Tag: Vande Mataram

Vande Mataram

  • Vande Mataram: কর্নাটক বিধানসভায় দুই স্তবকের পর ‘বন্দে মাতরম’ থামতেই পুরো গান গাইলেন বিজেপি বিধায়করা, উত্তপ্ত বিধান পরিষদও

    Vande Mataram: কর্নাটক বিধানসভায় দুই স্তবকের পর ‘বন্দে মাতরম’ থামতেই পুরো গান গাইলেন বিজেপি বিধায়করা, উত্তপ্ত বিধান পরিষদও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটক বিধানসভা ও বিধান পরিষদের অধিবেশন শুরুর সময় সরকারিভাবে ‘বন্দে মাতরমে’র (Vande Mataram) রেকর্ডিং দুই স্তবক গাওয়ার পর থেমে যায়। এরপর বিজেপির বিধায়ক ও পরিষদ সদস্যরা নিজেরাই গানটির বাকি অংশ গেয়ে পুরো গানটি শেষ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিধানসভায় ও বিধান পরিষদে (Karnataka Assembly Council) শাসক কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও বিক্ষোভ হয়।

    রাজ্যের খরা পরিস্থিতি এবং পশ্চিমঘাটের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল নিয়ে কস্তুরীরঙ্গন কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার থেকে কর্নাটক বিধানসভার তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিধানসভায় অধিবেশন শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে। কিন্তু সরকারিভাবে বাজানো রেকর্ডিং দুই স্তবকের পর বন্ধ হয়ে যায়।

    ‘বন্দে মাতরম’ গাইলেন বিজেপি বিধায়করা (Vande Mataram)

    এর পর বিধানসভার অধ্যক্ষ জি এস পাটিল সম্প্রতি প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শোকজ্ঞাপন পাঠ শুরু করেন। সেই সময় বিজেপি বিধায়করা ‘বন্দে মাতরমে’র বাকি স্তবকগুলি গাইতে শুরু করেন এবং পরে স্লোগান দেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক আরবি শিরিয়ান্নাভারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন।

    বিধান পরিষদেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিষদের সভাপতি সলিম আহমেদ নিয়ম অনুযায়ী সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ শুরু করলেও বিজেপির সদস্যরা ‘বন্দে মাতরমে’র বাকি স্তবকগুলি আবৃত্তি করতে থাকেন। পরে পূর্ণ গান পরিবেশন না করার জন্য তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

    এর জেরে বিধান পরিষদে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সদস্যরা সভাকক্ষের মধ্যবর্তী অংশে নেমে বিক্ষোভ দেখান। কংগ্রেস সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিজেপি সদস্যরা সভাপতির নির্দেশ মানছেন না এবং ইতিমধ্যেই পাঠ করা সংবিধানের প্রস্তাবনা ফের পড়ে সভার কার্যপ্রণালী ব্যাহত করছেন।

    সভাপতি সলিম আহমেদ জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যেই পাঠ করা হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ দুই স্তবক পর্যন্ত পরিবেশনের সিদ্ধান্ত সরকারই নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

    কর্নাটক সরকার ৮ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী অথবা রাজ্যপাল উপস্থিত না থাকলে রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২৮ জানুয়ারির নির্দেশিকায় অবশ্য সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরমে’র ছয়টি স্তবক গাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হলে আগে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে ‘জন গণ মন’ গাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    বিধান পরিষদে সরকারের তরফে পরিষদ নেতা তথা মন্ত্রী যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপাল উপস্থিত থাকা অনুষ্ঠানগুলি বাদ দিয়ে সরকারি কর্মসূচিতে শুধু দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই কক্ষেই দুই স্তবক পরিবেশন করা হয়েছে।

    এদিকে বিজেপি সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অসম্মান দেখানোর অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। পাল্টা কংগ্রেস সদস্যরা বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধানের প্রস্তাবনাকে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

    কংগ্রেসের পরিষদ সদস্য বিকে হরিপ্রসাদ বলেন, পরিষদে বর্তমানে ‘বন্দে মাতরমে’র দুই স্তবকই গাওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে বিজেপির সদস্য সভাপতি থাকাকালীন চারটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছিল।

    বিতর্কের মধ্যে যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া বলেন, বিধানসভায় মানুষের সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলনেতা চলবাদী নারায়ণস্বামী এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। সভাপতির ভূমিকা নিয়ে যতীন্দ্রের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নারায়ণস্বামী দাবি করেন, সভাপতির উচিত যতীন্দ্রের বক্তব্যের জন্য তাঁকে ভর্ৎসনা করা।

    সভাপতি সলিম আহমেদ জানান, তিনি কার্যবিবরণীর নথি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজন হলে আপত্তিকর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তবে তাতেও বিরোধী দলনেতা সন্তুষ্ট হননি। যতীন্দ্র পাল্টা অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    এর পর উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, বিরোধীরা খরা ও কস্তুরীরঙ্গন রিপোর্টের মতো জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়, বরং শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সরব হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্যে বিজেপি সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সভায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

    পরমেশ্বর কস্তুরীরঙ্গন রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করতেই বিজেপি সদস্যরা দুই স্তবকে ‘বন্দে মাতরম’ সীমাবদ্ধ করার প্রতিবাদে সভার মধ্যবর্তী অংশে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।পরমেশ্বর বক্তব্য শেষ করার পর সভাপতি কিছু সময়ের জন্য সভা মুলতুবি করেন।

    পরে সভা ফের শুরু হলে সভাপতি জানান, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) নিয়ে তিনি শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে কীভাবে পরবর্তী আলোচনা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত (Karnataka Assembly Council) নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সভাপতির এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন বিজেপি সদস্যরা।

     

  • Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে এল ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার (Kolkata Book Fair 2027) দিনক্ষণ। ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের আয়োজন (50th Kolkata Book Fair)। বই ও সংস্কৃতির এই মহোৎসব চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    কলকাতা বইমেলার দীর্ঘ ইতিহাসে এবারের আয়োজন নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২৭ সালে এই আন্তর্জাতিক বইমেলা পা রাখছে ৫০তম বর্ষে। তাই সুবর্ণজয়ন্তীর এই বইমেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

    সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে বইমেলা পরিচালনার জন্য গত মাসেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ জনের ওই কমিটিতে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের প্রতিনিধিরা। সেই সময়ই জানানো হয়েছিল, এবারের বইমেলার আয়োজন যৌথভাবে করবে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ড, পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং জাতীয় পুস্তক ট্রাস্ট। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    স্টল বণ্টনে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

    বিগত কয়েক বছরে কলকাতা বইমেলায় স্টল বণ্টন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার বই প্রকাশকদের স্টল পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এবার স্টল বণ্টন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আয়োজকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্টল বণ্টনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বড় প্রদর্শনী ও মেলায় যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্টল বরাদ্দ করা হয়, এবার কলকাতা বইমেলাতেও (Kolkata Book Fair 2027) সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অনলাইনে আবেদন করে প্রকাশকেরা স্টলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    থিমের কেন্দ্রবিন্দুতে ইজরায়েল, বিকল্প ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ

    সুবর্ণজয়ন্তীর বইমেলার থিমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইজরায়েলকে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রের অনুমোদন না মিললে ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ উদযাপনকেই এবারের বইমেলার মূল থিম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

    এদিকে সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, এবারের কলকাতা বইমেলায় (Kolkata Book Fair 2027) কি ফের দেখা যাবে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন? গত দু’বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের পৃথক প্যাভিলিয়ন বা স্টল থাকার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

    বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজক কমিটি ও প্রকাশকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তবে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে মেলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    আয়োজকদের বক্তব্য, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। দুই মন্ত্রকের ছাড়পত্র মিললে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে ফের আলোচনা হতে পারে।

    ‘ভারতীয়ত্বের’ ছাপ রাখার দাবি

    কলকাতা বইমেলাকে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সমস্ত প্রকাশক, মুদ্রাকর এবং বই বিক্রেতার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত করার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে সাহিত্য মহলে।

    কিছুদিন আগে প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতা বইমেলা নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, বইমেলায় স্পষ্টভাবে ‘ভারতীয়ত্বের’ ছাপ থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সব মত ও পথের মানুষের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হিসেবে কলকাতা বইমেলাকে গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

    বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলি গত দু’বছর ধরে কলকাতা বইমেলায় (50th Kolkata Book Fair) অংশ নিতে পারছে না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও প্রশাসনিক কমিটি ও প্রকাশকদের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রকের নির্দেশ এবং অনুমোদনের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (Kolkata Book Fair 2027)।

     

  • Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে যাদবপুর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার, গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ৮বি পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়েছে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    রাখি পূর্ণিমার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু।

    ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Suvendu Adhikari)

    এবার দ্বিতীয় দফায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র (Gerua Samman Yatra) ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে ঢাকুরিয়া হয়ে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছবে মিছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি বলে দাবি আয়োজকদের।

    রাখির দিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি পূর্বতন বাম শাসনকেও নিশানা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কমিউনিস্টদের আমলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি স্থান পেত না। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘তোজোর কুকুর’ এবং রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলা হয়েছিল।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “এখানকার ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী রাষ্ট্রবাদী ও দেশপ্রেমিক। অথচ চে গেভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের ২৬ হাজার চাকরি চুরি কিংবা পিএসসি-এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে তাদের মুখে স্লোগান নেই, তাদের মুখে একটাই স্লোগান— ‘আজাদি’!”

    ফায়দা লোটার ধান্ধা!

    তৃণমূল জমানার সমালোচনা করতে গিয়ে যাদবপুরের বহুচর্চিত স্বপ্নদীপের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদে আমি যখন এখানে এসেছিলাম, আমার গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে মাওবাদী পরিচয় দিয়ে আমাকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী ফোন করে গ্রেফতার হওয়া দুই মাওবাদীকে ছাড়িয়ে দেন। তৃণমূল ও বামেদের এই গোপন বোঝাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই— নির্বাচনে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগান তুলে তার ফায়দা লোটা।”

    গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত মিছিলে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জানানো হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল ৩টেয় মিছিল শুরু হবে। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হবে যাদবপুরে গিয়ে।

    আয়োজকদের বক্তব্য, গেরুয়া শুধুমাত্র একটি রং নয়, এটি ত্যাগ, আত্মনিবেদন এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই গেরুয়া রঙের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তার তাৎপর্য নতুন করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এর আগে একাধিকবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, গেরুয়া রংকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কয়েক দিন আগে একটি সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, গেরুয়ার সঙ্গে ‘তাণ্ডব’ শব্দ জুড়ে দেওয়া হলে গেরুয়ার মাহাত্ম্যই খাটো করা হয়।

    তবে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র পিছনে আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করে যাদবপুরে শেষ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের মত।

    ‘প্রতিষ্ঠিত’ হচ্ছে রাষ্ট্রবাদ

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধিতা’র সুরের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সেখানে ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠার কথা আগেই বলেছিলেন শুভেন্দু। সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। শনিবার ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একাধিক স্লোগান মুছে তার জায়গায় রাষ্ট্রবাদী স্লোগান লিখেছেন গেরুয়াপন্থী ছাত্ররা।

    ফলে আগামী সপ্তাহে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Gerua Samman Yatra) শুধুমাত্র একটি মিছিল নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা (Hindus Under Attack), ধর্মীয় বিদ্বেষ, মন্দির অপবিত্র করা, জমি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত (Roundup Week)। ১৬ থেকে ২২ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের প্রবণতা ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকার সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    মন্দিরের জমিতে গির্জা নির্মাণ! (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রায়চূরের বিচালি ক্যাম্প এলাকায় অঞ্জনেয় মন্দিরের জন্য নির্ধারিত একটি জমিতে গির্জা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ১২ অগাস্ট একটি গির্জার কাছে অঞ্জনেয়ের মূর্তি স্থাপনের পর সংঘর্ষের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

    স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দিরের জন্য নির্ধারিত জমি কীভাবে অন্য ধর্মীয় স্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হল, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা জমির মূল নথি ও বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। সংঘর্ষে পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনায় দু’জন জখম হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচালি ও বিচালি ক্যাম্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    উত্তরপ্রদেশে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর জেলার গ্যাসড়ি থানার ঠাকুরপুর গ্রামে পেশায় শ্রমিক রাম সানেহিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জনৈক আকবর আলি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

    পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে রামকে ধরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মূল অভিযুক্ত আকবর ও এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রাম সানেহিকে লাঠি দিয়ে মারতে দেখা যায়।

    সাংলিতে দম্পতির ওপর হামলা, মহিলার মৃত্যু

    মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার এমআইডিসি কুপওয়াড় এলাকায় প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। চাণক্য চকের কাছে বিঘ্নহর্তা শান্তি কলোনিতে হামলার ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় বছর আটত্রিশের মনীষা মোহন কেশরকরের। তাঁর স্বামী মোহন নাগাপ্পা কেশরকর গুরুতর জখম হন। হামলায় অভিযুক্ত জনৈক ফরিদ আবদুল শেখ।

    মুরুগনকে ঘিরে ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

    তামিল সমাজে মুরুগন-উপাসনার ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুরুগন-উপাসনার প্রাচীন ধারায় বৈদিক আচার ও স্থানীয় গ্রামীণ ধর্মাচরণ পাশাপাশি চলেছে এবং ঐতিহাসিকভাবে এই দুই ধারার মধ্যে বিরোধ ছিল না।

    তবে তামিল সমাজে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এমন একটি মত প্রচলিত রয়েছে যে মুরুগন মূলত দ্রাবিড় লোকদেবতা বা কোনও ঐতিহাসিক পূর্বপুরুষের স্মৃতি থেকে উদ্ভূত এবং পরে তাঁকে সংস্কৃতভিত্তিক কার্তিকেয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। প্রতিবেদনে এই মতের প্রমাণযোগ্য ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, মুরুগনকে খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরের উপযোগী একটি চরিত্র হিসেবে তুলে ধরার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার সঙ্গে এই ব্যাখ্যার সম্পর্ক রয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান

    কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি বিকে হরিপ্রসাদ জানিয়েছেন, সরকারি কোনও আইনি বিধান চালু হলেও দলীয় কর্মসূচিতে কংগ্রেস ঐতিহ্য অনুযায়ী বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে।

    প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১৮৯৬ সাল থেকে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে বন্দে মাতরমের দুই স্তবক গাওয়ার রীতি চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। তিনি বলেছেন, “ওরা আমাদের জেলে পাঠাক বা ফাঁসি দিক, আমরা বন্দে মাতরমের ওই দুই অনুচ্ছেদই গাইব।”

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবীদের উদ্দেশে প্রার্থনা থাকায় কংগ্রেসের একটি অংশ তা নিয়ে আপত্তি জানায়।

    বন্দে মাতরম নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য

    অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরও বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী অংশে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাসীদের কাছে তা গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।

    এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এড়ানোর জন্য কেন হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও অভিব্যক্তিকে বারবার পরিবর্তন করার দাবি ওঠে।

    চট্টগ্রাম সম্মেলন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

    লখনউভিত্তিক অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এক মুখপাত্র চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা ও আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থীদের উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সেখানে ইসলামিকরণ, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি হিন্দুদের উৎখাতের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও এই গুরুতর দাবিগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কর্নাটকে মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করার অভিযোগ

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার শিগগাঁও শহরে অঞ্জনেয় মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করে এক ব্যক্তি (Roundup Week)। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ঘটনায় পুলিশ শনাক্ত করে মহম্মদ জাফর নামে একজনকে।

    ঘটনাটি ২০ অগাস্ট রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটে বলে পুলিশের বক্তব্য। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    বিদ্যারত্ন স্লোগান নিয়ে কলেজে বিতর্ক

    কর্নাটকের বিদার জেলার শাহীন পিইউ কলেজে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের পর “ভারত মাতা কি জয়” এবং “বন্দে মাতরম” স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রদের থামিয়ে সতর্ক করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে।

    ছাত্র সাগর গৌলির বাবা হিরোবা গৌলির অভিযোগের ভিত্তিতে চিটগুপ্পা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মীয় অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাসের পদ্ধতি ও বর্তমান তথ্যের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন (Roundup Week)।

    ভারত প্রবেশ ও ধর্মান্তর নিয়ে প্রচারের অভিযোগ

    বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ধর্মীয় বক্তা মো আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতে প্রবেশ, শিলিগুড়ি-দার্জিলিং অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে হিন্দুদের ধর্মান্তর এবং অসম ও ত্রিপুরার মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংগঠিত যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরির ইচ্ছা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার একটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    সীমান্ত থেকে ভারতীয় কৃষককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ভারতীয় চা-চাষিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    নিহত বা নিখোঁজ নন, ওই কৃষক দীপঙ্কর গোপরকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ আটক করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির সঙ্গে তামিজ উদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মুক্তির দাবিকে যুক্ত করা হয়েছে। তামিজ উদ্দিন সীমান্তের বেড়া কেটে ভারতে প্রবেশের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হয় এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ।

    বিষয়টি নিয়ে তিন দফা ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে,হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। কিছু ইসলামপ্রধান দেশে হিন্দুবিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম ধরনের বৈষম্য দেখা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার নীতিকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের মতে, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকা উচিত।

    বস্তুত, প্রতিবেদনে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগগুলিকে নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত (Roundup Week), তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে আসছে এবং পুরো জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পরিবর্তে শুধু প্রথম দুই স্তবক (Vande Mataram Row) গাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই রাজনীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শাহ বলেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তাঁর দাবি, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে দলের বর্তমান নেতৃত্ব বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।

    শাহি-কথা (Vande Mataram Row)

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ (Amit Shah) বলেন, “গতকাল (বুধবার) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বিস্ময়কর এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৩৭ সালের দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে তারা মহান গান বন্দে মাতরমের মাত্র দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে রাজনৈতিক কারণে বন্দে মাতরমের পরিবেশন সীমিত করার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণা শক্তিশালী হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগের পথ প্রশস্ত হয়।

    শাহ বলেন, “আমি গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তুষ্টিকরণের জন্য কংগ্রেস বন্দে মাতরমকে দুই ভাগে ভাগ করে দেশভাগের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেখান থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগ হয়, পাকিস্তানের জন্ম হয়।” কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি দফতরে জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম পরিবেশনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, কংগ্রেস তার পক্ষে না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বন্দে মাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে এই গানকে সামনে রেখে লড়াই করা দেশপ্রেমিকদের ঐতিহ্যের প্রতিও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক।

    কংগ্রেসের যুক্তি

    তবে কংগ্রেস তাদের অবস্থান থেকে সরেনি। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, সেই সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলের কর্মীরা এখনও সেটিই অনুসরণ করবেন (Vande Mataram Row)। বেণুগোপাল বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। ১৯৩৭ সালের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেল-সহ সেই সময়ের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমরা সেটিই মেনে চলব। আমাদের কংগ্রেস কর্মীরা সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবেন। এটাই আমাদের অবস্থান।”

    তাল কাটে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে

    গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কংগ্রেসের সদর দফতরে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কথাবার্তার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় গানের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম (Vande Mataram Row) পরিবেশন নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। এর পরেই বিষয়টি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

    কংগ্রেসের আত্মপক্ষ সমর্থন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনেই বন্দে মাতরমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পরিবেশন করছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে গান্ধী, নেহরু ও প্যাটেলের মতো নেতাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মতো বিষয়কে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন খাড়্গে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম পরিবেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধি বা রীতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় গানটির মর্যাদা ও পরিবেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন শুধু কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় প্রতীক, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

    কংগ্রেসকে ‘মুসলিম লিগ’-এর সঙ্গে তুলনা গিরিরাজ সিংয়ের

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরোধিতা। তিনি বলেন, “এটি শুধু বন্দে মাতরমের বিরোধিতা নয়, আমাদের বিপ্লবীদের বিরোধিতাও। এখন কংগ্রেস মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি গান্ধীজির কংগ্রেস নয় (Amit Shah), এটি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস।”

    ১৫ অগাস্ট কংগ্রেসের সদর দফতরে পুরো বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া, রাহুল এবং খাড়্গের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন গিরিরাজ। তিনি বলেন, “১৫ অগস্ট কংগ্রেস দফতরে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মুখের দিকে তাকান। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাঁদের জোর করে বিষ পান করাচ্ছে (Vande Mataram Row)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা নিতিন নবীনেরও

    বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বন্দে মাতরমের মতো পবিত্র মাতৃভূমির বন্দনার প্রতি কংগ্রেসের অবস্থান দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া শহিদদের প্রতি অসম্মানের সমান। তিনি বলেন, “ভারতমাতার পবিত্র বন্দনার এই অসম্মান সেই হাজার হাজার শহিদের প্রতি অবজ্ঞা, যাঁরা এই গানকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ কংগ্রেস নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা নয়, বরং সেই ভোটব্যাঙ্কের প্রতি ক্ষুধার প্রমাণ, যার বেদিতে কংগ্রেস বারবার দেশের আত্মসম্মান বন্ধক রেখেছে (Amit Shah)।”

    ফলে বন্দে মাতরমের কতগুলি স্তবক পরিবেশন করা হবে, সেই প্রশ্নটি এখন নিছক সাংস্কৃতিক বা আনুষ্ঠানিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বিজেপি-কংগ্রেসের সংঘাত (Vande Mataram Row)।

     

  • Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর তথা পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক বিজেপির সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করে তিনি সোনিয়ার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সুমিত্র ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নৈহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন। চিঠিতে সুমিত্র অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা থামানোর চেষ্টা আসলে “ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি”। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার সময় কংগ্রেস কর্মীদের থামানোর বারবার চেষ্টা তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ (Bankim Chandra)

    সুমিত্রর কথায়, “আজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির এই পবিত্র সকালে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ ভারতমাতাকে শ্রদ্ধা জানাতে নিবেদিত, তখন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে যা ঘটেছে, তা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি।” তিনি এও বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ কংগ্রেস কর্মীরা যখন গাইছিলেন, তখন তাঁদের অস্বস্তি, অসন্তোষ এবং বারবার থামানোর চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সরাসরি বংশধর হিসেবে গভীর বেদনা, শূন্যতা ও যন্ত্রণা নিয়ে আমি এই চিঠি লিখছি।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লিগের অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্নার ‘বন্দে মাতরম’-কে মুসলিমবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেই আপত্তির জেরে কংগ্রেস সরকারি অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দু’টি প্রকৃতিবন্দনামূলক স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই আপসের ছায়া এখনও কংগ্রেসের মতাদর্শ ও আচরণে দেখা যায়।

    দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়

    চিঠিতে সুমিত্র লেখেন, “ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, আপনাদের কথিত দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৩৭ সালের অক্টোবরে আপনারাও মহম্মদ আলি জিন্নার অযৌক্তিক আপত্তির কাছে নতিস্বীকার করে এই চিরন্তন দেশাত্মবোধক গানকে খণ্ডিত করেছিলেন। সেই আপসের ছায়া এখনও আপনাদের মতাদর্শে দৃশ্যমান এবং আজ আপনাদের আচরণে তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।” ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগেও আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজকের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগ গভীরভাবে আহত হয়েছে। বিষয়টি আপনাকে জানানো আমার নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি।” সোনিয়ার উদ্দেশে তাঁর আবেদন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের বংশধর হিসেবে অত্যন্ত বিনীত কিন্তু দৃঢ় ভাষায় আমি আপনাকে আত্মসমালোচনা করে আমার সমস্ত দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে, আপনার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যে নেতৃত্ব নিজের স্বাধীনতার মন্ত্রকেই সম্মান করতে ব্যর্থ হয়, ইতিহাসে তাঁর স্থান বিস্মৃতির অন্ধকারে।”

    অমিত মালব্যর অভিযোগ

    এর আগে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম স্তবকগুলি গাওয়ার পর সোনিয়া “অসন্তুষ্ট” হয়ে তা থামানোর কথা বলেছিলেন। রাহুলও (গান্ধী) গান শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মালব্য। তবে পরে তাঁদের জানানো হয় যে গানটি চলবে এবং শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ পূর্ণাঙ্গ পরিবেশন করা হয়। এই ঘটনার নিন্দা করে মালব্য অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও সভ্যতাগত শিকড়ে প্রতিষ্ঠিত ভারতের ধারণার সম্পর্ক বরাবরই অস্বস্তিকর। ঘটনা প্রসঙ্গে সুমিত্র বলেন, “তাঁর কাজ সত্যিই লজ্জাজনক। এটি দেশের প্রতি অপমান। গোটা ভারত এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান। আমার গোটা পরিবার এতে ব্যথিত হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এত বছর ভারতে বসবাস করেও সোনিয়া গান্ধী তাঁর ইতালীয় সংস্কৃতিকে ভুলতে পারেননি।”

    সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি

    তিনি জানান, বিষয়টি জানিয়ে সরাসরি সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও তার প্রতিলিপি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দেখা যাক, তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন কি না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনও সরকারি আধিকারিককে তিনি চিঠি দেননি, যাঁকে এই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করেছেন, তাঁকেই সরাসরি জানিয়েছেন এবং দলের প্রধানকে প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন।

     

  • Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সাক্ষী থাকল ভারতের সংসদ। বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার প্রথম ‘বন্দে মাতরম্’ গান (Vande Mataram in Lok Sabha) পরিবেশনের মাধ্যমে লোকসভার কার্যক্রম শুরু হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী-সহ লোকসভার প্রায় পূর্ণাঙ্গ উপস্থিতির মধ্যেই জাতীয় গান পরিবেশিত হয়। ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয়টি স্তবক পরিবেশনের পর লোকসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি (sine die) করে দেওয়া হয়। একইভাবে জাতীয় গানের পর এদিনই রাজ্যসভার কার্যক্রমও শেষ হয়। তবে ঐতিহাসিক সূচনার মধ্যেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। ২০ জুলাই অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক ইস্যুতে বারবার অচল হয়েছে সংসদের কাজ। শেষ দিনেও বিরোধীরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

    ‘বন্দে মাতরম্’-কে আইনি সুরক্ষা

    সংসদে এই প্রথম অধিবেশনের শেষ দিন ছয়টি স্তবক ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হল। কয়েক দিন আগে এই জাতীয় স্তোত্রকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে গানের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রোটোকল নিয়েও কেন্দ্র আগে নির্দেশিকা জারি করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া আটকানো বা ব্যাহত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ‘বন্দে মাতরম্’ জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনীয় আইনি সুরক্ষা পেল। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকলও জারি করেছিল। ২৮ জানুয়ারির নির্দেশিকায় রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে গানটির ছয়টি স্তবক পরিবেশনের কথা বলা হয়।

    রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা

    শেষ দিনের সূচনাটা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, অধিবেশনের শেষটা ততটাই রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা। সকাল থেকেই বিরোধী সাংসদদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এ বার তাঁর স্বাভাবিক বিদায়ী ভাষণও দেননি। অধিবেশনে সংসদের কাজকর্ম এবং উৎপাদনশীলতার হিসেব তুলে ধরার রীতিও তাই এ বার দেখা গেল না। ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনের অধিকাংশ দিনই বারবার থমকে গিয়েছে। দিল্লিতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা আলোচনার দাবি জানিয়ে সরব ছিলেন। সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের এই টানাপড়েনে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তুত, বিরোধীরা অপ্রস্তুত

    বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। ছাত্রদের ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিরোধীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সময় বরাদ্দের জন্য তিনি স্পিকারকে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু শেষ দিনেও সেই আলোচনার পথ মসৃণ হল না। সংসদ চত্বরের মকর দ্বারে এ দিন বিজেপি এবং বিরোধীদের পৃথক কর্মসূচি দেখা যায়। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে বিজেপি। অন্য দিকে নিজেদের দাবিতে সরব থাকে বিরোধী দলগুলি। ওঠে দলিত প্রসঙ্গ। ফলে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই শেষ হয় বাদল অধিবেশন। গোটা বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন। শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। এই আবহে বুধবার শাহ বলেন, “আমি সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে গোড়া থেকেই আলোচনা শুরুর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিরোধীরা পালাচ্ছেন। তাঁরা আসলে আলোচনা চান না।’’ শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাহুল বলেন, “ছাত্রদের উপর কে গুলি চালাল? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে ছাত্রদের মারার নির্দেশ কে দিল? যদি অমিত শাহ এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা তাঁর বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী নই।”

    ১২টি বিল পাশের দাবি সরকারের

    বাদল অধিবেশনের বড় অংশই অচলাবস্থার কারণে নষ্ট হলেও সরকারের দাবি, এই সময়ের মধ্যে সংসদে মোট ১২টি বিল পাশ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভকেই সংসদের কাজ ব্যাহত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও অনীহা ছিল না। তবে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদ ও হট্টগোলের কারণে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে। শেষ দিনেও সেই রাজনৈতিক অচলাবস্থার কোনও ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব হন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাহুল গান্ধী যথাযথভাবে আলোচনায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির অন্যান্য নেতারাও সংসদে বিরোধীদের আচরণ নিয়ে সরব হন। পাশাপাশি পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তাঁরা। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা ও সরকারের জবাব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

     

     

     

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার ১১ অগাস্ট, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতীয় (National Anthem) সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ সম্মতি দেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।

    শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Vande Mataram)

    সংসদ গত মাসেই ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী হিসেবে এই বিলটি পাশ করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান থামিয়ে দেওয়া অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা একই সঙ্গে কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ১৯৭১ সালের আইনে নির্দিষ্টভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সুরক্ষার কথা বলা ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া অথবা তা গাওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    আইনি সুরক্ষার আওতায় ‘বন্দে মাতরম’ 

    নতুন সংশোধনীর ফলে ‘বন্দে মাতরম’-ও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় চলে এল। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছিল, জাতীয় গান ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়া বা গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা রুখতে ১৯৭১ সালের আইনে এতদিন কোনও নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। সেই কারণে আইনের ৩ নম্বর ধারায় ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও সংশোধনী আইনে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানকে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা দেওয়া হবে (Vande Mataram)।

    প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’

    এদিকে, জাতীয় গান পরিবেশন নিয়ে নতুন নিয়মও চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই গাওয়া হবে। পুরো গানটি গাইতে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ একই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হলে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। উপস্থিত সকলের তখন সতর্ক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এ বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবার লালকেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে (National Anthem)। দেশের স্কুলগুলিতেও দিনের কর্মসূচি জাতীয় গানটির সমবেত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

     

  • 80th Independence Day: থিম ‘যুব শক্তি’! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথম গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’

    80th Independence Day: থিম ‘যুব শক্তি’! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথম গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসে (80th Independence Day) লালকেল্লায় (Red Fort) এবার যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। ইতিহাস তৈরি করে প্রথম বার জাতীয় মঞ্চে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram in Red Fort)। আর ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতেই স্বাধীনতা দিবসে এ বারের মূল ভাবনা ‘যুব শক্তি’। সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিং। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে দু’টি ঘোষণাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    জাতীয় সঙ্গীতের আগে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’

    প্রতি বছর ১৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর প্রথা অনুযায়ী কেবল জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়া হত। তবে এ বছর থেকে সেই বিধিতে বদল আসছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মুখেই প্রথমে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ এবং তার পরেই বাজানো হবে জাতীয় সঙ্গীত। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই কালজয়ী দেশাত্মবোধক রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় গানের মর্যাদা পুনর্প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্র নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খবর অনুযায়ী, এ বারের স্বাধীনতা দিবসের প্রাতিষ্ঠানিক নিমন্ত্রণপত্রেও ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবককেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা

    চলতি বছরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর কথা ও ভাবনা। কংগ্রেস জমানায় জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসছিল বিজেপি। বস্তুত, চলতি বছরেই জাতীয় গান পরিবেশনের নিয়মবিধি স্থির করে কেন্দ্র। জানিয়ে দেয়, জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’র মতো এ বার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। সময়ও স্থির করে দেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ড (৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড)-এ পরিবেশন করতে হবে। কেন্দ্রের গত ফেব্রুয়ারির নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উন্মোচন-সহ যে সব সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি রয়েছে— সেখানে জাতীয় সঙ্গীতের আগে জাতীয় গান পরিবেশন করা হবে। ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানকে শাস্তিযোগ্য করতে সম্প্রতি সংসদে বিল পাস করিয়েছে কেন্দ্র। এ বার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিষয়টি বিবৃতি প্রকাশ করে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।

    ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ স্যালুট

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ফুলের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-র আবহ প্রদর্শিত হবে। এনসিসির ক্যাডেট এবং এবং মাই ভারতের স্বেচ্ছাসেবকরা লালকেল্লার প্রাচীরের উল্টোদিকের জ্ঞানপীঠে ‘বন্দে মাতরম’ ফুটিয়ে তুলবে। সেইসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-র ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার একটি ব্যানার বহন করবে এবং লালকেল্লায় সমবেত জনতার উপরে পুষ্পবৃষ্টি করবে।

    মূল ভাবনা যুব শক্তি!

    ২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের তরুণ প্রজন্মের অবদান মনে করিয়ে দিতেই এ বারে যুবশক্তি থিম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে পৌঁছতে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরাই এই দেশকে গড়ে তুলবেন। ভবিষ্যতে তার সুফলও পাবেন।’ তবে এর সঙ্গে যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আরকে সিংয়ের কথায়, ‘স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যুবসমাজের সাফল্য ও অবদানকে তুলে ধরার পরিকল্পনা অনেক আগেই করা হয়েছিল।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যন্তর মন্তরে আন্দোলনের অনেক আগে।’ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল বিষয় হবে ‘যুব শক্তি’। এর মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে দেশের তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরা হবে। ঘটনাচক্রে, সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বার বার দেশের তরুণদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ অবস্থায় লালকেল্লার অনুষ্ঠানেরও মূল বিষয় হিসেবে ‘যুব শক্তি’-কে তুলে ধরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লালকেল্লার অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে ছাত্র-যুবদের গুরুত্ব বোঝাতে চাইছে কেন্দ্র।

    আমন্ত্রিতদের তালিকা

    স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫,০০০ বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয় উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতাধীন তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবক, প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্পের আওতাধীন ইন্টার্নরা, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতাধীন স্টার্ট আপের প্রতিনিধিরা, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনায় সেরা হওয়া প্রতিনিধি, স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া সিড ফান্ডের আওতাধীন সেরা স্টার্ট-আপের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে থাকবেন । সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং গণিত অলিম্পিয়াডে এ বছরে পদকজয়ী ১৯ পড়ুয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে অনুষ্ঠানে। দিল্লির বিভিন্ন সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে লালকেল্লায়। প্রতিরক্ষাসচিব আরকে সিং জানিয়েছেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বস্তুত, বিরোধী দলনেতার পদ ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল। সে ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষাসচিব জানান, পদমর্যাদা অনুযায়ীই তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের ঠিক পরেই তাঁর আসন থাকবে।

  • Suvendu Adhikari: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। শনিবার রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদ-বিরোধী এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁকে রাজ্যে আসার সময় পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তসলিমার কলকাতায় প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তাও দেন তিনি।

    তসলিমাকে কলকাতায় স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানে তসলিমার উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে আপনি যখনই আসবেন, আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার কর্তব্য। শুধু একবার নয়, আপনি যতবার ইচ্ছা পশ্চিমবঙ্গে আসুন। আপনাকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।” এর পরেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এটি এমন এক পশ্চিমবঙ্গ, যা শৃঙ্খল ও ভয় থেকে মুক্ত। সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভ এখানে সুরক্ষিত। এখানে প্রত্যেকের আসার অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।” তসলিমাকে “নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গে” স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, তাঁর উপস্থিতিই প্রমাণ করছে যে রাজ্যে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ প্রমাণ হয়ে গেল, নতুন সরকারের অধীনে বাংলায় গণতন্ত্র, সংবিধান, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত (Suvendu Adhikari)।”

    সেই যুগ অতীত

    কোনও রাজনৈতিক দলের নাম না করে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, “হুমকি, ভয় দেখানো এবং মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা—সেই যুগ শেষ হয়েছে।” অনুষ্ঠানে তসলিমার হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতিও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছর ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি। ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কলকাতায় কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেল তসলিমা নাসরিনকে। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর কিছু অংশ নিয়ে বিতর্কের জেরে সেই সময় কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। হিংসাত্মক প্রতিবাদের মধ্যে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে তসলিমাকে কলকাতার বাইরে সরিয়ে দেয়। পরে রাজ্যও ছেড়ে চলে যান (Suvendu Adhikari) তিনি।

    বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক বার্তা

    তসলিমার কলকাতায় প্রত্যাবর্তন তাই নিছক সাহিত্যিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০০৭ সালে তাঁর কলকাতা ছাড়ার ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। ধর্মীয় মৌলবাদ এবং ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির সামনে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার আপস করা হয়েছিল—এই অভিযোগ তুলে বিজেপি অতীতের বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে (Taslima Nasreen)। কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মঞ্চে তসলিমাকে প্রকাশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনকে সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি সরকারও রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

    ধর্মীয় মৌলবাদের প্রকাশ্য সমালোচনা এবং নারীর অধিকারের পক্ষে সরব লেখিকা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তসলিমা। লেখালেখির কারণে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়েন (Suvendu Adhikari) তিনি। এরপর থেকেই নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন লেখিকা (Taslima Nasreen)।

     

LinkedIn
Share