Tag: uttarkanya

uttarkanya

  • Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার উত্তরকন্যায় দীর্ঘ প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি যেমন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন, তেমনই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংযোগে বিস্তৃত পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।

    উত্তরকন্যা নিয়ে ক্ষোভ, কলকাতা নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ

    বৈঠকের শুরুতেই উত্তরকন্যার বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য কলকাতায় ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই উত্তরকন্যা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD) ছাড়া কার্যত অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দফতরের উপস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতি বদলাতে তিনি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে জানতে চান, বর্তমানে কোন কোন দফতরের আধিকারিক উত্তরকন্যায় বসেন এবং সাধারণ মানুষ কী ধরনের পরিষেবা পান। একইসঙ্গে নির্দেশ দেন, গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের দ্রুত উত্তরকন্যায় নিয়োগ করতে হবে, যাতে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের প্রশাসনিক কাজে আর কলকাতা যেতে না হয়।

    উত্তরকন্যায় চালু হবে পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল

    উত্তরবঙ্গের মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উত্তরকন্যায় একটি পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল চালুরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেলের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, খুব শিগগিরই যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগের পাশাপাশি গ্রিভ্যান্স সেল চালুর কাজও শুরু হবে।

    প্রশাসনের গড়হাজিরা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ

    প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা এবং জিটিএ-র বহু জনপ্রতিনিধি নিয়মিত অফিস করছেন না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার সপ্তাহে পাঁচ দিন নয়, ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে। কোনও জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হওয়া চলবে না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত বা কার্যত পলাতক, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজ নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    দুর্নীতি এবং কাটমানি প্রসঙ্গেও এদিন কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন এবং জিটিএ-র দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চুরি-চামারি করেছেন, তাঁরা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। তিনি আরও বলেন, যদি কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ভয়ে এলাকায় ফিরতে না পারেন, তবে প্রয়োজন হলে পদত্যাগ করুন। কিন্তু দায়িত্বে থেকে জনগণের কাজ ফেলে রেখে আত্মগোপন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বরাদ্দ দ্বিগুণ

    বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার উত্তরবঙ্গকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান—

    • ● উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট ১,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● জিটিএ-র বরাদ্দ ১৮০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● উত্তরবঙ্গে একটি এমস্, ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাটে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
    • ● হাসিমারা সেনা এয়ারপোর্টকে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে অতিরিক্ত জমি দেওয়া হচ্ছে।
    • ● মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর চালু করা এবং কোচবিহার বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেই বর্তমান সরকার এই অঞ্চল থেকে ১০ জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছে, যার মধ্যে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী রয়েছেন।

    কর্মসংস্থানে নতুন প্রকল্প

    উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু হওয়া ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে—

    • ● অদক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৩০০ টাকা
    • ● আধা-দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৪৫০ টাকা
    • ● দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৬০০ টাকা

    এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং সেল সক্রিয় করা এবং গ্রাম সংসদের মাধ্যমে প্রকল্প নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হতে পারেন।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন নিয়মের ইঙ্গিত

    মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পেয়েছেন। যদিও পোর্টালে তথ্য আপলোডে ত্রুটির কারণে প্রায় ২৬ হাজার আবেদন আপাতত আটকে রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভারতীয় ব্যক্তি, নির্দিষ্ট শর্তভঙ্গকারী আবেদনকারী এবং সরকারের নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড পূরণ না করলে সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

    বর্ষা মোকাবিলায় পাহাড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী

    বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পাহাড়ি এলাকায় ৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে মোতায়েন করা হবে। ভূমিধস, বন্যা বা অন্য কোনও দুর্যোগ দেখা দিলে তাঁরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেবেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার শিলিগুড়ি সফর করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক কাজ পর্যালোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    ময়নাগুড়ি বাস দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

    প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি উত্তরকন্যায় ২১ জুন ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

    উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

    সামগ্রিকভাবে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে উত্তরবঙ্গকে আলাদা প্রশাসনিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকারি পরিষেবা বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান এবং জনপরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলার বার্তাই তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Suvendu Adhikari: তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের পাল্টা জোড়া কর্মসূচি ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের পাল্টা জোড়া কর্মসূচি ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ সমাবেশ করে তৃণমূল। যুব কংগ্রেসের ব্যানারে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান করতে গিয়ে (Suvendu Adhikari) বাম আমলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল কয়েকজন যুব কংগ্রেস কর্মীর। তাঁদেরই ‘শহিদ’ (যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দেন, তাঁদের শহিদ বলে। এটা তো ছিল পার্টির প্রোগ্রাম!) আখ্যা দিয়ে ফি বছর ঘটা করে ২১ জুলাই পালন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গঠন করলেও, নিয়ম করে শহিদ দিবস পালন করে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

    উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক (Suvendu Adhikari)

    এবারও পালিত হবে ২১ জুলাই। তৃণমূল যেদিন ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করবে, সেদিনই উত্তরকন্যা অভিযানের (Uttarkanya Abhiyan) ডাক দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কসবা গণধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার যুব মোর্চার এক কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক জানালেন, ২১ জুলাই উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সদর দফতর উত্তরকন্যার উদ্দেশে অভিযান করবে বিজেপি যুব মোর্চা। পাশাপাশি ৯ অগাস্ট নবান্ন অভিযানের ডাকও দিলেন তিনি।

    হবে নবান্ন অভিযানও

    গত বছর ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল সেই ডাক্তারি পড়ুয়ার, যিনি ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই দিনটির স্মরণেই এবার হবে নবান্ন অভিযান।  শুভেন্দু বলেন, “অভয়ার চোখ দিয়ে সেদিন জল নয়, রক্ত বেরিয়েছে। হাঁসখালি থেকে বগটুই – এই সরকার ও তার বাহিনী ধর্ষকদের রক্ষাকারী। তাই এদের ক্ষমতা থেকে সরাতেই হবে।” এদিন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই ভাষণ দিচ্ছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “বৃষ্টি তো দূরের কথা, এই সরকারকে সরাতে গুলি খেতেও রাজি আছি। আমাদের লড়াই চলবে। ২১ জুলাই ওরা কলকাতায় ডিম-ভাত খাবে, আর আমরা উত্তরকন্যায় যাব। কর্মীদের বলছি, নিজের খরচে যাবেন, ভালো করে লড়তে হবে (Uttarkanya Abhiyan)।”

    নির্যাতিতার বাবা-মায়ের কাছে

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) জানান, নবান্ন অভিযানের আগে তাঁরা নির্যাতিতার বাবা-মায়ের কাছে যাবেন অনুমতি নিতে। নবান্ন অভিযানে তাঁরা যাতে যোগ দেন, সেই অনুরোধও করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা সেদিন পতাকা ছাড়াই আন্দোলনে যাব। অভয়ার স্মৃতিতেই হবে এই প্রতিবাদ। ৯ অগাস্ট নবান্ন অভিযানে মমতার সরকারের পতন ঘটানোর ডাকও দেওয়া হবে।” বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আগামিকালই (বৃহস্পতিবার) নতুন সভাপতিকে স্বাগত জানাব। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে আসবে নতুন লড়াইয়ের কর্মসূচি।” তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, এটা শেষ নয়, এটা ওদের শেষের শুরু।”

    গণধর্ষণের প্রতিবাদে মিছিল

    কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে প্রথম বর্ষের (Suvendu Adhikari) ছাত্রীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে বুধবার মিছিল ও জনসভা করেন শুভেন্দু। রাসবিহারী মোড় থেকে শুরু হয় মিছিল। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মিছিল এগিয়ে গিয়েছে কসবার দিকে। মিছিলে বিজেপির মহিলা কর্মী-সমর্থকদের দেখা যায় ঝাঁটা হাতে নিয়ে হাঁটতে। ছিলেন বিজেপির যুব মোর্চার কর্মী-সমর্থকরাও। ‘কন্যা বাঁচাও’ স্লোগান তুলে সেই মিছিল গিয়ে শেষ হয় (Uttarkanya Abhiyan) সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের কাছে। সেখানেই হয় সমাবেশ। সেই সমাবেশেই রাজ্য সরকার ও তৃণমূলকে শানিত আক্রমণ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “বাঙালি হিসেবে অন্য রাজ্যে গিয়ে পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ হয়। এ রাজ্যে মহিলাদের বিরুদ্ধে অনেক অপরাধ হয়। তবে কোনও প্রতিকার হয় না।” সমাবেশ থেকে অনেক স্লোগান দেন শুভেন্দু। তার মধ্যে রয়েছে, ‘ঝাড়ু মেরে করো সাফ, মমতার সরকার’। ‘এক হাজার ঝাড়ু, এক হাজার মা মিছিল করেছেন।’ ‘কন্যা বাঁচাও, মমতা হটাও।’ ‘ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, মমতার পতন দেখতে চাই।’ ‘বিজেপি কর্মীরা গুলি খেতেও তৈরি।’

    জোড়া কর্মসূচির কথা ঘোষণা

    এই সমাবেশেই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন জোড়া কর্মসূচির কথা। ২১ জুলাই উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “ওই দিন চোরেরা কলকাতায় ডিম-ভাত খেতে আসে। আর আমরা উত্তরকন্যা নড়িয়ে দেব (Uttarkanya Abhiyan)।” এর পরেই তিনি জানান, ৫ অগাস্ট তিনি যাবেন অভয়ার বাবা ও মায়ের কাছে, অনুমতি নিতে। শুভেন্দু বলেন, “৫ তারিখে পানিহাটিতে উল্টো রথে যাব। ওই দিন আমি অনুমতি নিতে অভয়ার বাবা-মায়ের কাছে যাব। তাঁদের বলব, পতাকা ছাড়া ৯ অগাস্ট অভয়ার ধর্ষণ-খুনের বর্ষপূর্তিতে নবান্ন অভিযান করতে হবে।”

    মাস আটেক পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Suvendu Adhikari)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার আগে ধর্মতলায় শহিদ সমাবেশের নামে তৃণমূল ফের একবার নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করিয়ে নিতে চাইছে। বিজেপিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে দেখিয়ে দিতে চাইছে (Uttarkanya Abhiyan), তাদের শক্তি কতটা।

  • ABVP: এবিভিপি-র শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ, চ্যাংদোলা করে নিয়ে গেল পুলিশ

    ABVP: এবিভিপি-র শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ, চ্যাংদোলা করে নিয়ে গেল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার শিলিগুড়িতে এবিভিপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে লাঠি চালাল পুলিশ। পুলিশের লাঠিতে জখম হলেন অসংখ্য ছাত্র ছাত্রীর। এদিন এবিভিপি (ABVP) উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছিল। সেই মিছিরকে আটকাতেই  উত্তরকন্যার আগে  তিনবাত্তি মোড়ে নির্মমভাবে লাঠি চালায় পুলিশ।

    কেন উত্তরকন্যা অভিযান? (ABVP)

    রাজ্যের নারী নির্যাতন সহ সন্দেশখালি ঘটনার ন্যায় বিচারের দাবিতে এদিন উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছিল এবিভিপি। এই কর্মসূচির তিনদিন আগেই ঘোষণা করেছিল এবিভিপি (ABVP)। রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনার মাঝে সন্দেশখালি ঘটনা উঠে এসেছে। তাতে নবান্নে চরম বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অভিযান কর্মসূচি ছিল।  তাই কোনও স্মারকলিপি নয়, প্রতিবাদি মিছিল নিয়ে উত্তরকন্যায় পৌঁছে সেই বার্তা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিল এবিভিপি।

    জারি করা হয় ১৪৪ ধারা

    উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারে হাজারে ছাত্র-যুব এদিন এবিভিপির (ABVP) এই মিছিলে অংশ নেয়। দিল্লি থেকে আসেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক  যাজ্ঞবাল্ক শুক্লা। এই বিশাল মিছিল দেখে চিন্তায় পড়ে পুলিশ প্রশাসন। যে কোনওভাবে মিছিল আটকাতে তৎপর ছিল পুলিশ। শিলিগুড়ি থেকে উত্তরকন্যা যাওয়ার মূল রাস্তার জায়গায় জায়গায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। জলপাই মোড় থেকে তিনবার মোড় ব্যারিকেড করে রেখেছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। তিনবাত্তি মোড় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।  বেলা দুটোর পর বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল এসে জলপাই মোড়ে  জমায়েত হয়। শুরু হয় উত্তরকন্যা অভিমুখে যাত্রা।

    কীভাবে মিছিল আটকাল পুলিশ?

    নৌকাঘাট অতিক্রম করার মুখেই প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে চলে মিছিল। তিনবাত্তি মোড়ে মিছিল পৌঁছতেই দেখা যায় দলবেঁধে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে মিছিলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিনা প্ররোচনাতেই এবিভিপি (ABVP) মিছিলের ওপর পুলিশের নির্মমভাবে লাঠি চালায়। এই আক্রমণে বহু ছাত্র ছাত্রী রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অনেকে দৌঁড়ে পালান। দেখা যায় অলিতে গলিতে চলে যাওয়া এবিভিপি সমর্থকদের পুলিশ টেনে-হিঁচড়ে টেনে আনছে মারতে মারতে। এবিভিপি বহু ছাত্র-যুব সদস্যকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক  যাজ্ঞবাল্ক শুক্লা রয়েছেন।  তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখা যায় পুলিশ তাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে।

    আরও পড়ুন: প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সায়ন্তিকা

      এবিভিপি-র নেতৃত্ব কী বললেন?

    এবিভিপি-র উত্তরবঙ্গ জোনের সভাপতি বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আমাদের আন্দোলন সফল। কেননা এবিভিপির মিছিলকে আটকাতে এদিন পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে যেভাবে  বর্বরোচিত আক্রমণ করেছে। আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক  যাজ্ঞবাল্ক শুক্লাকে পুলিশ যেভাবে টেনে হিঁচড়ে মেরে গাড়িতে তুলেছে, এতে প্রমাণ হয় সত্যকে চাপা দিতে পুলিশ দিয়ে তৃণমূল সরকার ন্যায় বিচারের দাবিতে এবিভিপি আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে। পুলিশ যেভাবে লাঠি চালিয়েছে, তাতে প্রমাণ হয়েছে এবিভিপির আন্দোলন সফল।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Siliguri: উত্তরকন্যায় প্রতারণাচক্রের হদিশ! চাকরির টোপ দিয়ে টাকা হাতিয়ে গ্রেফতার এক কর্মী

    Siliguri: উত্তরকন্যায় প্রতারণাচক্রের হদিশ! চাকরির টোপ দিয়ে টাকা হাতিয়ে গ্রেফতার এক কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়িতে (Siliguri) রয়েছে উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যা। আর সেখানেই প্রতারণা চক্রের হদিশ মিলল। চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল সেখানকারই এক নিরাপত্তাকর্মীকে। এই ঘটনায় জড়িত আরও এক নিরাপত্তাকর্মী পলাতক। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি জুড়ে। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (Siliguri)

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা হল মইনুর রহমান ও বিষ্ণুপদ গুপ্ত। দু’জনেই শিলিগুড়ির (Siliguri) উত্তরকন্যা সংলগ্ন ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। দু’জনেই উত্তরকন্যায় বেসরকারি সংস্থার অধীন নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে। অভিযোগ, উত্তরকন্যায় কাজ করার সুযোগ নিয়ে শিক্ষত বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল অভিযুক্তরা। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে উত্তরকন্যা ফাঁড়ির পুলিশ। বুধবার উত্তরকন্যা থেকে গ্রেফতার করা হয় বিষ্ণুপদকে। কয়েক বছর ধরে ওই দু’জন নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করছে উত্তরকন্যায়। জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির তিনজন যুবতীর কাছ থেকে মইনুল রহমান কিছু টাকা নেয় শিলিগুড়ি শহরে কোনও একটি নার্সিংহোমে চাকরির দেওয়ার নাম করে। টাকা নিতেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় মইনুল। পরে, ফোন করে তিনজনকে অন্য এক নিরাপত্তারক্ষী বিষ্ণুপদ গুপ্তর সঙ্গে সচিবালয়ে দেখা করার কথা বলে মইনুল। তিন যুবতী সেখানে পৌঁছনোর পর বিষ্ণুপদ তাঁদের কাছে ফের টাকার দাবি করে ও বাড়ি চলে যেতে বলে। এতে যুবতীদের সন্দেহ হয়, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উত্তরকন্যার আধিকারিকদের জানালে তাঁরা এনজেপি থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ বিষ্ণুপদকে গ্রেফতার করে। তবে, মূল অভিযুক্ত মইনুল পলাতক। তার খোঁজ করেছে পুলিশ।

    প্রতারিতদের কী বক্তব্য?

    প্রতারিতরা বলেন, ‘আমাদের বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি দেবে বলে একজন টাকা নেয়। তারপর উত্তরকন্যায় আরেকজনের কাছে পাঠায়। সেও টাকা দাবি করে। কিন্তু কোথায় ইন্টারভিউ হবে, তা জানায়নি। এতেই আমাদের সন্দেহ হয়। তখন আমরা পুলিশকে জানাই।’

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share