Tag: Vasudhaiva Kutumbakam

  • Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ শীর্ষক এক বিরাট সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। ‘বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কানাডার দশটি প্রদেশ থেকে দু’হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আলোচনা, আপনজনের মতো একাত্মতা এবং সমাজের প্রতি যৌথ দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান কানাডার হিন্দু সমাজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মিলনমেলায় পরিণত হয় (Hindu Vishwa Bandhu)।

    উদ্যোক্তাদের বক্তব্য (Mohan Bhagwat)

    কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিনিধিদের একত্রিত করে এই সমাবেশের আয়োজন করে কানাডিয়ান হিন্দুজ ফর আউটরিচ, রিলেশনস অ্যান্ড ডায়লগ। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কানাডার ১৭৫টিরও বেশি সংগঠন সহযোগিতা করে। আয়োজকদের বক্তব্য, কানাডার বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ভারতীয় হিন্দু সভ্যতার চিরন্তন আদর্শ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। অর্থাৎ, “সমস্ত পৃথিবীই এক পরিবার।” এই দর্শনকে ভিত্তি করে আয়োজিত সমাবেশে হিন্দু পরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার উদ্‌যাপনের পাশাপাশি কানাডার বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ও অর্থবহ অবদানের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাগবত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিন্দু সভ্যতা, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসা ভাগবতকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাজগঠন ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবে তুলে ধরা হয়। চরিত্রগঠন, সামাজিক ঐক্য, সেবা, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং সমাজকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কানাডার মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের গুরুত্ব রয়েছে। ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ সমাবেশে সেই বিষয়টিকেই বিশেষভাবে সামনে আনা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধরে রেখেও কীভাবে বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া যায়, সেই ভাবনা অনুষ্ঠানের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে (Mohan Bhagwat)।

    অনুষ্ঠান মঞ্চ আলোকিত করেছিলেন যাঁরা

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আলবার্টার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কানাডার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য জেসন কেনি। কানাডার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের জনজীবনের যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কানাডা ও ভারতের মধ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন (Hindu Vishwa Bandhu)। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে কানাডার বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী কাশ্মীর সিং ধালিওয়াল। তিনি খালসা দিওয়ান সোসাইটি এবং ঐতিহাসিক রস স্ট্রিট গুরুদ্বারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডায় হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই একটি সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের ভিত্তি।

    হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্ব

    সমাবেশে হিন্দু পরিচয় ও ঐতিহ্যের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে এই পরিচয়কে কেবল নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। সেবা, সামাজিক দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনটির লক্ষ্যও মূলত এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কানাডিয়ান হিন্দু সমাজের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে দেশের মূলধারার আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়, ধর্মীয় গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং প্রজন্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি (Mohan Bhagwat)। কানাডায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা, অঞ্চল, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের এই বৈচিত্র্যকে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বন্ধনে যুক্ত করার পাশাপাশি কানাডার সমাজজীবনে তাঁদের অবদানকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আয়োজকরা। তাঁদের মতে, নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অটুট রেখেও যে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ তারই একটি উদাহরণ (Hindu Vishwa Bandhu)।

    দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশ তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। হিন্দু সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং কানাডার সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বার্তাও উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে (Mohan Bhagwat)।

    লক্ষ্য, সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মূল সুর ছিল—নিজের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে সম্মান করার পাশাপাশি অন্যের পরিচয় ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। পারস্পরিক বন্ধুত্ব, আলাপ-আলোচনা, সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে একটি আরও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং ১৭৫টিরও বেশি সংগঠনের সহযোগিতা এই উদ্যোগের ব্যাপকতাকেও স্পষ্ট করেছে। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যতে কানাডার হিন্দু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন (Hindu Vishwa Bandhu) ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার (Universal Oneness), এই চিরন্তন ভারতীয় দর্শনের কথা তুলে ধরে বিশ্বকে ঐক্য ও সহাবস্থানের বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর বক্তব্য, দেশ শুধু ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ কোনও সত্তা নয়। প্রতিটি দেশেরই একটি বিশেষ দায়িত্ব, বার্তা ও লক্ষ্য রয়েছে। আর ভারতের দায়িত্ব হল বৈচিত্র্যের মধ্যেও নিহিত ঐক্যের সত্যকে উপলব্ধি করা এবং সেই বার্তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।

    ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ (Mohan Bhagwat)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে  ভাগবত বলেন, আমেরিকার ক্ষেত্রে ‘বহুত্ববাদ’ শব্দটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ভারতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’। তাঁর কথায়, ভারতের চেতনার মধ্যেই ঐক্য এবং বৈচিত্র্য—দু’টিই রয়েছে। বৈচিত্র্যকে তাই শুধু মেনে নেওয়া নয়, তাকে সম্মান ও উদ্‌যাপন করাও প্রয়োজন। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে যে মৌলিক একাত্মবোধ রয়েছে, সেটিও মনে রাখতে হবে। ভাগবত বলেন, “জাতি কেবল ভৌগোলিক সত্তা নয়। জাতির একটি দায়িত্ব রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, প্রত্যেক জাতির একটি বার্তা রয়েছে, একটি লক্ষ্য পূরণ করার রয়েছে এবং একটি নিয়তি রয়েছে। ভারতের সেই নিয়তি কী? ভারতকে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সত্য উপলব্ধি করতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকেও সেই ঐক্যের উপলব্ধি করাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এক, আর বৈচিত্র্যের কারণে সেই একত্ব আরও সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়। তাই বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করতে হবে, সম্মান করতে হবে, গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের একত্বের অনুভূতিকেও মনে রাখতে হবে।”

    সঠিক চিন্তার গুরুত্ব

    মানবজীবনে সঠিক চিন্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর মতে, সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও মানুষের উপর বর্তায়। সঠিক চিন্তা মানুষকে ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, আর ভুল চিন্তা তাকে পশুসুলভ প্রবৃত্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভাগবতের কথায়, “মানুষকে পশুর থেকে আলাদা করে যে বিশেষ গুণ, তা হল চিন্তা করার ক্ষমতা। মানুষ যদি সঠিকভাবে চিন্তা করে, তাহলে সে সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে। সঠিক ও ভুল বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই বিশ্বের প্রতি তার দায়িত্বও রয়েছে।” তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন সত্তা রয়েছে। শরীর, পরিচয় কিংবা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য আলাদা হলেও, মানুষের অন্তরে এমন কিছু রয়েছে যা সবাইকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে। এই উপলব্ধিকেই তিনি ‘অস্তিত্বের ঐক্য’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অস্তিত্বের ঐক্যই আমাদের সত্য। বিশ্বকে এক হিসেবে দেখাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি (Mohan Bhagwat)।”

    সভ্যতার দুই বিপরীত প্রবণতা

    সভ্যতার দু’টি বিপরীত প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একদিকে রয়েছে ‘বাঁচো এবং অন্যকেও বাঁচতে দাও’-এর মানসিকতা। অন্যদিকে রয়েছে এমন প্রবণতা, যেখানে নিজের মত ও আদেশ মেনে চললেই অন্যকে বাঁচার অধিকার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা বলে, “তুমি আমাদের কথা মেনে চলো, আমরা তোমাকে রক্ষা করব”, তাদের তিনি রাক্ষসসুলভ প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। ভারতীয় সাধু-সন্তদের আদর্শের উল্লেখ করে ভাগবত বলেন, ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অন্যের প্রতি বিদ্বেষ দূর করার শিক্ষা দেয়। মানুষের মনে থাকা শত্রুতা ও ঘৃণা দূর করাই হওয়া উচিত প্রার্থনা ও সাধনার অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রবাসীদের উদ্দেশে মোহন-বার্তা

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন ভাগবত। তিনি বলেন, যে দেশে তাঁরা কাজ করছেন এবং বসবাস করছেন, সেই কর্মভূমির প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ নিষ্ঠাবান থাকা উচিত। কর্মভূমির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে, তা ভারতের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবোধের ভিত্তিতে করতে হবে (Universal Oneness)। ভাগবতের (Mohan Bhagwat) বক্তব্য, “আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের তাঁদের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতে হবে। সেই কর্তব্য পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থাকলে, ভারত যে মূল্যবোধ আপনাদের দিয়েছে, সেই মূল্যবোধ নিয়েই জীবনযাপন করুন।” ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, হিমালয় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ভারতের একটাই দায়িত্ব—এই জ্ঞান ও জীবনদর্শনকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে তা শুধু বক্তৃতা বা প্রচারের মাধ্যমে নয়, নিজেদের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দেখাতে হবে। তিনি বলেন, “ভারতের একজন মানুষের দায়িত্ব হল অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া, শুধু বক্তৃতা দিয়ে নয়।”

    ধর্ম কি

    ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়মাত্র নয়। বিশ্বব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালিত ও টিকিয়ে রাখার যে নীতি, সেটিই ধর্ম। মানুষের জীবনযাত্রার গুণমান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ধর্ম একটি নিয়ামক শক্তি। তাঁর (Mohan Bhagwat) মতে, ধর্ম হল মধ্যপন্থা—যেখানে দায়িত্ব, সংযম এবং পারস্পরিক সম্মানের সমন্বয় ঘটে। ভাগবত বলেন, “ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে বিশ্ব টিকে থাকে। ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে মানুষ জীবনের গুণমান বজায় রাখতে পারে। মধ্যপন্থাই ধর্ম। আমরা একত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং বৈচিত্র্যে সজ্জিত। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক, আর ঐক্যই সত্য।” অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। তাঁর মতে, একজন মানুষ কত অর্থ উপার্জন করলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তিনি সমাজ ও বিশ্বকে কতটা ফিরিয়ে দিলেন। ভারতীয় ঐতিহ্যের মূল শিক্ষা হল নিজের অর্জনের একটি অংশ অন্যদের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া। আরএসএস কর্তা বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছ থেকে অনেক কিছু নিয়েছি। তাই বিশ্বকে আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা কত উপার্জন করি, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমরা কতটা বিতরণ করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। এটাই আমাদের পরম্পরা (Universal Oneness)।”

    বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সূত্র

    বক্তব্যের একেবারে শেষে ভাগবত বলেন, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান, আত্মসংযম এবং নিঃস্বার্থভাবে সমাজকে দেওয়ার মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই একটি টেকসই ও সম্প্রীতিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, বৈচিত্র্যকে বাদ দিয়ে নয়, বরং তার মধ্যেকার একত্বকে স্বীকার করেই বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ভারতীয় জীবনদর্শন তাই শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই একটি টেকসই জীবনপদ্ধতির ভিত্তি হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস (Dallas Gita Event) শহরে অনুষ্ঠিত হল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পারায়ণ অনুষ্ঠান। অবধূত দত্ত পীঠমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি-র (Sri Ganapathy Sachchidananda Swamiji) নেতৃত্বে কিউটেক্স (CUTEX) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বামীজির যুক্তরাষ্ট্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্মৃতি থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক একযোগে আবৃত্তি করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।

    সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার

    ডালাসে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে আশীর্বাদ করুন, আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন এবং সমগ্র বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। স্বামীজি জানান, এই গীতা পারায়ণ প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সমাজের কল্যাণ এবং বিশ্বের সমৃদ্ধি ও শান্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান, শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    মার্কিন মুলুকে নিয়মিত গীতাপাঠ

    আমেরিকায় গীতাপাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ভারতীয় প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি বড় অংশ। টেক্সাসের ডালাসে, শিকাগো বা মিশিগানের মতো শহরে শয়ে শয়ে মানুষের একসঙ্গে গীতা আবৃত্তির মতো বড় ইভেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় স্বামীজির আশীর্বাদ এবং সর্বজনীন শান্তির মন্ত্র ‘লোকাঃ সমস্তাঃ সুখিনো ভবন্তু’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। যার অর্থ—“সমস্ত বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী, সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক।”

LinkedIn
Share