Tag: Vikram-1 Rocket Launch Update

  • Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। দেশের প্রথম বেসরকারি সংস্থার তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) উৎক্ষেপণ হবে ১৮ জুলাই, শনিবার, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) তাদের প্রথম অরবিটাল মিশন ‘আগমন’ (Mission Aagaman)-এর উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের (SDSC-SHAR) প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে এই উৎক্ষেপণ হবে। ইতিমধ্যেই ইন স্পেস (IN-SPACe)-এর অনুমোদন মিলেছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রমাণ

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন ইসরো বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত দাকা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২২ সালে সংস্থাটি বিক্রম-এস (Vikram-S) সাবঅরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। এবার বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই রকেটটি হায়দরাবাদ থেকে বিভিন্ন অংশে শ্রীহরিকোটায় এনে জোড়া লাগিয়ে উৎক্ষেপণ মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম কোনও ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত অরবিটাল রকেট শ্রীহরিকোটার লঞ্চ প্যাডে স্থাপিত হল।

    কী এই ‘বিক্রম-১’?

    হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের (Skyroot Aerospace) তৈরি চার-ধাপের রকেট ‘বিক্রম–১’-এর (Vikram-I) নাম দেওয়া হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাই-এর (Vikram Sarabhai) নামে। প্রায় ২০ মিটার লম্বা ও ১.৭ মিটার ব্যাসের এই রকেটটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট দ্রুত ও কম খরচে বিভিন্ন কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে। রকেটের ২০ থেকে ২৪ মিটার উচ্চতার কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো একদিকে ওজন হালকা করেছে, অন্যদিকে বাড়িয়েছে শক্তি ও স্থায়িত্ব। সংস্থার দাবি, পুরো রকেটটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমবেত করে যে কোনও লঞ্চসাইট (Launchsite) থেকে উৎক্ষেপণ সম্ভব। প্রথম তিনটি ধাপে কঠিন জ্বালানির মোটর এবং চূড়ান্ত ধাপে হাইপারগলিক তরল জ্বালানির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা কক্ষপথে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রকেটটিতে ব্যবহৃত ৩ডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিনগুলি আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ হালকা এবং উৎপাদন-সময়ে ৮০ শতাংশ সাশ্রয় করে।

    ক্ষমতা কত?

    বিক্রম–১ (Vikram-I) সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোগ্রাম পে-লোড নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) এবং ২৬০ কিলোগ্রাম সান-সিঙ্ক্রোনাস অরবিটে তুলতে সক্ষম। নির্দিষ্ট মিশন অনুযায়ী এই ক্ষমতা বদলে যেতে পারে। সে কারণে একাধিক স্যাটেলাইট একসঙ্গে বহন করা বা আলাদা কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব।প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে রকেটটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় এবং ৬০ ডিগ্রি ইনক্লিনেশন-এ কক্ষপথে প্রবেশ করবে। বিক্রম-১-এর প্রথম তিনটি ধাপে ব্যবহার করা হয়েছে সলিড ফুয়েল ইঞ্জিন, আর সর্বোচ্চ ধাপে রয়েছে লিকুইড-ফুয়েল ‘অরবিট অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল’, যা একাধিকবার পুনরায় চালু করা যায়। ফলে ভবিষ্যতে একাধিক উপগ্রহকে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে নির্ভুলভাবে স্থাপন করা সম্ভব হবে।

    ‘বিক্রম–১’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

    বিক্রম–১ (Vikram-I)-এর এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য হল রকেটের প্রপালশন সিস্টেম, স্টেজ সেপারেশন, গাইডেন্স, ন্যাভিগেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দ্রুত ও নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উড়ান-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহও এই মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই অভিযান সফল হলে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসই হবে ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থা, যারা নিজস্ব অরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে উৎক্ষেপণের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

    ‘বিক্রম–১’-এর নানান কাজ

    বিক্রম-১ রকেটে একাধিক পেলোড বা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘মিশন এমব্রেস’ নামে একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এটি তৈরি করেছে হায়দরাবাদের আর একটি মহাকাশ সংস্থা কসমোসার্ভ স্পেস। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অকেজো উপগ্রহ এবং মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিরাপদে ধরার ব্যবস্থা তৈরি করা। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের নরম ও নমনীয় রোবোটিক বাহু। এই বাহুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো উপগ্রহকে আলতোভাবে ধরে ভবিষ্যতে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। বর্তমানে মহাকাশে হাজার হাজার অকেজো উপগ্রহ ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং সক্রিয় উপগ্রহগুলির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। কসমোসার্ভের এই উদ্যোগ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী

    মিশনে একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক পেলোডও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্কাইরুটের স্কোপ (SCOPE) উপগ্রহ, জার্মানির ডিসিইউ-বেড (DCUBED)-এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গ্রাহা স্পেস (Grahaa Space)-এর সোলারাস এস-৩ (SOLARAS S3), এবং কসমোসার্ভ স্পেস (Cosmoserve Space)-এর মহাকাশের আবর্জনা সংগ্রহের জন্য তৈরি এমব্রেস (Embrace) রোবোটিক বাহু। এছাড়াও প্রতীকী পেলোড হিসেবে থাকছে বেঙ্গালুরুতে তৈরি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের শিল্পকর্ম ‘Cosmic Bloom’ এবং শিল্পী অজয় কুমার ম্যাট্টেওয়াডার তৈরি ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষুদ্র রকেট, যা ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের পথিকৃৎ বিক্রম সারাভাই, সি. ভি. রমন এবং ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম-কে উৎসর্গ করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ

    ছোট স্যাটেলাইটের বাজার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, আর ভারতীয় মহাকাশ শিল্প ২০৩০ সালে ৭৭ বিলিয়ন ডলারের আকারে পৌঁছবে বলে অনুমান। সেই বাজারে নিজেদের জায়গা পাকা করতেই স্কাইরুটের এই নতুন উদ্যোগ। শ্রীহরিকোটা থেকে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার জন্য এসডিএসসি-এসএইচএআর (SDSC-SHAR)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্যও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে এই মিশনকে ইতিমধ্যেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল হলে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

LinkedIn
Share