Tag: Uttar Pradesh

Uttar Pradesh

  • Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে (Hindus Under Attack)। হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—বিভিন্ন ধরনের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে সাপ্তাহিক এক প্রতিবেদনে (Roundup Week)। ২৬ জুলাই থেকে ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতে একাধিক ঘটনা নিয়ে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ চলাকালীন জেলে থাকা ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের প্রশংসাসূচক লেখা-সহ উসকানিমূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের আড়ালে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিবিসির ভারতীয় সংবাদকর্মী গীতা পাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হিন্দু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহাকুম্ভকে “দৃশ্য প্রদর্শনী”, রামমন্দিরকে “ধ্বংস করা মসজিদ” এবং “জয় শ্রী রাম”-কে “হত্যার স্লোগান” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    অবৈধ ধর্মান্তর

    উত্তরপ্রদেশে অবৈধ খ্রিস্টান ধর্মান্তর কার্যকলাপের অভিযোগে একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। লখনউয়ের মোহনলালগঞ্জ এলাকা থেকে পরিচালিত ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত যাজক ড্যানিয়েল এবং তাঁর স্ত্রীও রয়েছেন। তামিলনাড়ু থেকে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল এবং প্রলোভন ও সংগঠিত প্রার্থনাসভার মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষকে ধর্মান্তরের জন্য নিশানা করা হত বলে দাবি পুলিশের। শিক্ষা সংস্কার এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন-উত্তর সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের রূপ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির বক্তব্য ছিল হিন্দু-বিরোধী এবং মুসলিমপন্থী। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    হিন্দু ধর্ম অবমাননা!

    দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বলে সন্দেহ করা ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। উপ-পুলিশ কমিশনার রোহিত রাজবীর সিংয়ের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং এডিটেড সরকারি বিবৃতি ব্যবহার করে জনমত বিভ্রান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য একটি আন্তঃসীমান্ত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেদকরা। বিজেপির সমালোচনার আড়ালে তিনি ধারাবাহিকভাবে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রধান বিচারপতির সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অভিজিৎ দীপকেকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    হিন্দু ‘সেজে’ বিপাকে মনোয়ার আনসারি

    ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার বারহেটের বাসিন্দা মনোয়ার আনসারির বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে রাঙ্গার এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রলোভিত করার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির মায়ের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে মনোহর বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে। আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে মেয়েটির বয়ানও (Roundup Week)। এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ভয়াবহ এক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শোয়েব, সালমান এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হোটেল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসার সময় জনৈক হিমাংশু পটেল, দেবেন্দ্র পটেল এবং নির্দোষ রাঠোর তাঁর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন বলে (Hindus Under Attack) অভিযোগ। শারীরিক ও মানসিক আঘাতে জর্জরিত নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী শেষমেশ আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ভি কামাকোটিকে উদ্দেশ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি “গোমূত্র” শব্দ ব্যবহার করে কটাক্ষ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক তরুণীকে ভুয়ো পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের মা ও মাসির হুমকির পর ওই তরুণী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আরমান, তাঁর মা ও মাসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কর্নাটকে হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির গুরু পূর্ণিমা মহোৎসব নিয়ে এসডিপিআই নেতা আশরাফের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বান্টওয়াল থানায় অভিযোগ দায়ের করে তিনি আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং গুরু পূর্ণিমার অনুষ্ঠানকে “দেশ-বিরোধী” বলে অভিহিত করেন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও ভক্তরা।

    হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনটির দাবি, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। আইন, সরকারি নীতি এবং সামাজিক আচরণের দীর্ঘমেয়াদি ধারা বিশ্লেষণ করলে এর উপস্থিতি বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, বৃহত্তর পরিসরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির (Roundup Week) মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ও বৈষম্যের ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে (Hindus Under Attack) বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

     

  • Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে বছর সত্তরের এক ব্যবসায়ীকে (Bareilly Businessman Murder) নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বছর উনিশের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে (Mohammad Arman)। ধৃতের দাবি, একটি “জিন” তাকে রক্ত ঝরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সামনে যাকে প্রথম সে পেয়েছিল, তাকেই হত্যা করে বলে জেরায় জানিয়েছে অভিযুক্ত। যদিও পুলিশ স্পষ্ট করেছে, অভিযুক্তের এই দাবি এখনও প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাঁটতে বেরিয়ে খুন (Bareilly Businessman Murder)

    নিহত সিয়ারাম শ্রীবাস্তব গত ২৪ জুলাই সকালে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। বেরেলির ভোজিপুরা এলাকার ধৌরাতান্ডা জাতীয় সড়কের কাছে হাঁটতে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজখবর শুরু করেন। পরে রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক ডজনেরও বেশি বার কোপানো হয়েছিল। বেরেলির প্রবীণ পুলিশ সুপার অনুরাগ আর্যের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে প্রতিবেশীদের দিকটি খতিয়ে দেখা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি। এরপর বিশেষ অভিযানকারী দল, স্থানীয় পুলিশ এবং অপরাধ দমন শাখা এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহম্মদ আরমানকে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের সঙ্গে অভিযুক্তের গতিবিধি এবং তার গাড়ির মিল পাওয়া যায়। এরপর গ্রেফতার করা হয় তাকে।

    রক্ত চাইত জিন!

    জেরায় আরমান জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সে একটি “জিনে”র কণ্ঠস্বর শুনতে পেত। তার দাবি, ওই অদৃশ্য সত্তা বারবার রক্ত চাইত এবং শেষ পর্যন্ত সামনে যাকে প্রথম দেখবে, তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি, সেই নির্দেশ মেনে আরমান প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে সিয়ারামকে ধাক্কা মারে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর আঘাত করে তাঁকে খুন করে। তবে এই বর্ণনা মূলত অভিযুক্তের জবানবন্দির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে তা মেলে কি না, তা ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে (Bareilly Businessman Murder)। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর আরমান একটি ধর্মীয় স্থানে গিয়ে ধূপ জ্বালায়। তার বিশ্বাস ছিল, সে “জিনে”র রক্তের চাহিদা পূরণ করেছে। পরে বাড়ি ফিরে বাবাকে পুরো ঘটনাটি জানায়। পুলিশের অভিযোগ, ছেলে খুন করার কথা স্বীকার করার পরেও তার বাবা ইমতিয়াজ আহমদ পুলিশকে খবর দেননি। বরং প্রমাণ নষ্ট করতে এবং অপরাধের তথ্য গোপন করতে ছেলেকে সাহায্য করেন। এই অভিযোগে ইমতিয়াজ আহমদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা (Mohammad Arman) ধারালো অস্ত্র এবং সেই গাড়িটিও উদ্ধার করেছে, যেটি দিয়ে প্রথমে সিয়ারামকে ধাক্কা মারা (Bareilly Businessman Murder) হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

     

  • Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ আবারও ‘লাভ জেহাদ’ (Love Jihad) বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে উঠে এসেছে ছদ্মবেশ ধারণ, মিথ্যা পরিচয় ও বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন এবং ধর্মান্তরের মতো একাধিক অভিযোগ। দেশজুড়ে এমনই কিছু ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

    ইন্দোরে ‘ভুয়ো’ বজরং দল নেতা গ্রেফতার

    ১১ জুলাই গ্রেফতার করা হয় ফারহানকে। অভিযোগ, নিজেকে ‘বজরং দল’-এর স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে (Fake Identity) এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে ফারহান। ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ‘গোলু সোলাঙ্কি’ নাম নেয়। কিন্তু যখন ফারহানের আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায়, তখন সে মেয়েটিকে জোর করে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ফারহানের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং মধ্যপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

    বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেল রেলকর্মীর

    ২০২৬ সালের ৮ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ে এক বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ওঠে এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে, ওই রেলকর্মী ভুয়ো হিন্দু পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্ত প্রথমে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। এরপর সেই ভিডিও দেখিয়ে প্রায় ছ’বছর ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। মহিলার বিয়ের পরেও তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। মহিলার স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি ধর্মান্তরের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    তেহরিতে নাবালিকাকে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরাখণ্ডের তেহরি জেলার জিউদানা গ্রামে এক নাবালিকা হিন্দু ছাত্রীকে প্রতারণা ও শোষণের অভিযোগে মহম্মদ জাসিম আনসারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, তিনি সোশ্য়াল মিডিয়ায় নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে (Fake Identity) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করেন এবং তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বন্দুকের মুখে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ পুলিশের কাছে এক হিন্দু তরুণী অভিযোগ করেন এক দম্পতি এবং এক স্থানীয় মৌলবী তাঁকে বাড়িতে ডেকে বন্দুক দেখিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত করেন। অভিযোগ, তাঁকে কয়েক দিন ধরে সেখানে আটকে রাখা হয়। সেই সময় তাঁকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানি করা হয় এবং জোর করে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়। ঘটনার পর ওই তরুণী সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) সতপাল আন্তিলের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে এসএসপি মাজহোলা থানাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

    সাহারানপুরে সুফিয়ান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে সুফিয়ান খান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মান্ডি থানার পুলিশ। এক হিন্দু নাবালিকাকে ক্রমাগত উত্যক্ত করা ও অত্যাচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করছিল এই সুফিয়ান। অভিযোগ, সুফিয়ান সব সময় ওই নাবালিকার পিছু নিত। তার পরিবার প্রতিবাদ করতে গেলে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তদন্তে নেমে পুলিশ মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ পায়। এর ভিত্তিতে পুলিশ বেআইনি ধর্মান্তরকরণ আইনের পাশাপাশি নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের কঠোর ধারা যুক্ত করেছে।

    সেনা জওয়ান সেজে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই বিহারের মুজফ্ফরপুরে মহম্মদ আরমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বছর একুশের এক হিন্দু তরুণী। অভিযোগ, আরমান নিজেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেন। পরে তরুণী জানতে পারেন, আরমান সেনাবাহিনীতে কর্মরত নন, তিনি একটি টায়ার মেরামতির দোকানে কাজ করেন এবং তিনি বিবাহিত। অভিযোগ এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে আরমান এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওই তরুণীকে মারধর করেন, জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন, অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

    হারদোইতে নাবালিকাকে প্রলোভন ও অপহরণ

    ২০২৬ সালের ৬ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হারদোইয়ে ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ ওঠে ফিরোজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফিরোজ নাবালিকাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে তাঁকে তেনদুয়া গ্রামের একটি পেট্রল পাম্পের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। নাবালিকা পরে পুরো ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান। বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাবালিকাদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইনে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ পুলিশ দল গঠন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

    বেআইনি ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে দারুল উলুম রহিমিয়া মাদ্রাসার প্রধান মৌলানা হাফিজুর রহমান আনসারি এবং তাঁর ছেলে জুবায়ের আনসারির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তর পরিচালনার অভিযোগে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবা-ছেলে মিলে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও বিভ্রান্ত করে স্থানীয় হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করতেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইন, ২০২১-এর অধীনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।

    ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহারের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহার করে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযোগ, সাজিদ নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। মহিলা থানার পুলিশ প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্যে তদন্ত চালায়। পরে গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভেদ গ্রাম থেকে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    নাবালিকা কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে ধরা পড়ার অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের খানপুর এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেলের ঘরে আলম নামে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরীকে দেখতে পেয়ে হোটেলের কয়েকজন কর্মী পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম মানেনি। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান এবং নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেলের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে, নাবালিকাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় এবং আলম ও হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

    কাতারে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ধর্মান্তরকরণের গভীর ষড়যন্ত্র

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ায় ১৩ বছর বয়সি এক হিন্দু নাবালিকাকে পাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। নাবালিকার বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, নাবালিকাটি একটি স্থানীয় নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেত। সেখানেই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে তাঁকে কাতারের দোহায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। মামলায় বেআইনি ধর্মান্তরবিরোধী আইন-সহ মোট ১১টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ (Ayodhya New Mosque) মামলার নিরসন হয়েছিল ২০১৯ সালে। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল (Fundraising Challenges)। জমির পরিমাণ পাঁচ একর। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে হিন্দু পক্ষের দাবি করা জমিতেই গড়ে ওঠে রাম মন্দির। সরকারের দেওয়া ওই জমিতে একটি আধুনিক মসজিদ-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল মুসলিম পক্ষরা। তারপর কালের নিয়মে মানুষের মনে ফিকে হয়ে গিয়েছে অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিতর্কের রং। রামের জন্মভূমিতে গড়ে উঠেছে সুদৃশ্য মন্দির। জাঁকজমক করে হয়েছিল মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন।  করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। তার পর থেকে ভারতের পর্যটন মানচিত্রে ঠাঁই করে নিয়েছেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের আপন দেশ।

    সরকারের দেওয়া জমিতে হয়নি মসজিদ (Fundraising Challenges)

    অথচ, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, এখনও যোগী সরকারের দেওয়া জমিতে মসজিদ তৈরি হয়নি।  সম্প্রতি প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় না হওয়ায় আগের বিরাট পরিকল্পনা বাতিল করে অনেক ছোট পরিসরে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাম জন্মভূমির বিতর্কিত জমি হিন্দু পক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয়, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্‌ফ বোর্ডকে অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর বিকল্প জমি দিতে হবে, যাতে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা যায়। আদালতের এই নির্দেশের পর ওই জমিতে শুধু একটি মসজিদ নয়, একটি বহুমুখী হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, কমিউনিটি কিচেন এবং অন্যান্য সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় মুসলমানদের পক্ষ থেকে।

    কী বলছে আইআইসিএফ

    সম্প্রতি, আইআইসিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আগের সেই বিরাট পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংস্থার চেয়ারম্যান জুফর আহমদ ফারুকি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহের অভাব রয়েছে। যে পরিমাণ অনুদান পাওয়া গিয়েছে, তা মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই এখন আমরা আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক ছোট একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত (Ayodhya New Mosque) নিয়েছি।” ফারুকির বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনা মতো মসজিদ গড়তে গেলে প্রয়োজন হবে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা। অথচ, এখনও পর্যন্ত জোগাড় হয়েছে সাকুল্যে দেড় কোটি টাকার মতো। ফলে প্রকল্পের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক অংশ আপাতত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম (Fundraising Challenges)।

    সম্প্রদায়ের মধ্যেই মতপার্থক্য

    এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে না যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড়ে ব্যর্থতা। শুধু তা-ই নয়, মুসলমান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই এখনও মনে-প্রাণে এই মসজিদের কনসেপ্ট সমর্থন করেন না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই স্বপ্নের মসজিদ গড়তে যে ফান্ডের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা যায়নি। মুসলিম সমাজের একাংশের বক্তব্য, বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, এবং সেই কারণেও অর্থ সংগ্রহে আসেনি প্রত্যাশিত গতি (Ayodhya New Mosque)। জমি বরাদ্দ হওয়ার পর পাঁচ বছর কেটে গেলেও, মসজিদ তৈরি না হওয়ার কারণ নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত মহলে। ভাষ্যকারদের একাংশের দাবি, বাবরি মসজিদ মামলার রায় মুসলিম সমাজের একটি অংশ এখনও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তাদের মতে, সেই কারণেই বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ পাচ্ছে না প্রত্যাশিত জনসমর্থন। অবশ্য, এই ব্যাখ্যাকে সর্বজনস্বীকৃত হিসেবে দেখা হয় না। কোনও কোনও বিশ্লেষকের মতে আবার, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, দাতাদের অগ্রাধিকার এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমজনতার আগ্রহ কমে যাওয়াও, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে (Fundraising Challenges)।

    “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ”

    এহেন আবহে “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ” ধারণাটিও বারবার উঠে আসছে। ইসলামি আইন অনুযায়ী, কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে নিবেদিত হলে তা ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে এই ধারণার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যেও মতদ্বৈততা রয়েছে। ফলে এই নীতিকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের সকলের অভিন্ন অবস্থান রয়েছে—এমন অতিসরলীকরণ দাবি আদৌ করা যায় না (Ayodhya New Mosque)। অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বহু দশকের আইনি বিরোধের অবসান হয়েছে, এবং রাম মন্দির নির্মাণ সেই রায়েরই বাস্তব প্রতিফলন। তাদের দাবি, এখন সকল পক্ষের উচিত আদালতের রায়কে চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে (Fundraising Challenges) যাওয়া।

    ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    যদিও, ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় ভূমি কিংবা ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যুক্তি তুলে ধরে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, প্যালেস্তাইন এবং স্পেনের আন্দালুসিয়া প্রসঙ্গও টানা হয়েছে। তাঁদের মতে, বহু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর কাছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কোনও ভূখণ্ডের দাবি ছেড়ে দেওয়া তারা সহজে মেনে নেয় না। অবশ্য, এই ধরনের ব্যাখ্যা সর্বজনস্বীকৃত নয়। ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই বিষয়েও ভিন্নমত রয়েছে। বহু মুসলিম ধর্মীয় নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আদালতের রায় মেনে নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ফলে সমগ্র মুসলিম সমাজের অবস্থানকে একরৈখিক হিসেবে দেখার সুযোগই নেই।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। তারপর থেকেই সেখানে প্রতিদিন বিপুল ভক্ত সমাগম হচ্ছে। আর, ধন্নিপুরে বিকল্প মসজিদ প্রকল্প এখনও নির্মাণপর্বেই পৌঁছতে পারেনি। ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা (Fundraising Challenges)। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে অনুদান সংগ্রহের অগ্রগতি, ট্রাস্টের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের ওপর (Ayodhya New Mosque)। আপাতত আইআইসিএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে একটি মসজিদ নির্মাণই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে (Fundraising Challenges)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ৭ থেকে ৬ জুন, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জলছবি।

    জমি জালিয়াতির অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুর সোমানাহাল্লিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিশাল এক জমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কবরস্থানের জন্য কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একর ছয়েক জমি একটি মুসলিম পরিবারকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ স্থানীয় হাজার হাজার হিন্দুর জন্য রয়েছে খুবই ছোট আকারের একটি সমাধিস্থল এবং শ্মশান। সমাজকর্মীদের অভিযোগ, কবরস্থান করতে গিয়ে এলাকার একটি পুরনো হনুমান মন্দির সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার জেরে সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ।কর্নাটকে ২০ লাখের কাছাকাছি অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছে—ভাইরাল হওয়া এমন একটি দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নয়া বিতর্কের। এহেন দাবির সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন থাকলেও, অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

    ধর্মান্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

    উত্তরপ্রদেশে আয়ুষ মালিক ওরফে মোহাম্মদ আলির ধর্মান্তরকে ঘিরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এবং মানসিক চাপের মাধ্যমে তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের পালঘরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও তাঁর নাবালিকা বোনের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বছর বাইশের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। কর্নাটকের ধারওয়াড়ে তফশিলি জাতির এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রলোভন দেখিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে লালসার শিকার হয়েছিল সে। স্থানীয়দের চাপে পড়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে কিছু ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে পুলিশের তরফে।

    গো-মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে বিতর্ক

    অসমের গোলপাড়া জেলার একটি স্কুলে গরুর মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিল এক ছাত্র। সে সেই বিরিয়ানি তার দুই হিন্দু সহপাঠীকে খেতে উৎসাহিত করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রের মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    হিন্দু নির্যাতন বাংলাদেশেও

    ভারতের পাশাপাশি হিন্দু নির্যাতন চলছে পড়শি দেশ বাংলাদেশেও। সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা এবং নির্যাতনের অভিযোগেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, জমি দখল, মন্দির ভাঙচুর, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ, মহিলাদের ওপর হিংসা এবং সামাজিক ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা মালোপাড়া গ্রামে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অশান্তির জেরে জখম হন একটি সংখ্যালঘু পরিবারের আট সদস্য। স্থানীয়দের দাবি, সশস্ত্র হামলায় পরিবারের সদস্যরা গুরুতরভাবে জখম হন। তদন্ত করছে পুলিশ।জয়পুরহাটে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দিনমজুর শ্যামল চন্দ্র মালিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    রামের মূর্তি গড়া বন্ধ

    বাংলাদেশেরই (Bangladesh) একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দিরে ভগবান রামের একটি মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। মূর্তি নির্মাণের  কাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে স্থানীয় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন। মসজিদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মূর্তি নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক প্রচার শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন মৌলবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির প্রাঙ্গনের (Bhagwan Ram Murti) বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দেয় যে, যদি অবিলম্বে রামমূর্তির নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিত এবং মূর্তি গড়ার কারিগরদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই বন্ধ হয়ে যায় মূর্তি নির্মাণের কাজ।

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জের। এসবই ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত রয়েছে বলে দাবি। ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে, যা হিন্দু-বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এই সূক্ষ্ম, দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজরে আসে না, যদি না কেউ প্রচলিত আইন ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এর একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যৌক্তিকতার অভাব লক্ষ্য (Hindus Under Attack) করলে দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, এক ঝলকে দেখে নিন সাপ্তাহিক ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, এক ঝলকে দেখে নিন সাপ্তাহিক ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। ২৪ থেকে ৩০ মে, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক।

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি (Hindus Under Attack)

    মুসলমানদের মন পেতে ফের ‘তুষ্টিকরণে’র রাজনীতি করেছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। সব মিলিয়ে ৫২টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর মধ্যে ২০২২ সালের কালাবুরাগি দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত ৭টি মামলাও রয়েছে। অভিযোগ, কালাবুরাগি দাঙ্গায় মুসলিম জনতা পুলিশের ওপর হামলা করেছিল (Roundup Week)।

    ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছেন কেরলের এক কলেজছাত্রী। মাডিওয়ালা থানায় দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে একটি পার্টিতে। এই পার্টির আয়োজন করেছিলেন কয়েকজন ক্যাফে মালিক। অভিযোগকারিণী একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী। একটি মোমো আউটলেটে তিনি পার্টটাইম কাজ করতেন। তাঁকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ওই পার্টিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত হাইনাস নামে একজন। তিনি কেরলের বাসিন্দা। কাজ করেন রিয়েল এস্টেট দালাল হিসেবে। ক্যাফেটি বিক্রির কাজে মালিকদের সাহায্য করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, আয়োজকরা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে গেলে অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর ওপর হামলা চালান।

    লাভ জিহাদ

    উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বীর একটি সরকারি কলেজকে ঘিরে বিতর্কের জেরে দুই মহিলা অধ্যাপক এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এক হিন্দু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা, মানসিকভাবে প্রভাবিত করা এবং ‘লাভ জিহাদ’ চক্করের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপে লাগানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। যদিও রবিবার দুপুর পর্যন্তও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি (Roundup Week)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশাম্বীর একটি সরকারি বালিকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের দুই শিক্ষিকা এবং তাঁদের এক সহযোগী ছাত্রীদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে উৎসাহিত করছিলেন বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ইসলামী রীতিনীতি অনুশীলনে উৎসাহ দেওয়া, হিন্দু বিশ্বাসের সমালোচনা করা এবং বারবার প্রভাবিত করার মাধ্যমে ছাত্রীদের মতাদর্শগতভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

    মন্দির ভাঙার চেষ্টা

    এদিকে, ভাটকালের মুরিনাকাট্টে বিরোধ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, উপকূলীয় কর্নাটকের কিছু অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা কীভাবে স্থানীয় উত্তেজনাকে বড় আইন-শৃঙ্খলার সঙ্কটে পরিণত করতে পারে। জাতীয় সড়ক ৬৬-এর পাশে ভেঙ্কটাপুরে থাকা একটি ছোট কিন্তু ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির পুনর্নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধই শেষতক একটি বড় উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, শয়ে শয়ে মুসলমান পুনর্নির্মিত ওই মুরিনাকাট্টে মন্দিরের কাছে জড়ো হয়ে সেটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিল (Roundup Week)।

    আমেরিকার ছবি

    ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও চলছে হিন্দু ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার। আমেরিকার নিউ জার্সির বিএপিএস স্বামিনারায়ণ মন্দিরের তীব্র সমালোচনা এবং নেতিবাচক প্রচার তারই একটি উদাহরণ। ফেডারেল তদন্তে কোনও অনিয়মের প্রমাণ না মিললেও, বিএপিএসের বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমের প্রচার চলছেই (Hindus Under Attack)।

     

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতে’ এল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সমাজসেবামূলক উদ্যোগের কথাও

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতে’ এল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সমাজসেবামূলক উদ্যোগের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ‘মন কি বাতে’র ১৩৪তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন গল্প তুলে ধরেন। এই গল্পগুলির মধ্যে (Mann Ki Baat) ছিল ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সমাজসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগও।

    ভারতের ক্রমবর্ধমান অ্যাথলেটিক্স সাফল্য (PM Modi)

    এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ভারতের ক্রমবর্ধমান অ্যাথলেটিক্স সাফল্য। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্প্রিন্টার গুরিন্দর বীর সিং এবং অনিমেষ কুজুরের প্রশংসা করেন। তাঁরা পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে মাত্র দু’দিনের মধ্যে একাধিকবার জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্রীড়াবিদরা তাঁকে জানিয়েছেন, পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প তাঁদের সাফল্যের চাবিকাঠি। অনেকের ধারণা ছিল যে, ভারতীয়রা স্প্রিন্ট ইভেন্টে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না, কিন্তু তাঁরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশংসা করেন। বলেন, “তাঁদের এই সাফল্য অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করবে।”

    জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের (Astronomy) প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বেঙ্গালোর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোস্যাইটি, অ্যাস্ট্রো কেরালা, বিগ ব্যাং অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাব (রাজকোট), জ্যোতির্বিদ্যা পরিসংস্থা এবং আইএসএএসি-এর মতো সংস্থাগুলির অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, এই সব সংস্থা শিক্ষার্থীদের মহাকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করছে।ছুটির সময় তরুণদের জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্লাবে যোগ দিতে এবং তারামণ্ডল দর্শনে উৎসাহিত করেন।

    গঙ্গা ডলফিন রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স

    উত্তরপ্রদেশে একটি খালে আটকে পড়া গাঙ্গেয় ডলফিন (Gangetic Dolphin)-কে উদ্ধারের অভিযানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর ডলফিনটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী জানান, নমামি গঙ্গে (Namami Gange) কর্মসূচির আওতায় তৈরি ভারতের প্রথম গঙ্গা ডলফিন রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স এই উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (Mann Ki Baat)। চিকিৎসার পর ডলফিনটিকে রাপ্তি নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ডলফিন সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।”

     

  • Political Violence Extortion Case: উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস, কেন পাকড়াও জানেন?

    Political Violence Extortion Case: উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস, কেন পাকড়াও জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের খোকন দাস গ্রেফতার। আজ, রবিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ের পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্ক এলাকা থেকে পাকড়াও করে (Political Violence Extortion Case) তাঁকে। হুমকি, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে খোকনকে (Khokan Das)। অভিযোগগুলি সেই সময়কার, যখন ক্ষমতায় ছিল খোকনের দল তৃণমূল।

    খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Political Violence Extortion Case)

    পুলিশ সূত্রে খবর, মুলতুবি মামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর রবিবার সকালে আটক করা হয় তাঁকে। ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় একটি আদালতে তোলা হয় খোকনকে। তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়ককে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ২০২১ সালে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক হন খোকন। তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসার একাধিক অভিযোগ ওঠে। বামেদের হটিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসায় সেই সময় পুলিশ খোকনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক হিংসার পাশাপাশি তৃণমূলের এই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

    ‘আমি এখন বিজেপি নেতা’

    জানা গিয়েছে, ছাব্বিশের বিধান নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হেরে যেতেই খোকন নিজেকে বিজেপি নেতা বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁর একটি অডিও কথোপকথন ভাইরাল হয়। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর এসব নিয়ে এত হইচই করছেন! মনে রাখবেন, আমি এখন বিজেপি নেতা।” এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয় অভিযোগ। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান খোকন। শেষমেশ রবিবার বর্ধমান জেলা পুলিশের একটি দল উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ের দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তাঁকে।

    গ্রেফতার আরও এক তৃণমূল নেতা

    খোকনের বিরুদ্ধে অতীতেও তোলাবাজি এবং জমি-সংক্রান্ত অনিয়ম-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। তদন্ত এড়ানোর চেষ্টাও করেছেন তিনি (Political Violence Extortion Case)। তবে এবার আর শেষরক্ষা হল না। উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার খোকন। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এদিকে, এদিনই পুলিশ গ্রেফতার করেছে পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কেও। তাঁর (Khokan Das) বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল এবং ফুটবল উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কাটোয়ার এক শীর্ষস্থানীয় তৃণমূল নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে আর্থিক অনিয়মের একটি (Political Violence Extortion Case) মামলায়।

     

  • Hindu Youth killed: গাজিয়াবাদে ‘বকরিদ পার্টি’র নামে ডেকে নিয়ে হিন্দু যুবককে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    Hindu Youth killed: গাজিয়াবাদে ‘বকরিদ পার্টি’র নামে ডেকে নিয়ে হিন্দু যুবককে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গাজিয়াবাদের খোড়া এলাকায় এক ১৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক (Hindu Youth killed) সূর্য চৌহানকে তাঁর মুসলিম পরিচিতরা বকরিদ উৎসবের কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছুরি মেরে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ মে সন্ধ্যার সময় খোড়া থানার অন্তর্গত নবনীত বিহার কলোনিতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

    বকরিদ পার্টির নামে ডেকে নিয়ে হামলা (Hindu Youth killed)

    মৃত যুবকের ভাই যশ চৌহানের (Hindu Youth Surya Chauhan) দায়ের করা পুলিশ অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সূর্য তাঁর দুই বন্ধু ভিকি ও আয়ুশের সঙ্গে বাড়ির কাছাকাছি হাঁটছিলেন। সেই সময় তাঁর পরিচিত আসাদ নামের এক যুবক ফোন করে সূর্যকে বকরিদ উদযাপনের জন্য ২ নম্বর গলির কাছে আসতে বলে। আসাদের কথামতো সূর্য ও তাঁর বন্ধুরা একটি কলার গুদামের (Uttar Pradesh) কাছে পৌঁছালে, সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল নবাব, ফারহান, আতিফ এবং সারিক।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, হামলার ঠিক আগে অভিযুক্তরা সূর্যকে জিজ্ঞাসা করে, “তুই কখনো ছাগল কোরবানি দিতে দেখেছিস?” সূর্য তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করলে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তর্কাতর্কির মাঝেই হঠাৎ ধারালো ছুরি নিয়ে সূর্যের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা।

    রক্তাক্ত অবস্থাতেই বাঁচার জন্য দৌড়

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আক্রমণকারীরা প্রথমে সূর্যের পেটে ছুরি মারে। পেটে ছুরিবিদ্ধ অবস্থাতেই প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ২০০ মিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন সূর্য। কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁর পিছু ধাওয়া করে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং শরীর থেকে ছুরিটি টেনে বের করে আরও কয়েকবার কোপ মারে। এরপরই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তারা।

    চিৎকার ও গোলমাল শুনে সূর্যের মা (Hindu Youth killed) এবং ভাই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নয়ডার (Uttar Pradesh) সেক্টর ৬২-র ফোর্টিস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    পুলিশি তৎপরতা ও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    প্রাথমিকভাবে পুলিশ খুনের চেষ্টার (Attempt to murder) মামলা রুজু করলেও, সূর্যের মৃত্যুর পর তা খুনের মামলায় (Murder case) রূপান্তরিত করা হয়েছে। ইন্দিরাপুরমের  (Uttar Pradesh) এসিপি অভিষেক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে মূল অভিযুক্ত আসাদ এখনও পলাতক এবং তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা খোড়া থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Yogi Adityanath: যোগীর ‘জিরো-টলারেন্স নীতি’তেই বাজিমাত, দাঙ্গা-অপহরণ মুক্ত উত্তরপ্রদেশ

    Yogi Adityanath: যোগীর ‘জিরো-টলারেন্স নীতি’তেই বাজিমাত, দাঙ্গা-অপহরণ মুক্ত উত্তরপ্রদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) শাসনে গত ন’বছরে উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির (Crime Control) ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সরকারের জিরো-টলারেন্স নীতি রাজ্যকে দাঙ্গামুক্ত করেছে এবং মুক্তিপণের জন্য অপহরণের মতো ঘটনাও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ২০১৭ সালের আগে যে রাজ্যকে ‘দাঙ্গার রাজ্য’ বলা হত, এখন সেটিই হয়ে উঠেছে গোটা দেশে শান্তি ও নিরাপত্তার উদাহরণ। সমাজবাদী পার্টি (SP) সরকারের আমলে গড়ে প্রতিদিন ১৯টি দাঙ্গা এবং ৩৩টি অপহরণের ঘটনা ঘটত।
    ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এসপি সরকারের সময় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল। এনসিআরবির (NCRB) রিপোর্ট অনুযায়ী, গড়ে প্রতিদিন ১৯টি দাঙ্গা এবং ৩৩টি অপহরণের ঘটনা ঘটত। এই সময়ে ২৫,০০০-এরও বেশি দাঙ্গা হয়েছিল, যা রাজ্যের ভাবমূর্তির ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ, তোলাবাজির ভয়ে সবাই কাঁটা হয়ে থাকতেন সর্বক্ষণ।

    উত্তরপ্রদেশে সব ভালো (Yogi Adityanath)

    ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির আদিত্যনাথ অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেন। এই নীতির আওতায় সক্রিয় পুলিশি ব্যবস্থা, গ্যাংস্টার অ্যাক্টের ব্যবহার এবং মাফিয়াদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে গত ন’বছরে উত্তরপ্রদেশে একটিও বড় দাঙ্গার ঘটনা ঘটেনি। কিছু অসামাজিক শক্তি দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সরকার সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায়, তা ব্যর্থ হয়ে যায় (Crime Control)। ছোটখাটো ঘটনা যাতে বড় হিংসার রূপ না নেয়, তার আগেই দায়ের করা হয় দাঙ্গা বিরোধী আইনে মামলা। দুষ্কৃতীদের পাঠানো হয় জেলে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিভিন্ন জনসভায় স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, “কোনও কারফিউ নয়, কোনও দাঙ্গাও নয়- উত্তরপ্রদেশে সব ভালো।”

    এনসিআরবির রিপোর্ট

    যোগী সরকারের এই নীতির ফলে গোটা রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (Yogi Adityanath)। এনসিআরবির ২০২৪ সালের রিপোর্টেও এই পরিবর্তনের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশে অপরাধের হার শূন্য ছিল। ২০২৩ সালেও এই হার শূন্য ছিল। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ সবচেয়ে ভালো জায়গায় রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, নাগাল্যান্ডে এই অপরাধের হার ছিল ০.৭, মণিপুরে ০.৬, অরুণাচল প্রদেশে ০.৩ এবং মেঘালয়ে ০.২, অথচ উত্তরপ্রদেশে শূন্য। গত দু’বছরে (২০২৩-২০২৪) রাজ্যে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি। আগে আকছার ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হত। এখন এমন ঘটনা সম্পূর্ণই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এনসিআরবির রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমাজবাদী পার্টির রাজত্বে প্রতিদিন ৩৩টি অপহরণের ঘটনা ঘটত, কিন্তু যোগী সরকারের সময় সেই সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে (Yogi Adityanath)।

    জিরো-টলারেন্স নীতি

    দাঙ্গা সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রেও যোগী সরকারের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য (Crime Control)। এনসিআরবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশে দাঙ্গা-সংক্রান্ত অপরাধের হার ছিল ১.১, যা জাতীয় গড় ২.২-এর চেয়ে কম। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উত্তরপ্রদেশের ১.১ হার মূলত সেইসব ঘটনার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এদিকে, মণিপুরে এই হার ছিল ৮.৪, মহারাষ্ট্রে ৬.৪, কর্নাটকে ৫.৪, হরিয়ানায় ৫.৩ এবং হিমাচলপ্রদেশে ৪.৭। এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে যোগী সরকারের অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি, সক্রিয় পুলিশি ব্যবস্থা এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে। গ্যাংস্টার অ্যাক্ট প্রয়োগ করে পুলিশ মাফিয়াদের আর্থিক ভিত ভেঙে দিয়েছে এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে (Yogi Adityanath)।

    উত্তরপ্রদেশের ভাবমূর্তি বদল

    এই পদক্ষেপগুলির প্রভাব পড়েছে তৃণমূল স্তরেও। তাই উত্তরপ্রদেশ এখন শুধু দাঙ্গামুক্তই নয়, বরং অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও জাতীয় গড়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। সমাজবাদী পার্টির আমলের তুলনায় উত্তরপ্রদেশের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। যেখানে আগে দাঙ্গা ও অপহরণ ছিল সাধারণ ঘটনা, সেখানে আজ শান্তি ও উন্নয়নের নয়া  গল্প লেখা হচ্ছে (Crime Control)। সরকারের মতে, কঠোর আইন-শৃঙ্খলাই উন্নয়নের ভিত্তি। আদিত্যনাথের নেতৃত্বে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলি শুধু অপরাধীদের নিরুৎসাহিত করেনি, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও বাড়িয়েছে। এনসিআরবির সর্বশেষ রিপোর্ট এই বাস্তবতার সাক্ষ্যই বহন করছে। এভাবে যোগী সরকার প্রমাণ করেছে, জিরো-টলারেন্স নীতি এবং কঠোরতা ও সংবেদনশীলতার সঠিক সমন্বয় একটি অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার পথ তৈরি করতে পারে। তাই গোটা দেশে উদাহরণ হয়ে উঠেছে উত্তরপ্রদেশ (Yogi Adityanath)।

     

LinkedIn
Share