মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো আসতে পারেন ভারত সফরে। তিনদিনের আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী (Vikram Misri’s US Visit)। সেখানে বাণিজ্য এবং ‘কোয়াড’-সহ নানা বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তার পরই আমেরিকার বিদেশ সচিবের ভারত সফরের বিষয়টি গতি পেয়েছে। বিক্রমের আমেরিকা সফরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকগুলিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোরে। তিনি পরে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বিক্রম মিস্রীকে স্বাগত জানাই। মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রুবিয়ো ভারত সফরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন’।
পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা
বিক্রম মিস্রী-র (Vikram Misri) সাম্প্রতিক এই সফর (৮–১০ এপ্রিল) ভারত–মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট (Chris Wright)-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশ অসামরিক পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি হল ভারতের নতুন পরমাণু আইন, যা গত ডিসেম্বর মাসে পাস হয়েছে।
শান্তি আইন (SHANTI) কী
ভারতের পরমাণু শক্তি খাতে বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করেছে ‘সাসটেনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (SHANTI)’ আইন। এই আইনের প্রধান লক্ষ্য, স্বাধীনতার ১০০ বছর তথা ২০৪৭-এ পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভারতের ‘শান্তি’ আইন ২০২৫-কে স্বাগত জানিয়েছে। বিলটি পাশ হওয়ার পরেই এটিকে ‘শক্তিশালী শক্তি নিরাপত্তা অংশীদারি’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা’র দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকা। কেন্দ্রের দাবি, এখন ৮.৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ২০৪৭-এ তা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া, যাতে পেট্রল-ডিজ়েল আমদানির উপরে নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়, সে জন্যই পরমাণু বিদ্যুৎক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নি প্রয়োজন।
পরমাণু খাতে বড় সংস্কার
নতুন শান্তি আইন (SHANTI) ভারতের পরমাণু নীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এতদিন এই খাত পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এখন থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলিও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। এই আইনের ফলে—
বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। পরমাণু উৎপাদন ক্ষেত্রে মার্কিন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ সহজ হবে। পরমাণু শক্তি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই আইনি সংস্কার ভারত–মার্কিন শক্তি সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
২০৪৭ লক্ষ্য: ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি
ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে— আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সফরে শুধু জ্বালানি নয়, আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে— বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উপর জোড় দিয়েছে দুই দেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক ও পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য চুক্তি
চলতি মাসের শেষেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছে এক উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল। লক্ষ্য, দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য চুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই খবর জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক নীতিগুলি সফল করতে মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে তাঁর ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গর বলেন, “ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে। এই মাসেই ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত।”
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
বিদেশ মন্ত্রক একটি সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিদেশ সচিবের ওয়াশিংটন ডিসি সফরের ফলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এই সফরে বিদেশ সচিব মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত এমন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসে।”
