহৃত হয়েছে লখৌরি ইট, চুন-সুরকি ও চুন। ফলে এর বয়স, নির্মাণের উদ্দেশ্য এবং ওই এলাকার অতীত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ কাঠামোটির সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনার সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেনি।

    ৬ সেপ্টেম্বর এই কাঠামোটির সন্ধান মেলে। তার এক দিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশের পর সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ভাঙার পর ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের নজরে আসে মাটির নীচে থাকা একটি শক্ত পাটাতনের মতো অংশ। সেটি কেটে সরানোর পর নীচে একটি গভীর কাঠামো চোখে পড়ে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ (ASI Probe)

    বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই এলাকাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা, মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। কাঠামোটির প্রকৃতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    ৭ সেপ্টেম্বর লখনউ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের সহকারী প্রত্নতাত্ত্বিক আধিকারিক মনোজ কুমার যাদব ঘটনাস্থলে পৌঁছন। একটি মই ব্যবহার করে তিনি মাটির নীচে থাকা কাঠামোটির ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তিনি ভিতরের অংশ, নির্মাণপ্রণালী এবং কাঠামোটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খতিয়ে দেখেন।

    প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কাঠামোটিকে পুরনো কুয়োর মতো মনে হয়েছে। তবে আধিকারিকেরা এখনও চূড়ান্তভাবে একে কুয়ো বলে ঘোষণা করেননি। কারণ কাঠামোটির ভিতরে যথেষ্ট পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে। সেই ধ্বংসাবশেষ সম্পূর্ণভাবে সরানোর পরই এর প্রকৃতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামো

    প্রাথমিক প্রত্নতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, কাঠামোটির গভীরতা প্রায় ২০ ফুট এবং ব্যাস প্রায় ৩ ফুট। নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে লখৌরি ইট। উত্তর ভারতে মধ্যযুগের শেষভাগ এবং প্রারম্ভিক আধুনিক যুগের বহু স্থাপনায় এই ধরনের পাতলা ইট ব্যবহারের নজির রয়েছে। কাঠামোটির ভিতরে চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি গাঁথুনি এবং চুনের প্রলেপের চিহ্নও দেখা গিয়েছে।

    নির্মাণের ধরন দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আপাতত এটিকে পরবর্তী মধ্যযুগীয় সময়ের সঙ্গে যুক্ত করছেন। কিছু প্রাথমিক মূল্যায়নে কাঠামোটির বয়স ২০০ থেকে ২৫০ বছর হতে পারে বলে অনুমান। তবে এই বয়স এখনও নিশ্চিত নয়। ইটের মাপ, গাঁথুনির ধরন, চুনের প্রলেপ, মাটির স্তর এবং আশপাশের অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরীক্ষা করার পরেই কাঠামোটির প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হবে (ASI Probe)।

    এই আবিষ্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ কাঠামোটি মসজিদের নীচে এতদিন সম্পূর্ণভাবে আড়ালে ছিল। মসজিদটি ভেঙে ধ্বংসাবশেষ সরানোর পরই সেটি প্রকাশ্যে আসে। ফলে মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় কী ছিল, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

    হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা!

    ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা বা মন্দির থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগও এখনও কাঠামোটিকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করেনি। ফলে মন্দির থাকার দাবি এবং মাটির নীচে পাওয়া কাঠামোর মধ্যে সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয় (Saharanpur Mosque)।

    কাঠামোটি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা প্রাক্তন বজরং দলের আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগীর দাবি, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় একটি মন্দির থাকতে পারে। নতুন কাঠামো আবিষ্কারের পর তাঁর সেই দাবি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে প্রশাসন বা প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের তদন্তে এখনও ওই দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কাঠামোটিকে ঘিরে থাকা মাটির বিভিন্ন স্তর। মাটির স্তর বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হবে, কাঠামোটি কখন নির্মিত হয়েছিল, কতদিন ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কখন সেটি পরিত্যক্ত হয়। পরে সেটি মাটির নীচে চাপা পড়েছিল কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে তার উপর কোনও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে (ASI Probe)।

    যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের

    প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আরও জানতে চাইছেন, কাঠামোটি আদৌ একটি স্বতন্ত্র জলাধার বা কুয়ো হিসেবে নির্মিত হয়েছিল কি না। এটি কোনও পুরনো বসতির অংশ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। আশপাশের মাটিতে পুরনো নির্মাণের চিহ্ন, ইট, গাঁথুনি বা অন্য কোনও অবশেষ পাওয়া গেলে কাঠামোটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

    কাঠামোটির নির্মাণপ্রণালীও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লখৌরি ইট, চুন-সুরকি এবং চুনের প্রলেপ কোন সময়ের নির্মাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ইটের আকার ও বিন্যাসের সঙ্গে ওই অঞ্চলের পুরনো স্থাপত্যের তুলনাও করা হতে পারে। এই ধরনের তথ্য কাঠামোটির আনুমানিক বয়স নির্ধারণে সাহায্য করবে।

    সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত অননুমোদিত কাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন শহরের ম্যাজিস্ট্রেট। মসজিদ পরিচালন কমিটি সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। পরে জেলা আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে (ASI Probe)।

    ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে নয়া মাত্রা

    এই জমি দখল এবং সরকারি জমি ব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শহরের ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এখন মাটির নীচে পাওয়া নতুন কাঠামো ওই জায়গার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Saharanpur Mosque)।

    মসজিদ ভেঙে ফেলার পর যে জায়গাটি প্রথমে শুধুমাত্র একটি ধ্বংসস্থল বলে মনে হচ্ছিল, নতুন আবিষ্কারের ফলে সেটিই এখন সম্ভাব্য প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কাঠামোটি শেষ পর্যন্ত শুধুই একটি পুরনো কুয়ো হিসেবে চিহ্নিত হয়, নাকি কোনও বৃহত্তর ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা পুরনো বসতির অংশ হিসেবে সামনে আসে, তা জানা যাবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই (ASI Probe)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা, বৈষম্য ও বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অন্তত এমনই দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Hindus Under Attack)। খুন, ধর্মান্তরে চাপ, জমি দখল, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে (Weekly Roundup)।

    প্রতিবেদনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঘটলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে এর ব্যাপকতা ও গভীরতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে হিন্দুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোট (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোটে জানানো হয়েছে, ভারতে এবং বিদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি তুলে ধরাই এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও হিন্দুরা বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন—এই বাস্তবতা সামনে আসা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

    প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বধর্মসমভাব এবং “বসুধৈব কুটুম্বকমে”র মতো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, এর কয়েকটি ধারণাকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অতিরিক্ত সহনশীলতার ফলে কিছু বিদ্বেষমূলক অপরাধ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। হিন্দু সমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

    ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়কালের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    মেঘালয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ

    মেঘালয়ে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গির্জার প্রভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর একাংশ পদ্ধতিগত জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের একটি সমাবেশের পর অসমীয়া ও বাঙালি বাসিন্দা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এগুলির অধিকাংশই অসম থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে। বাঙালি ও অসমীয়াদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং শারীরিক হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ও মূর্তিতেও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

    হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রচারপত্র

    তামিলনাড়ুর হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে নারকেল ভাঙা, চুলে ফুল পরা, কর্পূর ও ধূপজাতীয় সামগ্রী ব্যবহার-সহ বিভিন্ন প্রচলিত আচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রচারপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    মুম্বইয়ে গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    মুম্বইয়ের মাজগাঁওয়ে গণেশ মণ্ডলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শোভাযাত্রার সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছুড়ে দেন। ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    বরলক্ষ্মী ব্রত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক

    দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাদার একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া চিন্ময়ী হিন্দু নারীদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো রমজান-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে তিনি লিখেছিলেন, “রমজানের উপবাসে থাকা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উপবাস ভাঙার আগে পর্যন্ত তাদের সামনে খাওয়া বা পান না করি।”

    টিপু সুলতানকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কমাগালুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ ফুট উচ্চতার টিপু সুলতানের প্রতিকৃতি-সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে পাক সেনা ও মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল (Weekly Roundup)।

    আফরিদ নামে ওই যুবককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    স্কুলের দেওয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান

    পাঞ্জাবের বঠিন্ডা জেলার জয় সিংহ ওয়ালা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল এবং অন্য একটি দেওয়ালে “শহিদ দিলাওয়ার বাব্বর” এবং শিখস ফর জাস্টিসের উল্লেখ-সহ উসকানিমূলক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষা বাজেট নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে বাজেট কমে যাওয়া এবং মারাঠি-মাধ্যমের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের বক্তব্য, নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য বরাদ্দ অর্থের সামান্য অংশও যদি ওই স্কুলগুলির জন্য ব্যবহার করা যেত, তাহলে বেশ কয়েকটি স্কুলকে রক্ষা করা সম্ভব হত। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে হজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও গির্জার জন্য সরকারি অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মাদ্রাসার অর্থায়ন খতিয়ে দেখছে এটিএস

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব, অর্থের উৎস এবং পড়ুয়াদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসার অর্থের উৎস, আয়-ব্যয় এবং সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঈদ-ই-মিলাদ মিছিল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর বাসবনগুড়ি এলাকায় ঈদ-ই-মিলাদ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলের বলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন হিন্দু যুবকের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে হামলার শিকার হিন্দু যুবক এবং ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পরিকল্পিত আমেরিকা সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    সংস্থাটি আরএসএসের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার” অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান আসিফ মাহমুদের পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে লেখকদের অভিমত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈরিতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিদ্বেষ দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না এবং প্রচলিত আইন ও নীতির ধরন বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণের দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হলেও, হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির মধ্যে থাকা সামঞ্জস্যহীনতা বিবেচনা করলে বিষয়টি নতুনভাবে দেখা (Weekly Roundup) প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটির এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে (Hindus Under Attack)। হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—বিভিন্ন ধরনের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে সাপ্তাহিক এক প্রতিবেদনে (Roundup Week)। ২৬ জুলাই থেকে ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতে একাধিক ঘটনা নিয়ে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ চলাকালীন জেলে থাকা ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের প্রশংসাসূচক লেখা-সহ উসকানিমূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের আড়ালে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিবিসির ভারতীয় সংবাদকর্মী গীতা পাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হিন্দু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহাকুম্ভকে “দৃশ্য প্রদর্শনী”, রামমন্দিরকে “ধ্বংস করা মসজিদ” এবং “জয় শ্রী রাম”-কে “হত্যার স্লোগান” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    অবৈধ ধর্মান্তর

    উত্তরপ্রদেশে অবৈধ খ্রিস্টান ধর্মান্তর কার্যকলাপের অভিযোগে একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। লখনউয়ের মোহনলালগঞ্জ এলাকা থেকে পরিচালিত ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত যাজক ড্যানিয়েল এবং তাঁর স্ত্রীও রয়েছেন। তামিলনাড়ু থেকে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল এবং প্রলোভন ও সংগঠিত প্রার্থনাসভার মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষকে ধর্মান্তরের জন্য নিশানা করা হত বলে দাবি পুলিশের। শিক্ষা সংস্কার এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন-উত্তর সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের রূপ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির বক্তব্য ছিল হিন্দু-বিরোধী এবং মুসলিমপন্থী। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    হিন্দু ধর্ম অবমাননা!

    দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বলে সন্দেহ করা ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। উপ-পুলিশ কমিশনার রোহিত রাজবীর সিংয়ের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং এডিটেড সরকারি বিবৃতি ব্যবহার করে জনমত বিভ্রান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য একটি আন্তঃসীমান্ত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেদকরা। বিজেপির সমালোচনার আড়ালে তিনি ধারাবাহিকভাবে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রধান বিচারপতির সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অভিজিৎ দীপকেকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    হিন্দু ‘সেজে’ বিপাকে মনোয়ার আনসারি

    ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার বারহেটের বাসিন্দা মনোয়ার আনসারির বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে রাঙ্গার এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রলোভিত করার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির মায়ের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে মনোহর বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে। আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে মেয়েটির বয়ানও (Roundup Week)। এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ভয়াবহ এক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শোয়েব, সালমান এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হোটেল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসার সময় জনৈক হিমাংশু পটেল, দেবেন্দ্র পটেল এবং নির্দোষ রাঠোর তাঁর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন বলে (Hindus Under Attack) অভিযোগ। শারীরিক ও মানসিক আঘাতে জর্জরিত নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী শেষমেশ আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ভি কামাকোটিকে উদ্দেশ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি “গোমূত্র” শব্দ ব্যবহার করে কটাক্ষ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক তরুণীকে ভুয়ো পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের মা ও মাসির হুমকির পর ওই তরুণী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আরমান, তাঁর মা ও মাসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কর্নাটকে হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির গুরু পূর্ণিমা মহোৎসব নিয়ে এসডিপিআই নেতা আশরাফের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বান্টওয়াল থানায় অভিযোগ দায়ের করে তিনি আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং গুরু পূর্ণিমার অনুষ্ঠানকে “দেশ-বিরোধী” বলে অভিহিত করেন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও ভক্তরা।

    হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনটির দাবি, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। আইন, সরকারি নীতি এবং সামাজিক আচরণের দীর্ঘমেয়াদি ধারা বিশ্লেষণ করলে এর উপস্থিতি বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, বৃহত্তর পরিসরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির (Roundup Week) মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ও বৈষম্যের ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে (Hindus Under Attack) বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

     

  • Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে বছর সত্তরের এক ব্যবসায়ীকে (Bareilly Businessman Murder) নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বছর উনিশের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে (Mohammad Arman)। ধৃতের দাবি, একটি “জিন” তাকে রক্ত ঝরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সামনে যাকে প্রথম সে পেয়েছিল, তাকেই হত্যা করে বলে জেরায় জানিয়েছে অভিযুক্ত। যদিও পুলিশ স্পষ্ট করেছে, অভিযুক্তের এই দাবি এখনও প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাঁটতে বেরিয়ে খুন (Bareilly Businessman Murder)

    নিহত সিয়ারাম শ্রীবাস্তব গত ২৪ জুলাই সকালে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। বেরেলির ভোজিপুরা এলাকার ধৌরাতান্ডা জাতীয় সড়কের কাছে হাঁটতে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজখবর শুরু করেন। পরে রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক ডজনেরও বেশি বার কোপানো হয়েছিল। বেরেলির প্রবীণ পুলিশ সুপার অনুরাগ আর্যের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে প্রতিবেশীদের দিকটি খতিয়ে দেখা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি। এরপর বিশেষ অভিযানকারী দল, স্থানীয় পুলিশ এবং অপরাধ দমন শাখা এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহম্মদ আরমানকে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের সঙ্গে অভিযুক্তের গতিবিধি এবং তার গাড়ির মিল পাওয়া যায়। এরপর গ্রেফতার করা হয় তাকে।

    রক্ত চাইত জিন!

    জেরায় আরমান জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সে একটি “জিনে”র কণ্ঠস্বর শুনতে পেত। তার দাবি, ওই অদৃশ্য সত্তা বারবার রক্ত চাইত এবং শেষ পর্যন্ত সামনে যাকে প্রথম দেখবে, তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি, সেই নির্দেশ মেনে আরমান প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে সিয়ারামকে ধাক্কা মারে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর আঘাত করে তাঁকে খুন করে। তবে এই বর্ণনা মূলত অভিযুক্তের জবানবন্দির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে তা মেলে কি না, তা ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে (Bareilly Businessman Murder)। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর আরমান একটি ধর্মীয় স্থানে গিয়ে ধূপ জ্বালায়। তার বিশ্বাস ছিল, সে “জিনে”র রক্তের চাহিদা পূরণ করেছে। পরে বাড়ি ফিরে বাবাকে পুরো ঘটনাটি জানায়। পুলিশের অভিযোগ, ছেলে খুন করার কথা স্বীকার করার পরেও তার বাবা ইমতিয়াজ আহমদ পুলিশকে খবর দেননি। বরং প্রমাণ নষ্ট করতে এবং অপরাধের তথ্য গোপন করতে ছেলেকে সাহায্য করেন। এই অভিযোগে ইমতিয়াজ আহমদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা (Mohammad Arman) ধারালো অস্ত্র এবং সেই গাড়িটিও উদ্ধার করেছে, যেটি দিয়ে প্রথমে সিয়ারামকে ধাক্কা মারা (Bareilly Businessman Murder) হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

     

  • Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ আবারও ‘লাভ জেহাদ’ (Love Jihad) বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে উঠে এসেছে ছদ্মবেশ ধারণ, মিথ্যা পরিচয় ও বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন এবং ধর্মান্তরের মতো একাধিক অভিযোগ। দেশজুড়ে এমনই কিছু ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

    ইন্দোরে ‘ভুয়ো’ বজরং দল নেতা গ্রেফতার

    ১১ জুলাই গ্রেফতার করা হয় ফারহানকে। অভিযোগ, নিজেকে ‘বজরং দল’-এর স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে (Fake Identity) এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে ফারহান। ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ‘গোলু সোলাঙ্কি’ নাম নেয়। কিন্তু যখন ফারহানের আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায়, তখন সে মেয়েটিকে জোর করে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ফারহানের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং মধ্যপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

    বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেল রেলকর্মীর

    ২০২৬ সালের ৮ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ে এক বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ওঠে এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে, ওই রেলকর্মী ভুয়ো হিন্দু পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্ত প্রথমে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। এরপর সেই ভিডিও দেখিয়ে প্রায় ছ’বছর ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। মহিলার বিয়ের পরেও তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। মহিলার স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি ধর্মান্তরের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    তেহরিতে নাবালিকাকে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরাখণ্ডের তেহরি জেলার জিউদানা গ্রামে এক নাবালিকা হিন্দু ছাত্রীকে প্রতারণা ও শোষণের অভিযোগে মহম্মদ জাসিম আনসারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, তিনি সোশ্য়াল মিডিয়ায় নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে (Fake Identity) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করেন এবং তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বন্দুকের মুখে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ পুলিশের কাছে এক হিন্দু তরুণী অভিযোগ করেন এক দম্পতি এবং এক স্থানীয় মৌলবী তাঁকে বাড়িতে ডেকে বন্দুক দেখিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত করেন। অভিযোগ, তাঁকে কয়েক দিন ধরে সেখানে আটকে রাখা হয়। সেই সময় তাঁকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানি করা হয় এবং জোর করে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়। ঘটনার পর ওই তরুণী সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) সতপাল আন্তিলের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে এসএসপি মাজহোলা থানাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

    সাহারানপুরে সুফিয়ান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে সুফিয়ান খান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মান্ডি থানার পুলিশ। এক হিন্দু নাবালিকাকে ক্রমাগত উত্যক্ত করা ও অত্যাচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করছিল এই সুফিয়ান। অভিযোগ, সুফিয়ান সব সময় ওই নাবালিকার পিছু নিত। তার পরিবার প্রতিবাদ করতে গেলে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তদন্তে নেমে পুলিশ মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ পায়। এর ভিত্তিতে পুলিশ বেআইনি ধর্মান্তরকরণ আইনের পাশাপাশি নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের কঠোর ধারা যুক্ত করেছে।

    সেনা জওয়ান সেজে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই বিহারের মুজফ্ফরপুরে মহম্মদ আরমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বছর একুশের এক হিন্দু তরুণী। অভিযোগ, আরমান নিজেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেন। পরে তরুণী জানতে পারেন, আরমান সেনাবাহিনীতে কর্মরত নন, তিনি একটি টায়ার মেরামতির দোকানে কাজ করেন এবং তিনি বিবাহিত। অভিযোগ এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে আরমান এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওই তরুণীকে মারধর করেন, জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন, অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

    হারদোইতে নাবালিকাকে প্রলোভন ও অপহরণ

    ২০২৬ সালের ৬ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হারদোইয়ে ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ ওঠে ফিরোজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফিরোজ নাবালিকাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে তাঁকে তেনদুয়া গ্রামের একটি পেট্রল পাম্পের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। নাবালিকা পরে পুরো ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান। বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাবালিকাদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইনে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ পুলিশ দল গঠন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

    বেআইনি ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে দারুল উলুম রহিমিয়া মাদ্রাসার প্রধান মৌলানা হাফিজুর রহমান আনসারি এবং তাঁর ছেলে জুবায়ের আনসারির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তর পরিচালনার অভিযোগে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবা-ছেলে মিলে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও বিভ্রান্ত করে স্থানীয় হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করতেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইন, ২০২১-এর অধীনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।

    ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহারের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহার করে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযোগ, সাজিদ নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। মহিলা থানার পুলিশ প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্যে তদন্ত চালায়। পরে গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভেদ গ্রাম থেকে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    নাবালিকা কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে ধরা পড়ার অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের খানপুর এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেলের ঘরে আলম নামে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরীকে দেখতে পেয়ে হোটেলের কয়েকজন কর্মী পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম মানেনি। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান এবং নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেলের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে, নাবালিকাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় এবং আলম ও হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

    কাতারে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ধর্মান্তরকরণের গভীর ষড়যন্ত্র

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ায় ১৩ বছর বয়সি এক হিন্দু নাবালিকাকে পাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। নাবালিকার বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, নাবালিকাটি একটি স্থানীয় নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেত। সেখানেই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে তাঁকে কাতারের দোহায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। মামলায় বেআইনি ধর্মান্তরবিরোধী আইন-সহ মোট ১১টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ (Ayodhya New Mosque) মামলার নিরসন হয়েছিল ২০১৯ সালে। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল (Fundraising Challenges)। জমির পরিমাণ পাঁচ একর। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে হিন্দু পক্ষের দাবি করা জমিতেই গড়ে ওঠে রাম মন্দির। সরকারের দেওয়া ওই জমিতে একটি আধুনিক মসজিদ-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল মুসলিম পক্ষরা। তারপর কালের নিয়মে মানুষের মনে ফিকে হয়ে গিয়েছে অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিতর্কের রং। রামের জন্মভূমিতে গড়ে উঠেছে সুদৃশ্য মন্দির। জাঁকজমক করে হয়েছিল মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন।  করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। তার পর থেকে ভারতের পর্যটন মানচিত্রে ঠাঁই করে নিয়েছেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের আপন দেশ।

    সরকারের দেওয়া জমিতে হয়নি মসজিদ (Fundraising Challenges)

    অথচ, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, এখনও যোগী সরকারের দেওয়া জমিতে মসজিদ তৈরি হয়নি।  সম্প্রতি প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় না হওয়ায় আগের বিরাট পরিকল্পনা বাতিল করে অনেক ছোট পরিসরে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাম জন্মভূমির বিতর্কিত জমি হিন্দু পক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয়, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্‌ফ বোর্ডকে অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর বিকল্প জমি দিতে হবে, যাতে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা যায়। আদালতের এই নির্দেশের পর ওই জমিতে শুধু একটি মসজিদ নয়, একটি বহুমুখী হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, কমিউনিটি কিচেন এবং অন্যান্য সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় মুসলমানদের পক্ষ থেকে।

    কী বলছে আইআইসিএফ

    সম্প্রতি, আইআইসিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আগের সেই বিরাট পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংস্থার চেয়ারম্যান জুফর আহমদ ফারুকি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহের অভাব রয়েছে। যে পরিমাণ অনুদান পাওয়া গিয়েছে, তা মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই এখন আমরা আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক ছোট একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত (Ayodhya New Mosque) নিয়েছি।” ফারুকির বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনা মতো মসজিদ গড়তে গেলে প্রয়োজন হবে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা। অথচ, এখনও পর্যন্ত জোগাড় হয়েছে সাকুল্যে দেড় কোটি টাকার মতো। ফলে প্রকল্পের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক অংশ আপাতত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম (Fundraising Challenges)।

    সম্প্রদায়ের মধ্যেই মতপার্থক্য

    এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে না যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড়ে ব্যর্থতা। শুধু তা-ই নয়, মুসলমান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই এখনও মনে-প্রাণে এই মসজিদের কনসেপ্ট সমর্থন করেন না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই স্বপ্নের মসজিদ গড়তে যে ফান্ডের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা যায়নি। মুসলিম সমাজের একাংশের বক্তব্য, বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, এবং সেই কারণেও অর্থ সংগ্রহে আসেনি প্রত্যাশিত গতি (Ayodhya New Mosque)। জমি বরাদ্দ হওয়ার পর পাঁচ বছর কেটে গেলেও, মসজিদ তৈরি না হওয়ার কারণ নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত মহলে। ভাষ্যকারদের একাংশের দাবি, বাবরি মসজিদ মামলার রায় মুসলিম সমাজের একটি অংশ এখনও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তাদের মতে, সেই কারণেই বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ পাচ্ছে না প্রত্যাশিত জনসমর্থন। অবশ্য, এই ব্যাখ্যাকে সর্বজনস্বীকৃত হিসেবে দেখা হয় না। কোনও কোনও বিশ্লেষকের মতে আবার, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, দাতাদের অগ্রাধিকার এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমজনতার আগ্রহ কমে যাওয়াও, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে (Fundraising Challenges)।

    “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ”

    এহেন আবহে “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ” ধারণাটিও বারবার উঠে আসছে। ইসলামি আইন অনুযায়ী, কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে নিবেদিত হলে তা ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে এই ধারণার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যেও মতদ্বৈততা রয়েছে। ফলে এই নীতিকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের সকলের অভিন্ন অবস্থান রয়েছে—এমন অতিসরলীকরণ দাবি আদৌ করা যায় না (Ayodhya New Mosque)। অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বহু দশকের আইনি বিরোধের অবসান হয়েছে, এবং রাম মন্দির নির্মাণ সেই রায়েরই বাস্তব প্রতিফলন। তাদের দাবি, এখন সকল পক্ষের উচিত আদালতের রায়কে চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে (Fundraising Challenges) যাওয়া।

    ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    যদিও, ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় ভূমি কিংবা ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যুক্তি তুলে ধরে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, প্যালেস্তাইন এবং স্পেনের আন্দালুসিয়া প্রসঙ্গও টানা হয়েছে। তাঁদের মতে, বহু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর কাছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কোনও ভূখণ্ডের দাবি ছেড়ে দেওয়া তারা সহজে মেনে নেয় না। অবশ্য, এই ধরনের ব্যাখ্যা সর্বজনস্বীকৃত নয়। ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই বিষয়েও ভিন্নমত রয়েছে। বহু মুসলিম ধর্মীয় নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আদালতের রায় মেনে নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ফলে সমগ্র মুসলিম সমাজের অবস্থানকে একরৈখিক হিসেবে দেখার সুযোগই নেই।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। তারপর থেকেই সেখানে প্রতিদিন বিপুল ভক্ত সমাগম হচ্ছে। আর, ধন্নিপুরে বিকল্প মসজিদ প্রকল্প এখনও নির্মাণপর্বেই পৌঁছতে পারেনি। ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা (Fundraising Challenges)। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে অনুদান সংগ্রহের অগ্রগতি, ট্রাস্টের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের ওপর (Ayodhya New Mosque)। আপাতত আইআইসিএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে একটি মসজিদ নির্মাণই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে (Fundraising Challenges)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ৭ থেকে ৬ জুন, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জলছবি।

    জমি জালিয়াতির অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুর সোমানাহাল্লিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিশাল এক জমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কবরস্থানের জন্য কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একর ছয়েক জমি একটি মুসলিম পরিবারকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ স্থানীয় হাজার হাজার হিন্দুর জন্য রয়েছে খুবই ছোট আকারের একটি সমাধিস্থল এবং শ্মশান। সমাজকর্মীদের অভিযোগ, কবরস্থান করতে গিয়ে এলাকার একটি পুরনো হনুমান মন্দির সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার জেরে সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ।কর্নাটকে ২০ লাখের কাছাকাছি অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছে—ভাইরাল হওয়া এমন একটি দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নয়া বিতর্কের। এহেন দাবির সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন থাকলেও, অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

    ধর্মান্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

    উত্তরপ্রদেশে আয়ুষ মালিক ওরফে মোহাম্মদ আলির ধর্মান্তরকে ঘিরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এবং মানসিক চাপের মাধ্যমে তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের পালঘরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও তাঁর নাবালিকা বোনের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বছর বাইশের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। কর্নাটকের ধারওয়াড়ে তফশিলি জাতির এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রলোভন দেখিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে লালসার শিকার হয়েছিল সে। স্থানীয়দের চাপে পড়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে কিছু ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে পুলিশের তরফে।

    গো-মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে বিতর্ক

    অসমের গোলপাড়া জেলার একটি স্কুলে গরুর মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিল এক ছাত্র। সে সেই বিরিয়ানি তার দুই হিন্দু সহপাঠীকে খেতে উৎসাহিত করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রের মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    হিন্দু নির্যাতন বাংলাদেশেও

    ভারতের পাশাপাশি হিন্দু নির্যাতন চলছে পড়শি দেশ বাংলাদেশেও। সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা এবং নির্যাতনের অভিযোগেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, জমি দখল, মন্দির ভাঙচুর, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ, মহিলাদের ওপর হিংসা এবং সামাজিক ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা মালোপাড়া গ্রামে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অশান্তির জেরে জখম হন একটি সংখ্যালঘু পরিবারের আট সদস্য। স্থানীয়দের দাবি, সশস্ত্র হামলায় পরিবারের সদস্যরা গুরুতরভাবে জখম হন। তদন্ত করছে পুলিশ।জয়পুরহাটে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দিনমজুর শ্যামল চন্দ্র মালিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    রামের মূর্তি গড়া বন্ধ

    বাংলাদেশেরই (Bangladesh) একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দিরে ভগবান রামের একটি মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। মূর্তি নির্মাণের  কাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে স্থানীয় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন। মসজিদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মূর্তি নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক প্রচার শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন মৌলবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির প্রাঙ্গনের (Bhagwan Ram Murti) বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দেয় যে, যদি অবিলম্বে রামমূর্তির নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিত এবং মূর্তি গড়ার কারিগরদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই বন্ধ হয়ে যায় মূর্তি নির্মাণের কাজ।

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জের। এসবই ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত রয়েছে বলে দাবি। ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে, যা হিন্দু-বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এই সূক্ষ্ম, দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজরে আসে না, যদি না কেউ প্রচলিত আইন ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এর একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যৌক্তিকতার অভাব লক্ষ্য (Hindus Under Attack) করলে দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, এক ঝলকে দেখে নিন সাপ্তাহিক ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, এক ঝলকে দেখে নিন সাপ্তাহিক ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। ২৪ থেকে ৩০ মে, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক।

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি (Hindus Under Attack)

    মুসলমানদের মন পেতে ফের ‘তুষ্টিকরণে’র রাজনীতি করেছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। সব মিলিয়ে ৫২টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর মধ্যে ২০২২ সালের কালাবুরাগি দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত ৭টি মামলাও রয়েছে। অভিযোগ, কালাবুরাগি দাঙ্গায় মুসলিম জনতা পুলিশের ওপর হামলা করেছিল (Roundup Week)।

    ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছেন কেরলের এক কলেজছাত্রী। মাডিওয়ালা থানায় দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে একটি পার্টিতে। এই পার্টির আয়োজন করেছিলেন কয়েকজন ক্যাফে মালিক। অভিযোগকারিণী একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী। একটি মোমো আউটলেটে তিনি পার্টটাইম কাজ করতেন। তাঁকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ওই পার্টিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত হাইনাস নামে একজন। তিনি কেরলের বাসিন্দা। কাজ করেন রিয়েল এস্টেট দালাল হিসেবে। ক্যাফেটি বিক্রির কাজে মালিকদের সাহায্য করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, আয়োজকরা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে গেলে অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর ওপর হামলা চালান।

    লাভ জিহাদ

    উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বীর একটি সরকারি কলেজকে ঘিরে বিতর্কের জেরে দুই মহিলা অধ্যাপক এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এক হিন্দু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা, মানসিকভাবে প্রভাবিত করা এবং ‘লাভ জিহাদ’ চক্করের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপে লাগানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। যদিও রবিবার দুপুর পর্যন্তও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি (Roundup Week)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশাম্বীর একটি সরকারি বালিকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের দুই শিক্ষিকা এবং তাঁদের এক সহযোগী ছাত্রীদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে উৎসাহিত করছিলেন বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ইসলামী রীতিনীতি অনুশীলনে উৎসাহ দেওয়া, হিন্দু বিশ্বাসের সমালোচনা করা এবং বারবার প্রভাবিত করার মাধ্যমে ছাত্রীদের মতাদর্শগতভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

    মন্দির ভাঙার চেষ্টা

    এদিকে, ভাটকালের মুরিনাকাট্টে বিরোধ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, উপকূলীয় কর্নাটকের কিছু অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা কীভাবে স্থানীয় উত্তেজনাকে বড় আইন-শৃঙ্খলার সঙ্কটে পরিণত করতে পারে। জাতীয় সড়ক ৬৬-এর পাশে ভেঙ্কটাপুরে থাকা একটি ছোট কিন্তু ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির পুনর্নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধই শেষতক একটি বড় উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, শয়ে শয়ে মুসলমান পুনর্নির্মিত ওই মুরিনাকাট্টে মন্দিরের কাছে জড়ো হয়ে সেটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিল (Roundup Week)।

    আমেরিকার ছবি

    ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও চলছে হিন্দু ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার। আমেরিকার নিউ জার্সির বিএপিএস স্বামিনারায়ণ মন্দিরের তীব্র সমালোচনা এবং নেতিবাচক প্রচার তারই একটি উদাহরণ। ফেডারেল তদন্তে কোনও অনিয়মের প্রমাণ না মিললেও, বিএপিএসের বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমের প্রচার চলছেই (Hindus Under Attack)।

     

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতে’ এল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সমাজসেবামূলক উদ্যোগের কথাও

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতে’ এল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সমাজসেবামূলক উদ্যোগের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ‘মন কি বাতে’র ১৩৪তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন গল্প তুলে ধরেন। এই গল্পগুলির মধ্যে (Mann Ki Baat) ছিল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সমাজসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগও।

    ভারতের ক্রমবর্ধমান অ্যাথলেটিক্স সাফল্য (PM Modi)

    এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ভারতের ক্রমবর্ধমান অ্যাথলেটিক্স সাফল্য। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্প্রিন্টার গুরিন্দর বীর সিং এবং অনিমেষ কুজুরের প্রশংসা করেন। তাঁরা পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে মাত্র দু’দিনের মধ্যে একাধিকবার জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্রীড়াবিদরা তাঁকে জানিয়েছেন, পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প তাঁদের সাফল্যের চাবিকাঠি। অনেকের ধারণা ছিল যে, ভারতীয়রা স্প্রিন্ট ইভেন্টে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না, কিন্তু তাঁরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশংসা করেন। বলেন, “তাঁদের এই সাফল্য অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করবে।”

    জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের (Astronomy) প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বেঙ্গালোর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোস্যাইটি, অ্যাস্ট্রো কেরালা, বিগ ব্যাং অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাব (রাজকোট), জ্যোতির্বিদ্যা পরিসংস্থা এবং আইএসএএসি-এর মতো সংস্থাগুলির অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, এই সব সংস্থা শিক্ষার্থীদের মহাকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করছে।ছুটির সময় তরুণদের জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্লাবে যোগ দিতে এবং তারামণ্ডল দর্শনে উৎসাহিত করেন।

    গঙ্গা ডলফিন রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স

    উত্তরপ্রদেশে একটি খালে আটকে পড়া গাঙ্গেয় ডলফিন (Gangetic Dolphin)-কে উদ্ধারের অভিযানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর ডলফিনটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী জানান, নমামি গঙ্গে (Namami Gange) কর্মসূচির আওতায় তৈরি ভারতের প্রথম গঙ্গা ডলফিন রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স এই উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (Mann Ki Baat)। চিকিৎসার পর ডলফিনটিকে রাপ্তি নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ডলফিন সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।”

     

LinkedIn
Share