Tag: voter list

voter list

  • Suvendu Adhikari: “প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন, কোনও মতুয়ার নাম বাদ যাবে না” মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে আশ্বাস শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন, কোনও মতুয়ার নাম বাদ যাবে না” মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে আশ্বাস শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে কোনও মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম বাদ দিতে দেওয়া হবে না বলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে এসআইআর-এ (SIR In West Bengal)ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে আশঙ্কায় রয়েছে মতুয়া সমাজ, তা কিছুটা নিরসন করার চেষ্টা করেন শুভেন্দু। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ (Bangaon) শহরে আরএস মাঠে মতুয়া ধর্ম মহা সম্মেলনে তাঁর বার্তা – ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে কোনও মতুয়ার নাম বাদ দিতে দেব না। তবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের (Rohingya Muslim) নাম থাকতেও দেব না। একই সঙ্গে তিনি এ তথ্যও দেন যে, সিএএ-তে (CAA) ইতিমধ্যে ৬০ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন। ১ হাজারের বেশি শংসাপত্রও পেয়ে গিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন

    বিজেপি দাবি করে আসছে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি (Bangladeshi) এবং রোহিঙ্গাদের নাম ভরে গেছে। এসআইআর হলে সেই নাম বাদ যাবে যে সংখ্যাটা হতে পারে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেছিলেন, ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম যাওয়ার মধ্যে যদি ১ লক্ষ মতুয়ারা থাকেন তাহলে এটুকু সহ্য করতে হবে। কিন্তু মতুয়াগড়ে সভা করে শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা – একটি নামও তিনি বাদ দিতে দেবেন না। কিন্তু বুধবার বনগাঁয় দাঁড়িয়ে মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বললেন, “প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন। মতুয়াদের কথা কেন্দ্র সবসময় ভাবে। তাই জন্যই সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। কারও কোনও চিন্তা নেই। কোনও মতুয়া উদ্বাস্তুর নাম বাদ যাবে না।”

    ভুল বোঝাচ্ছে তৃণমূল

    শুভেন্দুর বক্তব্যে এদিন ফিরে আসে তৃণমূলের ভুল বোঝানো প্রসঙ্গ। বলেন, এসআইআর নিয়ে মানুষকে লাগাতার ভুল বুঝিয়ে আসছে তৃণমূল, ঠিক যেমন এনআরসি-সিএএ নিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতার কটাক্ষ, একদিকে সিএএ-র বিরোধিতা করছে সরকার, অন্যদিকে মানুষকে আবেদনও করতে বলছে। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়, আক্রমণ শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)। এসআইআর-এ নাম তোলা নিয়ে এখনও রীতিমতো চিন্তায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিরাট অংশের মতুয়া সমাজ। কারণ তাঁদের মধ্যে অনেকের কাছেই যথাযোগ্য ডকুমেন্টস নেই। এমন পরিস্থিতিতে এসআইআর আতঙ্কে তাঁরা রীতিমতো ভয়ে কাঁটা। এদিন এসআইআর নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যদি কারও এসআইআর-এ নোটিশ দেওয়া হয়। তবে আপনারা যাবেন, ভয় পাবেন না। ৮৫ বছরের বেশি বয়স্কদের লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই। তাঁদের বাড়িতে লোক আসবে।”

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত

    প্রসঙ্গত, বুধবারই অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ (All India Matua Sangha) দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যান শান্তনু ঠাকুর। বেরিয়ে এসে তিনি বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। ওনাকে জানিয়েছি, মতুয়ারা নাগরিকত্ব পেতে চলেছে।”

    হিন্দু কেশাগ্র কেউ স্পর্শ করতে পারবেন না

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গে এসআইআর (SIR in Bengal) নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নাম যদি ইআরও কাটে। আমি অশোক কীর্তনিয়ার কাছে ফরম্যাট পাঠাব। ইও-র কাছে আবেদন করবেন। সেও যদি বাতিল করেন, তাহলে সিইও-র কাছে আবেদন করবেন। আর সিইও অফিসে আবেদনের বিষয় দায়িত্ব নেবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হিন্দু কেশাগ্র স্পর্শ করতে কেউ পারবেন না।” এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “সিএএ-র সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে মতুয়াবাড়ির সার্টিফিকেট কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করছে,করবে। এখনও অবধি ৬০ হাজার মানুষ সিএএ-তে আবেদন করেছেন।”

    মতুয়া সমাজকে ভোটব‍্যাঙ্কের চোখে দেখেন মমতা

    উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার মতুয়া সমাজকে ভোটব‍্যাঙ্কের চোখে দেখেন। তাই তাঁদের মধ্যে নানা ভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করেন। মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টাও আমরা দেখেছি। মমতাবালা ঠাকুরকে ব্যবহার করে ঠাকুরবাড়িতে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’শুভেন্দু বলেন, ‘‘সিএএ পাশ হওয়ার পরে গোটা দেশে কোথাও বিরোধিতা হয়নি। কিন্তু এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যা-ক্যা-ছি-ছি বলে মিছিল করতে নেমেছিলেন। বলেছিলেন সিএএ মানেই এনআরসি। তাঁর ভুল বোঝানোয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকে বিভ্রান্ত হন। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীরা তাঁদের রাস্তায় নামান। তার ফলে অনেক অশান্তি হয়, ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ফাটল ধরে।’’ এনআরসির ভয় দেখিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের পুরোটাই মমতা নিজের ঝুলিতে পুরে ২০২১ সালে ভোটে জিতেছিলেন বলে শুভেন্দু দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘‘সিএএ কার্যকর হওয়ার পরে এটা প্রমাণ হয়েছে যে, এটা এনআরসি নয়। কিন্তু আবার একটা ভোট এসেছে। তাই আবার ভয় দেখাতে হবে। এ বার হাতিয়ার করেছেন এসআইআর-কে।’’

    মতুয়াদের নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করেছেন মোদি

    প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের আমল থেকে মতুয়াদের ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আন্দোলন শুরু হলেও দশকের পর দশক বিষয়টি নিয়ে কোনও সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি বলে শুভেন্দু অভিযোগ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‘২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে শান্তনু ঠাকুরের সমর্থনে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন যে, মতুয়াদের নাগরিকত্বের ব্যবস্থা তিনি করবেন। সিএএ পাশ করিয়ে তিনি কথা রেখেছেন। আর মমতা মিথ‍্যাচার করে, অপপ্রচার করে হিন্দুদের দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। ঠাকুরবাডিতে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি।’’

     

     

     

  • SIR: ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছোচ্ছে তো? স্বচ্ছতা রাখতে বিএলও অ্যাপে নয়া অপশন

    SIR: ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছোচ্ছে তো? স্বচ্ছতা রাখতে বিএলও অ্যাপে নয়া অপশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা (SIR)। তালিকা প্রকাশ পেতেই দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মোট আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ যাঁদের ২০০২-এর এসআইআরের সঙ্গে কোনও লিঙ্কই নেই (BLO APP)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, প্রাথমিকভাবে এই ৩২ লাখ ভোটারের কাছেই হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছনো শুরু হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর থেকে হিয়ারিংয়ের নোটিশ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বিএলওরা। তবে, হিয়ারিংয়ের নোটিশ সঠিকভাবে বিএলওরা সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন কি না বা ভোটার সেটি গ্রহণ করছেন কি না, সে সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের তরফে এ বার যোগ করা হল বিএলও অ্যাপে একটি নয়া অপশন।

    নয়া অপশন (SIR)

    সোমবার সকাল থেকেই বিএলও অ্যাপ খুললে দেখা যাচ্ছে এই নতুন অপশনটি। নতুন অপশনটির নাম ‘ডেলিভারি অফ শিডিউল হিয়ারিং নোটিশ’। কমিশন সূত্রে খবর, কোনও বিএলও যখন কোনও ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ নিয়ে যাবেন, তখন তাঁকে একটি কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট ফরম্যাটে থাকা ফর্মে ভোটারকে দিয়ে সই করাতে হবে এই মর্মে যে, সংশ্লিষ্ট ভোটার হিয়ারিংয়ের নোটিশটি গ্রহণ করেছেন। তবে, শুধু ভোটারই নন, ফর্মটিতে সই করতে হবে বিএলওকেও। তারপর নয়া অপশনে আপলোড করতে হবে ওই ফর্মটি। কোনও একজন বিএলও যে বুথের দায়িত্বে রয়েছেন, সেই বুথে কোন কোন ভোটারের ডাক পড়েছে হিয়ারিংয়ে, সেই তালিকা রয়েছে এই নয়া অপশনে। ফলে, ভোটারের ও বিএলওর সইয়ের পর, অপশনটিতে ক্লিক করলে যে ইন্টারফেসটি খুলবে, সেখানে ‘আপলোড রিসিপ্টে’ গিয়ে ওই ফর্মটিকে আপলোড করতে হবে এবং তারপরেই হিয়ারিং সংক্রান্ত সেই তথ্য সরাসরি পৌঁছে যাবে কমিশনের কাছে।

    ঐক্যমঞ্চের বক্তব্য

    ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, অনেক ক্ষেত্রে শাসকদল ঘনিষ্ট বিএলওরা নোটিশ না দিয়েই বলতে পারেন, তাঁরা ভোটারের কাছে নোটিশ  পৌঁছে দিয়েছেন। অথবা, এমনটাও হতে পারে কোনও ভোটার নোটিশ পেয়েছেন, অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এসব সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বজায় থাকবে নয়া এই অপশনের মাধ্যমে। তবে, প্রতিদিন যেভাবে নতুন নতুন অপশন যোগ করছে কমিশন, তাতে অস্বস্তিতে পড়ছেন বিএলওরা। তিনি বলেন, আমরা কী অবস্থায় রয়েছি, সেটা কমিশনের দেখা উচিত (BLO APP)। প্রসঙ্গত, শনিবার রাজ্যের সিইও জানিয়েছিলেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকেই রাজ্যে শুরু হচ্ছে এসআইআরের হিয়ারিং পর্ব। ফলে, হিয়ারিংয়ে ডাক পড়া ভোটারের সংখ্যা কোথায় দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

    বাংলায় আসছেন ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল

    এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী-সহ ৩ সদস্যের (SIR) প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার আসছেন বাংলায়। বাংলায় এসআইআরের কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক গাফিলতি ধরা পড়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ প্রতিনিধি দল আসতে চলেছে। এই দলের সদস্যরা একদিকে যেমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন খসড়া তালিকা, তেমনই তাঁরা আসন্ন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজে যাতে আর কোনও গাফিলতি না হয়, তাও জানিয়ে দেবেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। বিশেষ এই টিমে থাকবেন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি জোশি ও ডেপুটি সেক্রেটারি অভিনব আগরওয়াল। ২৪শে ডিসেম্বর নজরুল মঞ্চে মাইক্রো অবজ়ারভারদের নিয়ে যে ট্রেনিং হবে, সেখানে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনের এই পদস্থ আধিকারিকেরা, এমনটাই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে। যাতে শেষ পর্যায়ে এসে আর কোনও ভুল না হয় সে কথা মনে করিয়ে দিতেই আসছেন তাঁরা (BLO APP)।

    প্রশিক্ষণ পর্ব

    অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ,মালদা, জলপাইগুড়ি, দুই দিনাজপুর, দুই ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমানের দায়িত্বে থাকা মাইক্রো অবজারভারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নজরুল মঞ্চে। দুটি পর্বে হবে এই প্রশিক্ষণ। প্রথম পর্ব, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় পর্বের মেয়াদ বেলা আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত (SIR)। জানা গিয়েছে, প্রায় (BLO APP) সাড়ে ৩ হাজার মাইক্রো অবজারভার অ্যাকটিভ রাখবে কমিশন। রিজার্ভ থাকছে আরও এক হাজার জন। সব মিলিয়ে থাকছেন সাড়ে ৪ হাজার মাইক্রো অবজারভার। মেট্রো রেল, দক্ষিণ পূর্ব রেল, জীবনবিমা নিগম,  কোল ইন্ডিয়া, ডিভিসি, শুল্ক দফতর-সহ কেন্দ্রীয় সরকারি নানা দফতর থেকে নেওয়া হচ্ছে এই আধিকারিকদের। ভোটার তালিকা ত্রুটি মুক্ত রাখতে প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালাবেন অবজারভাররা। তাঁরা বিএলওদের ডিজিটাইজ করা এনুম্যারেশন ফর্মের যাবতীয় নথি যাচাই করবেন। হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে মাইক্রো অবজারভারদের। হিয়ারিং প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম, নাম তালিকাভুক্ত করার ফর্ম, নাম (BLO APP) সংশোধন করার ফর্মের নথিপত্র যাচাই করবেন তাঁরাই (SIR)।

  • Draft Voter List: মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা, আপনার নাম আছে কিনা, জানবেন কীভাবে?

    Draft Voter List: মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা, আপনার নাম আছে কিনা, জানবেন কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে (SIR)। ১১ ডিসেম্বর ছিল এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন (Draft Voter List)। বিএলওরা এসআইআর ফর্ম সংগ্রহ করে আপলোড করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। এবার প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। ১৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। এই তালিকায় নাম থাকবে কিনা, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন বহু মানুষ, বিশেষত ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না যাঁদের।

    এসআইআর (Draft Voter List)

    উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করে তা নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টালে আপলোড করছেন বিএলওরা। এসবের ভিত্তিতেই এবার প্রকাশিত হতে চলেছে খসড়া ভোটার তালিকা। এই তালিকায় নাম রয়েছে কিনা, তা সহজে জানার দু’টি পদ্ধতির কথা জানিয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনের মাধ্যমেও জানা যাবে ওই তালিকায় নাম রয়েছে কিনা কোনও ব্যক্তির।

    অনলাইন পদ্ধতি

    প্রথমে জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে কীভাবে খুঁজবেন নাম রয়েছে কিনা? কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের ওয়েবসাইট eci.gov.in, বা voters.eci.gov.in সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গলের ওয়েব সাইট ceowestbengal.wb.gov.in  কিংবা ‘ECI NET’ অ্যাপে গিয়ে (SIR) নিজের নাম এবং এপিক নম্বর দিতে হবে। তাতেই জানা যাবে খসড়া তালিকায় সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম রয়েছে কিনা। সংশ্লিষ্ট ভোটারের জেলার তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ওয়েবসাইটে গিয়েও খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে কিনা, তাও দেখা যাবে (Draft Voter List)।

    অফলাইন পদ্ধতি

    এবার আসা যাক অফলাইনের বিষয়ে। রাজ্যের সব বিএলওকে দেওয়া হবে খসড়া তালিকার হার্ড কপি। ভোটাররা নিজ নিজ বুথের বিএলওর কাছে গিয়ে খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে পারবেন। কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের সুবিধার জন্য খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন বিএলওদের যতটা সম্ভব বুথে গিয়ে বসতে অনুরোধ করা হবে। এ ছাড়া রাজ্যের স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের হাতেও খসড়া তালিকার সফট কপি দেবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জেলাস্তর থেকে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের হাতে খসড়া ভোটার তালিকার হার্ড কপি দেওয়া হবে। তাঁদের (SIR) কাছে গিয়েও ভোটাররা জানতে পারবেন, তালিকায় তাঁদের নাম উঠেছে কিনা (Draft Voter List)।

    খসড়া তালিকা

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা থেকে কাদের নাম বাদ পড়েছে, তা নিয়েও আলাদা তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ এবং দাবি কমিশনে জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা, বিতর্কের নিষ্পত্তি করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা এবং আলোচনার সাক্ষেপে সন্দেহ দূর করার কাজ ইআরওরা করবেন ১৬ ডিসম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সব শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁদের অনলাইনে ফর্ম ৬ এবং অ্যানেক্সার ৪ পূরণ হবে।

    এসআইআরের সময়সীমা ফের বৃদ্ধি

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই দেশের সাত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সীমা ফের বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। সব চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশকে। যদিও সেই তালিকায় নেই পশ্চিমবঙ্গের নাম। এর অর্থ হল, পশ্চিমবঙ্গে পূর্বের সময়সূচি মেনেই এগোবে এসআইআরের কাজ। কমিশনের যুক্তি, এ রাজ্যে যেভাবে এসআইআরের কাজ এগিয়েছে, তাতে অতিরিক্ত সময় লাগার কথা নয়। এসআইআরের মূল কাজ পশ্চিমবঙ্গে প্রায় শেষ। তা ছাড়া, সামনেই রয়েছে বিধানসভা নির্বাচনও (Draft Voter List)। তাই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। কমিশনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে এ রাজ্যে (SIR)।

    মৃত ভোটারদের নাম বাদ

    কমিশন সূত্রে খবর, এনুমারেশন ফর্ম যাঁরা ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা করবেন না, তাঁদের নাম ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হতে চলা খসড়া তালিকা থেকে বাদ যাবে। খসড়া তালিকা থেকে বাদ যাবে মৃত ভোটারদের নামও। এনুমারেশন ফর্ম বাড়ি বাড়ি গিয়েও যাঁদের কোনও ঠিকানায় পাওয়া যায়নি, যাঁদের ফর্ম দেওয়া যায়নি, তাঁদের নাম থাকবে না খসড় তালিকায়। ডাবল এন্ট্রি থাকা ভোটারদের নামও বাদ যাবে। অর্থাৎ একই ভোটারের নাম দু’টি বুথ কিংবা দু’টি কেন্দ্রে পাওয়া গেলে, তাঁদের নাম বাদ পড়বে তালিকা থেকে।

    নাম বাদ পড়লে কী করবেন

    নাম বাদ পড়লে প্রাথমিকভাবে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে। সেখানে নির্বাচন কমিশন যেসব তথ্য নিয়ে যেতে বলেছে, সেগুলি নিয়ে যেতে হবে। তাঁরা সেই ডকুমেন্টস দেখে সন্তুষ্ট হলে কোনও সমস্যা নেই। আপনার নাম উঠে যাবে ভোটার লিস্টে। কোনও বাড়তি পদক্ষেপ করতে হবে না। একান্তই যদি সেই হিয়ারিংয়ের সন্তুষ্ট না হয় কমিশন, তাহলে নাম বাদ যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে (SIR) আপনাকে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে (Draft Voter List)।

  • Election Commission: এসআইআর করে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন! রাজ্যের অভিযোগ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    Election Commission: এসআইআর করে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন! রাজ্যের অভিযোগ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর করে বহু ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন মোদি-বিরোধীরা। এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে সেই সব অভিযোগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের (Supreme Court) নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ অতিরঞ্জিত। কমিশন আরও জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি অনুমান ছাড়া আর কিছুই নয়।

    এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ (Election Commission)

    পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল, ডিএমকে, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বাংলা শিবির। বিরোধী দলগুলির সেই আবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের বক্তব্য হলফনামা আকারে জমা দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ। সেই মামলায় পৃথক হলফনামা দাখিল করে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি খারিজ করার আবেদন জানান কমিশনের সচিব পবন দিওয়ান। গত ২৬ নভেম্বর সাংসদ তৃণমূলের দোলা সেন এবং অন্যদের দাখিল করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ৮১ পাতার হলফনামা দিয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ রাজনৈতিক স্বার্থপূরণের উদ্দেশ্যেই। হলফনামায় কমিশন আরও জানিয়েছে, এসআইআর কোনও নতুন প্রক্রিয়া নয়। ভোটার তালিকায় যাতে কোনও সমস্যা না থাকে তা দেখার দায়িত্ব কমিশনেরই। বহু বছর ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের সংবিধানও কমিশনকে সেই অধিকার দেয় (Election Commission)।

    হলফনামায় পশ্চিমবঙ্গের নাম

    আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় পশ্চিমবঙ্গের নাম আলাদা করে উল্লেখ করেছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, বাংলায় ইতিমধ্যেই ৯৯.৭৭ শতাংশ ভোটারের কাছে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে গিয়েছে (Supreme Court)। তার মধ্যে ৭০.১৪ শতাংশ ফর্ম পূরণের পর ফেরতও চলে এসেছে। বুথ লেভেল আধিকারিকরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন। পরে ফর্ম পূরণের পর তা সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন কমিশনের কাছে। কোনও বাড়িতে কেউ না থাকলে, বিএলওরা সেখানে তিনবার করে যাচ্ছেন। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নামই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। কমিশন তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। এসআইআর প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়িত এবং কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করছে কমিশন।

    নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য!

    হলফনামায় কমিশন বার বার দাবি করেছে, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে পরিবেশন করার চেষ্টা চলছে (Election Commission)। আর এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। কমিশনের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার বদলে হাঁটছে সমালোচনার পথে। কমিশনের আইনজীবীর অভিযোগ (Supreme Court), রাজনৈতিক দলগুলি বিএলওদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করছে। তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এদিন আদালতের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এর আগে দেশে এসআইআর হয়নি এই যুক্তি দেখিয়ে একাধিক রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত বৈধ কিনা, তা পরীক্ষা করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ৬ নম্বর ফর্মের শুদ্ধতা নির্ণয় করার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কোনও ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে তাঁকে নিজেকে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হয়।

    আধার কার্ড নাগরিকত্বের সার্বিক প্রমাণ নয়

    দেশের শীর্ষ আদালত ফের একবার জানিয়ে দিয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের সার্বিক প্রমাণ নয়। তাই আমরা বলেছি, প্রামাণ্য নথিগুলির মধ্যে অন্যতম নথি এটি। কিন্তু কারও নাম বাদ গেলে কেন নাম বাদ দেওয়া হল, সে সংক্রান্ত নোটিশ দিতে হবে। বেঞ্চ বলে, “কিছু সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছিল। কোনও (Election Commission) ব্যক্তিকে রেশন পাওয়ার জন্য আধার কার্ড দেওয়া হয়েছে। তাহলে কি শুধু সেই কারণেই তিনি ভোটার হবেন? এমনও তো হতে পারে, কেউ প্রতিবেশী দেশের নাগরিক এবং তিনি এখানে একজন শ্রমিকের কাজ করেন।” আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “আপনারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন পোস্ট অফিস। যেখানে ৬ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়া হবে এবং তারা আপনার নামটি নথিভুক্ত করবে।” এর পরেই বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের সব সময় এই সাংবিধানিক এক্তিয়ার রয়েছে (Supreme Court), তারা নথিটি সত্য কি না, তা যাচাই করতে পারে (Election Commission)।

  • SIR in Bengal: রাজ্যে এখনও ২৬ লক্ষ ভোটারের নাম ম্যাপিং-এ মেলেনি! কী হবে এদের, কী বলছে কমিশন?

    SIR in Bengal: রাজ্যে এখনও ২৬ লক্ষ ভোটারের নাম ম্যাপিং-এ মেলেনি! কী হবে এদের, কী বলছে কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে এসআইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। এখন হিসেব-নিকেশের পালা। ফর্ম বিলি করার পর সংগ্রহ করার কাজও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৬ কোটি ভোটারের ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ হওয়ার পথে। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ডিজিটাইজেশনের পর ১৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। আর এবার সামনে এল আরও একটি হিসেব। কমিশন (Election Commission) সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬ লক্ষ ভোটারের ম্যাপিং হয়নি। চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত রাজ্যে ৬ কোটির বেশি এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলি ম্যাপিংয়ের আওতায় আনা হয়। তাতে দেখা যায় আপাতত রাজ্যের ২৬ লক্ষ ভোটারের নাম শেষ এসআইআরের সঙ্গে ম্যাপিং করানো যাচ্ছে না।

    ম্যাপিং কী, কীভাবে হয়

    এসআইআর-এর (SIR in Bengal) নিয়ম হল, ২০০২-এর সমীক্ষার লিস্টের সঙ্গে নাম মেলাতে হবে। যদি কোনও ভোটার ২০০২-এর পরে ভোটার হয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ওই সমীক্ষার লিস্টে থাকা বাবা-মা বা দাদু-দিদার নাম মেলাতে হবে। এটাই হল ম্যাপিং। সেই ম্যাপিং-এ ২৬ লক্ষ নাম মেলেনি বলেই জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ ৫ শতাংশের নাম মেলেনি। এ বছর প্রকাশিত সর্বশেষ ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০০২ সালে শেষ এসআইআর-তালিকা ইতিমধ্যেই মিলিয়ে দেখা হয়েছে। দুই তালিকায় কত জনের নাম অভিন্ন, দেখা হয় তা। সঙ্গে দেখা হয়, এখনকার ভোটার তালিকায় থাকা কোনও ভোটারের মা-বাবার নাম গত এসআইআরের তালিকায় রয়েছে কি না। এই মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টরা চিহ্নিত হয়ে যান এমনিতেই। এবার ম্যাপিংয়ে অন্য রাজ্যকেও জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর সূত্রে এ কথা জানা গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজ্য ধরে ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে দেশে এসআইআর হয়েছিল। তখনকার তালিকায় কোনও ভোটার বা তাঁর পরিবারের নাম থাকলেও, পরে তাঁরা বাংলায় চলে আসেন। ফলে সেই সব ভোটারকেও ম্যাপিংয়ে আনা প্রয়োজন। কারণ, তাঁরাও দেশের নাগরিক। তাই বাংলার সঙ্গে অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানেই এই ২৬ লক্ষের নাম উঠে এসেছে। তবে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এখনও অনেক ডিজিটাইজেশনের কাজ বাকি। তাই সংখ্যাটা যে বাড়বে তা স্বাভাবিক।

    শুনানিতে ডাকা হবে ভোটারকে

    কমিশন (Election Commission) সূত্রে খবর, নাম মিলছে না মানেই চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবে এমনটা নয়। ২০০২-এর সঙ্গে ম্যাপিং না হলে শুনানিতে ডাকা হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। তাঁকে প্রমাণপত্র বা যোগ্য ভোটার হওয়ার জন্য নথিপত্র জমা করতে হবে। তাতে যদি কমিশন সন্তুষ্ট হয়, তাহলে নতুন এসআইআর তালিকায় জায়গা পাবে ওই ভোটারের নাম, নাহলে নাম বাদ যাবে। কমিশনের বক্তব্য, যাঁদের তথ্য মিলেছে, তাঁদের আলাদা করে কোনও নথিপত্র বা প্রমাণ দাখিল করতে হবে না। কমিশনের দেওয়া আবেদনপত্র (এনুমারেশন ফর্ম) ভর্তি করলেই চলবে। যাঁদের নামের মিল বা সূত্র পাওয়া যাবে না, তাঁদের ক্ষেত্রে নথিপত্র-যাচাই করা হবে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি। তার মধ্যে বুধবার পর্যন্ত বিলি হয়েছে ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ ৬৮ হাজারেরও বেশি ফর্ম। অর্থাৎ, প্রায় ৯৯.৮ শতাংশ। ডিজিটাইজেশন হয়েছে ৬ কোটি ১ লক্ষ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৭৮ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম।

  • Suvendu Adhikari: বর-বউয়ের বাবা একই! এসআইআর চালু হতেই প্রকাশ্যে জালিয়াতি

    Suvendu Adhikari: বর-বউয়ের বাবা একই! এসআইআর চালু হতেই প্রকাশ্যে জালিয়াতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি সম্পর্কে জামাই। অথচ ভোটার কার্ডে তাঁকে দেখানো হয়েছে ছেলে হিসেবে। আর মেয়ের জৈবিক বাবাও তিনি। যার অর্থ দাঁড়ায়, এই (Suvendu Adhikari) পরিবারে বিয়ে হয়েছে ভাই-বোনের মধ্যেই (SIR)। আজ্ঞে না, বাবার নামের জায়গায় শ্বশুরের নাম দিয়ে দিব্যি বানানো হয়েছে ভোটার কার্ড। এসআরএরের গুঁতোয় এমন ঘটনাই প্রকাশ্যে এল।

    শ্বশুরকে বাবা বানিয়ে ভোটার কার্ড (Suvendu Adhikari)

    ঘটনাটি খুলে বলা যাক। রাজ্যে এসআইআর চালু হতেই ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা হাকিমপুরের মতো সীমান্ত দিয়ে পিলপিল করে পালাতে শুরু করেছে। এই সময়ই ঝুলি থেকে বের হচ্ছে একের পর এক বেড়াল। তবে শ্বশুরকে বাবা বানিয়ে ভোটার কার্ড বানানোর জালিয়াতির পর্দা ফাঁস করে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকে নিশানা করে দীর্ঘ একটি পোস্টও করেছেন শুভেন্দু। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘এসআইআরের ধাক্কায় শ্বশুর যখন বাবা’। এর স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে ভোটার তালিকার ছবিও দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

    স্বামীর বাবা আর স্ত্রীয়ের বাবা একজনই

    এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “ভোটার তালিকায় স্বামীর বাবা আর স্ত্রীয়ের বাবা যে একজনই, এসআইআরের দৌলতে তা-ও দেখতে হচ্ছে। যদিও বঙ্গেশ্বরীর রাজত্বে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। এসআইআর চালু হওয়ার পরে এ রাজ্যে নিত্য নতুন রঙ্গ তামাশা দেখছে জনগণ। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার রামনগর (Suvendu Adhikari) গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬৫ নম্বর বুথের ভোটার মণিরুজ্জামান মণ্ডল ও আর্জিনা মণ্ডল স্বামী-স্ত্রী। মণিরুজ্জামান ওই বুথেরই তৃণমূল নেতা, আর আর্জিনা আইসিডিএস কর্মী এবং তৃণমূল কর্মী। তাঁদের দু’জনের পিতার নামই মিজানুর মণ্ডল। জানা গিয়েছে, আর্জিনার জন্মদাতা হলেন মিজানুর। ওই বুথটি আবার রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ও তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বাসুদেব ঘোষের বুথ। এই বাসুদেবের ছেলেই আবার ওই বুথের বিএলও। মনিরুজ্জামান আবার বাসুদেবের ডানহাত বলে এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, এই বিএলও-ই কারসাজি করে মণিরুজ্জামান ও মিজানুরকে ম্যাপিংয়ে বাবা ও ছেলে হিসেবে দেখিয়েছেন।” তিনি লেখেন, “দিকে দিকে ভাড়া করা বাবা-মায়ের ছড়াছড়ি (SIR)। সঠিকভাবে এসআইআরের কাজ সম্পন্ন হলে এই ধরনের ভুয়ো ভোটার ধরা পড়বে (Suvendu Adhikari), পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যাও কমে যাবে।”

     

  • Suvendu Adhikari: ‘১ কোটি ১৫ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ যেতে পারে’! এসআইআর নিয়ে তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘১ কোটি ১৫ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ যেতে পারে’! এসআইআর নিয়ে তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর ইস্যু নিয়ে ফের রাজ্যের শাসকদলকে তোপ দাগলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর পর রাজ্যে ১ কোটি ১৫ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত ও অবৈধ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক বাঁচিয়ে রাখতেই এত এসআইআরের বিরোধিতা করছে শাসকদল তৃণমূল। মাল্টিপেল ডুপ্লিকেট ভোটার, মৃত ভোটার, একই বুথে ডবল ভোট এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভোট, তৃণমূলের সাফল্যের অঙ্ক। রাজ্যের শাসকদলকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের যন্ত্রণা ও ভেঙে পড়ার কারণ পরিষ্কার। এর কারণ মৃত ভোটার। সকালের পোশাক বদলে বিকেলে ভোট দেওয়া হয়।”

    লক্ষণ এসআইআর আতঙ্ক, রোগ আত্মহত্যা

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা আত্মহত্যার অভিযোগকে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তিনি বলেন, ‘‘১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলে এসআইআর হচ্ছে। কোথাও মৃত্যু হচ্ছে না। এখানেই শুধু হচ্ছে। লক্ষণ এসআইআর আতঙ্ক, রোগের নাম আত্মহত্যা। আমার মনে হয় ভাল চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। তবে যদি এই রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।’’ পাশাপাশি তিনি আরও জুড়ছেন, ‘‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা অভিযোগ। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা বলে দিচ্ছে আর তৃণমূল নেতারা সেই নিয়ে প্রচার করছেন। এতে কোনও লাভ হবে না।’’

    ১ কোটি ১৫ লক্ষ মতো বাদ পড়তে পারে

    বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আর ওঁর ভাইপো আর প্রতীক জৈন একটা মিটিং করেছেন, আইপ্যাক আর পুলিশ রিপোর্ট করেছে, ১ কোটি ১৫ লক্ষ মতো বাদ যেতে পারে এবং গেলে ওঁরা জিতবেন না, তারপর নতুন করে পুলিশের তালিকা তৈরি করতে বলেছে, যদি পুলিশকে দিয়ে উদ্ধার পাওয়া যায়, নতুন পুলিশের ট্রান্সফার তালিকা তৈরি হচ্ছে, ৭ ডিসেম্বর বের হবে। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এসআইআর..এনুমারেশন ফর্ম পূরণের কাজ চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তারপর ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন, তখন নিশ্চিতভাবে জানা যাবে কার নাম বাদ গেল, আর কার নাম থাকল।’’ বাংলায় এসআইআর শুরুর পর থেকে শুভেন্দু দাবি করে আসছেন, এক কোটি নাম বাদ যাবে। তার মধ্যে মৃত ভোটার, মাল্টিপেল ডুপ্লিকেট ভোটার, অনুপ্রবেশকারী রয়েছে জানিয়ে তিনি এদিনও বলেন, “২০০২ সালে বাদ গিয়েছিল ২৬ লক্ষ। এবার আরও বেশি নাম বাদ যাবে। আরও বেশি নাম বাদ যেত যদি রাজ্য সরকার সাহায্য করত। এবার ৮০ শতাংশ এসআইআর সফল হবে।”

    ভারতীয় মুসলিমদের বার্তা শুভেন্দুর

    এদিন ফের ভারতীয় মুসলিমদের বার্তা দেন তিনি। বলেন, “বিহারে অনেক রাষ্ট্রবাদী মুসলিম এনডিএ-কে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছেন। এখানেও আমরা রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের কাছে আবেদন করেছি। গরিষ্ঠ সংখ্যক ভারতীয় মুসলমানরা আমাদের ভোট না দিলেও আমরা বারবার বলেছি, এসআইআর নিয়ে ভারতীয় মুসলিমদের কোনও চিন্তা নেই।” বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-দের বিরুদ্ধে ফর্ম না দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। এই নিয়ে বিএলও-দের সতর্ক করলেন শুভেন্দু। জানালেন, অভিযুক্ত বিএলও-দের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবেন তাঁরা। কমিশন যাতে ওইসব বিএলও-দের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করে, সেই দাবি জানাবেন। একাংশ বিডিও-র সঙ্গে আইপ্যাকের টিম প্রতিদিন দুপুরে বৈঠক করছেন বলেও অভিয়োগ করেন তিনি।

  • SIR: বাংলা-বিহার দুই রাজ্যেরেই ভোটার ভোটকুশলী পিকে! হলটা কী ‘SIR’?

    SIR: বাংলা-বিহার দুই রাজ্যেরেই ভোটার ভোটকুশলী পিকে! হলটা কী ‘SIR’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি ভোটকুশলী। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘কৌশল’ বেচে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জেতানোয় তাঁর নাকি (SIR) দারুন হাতযশ! আদতে বিহারের বাসিন্দা এই প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) ওরফে পিকে-কে ২০১৪ সালে বাংলায় ডেকে নিয়ে এসেছিলেন কালীঘাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য তথা তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। উদ্দেশ্য ছিল, বাংলায় তৃণমূলকে ভোট-বৈতরণী পার করে দেওয়া। জনশ্রুতি এই যে, পিকের সংস্থার দাওয়াইয়ের জেরেই পর পর দু’বার ক্ষমতায় এসে টানা তিনবার মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে রয়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ‘জন সুরাজ পার্টি’ নামে নিজে একটি দলও খুলেছেন পিকে। আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট-ময়দানে নেমেও পড়েছে তাঁর দল। এহেন পিকেই ফের একবার চলে এলেন খবরের শিরোনামে। না, রাতারাতি বিরাট কিছু করে ফেলেননি তিনি। তবে বাংলায় এসআইআরের ঢাকে কাঠি পড়তেই ‘মুখোশ’ খুলে পড়েছে এই ভোটকুশলীর।

    বাংলায় এসআইআর (SIR)

    ফেরা যাক খবরে। ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে এসআইআর করতে চাইছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কেবল এ রাজ্যেই নয়, গোটা দেশেই, যে প্রক্রিয়ার নান্দীমুখ হয়ে গিয়েছে পড়শি রাজ্য বিহারে। সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন বাংলায় এসআইআরের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। রাত ১২টায় ফ্রিজ করে দেওয়া হয় ভোটার তালিকা। তার পরেই দেখা গেল, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়েছে কেউটে! জানা গেল, বাংলা এবং বিহার দু’রাজ্যেরই ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে ভোটকুশলীর নাম! পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা অনুযায়ী, তিনি কলকাতার বাসিন্দা। ঠিকানা ১২১, কালীঘাট রোড। এই ঠিকানাটি আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের শীর্ষ কমান্ডার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর এলাকার মধ্যে পড়ে। প্রশান্ত কিশোরের নাম রয়েছে বিহারের করহাগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায়ও। ওই রাজ্যে তাঁর ভোটকেন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কোনার। এই গ্রামই প্রশান্ত কিশোরের পৈতৃক গ্রাম।

    একই সঙ্গে দুই রাজ্যের ভোটার পিকে

    অর্থাৎ একই প্রশান্ত কিশোর একই সঙ্গে দুই রাজ্যের (SIR) ভোটার। একটি রাজ্যে লড়ছে তাঁর দল, আর একটি রাজ্যে তৃণমূলকে জেতাতে মরিয়া তাঁরই হাতে গড়া সংস্থা আই-প্যাক। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানতে চেয়েছে, প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) কি নাম কাটার জন্য আবেদন করেছিলেন? বিষয়টি ইচ্ছাকৃত কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে কমিশন। উল্লেখ্য, কোনও একজন ভোটারের একই সঙ্গে দুই জায়গার ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ম বহির্ভূত।

    পিকের টিমের বক্তব্য

    একই সঙ্গে দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি পিকে স্বয়ং। তবে তাঁর টিমের এক সদস্য বলেন, “বঙ্গের ভোট শেষ হওয়ার পরই তিনি ভোটার হন বিহারের। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।” তবে সেই আবেদন বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয় (SIR)। এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিনোদ সিং গুঞ্জিয়াল।

    কী বলছে আইন

    প্রসঙ্গত, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নাম রাখতে পারেন না। ১৮ নম্বর ধারায়ও বলা হয়েছে, একই কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় একাধিকবার নাম তোলা আইন বিরুদ্ধ। তবে, কোনও ভোটার বাসস্থান পরিবর্তন করলে তিনি ফর্ম ৮ পূরণ করে নয়া ঠিকানার ভোটার তালিকায় তাঁর নাম স্থানান্তর করতে পারেন (SIR)। নির্বাচন কমিশনের মতে, দেশে একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম থাকা নতুন কিছু নয় (Prashant Kishor)। এই কারণেই নির্বাচন কমিশন চালু করেছে এসআইআর, যার নান্দীমুখ হয়ে গিয়েছে বিহারে। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৬৮.৬৬ লাখ নাম। এর মধ্যে ৭ লাখ ভোটারের নামই ছিল একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায়।

    বিজেপির বক্তব্য

    এ প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য লেখেন, “জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার — দুই জায়গায়ই… আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাহুল গান্ধীর সব সহযোগীরাই ‘ভোট চুরি’তে জড়িত। এই কপটতা বিস্ময়কর।”

    তৃণমূলের বক্তব্য

    কলকাতার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১২১, কালীঘাট রোড আমাদের দলীয় কার্যালয়। প্রশান্ত কিশোর তখন এখানে কাজ করতেন এবং প্রায়ই থাকতেন। তবে তিনি এখান থেকে ভোটার হিসেবে নাম তুলেছেন কিনা, তা জানি না (SIR)।” রাজনৈতিক মহলের মতে, কাজরি না জানলেও, বিষয়টি নিশ্চিত জানতেন তৃণমূলের সর্বময় কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জানতেন পিকের টিমের সদস্যরা। তাছাড়া, পার্টি অফিসের ঠিকানা (Prashant Kishor) দেখিয়ে যে কোনও ‘গৃহস্থে’র নাম (পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী এবং পার্টি অফিসই যাঁর ঘর, তাঁদের কথা অবশ্য আলাদা) ভোটার তালিকায় তোলা যায়, তা দেখিয়ে দিলেন (SIR) ভোটকুশলী স্বয়ং।

    এটাও কি ভোটকৌশলেরই অঙ্গ ‘SIR’?

  • ECI: ভোট ‘চুরি’ রুখতে নয়া দাওয়াই নির্বাচন কমিশনের, কী করতে হবে ভোটারকে?

    ECI: ভোট ‘চুরি’ রুখতে নয়া দাওয়াই নির্বাচন কমিশনের, কী করতে হবে ভোটারকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আনতে বড় উদ্যোগ নিল ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। যেহেতু এবার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে ভোটার কার্ড নিয়ে (Online Voter), তাই আর ভোট চুরির অভিযোগ তোলা যাবে না, ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না আর কোনও ভোটারের নাম। এবার জেনে নেওয়া যাক নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তটা ঠিক কী, ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য ভোটারদেরই বা কী করতে হবে।

    রাহুল গান্ধীর অভিযোগ (ECI)

    কর্নাটকে ভোট চুরি হয়েছে বলে গলা ফাটিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, কর্নাটকের আলন্দ বিধানসভায় অন্তত ৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে ভোট চুরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন রাহুল। যদিও রাহুলের অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এসব নিয়ে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখনই নয়া নিয়ম আনল নির্বাচন কমিশন। বিতর্কের আবহেই নিজেদের পোর্টালে ‘ই-স্বাক্ষর’ ব্যবস্থা চালু করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, এই ব্যবস্থায় একমাত্র আধার কার্ডের মাধ্যমেই ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা নাম বাদ দেওয়া কিংবা তথ্য সংশোধন করা যাবে।

    কমিশনের নয়া নিয়ম

    কমিশনের নয়া নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইনে যদি কোনও ভোটার তাঁর নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া বা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন (ECI), তখন তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এত দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬, নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম ৭ এবং তথ্য সংশোধনের জন্য ফর্ম ৮ ফিল-আপের সময় এপিক নম্বর দিতে হত ভোটারদের। আলাদাভাবে আর কোনও তথ্য যাচাই করা হত না। এবার ফর্ম ফিলআপের সময় আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশনও করতে হবে।

    মঙ্গলবার থেকে চালু হয়েছে নয়া নিয়ম। নতুন এই ব্যবস্থায় তিনটি ফর্ম ফিল-আপের সময়ই আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করা হবে। দেখা হবে, যাঁর নাম বাদ যাবে, তিনি নিজেই আবেদন করছেন, না কি তাঁর হয়ে অন্য কেউ?

    জানা গিয়েছে, ভোট দিতে হলে আবেদনকারীকে প্রথমে ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে। সেটি জমা দিতে গেলেই খুলবে একটি ‘ই-স্বাক্ষর’ পোর্টাল। সেখানে আবেদনকারীকে নিজের আধার নম্বর দিতে হবে। তাতে ওই আধার নম্বরের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি দিলে তবেই সম্পূর্ণ হবে যাচাই প্রক্রিয়া (Online Voter) এবং আবেদনকারীর আবেদন সঠিকভাবে জমা পড়বে (ECI)।

  • SIR: বাংলায় এসআইআর শুরুর প্রস্তুতি, ভোটার ম্যাপিংয়ের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

    SIR: বাংলায় এসআইআর শুরুর প্রস্তুতি, ভোটার ম্যাপিংয়ের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় এসআইআর-এর (SIR) লক্ষ্যে আরও একধাপ এগলো নির্বাচন কমিশন। এবার রাজ্যের ভোটার তালিকার মূল্যায়ন শুরু করতে চলেছে তারা। এ রাজ্যে শেষবার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসের ওয়েবসাইটে সেই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই ভোটার তালিকার সঙ্গে এবার মিলিয়ে দেখা হবে রাজ্যের বর্তমান ভোটার তালিকা -কমিশনের ভাষায় ‘ম্যাপিং অফ ইলেক্টর’ (Voter Mapping)।

    ‘ম্যাপিং অফ ইলেক্টর’ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ (SIR)

    ১০ অগাস্ট দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সিইওদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। ওই বৈঠকেই ‘ম্যাপিং অফ ইলেক্টর’ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই মতো এই প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে সিইও অফিস। মূলত, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কাজ করবেন বুথ লেভেল আধিকারিকরা। এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বরই রাজ্যে আসছেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করতে পারেন তিনি। অন্য একটি সূত্রের খবর, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে রাজ্যের এসআইআর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ২০ তারিখে দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার কথা তাঁর। সেখানে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবেন তিনি।

    সারা দেশেই এসআইআর চালু

    বিহারের পর এবার সারা দেশেই এসআইআর চালু করার পথে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব রাজ্যকে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। অক্টোবরে জারি করা হতে পারে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। তার পরেই শুরু হতে পারে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। যদিও ঠিক কবে থেকে এই কাজ শুরু হবে, তা জানা যায়নি। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের (SIR) তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রস্তাব দেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হলে রেশন কার্ড এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকেও নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি হিসেবে গ্রহণ করা হোক। রাজ্যের দাবি পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের সাফ কথা, আধার কার্ডের পরে আর কোনও নথি গ্রহণ করা হবে না। সারা দেশেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর হবে আগে

    সামনেই রয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বণ দুর্গাপুজো। তাই এ রাজ্যে এসআইআরের কাজ শুরু হবে পুজোর পরে। যদিও নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতেও সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। অক্টোবরের প্রথম দিকেই শেষ দুর্গাপুজো। কালীপুজো-ভাইফোঁটার পর্ব চুকতে আরও দিন পনেরো। তার পরেই জোরকদমে (Voter Mapping) শুরু হয়ে যাবে এসআইআর প্রক্রিয়া। কারণ বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে এই রাজ্যগুলিতে (SIR)।

LinkedIn
Share