Tag: Waqf properties

  • Waqf Properties: ‘উমিদ’ সেন্ট্রাল পোর্টালে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বাতিল বাংলার ৩,৫০৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি

    Waqf Properties: ‘উমিদ’ সেন্ট্রাল পোর্টালে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বাতিল বাংলার ৩,৫০৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল শাসিত বঙ্গে ‘উমিদ’ (UMEED) সেন্ট্রাল পোর্টালে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় ৩,৫০৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Properties) বাতিল করা হয়েছে। পোর্টালটিতে আপলোড করা হয়েছিল মোট ৮৫,১১০টি ওয়াকফ সম্পত্তি। তার মধ্যে মাত্র ১৮,৪৯৭টি সম্পত্তি যাচাই ও অনুমোদিত হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের উত্তরে একথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৮০,৫৪৮টি ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে মাত্র ২৩,০৯১টি উমিদ পোর্টালে আপলোড করা হয়েছিল। এর কারণ জানতে চান বিজেপি সাংসদ। জানতে চান, ঘটনায় দায়ী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    শমীকের প্রশ্ন (Waqf Properties)

    শমীক জানতে চান, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পোর্টাল বন্ধ হওয়ার আগে কেন মাত্র ২৩,০৯১টি সম্পত্তি আপলোড করা হয়েছিল? এটি উমিদ কাঠামোর নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে কিনা। তাঁর প্রশ্ন, একাধিক পর্যালোচনা ও ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ ওয়াকফ বোর্ড কেন (Waqf Properties) এত কম সংখ্যক সম্পত্তি আপলোড করেছে? বিজেপির এই সাংসদ এও জানতে চান, নির্ধারিত সময়ে আপলোড না হওয়া সম্পত্তিগুলির আইনি অবস্থান কী? ভবিষ্যতেই বা কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? দায়ী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, তাও জানতে চান তিনি।

    কী বললেন কিরেন রিজিজু

    সংখ্যালঘু বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, ৬ জুন ২০২৫ তারিখে উমিদ সেন্ট্রাল পোর্টাল চালু হয়। সংশোধিত আইনের আওতায় রেজিস্ট্রিকৃত সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য ৬ মাসের মধ্যে আপলোড করা বাধ্যতামূলক ছিল। প্রয়োজনে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনাল আরও ৬ মাস সময় বাড়াতে পারত। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ওই দিন রাত্রি ১১:৫৯-এ পোর্টাল বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, “প্রথম ৬ মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৩,০৯১টি সম্পত্তির তথ্য (Waqf Properties) আপলোড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭১৬টি অনুমোদিত হয় এবং ১৬১টি বাতিল করা হয়, বাকিগুলি বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল। পরে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের জন্য সময় বাড়ানো হয়। পরে ফের পোর্টাল খোলা হয়েছে। খোলা থাকবে ২৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। ১৭ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮৫,১১০টি সম্পত্তি আপলোড হয়েছে, যার মধ্যে ১৮,৪৯৭টি অনুমোদিত এবং ৩,৫০৯টি বাতিল হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, আপলোডিং, যাচাই ও অনুমোদনের কাজ এখনও চলছে।চূড়ান্ত তথ্য যেমন, মামলা, দখলদারিত্ব, শ্রেণিবিভাগ, সম্পত্তির মূল্য ইত্যাদি—সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারণ করা যাবে না (Waqf Properties)।

    অমিত মালব্যর প্রশ্ন

    এদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় সংখ্যক সম্পত্তি যাচাইয়ে কেন বাতিল হল? তাহলে কি তথ্যগত ত্রুটি ছিল, নাকি কারচুপি হয়েছে, নাকি নথিপত্র অসম্পূর্ণ ছিল?” প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিও দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই “ইউনিফায়েড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রুলস, ২০২৫” জারি করা হয়। ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫-এর অধীনে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল, রেকর্ড ডিজিটাইজেশন, নজরদারি বৃদ্ধি, অডিট দ্রুত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

     

  • Waqf Amendment Bill: ওয়াকফ সংশোধনী বিল: কিছু রটনা ও আসল ঘটনা

    Waqf Amendment Bill: ওয়াকফ সংশোধনী বিল: কিছু রটনা ও আসল ঘটনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি অধিবেশনেই সংসদে পেশ হতে পারে ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Amendment Bill) ২০২৪। এই বিল নিয়ে জনমানসে, বিশেষ করে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন বিরোধীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই তাঁরা এসব করে বেড়াচ্ছেন। আজ আমরা ফাঁস করব আসল রহস্য। জানব আসলে ঠিক কী বলা হয়েছে বিলে। তার আগে আসুন জেনে নেওয়া যাক, ওয়াকফ সম্পত্তি কী?

    ওয়াকফ সম্পত্তি কী? (Waqf Amendment Bill)

    ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Properties) হল সেই স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, যা দলিলের মাধ্যমে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে দেওয়া হয়। (অনেকটা হিন্দুদের দেবত্র সম্পত্তির মতো। তবে হিন্দুদের দেবত্র সম্পত্তিতে সব হিন্দুর অধিকার থাকে না। ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিশ্বের সব মুসলমানের অধিকার থাকে।) এই সম্পত্তি চ্যারিটি কিংবা সেবার কাজে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার উত্তরসূরি হিসেবে ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করেন। ওয়াকফ সম্পত্তি কখনও হস্তান্তর করা যায় না। এই সম্পত্তি মূলত ব্যবহার করা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবর, মসজিদ কিংবা গরিব মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য। ওয়াকফ সম্পত্তি যাদের দায়িত্বে থাকে, আইনি ভাষায় তারাই ওয়াকফ বোর্ড। ১৯৬৪ সালে তৈরি হয় সেন্ট্রাল ওয়াকফ কাউন্সিল। দেশজুড়ে ওয়াকফ বোর্ডগুলি এই কাউন্সিলের নজরদারিতে চলে। এই ওয়াকফ সম্পত্তিতে নানা সময় উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। সেই দুর্নীতিই দূর করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

    এবার জেনে নেওয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিলের আইনি পরিবর্তন এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বার্তা দেওয়ার বিষয়টি।

    প্রশ্ন: ওয়াকফ সম্পত্তি বাতিল করা হবে কি?

    উত্তর: বৈধভাবে ওয়াকফ ঘোষিত কোনও সম্পত্তি বাতিল করা হবে না। একবার কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ ঘোষিত হলে, তা স্থায়ীভাবে ওয়াকফ হিসেবেই থাকার কথা। বিলটি শুধুমাত্র ভালো ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতার জন্য নিয়মগুলি স্পষ্ট করে। এটি জেলা কালেক্টরকে এমন সম্পত্তি পর্যালোচনা করার অনুমতি দেয় যেগুলি ভুলবশত ওয়াকফ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, বিশেষ করে সেগুলি যদি সরকারি সম্পত্তি হয়। বৈধ ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে।

    প্রশ্ন: ওয়াকফ সম্পত্তির সমীক্ষা হবে না?

    উত্তর: সমীক্ষা করা হবে। এই বিলে সার্ভে কমিশনারের পুরানো ভূমিকা জেলা কালেক্টর দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। জেলা কালেক্টর বর্তমান রাজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে সমীক্ষা করবেন। এই পরিবর্তনের লক্ষ্য সমীক্ষা প্রক্রিয়া বন্ধ না করে রেকর্ডের নির্ভুলতা উন্নত করা (Waqf Amendment Bill)।

    প্রশ্ন: অমুসলিমরা কি ওয়াকফ বোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে?

    উত্তর: না, বোর্ডগুলিতে অমুসলিম সদস্য থাকবে, কিন্তু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে না। এই বিলে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল এবং রাজ্য বোর্ডগুলিতে অন্তত দু’জন অমুসলিম সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে, বেশিরভাগ সদস্য মুসলিম সম্প্রদায়েরই থাকবেন। এই পরিবর্তনটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকে দুর্বল না করেই দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা আনার জন্য করা হয়েছে (Waqf Properties)।

    প্রশ্ন: নয়া সংশোধনীতে কি মুসলিমদের ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করা হবে?

    উত্তর: কোনও ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। এই বিল শুধুমাত্র ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি, যেগুলি ওয়াকফ হিসেবে দান করা হয়নি, সেগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র স্বেচ্ছায় ও আইনত ওয়াকফ হিসেবে উৎসর্গীকৃত সম্পত্তিই নয়া নিয়মের আওতায় পড়ে।

    প্রশ্ন: সরকার কি এই বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করবে?

    উত্তর: এই বিল জেলা কালেক্টরকে পর্যালোচনা ও যাচাই করার ক্ষমতা দেয় যে কোনও সম্পত্তি ভুলভাবে ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে কিনা—বিশেষ করে যদি সেটি সরকারি সম্পত্তি হয়—কিন্তু এটি বৈধভাবে ঘোষিত ওয়াকফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অনুমোদন দেয় না।

    প্রশ্ন: এই বিল কি অমুসলিমদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার অনুমতি দেয়?

    উত্তর: সংশোধনীতে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল এবং রাজ্য বোর্ডগুলিতে অন্তত দুজন অমুসলিম সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে তাঁদের যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত দক্ষতা ও তদারকি করার জন্য। অধিকাংশ সদস্য মুসলিম সম্প্রদায়েরই থাকবেন, যার ফলে ধর্মীয় বিষয়গুলিতে সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণই কায়েম থাকবে (Waqf Amendment Bill)।

    প্রশ্ন: ঐতিহাসিক ওয়াকফ স্থানগুলির (যেমন মসজিদ, দরগা ও কবরস্থান) ঐতিহ্যপূর্ণ মর্যাদা কি ক্ষুণ্ণ হবে?

    উত্তর: এই বিল ওয়াকফ সম্পত্তির ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক চরিত্রে হস্তক্ষেপ করে না। এর উদ্দেশ্য হল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জাল দাবি রোধ করা—এই পবিত্র স্থানগুলির প্রকৃতি পরিবর্তন করা নয়।

    প্রশ্ন: ‘ব্যবহারকারীর দ্বারা ওয়াকফ’ বিধান তুলে নেওয়া মানে কি দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে?

    উত্তর: এই বিধানটি অপসারণের উদ্দেশ্য হল সম্পত্তির ওপর অননুমোদিত বা মিথ্যা দাবি প্রতিরোধ করা। এটি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে, কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত সম্পত্তিগুলিকেই স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে। এর ফলে বিরোধ কমে, তবে ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ ঘোষণাকে সম্মান করা হয় (Waqf Properties)।

    প্রশ্ন: বিলটি কি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকারে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে?

    উত্তর: বিলটির মূল লক্ষ্য হল রেকর্ড-সংরক্ষণ উন্নত করা, মিসম্যানেজমেন্ট কমানো এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় দান-অনুদান পরিচালনার অধিকার কেড়ে নেয় না। বরং এটি একটি কাঠামো তৈরি করে যাতে করে এই সম্পত্তিগুলি স্বচ্ছ ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয় (Waqf Amendment Bill)।

    প্রশ্ন: ১৯২৩ থেকে ২০১৩ সালে ওয়াকফের সংজ্ঞা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?

    উত্তর: ২০১৩ সালে প্রধান সংজ্ঞাগত পরিবর্তনটি করা হয়েছিল, যখন ‘ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনও ব্যক্তির স্থায়ী উৎসর্গ’ এই অভিব্যক্তিটি প্রতিস্থাপিত হয় ‘যে কোনও ব্যক্তির স্থায়ী উৎসর্গ’ দ্বারা। এই সংশোধনের পরে ওয়াকফ যে কোনও ব্যক্তির সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ডে উৎসর্গ করার পথ উন্মুক্ত করবে।

    রাষ্ট্রীয় ওয়াকফ বোর্ডের গঠনের সম্প্রসারণ

    এই সংশোধনীটি নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রীয় ওয়াকফ বোর্ডে শিয়া, সুন্নি, বোহরা, আগাখানি এবং পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে কমপক্ষে একজন করে সদস্য শিয়া, সুন্নি এবং পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকবেন। এর লক্ষ্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যাকে প্রতিফলিত করা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নিশ্চিত করা (Waqf Properties)।

    রটনা!

    প্রসঙ্গত, সাংসদ সদস্য এবং সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ, জামায়াতে ইসলামি হিন্দের মতো সংগঠন-সহ একাধিক স্টেকহোল্ডার এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাঁদের যুক্তি, এটি ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪, ১৫, ২৫, ২৬ এবং ৩০০এ-এর মতো সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘন করে, যেখানে সমতা, বৈষম্যহীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বিলটির একটি বিতর্কিত দিক হল, ওয়াকফ বোর্ডের সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার বদলে সরকার কর্তৃক মনোনীত হওয়ার ব্যবস্থা। বিরোধীদের দাবি, এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে এবং সরকার ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর অত্যধিক নিয়ন্ত্রণ পাবে (Waqf Properties)। সরকারের যুক্তি হল, ‘ব্যবহার দ্বারা ওয়াকফ’ বিধানটি বাতিল করলে সম্পত্তির অবৈধ দখল রোধ করা যাবে (Waqf Amendment Bill)।

    ঘটনা

    সংশোধনী বিলটিতে দুর্নীতি রোধ ও দক্ষতা উন্নত করার একগুচ্ছ ব্যবস্থা রয়েছে। ওয়াকফ বোর্ডগুলিকে তাদের কার্যক্রম এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অপসারণ করা হয়েছে, যাতে হাইকোর্ট আপিলের মাধ্যমে জুডিশিয়াল স্ক্রুটিনি বৃদ্ধি পায়। এটি সম্ভাব্য ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা দেয়, যার ফলে ওয়াকফ সম্পত্তি বিবাদের আইনি তদারকি শক্তিশালী হয়। আর্থিক নিরীক্ষা এবং স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে তহবিলের অপব্যবহার রোধ করা হবে। ওয়াকফ দাবির জন্য দলিলি প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা আরোপের পাশাপাশি এই আইনের উদ্দেশ্য হল জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ (Waqf Properties) প্রতিরোধ করা এবং বেসরকারি ও সরকারি জমিকে মিথ্যা দাবি থেকে রক্ষা করা (Waqf Amendment Bill)।

LinkedIn
Share