Tag: Vidya Bharati

  • Suvendu Adhikari: ‘সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন, না হলে সংস্কার হারিয়ে যেত’ এক বছরের মধ্যে ১০০০ বিদ্যা ভারতী  তৈরির আহ্বান শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন, না হলে সংস্কার হারিয়ে যেত’ এক বছরের মধ্যে ১০০০ বিদ্যা ভারতী তৈরির আহ্বান শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগের সরকার বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিকল্পনামাফিক কিছু পরিবর্তন করে। এমনকী বাংলা মাধ্যমের সিলেবাসে বেশ কিছু শব্দ বদল করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএস-এর একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তৃণমূল আমলে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টরা ৩৪ বছর ধরে বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছিল, বিগত সরকারের শেষ ১০ বছরেও বাংলায় বেহাল শিক্ষা— এদিন আরএসএসের শাখা সংগঠন বিদ্যা ভারতীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে। আর কিছুদিন চললে সংস্কার হারিয়ে যেত।

    মানুষের চরিত্র গঠনে শিক্ষার প্রয়োজন

    শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চাতেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কথা বললেন তিনি। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ সেই শিক্ষার কথা বলেন, যাতে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মনের বল বৃদ্ধি পায়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে।” এই অনুষ্ঠানেই একটি সাম্প্রতিক ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “সংস্কার না আনতে পারলে, দেশপ্রেম না আনতে পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরা বজায় রাখুন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Education System) কলকাতার এক পড়ুয়ার ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করেন। স্কুলের নাম না করে বলেন, “এক ছাত্র সেখানে অভিযোগ করছে, তার মাথায় চন্দনের টীকা মুছিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষক। বলছেন, মুখ ধুয়ে এস, টীকা নিয়ে ক্লাসে আসা যাবে না। এই মাইন্ডসেট! কে টীকা রাখবে, কে তুলসী পরবে… সবই পরম্পরা, ঐতিহ্য।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই, আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যা ভারতী ১০০০ তৈরি হোক। গোশালা তৈরি করুন, গীতা বিতরণ করুন। ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরা বজায় রাখুন।” রামকষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কথাও বলেন তিনি। পূর্বতন সরকারের আমলের সিলেবাস নিয়েও এদিন একের পর এক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগের সিলেবাসে পরিকল্পনা করে অনেক কিছু বিকৃত করা হয়েছে।

    প্রকৃত শিক্ষায় কমিউনিস্টদের বাধা

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজ্যে কমিউনিস্টরা যখন রাজত্ব করত, তারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলার প্রচার-প্রসারকে যেমন বাধা দিয়েছে, তেমনই ইংরেজি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তালাচাবি লাগিয়ে রেখেছিল। কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছিল। পরবর্তীকালে যে সরকার এসেছিল, প্রথমের দিকে না হলেও শেষের ১০ বছর যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল, তা পশ্চিমবঙ্গে আরও কিছুদিন চললে, আমাদের সংস্কার, পরম্পরা, ঐতিহ্য, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ সমস্ত কিছু হারিয়ে যেত।’ শিক্ষাঙ্গণে কোনও বৈষম্য চলবে না, ফেরানো হবে এনসিসি, তা-ও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, বাংলায় আরও সৈনিক স্কুল হোক। সব স্কুল-স্কুলেজে যাতে এনসিসি থাকে, তা নিয়েও চিঠি দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে।

    সিলেবাসে ভুল শব্দ চয়ন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Education System) বলেন, “একটা সময়ে বামেরা বাংলার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছে। তৃণমূল যে শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছিল, তাতে রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেম হারিয়ে যেতে বসেছিল।” এরপরই সিলেবাস প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সিলেবাস সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মা কে আম্মা, আকাশ কে আসমান… প্ল্যান করে ভাষার বিকৃতি করা হয়েছিল। এমনভাবে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছিল, যে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বিদ্যাসাগর বা বিবেকানন্দ ভাবেনি। শিশুমনে বিভাজন ঘটানো হয়েছিল।” মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুসলিম ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়া হত। বাকি ধর্মের ছাত্রদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হত। তিনি সিলেবাস সম্পর্কে আরও বলেন, “টাটাদের ইতিহাস ছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা ছিল, অথচ শ্যামাপ্রসাদের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস ছিল না।”

    প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “সঠিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সময়ে আমরা বেঁচে গিয়েছি। বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও তফাৎ থাকত না।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করেছে। এদিন বিদ্যা ভারতী প্রতিষ্ঠিত বিদ্যামন্দিরগুলির ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি চান আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছক। জেলায় জেলায়, ব্লকে ব্লকে, পঞ্চায়েতেও এই বিদ্যামন্দিরের পরিকাঠামো তৈরি হোক। ভারতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসারে রাজ্য সরকার বিদ্যাভারতীকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়, এদিন সে বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

LinkedIn
Share